গাছেরা
ঘোরাফেরা করে ঠিক ঐ সময়ে
ঠিক যেমন
পাখিদের আছে স্থানকাল সম্বন্ধে নিজস্ব সহজাত-বোধ।
কিন্তু মানবজাতি,
সহজাত-বোধ বঞ্চিত বলিয়া, সহায়তা পায়
বৈজ্ঞানিক গবেষণার, বর্তমান আখ্যানটি
যাহার সারাৎসার প্রদর্শন করিবে।
জনৈক সৈনিককে
প্রতিদিন সন্ধ্যা ছ-টায় একটি তোপ দাগিতে হইত।
সে তার কর্তব্য সম্পাদন করিত যথার্থ সৈনিকের ন্যায়। যখন
তার কাজ সে সঠিকভাবে সম্পন্ন করে কি না,
খতাইয়া দেখা হইল, সে বিবৃতি দিলঃ
শহরের প্রধান বিপণিকেন্দ্রে
এক ঘড়িনির্মাতার দোকানের জানালায় একটি অতি-অভ্রান্ত
ক্রনোমিটার আছে- আমি উহাকেই কাঁটায়-কাঁটায়
অনুসরণ করি। প্রত্যহ সতেরোটা পঁয়তাল্লিশে আমি উহার
সহিত আমার কব্জিঘড়িটা মিলাইয়া লই এবং পাহাড়চূড়ার
দিকে অগ্রসর হই, সেখানে কামানটি প্রস্তুত থাকে। সতেরোটা
ঊনষাট মিনিটে আমি কামানটির কাছে পৌঁছাই এবং ঠিক
আঠারো ঘটিকায় আমি তোপ দাগি।
দেখা গেল
যে তোপ দাগিবার এই প্রক্রিয়া অতীব অভ্রান্ত।
এখন শুধু ক্রনোমিটারটি খতাইয়া দেখিলেই হয়।
শহরের প্রধান বিপনিকেন্দ্রের ঘড়িনর্মাতাকে উহার অভ্রান্ততা
বিষয়ে প্রশ্ন করা হইল।
ওহ্, এই কথা, ঘড়িনির্মাতা কহিল,
যন্ত্র যতদূর অভ্রান্ত হইতে পারে এই যন্ত্রটি তা-ই।
একবার ভাবুন, সে যে কত বছর যাবৎ এখানে রোজ ঠিক সন্ধ্যা ছ-টায়
একবার তোপ দাগা হয়। আর প্রতিদিন আমি
ক্রনোমিটারটির দিকে তাকাইয়া দেখি, আর সে সর্বদাই
ঠিক সন্ধ্যা ছ-টা দেখায়।
তো অভ্রান্ততার এই তো হইল যথাসর্বস্ব।
এবং মাছ ঘুরিয়া বেড়ায় জলে আর আকাশ ভরিয়া যায়
ডানার মর্মরে, যখন
ক্রনোমিটারগুলি করে টিকটিক আর কামান বজ্রনিনাদ।।
মূলঃ মিরোস্লাভ হোলুভ
অনুবাদঃ মানবেন্দ্র বন্দোপাধ্যায়

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


