আমার প্রিয় পোস্ট

mostafizripon@gmail.com

গল্পঃ ফুলার রোড

০৬ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:৫০

শেয়ারঃ
0 0 0

দিগন্তরেখায় সূর্য ডোবার পর, সন্ধ্যার মিহি-আলোতে ফুলার রোডে স্যান্ডেল বিছিয়ে ওরা তিনজন- তিন বন্ধু বসে আছে। তখন কায়েস আহমেদের লাশকাটা ঘর পেরিয়ে মোনাজাত উদদিনের পায়রাবন্দের শেকড় সংবাদ নিয়ে ওরা ব্যস্ত। এক সময় মোনাজাত উদদিনও আলাপ থেকে খসে পড়েন। ছোট ছোট চুমুকে ফ্লাস্কের চা, হাত বদল হওয়া সিগারেট, আর কথার তুবরিতে জারুল গাছতলার সব রাজা-উজির মারা শেষ হলে হতভাগার মতো ব্রিটিশ কাউন্সিলের গেটের দিকে ওরা তাকায়- যেখানে মায়াবী রাজকন্যারা তুচ্ছ রিক্সা ভাড়ার দরদস্তুর নিয়ে ব্যস্ত। তিনজনের বুকের ভেতর হাপরের দীর্ঘশ্বাস জমতে থাকে, প্রতিদিনই যেমন জমে।

'ওরা ঢাকায় নতুন এসেছে', কৌশিক নিশ্চিত সত্য বলার সুরে কথা বলতে থাকে, 'ওদের গায়ে ধানের তুষ এখনো লেগে আছে।' কৌশিকের দৃষ্টি রেখা বরাবর অন্যরাও তাকায়। একটি রিক্সায় পাঁচজনের একটি দল- একজন পুরুষ, একজন নারী, তিনটি শিশু- যাদের দু'জন কোলে, শেষজন পাদানিতে বসে। 'আমাদের মতো ওরাও এ নগরের বাসিন্দা হবে। ভীড় বাড়াবে। এখানে সেখানে মলমূত্র ছিটিয়ে রাখবে', কৌশিক কথা শেষ করে।

'পুরুষটি গায়ের জোরে রিক্সা টানতে টানতে চৌকস রিক্সাওয়ালা হয়ে উঠবে একদিন', কুশল অব্যর্থ ভিবিষ্যতবানী করে। 'আর ওদের মেয়ে দুটো শরীরের আঁশটে গন্ধ দূর না হতেই কারো বাড়ীতে ঝি-গিরি শুরু করবে, গরম খুন্তির ছ্যাঁকা খাবে, আর দুপুরে বাড়ীর গিন্নি ভাতঘুমে গেলে টিভিতে বাংলা ছবি দেখবে, কাঁদবে, আর কাঁদতে কাঁদতে ভালোবাসার কথা ভাববে।' কুশল থামে। কৌশিকের হাত থেকে সিগারেট নিয়ে টান দেয়। চোখ সরু করে কি যেন ভাবে।

'ছেলেটি ডাস্টবিনের ময়লা কুড়াবে, নিউমার্কেটে মিন্তিগিরি করবে- নিজের ওজনের দ্বিগুন বোঝা টানবে, আর একটু বড় হলেই-' , কমল কথাটি শেষ করেনা। তারপর ভালবাসাহীন হাঁপরে আরো একটু দীর্ঘশ্বাস জমা করতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের গেটের দিকে তাকায়, যেখানে সুবেশী তরুণীরা বুকের কাছে ভারী বই চেপে ধরে পুরুষ সঙ্গীর কোন কথায় হাসিতে ভেঙ্গে পড়ছে।

