somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আত্মকথন... http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28981032 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28981032 2009-07-20 19:15:15 ঢাকা-চেংগ্নী-নাদেংকল-বিরিশিরি-ঢাকাঃ বাউণ্ডুলের তীর্থযাত্রা - শেষ কিস্তির আগে http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28876097 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28876097 2008-11-30 04:23:20 ঢাকা-চেংগ্নী-নাদেংকল-বিরিশিরি-ঢাকাঃ বাউণ্ডুলের তীর্থযাত্রা - দ্বিতীয় কিস্তি
পরাগ: খাউই সাৎনা রে’এংআ মাংশা মান্না লাউয়া না ওয়াল জাসেং গিজানিন জাংগি সারা কাউয়ানা...
[ খাউই হিচতাম গিয়া আমি / পাইলাম এক রাউগ্যা মাছ / বিয়ানবেলার আগেই পাতলাম / কাউয়ার লাগি জাংগি গাছ]

সুকৃতি: ওয়াল জাসেং গিজানিন জাংগি সারা কাউয়ানা চিংঙেই রেরে মান্নাখো রন’জা মাইজা নাংসনা
[বিয়ানবেলার আগেই পাতছ / কাউয়ার লাগি জাংগি খান / আমার জানা রেরে গুলান / কিয়ের লাইগা বিলাইতাম।]

পরাগ: রেরে খালনা হখাত্তা সা হন্না বাইগ্য খো রেবাবত্তে সেইফাংছা খালবো আংনুং রেরে খো
[ রেরে গাওনের লাইগা আইছ / এমুন ভাগ্য দিল কে / আরো কাছে আইয়ো না
রেরে গাইবাম তোর লগে]

আমি আর সোহেল না হয় প্রতিবার হারেরে...হারেরে বলে দোহার দিতাম। যাক,সোহেল বলল-ওটা সুপ্তির বড় বোন সুকৃতি। সুকৃতির বিয়ে হয়নি। গতরাতে বা আজ সকালে সুকৃতির সাথে বাড়িতে কোন আলাপ-পরিচয় হয়নি। ধান ক্ষেতের আইল ধরে এক সময় চলে এলাম চপলা মাসির বাড়িতে। পরাগের মোবাইলটা নিতে হবে। বাড়ির বাইরে তিন-চার বা তারও বেশিদিনের জন্য কোথাও বের হলে মোবাইল নিয়ে আমার তেমন কোন আগ্রহ থাকে না। তাছাড়া মোবাইলে ব্যালান্স শেষ হয়ে গিয়েছিল গত রাতেই, চার্জও নেই। সোহেল জানাল লেংগুড়া বাজার ছাড়া আলাপ কার্ড পাওয়া যাবে না। দশ কিমি হেটে কার্ড কেনার তেমন কোন জরুরত খুজে পেলাম না। যদিও রিমি কিছুক্ষণ পরপরই সোহেলের মোবাইলে কল দিয়ে আমার খোজখবর নিচ্ছিল। আমাদের দেখেই চপলা মাসি চা বানানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। এই বিশাল বাড়িতে মাসি একা। মেসো মারা গেছেন বছর খানেক হয়। মাসি স্কুল শিক্ষক, মেসোও তাই ছিলেন। আশপাশের বাড়ির সকল জোয়ান-বুড়োদের সার্বক্ষণিক আনাগোনায় নিঃসন্তান মাসির সময় মন্দ কাটেনা। মাসির আন্তরিকতার কাছে পরাস্ত হয়ে কিছুক্ষণ বসতে হলো। পরাগ রিছিলের এক মামা জয়রামকুড়া থেকে এই বাড়িতে জামাই এসেছেন। উনি আমাদের আলাপের সঙ্গী হলেন। মাসির বারান্দাতে ঝোলানো আছে পি এ সাংমার একটা বাধাই করা পোস্টার। পোস্টারে পি এ সাংমার হাস্যজ্জ্বোল একটা ছবি, পাশে তার নির্বাচনী প্রতীক ‘হাত’, একেবারে নীচে লেখা তার দল- ‘ন্যাশনাল কংগ্রেস’। মান্দিদের মধ্যে উনিই প্রথম ভারতের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন। পি এ সাংমা বর্তমানে মেঘালয়ের এমএলএ আর উনার ২০ বছরের মেয়ে এমপি। বাংলাদেশের মান্দিরাও পি এ সাংমাকে সম্মানের চোখে দেখে থাকেন; তিনি যে হাবিমারই সন্তান ছিলেন। দেশ স্বাধীনের পূর্বেই পি এ সাংমার পরিবার মধুপুরের কামারচালা এলাকা থেকে গারো হিলসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সে যাই হোক, মাসির হাতের চা খেয়ে আমরা দক্ষিণের পথ ধরে চলে এলাম মিন্টু চাম্বুগংদের বাড়ি। মিন্টু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। ছুটিতে বাড়িতেই আছে। ঘরে সবাই ঈদের অনুষ্ঠান দেখছে বিটিভিতে। ওর মা-বোন সবার সাথে পরিচিত হলাম। ওদের বাড়িতে আড্ডা মেরে আবার বেরিয়ে পড়লাম। সোহেলই সব ঠিক করে দিচ্ছে আজ আমরা কোথায় কোথায় যাব। এখানে আসার আগে সোহেল বারবার তাগাদা দিয়েছে যাতে কোন গবেষণা-ফবেষণা বা কাজ-টাজ নিয়ে ওর এখানে না যাই; ওর এখানে যেন আসি শুধু বেড়াতে। আমরাও অনেকটা সেরকম চিন্তা করেই এসেছি।

দুপুরে ফইট্টার (খরেগাশ) মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে ক্ষাণিক বিশ্রামের পর আবার বেরিয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ আগে খটখটা রোদ থাকলেও এখন আকাশ মেঘলা। আমাদের সাথে এবার সুপ্তির এক দাদাও বেরিয়েছেন। বাংলাদেশ সীমানা পার হয়ে আমরা চেংগ্নী গাঙে নেমে পড়লাম প্যান্ট গুটিয়ে। বাম পাশের খাড়া পাহাড়ের গন্ধ গায়ে মাখতে মাখতে গাঙ দিয়ে পনের-বিশ মিনিট দক্ষিণে হেটে আমরা আবার বাংলাদেশ সীমানায় কুনকোনা এলাকাতে প্রবেশ করলাম। কুনকোনায় পৌছাতেই হালকা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। আমরা যাচ্ছি গোপালবাড়ি। হাটতে হবে সোজা পূবে-প্রায় ৪/৫ কিমি। হালকা বৃষ্টির তাড়া খেয়ে আমরা চলার গতি বাড়িয়ে দিলাম। খাড়া পাহাড়ের গা ঘেষে আমরা কখনো বাংলাদেশ, কখনো ভারতে সীমানা দিয়ে ঝুম বৃষ্টির আগেই পৌছে গেলাম সেখানে। ঝুম বৃষ্টির বাগড়া খেয়ে হাজং পাড়ায় রুহিদাস হাজং এর বারান্দার লম্বা টুলে বসে পড়লাম। বাড়ির কর্তা বাজারে। গিন্নী মহারানী হাজং(৬৫) আমাদের দেখে চলে এলেন সামনে। সোহেলের এক বন্ধু আছে এ পাড়াতে। মহারানী হাজংই জানালেন সে বাড়িতে নেই। বৃষ্টির তেজ আছে বেশ ভালোই। হাজং বাড়ির নিকোনো উঠোন, বৃষ্টি, তুলসীতলা, কুয়োতলায় হাজং বধুদের ব্যস্ততা সবমিলিয়ে এক শান্ত-সৌম্য পরিবেশে মহারানী তার অসাধারণ কারুকার্যময় পানের বাটা নিয়ে এলেন আমাদের সামনে। জাতা হাতে বসে গেলেন সুপারি কাটতে। পানের রসে মহারানীর সাথে ভাব বেশ ভালোই জমলো আমাদের। বৃষ্টি একটু কমে এলে সোহেলের তাড়ায় হাটতে হাটতে এবার চলে এলাম নাদেংকল। গোপাল বাড়ির একেবারে লাগোয়া এই এলাকাটা মান্দি অধূষ্যিত। সুরেন্দ্র নকরেক এর বাড়িতে পৌছানো মাত্র আবারো বৃষ্টি। সোহেল জানাল এই বাড়িতেই সে চু রান্না করে রেখেছে আমাদের জন্য। সুরেন্দ্র বাবু ব্যস্ত হয়ে পড়লেন এন্তেজামে। গোপালবাড়ি থেকে কেনা শেখ সিগারেট ফুকতে ফুকতে একসময় বৃষ্টি পড়া বন্ধ হয়ে গেল। পরাগ, সোহেল, আমি বেরিয়ে পড়লাম সেবাস্টিন রেমার বাড়িতে। মান্দিদের অহংকার সেবাস্টিন রেমা এখন কিশোরগঞ্জের থানা নির্বাহী অফিসার। বেশি দূর হাটতে হলো না। উত্তরে একটু আগালেই উনার বাড়ি। বাড়ির ঠিক পূর্ব দিকে খাড়া পাহাড়ে বিএসএফ ক্যাম্প। দুইজন রক্ষী ছাউনীতে ডিউটি দিচ্ছে। সেবাস্টিন রেমার বাবা-মা দুজনেই মারা গেছেন। ভাইয়েরা কেউই বাড়িতে থাকেন না। একমাত্র ছোটবোন অর্পা রেমা একা একাই থাকেন এই বিশাল বাড়িতে। অর্পার বয়স খুব বেশি হলে ২০/২২ হবে। মেয়েটাকে বেশ সাহসী বলেই মনে মনে খাতির করছি। অর্পা আমাদের জন্য পানি আনতে ভেতরে গেলে আমি ও সোহেল দু’জনেই পরাগকে খোচা দিলাম, বললাম এটাই হতে পারে পরাগের জন্য উপযুক্ত ঠিকানা। পরাগ মুচকি হাসছে। এই মনোরম-নিরিবিলি পরিবেশতো একজন কবির ভালো না লাগার কোনো কারণ থাকতেই পারে না। অর্পার বাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ কাটিয়ে সন্ধ্যার দিকে চলে এলাম সুরেন্দ্র বাবুর বাড়িতে। চু ছাকা শেষ। আমরা বসা মাত্রই পান পর্ব শুরু হয়ে গেল। প্রথমেই দুইগ্লাস করে বিচ্চি। তারপরে ছাকাটা। চু বেশ ভালো হয়েছে। পরিমানও অনেক। প্রায় আধমন চালেরতো হবেই-তিনটা বড় বড় বগনা। সোহেল আমাদের জন্য এতবড় আয়োজন করে রাখবে তা আমরা চিন্তাই করিনি। পানপর্বের মাঝামাঝিতে দেখে দো এর খাজিও চলে এসেছে। খাজি পেয়ে পান করার গতি বেড়ে গেল। ইতোমধ্যে আশপাশের দু’চারজন আসরে যোগ দিয়েছেন। সুপ্তির বড় ভাইও এসেছেন। উনি পাশের বাড়িতেই থাকেন। জামাই এসেছেন এই গ্রামে। নেশা একটু বেশি হলেও আমরা তিনটি বগনা শেষ করে তবেই চেংগ্নীর পথে পা বাড়ালাম। তবে এবার পাহাড় ঘেষে নয়, নাদেংকল থেকে চেংগ্নী বাজার পর্যন্ত প্রায় দ্বিগুন দূরত্বের রাস্তা ধরে হাজার হাজার জোনাকী পোকার আলোকে পূজি করে চেংগ্নী বাজার হয়ে গ্রামে ঢুকে পড়লাম। সুপ্তি আমাদের জন্য বসে আছে তাই তাড়াতাড়া ভাত খেয়ে নিলাম। রাত অনেক হয়ে গেছে-বাড়ির সবাই ঘুমে; আমরা বারান্দায় বসে বসে আরো দুই-তিন ঘন্টা গ্যাজানোর পরে সুকৃতির সাথে পরিচিত হতে না পারার আফসোস নিয়ে বিছানায় চলে গেলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28859336 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28859336 2008-10-25 02:18:08
ঢাকা-চেংগ্নী-নাদেংকল-বিরিশিরি-ঢাকা : বাউণ্ডুলের তীর্থযাত্রা - পয়লা কিস্তি
সিমসাং চি চি দোগিপ্পা চিরিং নাথোক নিকগিজা দাদা নাঙ্খো নিকগিজা রোনা মানজা দিক দিকসা।
( সিমসাং নদীর জল বিনে মাছ বাঁচে কেমন করে,
তোমায় ছাড়া এই অভাগী সদা ধড়ফড়িয়ে মরে।)

