আমার প্রিয় পোস্ট

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই । কাদঁতে আসিনি ফাসিঁ দাবী নিয়ে এসেছি ।

জারুল-কৃষ্ণচূড়ায় ঢাকা ক্যাম্পাস

০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ১:৪৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

বলা যায়, দুহাতের সবকয়টা আঙ্গুল গুনে বলা যায় পাক্কা দশ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কাটিয়েছি । একবারে ঘোর যৌবন পার করেছি এই চত্বরে । নাওয়া নেই খাওয়া নেই ....... সারাদিন থেকে একবারে মধ্য রাত অব্দি পার করেছি ক্যাম্পাসে, তারপর যখন ক্লান্তি চোখ জড়িয়ে আসতো , আস্তে আস্তে ফিরতে শুরু করতাম হলে ..... চানখারপুলে সোহাগে রাতের খাবার সেরে তারপর ধীরে ধীরে হলে ফেরা । ফিরতে ফিরতে অনেক সময় উষার আলোকে সাথে নিয়ে রুমে ফেরা ।
ফিরতাম বিজ্ঞানবিভাগের হলে আর সারাদিন আর অর্ধেক রাত কিন্তু কেটে যেত টিএসসি কলাভবন আর লাইব্রেরি সামনে কিংবা আইবিএ ক্যান্টিনে ঘুরে ফিরে । আর বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়া থাকার জন্য তাই বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ হলেই ফিরতে হতো । এদিকেও যে রাত পার করা যায়না তা নয়,,, কিন্তু এই ঘুমের বেলাতেই আমি কোন আপোষ এ রাজি ছিলাম না । যাই হোক নিজের ঘুমের জায়গায় যেয়ে আমি ঘুমাতে চাই ।
সেই ক্যাম্পাস এ এখন হুট করে নিজেকে অচেনা মনে হয় । বেশীদিন না মাত্র বছর দুই হলো , ক্যাম্পাস ছেড়ে এসেছি । ক্যাম্পাস ছেড়ে খুব বেশিদূরে যেতে পারিনি , ক্যাম্পাসের আশে পাশেই থাকি । ঘুম থেকে উঠে কিংবা ঘুমাতে যাবার আগে ক্যাম্পাস দেখি, আমার ব্যালকনি থেকে ।

সেই ক্যাম্পাস আজ অনেকদিন পর বউসহ গেলাম । উদ্দেশ্য ক্যাম্পাসের ফুলগুলো দেখতে যাওয়া । রাজু ভাস্কর্যের উপর থেকে একেবারে নীলক্ষেত পর্যন্ত, যতোদূর চোখ যায় দুপাশে একসময় ফুটে থাকত জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া আর সোনালু ফুলে । আমরা সেই ফেব্রুয়ারি শেষ থেকে এই এপ্রিল পর্যন্ত প্রায়ই রাজুতে এস এই পথের দিকে চেয়ে থাকতাম পশ্চিম দিকে । আর চোখের সামণে গাছগুলো বেগুণি হলুদ আর লাল হয়ে থাকত । এই রঙ এর রকছড়িয়ে থাকার রকমটা ছিল বেশ মজার । জারুল গাছগুরো বেশী বড় হয়না, মানে কৃষ্ণচূড়ার মতন । তাই এদের স্তর বিন্যাস হতো এইভাবে যে নিচে পুরো গাছগুরো জারুলের বেগুণি রং এ ছেয়ে থাকত আর তার উপরে থেকে কৃষ্ণচূড়ার লাল । এই লালা বেগুণির মাঝে থেকে থেকে হলুদ পাওয়া যেত । হয় রাধাচূড়া কিংবা সোনালু গাছ হলুদ হয়ে থাকত । ক্যাম্পাসে জারুল আর কৃষ্ণচূড়া অগণিত কিন্তু সেই তুলনায় রাধাচূড়া আর সোনালু কম ।
আরেকটা মজার ব্যাপার ছিল, বৃষ্টি হলেই জারুলের রঙ ফ্যামাসে হয়ে যেত । অনেকটা কাপড়ের রঙ জ্বলে গেলে যেমন হয় । বৃষ্টিতে জারুলের রং ধুয়ে যায় । খেয়াল করলে দেখা যায় বৃষ্টির পানির সাথে রং ধুয়ে যাচ্ছে । মাঝে মাঝে মনে হতো কেউ রং ছিটিয়ে দিয়ে গাছ গুরো বেগুণি করেছে আর বৃষ্টিতে সে রং মুছে যাচ্ছে ।
এখন দেখলাম বেশ কিছু জারুল, সোনালু আর কৃষ্ণচূড়া ফুটে আছে । তবে বোধহয় মৌসুম শেষ তাই একেবারে রঙ্গীন ক্যাম্পাস পেলাম না । আগামী মৌসুমে নিশ্চয়ই দেখতে পাবো জারুল কৃষ্ণচূড়ায় ঢাকা ক্যাম্পাস ।

 

 