'মেয়েটিকে আমি চিনি, রোকেয়া হলের।' কুশলের কথায় ওরা তরুনীটিকে আপাদমস্তক মেপে নেয়, ব্যবচ্ছেদ করে। কমল সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে, 'এইসব রাজকন্যাগুলো কেন যে একটা করে খাটাশ সাথে নিয়ে ঘোরে!' কথা শেষ হলেও ধোঁয়ার একটি সরু রেখা কমলের নাক থেকে গড়িয়ে নামতে থাকে।
'তুই জেলাস।'
'তুই কি জেলাস না?'
'এইসব রাজকন্যাগুলো কোথায় হারিয়ে যায় একদিন!'
'এদের তুচ্ছ ভ্রুকুটিতে আজকে যারা খুন হচ্ছে, যারা তোর খাটাশ-পুরুষ- তারা রাজকন্যা লাভের পাত্র-দৌড়ে অংশ নেয়না, কেউকাটা হওয়ার স্বপ্ন দেখে। আর দায়গ্রস্ত পিতারা মহারাণী বানানোর আশায় রাজকন্যাদের তুলে দেন নতুন কোন বনবিড়ালদের হাতে। সেই সব মহারাণীরা সন্তান জন্ম দেন, উঠতি বয়সী সন্তানের চোখ এড়িয়ে জন্ম-নিয়ন্ত্রনের বড়ি সেবন করেন, ঘরে বসে বসে প্রস্থে বেড়ে ওঠেন, কাজের মেয়েকে খুন্তির ছ্যাঁকা দেন, গাউছিয়ার ভীড় বাড়ান, উপটান মাখেন', কৌশিক থামে। কমল সিগারেটে শেষ টান দেয়, ধোঁয়া ছাড়ে, ফুটপাতের কোণ ঘেঁষে একদলা থুতু ফেলে।

'ওরা কেন আসে এ শহরে?'
'খুন হতে', কমল জবাব দেয়; তারপর কি যেন ভাবে।
'আমরা কেন এসেছি?'
'আমরা চলে যাব।'
কমল হাসে। মাথা ঝাঁকায়। তারপর আবারো জোর দিয়ে ঘোষনা করে, 'শিগগির চলে যাব, কাউকে খুন করে ফেলার আগেই।'
'এ শহরে ঢোকার রাস্তা আছে, বের হওয়ার পথ নেই। আমরাও জঞ্জাল বাড়াব, হাসপাতালের দেয়ালে লেপ্টে থাকা দুষিত কফের মতো ঝুলে থাকব এখানে।'

ওদের গল্পগুলো ধীরে ধীরে বিষন্ন হয়ে ওঠে। এরই এক ফাঁকে টুপ করে রাত নামে ফুলার রোডে। জারুল গাছতলায় অন্ধকার জমাট বাঁধে। কী একটা পাখি ঝটপট শব্দে উড়ে যায়। অন্ধকারে সিগারেটের আগুন ওঠা-নাম করে, হাত বদল হয়। কমল শব্দ করে থুতু ফেলে। দু' একটা রিক্সা চলে যায়। রাস্তার সোডিয়াম-আলোতে ফুলার রোড মরা মাছের আঁশটের মতো ভেসে থাকে। ওরা উঠে পড়ে, স্যান্ডেলগুলো পায়ে গলিয়ে নেয়।

'এই রিক্সা! যাবে?' একটি খালি রিক্সা ওদের কাছে এসে দাঁড়ায়। কুশল লাফ দিয়ে সিটে উঠে বসে। কৌশিক হতভম্ব রিক্সাওয়ালার কণ্ঠা বরাবর একটা ছুরি ধরে। কমল দ্রুতহাতে রিক্সাওয়ালার শার্টের পকেট আর লুঙ্গীর গাঁট থেকে টাকা বের করে আনে, বিড়বিড় করে বলে, 'শালা ফকির'। তারপর ওদের কেউ একজন রিক্সাওয়ালাকে ধমক দেয়, 'যা ভাগ!' রিক্সাটি দ্রুত চলে যায়, এ যেন শুধু ফুলার রোড নয়- এ শহর ছেড়েই চলে যেতে উন্মুক্ত গতি ভর করে যানটিতে।

টাকাগুলো ভাগ-বাটোয়ারা শেষ হলে, আবার দেখা হবে বলে ওরা উঠে পড়ে। পা বাড়ায় পথে- যে পথে হুমায়ূন আজাদ হেঁটেছেন বিস্তর।



_______________________________________
ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ব্লগার সারওয়ার জামান চন্দন

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গল্পফুলার রোডমোস্তাফিজ রিপন ;
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০০৮ রাত ৮:৪৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০৬ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:৩০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

০৬ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৫:৪২

লেখক বলেছেন: খাওয়ার দাওয়াত পেলে আহ্লাদিত হতাম।

৩. ০৬ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৫:০৬
নাজিম উদদীন বলেছেন: আমরাও জঞ্জাল বাড়াব, হাসপাতালের দেয়ালে লেপ্টে থাকা দুষিত কফের মতো ঝুলে থাকব এখানে।

