জীবন মানে মানুষ। মানুষ মানে শুভবোধ, ভালোবাসা, সহমর্মিতা, সহানুভূতি, আর একজনের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। অঙ্গীকার জন্ম দেয় হৃদয়ে। হৃদয় কথা বলে এক আশ্চর্য ভাষায়। সে-ভাষা বোঝে তৃণমূলে হারিয়ে থাকা ক্ষুদ্র কীটাণুকীটও। সেই ভাষা সহেলিকে প্রাণিত করেছে।।
পড়ছি এখন 'প্রাণতরঙ্গ'। অনেকদিন ধরেই পড়বো পড়বো করে পড়া হয়ে ওঠেনি। ভাবলাম ব্লগে শেয়ার করি। আমার পড়া হর্ষ দত্তর প্রথম উপন্যাস 'ময়ূরাক্ষী, তুমি দিলে'। একটু অন্য ধরনের বলে বেশ ভালো লেগেছিলো। আরো পড়া হয়েছে কয়েকখানা। আর কাল হতে প্রাণতরঙ্গ শুরু করেছি- আজকের সমাজ, রাজনীতি, মূল্যবোধ ও মানবিক সম্পর্ক বিনষ্টির কোন দশায় পৌঁছেছে, হর্ষ দত্তর জীবনস্পর্শী উপন্যাস 'প্রাণতরঙ্গ' তার দিকেই ইঙ্গিত করে।
ওর নাম ভজন। আজ কম করে চোদ্দো-পনেরো বছর ভজনের ঠিকানা কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। শৈশবে ওর পোলিও হয়েছিলো। হাসপাতালের চিকিৎসায় প্রাণ বাঁচলেও পোলিও ওর দুটো পা-ই দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গেছে। সেই থেকে আজ অবধি পঙ্গু কিশোরটিকে বাড়িতে ফিরিয়ে যেতে আসেননি ভজনের আত্মীয়-স্বজন। ভজন হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, আনাচে-কানাচে ঘুরে পাত কুড়িয়ে খেয়ে আর থেকে পশুর মতো বেঁচে আছে। তাকে একদিন দেখতে পায় সহেলি। সহেলি তরুণী। সংবেদনশীল। অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে দেখতে এসে ভজনকে সে আবিষ্কার করে। আবিষ্কারই। তথাকথিত সভ্য মানুষদের মাঝখানে, তাদের অনাদর অবহেলা নিস্পৃহ অবজ্ঞার শিকার হয়ে এমনভাবে কেউ যে বেঁচে থাকতে পারে, সহেলি তা কল্পনাও করেনি। এমন অভিজ্ঞতাও ওর প্রথম। সহসা সহেলি একটা কঠিন সংকল্প করে বসে। সকলের সব আপত্তিকে দৃঢ় হাতে নুইয়ে দিয়ে, ভজনকে সে বাড়ি নিয়ে যায়। ওর মনে হয়, হোক না পঙ্গু, একটু সাহায্য পেলে এই দুঃসহ জীবন থেকে সহজেই নিজেকে সরিয়ে নিতে পারবে ভজন।
কিন্তু সহেলি একা, সমাজবিচ্ছিন্ন কেউ নয়। সংসারে বাবা-মা, নিকট আত্মীয়-স্বজন আছে। আছে তার প্রেমিক ধ্রুবতারা। ভজনকে বাড়িতে তোলা মানে এতজনকে নিয়ে রচিত জটিল সম্পর্কজালের মধ্যে একটা নতুন আলোড়ন তোলা। সেই আলোড়ন ক্রমে এমনই বাঁক নিয়ে নতুন এক বোধে এসে দাঁড়ায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


