বলা যায়, দুহাতের সবকয়টা আঙ্গুল গুনে বলা যায় পাক্কা দশ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কাটিয়েছি । একবারে ঘোর যৌবন পার করেছি এই চত্বরে । নাওয়া নেই খাওয়া নেই ....... সারাদিন থেকে একবারে মধ্য রাত অব্দি পার করেছি ক্যাম্পাসে, তারপর যখন ক্লান্তি চোখ জড়িয়ে আসতো , আস্তে আস্তে ফিরতে শুরু করতাম হলে ..... চানখারপুলে সোহাগে রাতের খাবার সেরে তারপর ধীরে ধীরে হলে ফেরা । ফিরতে ফিরতে অনেক সময় উষার আলোকে সাথে নিয়ে রুমে ফেরা ।
ফিরতাম বিজ্ঞানবিভাগের হলে আর সারাদিন আর অর্ধেক রাত কিন্তু কেটে যেত টিএসসি কলাভবন আর লাইব্রেরি সামনে কিংবা আইবিএ ক্যান্টিনে ঘুরে ফিরে । আর বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়া থাকার জন্য তাই বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ হলেই ফিরতে হতো । এদিকেও যে রাত পার করা যায়না তা নয়,,, কিন্তু এই ঘুমের বেলাতেই আমি কোন আপোষ এ রাজি ছিলাম না । যাই হোক নিজের ঘুমের জায়গায় যেয়ে আমি ঘুমাতে চাই ।
সেই ক্যাম্পাস এ এখন হুট করে নিজেকে অচেনা মনে হয় । বেশীদিন না মাত্র বছর দুই হলো , ক্যাম্পাস ছেড়ে এসেছি । ক্যাম্পাস ছেড়ে খুব বেশিদূরে যেতে পারিনি , ক্যাম্পাসের আশে পাশেই থাকি । ঘুম থেকে উঠে কিংবা ঘুমাতে যাবার আগে ক্যাম্পাস দেখি, আমার ব্যালকনি থেকে ।
সেই ক্যাম্পাস আজ অনেকদিন পর বউসহ গেলাম । উদ্দেশ্য ক্যাম্পাসের ফুলগুলো দেখতে যাওয়া । রাজু ভাস্কর্যের উপর থেকে একেবারে নীলক্ষেত পর্যন্ত, যতোদূর চোখ যায় দুপাশে একসময় ফুটে থাকত জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া আর সোনালু ফুলে । আমরা সেই ফেব্রুয়ারি শেষ থেকে এই এপ্রিল পর্যন্ত প্রায়ই রাজুতে এস এই পথের দিকে চেয়ে থাকতাম পশ্চিম দিকে । আর চোখের সামণে গাছগুলো বেগুণি হলুদ আর লাল হয়ে থাকত । এই রঙ এর রকছড়িয়ে থাকার রকমটা ছিল বেশ মজার । জারুল গাছগুরো বেশী বড় হয়না, মানে কৃষ্ণচূড়ার মতন । তাই এদের স্তর বিন্যাস হতো এইভাবে যে নিচে পুরো গাছগুরো জারুলের বেগুণি রং এ ছেয়ে থাকত আর তার উপরে থেকে কৃষ্ণচূড়ার লাল । এই লালা বেগুণির মাঝে থেকে থেকে হলুদ পাওয়া যেত । হয় রাধাচূড়া কিংবা সোনালু গাছ হলুদ হয়ে থাকত । ক্যাম্পাসে জারুল আর কৃষ্ণচূড়া অগণিত কিন্তু সেই তুলনায় রাধাচূড়া আর সোনালু কম ।
আরেকটা মজার ব্যাপার ছিল, বৃষ্টি হলেই জারুলের রঙ ফ্যামাসে হয়ে যেত । অনেকটা কাপড়ের রঙ জ্বলে গেলে যেমন হয় । বৃষ্টিতে জারুলের রং ধুয়ে যায় । খেয়াল করলে দেখা যায় বৃষ্টির পানির সাথে রং ধুয়ে যাচ্ছে । মাঝে মাঝে মনে হতো কেউ রং ছিটিয়ে দিয়ে গাছ গুরো বেগুণি করেছে আর বৃষ্টিতে সে রং মুছে যাচ্ছে ।
এখন দেখলাম বেশ কিছু জারুল, সোনালু আর কৃষ্ণচূড়া ফুটে আছে । তবে বোধহয় মৌসুম শেষ তাই একেবারে রঙ্গীন ক্যাম্পাস পেলাম না । আগামী মৌসুমে নিশ্চয়ই দেখতে পাবো জারুল কৃষ্ণচূড়ায় ঢাকা ক্যাম্পাস ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