ওমা, একি! বচন নকরেকও যে আবার চলে এলেন। না, বচনদা যা করে করুকগে; আমি আবার দৃষ্টি-মন দিলাম ওয়ালজান আর শেরেনজিং এর দিকে। ওয়ালজান বলছে-

জাকসিওনা জাকসিদেম নাছিল অনা ইয়ারিং ছাসং গিসিক রানাদে গানবো মিচিক শেরেনজিং।
( কানে দিলাম কানের দুল,আঙুলে আংটি
মনে রেখো অভাগাকে তুমি শেরেনজিং)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28858355 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28858355 2008-10-22 23:29:55
ভিন্ন ভাবনা : বাংলাদেশে বাংলা ভিন্ন অপরাপর ভাষা সমূহের প্রতি উদাসীনতা বজায় রেখে কী ভাষা শহীদদের প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো... "ছাং ক্রেংছাদা ইক্হংগো দালা প্রেংয়াগা আচাক মারেং কলা নি নি ঞা ঞা লিকহো তুংহে..."

(চাক গানের অংশ বিশেষ; ভাবানুবাদঃ চৈত্র মাসে জুম কাটি/দালা গ্রামের চাক,মারমা,মুসলমান/আমরা সবাই সমান কাজ করি/জ্যৈষ্ঠ মাসে ধান রোপন করি/ চারা বড় হলে/ আমরা সবাই খুশিতে আত্মহারা...।)
......................................................................................................
"ওন্টে পাচ্চো পাইরি পুদবাকী ওন গাল্লে কাড়কা চাব্-ই"
(কুরুখ ভাষার একটি ধাঁধাঁ; ভাবানুবাদঃ একটা বুড়ি সকাল সন্ধ্যায়
একগালে দাঁতন চিবায়। উত্তরঃ চুলা)
.......................................................................................................
"খেংগরং বেইয়া দিম্ দিম্ দিম্ তরে না দিলে কারে দিম লগে সমায্যা গরি নিম দিম্ দিম্ দাদা দিম্ দিম্ দিম্ দিম্।"
[চাকমা ছড়া;ভাবানুবাদঃ খেংগরং বাজায় দিম্ দিম্ দিম্/ তোকে না দিলে কাকে দিম/সঙ্গে সাথী কারে নিম/দিম দিম (দেবো দেবো) দাদা দিম দিম দিম (দেবো দেবো দেবো)]
.......................................................................................................
"রাঙা খাড়ি কালা পেল বিসুম গেলে ও চিগোন বইন ম'-এ ন' দিচ্ গেল্।"
(তনচঙ্গ্যা গানের অংশ বিশেষ। ভাবানুবাদঃ রাঙা খাদি কালো পাড়/ ও লক্ষ্মী হাঁচি পেলে/ দিও না গাল।)
.......................................................................................................
"জালিক গিথাং ফালানি দংআ থাংখা খলাচি বারাশাড়ি রানাদে রেবো নোনো আন্তিচি।"
(মান্দিদের আচিক ভাষায় শেরেনজিং পালার দুটি লাইন;ভাবানুবাদঃ মরিচ বেঁচে তিরিশ টাকা আছে আমার কাছে/ভালো শাড়ি কিনে দেব চল যাই বাজারে)
..............................................................................................................................................................................................................

মায়ের ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ৫২'র ভাষা আন্দোলনে বীর শহীদদের আত্মদান বাঙালি জাতির এক অনন্য গর্বের বিষয়। পৃথিবীর বুকে আমরা বাঙালিরা এক ভিন্ন নজীর হাজির করেছি মাতৃভাষার জন্য রাজপথে রক্ত ঢেলে ( অবশ্য ১৯৯৬ সালের ১৬ মার্চ ভারতের বরাক উপত্যকায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার স্বীকৃতি আদায়ের আন্দোলনে সুদেষ্ণা সিংহ শহীদ হয়ে মাতৃভাষার প্রতি মানুষের অকৃত্রিম মমত্ববোধকে আবারো আমাদের সামনে তুলে ধরেন)। আমরা গবির্ত সেই বীর শহীদদের অসামান্য আত্মদানে। তাদের অসামান্য আত্মত্যাগের ভেতর দিয়ে আমরা আমাদের মায়ের ভাষাকে ঘিরে আজকে এক স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নাগরিক। একজন বাঙালি হিসেবে এ আমার বুক ফুলানো এক ব্যাপার। মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষার জন্য বীর শহীদদের সেদিনের আত্মত্যাগ আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। ১৯৯৯ সালে আমাদের বাঙালির মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে অনুমোদন দেয় ইউনেস্কো। বাঙালির একুশ আজ সবার। স্বাধীন দেশের একজন নাগরিক হিসেবে এ আমার বিরাট অহংকার। কেননা মাতৃভাষার প্রতি মানুষের নাড়ির বন্ধন কতটা মজবুত, কতটা গভীর হতে পারে তা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারেরা নিজেদের তাজা রক্ত বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি সেই অকুতোভয় বীর শহীদের। এই বীর শহীদসহ বাংলার সংগ্রামী জনতা সেদিন দেখিয়ে দিয়েছিলেন নিজের মায়ের ভাষা একটি জাতির কত বড় এক ধন। ৫২ সেই উত্তাল সময়ের পথ ধরে ৭১এ বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম। লাখো শহীদ, আর অগণিত মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এলো নতুন ভূখণ্ড; বাংলা ভাষা-ভাষীদের নিজেদের রাষ্ট্র-বাংলাদেশ। আমরা পেলাম আমাদের নিজস্ব সংবিধান। আমাদের সংবিধানে আমাদের অনেক প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটল। আবার অনেক কিছুই থেকে গেল দৃশ্যময়তার আড়ালে। সেই আড়াল এই স্বাধীন ভুখন্ডের প্রায় ৪৫টি ভিন্ন ভিন্ন জাতিসমূহের অস্তিত্বকেই গ্রাস করে নিল। বাঙালি জাতির বাঙালিত্বের সাংবিধানিক দৃশ্যময়তার পাশে কোন ঠাইই মিলল না এই ভূখণ্ডের বৈচিত্রময় চাকমা, মারমা, ককবরক, লালেং, মৈতৈ, ঠার, কুরুখ, সান্তাল, আচিক, হাজং, রাখাইন, খুমি, ম্রো, মাহাতো, মুণ্ডা, খাসিয়া, সিং, বিনধ, পাহাড়িয়া, পাঙ্খো, লুসাই, চাক, তনচঙ্গ্যা, লাইমি, রাজবংশী প্রভৃতি ভাষা-ভাষী মানুষের আপন আপন মায়ের ভাষার কথা; আপন আপন জাতিগত অস্তিত্বের কথা। বহুজাতিক বা বহু ভাষাভাষীর রাষ্ট্রে বরাবরই সংখ্যার বিবেচনায় প্রান্তিক ভাষা সমূহ কোণঠাসা অবস্থায় থাকে। সেখানে বৃহত্তর জাতির ভাষা বা তাদের সুবিধা মতন অন্য কোন ভাষা প্রধান হয়ে উঠবার এবং জোরপূর্বক একভাষিকতা চাপানোর একটা অসৎ প্রবণতা প্রায়ই দেখা যায়। বুর্জোয়া জাতি রাষ্ট্র সমূহে এই প্রবনতা অত্যন্ত প্রকট হলেও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায়ও তার অনুপস্থিতি দেখতে পাইনি। কেননা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নেও রুশ ভাষার জৌলুস আর বিস্তারের বিপরীতে লেট, এস্তোনিয়াসহ অন্যান্য ভাষার অবস্থা ছিল ম্রিয়মান। কিন্তু নিজ মায়ের ভাষার জন্য ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী বাঙালি জাতির বাংলাদেশ রাষ্ট্রে এর অবস্থা ভিন্নতর হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। আমরা বাঙালিরা প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ স্তর পর্যন্ত নিজেদের মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারলেও অপরারাপর জাতিসমূহের আপন আপন ভাষায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার ব্যবস্থাতো দূরের কথা, তাদের ভাষা সমূহের কোন স্বীকৃতিই আমরা দিতে পারিনি সাংবিধানিক ভাবে। প্রান্তিক জাতি সমূহের আপন বর্ণমালায় আপন আপন ভাষা চর্চার কোন পদক্ষেপই রাষ্ট্রীয় ভাবে নিতে পারিনি স্বাধীনতার এতবছরেও। পারিনি সেই ভাষা সমূহের বিকাশের জন্য নুন্যতম কোন ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু মায়ের ভাষার অস্তিত্বকে সমুন্নত রাখার যে চেতনাকে ধারণ করে আমাদের সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারেরা বুক চিতিয়ে রাজপথে অসামান্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন সেই শহীদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতার বিনিময়ে পাওয়া আমাদের এই বাংলাদেশে অপরাপর ভাষা সমূহের দুরবস্থা কী কোন ভাবেই কাম্য হতে পারে? আমরা কী পেরেছি আমাদের ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথভাবে শ্রদ্ধা জানাতে? একই জনপদের অন্য জাতির মায়ের ভাষার প্রতি উদাসীনতা বজায় রেখে আমাদের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর তরিকাটা কী সঠিক হতে পারে? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল জাতির সকল মানুষের আপন আপন মায়ের ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সার্বিক বিকাশের পথকে সংহত করার মধ্য দিয়েই কী আমাদের ভাষা শহীদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে না?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28771543 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28771543 2008-02-17 23:58:30
তবু বেঁচে থাকা...
ঘাটবাঁধা নৌকোর গলুইতে বসা মাছরাঙা। কাঁচস্বচ্ছ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে জলের পানে। কাঠফাটা রোদে এক প্রেমিকের দীর্ঘ অপেক্ষা যেন! ক্ষাণিক পরে অব্যর্থ নিশানায় ঠোটের নির্মম চুমু শিকার করা প্রাণের ঘাড়ে। উহ! বেঁচে থাকার এমন মিছেমিছি প্রণয়ে তবু ফিরি বারেবার...।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28757231 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28757231 2008-01-06 12:12:51
ডুব যাত্রা http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28756796 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28756796 2008-01-04 23:11:48 সবকিছুই লুট হয়ে যায়...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28750186 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28750186 2007-12-08 13:40:48
বিপন্ন বনের বিপন্ন মানুষদের উষ্ণতায় (শেষ কিস্তি) আচ্চুর বাড়িতে সঞ্জয়সহ আমরা প্রথম যখন এলাম সেদিন কোন চু ছিল না। কিন্তু সকালে যখন দিখ্যা নামাতে চেয়েছিল তখনই বুঝেছি পাড়া-প্রতিবেশি কারো কাছ থেকে হয়ত যোগাড় করেছে। যতই কষ্ট হোক আমরা এলে চু এর ব্যবস্থা করবেই করবে। অনেকবার মানা করা সত্বেও তা রোধ করতে পারিনি। আমরা জানি তাদের সংসার কিভাবে চলে। স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই দিনমজুর। অন্যের বাগানে বা জমিতে সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর দাদা পান ৮০/৯০ টাকা আর দিদি ৬০/৭০টাকা। এদিয়েই কোনরকমে চলে যাচ্ছে দিন। যাই হোক, সন্ধ্যার পর দাদা বাড়ি ফিরলে দিখ্যা নামানো হল। তিরেশ, অলিশন, বচন, বুলবুল, আচ্চু সহ ৬/৭জন আমরা। দিখ্যা শেষ ও ভাত খেয়ে বচনদার বাড়িতে আবার গেলাম। গিয়ে আবার গিচ্ছাম (দুপুর বেলার রেখে দেওয়া পুরনো মদ) বেলার টানলাম ও আড্ডা দিলাম অনেকক্ষণ। জানলাম অলিশনদা যে নাকি সারাদিন কৃষিকাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, সে ইদানিং মান্দি গান লেখা শুরু করেছেন। নাটকও লিখেছেন একটা- সংস্রেকদের ওয়ান্নাকে সামনে রেখে।

