somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আজ রাতে শুয়রগুলো সব নাম পাল্টে 'শিবির' রাখবে। আজ রাতে ফালাফালা হবে একাত্তরের পাকিস্তান

আজ রাতে হুমায়ুন আজাদ ঘাড়ে, চোয়ালে মারাত্মক সব কোপ নিয়ে
দাড়িয়ে যাবেন। কিভাবে যেন শিবিরের চাপাতিটি কেড়ে নিবেন তিনি।
বলবেন, দেখ্ আমরাও ভুজভাজি জানি কম না।

আজ রাতে একাত্তরের সেই শাড়িগুলো সব বিষধর সাপ হবে।
হিস হিস চাপতে থাকবে শিবিরের গলা।

আজ রাতে জামাত-ডাকা বুটের তলায় পিস্ট মুক্তিযোদ্ধার বুক
দশতলা বুলডোজার হয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিবে গো. আজমের বসতবাটি।

আজ রাতে শুয়রগুলো সব নাম পাল্টে 'শিবির' রাখবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28847950 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28847950 2008-09-25 23:59:05
বার্ট্রান্ড রাসেল ও জনৈক পাদ্রীর বাহাস
রাসেল: আপনি বললেন, ঈশ্বর যা করেন সবই মঙ্গলের জন্য করেন। আচ্ছা এই যে ঘুর্ণিঝড়ে ফকির মিসকিন নারী শিশু বৃদ্ধের সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়া, বজ্রপাতে সোমত্ত কৃষকের ছাই হয়ে যাওয়া এবং এর সাথে তার উপার্জনহীন বউ আর তার বাচ্চাকাচ্চার নিরাশ্রিত হয়ে পড়া, ক্ষরায়, দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানী হওয়া এগুলোও কি ঈশ্বর মঙ্গলের জন্যই করেন? আমি তো দেখি এতে মানুষের কেবল অমঙ্গলই হয়।

পাদ্রী: আমার আপনার তথা সমস্ত মানবকুলের জ্ঞান নেহাতই সীমিত। জ্ঞানের এই সীমাবদ্ধতার কারণে আপনার মনে হচ্ছে ঈশ্বর এগুলো অমঙ্গলের জন্য করছেন। আসলে এর মধ্যে মঙ্গলই নিহিত আছে। জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে আপনি তা বুঝতে পারছেন না।

রাসেল: আপনার যুক্তির লাইন ধরেই যদি আগাই, তাহলেতো এও বলতে পারি যে, মানুষ হিসাবে আপনার এবং আপনার মতো সমস্ত বিশ্বাসীদের জ্ঞানও সীমিত। আর এই সীমিত জ্ঞান নিয়ে আপনাদের কাছে মনে হচ্ছে ঈশ্বর এগুলো মঙ্গলের জন্যই করেছেন। জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে আপনিও হয়তো বুঝতে পারছেন না যে এগুলো আসলে অমঙ্গল, মঙ্গল নয়।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28846733 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28846733 2008-09-23 01:21:42
একজনের মৃত্যুর জন্য আরেকজনের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া কি ইসলাম সম্মত? [রিপোস্ট]
আল্লাহ্‌ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যে মরে না, তার নিদ্রাকালে। অত:পর যার মৃত্যু অবধারিত করেন, তার প্রাণ ছাড়েন না এবং অন্যান্যদের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। [৩৯:৪২]

বিভিন্ন হাদিস এবং কোরানের একাধিক আয়াত অনুসারে প্রত্যেক মুসলমান এ বিষয়ে একমত হবেন যে জীবের জীবন নেয়ার কাজটি আল্লাহর আদেশে আজ্‌রাইল নামক ফেরেশতা করে থাকেন। অর্থাৎ আজ্‌রাইল এ কাজটি করে থাকেন আল্লাহরই নির্দেশে। কিন্তু একথা কি বলা যাবে যে আজ্‌রাইল কখনো কখনো মানুষের প্রাণ সংহার করে থাকেন শয়তানের নির্দেশে? এ প্রশ্নের উত্তরে সকল মুসলমানই নিশ্চয় একবাক্যে না, না করে উঠবেন। অথচ বাস্তবে এমনটিই ঘটছে না কি? শয়তানের নির্দেশেই কি কখনো কখনো আজ্‌রাইল মানুষের প্রাণ সংহার করছেন না? বিষয়টিকে এভাবে দেখা যাক -

প্রতিদিনই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও খুন হচ্ছে মানুষ। খুন হচ্ছে বৃদ্ধ, যুবা, তরুন, কিশোর। খুন হচ্ছে অপাপবিদ্ধ শিশু। আর খুনীকে ইন্ধন দিচ্ছে শয়তান। শয়তানের কাজই এমন। খুন, হত্যা, গুম, রাহাজানি, ধর্ষণ এমন নানান অপকর্মে মানুষের ভিতরে বসে বসে ক্রমাগত উস্কানী দিতে থাকে সে। কিন্তু যখন একজন খুনী শয়তানের প্ররোচনায় কারো বাসায় ঢুকে বাসার একজনকে খুলি লক্ষ্য করে গুলি করলো, তখন লোকটির মারা যাওয়ার জন্য মাথার গভীরে প্রবিষ্ট বুলেটটিই কি যথেষ্ট? নাকি দরকার আজরাইল ফেরেশতার সক্রিয় অংশগ্রহণ? আজরাইল আসবেন, নানান বীভৎস যন্ত্রনায় সেই লোকটির শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা আত্মা বা রূহকে বের করে নিয়ে আসবেন। তবেই না মাথায় গুলিবিদ্ধ লোকটির মৃত্যু হবে। আজরাইল যদি এই সময়ে এখানে না আসতেন তাহলে ঘাতকের সেই বুলেটের কি সাধ্য ছিল গুলিবিদ্ধ লোকটির মৃত্যু ঘটানো? না, ইসলামের দৃষ্টিতে তা মোটেই সম্ভব ছিল না। এবং গুলিবিদ্ধ এই লোকটির ক্ষেত্রে আজরাইল মহোদয় হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি মোটেই। ত্বরিৎ গতিতে চলে এসে তার কার্য সম্পাদন করেছেন যথারীতি। এবং এসেছেন আল্লাহতায়ালার নির্দেশে (আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া মানুষের মৃত্যু সম্ভব নয়)। তাহলে এই ক্ষেত্রে খুনটি বাস্তবায়ন হলো কার দ্বারা? আল্লাহর দ্বারা নয় কি? আল্লাহই এই নির্মম হত্যাকান্ডের বাস্তবায়নকারী নয় কি? শুধু তাই নয়, ঘাতকের হাতে গুলিবিদ্ধ এই লোকটি কখন কিভাবে মৃত্যুবরণ করবে তাও আল্লাহতায়ালা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছেন।

আল্লাহ্‌ লোকটির জন্য এইরকম একটি বীভৎস মৃত্যু লিখে রাখলেন, দিনক্ষণ মেপে আজরাইল পাঠালেন। আর দোষ পড়লো বেচারা শয়তান এবং অতঃপর সেই নাচের পুতুল খুনীর ঘাড়ে! আর আল্লাহ যদি এই কথা লিখেই থাকেন যে এই লোকটির মৃত্যু হবে একজন নরঘাতকের গুলিতে, তাহলে শয়তান কি ঘাতকটিকে কুমন্ত্রণা দিয়ে আল্লাহর সেই অমোঘ পান্ডুলিপিরই মঞ্চায়ন করলো না?

