somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সৌদি আরবে অফিস ইফতার পার্টি

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেমন আছি সৌদি আরবে –সতের পর্ব

যদিও রোজা ইসলাম ধর্মের একটি পবিত্র ও রহমতের মাস কিন্তু সৌদি আরবে এরসংগে যোগ হয় আনন্দের মাস হিসেবে।আমাদের ডিউটির সময় ৮ঘন্টা থেকে নেমে ৬ঘন্টা হয়ে যায়।সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ৩টায় ডিউটি শেষ করে সোজা বাসায় গিয়ে সময় কাটানো!রাতে আরবী টিভিতে নুতন নুতন ভিডিও মিউজিকের এলবাম বের হয়।প্রায় সারা রাত জেগে তারা নামাজের সঙ্গে সঙ্গে আনন্দও করে।সেই দেখে দেখে আমরাও সারা রাত জেগে আমাদের নিজের মতো আনন্দে মেতে থাকি।সেহরী ও নামাজ সেরে একবারে ঘুম দিই।

দাহরান প্যালেস হোটেলে ইফতার পার্টিতে আমরা
রোজা এলেই এখানে ইফতার পার্টির ধুমও লেগে যায়।ইসলামিক সেন্টারগুলো তাবু টানিয়ে ফ্রি ইফতার বিতরন করে থাকে।এছাড়া রাস্তার সিগনালগুলোতেও তারা ইফতারের সময়ে হালকা খাবারের প্যাকেট বিতরন করে থাকে।আর বিভিন্ন অফিস-আদালতে শুরু হয় ইফতার পার্টি দেয়ার ধুম!মূলত তারা নিজ নিজ কোম্পানী ও প্রডাক্টের সঙ্গে পরিচিত করাতেই এই পার্টির আয়োজন করে বলে মনে করি।
আমাকে যে সকল কোম্পানির ইফতারে দাওয়াত দিয়েছে তারা হচ্ছেঃ হেমপেল পেইন্ট,সিগমা পেইন্ট,লেগরান্ট,মিটসুবিসি ইলেক্টিকস,আল-ফানার গ্রুপ,ওয়াটার প্রজেক্ট সহ ছোট বড় সব মিলিয়ে ৮/১০টার মতো ইফতার পার্টি।আর এই পার্টি গুলো এযাবৎ গোল্ডেন টিউলিপ, হলিডে ইন, রামাদা হোটেল, হোটেল কার্লটন, দাহরান প্যালেস হোটেল, মোবেনপিক(নুতন পাচতারা), হোটেল মেরিডিয়ান সহ ছোট বড় আরো অনেক।আর ইফতার পার্টি হলেও আগেই বলেছি এদের টার্গেট থাকে কিন্তু অন্য দিকে।আর তাই আজকের বিষয়।
প্রথমতঃ তারা অফিসে ফ্যাক্স করেন আমন্ত্রন জানিয়ে।প্রধানত তারা প্রজেক্ট চীফ বা চীফ একাউন্টট্যান্টকে আমন্ত্রন করেন।ক্ষেত্র বিশেষে আরো বেশীও হয়ে থাকে তবে ফিরতি ফ্যাক্সে আমাদের কনফার্ম করে দিতে হয়।