২৮ অক্টোবর সকালে আচ্চুর সাথে ওয়ান্না ব্যাপারে আরো কিছু প্রয়োজনীয় আলাপ সেরে বিদায় হলাম বাড়ি ফিরব বলে। মধ্যদুপুরে পঁচিশ মাইল নেমেই জেরিদের সাথে দেখা হয়ে গেল। চায়ের দোকানে সিগারেট পুড়তে পুড়তে সঞ্জয়ও চলে এলো। ভেবেছিলাম আজ সঞ্জয়কে নিয়ে একটু বেরিবাইদ, মাগন্তিনগর যাব, চলেশ রিছিল আর গিদিতা রেমার বাড়িতে, কিন্তু সঞ্জয় ব্যস্ত থাকায় তা হল না। যাক, সঞ্জয়কে নিয়ে তাদের বাড়িতে গেলাম জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের ভেতর দিয়ে। নেতারা মিটিং এ ব্যস্ত বলে সেদিকে আর ঢুকলাম না। অজয়দা(অজয় এ মৃ, ইকোপার্ক বিরোধী আন্দোলনের সময়কার নেতা, বর্তমানে জয়েনশাহীর সভাপতি)কে গতকাল দুপুরেই দেখেছিলাম পীরগাছাতে, চা স্টলের সামনে, কথা হয়নি। ইউজিন নকরেক এর সাথে কথা হয়েছে প্রথমদিনই। মধুপুরে ইকোপার্ক বিরোধী আন্দোলনের পরে অনেক কিছুইতেই অনেক পরিবর্তন দেখলাম এ কয় বছরে। তখনকার নেতৃবৃন্দ তাদের আন্দোলন সংগ্রামের সেই মনোভাবটাকে আর পরবর্তী সময়ে সেভাবে ধরে রাখতে পারেননি। নেতৃবৃন্দকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা-অবিশ্বাস বেড়েই চলেছে। গত মধ্য জানুয়ারিতে জরুরি অবস্থার মধ্যে ইকোপার্কের দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু, ২০০৬ এর আগস্টে শিশিলিয়া স্নালের বনরক্ষীদের গুলিবর্ষণ বা চলেশ রিছিল মারা যাওয়ার পর নেতৃবৃন্দের ভূমিকা এখানকার আদিবাসীদের আস্থা অর্জনে অনেকটাই সফল হতে পারেনি। এই হতাশা বা আস্থাহীনতা অবশ্য একদিনেই তৈরি হয়েছে তা বলা যাবে না। ২০০৪ সালের ইকোপার্ক বিরোধী আন্দোলনের পর ঝাঁকে ঝাঁকে এনজিও/ডোনাররা এখানে এসেছে তাদের হরকসম ধান্দা (প্রজেক্ট) নিয়ে। অমুক গবেষণা, তমুক জরিপ, সেমুক উন্নয়ন, সভা-সেমিনার আর বিদেশভ্রমন দিয়ে তারা নেতৃবৃন্দকে এতটাই ব্যস্ত রেখেছে যে নিজেদের জাতিগত অস্তিত্ব রক্ষার দিকে পুরোমাত্রায় আর মনোযোগ রাখতে পারেন নি। বরং এনজিওদের দেয়া ফান্ডকে ঘিরে নেতৃত্বের মধ্যে তৈরি হয়েছে পারস্পরিক অবিশ্বাস। শালবনের মান্দিদের কষ্ট পায় এই ভেবে যে, হা.বিমাকে (জননীভূমি)-নিজের জাতির অস্তিত্বকে রক্ষার জন্য পীরেন স্নাল আত্মদান খুব বেশি দিন হয়নি, এর মধ্যেই এত কিছুর পরিবর্তন হয়ে গেল! স্বার্থের কারণেই ইকোপার্কের পক্ষের লোকজনগুলো বিরোধী শক্তির সাথে আপোস করে নিল! ৯ আগষ্ট আদিবাসী দিবসে সেনাবাহিনীর দেয়া যাদুর কেক'র নিশ্চয়ই এমন কোন ক্ষমতা নেই যে তা চলেশ রিছিলের পরিবারের বেদনাকে কিঞ্চিত পরিমানও মুছে দিতে পারে।

