বিজ্ঞাপনে এতোদিন ঢেকে যেত মুখ । নারীকে ব্যবহার করা হয় পণ্য হিসেবে । বিপনন বাড়াতে এইসব ব্যবসায়ীরা কত কিছুই না পুজিঁ করে । ঢাকা শহরের ছেয়ে গ্যাছে বিজ্ঞাপনে । এমনকি বাঙ্গালির চিরন্তন ঐতিহ্যের নববর্ষ মঙ্গলযাত্রা একবার ঢেকে গেল ডিজুস এর লালে । পণ্যই যেখানে মুখ্য সেখানে তো এমনই হবে । মানুষের দৃষ্টি কাড়তে, মনোযোগ আকর্ষণ করতে পণ্য বিক্রেতাদের এই সব প্রতিযোগিতা খুবই চোখে লাগার মতন । যেমন এখন শুরু হয়েছে আমাদের নির্ভেজাল আবেগ আর মমত্ববোধের জায়গা গুলোকে নিয়ে ।
বেশ কিছুদিন আগে মানুষের চিরন্তন মমত্ববোধ আর আবেগের সম্পর্ক মা'কে নিয়ে ফারুকী বাহিনী বানিয়ে ফেলল একটি পুরোন গান দিয়ে গ্রামীন ফোনের বিজ্ঞাপন ।.. কতদূর আর কতদূর.. বলো মা... আর দেখেকে । দেশের সব ফোন লেগে গেল.. আবেগ হয়ে গেল লোক দেখানো পণ্য বিকানোর সস্তা উপকরণ । দেশের আরো চারটি ফোন কোম্পানী বানানো শুরু করল এমন আবেগময়ী বিজ্ঞাপন ।
এরপর এলো ভাষা আন্দোলনের মাস । ভাষাকে শ্রদ্ধা জানাতে সেকি বাহাস শুরু হয়ে গেল কে কার থেকে বেশী পারে!! সেই প্রতিযোগিতায় ... খারাপ নয় । দেশের মানুষের গহণযোগ্য আবেগ দিয়ে বিজ্ঞাপন.. আমাদের জাতীয়তবোধ বাড়াবে । কিন্তু সেই কাড়াকাড়ি রীতিমত চোখের লাগার মতন । যেমন চলছে এখন মুক্তিযুদ্ধের মাস... টিভিতে চোখ রাখা দায়.... আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ আর প্রাপ্তির মুক্তিযুদ্ধ আর যোদ্ধাদের নিয়ে চলছে হরেকরকম বিজ্ঞাপন । গতবছর দেখলাম আযম খানকে এবার প্রজ্ঞা লাবনী....
আমার কষ্ট হয়... পুরো বিজ্ঞাপনের শেষে যখন ভেসে ওঠে কোন কর্পোরেটের পণ্য বিক্রির ঘোষণা ।
আমাদের এইসব আবেগগুলো , চিরন্তন আবেগ গুলো নিয়ে এমন ঠুনকো পণ্যের বিজ্ঞাপনে কষ্ট পাই । কি দরকার আবেগ গুলো নিয়ে এই বিজ্ঞাপনের বাহাস ??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


