স্বপ্নরাজ আমার পুরনো একটা ব্লগে (সেনাবাহিনীর কুকীর্তির লিস্ট....।) একটা মন্তব্য করেছিলেন যার জবাব দেয়ার পর মনে হলো এটা অন্য সবার সাথে শেয়ার করি না কেন। যাই নিচের লেখাটা স্বপ্নরাজের মন্তব্য আর তারও নিচে আমার প্রতিক্রিয়া নামের শিরোনামের নিচে আমার জবাব।
স্বপ্নরাজ বলেছেন: প্রথমেই বলে নেই.. আমি মনে করি যদি তিন পৃথিবী সত্যিকারের সভ্য না হচ্ছে ততদিন সেনাবাহিনী একটা দেশের গুরুত্বপূর্ন স্বাধীনতার প্রতীক।
তবে
বাংলাদেশের সেনাবাহিনী নিয়ে কথা থেকেই যায়। আপনি টু দি পয়েন্ট আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর দেবেন?
১। সেনাবাহিনীর দায়িত্ব কি বারবার ক্ষমতায় নাক গলানো? সিভিলিয়ানরা দাওয়াত করে নিয়ে আসে এই ধরনের ফাউল উত্তর দেয়ার আগে দয়া করে ভাববেন যে আমরা পাখি পড়া করে কোনকিছু শিখিনি বা পাখি পড়ার ট্রেনিং নেইনি।
বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখুন যে সকল দেশে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় নাক গলায়ছে সে সব দেশের অবস্থাই খারাপ। উপমহাদেশে পাকিস্তান আর বাংলাদেশে বারবার সেনাবাহিনী নাক গলিয়েছে বলে এই দুইটা দেশের রাজনৈতিক অবস্ত্থা সবচেয়ে খারাপ। শ্রীলংকার সেনাবাহিনীর অবদান দেশের জন্য অনেক বেশী তাদের সেনাপ্রধানের নাম কয়জন জানে, ভারতের?
সভ্য দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি শিখতে পারবেন আশাকরি।
২। তাওসিফের কিছু যুক্তি জবাব আপনি দিচ্ছেন হাস্যকর। মউন ইউ আহমেদ যে জাতিসংঘের মিশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়েই ক্ষমতা দখল করেছিল সেটা সে তার বইয়েই উল্লেখ করেছে। আপনি যে জবাব দিয়েছেন তা কৌতুককর।
সেনাবাহিনী সেনানিবাস ছেড়ে বেড়িয়ে না আসত তাহলে,
১. সেনাবাহিনী শান্তি রক্ষা মিশনগুলো বাতিল হয়ে যেত।
২. স্বাভাবিকভাবে যে বৈদেশিক মূদ্রা তারা আয় করত, তা বন্ধ হয়ে যেত
(তাইলে বৈদেশিক মুদ্রা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়েই ১/১১ হইছে কি বলেন?)
হাসি আসে যখন শুনি শান্তি রক্ষাবাহিনী দেশের সুনামের জন্যই মূলত: বিদেশে যায়। আমার ইউনির এক টিচার বলেছিলেন, যদি বিদেশে যেয়ে ৩০ পার্সেন্ট সেনাসদস্য মারা যেত আর যদি অল্প দিনেই লাখ লাখ টাকা অর্জনের সুযোগ না থাকতো তাহলে এই বিদেশে দেশের সুনাম বাড়ানোর জন্য এই রকম লাইন পড়ত না, বিদেশে যাওয়া এড়ানোর জন্য উল্টো তদবিরের লাইন পড়ত।
৩। অন্ধ সমর্থন না করে একটু যদি পড়াশুনা করেন দেখবেন সেনাবাহিনীর চরিত্রটাই আলাদা.. সমগ্র বিশ্বে সেটা একই রকম, এবং এটাই স্বাভাবিক। ট্রেনিংটাই মূলত শত্রুর সাথে যুদ্ধের। একটা মানুষকে কিশোর বয়স থেকেই একটা টাইপ করে তৈরী করা হয়, তাদের কাজই হচ্ছে শক্তি প্রয়োগ করে এবং শত্রুকে নিস্পেষিত করা। এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বের সভ্য দেশ গুলো তাই তাদের সেনাবাহিনীকে ব্যস্ত রেখেছে তাদের স্বার্থ উদ্ধারে যেখানে শক্তি প্রয়োগ করা দরকার সেখানে।