এই পরিবর্তনকে বনবিভাগ আর প্রশাসনও বেশ কাজে লাগাচ্ছে এখন। চলেশ রিছিল মারা যাওয়ার পরপরই তার গ্রামে শুরু হয় কলাবাগান কেটে উডলট বাগান তৈরির কাজ। দ্রুত গতিতে তা অন্যান্য গ্রামেও চলতে থাকে। মধুপুর বনের অনেক গ্রামেই এখন চোখে পড়বে উদ্ধারকৃত জমিতে সামাজিক বনায়নের সাইনবোর্ড। এই বাহাদুরি মার্কা সাইনবোর্ডের কাহিনীটা একটু দেখা যাক। শালবনে সোস্যাল ফরেষ্ট্রি প্রকল্প প্রথম চালু হয় ১৯৮৯ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-র অর্থায়নে। পাঁচবছর মেয়াদি (১৯৮৯-১৯৯৫) এই প্রকল্পের মোট ৪৬.৮ মার্কিন ডলারের মধ্যে তখন ১১.৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয় শালবন এলাকায়। সোস্যাল ফরেস্ট্রির উডলট তৈরি করতে সেসময় একরের পর একর প্রাকৃতিক শালবন ধ্বংস করে ফেলে বনবিভাগ। মাটি খুড়ে খুড়ে শালের কপিছ (কপিছ [শেকড়] আর বীজদিয়েই শালের বংশবৃদ্ধি ঘটে) তুলে ফেলা হয়, যা ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক শালবন তৈরির সম্ভবনাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। প্রাকৃতিক শালবন কেটে সেখানে দাতাসংস্থার পরামর্শে লাগানো হল শালবনের বাস্তুতন্ত্র বিনাশী একাশিয়া, ম্যাঞ্জিয়াম,ইউক্যালিপ্টাস ইত্যাদি বিদিশি গাছের চারা। উহ! কী মাথামোটা আমাদের বনকর্তা আর রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা। দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে চলল হরিলুটের ব্যবস্থা। বনবিভাগের প্রশ্রয়েই একসময় বাঙালি মহাজনের এই জমিগুলোতে গড়ে তুলল হরমোন আর কীটবিষ সর্বস্ব কলাচাষ। জমজমাট হয়ে গেল বহুজাতিক কোম্পানির বানিজ্যও। জরুরি অবস্থা জারি হলে বনবিভাগের নতুন প্রকল্প চালানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়ল, যত প্রকল্প তত টাকা আর যত টাকা বালিশ-তোশকে ঘুমাতে তত আরাম! যৌথবাহিনীর সহায়তায় চলল শতশত কলাবাগান ধ্বংস। সেখানে করা হল নতুন উডলট বাগান। বনকর্মকর্তাদের টাকা বানানোর নতুন ধান্দা। আর চলেশ হত্যার পর প্রশাসনের পক্ষ আদিবাসীদের সাথে ক্লান্তিহীন লোকদেখানো বৈঠক চলতে থাকে। কী করে বন রক্ষা করা যায়, আদিবাসী উন্নয়ন করা যায় ইত্যাদি নানান বিষয়ে। এই ধরনের বৈঠকে কয়েকবার অংশগ্রহন করেছেন এমন এক আচ্চুর কাছে জানতে পারলাম, বৈঠকে নানান আলাপের পর বৈঠক কর্তাদের শেষ কথা থাকে- নতুন করে উডলট করা হবেই হবে, এতে আপনাদের আদিবাসীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

যাই হোক, সঞ্জয়ের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার মুহুর্তেই ফোন এলো ইদিলপুর গ্রামের যুবক সুলভ সাংমার( মিল্লাম নামের একটা ছোটকাগজের সম্পাদক) ফোন। ওরা জলছত্র বাজারের সামনে আছে। তো, আমি একা সেদিকেই চলে গেলাম হাঁটতে হাঁটতে। গিয়ে দেখি সমাপন, বাপ্পু মৃ'রা সেখানে। সুলভ তড়িঘড়ি করে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দিল। সমাপনরা আমাকে ভ্যানে উঠলো ওদের গ্রামে নিয়ে যাবে বলে। ওদের ভালবাসা পাশ কাটনো একটু কঠিনই মনে হলো আমার কাছে। তো, কী আর করা সেদিন ওদের ওখানে রাত কাটিয়ে পর দিন ঢাকায় ফেরা আরকি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28746007 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28746007 2007-11-17 18:20:50
২৪তম মৃত্যূবার্ষিকীতে খোলা চিঠি: বাবু লারমা প্লিজ আপনি আমাদের ক্ষমা করবেন না, কারণ ক্ষমা পাবার যোগ্য আমরা হয়ে উঠিনি আজও


শ্রদ্ধেয় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা,
আপনার সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি, কথাও হয়নি। কিন্তু তারপরেও আপনাকে খুব করে মনে পড়ছে। না, এটা কোনো ভণিতা নয়, বা কথার কোনো চাতুর্য্যতাও নয়, আমার হৃদয়ের খুব গভীরের এক উপলব্ধি। আপনার চোখ জোড়ার দিকে তাকালে কখনোই মনে হয় না আপনি আমার অপরিচিত কেউ। কেমন যেন আমাকে টেনে নেয় অনেক অনেক কাছে, হয়ত আরো অনেককেই। আচ্ছা আপনার চাহনিটা এরকম কেন? ঐ চাহনীতে আপনি একসাথে এতকথা কীভাবে বলেন? এত প্রেম কেন ঐ চাহনিতে? এত আগুনের উত্তাপ কেন? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে। আচ্ছা, ৬২'তে কাপ্তাই বাঁধে লাখো মানুষের চোখের জলে এত সুন্দর(!?), দৃষ্টি নন্দন(!?) হ্রদের সৃষ্টি হওয়ার সময় আপনার চাহনিটাতে কী আরো অন্যরকম কিছু ছিল? সেই চাহনির উত্তাপ সইতে না পেরেই কি ১৯৬৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নিবর্তন মূলক আইনে শাসক-শোষকেরা আপনাকে কারাবন্দী করেছিল? কিন্তু, দুই দুইটি বছর কারাগারের ঘোর অন্ধকারও কেন সেই উত্তাপকে ঠান্ডা করতে পারেনি? সেই উত্তাপ কেমন করে কারাগারের শক্ত প্রাচীর ভেদ করে পাহাড় থেকে পাহাড়ে, আদাম থেকে আদামে, জুম থেকে জুমে চোখের জলে কাতর মানুষের বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল? আপনার চোখে কী এমন প্রেম ছিল, যার কারণে সহায়-সম্বল হারানো, নির্যাতিত-নিপীড়িত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমী, ম্রো, লুসাই, বম, পাঙ্খো, চাক, রাখাইন, খিয়াং প্রভৃতি জাতির লোকজন নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছিল? আচ্ছা, ঘাতকেরা যখন আপনাকে নির্মমভাবে হত্যা করছিল তখনও নিশ্চয়ই আপনার চাহনিতে ঐ নির্ভীকতা আর প্রেমের আহ্বান ছিল। সেই আহ্বানকে উপেক্ষা করেই ঘাতকের বুলেট কিভাবে আপনার বুকে বিঁধল তা আমার ভাবতেই অবাক লাগে।

বাবু লারমা,
আমি একজন বাঙালি। এই বাঙালি বলে পরিচয় দেওয়ার মধ্যে এক ধরনের গর্বও কাজ করে, এটা হয়ত দোষের কিছু নয় তা আপনিও মানবেন। ভিনজাতির শোষণের জাল ছিড়ে ৭১'এ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমাদের জাতিগত অহংবোধ এমন টগবগ করে ফুটতে ছিল যে আমরা বুঝতেই পারিনি আমাদের এই গগণচুন্বী অহংবোধের মাঝেও কতটা জাতান্ধতা মিশে থাকতে পারে। ৭১'এর ১৫ নভেম্বর পর্যন্তওতো আমরা জাতিগত শোষণকে অস্বীকার করেই অস্ত্র চালিয়েছি, বুকে বুলেট বরণ করেছি, সম্ভ্রম হারিয়েছি। অথচ শাসন ক্ষমতা নিজেদের হাতে আসা মাত্রই আমরা স্বার্থপরের ন্যায় সব কিছুই আমাদের নিজের জাতির করে নিলাম। সংবিধান রচনার সময় আমাদের চোখে পড়ল কেবল বাঙালি জাতির মানুষজনকেই। আমাদের জাতান্ধ অহংবোধে আমাদের চোখে এমন ছানি পড়েছিল যে এই ভূখণ্ডে বাঙালি ভিন্ন আর কোনো জাতির অস্তিত্বই খুঁজে পেলাম না। যে জাতি আপন ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে ইতিহাস রচনা করলাম তারাই কিনা চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, খিয়াং, আচিক, লালেং, সান্তালী, কুরুখ, মৈতৈ ভাষার প্রতি সামান্য মর্যাদাটুকুও দেখাতে পারলাম না আমাদের সংবিধানে। এমনকি ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর গণপরিষদের অধিবেশনে-"বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাঙ্গালী বলিয়া পরিচিত হইবেন" আ: রাজ্জাক ভূঁইয়ার এমন অযৌক্তিক প্রস্তবনার অসাড়তা প্রমান করে আপনার যৌক্তিক বক্তব্য বা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটেও আমরা আমাদের চোখের ছানিটাকে অপসারণ করতে পারিনি। বরং আমাদের জাতান্ধতা এমন প্রকট হয়ে উঠেছিল যে, সেই পাকিস্তানিদের মতো করেই আমরা আপনাকে মন্ত্রীত্বের টোপ দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনার সংগ্রামী চেতনার কাছে তা হার মানতে বাধ্য হয়েছিল।

প্রিয় লারমা বাবু,
শঙ্খ, মেওনী, কাসালং, কর্ণফুলীতে অনেক জোয়ার বয়েছে। শাসকদের মুখোশও বদল হয়েছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু আপনাদের প্রতি আমাদের জাতিগত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। আপনার জীবিত থাকাকালীন ১৯৮০ সালে কাউখালী থানার কলমপতি এলাকায় প্রায় ৩০০ পাহাড়ী নারী-পুরুষকে নিবির্চারে হত্যা করার যে ন্যক্কারজনক, লোমহর্ষক ঘটনা ঘটিয়েছিল আমাদের জলপাইধারীরা সেটাই কিন্তু শেষ ছিল না। ধারাবাহিকতার শুরু মাত্র। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে অনেক ত্যাগ আর প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভকারীরা মাত্র ৯ বছরের মাথায়ই আপনাদের উপর সেই একই যজ্ঞ চালিয়েছি। আর খেয়াল করে দেখুন পাকিস্তানী সেনারা বাঙালীদের উপর প্রথম গণহত্যার জন্য ২৫ মার্চের রাতটাকে বেছে নিলেও আমরা কিন্তু রাতের ধারও ধারিনি। ১৯৮০ সালের ২৫ মার্চ দিনেই প্রকাশ্যে ঘটিয়ে আমরা প্রমান করেছিলাম আমাদের ব্যাটাগিরি কতটা নির্মম হতে পারে। শুধু কি তাই, আপনার মৃত্যূর পরও এর চাইতেও নৃশংস, বর্বরোচিত একের পর এক গণহত্যা চালিয়েছি ঝরেইবেড়ি, বেলতলি, বেলছড়ি, গোলকপুদিমা ছড়া, টেরাবনছরি, মারামাইচ্যাছড়া, সুগুরিপাড়া, টারেঙাঘাট, ভূজনছড়া, মিরজিবিল, লংগদু, নানিয়ার চর, দীঘিনালা, মাইসছড়ির পাহাড়ি জনপদগুলোতে। শিশু-কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ কেউই রক্ষা পায়নি আমাদের নির্মমতার হাত থেকে। কত নারীকে আমরা আমাদের পাশবিকতার শিকার বানিয়েছি বা এখনো বানিয়ে চলেছি। শুধু কি পাহাড়েই আমরা আমাদের এই যজ্ঞ চালিয়েছি? না, আমরা সমতলের আদিবাসীদেরও শান্তিতে রাখিনি। একেকটি প্রতিবাদি কণ্ঠকে রোমশ হাতে টুটি চেপে ধরেছি, স্তব্ধ করে দিয়েছি আগুন কণ্ঠকে। আমরা প্রতিবাদী কল্পনাকে নেই করে দিয়েছি। আমরা আলফ্রেড সরেন, অবিনাশ মুড়া, বিহেন নকরেক, সেন্টু নকরেক, অধীর দফো, গীদিতা রেমা, পীরেন স্নাল ও সর্বশেষ চলেশ রিছিলকেও সরিয়ে দিয়েছি। প্রতিবাদ আমরা বৃহত্তর জাতির লোকজন বরদাশত করতে পারি না। আমরা যে কোনো প্রকারেই তা স্তব্ধ করে দিতে জানি। ছলে, বলে, রণে বা কৌশলে। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে মোটামুটি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পেরেছি কিছু চেয়ার সৃষ্টি করে দিয়ে, ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতকে উস্কে দিয়ে বা জিঁইয়ে রেখে।