  • ২১ টি মন্তব্য
  • ১৯৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৭ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ১:৫২
comment by: শিমুল বলেছেন: আপনি আর একটুও দেরি করবেন না, দ্রুত আমার বাসায় ঘুরে যান। ভালো লাগবে। জারুল নিয়ে আমার একটা ছোট্ট লেখা আছে আপনাকে উৎসর্গ করা হোল।
২. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ১:৫৯
comment by: রাহা বলেছেন: ধন্যবাদ ... ভাই এটা কেমন কথা হলো , দাওয়াত দিলেন মাগার বাসার ঠিকানা দিলেন না ?? আমার মেইল এড্রেস মেইল কইর্যা দিয়েন.... হাহাহা
৩. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ১:৫৯
comment by: একরামুল হক শামীম বলেছেন: নষ্টালজিকতায় ধরলো।
পরিচিত স্থানগুলো নিয়ে লেখায় আরো ভালো লেগেছে।
৪. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ২:০৪
comment by: শিমুল বলেছেন: আমি লাইনেই আছি আমার ব্লগে যান। লেখাটা সেখানেই আছে
৫. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ২:০৮
comment by: ৈকলাশ বলেছেন: পুরান কথা মনে করায়া দিলেন রাহা।
ভাল লিখছেন
৬. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ২:১৩
comment by: রাহা বলেছেন: ধন্যবাদ, মাঝে মাঝে পুরোন কথা মনে হলে ক্ষতি কি ??
কৈলাশ@ আপনি কি সাংবাদিকতা করেন ??
৭. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ২:১৪
comment by: তারার হাসি বলেছেন: আজ আমি চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরে যাচ্ছিলাম। পথের ধারে দেখছিলাম মুগ্ধ হয়ে এই গাছ গুলির সৌন্দর্য।
এত বেশী ভাল লাগছিল ! এখন সেই ভাললাগাটা আরো পূর্ণ হল।
অনেক ধন্যবাদ।
৮. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ২:১৯
comment by: ৈকলাশ বলেছেন: রাহা - নারে ভাই। কম্পু মিস্তিরি, ইগলুর দেশে থাকি।
ঢাবি'তে আমার ফজলুল হক হলে এট্যাচ ছিল, বাসা ক্যাম্পাসের আশে-পাশেই :)

০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ৩:৫৬

লেখক বলেছেন: আমিও ওই হলেই আছিলাম, প্রায় দশ বছরই বলা যায় এবং মেইন বিল্ডিং য়েই.....

৯. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ২:২৪
comment by: ৈকলাশ বলেছেন: কৃষ্ণচূড়া
১০. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ২:২৫
comment by: ৈকলাশ বলেছেন:
জারুল


সোনালু


০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ৩:৫৭

লেখক বলেছেন: ছবির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ, এমন যুতসই ছবিই খুজছিলাম পোস্টের জন্য ।

১১. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ৩:১৯
comment by: নিঃশব্দ শিশির! বলেছেন: নস্টালজিয়া।
ভালো লাগলো। ভাবিও কি ঢাবির স্টুডেন্ট।
০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ৩:৫৮

লেখক বলেছেন: হুম.....

১২. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ৩:২৬
comment by: বিবর্তনবাদী বলেছেন: আপনাকে হাজারটা সালাম। দিনে যখনই ক্যাম্পাসের এই অংশটা দিয়ে নীলক্ষেত যাই মনটা নেচে ওঠে। অনেক দিন ধরেই এ নিয়ে লিখব লিখব ভাবছি, কিন্তু লেখা হয়ে উঠছে না।

অনেক ধন্যবাদ। বাই দ্যা বাই, ভাবিও কি ঢাবির??
১৩. ০৩ রা মে, ২০০৮ রাত ৩:২৬
comment by: সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: নষ্টালজিয়া..........ভালো লাগলো।
কৈলাশ ......আপনার দেয়া ছবিগুলো সুন্দর।
শুভেচ্ছা থাকলো আপনাদের জন্য।
১৪. ০৩ রা মে, ২০০৮ সকাল ৯:৫১
comment by: পুষ্প বলেছেন: সবার কাছেই ক্যান্পাসের অনেক মজার স্মৃতি শুনেছিলাম ,আমার চোখে সবকিছু এত বিবর্ণ কেন লাগছে বুঝতে পারছি না।মাত্র কয়দিন হল ভার্সিটিতে ঢুকলাম ,সবকিছু ভয়ন্কর অসহ্য লাগছে।
০৪ ঠা মে, ২০০৮ রাত ২:০২

লেখক বলেছেন: হুমম... কয়েকদিন লাগবে ধাতস্ত হতে.. তারপর আমাদের মতোই মনে হবে....

১৫. ০৩ রা মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৪
comment by: আলী বলেছেন: আগামী মৌসুমে নিশ্চয়ই দেখতে পাবো জারুল কৃষ্ণচূড়ায় ঢাকা ক্যাম্পাস ।
০৪ ঠা মে, ২০০৮ বিকাল ৩:২৫

লেখক বলেছেন: সে আশাতেই তো মানুষ বাচেঁ.....

১৬. ১০ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৩১
comment by: বাকী বিল্লাহ বলেছেন: ভাল লিখছ।

 



 


rahablog@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১০০৬৭৪