somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন শ্বাশ্বত সত্যর জন্য এক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ই যথেষ্ট

০৬ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্বাশ্বত সত্য । রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অসুস্থ শিক্ষার্থী । বাচতে প্রয়োজন এই মুহুর্তে সম্ভবতঃ ২৫ লক্ষ টাকা । বিষয়টা দেখার পর খুব একটা গা করিনি । গা করিনি এই জন্য যে টাকার অংকটা তখন ছিল মাত্র ১৬ লক্ষ এবং সেই ১৬ লক্ষ টাকা উঠাতে এক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ই যথেষ্ট ভেবেছি । কেননা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে এমন ভেবেছি । এমন কি এই ব্লগের প্রাপ্তির জন্য তো ব্লগাররা পেরেছে , তবে ওরা পারবেনা কেন??

সম্মিলিত প্রয়াসে একজন বাচাতে এগিয়ে আসার নজির এটা প্রথম নয় । বর্তমানে এমন নজির ভুরি ভুরি । আমি ব্যক্তিগতভাবে ১৯৯৮ সালে আমার কলেজের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের জন্য কনসার্ট আয়োজন থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এমন কি শিক্ষার্থদের মাকে বাচানোর স্বেচ্ছাসেবী কাজে সম্পৃক্ত থেকেছি । সেই সবগুলো ঘটনাই শতভাগ সফল হয়েছে । অসুস্থ সুস্থ হয়েছে একটি ছিল ব্যতিক্রম ফিজিক্সের একটি ছেলে ছাড়া । তবে সে টাকার অভাবে নয় বরং চিকিৎসার শেস পর্যায়ে আমাদের ছেড়ে চলে যায় । সেটা ভিন্ন প্রসংগ ।

যখন শ্বাশ্বত সত্যের বিষয়টা জানলাম তখন আরো খোজ নিয়ে দেখলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ । এবং সেই মুহুর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও । তাই
আগেপিছে না ভেবে সম্পৃক্ত হয়ে যাই শ্বাশ্বত সত্যের জন্য । কিন্তু কাজকর্ম শুরু করার পর থেকেই যে বিষয়টি দেখছি তা হলো পুরো বিষয়টি সম্বন্বয়ের প্রচণ্ড অভাব । তার একমাত্র কারণ বোধহয় শ্বাশ্বত-এর জন্য এই উদ্যোগ-এর অভিভাবকহীনত্য । এরকম যেকোন একটি উদ্যোগে চাই একটি নিঃস্বার্থভাবে দলবদ্ধ অংশগ্রহন আর তাদের সম্বন্বয় । কিন্তু পুরো বিষয়টি সেই দল এর প্রচণ্ড অভাব অনুভূত হয়েছে । আমরা যারা পুরো বিষয়ের সাতে সরাসরি সম্পৃক্ত নই তারা যেকোন উদ্যোগ নেবার সময় দ্বিধান্বিত হই কেননা তার অভিভাবক সুলভ শিক্ষক প্রতিনিধির সেবিষয়ে সায় আছে কিনা । কেননা তিনি শুরু থেকেই নিজে যেমন দ্বিধাগ্রস্ত ঠিক তেমনিভাবে অন্যদেরও দ্বিধার মধ্যে ফেলেছেন পদে পদে । এমন কি যে লেখাটি একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে সেখানকার তথ্য গুলো ও সুবিনস্ত্য নয় । অনেকটা রাজনিতিক দলের ঘোষনাপত্র । অথচ যে শিক্ষকদের নাম সেই লেখার সাথে প্রকাশ পেয়েছে যাদের অনেককেই আমরা খুবই শ্রদ্ধার মানুষ । কিন্তু কেন এরকম ঘটছে ??

অথচ একজন শ্বাশ্বতকে বাচাতে একটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ই যথেষ্ট । রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ২৫০০০ । এই ২৫০০০ শিক্ষার্থীর ২৫০০০০০ টাকা তোলা খুবই কঠিন কাজ কি ?? আমি মনে করি না । বিশ্বাস করিনা (পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি)। তার বাইরে রয়েছে কয়েক লক্ষ পাশ করা শিক্ষার্থী । আরো রয়েছেন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী । তবে কেন এই উদ্যোগটি বারবার হোচট খাচ্ছে ?? তবে কি গোড়ায় ঘাটতি ?? হতে পারে । যদি তাই হয় এখন সময় আছে নিজেদের গুছিয়ে নেবার । লক্ষ্য একটাই হওয়া উচিত যে শ্বাশ্বতকে বাচানো । প্রয়োজনে যেকোনভাবেই হোক সেই উদ্যোগ যেন একপেশে, নিদিষ্ট ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয় । উদ্যোগটি হতে হবে সার্বজনীন যেখানে সবাইকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব ।
আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কিন্তু তাই মনে হচ্ছে বিষয়টি এখনও সম্মিলিত উদ্যোগ নয় ।
তাই বিনীত অনুরোধ যারা শ্বাশ্বত সত্য এর জন্য দাড়িয়েছেন তাদের আরেকটু বুক টান টান করে দাড়াতে হবে , আরো দায় মাথায় নিতে হবে এবং পুরো উদ্যোগ গুলোকে সম্বন্বিত করতে হবে । কোনভাবেই যেন এই উদ্যোগ কারো একার কৃতিত্ব-র জন্য না হয় কিংবা একজনের কর্তৃত্বে না হয় । কিংবা কর্তৃত্ব-বিরোধীদের মোর্চার মতন যেন উদ্যোগটি ভেস্তে না যায় ।
আপনাদের সম্মিলিত প্রয়াসই কেবল আমাদের সংগঠিত করতে পারে উদ্বুদ্ধ করতে পারে । আপনাদের (বিশেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের) বিশেষ বিবেচনাবোধ প্রত্যাশা করি ।

পুনশ্চঃ দয়া করে কেহ বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে নিবেন না । কাউকে আঘাত করার জন্য কিঙবা উপদেশ দানের জন্য পোস্টটি নয় । কোন ভুলভ্রান্তি ক্ষমাসুলভদৃষ্টি দেখুন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ২:১৭
১৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×