সুহৃদ লারমা বাবু,
আমরা শুধু রাজনৈতিক ভাবেই আপনাদের (আদিবাসীদের) কোণঠাসা করে রাখিনি, মনস্তাত্ত্বিকভাবেও আপনাদেরকে আমরা কব্জা করে রেখেছি। পার্বত্য শান্তি চুক্তির প্রথম শর্ত হিসেবে আমরা- "সকল ক্ষেত্রে উপজাতি শব্দটি বলবৎ থাকিবে" মেনে নিতে বাধ্য করেছি। কর্পোরেট পূঁজির জরায়ুজাত দেশি-বিদিশি এনজিও বা দাতাসংস্থাদের দিয়ে আদিবাসীদেরকে উন্নয়ন আফিম খাইয়েছি উদ্দেশ্যমূলক ভাবেই। উন্নয়ন নেশাতে আপনাদের এতটাই কাতর করেছি যে, আপনাদের আবার কোমড় সোজা করে দাঁড়াতে একটু সময় লাগবে বৈকি। ডানপন্থীদের কথা বাদই থাক, আমরা বাম দলের নেতাকর্মীরা এখনও পর্যন্ত আদিবাসীদের কোন ইস্যুতে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী না দিলেও প্রায় সারা বছরই আপনাদের আয়োজিত সভা-সেমিনার-দিবসে মঞ্চের শোভাবর্ধন করি, গলাবাজি করি। আমরা গবেষকরা ঝাঁকে ঝাঁকে পাহাড়-সমতলে ছুঁটেছি বা ছুঁটছি আপনাদের গিনিপিগ বানিয়ে নিজের ক্যারিয়ারকে আরো জ্বলমলে করে তুলতে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আপনাদের নিয়ে আন্দোলন(!?) করে যাচ্ছি নিজের পকেট ভরার ধান্দায়। আমরা বড় বড় নাট্যকারেরা আদিবাসীদের নিয়ে নাটক করে বেড়াচ্ছি সাম্রাজ্যবাদী পূঁজির টাকায়; ভাববেন না এ আমাদের অকৃত্রিম দরদ আপনাদের প্রতি, এ আমাদের ধান্দা, শ্রেফ ধান্দা। আমরা নানান ভাবে আপনাদের নেতাদের সভা-সেমিনার-ফান্ড-বিদেশ সফরের টৌপ দিয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে অনেক অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছি। আমরা তাদেরকে বুঝাতে পেরেছি কী দরকার রোদে পোড়ার- বৃষ্টিতে ভেজার বা অন্যান্য কষ্ট স্বীকার করে নিজেদের অধিকারের কথা বলার, তার চেয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে আয়েশ করে আপনাদের সমস্যার কথা আলাপচারি করেন; আমাদের স্যাটেলাইট চ্যানেল বা পত্রিকায় আমরা তা প্রচার করার ব্যবস্থা করব। আমরা লেখক-সাহিত্যিকেরাও আপনাদের নিয়ে কম উঠে পড়ে লাগিনি; আদিবাসীদের নিয়ে একখান গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা একখান দীর্ঘ উপন্যাস পয়দা করতে না পারলে যেন আর ইজ্জত থাকছে না। বর্তমানে আদিবাসীদের নিয়ে সাহিত্য চর্চা যেন একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানের পাহাড়-ঝরণা চষতে চষতে আদিবাসী নারীর খোলা বুকের ছবি তুলে এনে রাজধানীতে প্রদর্শণীর ব্যবস্থা করে নিজের ফটো তোলার ক্ষমতাকে জাহির করে বেড়াচ্ছি , তৃপ্তির ঢেকুর তুলছি সুধীজনদের মনে একটু সুড়সুড়ির ব্যবস্থা করে দিতে পেরে ইত্যাদি ইত্যাদি আরো কত কি!

শ্রদ্ধেয় লারমা বাবু,
আপনার হৃদয়টা অনেক বিশাল, না হলে লাখো পাহাড়ী আপনার ডাকে সাড়া দিত না বা আপনি তাদেরকে বুক আগলে রাখতে পারতেন না। আপনার ঔদার্য্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বাঙালি জাতির একজন প্রতিনিধি হিসেবে লজ্জাবনত হয়ে আমি আপনাকে অনুরোধ করতে চাই, প্লিজ আপনি আমাদের ক্ষমা করবেন না। কেননা আপনার কাছে, এই রাষ্ট্রের আদিবাসীদের কাছে ক্ষমা চাইবার মতন যে যোগ্যতাটুকু থাকার দরকার জাতিগতভাবে তা আমরা এখনও অর্জন করতে পারিনি।

আপনাকে আমার প্রাণের সেলাম। লাল সেলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28744292 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28744292 2007-11-10 08:47:15
বিপন্ন বনের বিপন্ন মানুষদের উষ্ণতায় (চতুর্থ কিস্তি)
দোখলা বাজারে চা খেয়ে চলে এলাম পীরগাছায়। বচনদাকে বাড়িতেই পাওয়া গেল। রান্না-বান্না করছেন। ভাত আর বিভিন্ন ঔষধি গাছের পাতা দিয়ে টাকি মাছের ভর্তা। জোর করেই ভাত খাওয়ালেন। মধুপুর আসার ৬/৭ দিন আগে বচনদাকে জানিয়ে ছিলাম, সেই সুযোগে তিন বগনা চু রান্না করে রেখেছেন আমার জন্য। তার থেকে প্রথমে একটা নামানো হল। এরই মধ্যে তিরেশদাও এসে হাজির হলেন, আসলেন পাশের বাড়ির অলিশনদাও। দেখতে দেখতে তিনটাই শেষ করে দিলাম চারজনে। বচনদা হয়ত ভেবেছিলেন একটা রাতের জন্য রেখে দিবেন, বুঝতে পেরে তাকে জানালাম রাতের ব্যবস্থা করা আছে। সকালেই বিজন্তীদি একটা দিখ্যা (চু তৈরির সবচেয়ে বড় মাটির মটকি) নামাতে চেয়েছিলেন। আমি রাজি হয়নি, বলেছিলাম রাতে খাব। জেনে বচনদার হাসি আরেকটু প্রশস্ত হলো। মিশনের সামনে চা-সিগারেট শেষ করে আমরা দু'জনে চলে এলাম তেমাথায়। সুজনদা (সুজন দেব বর্মণ- প্রথমবার মধুপুর এসে আদিবাসীদের মধ্যে এই সুজন বর্মণের সাথেই আমার পয়লা পরিচয় হয়েছিল) বরাবরের ন্যায় চা-সিগারেট-মিষ্টিপানের আতিথেয়তায় ভাসালেন। আমরা কেউই কোনদিন তার কাছ থেকে কখনো খালি মুখে ফিরতে পারিনি। এজন্য আমরা মজা করে আমাদের নতুন কোন বন্ধুকে উনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই এলাকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বলে। এখানে কিছুক্ষণ কাটানোর পর বচনদা তার ভায়রা বাড়ি নিয়ে গেলেন। তেমাথার এই এলাকাটা মূলত সূর্যবংশীয় বর্মণদের পাড়া। বর্মণ পাড়ায় অনেকবার আসা হয়েছে-থাকা হয়েছে আমাদের, সবাই মোটামুটি পরিচিত। বর্মণ পাড়ার কয়েক বাড়ি পর আমরা চলে এলাম তার ভায়রার বাড়ি। এই পাড়ায় মান্দি পরিবার বলতে বচনদার শ্বশুড়র আর দুই ভায়রার পরিবারই। তো আমরা বড় ভায়রার বাড়িতেই বসে পড়লাম। ভায়রা বেচারা ছুটিতে বাড়ি এসেছেন, দুপুর বেলা একটু ঘুমোচ্ছিলেন। ঢাকায় কী একটা কোম্পানীতে ড্রাইভিং এর চাকরি করেন। ফ্রেশ হয়ে বারন্দায় আমাদের সামনে এলেন। নামটা মনে করতে পারছি না, কী ম্রং যেন, রাখী ম্রং এর খালাতো ভাই হন সম্পর্কে। যাক, পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, বিশ্বায়ন নিয়ে তার ধারণাগুলো আমাদের দীর্ঘ আড্ডায় ছেদ টানতে চাইছিল না। আলাপচারিতায় আঁচ পেলাম অনেক ক্ষোভ পুষে রেখেছেন তার পোড় খাওয়া বুকটাতে। মিশনারী, বনবিভাগ, রাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রতি তার ক্ষোভ যেন অনেকটা প্রকাশ্যই বলা চলে। তেমাথার আশেপাশে বাইরে থেকে আগত কলাবাগানের বাঙালি মালিকদের হাত ধরে বাংলা মদ বিক্রি নাকি শুরু হয়েছে ইদানিং। বিষয়টা উনাকে বেশ ভাবাচ্ছে এবং এটা বন্ধ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন এমনটাও জোর দিয়ে জানালেন। আমি জানি না উনি ঠিক কতটা সফল হতে পারবেন। (অসমাপ্ত)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28743937 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28743937 2007-11-09 12:07:10
বিপন্ন বনের বিপন্ন মানুষদের উষ্ণতায় (তৃতীয় কিস্তি)
বচনদাকে যতটুকু জানি তিনি আগাগোড়াই একজন প্রেমিক মানুষ। তার এই প্রেম কবিতার প্রতি-মানুষের প্রতি-চারপাশের প্রতি-আপন বিশ্বাসের প্রতি-সংস্কৃতির প্রতি। প্রথম পরিচয় থেকেই কেন জানি বচনদা আমাদের সকলের ভালবাসার জন হিসেবে গণ্য হয়ে আসছেন। ভালবাসার বেহিসেবে আচরণের কাছে নত হয়ে কত রাত যে আমরা পাগলামো করেছি তা গুণে রাখিনি। মনে আছে এক জ্যোৎস্না রাতে বচনদার বাড়িতে পরাগ, আমি আর দুপুর মিত্র গিয়েছিলাম । গিয়ে দেখি আরো অনেক লোকজন সেখানে ভর্তি। চু এর নেশা যতই বাড়তে ছিল বিপরীত ভাবে লোকজনও কমতে ছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা চারজন। চারজনের মধ্যে তিনজনই আবার কবি। সেই রাতে বচনদার মাটির ঘরের বারান্দা বানে ভেসে যাচ্ছিল, জ্যোৎস্নার বানে। বচনদা গলা ছেড়ে গান ধরেছিলেন। ভূপেন হাজারিকার গান বেশ পছন্দ তার। বচনদা বলল-না এভাবে চেয়ারে বসে বসে ভাল লাগছে না, আমাদেরও লাগছিল না। চাঁদের আলো যদি এত দূর থেকে ভালবাসার টানে আছরে পড়তে পাড়ে, তাহলে আমরা মাটির এত কাছে থেকেও কেন তাকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারছি না। শেষে সবারই মনে হলো আমরাও মাটির আরো কাছে যেতে চাই, তার বুকে নিজেকে সঁপে দিতে চাই। শুয়ে পড়লাম বারান্দায়। চাঁদের আলোয় চোখ জ্বলজ্বল করছে আমাদের। কবিতা হলো, কবিতা, অনেক... অনেক কবিতা। কবিতার একেকটি শব্দ, ছন্দ যেন আমাদের ভেতরের কোন কিছুকে বারবার নাড়া দিয়ে যাচ্ছিল। চু এর চাইতেই আরো বেশি নেশাসক্ত হচ্ছিলাম আমরা। অনেকক্ষণ এভাবে কাটানোর পর বচনদা আমাদের নিয়ে গেলেন তার প্রিয় সেই চুনিয়া ব্রিজে। একটু আবেগ প্রবণ হয়ে গেলেই বচনদা চলে আসেন এই ব্রিজে, ব্রিজের রেলিংয়ে শুয়ে শুয়ে কবিতা-গানে রাত কাবার করে দেন। অনেক সুন্দর সুন্দর কবিতাও লিখেছেন এই চুনিয়া ব্রিজকে নিয়ে। চুনিয়া, হ্যাঁ, বর্তমানে সংস্রেক মান্দিদের প্রাণকেন্দ্র, পরেশ মৃ'র (হা.বিমানি মান্দি রাজা,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঘনিষ্ঠজন) চুনিয়া, কবি রফিক আজাদের আর্কেডিয়া। বাংলাদেশে এত মান্দি এলাকা থাকতে কবি রফিক আজাদ কেন চুনিয়াকেই তার আর্কেডিয়া বলেছিলেন তা চুনিয়া আসার আগে আমি নিজেও বুঝিনি। আমার দেখা মান্দি সং (গ্রাম) গুলোর মধ্যে চুনিয়াকে আলাদা করেই দেখি। এখানকার সবকিছুইতেই যেন একটু বিশেষত্বের ছোঁয়া। কেন এমন মনে হয় তা হয়ত ব্যাখ্যা করে বুঝাতে পারব না। এ একান্তই আমার অনুভবের কথা।