আর যদি বলা হয় এ ধরণের নির্দেশ আল্লাহ প্রদান করেন নি, তাহলে কি এই দাঁড়ায় না যে এক্ষেত্রে ঘাতককে খুনের পক্ষে সফল উস্কানি দেয়ার পাশাপাশি শয়তানকে আরেকটি কাজও করতে হয়েছিল। আর তাহলো আজরাইলকে নির্দেশ দেয়া গুলিবিদ্ধ লোকটির প্রান সংহার করতে। এবং কি আশ্চর্য! শয়তানের কথায় সুরসুর করে চলেও আসে আজরাইল। আগেই বলা হয়েছে যে কোন মুসলমানই এতে একমত হবেন না যে শয়তানের নির্দেশে আজরাইল একাজটি করেছে। তাহলে খুনের ঘটনাটি চূড়ান্ত রূপ নিল কিভাবে? শয়তান এবং আল্লাহ উভয়ের ভূমিকাকে স্বীকার করে নিয়ে উত্তর কি এরকম হয় না যে এই নৃশংশ ঘটনাটি ঘটেছে শয়তান এবং আল্লাহর যৌথ প্রচেষ্টায়? এবং এও দাড়ায় যে এই খুনের ঘটনায় আল্লাহতায়ালা শয়তান এবং খুনীকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছেন (আজরাইল পাঠিয়ে)।

কোরান এবং হাদিসের আলোকে যেহেতু একথা সুস্পষ্টভাবেই বলা চলে যে আল্লাহই সকল মৃত্যুর নির্দেশদাতা তাহলে একথা একবাক্যে বলা চলে যে আল্লাহই সকল স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর বাস্তবায়নকারী। আর একথা মেনে নিলে পৃথিবী কোথায় পড়ে থাকে, এই জগত সংসার কতটা নারকীয় হয়ে উঠে তা একবার ভেবে দেখেছেন কি? ডাক্তারের কাছে মানুষ যায় বাঁচার আশায়। কিন্তু কখনো কখনো দেখা যায় এই ডাক্তারের কারণেই রোগী মারা যায়। টিউমার কাটতে গিয়ে রোগীর কিডনী ফেলে দিয়েছেন, কাটাছেড়ার পর রোগীর পেটে কিংবা বুকে গজ, ব্যান্ডেজ, কেঁচি রেখেই সেলাই করে দিয়েছেন, কিংবা গরীব রোগীকে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালে ফেলে রেখেছেন 'মহৎ' ডাক্তার - এধরণের ঘটনায় রোগী মারা গেছে এরকম উদাহরণ বাংলাদেশে অজস্র। কিছুদিন আগেও একটি ক্লিনিকে একজন শিশুকে 'সফল' অস্ত্রোপচার করার পর শিশুটি আর জেগে উঠেনি। বলা হল শিশুটির এনেন্থেসিয়া করিয়েছিল যে ডাক্তার তারই দোষে শিশুটির এই ঝরে পড়া।

এসমস্ত ক্ষেত্রে কি রোগীর আত্মীয়-স্বজন চুপ মেরে বসে থাকেন? না, এমনটি করেন না তারা। প্রতিবাদ করেন সাধ্যমতো। প্রবল ক্রোধে অপদার্থ, অযোগ্য, কান্ডজ্ঞানহীন ডাক্তারের কলার চেপে ধরেন, হাসপাতালে, ক্লিনিকে ভাংচুর করেন, এবং সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। (সম্প্রতি নায়ক মান্নার মৃত্যুর জন্য ছয় ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার আত্মীয়-স্বজন।) নিদেনপক্ষে অইসব ডাক্তারের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দেন অকথ্য, অশ্রাব্য গালাগাল। ডাক্তারের অযোগ্যতা কিংবা অবহেলা প্রমাণ হলে উন্নত বিশ্বে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের লাইসেন্স বাতিল হয়, জেল জরিমানা হয় এবং ক্ষতিপূরণ হিসাবে বাদীপক্ষ পান লাখ লাখ ডলার। এই যে এ সমস্ত ঘাতক ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলাগুলো হয় তার বিচারে বিচারক যদি বলেন, 'আল্লার মাল আল্লায় নিয়ে গেছেন। যেহেতু আল্লাহর নির্দেশেই সকল মানুষের মৃত্যু হয়, যে ডাক্তারের বিরুদ্ধে আপনারা হত্যা মামলা, কর্তব্যে অবহেলার মামলা করলেন তার বাপেরও সাধ্য ছিল না রোগীর মৃত্যু ঘটানো। আল্লাহর নির্দেশেই তা ঘটেছে। এবং রোগী যে এভাবে মারা যাবে তাও আল্লাহ লিখে রেখেছেন আগে থেকেই। ডাক্তারের মধ্য দিয়ে আল্লাহ্‌ কেবল তার ইচ্ছাকেই পূর্ণ করলেন। সুতরাং ডাক্তার এখানে নাচের পুতুল মাত্র। আর আপনারা তো জানেনই নাচের পুতুলের কোন বিচার হয় না। বিচার যদি এক্ষেত্রে করতেই হয় তাহলে বিচার হবে আল্লাহর।' তাহলে মামলার বাদীগণ কি বলবেন? তারা কি বলতে পারবেন 'না, না, ডাক্তারই আমাদের প্রাণপ্রিয় রোগীকে মেরেছে, আল্লাহ নয়। ডাক্তারের কারণে যে রোগী মারা গেল তার সুষ্পষ্ট প্রমাণ আছে আমাদের হাতে। ডাক্তার যদি দায়িত্বে অবহেলা না করতো, ডাক্তার যদি এটা না করে ওটা করতো কিংবা ওটা না করে এটা করতো, তাহলে আল্লাহ যতই আজরাইল পাঠাক না কেন আমাদের রোগী মারা যেত না। সুতরাং ডাক্তারের উপযুক্ত সাজা হোক।'?

মৃত্যু আল্লাহর অমোঘ বিধান। বান্দা যত চেষ্টাই করুক না কেন, যার যেভাবে মৃত্যু লেখা আছে তার মৃত্যু সেভাবেই ঘটবে। এর একচুলও নড়চড় হবে না। এ বিধান, এ নিয়তি মেনে নিলে মানুষ কখনোই সড়ক দুর্ঘটনা কমানো কিংবা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসার জন্য পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতো না। ডাক্তারের কারণে যাতে রোগীর মৃত্যু না ঘটে সে জন্যে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবতো না। হত্যাকান্ডের তদন্ত করতো না। খুনী, সন্ত্রাসীকে ফাঁসীতে ঝুলাতো না, জেলে ভরতো না। জীবানুরোধী টিকা আবিষ্কার করতো না। চিকিৎসা গ্রহণ করতো না। বাঘের হাত থেকে বাঁচার জন্য গাছের উপর মাচা বাঁধতো না। রাস্তা পারাপারের সময় এদিক ওদিক তাকাতো না।

এইতো কয়েক বছর আগে ময়মনসিংহ আর পটুয়াখালীতে যাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে নিহত হলেন নয় জন হতদরিদ্র মহিলা। এই নির্মম ঘটনাটিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক ওয়াজ মাহ্‌ফিলের জনৈক হুজুর বিশ্লেষণ করছেন এভাবে -