সুন্দর বলেছেন।
০৬ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৫:৪০

লেখক বলেছেন: নাজিম ভাই, অনেক ধন্যবাদ।

৪. ০৬ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৫:৪৬
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: সমালোচনা করার প্রস্তুতি নিয়ে পড়তে এসেছিলাম। তা না হোক অন্তত একটা অর্থবোধক মন্তব্য করার আকাংখা ছিল। কিন্তু কিছুই হল না।
আপনার এই গল্পটি প্রথম পড়ায় মাস্টারপীস মনে হল। এ গল্প তাড়াহুড়ো হরে লিখেছেন বলে মনে হবার কারন নেই। প্রতিটা লাইনের বুননে অনেক চিন্তার ছাপ। যেমন শুরুর দিকের এই লাইনগুলো ''ক সময় মোনাজাত উদদিনও আলাপ থেকে খসে পড়েন। ছোট ছোট চুমুকে ফ্লাস্কের চা, হাত বদল হওয়া সিগারেট, আর কথার তুবরিতে জারুল গাছতলার সব রাজা-উজির মারা শেষ হলে হতভাগার মতো ব্রিটিশ কাউন্সিলের গেটের দিকে ওরা তাকায়- যেখানে মায়াবী রাজকন্যারা তুচ্ছ রিক্সা ভাড়ার দরদস্তুর নিয়ে ব্যস্ত। তিনজনের বুকের ভেতর হাপরের দীর্ঘশ্বাস জমতে থাকে, প্রতিদিনই যেমন জমে।''

বা গল্পে করা কিছু উক্তি। যেমন''এইসব রাজকন্যাগুলো কেন যে একটা করে খাটাশ সাথে নিয়ে ঘোরে''

কিছু বলার নেই। একটা পুর্না গল্প, বলতে বাধ্য হচ্ছি আমার পড়া সবচেয়ে নিখুত গুলোর মধ্যে একটা।

প্রথমবার পড়ে এ অনুভব এসেছে, দ্বিতীয়, তৃতীয়বার পড়ার পর হয়ত মুগ্ধতা কমতে পারে, তখন আবার মন্তব্য করার ইচ্ছা রাখি।
০৬ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৬:১৯

লেখক বলেছেন: ভাত খেয়েছেন?

৫. ০৬ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৫:৫১
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: প্রতিবার আপনার গল্পের ক্ষেত্রে এই কথাটা বলছি আমি, এবার বলতে লজ্জাই পাচ্ছি, কিন্তু নামের ব্যাপারে আমি খুব খুতখুতে, নিজের লেখার জন্য ভাল নাম খুজে পাই না ঠিকই, কিন্তু কোন গল্প পড়ে নামের ব্যাপারে খুশি না হলে খুতখুতে একটা স্বভাব। এ গল্পটার নামও না ওত ভাল লাগল না। যদিও এই নামটাও হতে পারে। তবে কেন জানি মনে হচ্ছে গল্পের আবেদনের দাবী এই নামটি মেটাতে পারছে না। কেননা গল্পটাতো শুধুই ফুলার রোড ভিত্তিক কিছু চিত্রই তুলে ধরছে না, ধরছে আরো অনেক কিছু।
০৬ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৬:২৮

লেখক বলেছেন: নামকরনের ব্যাপারে আমি নিতান্তই বেরসিক টাইপ- চিন্তা করতে পারিনা।

জারুল গাছের সারি, ব্রিটিশ কাউন্সিলের অনুচ্চ ভবনের বিশাল গভীরতায়- ফুলার রোডে সাতটি বছর কেটেছে আমার; এক ধরনের স্মৃতিকাতরতা আছে এই রাস্তাটিকে ঘিরে। এই গল্পের নামকরনের পেছনে এই নস্টালজিয়াটি কাজ করে থাকবে হয়ত।

০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৩৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শান্ত।

৭. ০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:০৪
দূরন্ত বলেছেন: গল্পটা ভালো লাগলো।
প্রাণবন্ত লেখা।
০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৩৮

লেখক বলেছেন: প্রাণিত হলাম।

০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৪৪

লেখক বলেছেন: এই মন্তব্যের সূত্র ধরে আপনার দুটি লেখা পড়লাম; আপনি ভাল লিখেন। শুভেচ্ছা রইল।

৯. ০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৩০
অদ্ভুত আঁধার এক বলেছেন: অসাধারন......
আর কিছু বলতে পারছিনা.........
ধন্যবাদ
০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৪৬

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। আপনার শেষ পোষ্টটিও অনেক সুন্দর।