আমি একটা পার্টির অভিজ্ঞতা ব্লগারদের সঙ্গে শেয়ার করছি।তবে সব কোম্পানীই কিন্তু একইভাবে পার্টি আয়োজন করেননা,কিছুটা ভিন্নতাতো থাকেই।
আমি লেগরান্ট কোম্পানীর ইফতার পার্টির কথা লিখছি এখানে।ওদের পার্টি দিয়েছিল হোটেল হলিডে ইন আল-খুবারে।আমি ৩০মিনিট আগেই চলে গেলাম।গাড়ী নির্দিষ্ঠ জায়গায় পার্ক করে ভেতরে ঢুকতেই দেখলাম বোর্ডে লিখে দিয়েছেন পার্টি ঐ দিকে।
অনুসরন করে চলে গেলাম হল রুমের সামনে।আর আমার পরিচিত সেলসম্যানটি এগিয়ে এসে আমাকে অভ্যার্থনা জানালো। দেখলাম সবাই লাইন দিয়ে ঢুকছে আর তাদের বিজনেস কার্ড টেবিলে রাখা একটি বৈয়ামে ফেলছেন।আমিও আমারটা ফেলে গিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখি অনেকেই ইতিমধ্যে চলে এসেছেন। গোল টেবিলে সাজানো ইফতার।খেজুর,২/৩পদের জুস,গাহওয়া,চাসহ হালকা খাবার।অনেকেই তাদের ছোট ছোট ছেলে নিয়ে এসেছেন।বেশীর ভাগ অতিথীই আরবীয়। আমাদের একাউন্ট্যান্ট যদিও আরবীয় কিন্তু ছুটিতে বিধায় আসেননি।তাই নিজেকে বড় একাকী লাগছিল সেখানে।এরই মধ্যে সাউন্ডসিস্টেমে ভেসে এল আজানের ধ্বনি।আমরা ইফতার সেরে পাশের রুমে গিয়ে নামাজ সেরে ফিরে এলাম।
স্টেজে তখন লেবনানী উপস্থাপক শুরু করলেন তাদের পরিচিতি এবং যথারীতি তাদের প্রডাক্ট বর্ননা।স্টেজে বিশাল পর্দাতে ভিডিওতেও দেখাচ্ছেন, অনেকে অনেক প্রশ্নও করলেন তাদের নুতন আইটেম সম্পর্কে।প্রায় মিনিট ত্রিশেক চলার পর ডিনারের জন্য পাশের রুমে যেতে বললেন।সে এক বিশাল রুম এবং প্রচুর খাবারের আইটেম। একদিকে মুল খাবার অন্যদিকে ফলমুল ও মিস্টি-কেক-আইস্ক্রীম ইত্যাদি।সেখানেও লাইন ধরে সবাই যার যা ইচ্ছে উঠিয়ে নিচ্ছিলেন। বেশিরভাগ আইটেমই ছিল আরবীয় তবে তা আমার খুবই প্রিয়।
সেখানে এতো আইটেম ছিল যে অর্ধেক লাইন না যেতেই প্লেট ভরে গেল খাবারে।প্লেট নিয়ে ফিরে গেলাম আমার আগেকার টেবিলেই।খেয়ে শেষ করে আবারো ফিরে এসে মিস্টি কেক ইত্যাদি উঠিয়ে নিলাম।তারপর চা খেতে খেতেই ঘোষনা এল লটারীর।প্রবেশ পথে যারা বিজনেস কার্ড রেখে এসেছিলেন তাদের মধ্যে লটারী হবে।সেই বৈয়ামটিও দেখতে পেলাম।লটারী সামগ্রীর মধ্যে ছিল এলসিডি টিভি,ডিভিডি,ওয়াশিংমেশিন,সাউন্ডসিস্টেমসহ প্রায় ২৫টি আইটেম।তবে দুঃখের কথা আমি কিছুই পেলামনা।
মনখারাপ করে চলে আসার জন্য উঠে গেটে যেতেই দেখলাম দরজায় দাঁড়িয়ে তারা সবাইকে একটি করে গিফটব্যাগ হাতে ধরিয়ে মা-আছ-ছালাম বলে বিদায় জানাচ্ছে।


পাদটিকাঃ সব সময় সব জায়গায় ছবি তোলা বেমানান।তাই শত ইচ্ছে থাকলেও বড় বড় হোটেলের ভেতরকার ছবিগুলো নিতে পারিনি।ব্লগে দেয়া ছবিগুলো দাহরান প্যালেস হোটেলের ভেতর।এখানে আমরা বেশ কজন বন্ধু একটি ছোট ইফতার পার্টিতে গিয়েছিলাম।

পূর্বে লেখা আমার আরো একটি ইফতার পার্টি /:)
Click This Link


গোল্ডেন টিউলিপ হোটেল

গালফ মেরিডিয়ান হোটেল

নুতন গড়ে উঠা ৫তারা মোভেনপিক হোটেল

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৩:০৬
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×