ভাইসব, এই মহিলারা কি জানতেন যাকাতের কাপড় তাদের ভাগ্যে লেখা ছিল না? লেখা ছিল সাদা কাফনের কাপড়। তাদের ধারণা ছিল আরো কিছু দিন বেঁচে থাকবেন। অন্তত ততদিন যতদিন যাকাতের কাপড়টি শতছিন্ন হয়ে না পড়ে। কিন্তু দেখুন ভাইসব, তারা কি সেই কাপড় পড়তে পারলেন? এ থেকে কি বুঝা যায়? মানুষ মিছেই এই নশ্বর দুনিয়ার ধান্ধায় মশগুল। সে ভাবে না মৃত্যু তার পায়ের গুড়ালির সামনে দাড়িয়ে। যার যতটুকু হায়াত তার এক সেকেন্ডও বেশী বাঁচার সাধ্য তার নেই। শুনে ভিজে আসে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতার চোখ। গলায় জমে আবেগের বাষ্প।

প্রিয় পাঠক, এই হুজুর এবং আবেগে মাথা নুইয়ে আসা তার দর্শক-শ্রোতাগণের পক্ষে কি এখন সম্ভব নিচের কথাগুলো বলা?

১) সীমাহীন দারিদ্রের এই দেশ থেকে যদি দারিদ্রকে নির্মূল করা যেত তাহলে হত-দরিদ্র এই মহিলাদেরকে করুনার শাড়ীগুলো আনতে যেতে হতো না অই মরণযজ্ঞে। এবং সেক্ষেত্রে তাদের মৃত্যুও হতো না এভাবে পায়ের তলায় চাপা পড়ে।

২) এরকম একটি সম্ভাবনাকে সামনে রেখে (এর আগেও এদেশে যাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছে মানুষ) কাপড় দানকারীর আগে থেকেই এমন ব্যবস্থা করা উচিৎ ছিল যাতে এক বা একাধিক লাইনে থেকে দরিদ্রগণ একজন একজন করে কাপড় সংগ্রহ করতে পারে। তাহলে নির্ঘাত এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারতো না।
নির্বোধ এবং লোক দেখানো এই দানকারীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রজু করা উচিৎ।

৩) এধরণের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্যে উচিৎ ধনী এবং নির্ধনের এই বিশাল ফারাক বন্ধ করা। সকল ধনী তথা নির্লজ্জ রক্তশোষকগুলো যাতে তাদের উপচে পড়া অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় যাকাত ফান্ডে রেখে পাপস্খালনের সূবর্ণ সুযোগ গ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা করা।

সুললিত কন্ঠের এই হুজুরের পক্ষে কোনমতেই এই কথাগুলো বলা সম্ভব নয়। কেননা তিনি ইতোমধ্যেই আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যে এমনই এক মৃত্যু অবধারিত ছিল সেই হতদরিদ্রগুলোর ভাগ্যে। সেই মৃত্যুকে বরণ করতেই তারা গিয়েছিল যাকাতের শাড়ি আনতে এবং পদপিষ্ট হতে।

কিন্তু আশার কথা এই যে, প্রতিটি মানুষই বিশ্বাসগতভাবে যে দেবতার পুজারীই হোক না কেন কার্যত সে নাস্তিক। 'হায়াত থাকতে মউৎ নাই' এই কথা সে মুখে বলে ঠিকই। কিন্তু এই কথা বলে সে বিশ তলা দালানের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে না, দাঁড়িয়ে থাকে না ব্যস্ত রাজপথের মাঝখানে, বুলেটভর্তি পিস্তলের নল কপালে ঠেকিয়ে ট্রিগার চেপে দেয় না। দুর্ঘটনায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে এই আশায় বসে থাকে না যে যদি মৃত্যু লেখা না থাকে তাহলে শরীর থেকে সমস্ত রক্ত সরে গেলেও মৃত্যু হবে না, আর মৃত্যু যদি লেখাই থাকে তাহলে দুনিয়ার সেরা ডাক্তারও মৃত্যু ঠেকাতে পারবে না।

কোন দেশের (সৌদি আরব সহ) বিচার ব্যবস্থা যখন কারো মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে তখন কি সে নিশ্চিত জানে যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আল্লাহ তার মৃত্যু ঘটাবেন, কিংবা তলোয়ার দিয়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তের ঘাড়ে সজোড়ে কোপ বসালেই তার মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে তার মৃত্যু ঘটবে? হ্যাঁ, সে জানে। এবং জানে বলেই সে অভিযুক্তের গলায় একটি দুর্বল সুতা না ঝুলিয়ে একটি শক্ত দড়ি ঝুলায় কিংবা ঘাড়ে ধানের শিষ দিয়ে আলতো করে আঘাত না করে ধারালো তলোয়ার দিয়েই কোপ দেয়। সে এই কথা ভাবে না যে তার যদি মৃত্যু লেখা না থাকে তাহলে তলোয়ারের দুই হাজার কোপেও তার মৃত্যু ঘটবে না তা সে যতই ধারালো হোক; আর তার যদি মৃত্যু লেখা থাকে তাহলে তলোয়ারের আঘাত কেন একটি সামান্য টোকা ছাড়াই সে মারা যাবে। না সে এমনটি ভাবে না। ভাবলে সে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে অভিযুক্তকে ঠিক ফাঁসিতেই ঝুলাতো না, চেয়ারে শক্ত করে বেঁধে মাথার পিছনে গুলি করতো না, গিলোটিন কিংবা তলোয়ারের নিচেই ঘাড় রাখতো না। সে জানে কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করলেই মানুষের মৃত্যু ঘটানো যায়। তার মৃত্যু লেখা আছে কি নেই সেই অনিশ্চয়তায় সে ভোগে না কখনোই। সে জানে এই বুলেটে, এই ফাঁসির দড়িতে, এই চকচকে তলোয়ারে সে নিজেই রচনা করতে পারে মানুষের মৃত্যু। বিশ্বাসের গায়ে হেলান দিয়ে মানুষ চুপচাপ বসে থাকে না এসব ক্ষেত্রে। বসে থাকে না এজন্য যে যুগযুগের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা থেকে সে দেখেছে কারণই ডেকে আনে তার মরণ। এই কারনেরই ভৃত্য আজরাইল, যমদূত কিংবা আল্লাহ। বুলেট যখন মানুষের মস্তিষ্ক ছিন্নভিন্ন করে দেয় ঈশ্বরের সাধ্য নেই তাকে বাঁচিয়ে রাখে। হয় বুলেট ঈশ্বরের অধিক শক্তি ধরে অথবা ঈশ্বরের শক্তি বুলেটের শক্তির অনুগমণ করে।



কৃতজ্ঞতা: আরজ আলী মাতুব্বর]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28845736 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28845736 2008-09-20 17:21:53
শিশু ভিক্ষুকের সাত মিনিট

ঐ দেখ, আমগো ছবি তুলতাছে....