বচনদার মায়ের বাড়িতে চু পান শেষে তিরেশ নকরেকম অলিশন মৃ সবাই সেখানেই রাতের খাবার সেরে নিলাম। আমার অনিচ্ছা সত্বেও সেখানে খেতে হল। কেননা আমি জানি বাইরে যত জায়গায় যত কিছুই খাই না কেন, চুনিয়াতে বিজন্তীদি ভাত নিয়ে বসে থাকবেন আমার জন্য; যত রাত করেই ফিরি না কেন। আমাকে একমুঠো হলেও সেই ভাত খেয়ে তারপর শুতে হবে। এ যেন ভালবাসার এক চিরন্তন নিয়ম। আমি বা আমরা কেউই এই নিয়মের বরখেলাপ করার দু:সাহস কখনো দেখাই না। যাক, গপ্যা (মান্দিদের নিজস্ব অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার, সাধারণত মুরগীর নাড়ি-ভুড়ি, মাংস অথবা মাছ পেয়াজ-কাঁচা মরিচ দিয়ে কলাপাতায় রেখে বাষ্পরোধী অবস্থায় সেদ্ধ করে তৈরি করা হয়) দিয়ে ভাত খেয়ে বাকি দু'জনকে বিদায় করে আমরা দু'জন চলে এলাম চুনিয়া ব্রিজে। অনেককথা হল সেদিন আমাদের। কবি শুনালেন তার প্রেমের কথা, তার বেদনার কথা। যে বেদনাকে তিনি স্বেচ্ছায় বরণ করেছেন বারেবার। গলা ছেড়ে লক্ষ্মীপূর্ণিমার সামান্য ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদের পানে তাকিয়ে কবি বলছেন-"দু:খ দাও, আমাকে দু:খ দাও। আমি দু:খের সাথেই বাঁধব আমার সারথি। দুনিয়ার যত দু:খ আছে, সব...সব আমাকে দাও। আমি তোমাদের দেব আমার হৃদয় নিঙড়ানো ভালবাসা, আমার কবিতার প্রতিটি শব্দে-বাক্যে-ছন্দে।" কবি বলে চলেছেন প্রেমের কথা, বেদনার কথা, ভালবাসার কথা। আজকেই কবি বললেন তার প্রথমার কথা। তাকে সেদিন সে নিজেই দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন, কেননা কবির দরকার দু:খ... দু:খ... কেবলি দু:খ। ঝর্ণা চিরানের সাথে তার বিয়েটা ভালবাসারই পরিণতি, এখনো সেই ভালবাসা দিনে দিনে আরো মজবুত হচ্ছে। কিন্তু তারপরও প্রথমার প্রেম আজও তাকে কাঁদায়-ভালবাসায় কবিতার গোপন কুঠুরিতে। চু এর নেশায় আমি শরীরের তাল সামলাতে পারছিলাম না। কয়েকঘন্টা কবির সাথে কাটানোর পর বিজন্তীদির কথা বলে স্বার্থপরের ন্যায় আমি চলে এলাম চুনিয়াতে জনিক আচ্চুর বাড়িতে। দিদির দেয়া ভাত আজ রাতেও একমুঠো খেতে হলো। চু খেয়ে শেষ অবস্থায় আছি দেখার পরও দিদি আরো একগ্লাস বিচ্চি (চু পাত্রে জমে থাকা প্রথম পর্যারের রস-বেশ কড়া) রেখে গেলেন ঘরে আমার থাকার ঘরে। আমি আপন মনে হেসেই এক চুমুক দিয়ে গ্লাস রেখে ঝাপিয়ে পড়লাম বিছানায়।

