আগামীকাল শুরু হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর, বিশ্বকাপ ফুটবল। আর আজ উদ্দ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠবে। আর আমরা যারা দর্শক আছি তারা অধির আগ্রহ নিয়ে বসে আছি ফুটবলের এই মহাযুদ্ধের জন্য। এরই মধ্যে আমরা আমাদের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করে চলেছি। ফুটবল উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে এখন চলছে পতাকা উত্তেলনের মহা উৎসব। প্রায় প্রত্যেকটি বাড়িতে শোভা পাচ্ছে যারযার পছন্দের দেশের পতাকা। বাংলাদেশ এখন একটি মাল্টিন্যাশনাল কান্ট্রি হয়ে গেছে। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এই রকম অন্যদেশের পতাকা অবাধে উত্তোলন করা হয় কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। আমাদের দেশে অন্য দেশের পতাকা সাধারনত দেখা যায় সে দেশের অ্যামবাসী বা হাই কমিশনের কার্যলয়ে। কিন্তু এখন বোঝার উপায় নাই যে কোন টা কোন দেশের অ্যামবাসী বা হাই কমিশন। এত দেশের পতাকার সমারোহ দেশে আমার মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন বার বার খেলে যে আমরা বাংলাদেশের পতাকা কয়জন উড়াই? বায়লাদেশ হয়তো ফুটবলের এই মহাযুদ্ধে স্থান করে নিতে পারে নাই কিন্তু বায়লাদেশ কি ফুটবল খেলে না? তারা বক বাইরের কোন দেশের সাথে বা কোন বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহন করে না? বাদ িদলাম ফুটবলের কথা বাংলাদেশের মানুষ কি ক্রিকেট পছন্দ করে না? বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তো বিশ্বকাপের মতো জায়গায় খেলে। কয়জন মানুষ বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন? কিছুদিনের মধ্যে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ ক্রিকেট। এখানেও তো বাংলাদেশ খেলবে। তো কেউ কি পতাকা উড়িয়েছেন?
কিছুদিন আগে বাংলদেশের একজন সন্তান মুসা ইব্রাহিম পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্ট জয় হরে ফিরলেন। তিনি কিন্তু বাংলাদেশের পতাকাটা এভারেষ্টের চুড়ায় উড়িয়ে এসেছেন। আমরা পত্রিকা বা টেলিভিশনের মাধ্যমে যখন মুসা কে দেখেছি তখন দেখেছি য়ে, মুসার গায়ে বাংলার গতাকার আদলে গড়া টি-র্শাট এবং মাথায় বাংলার গতাকা। এটা দেখেই তো আমার মন ভরে গেছে। আমার মনে হয় কোন বাঙ্গালীর কাছে খারাপ লাগেনি। বরং প্রত্যেকের গর্বে বুক ভরে গেছে।
হ্যা আমরা পতাকা উড়াই তবে সব সময় না (তবে সবাই না)। প্রত্যেক বছর যখন ২১শে ফেব্রুয়ারী, ১৬ই ডিসেম্বর, ২৬শে মার্চ আসে তখন। তখন আমাদের বাঙ্গালীত্ব জেগে উঠে। তখন আমরা বাংলাদেশকে প্রচন্ড ভালবাসি। এমনকি আমাদের পোশাকেও তা প্রকাশ পাই।
আমার প্রিয় ব্লগার বন্ধুরা আমার এই লেখায় কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত। আমাকে মাফ করবেন। আসলে আমরা আবেগে তাড়িত হয়ে এইসব করি। আমরা যারা বাঙ্গলী আছি তারা বাংলাদেশের অনেক কিছুই ভাল লাগে না। আমাদের সবচেয়ে খারাপ দিক হল আমরা দুর্নীতিবাজ, সন্তাসী, আমাদের রাজনীতি। আমরা সবাই বলি আমরা সচেতন না। তাই এই অবস্থা। কিন্তু আমার কথা হল আমরা কি বুঝিনা যে কোন কাজটা খারাপ, কোন লোকটি খারাপ, অথচ তাকেই তো আমরা ভোট দিয়ে ফুলের মালা দিয়ে বরন করি। আসলে আমরা সবাই ভুল করি এবং সেটা যেনে শুনে ভুল। আর যেনে শুনে ভুল করা খুব খারাপ।
আমরা যারা তরুন প্রযন্ম আছি তারা কি পারি না সুন্দর একটা বাংলাদেশ গড়তে।
সবশেষে টেলিভিশনের একটা অ্যাডের কথাই বলি যে, অনেক আগের মানুয়েরা এই দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন, অনেত ত্যাগ শিকার করেছেন, অনেক রক্ত দিয়েছেন, এই দেশকে বাংলা ভাষা দিয়েছেন, স্বাধীনতা দিয়েছেন, কিন্তু আমরা কি করেছি দেশের জন্য। আসুন প্রতিঞ্জা করি থাকবো ন্যায়ের সাথে, কোন অন্যায় করবো না, দেশকে ভালবাসবো, দেশের মানুষকে ভালবাসবো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