একটা ছবি তুলবেন?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28845711 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28845711 2008-09-20 15:44:03
একজনের মৃত্যুর জন্য আরেকজনের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া ইসলাম সম্মত কি?
আল্লাহ্‌ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যে মরে না, তার নিদ্রাকালে। অত:পর যার মৃত্যু অবধারিত করেন, তার প্রাণ ছাড়েন না এবং অন্যান্যদের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। [৩৯:৪২]

বিভিন্ন হাদিস এবং কোরানের একাধিক আয়াত অনুসারে প্রত্যেক মুসলমান এ বিষয়ে একমত হবেন যে জীবের জীবন নেয়ার কাজটি আল্লাহর আদেশে আজ্‌রাইল নামক ফেরেশতা করে থাকেন। অর্থাৎ আজ্‌রাইল এ কাজটি করে থাকেন আল্লাহরই নির্দেশে। কিন্তু একথা কি বলা যাবে যে আজ্‌রাইল কখনো কখনো মানুষের প্রাণ সংহার করে থাকেন শয়তানের নির্দেশে? এ প্রশ্নের উত্তরে সকল মুসলমানই নিশ্চয় একবাক্যে না, না করে উঠবেন। অথচ বাস্তবে এমনটিই ঘটছে না কি? শয়তানের নির্দেশেই কি কখনো কখনো আজ্‌রাইল মানুষের প্রাণ সংহার করছেন না? বিষয়টিকে এভাবে দেখা যাক -

প্রতিদিনই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও খুন হচ্ছে মানুষ। খুন হচ্ছে বৃদ্ধ, যুবা, তরুন, কিশোর। খুন হচ্ছে অপাপবিদ্ধ শিশু। আর খুনীকে ইন্ধন দিচ্ছে শয়তান। শয়তানের কাজই এমন। খুন, হত্যা, গুম, রাহাজানি, ধর্ষণ এমন নানান অপকর্মে মানুষের ভিতরে বসে বসে ক্রমাগত উস্কানী দিতে থাকে সে। কিন্তু যখন একজন খুনী শয়তানের প্ররোচনায় কারো বাসায় ঢুকে বাসার একজনকে খুলি লক্ষ্য করে গুলি করলো, তখন লোকটির মারা যাওয়ার জন্য মাথার গভীরে প্রবিষ্ট বুলেটটিই কি যথেষ্ট? নাকি দরকার আজরাইল ফেরেশতার সক্রিয় অংশগ্রহণ? আজরাইল আসবেন, নানান বীভৎস যন্ত্রনায় সেই লোকটির শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা আত্মা বা রূহকে বের করে নিয়ে আসবেন। তবেই না মাথায় গুলিবিদ্ধ লোকটির মৃত্যু হবে। আজরাইল যদি এই সময়ে এখানে না আসতেন তাহলে ঘাতকের সেই বুলেটের কি সাধ্য ছিল গুলিবিদ্ধ লোকটির মৃত্যু ঘটানো? না, ইসলামের দৃষ্টিতে তা মোটেই সম্ভব ছিল না। এবং গুলিবিদ্ধ এই লোকটির ক্ষেত্রে আজরাইল মহোদয় হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি মোটেই। ত্বরিৎ গতিতে চলে এসে তার কার্য সম্পাদন করেছেন যথারীতি। এবং এসেছেন আল্লাহতায়ালার নির্দেশে (আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া মানুষের মৃত্যু সম্ভব নয়)। তাহলে এই ক্ষেত্রে খুনটি বাস্তবায়ন হলো কার দ্বারা? আল্লাহর দ্বারা নয় কি? আল্লাহই এই নির্মম হত্যাকান্ডের বাস্তবায়নকারী নয় কি? শুধু তাই নয়, ঘাতকের হাতে গুলিবিদ্ধ এই লোকটি কখন কিভাবে মৃত্যুবরণ করবে তাও আল্লাহতায়ালা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছেন।

আল্লাহ্‌ লোকটির জন্য এইরকম একটি বীভৎস মৃত্যু লিখে রাখলেন, দিনক্ষণ মেপে আজরাইল পাঠালেন। আর দোষ পড়লো বেচারা শয়তান এবং অতঃপর সেই নাচের পুতুল খুনীর ঘাড়ে! আর আল্লাহ যদি এই কথা লিখেই থাকেন যে এই লোকটির মৃত্যু হবে একজন নরঘাতকের গুলিতে, তাহলে শয়তান কি ঘাতকটিকে কুমন্ত্রণা দিয়ে আল্লাহর সেই অমোঘ পান্ডুলিপিরই মঞ্চায়ন করলো না?

আর যদি বলা হয় এ ধরণের নির্দেশ আল্লাহ প্রদান করেন নি, তাহলে কি এই দাঁড়ায় না যে এক্ষেত্রে ঘাতককে খুনের পক্ষে সফল উস্কানি দেয়ার পাশাপাশি শয়তানকে আরেকটি কাজও করতে হয়েছিল। আর তাহলো আজরাইলকে নির্দেশ দেয়া গুলিবিদ্ধ লোকটির প্রান সংহার করতে। এবং কি আশ্চর্য! শয়তানের কথায় সুরসুর করে চলেও আসে আজরাইল। আগেই বলা হয়েছে যে কোন মুসলমানই এতে একমত হবেন না যে শয়তানের নির্দেশে আজরাইল একাজটি করেছে। তাহলে খুনের ঘটনাটি চূড়ান্ত রূপ নিল কিভাবে? শয়তান এবং আল্লাহ উভয়ের ভূমিকাকে স্বীকার করে নিয়ে উত্তর কি এরকম হয় না যে এই নৃশংশ ঘটনাটি ঘটেছে শয়তান এবং আল্লাহর যৌথ প্রচেষ্টায়? এবং এও দাড়ায় যে এই খুনের ঘটনায় আল্লাহতায়ালা শয়তান এবং খুনীকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছেন (আজরাইল পাঠিয়ে)।

কোরান এবং হাদিসের আলোকে যেহেতু একথা সুস্পষ্টভাবেই বলা চলে যে আল্লাহই সকল মৃত্যুর নির্দেশদাতা তাহলে একথা একবাক্যে বলা চলে যে আল্লাহই সকল স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর বাস্তবায়নকারী। আর একথা মেনে নিলে পৃথিবী কোথায় পড়ে থাকে, এই জগত সংসার কতটা নারকীয় হয়ে উঠে তা একবার ভেবে দেখেছেন কি? ডাক্তারের কাছে মানুষ যায় বাঁচার আশায়। কিন্তু কখনো কখনো দেখা যায় এই ডাক্তারের কারণেই রোগী মারা যায়। টিউমার কাটতে গিয়ে রোগীর কিডনী ফেলে দিয়েছেন, কাটাছেড়ার পর রোগীর পেটে কিংবা বুকে গজ, ব্যান্ডেজ, কেঁচি রেখেই সেলাই করে দিয়েছেন, কিংবা গরীব রোগীকে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালে ফেলে রেখেছেন 'মহৎ' ডাক্তার - এধরণের ঘটনায় রোগী মারা গেছে এরকম উদাহরণ বাংলাদেশে অজস্র। কিছুদিন আগেও একটি ক্লিনিকে একজন শিশুকে 'সফল' অস্ত্রোপচার করার পর শিশুটি আর জেগে উঠেনি। বলা হল শিশুটির এনেন্থেসিয়া করিয়েছিল যে ডাক্তার তারই দোষে শিশুটির এই ঝরে পড়া।