১০. ০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৪৫
বাফড়া বলেছেন: দারুন একটা লেখা.......... কই থেকে কই নিয়া গেলেন বুঝার আগেই....... মারাত্মক...।

স্টারে বাড়ি দিলাম
০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৫২

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা রইল।

'বাফড়া' মানে কি? আপনার মন্তব্যগুলো মজার, আমি উপভোগ করি।

১১. ০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১০:১০
বাফড়া বলেছেন: আচ্ছা আামার আগের কমেন্ট টা কি পড়ার পর মুছে দেয়া যাবে?
০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১০:১৩

লেখক বলেছেন: মুছে দিলাম।

১২. ০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১০:২০
বাফড়া বলেছেন: কিছুক্ষন আগে জন্ম নেয়া প্রিয় লেখক কে ধন্যবাদ
০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১০:২৮

লেখক বলেছেন: এইবার শরম পেলাম। ভাল থাকুন।

০৬ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৬

লেখক বলেছেন: খুশি হলাম।

০৬ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৮

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে লেখা আপনার কবিতাটা অসাধারন।

০৭ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৮:০৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফারহান।

১৬. ০৮ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৪:০৫
মাজহারুলইসলাম বলেছেন: রিপন ভাই আপনার লিখাটা পড়লাম। ভাল লাগলো । ব্লগার সারওয়ার জামান চন্দন আমার Colleague ।


স্বরকল্পন কেমন আছে? স্বরকল্পন ভালো আছে। তবে কেন যেন মনে হয় স্বরকল্পনের লোকগুলো ভালো নেই। লিমিয়া আপু কেমন আছে? আপনাদের কথা সব সময় মনে পড়ে। মনে হচ্ছে আমাদের ভুলে গেছেন।ভালো থাকবেন।
০৮ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৪:১০

লেখক বলেছেন: তোমাদের জন্য ভালবাসা।

০৮ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৪:৪২

লেখক বলেছেন: তোমার ফোন নম্বর আমাকে মেইল কর।

০৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:৪১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৯. ০৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৩০
মাজহারুলইসলাম বলেছেন: রিপন ভাই মানুষের ক্ষুধার কথা লিখুন।
০৯ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৫:৩৫

লেখক বলেছেন: :(

২০. ০৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৩৮
নেমেসিস বলেছেন:
ভাবতে বসলাম ।

প্রশ্নঃ আমি কেন এই গল্পটা আগে পড়তে আসলাম না ?

উত্তরঃ আপনার আগের প্রোটিন (??!) বিষয়ক গল্পটার সাইডইফেক্ট :(

প্রশ্নঃ টাইটেলটা টানলো না কেন ?

উত্তরঃ ভাবসিলাম প্রেম বিষয়ক কোন ন্যাকামি গল্প হইবেক ।

প্রশ্নঃ আমার কেমন লাগলো গল্পটা ?

উত্তরঃ প্রোটিন গল্পজনিত ভীতি দুর হৈলো ;) ।এখন থেকে আর মিস হইবে না কোন পোস্ট :)
০৯ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৫:৩২

লেখক বলেছেন: জটিল বিশ্লেষন।

২১. ০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:৪৪
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: দুঃখিত, পোস্টটা কোনোভাবে চোখ এড়িয়ে গিয়ে থাকবে।

গল্পটি পড়ে কোনোরকম ইতস্ততা ছাড়াই একটা সিদ্ধান্তে চলে এসেছি- ব্লগে আমার পড়া সেরা গল্পগুলোর ভেতর এটি প্রথমদিকেই থাকবে; অত্যন্ত অত্যন্ত পরিণত বা ম্যাচিওরড গাঁথুনি।

গল্পটি আমি পাঠক হিসেবেই পাঠ করেছি; আজকাল সমালোচক হিসেবে গল্প পড়তে ইচ্ছে হয়না। সুতরাং সমালোচনা করতে পারছিনা।

তবে একটা ব্যাপার না বলে পারছিনা- একটা বিশাল নমুনাক্ষেত্রকে সীমিত আয়তনে নিয়ে আসার কাজটা এ গল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য বলে আমার কাছে মনে হয়; ফুলার রোড হয়ে উঠেছে যেনো এক টুকরো বাংলাদেশ।

০৯ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৫:৩৪

লেখক বলেছেন: রিয়াজ, মন্তব্যটি চমৎকার। ভালো থাকবেন।

০৯ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৬:০৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৩. ০৯ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৫:৪৭
দোলাহাসান বলেছেন: খুব ভাল লাগলো। বিশেষ করে খাটাশ টাইপের লোকরা সুন্দর মেয়ে নিয়ে ঘুরে, এইটা দারুণ পর্যবেক্ষণ:)
০৯ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৬:০৫