সকালে জনিক আচ্চু ঘুম থেকে জাগালেন। নাস্তা সারার পর আচ্চুর সাথে আলাপ করতে বসলাম তাঁর নকমান্দিতে। দু'জনের পারিবারিক নানান বিষয়াদি শেষে ওয়ান্না নিয়ে কথাবার্তা শুরু হল। ২০০৩ সাল থেকে চুনিয়াতে জনিক নকরেক এর উদ্যোগে সংস্রেক মান্দিরা বছর বছর তিনদিন ব্যাপী ওয়ান্না পালন করে যাচ্ছেন। প্রথম ওয়ান্না থেকেই মিসি-সালজংদের প্রতিনিধি (সংস্রেক মান্দিরা বিশ্বাস করেন, ওয়ান্নাতে আগত সকল অতিথিরাই মিদ্দি মিসি-সালজংদের প্রতিনিধি) হিসেবে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে। তো, এবার কীভাবে, কী করা যায় সে নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ করলেন। মিশন যেহেতু করছে না তাই আচ্চুর ওয়ান্নার দিকেই এবার সবার দৃষ্টি। আমি জানি যত কষ্টই হোক, ৯৮ বছর বয়সী জনিক নকরেক সহজে ভেঙ্গে পড়ার পাত্র নন। এই বয়সেও সে সংস্রেক বৃদ্ধ তাঁর আপন বিশ্বাসের দ্রোহী চর্চাকে জারি রাখতে পারেন পারিপার্শ্বিক চাপকে মোকাবেলা করে, এবারও তার ব্যতয় তিনি হতে দেবেন না। নতুন প্রজন্মের কাছে এ নাকি তাঁর দায়বদ্ধতা! আমি অবাক বিষ্ময়ে চেয়ে থাকি আচ্চুর ভাঁজপরা স্নিগ্ধ-তেজস্বী মুখপানে। এমন দৃঢ় মনোবলের মানুষের সাথে কথা বলে প্রতিনিয়ত আমি যেন নিজের ভেতরই সচল থাকার একটা প্রেরণা খুঁজে পাই। হার না মানার সাহস পাই।(অসমাপ্ত)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28743436 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28743436 2007-11-07 17:02:32
প্রথম পাতায় সর্বোচ্চ ব্লগারের তালিকা কি খুব প্রয়োজনীয়? http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28743167 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28743167 2007-11-06 17:15:01 বিপন্ন বনের বিপন্ন মানুষদের উষ্ণতায় (দ্বিতীয় কিস্তি)
তো সাইন্যামারিতে গ্রামবাসীরা ওয়ানগালা করবে তা বেশ উৎসাহ তৈরি করেছিল আমাদের মধ্যে। দুপুর বারোটার মধ্যেই কিছু মান্দি যুবকদের সাথে মিটিং সেড়ে পঁচিশ মাইল থেকে সঞ্জয়কে নিয়ে রওনা দেই সাইন্যামারির উদ্দেশ্য। দোখলা এসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম ওয়ানগালা হবে তবে তা আজকে নয়, নভেম্বরের ৪ তারিখে। কী আর করা, সাইন্যামারিতে না গিয়ে চলে আসলাম বচনদার (মান্দি কবি বচন নকরেক) বাড়িতে। গাছগাছালিতে ভরা সুন্দর-ছিমছাম বাড়িতে পাওয়া গেল তাকে। বাড়িতে বরাবরের ন্যায় একাই ছিলেন। বড় মেয়ে সুসিমি বাড়িতে ছিল না, বারোমারি তীর্থে গেছে; ছোট রিম্মত বাড়িতে। আমাদের দেখেই মাসির বাড়িত ভোঁ দৌঁড়। ঝর্ণাদি কর্মস্থল দূর্গাপুরে। যাই হোক, তিনজন চলে এলাম পীরগাছা চায়ের দোকানে। চা-সিগারেট আর আড্ডার ফাঁকেই সেখানে দেখা হয়ে গেল তিরেশ নকরেক এর সাথে। তিরেশদা হলেন একাধারে মান্দি গীতিকার, সুরকার, গায়ক। ১৯৮৪ সাল থেকে আজও পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতারে সালগিত্তাল নামক মান্দিদের এক অনুষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছে না। তার লেখা-সুর করা ও গাওয়া অসংখ্য গান প্রচারিত হয়েছে সেখান থেকে। যে কারণে বাংলাদেশের মান্দি সমাজে উনার রয়েছে বিশাল পরিচিতি। গারো হিলসেও তাঁর নাম পরিচিত। খাবাকনি খাবাক নামের মান্দি টেলিফিল্ম পরিচালনা করে এই পরিচিতির পরিধি আরো বেড়ে গেছে ইদানিং। পীরগাছা থেকে বচনদাসহ আমরা চলে এলাম জনিক আচ্চুর (জনিক নকরেক-সাংসারেক খামাল)। আচ্চুকে বাড়িতেই পেলাম। কিছুক্ষণ আগেই ফিরেছেন সঞ্জীব দ্রংদের কনফারেন্স থেকে। মান্দি সংস্কৃতির উপর দুই ঘন্টা বক্তৃতা করেছেন। শালবনে আচ্চুর বাড়িই আমাদের মূল ঠিকানা। গত পাঁচবছর ধরে প্রতিনিয়ত জ্বালাতন করে চলেছি এই পরিবারের সকলকে তাদের অকৃত্রিম ভালবাসাকে পূঁজি করে। আচ্চুর সাথে প্রাথমিক কথাবার্তা শেষে ব্যাগটা বিজন্তীদির ঘরে ব্যাগ রেখে আমরা চলে এলাম দোখলা বাজার। এখান থেকেই সঞ্জয়কে বিদায় জানাতে হয়।

সন্ধ্যার দিকে বচনদা তার মায়ের বাড়িতে নিয়ে যান, তার গুমী (দুলাভাই) বারোমারি তীর্থ থেকে ফিরেছেন, কাজেই ও বাড়িতে চু আজকে নামবেই। সাথে অলিশনদা(জনিক আচ্চুর বড় ছেলে), তিরেশদা। আমরা গিয়ে আসন গাড়লাম উঠোনে। বারন্দায় কিছু চাচ্চ্রি (আত্মীয়) নিজেদের ভেতর কথাবার্তা বলছেন। উনাদেরকে বিদায় করেই আমাদের প্রত্যাশিত চু নামানো হল। অলিশনদা চু ছাঁকতে বসে গেলেন। মিঠুর (বচনদার ছোটভাই) এসে আমাদের গ্লাস ভর্তি করতে লাগল। কথা হচ্ছে অনেক, প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিক সব রকমের। তরল পেটে যত জমা হচ্ছে, বচনদা ততই নিজেকে খুলে চলেছেন, বলে চলেছেন নিজের গহীনে জমে থাকা অনেক পুরনো অথচ জীবন্ত নানান কথা....(অসমাপ্ত)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28742382 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28742382 2007-11-03 19:17:16
বিপন্ন বনের বিপন্ন মানুষদের উষ্ণতায় (পয়লা কিস্তি)
শীত বেশ ভালই পড়েছে এই বন এলাকাতে। শীতের প্রকোপই মহাসড়কের পাশে আমাদের জ্যোৎস্নাময় আড্ডাটা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি। তিনটার দিকে সঞ্জয়দের রুমে লেপের ভেতরে নিজেকে লুকিয়ে ফেললাম। ভাতিজার মতন ২৯পয়সা/মিনিটে নয়, ০ পয়সা/ঘন্টায় ভাবতে লাগলাম কোন এক জ্যোৎস্না রাতের কথা... । (অসমাপ্ত)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28741965 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28741965 2007-11-02 09:57:47
একরাতে আমি এবং...
কিছুক্ষণ পরে আবারো টানাহেঁচড়ার শব্দ আর মেয়েলি কন্ঠের 'দাদা!... দাদা!...' আর্তচিৎকার ! এবার কোন আলো নেই, শুধুই অন্ধকার! কয়েক মুহূর্ত পরেই অন্ধকার, টানাহেঁচড়া, চিৎকার সমস্ত কিছুকে বিদীর্ণ করে অবিরত গুলির আওয়াজ। গুলি মনে হচ্ছে আমার দু'কানের পাশ দিয়ে অবিরাম ছুটে ছুটে যাচ্ছে। হঠাৎ পানিতে কারো ঝাপিয়ে পড়ার শব্দ! আর সাথে সাথেই দ্বিগুণ বেগে গুলির শব্দ ! প্রচন্ড ভয়ে আমি মাটিতে বসে পড়লাম। দু'হাত দিয়ে কান সজোরে চেপে ধরেছি। গুলির শব্দ যেন থামতেই চাইছে না। সমস্ত কিছুকে ঝাঁঝড়া করে দিয়ে গুলি চলছে, চলছেই, চলছেই ...। ভয়ার্ত চিৎকার আর গুলির শব্দে আমি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলাম না। বুকের ভেতর আটকে রাখা কান্না বেরিয়ে এলো প্রচণ্ড ঠমকে। আমিও চিৎকার করছি! আর অন্ধকারের দিকে ছুটছি! কিছুই নাগালে পাচ্ছি না তবুও ছুটছি, 'দাদা!...দাদা!...' চিৎকার যেদিক থেকে আসছে সেদিকে, প্রাণপণে ছুটছি যেদিক থেকে গুলির শব্দ আসছে সেদিকেই ...!

'তোমাকে বাঁচাতে পারিনি...বাঁচতে দেইনি...বাঁচাতে পারিনি...তোমাকে বাঁচতে দেইনি...ক্ষমা করো আমাদের...।'

'বাবাজি এইহানে হুইয়া হুইয়া বিড়বিড় কইরা কী সব কইতাছেন?'

মফিজ চাচার হাতের উষ্ণ স্পর্শ আর কথা শুনে আমি চোখ মেলে তাকালাম। দেখি আমি চাচার চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে শোয়া আর চাচা বসা আমার মাথার পাশে । শরীরে প্রচন্ড ক্লান্তিবোধ নিয়ে চাচাকে শুধু জিজ্ঞেস করলাম-

'চাচা আজ কত তারিখ ? জুন মাসের ১২ তারিখ তো ?'

'হ, তয় কী অইছে ?'

চাচার কথার কোন উত্তর না দিয়েই আমি উঠে আস্তে আস্তে পা বাড়ালাম- আমার গন্তব্যের দিকে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28738389 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28738389 2007-10-19 11:47:16
এবারের ঈদের তিন অনুষঙ্গ : মায়ের বেঁচে থাকা...বৃষ্টি...ব্লগিং...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28737866 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28737866 2007-10-16 23:39:06
বৃষ্টিস্নাত ঈদের সকালে
বৃষ্টিস্নাত ঈদ শুভেচ্ছা সবাইকে



একটি কৈফিয়ত : ঈদের দিন সকালে এই পোস্টটা সাময়িক পোস্ট হিসেবে দিয়েছিলাম। প্রায় সারাদিনই ছিলাম ব্লগে। দারুন একটা ঈদ পার করেছি এবার ব্লগের বন্ধুদের সাথে। ঈদ স্মারক হিসেবে রেখে দেওয়ার চিন্তা করায় পোস্টটি তাই মুছলাম না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28737446 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28737446 2007-10-14 08:40:25
জটিল সময়ের সরল অংক : প্রেক্ষিত মধুপুর শালবন http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28736973 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28736973 2007-10-11 16:35:33 নিকের আড়ালের ব্যক্তির লৈঙ্গিক পরিচয় নিয়ে মাতামাতি আসলে কতটা যৌক্তিক http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28736410 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28736410 2007-10-09 12:14:51 বেশ কিছুদিন পর এক প্রাক্তনের জাহাঙ্গীরনগর দেখা
উড়ে যাওয়া পাখির পড়ে যাওয়া পালকের মত
পিছল কাটে স্মৃতি
আনমনে আনমনে...
কিন্তু হায় পালক
তুমি এখনো প্রথাগত বাতাসেই উড়ো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28736034 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28736034 2007-10-07 15:25:55
সোডিয়াম বাতির আলো-আধারিতে বিক্ষিপ্ত মনের কিছু ক্রিয়া http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28734858 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28734858 2007-10-01 16:44:01 বার্মার সামরিক জান্তা ধ্বংস হোক-নিপাত যাক
http://www.PetitionOnline.com/9848/

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28734619 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28734619 2007-09-30 14:31:08
আমার সর্বশেষ রাঙামাটি ভ্রমনের কিছু অভিজ্ঞতা ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা ( শেষ কিস্তি)
পাদটীকা: শেষ কিস্তিটা শব্দসংখ্যায় একটু বড় হয়ে গেল। এজন্য পাঠবিরক্তি ঘটে থাকলে আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28732162 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28732162 2007-09-19 12:10:06
আমার সর্বশেষ রাঙামাটি ভ্রমনের কিছু অভিজ্ঞতা ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা (দ্বিতীয় কিস্তি)
শেষ কিস্তি আসছে শীঘ্রই...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28732015 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28732015 2007-09-18 16:26:16
আমার সর্বশেষ রাঙামাটি ভ্রমনের কিছু অভিজ্ঞতা ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা (প্রথম কিস্তি)
(পরের কিস্তি আসছে শীঘ্রই...)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28731717 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28731717 2007-09-17 09:55:40
তিন পার্বত্য জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক কী চালু হবে না? ...বছর শেষে ৬১ জেলায়..."