এসমস্ত ক্ষেত্রে কি রোগীর আত্মীয়-স্বজন চুপ মেরে বসে থাকেন? না, এমনটি করেন না তারা। প্রতিবাদ করেন সাধ্যমতো। প্রবল ক্রোধে অপদার্থ, অযোগ্য, কান্ডজ্ঞানহীন ডাক্তারের কলার চেপে ধরেন, হাসপাতালে, ক্লিনিকে ভাংচুর করেন, এবং সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। (সম্প্রতি নায়ক মান্নার মৃত্যুর জন্য ছয় ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার আত্মীয়-স্বজন।) নিদেনপক্ষে অইসব ডাক্তারের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দেন অকথ্য, অশ্রাব্য গালাগাল। ডাক্তারের অযোগ্যতা কিংবা অবহেলা প্রমাণ হলে উন্নত বিশ্বে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের লাইসেন্স বাতিল হয়, জেল জরিমানা হয় এবং ক্ষতিপূরণ হিসাবে বাদীপক্ষ পান লাখ লাখ ডলার। এই যে এ সমস্ত ঘাতক ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলাগুলো হয় তার বিচারে বিচারক যদি বলেন, 'আল্লার মাল আল্লায় নিয়ে গেছেন। যেহেতু আল্লাহর নির্দেশেই সকল মানুষের মৃত্যু হয়, যে ডাক্তারের বিরুদ্ধে আপনারা হত্যা মামলা, কর্তব্যে অবহেলার মামলা করলেন তার বাপেরও সাধ্য ছিল না রোগীর মৃত্যু ঘটানো। আল্লাহর নির্দেশেই তা ঘটেছে। এবং রোগী যে এভাবে মারা যাবে তাও আল্লাহ লিখে রেখেছেন আগে থেকেই। ডাক্তারের মধ্য দিয়ে আল্লাহ্‌ কেবল তার ইচ্ছাকেই পূর্ণ করলেন। সুতরাং ডাক্তার এখানে নাচের পুতুল মাত্র। আর আপনারা তো জানেনই নাচের পুতুলের কোন বিচার হয় না। বিচার যদি এক্ষেত্রে করতেই হয় তাহলে বিচার হবে আল্লাহর।' তাহলে মামলার বাদীগণ কি বলবেন? তারা কি বলতে পারবেন 'না, না, ডাক্তারই আমাদের প্রাণপ্রিয় রোগীকে মেরেছে, আল্লাহ নয়। ডাক্তারের কারণে যে রোগী মারা গেল তার সুষ্পষ্ট প্রমাণ আছে আমাদের হাতে। ডাক্তার যদি দায়িত্বে অবহেলা না করতো, ডাক্তার যদি এটা না করে ওটা করতো কিংবা ওটা না করে এটা করতো, তাহলে আল্লাহ যতই আজরাইল পাঠাক না কেন আমাদের রোগী মারা যেত না। সুতরাং ডাক্তারের উপযুক্ত সাজা হোক।'?

মৃত্যু আল্লাহর অমোঘ বিধান। বান্দা যত চেষ্টাই করুক না কেন, যার যেভাবে মৃত্যু লেখা আছে তার মৃত্যু সেভাবেই ঘটবে। এর একচুলও নড়চড় হবে না। এ বিধান, এ নিয়তি মেনে নিলে মানুষ কখনোই সড়ক দুর্ঘটনা কমানো কিংবা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসার জন্য পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতো না। ডাক্তারের কারণে যাতে রোগীর মৃত্যু না ঘটে সে জন্যে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবতো না। হত্যাকান্ডের তদন্ত করতো না। খুনী, সন্ত্রাসীকে ফাঁসীতে ঝুলাতো না, জেলে ভরতো না। জীবানুরোধী টিকা আবিষ্কার করতো না। চিকিৎসা গ্রহণ করতো না। বাঘের হাত থেকে বাঁচার জন্য গাছের উপর মাচা বাঁধতো না। রাস্তা পারাপারের সময় এদিক ওদিক তাকাতো না।

এইতো কয়েক বছর আগে ময়মনসিংহ আর পটুয়াখালীতে যাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে নিহত হলেন নয় জন হতদরিদ্র মহিলা। এই নির্মম ঘটনাটিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক ওয়াজ মাহ্‌ফিলের জনৈক হুজুর বিশ্লেষণ করছেন এভাবে -

ভাইসব, এই মহিলারা কি জানতেন যাকাতের কাপড় তাদের ভাগ্যে লেখা ছিল না? লেখা ছিল সাদা কাফনের কাপড়। তাদের ধারণা ছিল আরো কিছু দিন বেঁচে থাকবেন। অন্তত ততদিন যতদিন যাকাতের কাপড়টি শতছিন্ন হয়ে না পড়ে। কিন্তু দেখুন ভাইসব, তারা কি সেই কাপড় পড়তে পারলেন? এ থেকে কি বুঝা যায়? মানুষ মিছেই এই নশ্বর দুনিয়ার ধান্ধায় মশগুল। সে ভাবে না মৃত্যু তার পায়ের গুড়ালির সামনে দাড়িয়ে। যার যতটুকু হায়াত তার এক সেকেন্ডও বেশী বাঁচার সাধ্য তার নেই। শুনে ভিজে আসে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতার চোখ। গলায় জমে আবেগের বাষ্প।

প্রিয় পাঠক, এই হুজুর এবং আবেগে মাথা নুইয়ে আসা তার দর্শক-শ্রোতাগণের পক্ষে কি এখন সম্ভব নিচের কথাগুলো বলা?

১) সীমাহীন দারিদ্রের এই দেশ থেকে যদি দারিদ্রকে নির্মূল করা যেত তাহলে হত-দরিদ্র এই মহিলাদেরকে করুনার শাড়ীগুলো আনতে যেতে হতো না অই মরণযজ্ঞে। এবং সেক্ষেত্রে তাদের মৃত্যুও হতো না এভাবে পায়ের তলায় চাপা পড়ে।

২) এরকম একটি সম্ভাবনাকে সামনে রেখে (এর আগেও এদেশে যাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছে মানুষ) কাপড় দানকারীর আগে থেকেই এমন ব্যবস্থা করা উচিৎ ছিল যাতে এক বা একাধিক লাইনে থেকে দরিদ্রগণ একজন একজন করে কাপড় সংগ্রহ করতে পারে। তাহলে নির্ঘাত এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারতো না।
নির্বোধ এবং লোক দেখানো এই দানকারীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রজু করা উচিৎ।

৩) এধরণের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্যে উচিৎ ধনী এবং নির্ধনের এই বিশাল ফারাক বন্ধ করা। সকল ধনী তথা নির্লজ্জ রক্তশোষকগুলো যাতে তাদের উপচে পড়া অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় যাকাত ফান্ডে রেখে পাপস্খালনের সূবর্ণ সুযোগ গ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা করা।

সুললিত কন্ঠের এই হুজুরের পক্ষে কোনমতেই এই কথাগুলো বলা সম্ভব নয়। কেননা তিনি ইতোমধ্যেই আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যে এমনই এক মৃত্যু অবধারিত ছিল সেই হতদরিদ্রগুলোর ভাগ্যে। সেই মৃত্যুকে বরণ করতেই তারা গিয়েছিল যাকাতের শাড়ি আনতে এবং পদপিষ্ট হতে।