আমাদের মত দেশগুলোতে সেনাবাহিনী যে নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধেই মাঝে মাঝে নেমে যায়... মানুষ আর্ত চীৎকার করে বলে এরাই কি আমাদের ট্যক্সের টাকায় চালিত আমাদের সেনাবাহিনী... সেটা শুধু আমাদের অশিক্ষিত মানুষের দেশ বলেই সম্ভব
আমার জবাব:
২৮. নম্বর মন্তব্যের প্রথম প্যারাটা ঠিক বুঝলাম না। কথাটা এরকম, "স্বপ্নরাজ বলেছেন: প্রথমেই বলে নেই.. আমি মনে করি যদি তিন পৃথিবী সত্যিকারের সভ্য না হচ্ছে ততদিন সেনাবাহিনী একটা দেশের গুরুত্বপূর্ন স্বাধীনতার প্রতীক। " এখানে স্বপ্নরাজ তিন পৃথিবী বলতে কি বুঝিয়েছেন? যাই হোক এর মর্মার্থ হলো যে সেনাবাহিনী একটি দেশের স্বাধীনতার প্রতীক হতে পারে না যদি তা হয় তাহলে এই পৃথিবীটাই আসলে সভ্য না। আমার মতে একটা দেশের স্বাধীনতার প্রতীক অনেক কিছুই হতে পারে, সেটা সেনাবাহিনীকেই হতে হবে এমন কোন কথা নেই।
আমার প্রশ্ন অন্যখানে যেখানে আপনি পৃথিবীর সভ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। আচ্ছা তাহলে এই পৃথিবীতে তো অনেক সভ্যতা এসেছে, সে সব সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছে আবার সেসব বিলুপ্তও হয়ে গেছে কালের বিবর্তনে। যেমন: গ্রীক সভ্যতা, মিসরীয় সভ্যতা, সবচেয়ে কাছের মুসলিম সভ্যতা অথবা দক্ষিন আমেরিকার মায়ান/ইনকা সভ্যতা। এখন এমন একটা সভ্যতার কথা আমাকে বলেন যে, যে সভ্যতার ইতিহাসে কোন সেনাবাহিনী ছিল না। সভ্যতার ইতিহাস শান্তি আর অশান্তির দুই পিঠ নিয়ে গড়া। অশান্তির কারনে যুদ্ধ হয়েছ। আবার যুদ্ধ করেছে মানুষ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই। যুদ্ধের হাত ধরেই সেনাবাহিনী এসেছে। সুতারাং আপনি যতই সেনাবাহিনী অপছন্দ করেন না কেন বা একে সভ্যতা বিরোধী উপাদান বলে মনে করেন না কেন, মানব ইতিহাসে অশান্তি থাকবে, যুদ্ধ থাকবে আর সেনাবাহিনীও থাকবে যেমনটা অতিতে ছিল। আরেকটা কথা তা হলো সেনাবাহিনী কিন্তু মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা
আপনার ১ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে আমি আমার এই পোস্টেই করা একটা মন্তব্যের উত্তর কপি করে দিলাম।
ত্রিমাত্রিক বলেছেন: আর্মিরা দেশ খুউব ভালা চালায় যেমনঃ উত্তর কোরিয়া, মায়ানমার.................. জবাব দিন|মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
আপনার জবাবটি লিখুন
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৩৫
লেখক বলেছেন: আর্মিরা মোটেও দেশ ভাল চালায় না যেমনঃ উত্তর কোরিয়া (উত্তর কোরিয়ার কিছুদিন আগের দূর্ভিক্ষের কথা মনে আছে?), মায়ানমার (কিভাবে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বিক্ষোভ দমন করল সামরিক সরকার মনে আছে?)..................
