ঈশ্বরদী (পাবনা)’র রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ শক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর আগামী সেপ্টেম্বর (২০১০) বাংলাদেশ-রাশিয়া চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সরকারপ্রধানদ্বয় এ চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করবেন। বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আর্কিটেক্ট ওয়াসেফ ওসমান গতকাল রোববার মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের একটি কারিগরি কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিং-এ এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাশিয়া সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে সময় চূড়ান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের সরকার যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করতে পারবে। তিনি আরও জানান, চলতি মে মাসের ২১ তারিখে দুই দেশের বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রূপপুরে পারমাণবিক প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর একটি রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। রূপরেখা চুক্তি হয়ে গেলে কারিগরি ও অর্থায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
---------------------------
সচরাচর এসব স্থাপনার ছবি তোলা নিষিদ্ধ হলেও একজন রাশিয়ান ব্লগার বিশেষ অনুমতি নিয়ে কিছু কিছু ছবি তোলেন। চলুন দেখা যাক, এর ভেতরে কী আছেঃ

রাশিয়ার ‘স্মলেন্সক’ সিটিতে অবস্থিত সে দেশের বৃহৎ পারমানবিক পাওয়ার প্লান্ট। ১৯৮২ সালে ৪টি রিএ্যাক্টর স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হলেও চেরনোবিল দুর্ঘটনার কারণে ৩টি স্থাপনের পর কাজ তখন স্থগিত করা হয়।

রাশিয়ার অন্যতম ১০টি পারমানবিক পাওয়ার প্লান্টের একটি যা সবচেয়ে বড়। এখান থেকে চাহিদার ১/৭ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

রাশিয়ার চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর থেকে পারমানবিক প্রকৌশল এখন অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করে যেগুলো অচিন্তনীয় পর্যায়ের বা আদৌ ঘটবার সম্ভাবনা নেই।

পাওয়ার প্লান্টের বাইরের স্ট্রাকচার যা আনবিক বোমার ১০ গুণ শক্তিশালী বোমার আঘাতেও ধ্বংস হবে না।

চতুর্দিকে ১০ মাইলব্যাপী এলাকা হচ্ছে সিকিউরিটি জোন যা সম্ভাব্য সকল ধরনের নিরাপত্তা সেন্সর ও মনিটরিং ডিভাইস দ্বারা সজ্জিত। এগুলো পরিবেশ-প্রতিবেশ এর সব ধরনের পরিমাপ সংরক্ষণ ও রিপোর্ট করে। প্লান্টের পাশ্বর্বতী স্থানে অত্যন্ত পরিস্কার পানিতে পুর্ণ রাখা হয় প্রয়োজনীয় আকৃতির পুকুর যেখানে নানা প্রজাতির মাছচাষের মাধ্যমে তাদের লাইফ-সাইকেল পর্যবেক্ষণ করা হয়।

স্টেশনে প্রবেশকালে জরুরী কিছু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহন।


প্রত্যেকের জন্য বাধ্যতামূলক ইউনিফর্ম পরা।


ব্যক্তিগত রেডিয়েশন চেকার।

টারবাইন বা বিদ্যুৎ তৈরির জেনারেটর।








প্রধান রিঅ্যাক্টর-হলঘর। কংক্রিটের তৈরি গর্তে স্থাপিত রিঅ্যাক্টর।


ইউরেনিয়াম২৫৫ পারমানবিক রিঅ্যাক্টরে ব্যবহৃত জ্বালানী। সবুজ রঙের টিউবে এই জ্বালানী ভরা হয়।



ছবিতে একটি নীল আলোর আভা দেখা যাচ্ছে যেটি রয়েছে ৮ ফুট গভীরে, এটা ঘটছে ‘সেরেংকোভ এফেক্ট’র কারণে। যখন কোনো বিদ্যুৎ সঞ্চারিত ইলেক্ট্রন কণা ইনসুলেটরের ভেতরে দিয়ে আলোর গতির চেয়েও বেশি গতিতে প্রবাহিত হয় তখন এই নীল ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন উৎপন্ন হয়।

মেইন কন্ট্রোল পয়েন্ট।







এই হচ্ছে তাই। আমাদের প্রকল্পের ভেতর-বাহির, এর সাজ-সজ্জা হবে অনেকটা এরকমই। অতএব, আমাদের প্রস্তুতি নেবার এখনই সময়। এই প্রস্তুতি নেবে নতুন প্রজন্মের বুদ্ধিমানরা। আর এটা যদি হয় তহালে তা হবে বাংলাদেশের উন্নয়নের এক নবযুগের সূচনা।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১০ সকাল ৮:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