কিন্তু আশার কথা এই যে, প্রতিটি মানুষই বিশ্বাসগতভাবে যে দেবতার পুজারীই হোক না কেন কার্যত সে নাস্তিক। 'হায়াত থাকতে মউৎ নাই' এই কথা সে মুখে বলে ঠিকই। কিন্তু এই কথা বলে সে বিশ তলা দালানের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে না, দাঁড়িয়ে থাকে না ব্যস্ত রাজপথের মাঝখানে, বুলেটভর্তি পিস্তলের নল কপালে ঠেকিয়ে ট্রিগার চেপে দেয় না। দুর্ঘটনায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে এই আশায় বসে থাকে না যে যদি মৃত্যু লেখা না থাকে তাহলে শরীর থেকে সমস্ত রক্ত সরে গেলেও মৃত্যু হবে না, আর মৃত্যু যদি লেখাই থাকে তাহলে দুনিয়ার সেরা ডাক্তারও মৃত্যু ঠেকাতে পারবে না।

কোন দেশের (সৌদি আরব সহ) বিচার ব্যবস্থা যখন কারো মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে তখন কি সে নিশ্চিত জানে যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আল্লাহ তার মৃত্যু ঘটাবেন, কিংবা তলোয়ার দিয়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তের ঘাড়ে সজোড়ে কোপ বসালেই তার মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে তার মৃত্যু ঘটবে? হ্যাঁ, সে জানে। এবং জানে বলেই সে অভিযুক্তের গলায় একটি দুর্বল সুতা না ঝুলিয়ে একটি শক্ত দড়ি ঝুলায় কিংবা ঘাড়ে ধানের শিষ দিয়ে আলতো করে আঘাত না করে ধারালো তলোয়ার দিয়েই কোপ দেয়। সে এই কথা ভাবে না যে তার যদি মৃত্যু লেখা না থাকে তাহলে তলোয়ারের দুই হাজার কোপেও তার মৃত্যু ঘটবে না তা সে যতই ধারালো হোক; আর তার যদি মৃত্যু লেখা থাকে তাহলে তলোয়ারের আঘাত কেন একটি সামান্য টোকা ছাড়াই সে মারা যাবে। না সে এমনটি ভাবে না। ভাবলে সে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে অভিযুক্তকে ঠিক ফাঁসিতেই ঝুলাতো না, চেয়ারে শক্ত করে বেঁধে মাথার পিছনে গুলি করতো না, গিলোটিন কিংবা তলোয়ারের নিচেই ঘাড় রাখতো না। সে জানে কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করলেই মানুষের মৃত্যু ঘটানো যায়। তার মৃত্যু লেখা আছে কি নেই সেই অনিশ্চয়তায় সে ভোগে না কখনোই। সে জানে এই বুলেটে, এই ফাঁসির দড়িতে, এই চকচকে তলোয়ারে সে নিজেই রচনা করতে পারে মানুষের মৃত্যু। বিশ্বাসের গায়ে হেলান দিয়ে মানুষ চুপচাপ বসে থাকে না এসব ক্ষেত্রে। বসে থাকে না এজন্য যে যুগযুগের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা থেকে সে দেখেছে কারণই ডেকে আনে তার মরণ। এই কারনেরই ভৃত্য আজরাইল, যমদূত কিংবা আল্লাহ। বুলেট যখন মানুষের মস্তিষ্ক ছিন্নভিন্ন করে দেয় ঈশ্বরের সাধ্য নেই তাকে বাঁচিয়ে রাখে। হয় বুলেট ঈশ্বরের অধিক শক্তি ধরে অথবা ঈশ্বরের শক্তি বুলেটের শক্তির অনুগমণ করে।



কৃতজ্ঞতা: আরজ আলী মাতুব্বর]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28845034 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28845034 2008-09-19 01:05:48
'আমাদের সময়' এবং তারেক জিয়া
তারেকের উপর আমাদের সময়ে ছাপা আজকের খবরটির শিরোনামটি পড়ুন:

লন্ডনে তারেক জিয়ার নিউজ কাভার করতে খরচ হলো ১২০ পাউন্ড, কিন্তু নিউজ তো নেই!

এই খবরটি (?) বাংলাদেশের জন্য কতখানি জনগুরুত্বপূর্ণ?

'আমাদের সময়ে' তারেকের খবর (তা সে যা ইচ্ছা তা হোক) একেবারে প্রতিদিন ছাপানোর রহস্যটা কি কেউ বলতে পারেন?

তবে কি পত্রিকাটি বিপুল পরিমাণ টাকা খেয়ে তারেকের সাথে এমনি একটি চু্ক্তিতে সই করে অসহায় পাঠকের বারটা বাজাচ্ছে?



পুনশ্চ: আরেকবার তারা শুরু করেছিল বিদিশাকে নিয়ে। বিবাহ বিচ্ছেদের পর টানা ছয় মাস কি তারও বেশী সম্ভবত একদিনও বাদ দেয়নি বিদিশা বিষয়ক সংবাদ ছাপা। তা এর সংবাদ মূল্য থাকুক আর নাইবা থাকুক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28844141 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28844141 2008-09-16 22:54:07
আমরা ততখানিই মানবিক যতখানি আমরা ইসলাম পালন করি না
আর দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন যে যায়েজ তা নিয়ে যে কত আয়াত এই কোরানে রয়েছে তাও বাংলাদেশে পালন হয় না। তাই কোন মালিক যদি এখানে তার দাসীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে সেই মালিকের স্ত্রী এবং পাড়া-প্রতিবেশী সেটা নিয়ে তোলাপাড় তোলে।

আমি এখন যে ঘটনার কথা বলবো তা হাদিসে রয়েছে। এই মূহুর্তে কোন হাদিসগ্রন্থ, কত নম্বর হাদিস তা বলতে পারবো না। তবে তা রয়েছে এবং প্রয়োজনে প্রমাণ করা যাবে।

একবার কোন এক যুদ্ধে সাহাবীরা বিজিত নারীদের সাথে সঙ্গম করে। এবং এই সাহাবীদের কেউ কেউ দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়- এর ফলে যদি ধর্ষিতাদের গর্ভে মুসলমানের সন্তান এসে যায় তাহলে কি হবে? তাই তারা আ'জল করে (চূড়ান্ত মূহুর্তে বাইরে বীর্যপাত করা)। এ নিয়ে তারা মোহাম্মদের সাথে আলাপও করে।

মোহাম্মদ কিন্তু একবারের জন্যও বলেনি, তোমরা বিবাহ-বহির্ভূত যৌনসঙ্গম করে ব্যভিচারের পাপ করেছ। মোহাম্মদ কি বলল জানেন? সে বলল তোমরা কেন আ'জল করতে গেলে? কারো যদি জন্ম হওয়ার থাকে তাহলে তা হবেই হবে। রজম করলেও, না করলেও।

আমরা ততখানিই মানবিক, ততখানিই সভ্য যতখানি আমরা ইসলাম পালন করি না। ধন্যবাদ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28842391 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28842391 2008-09-13 02:06:16
জামাতের সাথে আওয়ামী লীগের করমর্দন এবং অন্যান্য
আওয়ামী লীগের অনেক বয়স্ক শিশু দল করে মাইকে শেখ মুজিবের ভাষণ শোনার জন্য। শেখ হাসিনা কেন, পরনে শেখ মুজিবের লুঙ্গি এবং ঠোটে তার প্রিয় পাইপ লাগানো যে কোন লোককে তারা অবলীলায় নেতা মেনে এগিয়ে যেত।