তার মানে এই যে সেনাবাহিনী দিয়ে দেশ চালানটা আমিও সমর্থন করি না। সেনাবাহিনীর কাজ হলো যুদ্ধ করা আর বেসামরিক সরকারের দায়িত্ব হলো সেনাবাহিনীকে যুদ্ধপযোগী রাখা।
আপনার ১ নম্বর আর শেষের ৩ নম্বর বক্তব্য পড়ে আমিও না হেসে পারলাম না। আপনি ১ নম্বরের শেষ লাইনে লিখলেন "সভ্য দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি শিখতে পারবেন আশাকরি।" আবার ৩ নম্বরে লিখলেন, "বিশ্বের সভ্য দেশ গুলো তাই তাদের সেনাবাহিনীকে ব্যস্ত রেখেছে তাদের স্বার্থ উদ্ধারে যেখানে শক্তি প্রয়োগ করা দরকার সেখানে।" আপনার কথাতেই বোঝা যায় যে সব সভ্য আসলে সভ্য দেশ না। আবার আপনার ১ নম্বরের শেষ লাইনে অনুসারে আমরা ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে শিক্ষা নিতে পারি, কারন তারা কখনো ক্ষমতা দখল করেনি আবার ভারতীয় গনতন্ত্রেরও একটা ঐতিহ্য আছে যে কারনে আমরা ধরে নিতে পারি ভারত একটা সভ্য দেশ। কিন্তু এই সভ্য দেশ ভারতও আপনার ৩ নম্বর বক্তব্যে ধরা খেয়ে যাচ্ছে কারন শান্তি রক্ষার নাম করে ভারত শ্রীলংকায় সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিল (অনেকটা সভ্যতার পতাকাধারী আমেরিকার ও তাদের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর মতো) এবং ব্যর্থ হয়েছিল।
এখন বলেন সভ্য দেশগুলো কি সেনাবাহিনী চালায় নাকি গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা চালায়? আর ঐ সকল প্রতিনিধিরা যদি তাদের সেনাবাহিনীকে অশান্তি তৈরির কাজে ব্যবহার করে তাহলে এর দায়ভারটা কার? আপনি ফল কাটার ছুরিটাকে কারো পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলে দোষটা নিশ্চয় ছুরির হবে না।
আপনি আপনার ২ নম্বর বক্তব্য অনুযায়ী "মইন ইউ আহমেদ যে জাতিসংঘের মিশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়েই ক্ষমতা দখল করেছিল সেটা সে তার বইয়েই উল্লেখ করেছে।" এ বিষয়টা আমি জানি না কারন মইন ইউ আহমেদের বইটা আমার পড়া হয়নি তবে ওনার ১/১১ এর পদক্ষেপ যদি শুধুমাত্র এ কারনেই হয়ে থাকে, আমি স্বস্তি বোধ করছি। বরং উনি যদি ক্ষমতা দখলের কারনেই ১/১১ এর ঘটনা ঘটিয়ে থাকতেন তাহলে সেটাই ছিল ভয়ের কারন। আর উনি ক্ষমতালোভী হয়ে থাকলে কোন একটা পর্যায়ে ফখরূদ্দিনকে হটিয়ে উনিই সরকার প্রধান হয়ে যেতেন আর সর্বশেষ নির্বাচনটা তো হতোই না। ২ নম্বর বক্তব্যে আপনি আমার ১ ও ২ নম্বর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন কিন্তু ৩ আর ৪ নম্বর এড়িয়ে গেছেন উল্লেখ করেননি। কেন? কারন ৩ আর ৪ নম্বরের কঠিন সত্য স্বীকার করে নেয়ার মতো সাহস আপনার নেই। আমি আবার আমার ৩ ও ৪ নম্বর বক্তব্য নিচে কপি করে দিলাম।
যদি,
সেনাবাহিনী সেনানিবাস ছেড়ে বেড়িয়ে না আসত তাহলে,
৩. বাংলাদেশের মানুষ বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে লিপ্ত থাকত। কেউ লগি-বৈঠা, কেউ সেনাবাহিনীর চাইতেও উন্নত আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হিংস্র হায়েনার মত ঝাপিয়ে পড়ত। গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেত বাংলাদেশ। ১/১১ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করলে সিভিল প্রশাসন যন্ত্র দর্শকের চাইতে খুব বেশি কোন ভূমিকা পালন করত না।
৪. ইলেকশন কমিশন ও তৎকালিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ন্যাক্কারজনক ভূমিকার কারনে আমরা নিরপেক্ষ ভোটার লিস্ট (১ কোটি অতিরিক্ত ভোটার) পেতাম না। আর জাতীয় পরিচয়পত্রের কথা না হয় বাদই দিলাম।
আপনারা যারাই সেনাবাহিনীর অন্ধ বিরোধীতা করেছেন তারা সবাই কিছু বিষয় সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং এ ব্যাপারে আপনাদের মধ্যে দারুন মিল খুজে পেলাম। নিচে তা উল্লেখ করলাম।
১. সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়া আর অন্য বিকল্প কোন উপায় ছিল যা বাংলাদেশবাসীকে ১/১১ এর ঐ অরাজক পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করে আনতে পারত?
২. ১/১১ এর ঐ রকম অরাজক পরিবেশে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা কি ছিল?
৩. পৃথিবীতে কয়টা গনতান্ত্রিক দেশ আছে যারা তত্ত্বাবধায়কের মত অগনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করে? আমাদের তত্ত্ববধায়ক সরকারের concept প্রকারান্তরে আমাদের গনতন্ত্রের দূর্বলতাই প্রকাশ করে। গনতন্ত্রের পথে ২০টা বছর পার করেও এক দল অন্য দলে বিশ্বাস করে না। দলের মধ্যে গনতন্ত্রের চর্চা নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