লেখক বলেছেন: জেলাস?
:)

০৯ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৬:০৬

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

২৫. ০৯ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৯
দ্বিধা বলেছেন: দুর্দান্ত...লেখার প্রসংশা করার ভাষা পাচ্ছিনা... সত্যি সত্যি দুর্দান্ত...
আপনার বাকী লেখাগুলোও পড়তে হবে মনে হচ্ছে...
০৯ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৬

লেখক বলেছেন: হতাশ হবেন।

২৬. ০৯ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৪
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: @দ্বিধা- হ পড়েন জলদি, রিপন ভাই বস মানুষ।
০৯ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৮

লেখক বলেছেন: ধ র ণী দ্বি ধা হ ও।

২৭. ০৯ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৬
মাজুল হাসান বলেছেন: ভাষার জন্য ডবল প্লাস।

প্রসঙ্গহীন প্রসঙ্গ: ফুলার রোড আমার জীবনে মনে হয় 'গোলাপী বৃষ্টি'-রোড। ওখান দিয়ে চলে গ্যাছি.... রেস্টুরেন্টমূখী। নীলতিমি।
০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:৪৩

লেখক বলেছেন: মাজুল ভাই, ধন্যবাদ।

'গোলাপী বৃষ্টি'-রোড আমার পড়া নেই। আপনার ব্লগে খুঁজলাম, পাইনি। কবিতাটির কোন লিংক দেয়া যাবে?

২৮. ০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:২৯
নেমেসিস বলেছেন: @ দ্বিধা প্রোটিন বিষয়ক গল্পটা দ্বিধা সহ পইড়েন ;)
০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:৫৮

লেখক বলেছেন: আপনার নতুন পোষ্ট পাচ্ছিনা কেন?

২৯. ১২ ই জুন, ২০০৮ রাত ৩:৪৪
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: প্রথমবার আইইএলটিএস এর স্পিকিং পরীক্ষার দিনে বাসা থেকে বেরুতে একটু দেরী হয়ে গিয়েছিল...ক্যাবের ড্রাইভারকে তাড়া দিচ্ছিলাম বারে বারে...একেবারে পৌছে গিয়ে ফুলার রোডের কাছাকাছি আসতে পোড়া পোড়া গন্ধ পেলাম, রাস্তার মুখে এসে ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে দিল। নেমে ডালা খুলতেই একরাশ ধোয়া...ড্রাইভার দৌড়ে এসে আমার দরোজা খুলে দিল...মামা গাড়িতে আগুন জলদি বেরুন....ছিটকে বেরুলাম..দাওদাও করে আগুন জলছে গাড়ির সামনে...আমার পরীক্ষার টাইমআপ প্রায়...দৌড়ে গিয়ে পানি আনতে হল...আগুন নিভল। তবে পরীক্ষাটা দারুন হয়েছিল:)
১২ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:০৬

লেখক বলেছেন: আহা আই.এল.টি.এস, ব্রিটিশ কাউন্সিল... আমাদের উন্মূল হওয়া!

৩০ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৭:১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩১. ০৩ রা জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৩:২৬
আকাশচুরি বলেছেন: ঝরঝরে, মেদহীন ভাষার বুনন, ঘটনার সটান চড় আর মোচড় কাঁপয়ে দিল!!

+++
০৩ রা জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:০৬

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

১১ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:১৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ চন্দন ভাই। আপনার মন্তব্যে প্রাণিত হলাম।

৩৩. ১১ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:২৭
মাহবুব সুমন বলেছেন: হাতে গনা যে কটা ভালো গল্প পড়েছি ব্লগে সেগুলোর মাঝে এটিকে রাখতেই হবে।
১১ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:৩১

লেখক বলেছেন: সুমন ভাই, কী যে ভাল লাগছে আপনার মন্তব্যে! (কথাটা বেশরমের মতো শোনালেও সত্যি।)

৩৪. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:২৬
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: 'এ শহরে ঢোকার রাস্তা আছে, বের হওয়ার পথ নেই। আমরাও জঞ্জাল বাড়াব, হাসপাতালের দেয়ালে লেপ্টে থাকা দুষিত কফের মতো ঝুলে থাকব এখানে।' ........প্রথম সারির কথাসাহিত্যিকের উপলব্ধি।

''পা বাড়ায় পথে- যে পথে হুমায়ূন আজাদ হেঁটেছেন বিস্তর।''

আমার কাছে শেষটা এতো চমৎকার মনে হলো যে এ লাইনটা
একদম মাথায় গেঁথে গেছে।
২১ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:৩৮

লেখক বলেছেন: ইমন, আমি ফেটে যাব তো! ;)
ভাল আছেন আপনি?