মাইকে কিংবা সিডি প্লেয়ারে মুজিবের ভাষণ শুনতে শুনতে তাদের মনে হয় মুজিব কেবল ভাষণ দিয়েই যাচ্ছেন; সেই প্রাক-বাংলাদেশ, সেই ইয়াহিয়া, সেই যুদ্ধ প্রস্তুতি সবই আছে হুবহু। অবিকল। তাদের মধ্যে যারা একটু এগিয়ে তারা ভাবে আসলে শেখ মুজিব একদম মারা যাননি। তিনি আছেন, কথা বলছেন, হাটছেন, বক্তৃতা করছেন - সবই শেখ হাসিনার মধ্য দিয়ে। ঠিক লোককাহিনীর জ্বীনে আছর করা মানুষের মতো। ভুলেও তাদের মনে হয় না হাসিনা একজন সম্পূর্ণ আলাদা মানুষ। তিনি শেখ মুজিব নন কিছুতেই। তিনি প্রচুর দেশবিরোধী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি প্রচুর মিথ্যা কথা বলেন। তিনি প্রচুর অহেতুক হাস্যকর মন্তব্য করেন। তিনি মৌলিক কোন স্বপ্ন দেখতে পারেন না। তার নিজস্ব কোন ব্যক্তিসত্ত্বা নেই। তিনি কেবল বলে চলেন- শেখ মুজিব এই স্বপ্ন দেখতেন। কেবল শেখ মুজিবের কন্যা হওয়ার সুবাদে তারই ছায়াতলে তিনি দলীয় কর্মীদেরকে ক্রমাগত বোকা বানিয়ে যাচ্ছেন।

গৃহস্থের বাছুর মরে গেলে তার গাভী দুধ দেয়া বন্ধ করে দেয়, গৃহস্থ তাই কিছু খড়, কাদামাটি আর মৃত বাছুরটির চামড়া দিয়ে একটি কৃত্রিম বাছুর বানিয়ে গাভীটির সামনে রেখে দিলে গাভী অবলীলায় দুধ দিতে থাকে। তার দলীয় কর্মীগণের সামনে হাসিনা তেমনি একটি বাছুর, মুজিব সত্ত্বার একটি মৌলিকত্বহীন নকল।

মুজিবের অনেক কিছু নিয়ে আমার দ্বিতীয় মত থাকলেও, বাঙালীর সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান অসীম এবং অখন্ডনীয়। কোথায় শেখ মুজিব আর কোথায় শেখ হাসিনা!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28839855 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28839855 2008-09-07 10:55:41
নারীর লিপস্টিক চর্চা: নাসিমূল আহসানের পোস্ট এবং আমার বক্তব্য
প্রথমত: নারীর লিপস্টিক চর্চা নিয়ে নাসিমূল আহসানের পোস্টটির সবটুকুর সাথেই একমত। আমি শুধু কিছু যোগ করতে চাই।

এ বিষয়ে যাকে টেনে না আনলেই নয় তার নাম সিমোন ডি বিভোয়ার। তিনি বলেছেন নারীর ভূবন বিন্দুর মতোই ক্ষুদ্র। একটি পুরুষ শিশুর জগত অবারিত। সে যত বড় হতে থাকে তার পৃথিবীও তত প্রশস্ত হতে থাকে। আর নারীশিশুর বেলায় দেখুন। সে যত বড় হতে থাকে তার পৃথিবী ততই সংকীর্ণ হতে থাকে। সে রাত বিরাতে একা ঘুরতে পারে না। সে মন চাইলেই একা কোন দূর পার্ক, সৈকত, উদার ধান ক্ষেতে সারা রাত পার করে দিতে পারে না। পুরুষ পারে। পুরুষের জন্য মসজিদ, নারীর জন্য ঘর। পুরুষের জন্য যেখানে সেখানে তুমুল আড্ডা, তর্কে-বিতর্কে বুঁদ হওয়া। নারীর জন্য ঘর।

হ্যা নারীরাও আড্ডা মারে। কিন্তু আপনি যদি কোনভাবে সেই আড্ডাকে রেকর্ড করতে পারেন তাহলে দেখবেন কি ভীষণ স্থুল বিষয় নিয়ে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে দিতে পারে। সে তার বান্ধবীর সাথে নতুন কেনা জামার, লকেট এবং সর্বোপরি তার বয়ফ্রেন্ড বিষয়ে যতটুকু সময় ব্যয় করে তার কণাভাগ সময়েও বলে না আমাদের দেশ লুট হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন, জামায়াতের শুয়রের বাচ্চারা গাড়িতে বাংলার পতাকা লাগিয়ে ঘুড়ে। সরকার, দুর্নীতি, এত এত মানুষের ক্রমাগত আশ্রয়হীন হয়ে পড়া এগুলো তাদের কাছে খুবই হাস্যকর বিষয়।

তার পৃথিবী ক্রমাগত ছোট হতে হতে একটি বিন্দুতে এসে দাড়ায় - শরীর। পুরুষ কতখানি শরীর নিয়ে কথা বলে? নারীর পুরো চিন্তা-ধ্যান ধারণা তার এই শরীর নিয়ে। কেননা তার আর কিছুই নেই। পার্কের এক কোনে বসে গীটার বাজানো নেই। রাস্তায়, হোটেলে তুমুল আড্ডা মারা নেই। রাত বিরাতে খোলা পৃথিবীকে দেখার রোমাঞ্চ নেই। কিন্তু তাকে তো পুরুষের এই বিশাল জগতে প্রবেশ করতে হবে। তাছাড়া তার অস্তিত্বের মূ্ল্য কোথায়? আর সে জানে এই প্রবেশের একটিমাত্র চাবি হলো তার শরীর। তাই সে শরীর নিয়ে থাকে। বড় বেশী। বিবাহিত পুরুষরা কি একসাথে হলে অনুপুঙ্খভাবে তাদের স্ত্রীদের শরীর এবং মিলনের বর্ণণা দিতে থাকে? শুনেছেন কখনো? কিন্তু বিবাহিত নারীরা তাই করে। গবেষণা করে দেখবেন। একটুও বাদ দেয় না। পুরুষের ভালবাসা, পুরুষের শরীর তার কাছে সবকিছু। তসলিমার মতো একজন উচ্চ শিক্ষিত নারীর কথাই ধরুন। কত গর্বের সাথে সে তার 'রক্ষিতা' পুরুষটির (এই মূহুর্তে সেই বই এবং সেই লোকটির নাম মনে পড়ছে না) বর্ণনা দিচ্ছে। তসলিমার মা এক ঘরে বসা। তার মার সামনে দড়াম করে দড়জা বন্ধ করে সে রুমে ঢুকে সেই লোকটিকে বিভিন্নভাবে ভোগ করে। এ কি শুধুই পুরুষের ওপর প্রতিশোধ?