মোবাইল কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপনে এজাতীয় কথাবার্তা প্রায়ই আমাদেরকে শুনতে হয়। আমাদের মোবাইল কোম্পানিগুলোর কাছে সারাদেশ বলতে বুঝায় -৬১ জেলা। না, এটা মোবাইল কোম্পানিরগুলোর কোন অজ্ঞতা নয়। আমাদের রাষ্ট্রীয় হর্তাকর্তারাই কোম্পানিগুলোকে এই বুলি আওরাতে বাধ্য করেছেন। পার্বত্য এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা নাকি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য নিরাপদ নয়, হুমকির শামিল। জানি না রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কিভাবে রক্ষা পায়। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দাপটে যখন আমাদের রাষ্ট্রীয় কলকারখানাগুলো একে একে বন্ধ হতে থাকে, দেশের তেল-গ্যাস-কয়লাসহ অন্যান্য খনিজের মালিকানা চলে যায় কর্পোরেট পুঁজির কব্জায় জানি না তখন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে কি না। তাছাড়া মোবাইল প্রযুক্তির কল্যাণে ঘটিত অপরাধসমূহ নিয়ন্ত্রনে সরকার যদি দেশের ৬১ টি জেলার ক্ষেত্রে সক্ষম হয় তাহলে তিন পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয় কেন? এমনতো নয় যে পার্বত্য এলাকায় ল্যান্ড ফোন নেই, ইন্টারনেট সুবিধা নেই। বরং সেনাবাহিনীর অনুমতি নিয়ে রাঙামাটি শহরে কয়েকটি মোবাইল ফোনের দোকানও চালু রয়েছে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মোবাইল প্রযুক্তির সুফল ভোগ অধিকার প্রতিটি পার্বত্যবাসীরই রয়েছে। কিন্তু সেই অধিকার থেকে আর কতদিন তাদেরকে বঞ্চিত করে রাখা হবে?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28731581 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28731581 2007-09-16 16:11:11
জীবন ও সংস্কৃতি-৩ (পলিনেশিয় তাহিতিয়ান সমাজে উল্কি)
বর্তমানে ইকেলট্রিক মেশিন ও টিটানিয়াম ডাই অক্সাইড, আয়রন অক্সাইড, কার্বন, ‌এক্রিডাইন, কুইনোলিন ইত্যাদি রং হিসেবে ব্যবহার করা হলেও পলিনেশিয় তাহিতিয়ান সমাজে উল্কি আঁকার প্রথাগত যন্ত্রটি সাধারণত হাড় বা কচ্ছপের খোলসের তৈরি সূঁচ দিয়ে, আর রং বানানো হয় ক্যান্ডলনাট পোড়ানো ছাই পানি বা তেলে মিশিয়ে। রংয়ে চুবানো সূঁচ ত্বকের উপর রেখে কাঠের তৈরি হ্যান্ডেল দ্বারা সামান্য আঘাত করলে সূঁচটি ত্বকে বিঁধে ভেতরে রং ঢুকিয়ে দেয়া হতো।

পলিনেশিয় মিথ অনুসারে সৃষ্টিকর্তা তা'আরুয়া-র দুই ছেলে মানুষকে উল্কি আঁকার শিক্ষা দিয়েছেন। এটা ছিল একটি পবিত্র শিল্পকর্ম। তাহিতিয়ান সমাজে সাধারণত তাহুয়া বা পুরোহিতেরাই এ শিল্পকর্মটি করতেন যারা উল্কির বিভিন্ন ডিজাইনের গূঢ়ার্থ, কারিগরিদিক ও অন্যান্য ধর্মীয় আচাররাদি সম্বন্ধে ভালো জ্ঞান রাখতেন। গোত্রগত বা বংশগত পরিচয়, সামাজিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত অর্জন ইত্যাদি দিক বিবেচনায় উল্কির ডিজাইন ও শরীরের কোথায় তা আঁকা হবে তা নির্ধারণ করা হতো। উল্কি আঁকার আগে যার শরীরে তা আঁকা হবে তাকে একটা নির্দিষ্ট শুদ্ধি সময় পার করতে হয়। এসময় ঐ ব্যক্তিকে যৌনকাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। ১৭৯৭ সালে মিশনারীদের আগমনের পর থেকে এই উল্কি আকার রীতি বন্ধ হতে থাকে, কেননা ওল্ড টেস্টামেন্টে উল্কি আঁকা নিষিদ্ধ করা আছে। মিশনারীদের নোট, স্কেচ থেকে পুরনো উল্কির প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা করা যায় যে, সেসময় প্রচলিত উল্কির ডিজাইনে সাধারণত ব্যক্তির জীবন ইতিহাস, কোন দ্বীপে তার জন্ম, সামাজিক অবস্থান ও কার্যকলাপকে তার দেহে ফুটিয়ে তুলত। উল্কির নির্দিষ্ট কিছু মোটিফ সম্মোহনের কাজও করত। এছাড়া বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষার জন্য ম্যাজিক্যাল বা তান্ত্রিক নিরাপত্তার জন্যও ছিল উল্কির ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28731293 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28731293 2007-09-15 11:13:54
মোবাইল ব্যবহারকারীদের পুনরায় রেজিস্ট্রেশনের সরকারি বাধ্যবাধকতা ও বাস্তবতা http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28730534 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28730534 2007-09-11 10:42:45 জীবন ও সংস্কৃতি-২ (ভারতীয় সমাজে উল্কি)

উল্কি আঁকা একসময় পৃথিবীর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সামাজিক-ধর্মীয় প্রথা থাকলেও পাশ্চাত্যে তা হাল জামানার ফ্যাশন হিসেবে বেশ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। পাশ্চাতে্যর এই হুজুগ আমাদের এশিয়াতেও কম ঢেউ তুলেনি। তবে আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে এই উল্কি আঁকার রীতিটা অনেক পুরানই বলা চলে। মাত্র ৫০ বছর আগেও ভারতের প্রায় প্রতিটি আদিবাসী মেয়েদের উল্কি আঁকার এক কষ্টদায়ক প্রথা পালন করতে হতো। উত্তর-পশ্চিম পার্বতাঞ্চলের আদিবাসীদের থেকে শুরু করে দক্ষিণের তামিলদের মধ্যে মেয়েদের সৌন্দর্য বাড়াতে এই উল্কি আঁকার প্রচলন ছিল। উল্কি একটি মেয়ের ব্যক্তিগত অলঙ্কার। ভারতে উল্কি আঁকার এই সামাজিক-ধর্মীয় প্রথা বর্তমানে প্রায় উঠে গেলেও কিছু কিছু আদিবাসী সমাজে তা আজও পুরনো ঐতিহ্যকে লালন করে চলেছে।

হিন্দুদের মধ্যে উল্কি মেয়েদের উর্বরতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয় যা তাদের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলে এবং যাদুমন্ত্র বা ধর্মীয় রক্ষাকবচের কাজও করে। যেমন, প্রস্ফুটিত পদ্মের উল্কি বিশুদ্ধতার প্রতীক তেমনি মাছ মাতৃশক্তি এবং বৃশ্চিক, সাপ, মৌমাছি অথবা মাকড়শার উল্কি এই সকল প্রাণীর কামড় বা হুল ফুটানোর হাত থেকে সুরক্ষার প্রতীক হিসেব বিবেচিত হয়। এগুলো অবশ্য বিবাহ, ইহলৌকিক বা পারলৌকিক সৌভাগ্যেও বয়ে আনে বলে বিশ্বাস রয়েছে। সুখী বৈবাহিক জীবনের জন্য উত্তর প্রদেশে মেয়েরা হাতের কব্জিতে সামুদ্রিক ঝিনুকের উল্কি আঁকেন; এবং এটা তাদের জীবনে বৈধব্যকেও রোধ করে বলে বিশ্বাস প্রচিলত আছে। ধমীয় বিশ্বাসজাত উল্কি নারীদেরকে স্বর্গে প্রবেশের নিশ্চয়তা প্রদান করে, যেখানে পরবর্তীতে তারা ঈশ্বর বা তাদের স্ব স্ব স্বামীর সান্নিধ্য লাভ করতে পারবে। এইজন্য রাজপুত রমনীদের মধ্যে স্বর্গ লাভের আশায় বাহুতে কৃষ্ণের ময়ূর সিংহাসনের উল্কি আঁকার রীতি প্রচলিত ছিল।

উত্তর-পশ্চিম ভারতে হিমালয়ের পাদদেশের জড়োপাসক পার্বত্য আদিবাসী পুরুষদের উল্কি ছিল বেশ লক্ষণীয়। শত্রুকে হত্যা করে তার মুন্ডু আহরণকারীদের বীরত্বের প্রমাণ স্বরূপ দেহ ও মুখমণ্ডলে বীরত্ব ও উর্বরতার প্রতীক হিসেবে উল্কি এঁকে দেওয়ার রীতি ছিল; যদিও ভারতে মুণ্ডু শিকার অনেক আগেই বন্ধ হয়েছে। উর্বরতা, সৌন্দর্য্য ও জাতিগত সংহতিকে অটুট রাখতে এখনও ওয়ানচু ও নকতে নামক দুই আদিবাসী জাতির মধ্যে মুখণ্ডলে উল্কি আঁকার প্রচলন রয়েছে।


তথ্য: ওয়েবসাইট অবলম্বনে


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28729034 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhittikablog/28729034 2007-09-02 15:23:55