কারো হাতে ফুল, আর
কারো হাতে শুধু দশটা আঙ্গুলই ভালো;
বেলা বাড়লে কেউ বলবে না-
আঙ্গুল ঝাড় এইবার নটেগাছ মুড়োচ্ছে।
এই হচ্ছে বয়স বাড়ার সমস্যা, নটেগাছ মুড়োবার আশংকা তৈরী হয়। সংগঠনগুলোর বেলায়ও কি বয়স এই জৈবিক হিসাব নিকাশ মেনে চলে? খুব বেশী ভাবতে হয় না; মাথার মধ্যে সুকুমার রায় উঁকি মারেন, বলেন, পাগল নাকি! শেষে বুড়ো হয়ে মরবে নাকি! আমি সুকুমার রায়ের চালাকিটা বুঝে ফেলি। তাইতো স্বরকল্পনকে কানে কানে বলছি, একযুগ পর্যন্ত ঠিক আছে, এরপর বয়সটাকে উল্টো করে ঘুরিয়ে দাও; আগামীতে বয়স তের না হয়ে এগার হবে; এরপর দশ, নয়, আট...।
যাক বেশ চালাকি করা গেল। আমি আমার বউকে লেখাটি পড়তে দিলাম। তিনি অগ্নীশর্মা হলেন এবং ঘোষনা দিলেন, তোমার পাগলামি থামাও; পারলে স্বরকল্পনের জন্য ভালো কিছু লেখ। আমি বিনীতভাবে অগ্নীবর্ষী নারীকে জানালাম, মাথায় গোবর ঢুকে গেছে, ভালো কিছু বেরুচ্ছে না। এবার তিনি আমার পাশে বসলেন, তারপর আস্তে আস্তে বললেন, চারুকলার বকুল তলায় তোমরা যে রিহার্সেল করতে সে কথা লিখ! ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনের 'আবুল হাসান সন্ধ্যা'র কথা লিখ; কিংবা ইশরাত নিশাতের সেই গান 'ঝিনুক নিরবে সহ, নিরবে সয়ে যাও' অথবা পল্টন ময়দানে কয়েক লক্ষ মানুষের সামনে 'রাজাকারের নামতা' পাঠ বা 'যখন সন্ধ্যানামে'র প্রথম মঞ্চায়নের দিন সেই যে আমরা সবাই মিলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে কেঁদেছিলাম, আরো বেশী করে আবৃত্তিকে ভালোবেসে ছিলাম এসব কথা লিখ!
এসব তো একেবারেই আমার নিজের কথা; আমার প্রথম ভালোবাসার কথা; আমার স্বরকল্পনের কথা। এগুলো নিয়ে কী লেখার আছে! অন্যরাই বা কী ভাববে! আমি থমকে যাই।
সময় কত দ্রুত নিঃশেষ হয়; দেখতে দেখতে একযুগও পার হয়ে যায় একদিন। নাকি আমরাই সময়কে পেরিয়ে হয়ে যাই প্রতিক্ষণে? কী জানি!
(স্বরকল্পন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক একটি আবৃত্তি সংগঠন। গত ফেব্রুয়ারী মাসে সংগঠনটি এক যুগ পূর্ণ করেছে। আগামী এপ্রিল মাসের ২ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত সংগঠনটি আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ঢাকার পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে। সবাইকে আমন্ত্রণ।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