হ্যা অন্য সকল দিক থেকে যুগ যুগের বঞ্চনা এবং পুরুষ কর্তৃক নারীকে কেবল একটি শরীরের বেশী না ভাবার পলি নারীর জন্য নির্মান করে এমনি একটি শরীরকেন্দ্রীক দ্বীপ। তাই সে সাজে। কেবলই সাজে। লিপস্টিকের শেড পরিবর্তন করা, শাড়ির সাথে ম্যাচ করে অদ্ভুত সব রঙে নিজের মুখকে সে মুখোশ করে ফেলে। পাছে লিপস্টিকের ক্ষতি হয় তাই সে লিপস্টিক চর্চ্চিত ঠোটে কথা বলে এমন কৃত্রিমভাবে তাকে আর মানুষ মনে হয় না।

নারীরা মানুষ হয়ে উঠুক। তাদের জন্য পৃথিবী আরো বৃহত্তর হয়ে উঠুক। এই লক্ষ্যে নারী হাত ধরুক পুরুষের, পুরুষ নারীর।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28834715 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28834715 2008-08-25 12:59:20
সহযোগিতা চাই। ওয়ার্ডের ফাইল ব্লগে পেইস্ট করতে চাই।
দয়া করে কেউ কি বলবেন কিভাবে ওয়ার্ডের বাংলা ফাইল এই ব্লগে পেইস্ট করা যায়। আমি চেষ্টা করেছি। ইংরেজী অক্ষর হয়ে যায় সবকিছু।

ধন্যবাদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28834089 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28834089 2008-08-23 21:56:29
বিজয় এক্সপিতে Bangla বানান ভুল!
এতদিন কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় মোস্তফা জব্বারের আত্মপ্রচারমুখি নির্লজ্জ ছবিখানি দেখতে দেখতে যখন গা ঘিন ঘিন করছিল (এর চেয়ে অনেক বড় বড় কাজ করেও খুব কম লোকই এভাবে নিজেদের ছবি ব্যবহার করে), তখন তার ছবিবিহীন একটি আইকন দেয়া হয় বিজয় এক্সপিতে। কিন্তু হায়, বাংলা ভাষায় কম্পিউটার শিক্ষার 'অগ্রপথিক' আমাদের মোস্তফা জব্বারের বিজয় এক্সপি চালু হওয়ার সময় Bangla শব্দটি হয়ে যায় - Bagngla।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28832446 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28832446 2008-08-19 18:55:40
তবে কি সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই সবকিছুর সৃষ্টি হলো?
আরো একটি জিনিষ, সৃষ্টিকর্তা থাকলেও আপনি এখন সকল জীব এবং জড়কে যেমন দেখছেন সেই সৃষ্টিকর্তা এগুলো যে ঠিক এভাবেই সৃষ্টি করে ছেড়ে দিয়েছেন একথা কিন্তু বলা যায় না। তাহলে আমাদের চোখের সামনে, আমাদের দলিল পত্রের সামনে কিন্তু 'পরিবর্তন' নামের কিছু ঘটতেই পারতো না।

আপনি কি বলতে পারেন আমাদের সৃষ্টি হয়েছে? আপনাকে বলতে হবে, আমাদের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতি ন্যানো সেকেন্ডে, কোটি কোটি বার নিরবচ্ছিন্নভাবে আমাদের সৃষ্টি হচ্ছে। যে আপনি একসময় হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করতেন তার কিন্তু মৃত্যু হয়েছে। আপনার শরীরে এক সেকেন্ড পূর্বে ঘটে যাওয়া লাখ লাখ রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো এখন কিন্তু অন্য বিন্যাসে কাজ করছে।

বস্তুর কল্পনাতীতসংখ্যক এবং ক্রমাগত বিন্যাস সমাবেশের ফলে বিশ্বব্রহ্মান্ডে প্রতি মূহুর্তে নতুন নতুন জীব এবং জড়ের সৃষ্টি হচ্ছে।

সৃষ্টিকর্তা যদি থেকেই থাকেন তাহলে তিনি কিছু আদি বস্তু কণা সৃষ্টি করেই সৃষ্টিকার্য থেকে নিরত থেকেছেন, একথা কি তাহলে বলা যায় না?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28829220 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28829220 2008-08-10 01:42:57
আল্লাহ এবং দুর্গার মধ্যে ক্ষমতাগত পার্থক্য কি?
নদী ভাঙনে মানুষের বাড়ীঘরের সাথে তলিয়ে যায় মসজিদ এবং মন্দির। আল্লাহ কিংবা দুর্গার তখন কিছুই করার থাকে না।

অসহায়ত্তের দিক থেকে আল্লাহ এবং দুর্গার মধ্যে তাহলে পার্থক্য কী?

একটু জ্বর আসলে আল্লাহকে কতবার ডাকেন আপনারা? ভাবুনতো ইরাকের উপর নেমে আসা ভয়াবহ দানবদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গত চার বছরে কতবার ডাকা হয়েছে আল্লাহকে। আল্লাহ কী ঠেকাতে পেরেছে হাজারো শিশুর মূহুর্তের মধ্যে মুন্ডুহীন হয়ে যাওয়া? একটা বুশীয় বোমাও কী না ফুটে শূণ্যে ঝুলে থেকেছে?

গুজরাটে কি ভীষণ তান্ডবে চালানো হলো মুসলিম নিধন। গর্ভবতী মুসলিম মহিলার পেটের ভিতর গরম ত্রিশূল ঢুকিয়ে দিলো মানুষ নামের জন্তুরা। বলুনতো তারা কতটুকু কাতর মিনতি নিয়ে ডেকে থাকতে পারে তাদের দেবতা আল্লাহকে? দেবতা কি ঠেকাতে পেরেছে তাদের?

গুয়ানতানামোয় বাথরুমের কমোডে ছুড়ে ফেলা হলো কোরান। সেই মূহুর্তে কি দেবতা পারতেন না কোরানের এই কমোডগামী হওয়াটুকু না ঘটাতে? কই পারলেন নাতো তিনি হেফাজত করতে কোরান?

তসলিমার আঙুল যখন টাইপ করে চলে দেবতার সত্যিকারের রূপ বর্ণনা, তখন তো তার আঙুল অবস হয়ে পড়েনি।

আল্লার এমন একটা বাস্তব ক্ষমতা দেখান যা একটি ধুলিকণার ক্ষমতার চেয়ে অধিক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28828902 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28828902 2008-08-09 01:39:50
ঈশ্বরবাদীদেরকে ঈর্ষা হয়...
আর বেচারা নাস্তিক। সে খুঁজে ফেরে এক ইঞ্চি মাটি কিংবা সাদা কাগজ কিংবা নিরাপদ কোন ব্লগ পেজ যেখানে আস্তিকের স্বর্গঘ্রাণমাখা ছুড়ির ফলা ঝিলিক দিয়ে উঠে না।

কেন এত ভয় নাস্তিককে? কেননা যে কোন আস্তিক মাত্রেই জানে এক লাখ আস্তিকের চেয়ে একজন নাস্তিক অধিক দীপ্তিময়। সে পুড়িয়ে খাঁক করে দেবে আস্তিকের ঐ কল্পনায় বুনা তাসের ঘর।

কেননা আস্তিক মাত্রই জানে নাস্তিককে সুযোগ দেয়ার মানেই হলো তার চোখে পড়া প্রিয় ঠুলিখানির কার্পাস তুলার মতো উড়ে যাওয়া বৈশাখী বাতাসে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28826161 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28826161 2008-08-01 01:08:55
'কিন্তু তার আগে চাই সমাজতন্ত্র'
আমিও সমাজতন্ত্রের বিলিয়মান পতাকার ভিতর তার আরো লাল রঙ নিয়ে ফিরে আসা দেখি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28821125 http://www.somewhereinblog.net/blog/mprithibi/28821125 2008-07-17 01:46:50