ঢাবি-র আবু বকর, রাবি-র ফারুক, কিংবা অন্য কোনো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের যে কোনো ছাত্র মারা যাবার পর আমরা বারবার শুনতে পেয়েছি - মৃতদেহটি ছাত্রলীগের, ছাত্রদলের কিংবা শিবিরের ৷ আমাদের মানবিকতা এই পর্যায়ে নেমে গেছে !!! লাশকে ছাত্রদল, শিবির অথবা ছাত্রলীগ হিসাবে চিন্হিত করে কেউ যদি স্বস্তি পেয়ে থাকেন, রাজনৈতিকভাবে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন কিংবা কোনভাবে ফায়দা লুটার সুযোগ খুজেন, তবে তাকে আমি কি বলব সেই ভাষাও খুঁজে পাইনা ৷ ওদের উদ্দ্যেশ্যে শুধু চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে : এগুলো মানুষের লাশ, এগুলো আমার ভাইয়ের লাশ; তাদেরকে ছাত্রশিবির, ছাত্রদল কিংবা ছাত্রলীগের লেবাসে দেখোনা - তোমরা মানুষকে লাশ বানানোর রাজনীতি বন্ধ করো; লাশকে নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করো ৷ তোমরা শুধু একবার বকরের মাতা-পিতার চোখ দিয়ে, ফারুকের স্বজনদের চোখ দিয়ে এ লাশগুলোকে দেখার চেষ্টা করো, আর মনে মনে কল্পনা করো এই লাশগুলো তোমাদের সন্তানের, তোমাদের ভাইয়ের ৷
আরো একটু কষ্ট করে কল্পনা করার চেষ্টা করো, তোমাকে কেউ চাপাতি দিয়ে কুপাচ্ছে, কিংবা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করছে, বন্দুকের গুলি তোমার বুকে লেগেছে, জীবন্ত-অবস্থায় তোমার চোখ উপড়ে ফেলেছে, হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছে, তোমার রক্ত ঝরছে অঝোরে, মৃতপ্রায় তুমি - সেই ক্ষণে (মৃত্যুর পূর্ব-মুহুর্তে) তোমার কেমন লাগছে, তাহলে বকর-ফারুক এবং এরকম অসংখ্য সদ্য লাশ হওয়া হতভাগাদের জন্য হয়ত কিছুটা হলেও মায়া লাগবে ৷ আর তখন হয়ত বুঝতে পারবে, শিবির-ছাত্রলিগ-ছাত্রদল এই সব লেবেল আমাদের পরিচয় নয় - আমরা মানুষ, আমাদের সবার অনুভূতিও একই রকম - সুখে, দুঃখে, বিপদে, এবং মৃত্যুতে ৷
সংঘাতময় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে স্বজন হারানোর বেদনা শেখ হাসিনা, বেগম খালেদা ও সৈয়দ আশরাফ ভালো করেই জানেন ৷ শেখ হাসিনা, বেগম খালেদা, সৈয়দ আশরাফ, মতিউর রহমান নেজামী: আপনাদের কাছে একটা বিশেষ অনুরোধ - দয়া করে একবার শুধু ভাবুন ফারুক-বকর-এরা আপনাদের ছেলে হলে আপনারা কি করতেন ? দেশবাসীকে একবার উপলব্ধি করার সুযোগ দেন : আপনারা প্রথমে মানুষ, তারপরে রাজনৈতিক নেতা; মানুষকে চিন্তা করতে শেখান: হিংস্রতার প্রতিযোগিতা কারো জন্যই কল্যানকর নয়৷ আপনারা মানুষকে বুঝতে দেন : দেশের মাটি, মানুষ আর সম্পদ শুধু আপনাদের রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্য হাসিলের জন্যই ব্যবহার করছেন না, বরং আপনারা রাজনীতি করেন মানুষের মঙ্গলের জন্য - দেশের প্রতি দরদ থেকে ৷
মহান নেতৃবৃন্দ: আপনারা ইচ্ছা করলেই ছাত্র-রাজনীতি বন্ধ করতে পারেন, নিরাপদে লেখাপড়া করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন হাজার হাজার তরুনদের জন্য - এটাই হবে এমুহুর্তের শিক্ষাঙ্গনের সংস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ৷ আপনাদের এই বিচক্ষণতার জন্য জাতি আপনাদেরকে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হিসাবে চিরকাল স্মরণ রাখবে ৷ আপনারা অধমদের এই আবেদনটির প্রতি একটু নজর দেবেন কি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