৩৫. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:৩৪
ফারহান দাউদ বলেছেন: "মায়াবী রাজকন্যারা তুচ্ছ রিক্সা ভাড়ার দরদস্তুর নিয়ে ব্যস্ত,যে রাজকন্যাগুলো কেন যে একটা করে খাটাশ সাথে নিয়ে ঘোরে'':(
২১ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:৪১

লেখক বলেছেন: চিরদিন এই অকাণ্ড দেখতে দেখতে বয়স বেড়ে গেল। :(

৩৬. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৫:৪৯
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: এত মন্তব্য পড়লাম না। আমিও একদিন আপনার ব্লগে সারাদিন কাটাবো...
২১ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:৪৩

লেখক বলেছেন: হায় হায়! এইবার আমার জঞ্জালগুলো কোথায় লুকাবো!

৩৭. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৪৪
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: এটা যদি বিনয়জাত উৎকণ্ঠা হয়ে থাকে তো মাফ করে দিলাম। না হইলে তো আমাকেই সব ব্লগ মুছে পিঠটান দিতে হবে:(
২১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪৪

লেখক বলেছেন: বিষয়টা আশংকা নিঃসৃত। আমার ক্ষেত্রে 'বিনয়জাত' কথাটা ধৃষ্টতা তুল্য। :)

২১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৫০

লেখক বলেছেন: পিঠটান শব্দটা অনেক অনেক দিন পরে শুনলাম। প্রায় ভুলেই গেছিলাম শব্দটা।

৩৮. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:০৩
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: এর আগেও আপনার বেশ কয়েকটি গল্প পড়েছি।প্রত্যেকটাই অসাধারণ;বলতেই হবে।

ব্লগে অধিকাংশ সময় পড়ার তেমন কিছু পাইনা।সো,আপনার ব্লগে আমার পদচারণা বাড়াইতে হবে।

"স্মৃতিকাতরতা,প্রকৃতি,কিছুটা বোধহয় পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ" সবকিছু মিলিয়ে চমৎকার এক-একটি আখ্যান।
২১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শিমুল। খুব ভাল লাগল আপনার মন্তব্যে।

৩৯. ২২ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:০৯
লাল দরজা বলেছেন: সুন্দর লিখছেন। ভালোলাগছে।
২২ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৩২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। 'লাল দরজা' ছবিটি দেখেছেন?

২২ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:৫৩

লেখক বলেছেন: ভাল ছবি। ভারত আর বাংলাদেশের শিল্পীদের নিয়ে ছবি তৈরীর বিষয়টা কেন যে একটা স্থায়ী রূপ পেলনা!

৪১. ২২ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:৫৮
একরামুল হক শামীম বলেছেন: আপনার সবগুলা পোস্ট খুঁজে ৯টা গল্প এবং ১টা কল্পগল্প খুঁজে পেলাম। এর মধ্যে বেশ কয়েকটাই পড়া হয়ে গেছে। বাকিগুলা সময় করে পড়ে নিতে হবে।
২২ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:২৬

লেখক বলেছেন: মার্চ মাসের দিকে 'গোবিন্দের সাথে সংলাপ' শিরনামে একটি গল্প লিখেছিলাম। কয়েকদিন আগে লক্ষ্য করলাম- পোষ্টটি গায়েব হয়ে গেছে। অনেকগুলো মন্তব্য ছিল ওটিতে।

শামীম ভাই, এই হারিয়ে যাওয়া পোষ্ট কি ফিরে পাবার কোন সম্ভাবনা আছে?

৪২. ১৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১:১০
আকাশ_পাগলা বলেছেন: ভাই, আমি আসলেই আরাম পেলাম।
অনেক প্রশংসা করতে ইচ্ছা হচ্ছে। কিন্তু, টাইপ করতে ইচ্ছা হচ্ছে না।
অনেক অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
২১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৩৫

লেখক বলেছেন: খুশি হয়েছি আপনার মন্তব্যে।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫৩৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
অর্থহীন কমলালেবুর পিঠে ঘরকুনো গাছ
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