সম্মিলিত প্রয়াসে একজন বাচাতে এগিয়ে আসার নজির এটা প্রথম নয় । বর্তমানে এমন নজির ভুরি ভুরি । আমি ব্যক্তিগতভাবে ১৯৯৮ সালে আমার কলেজের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের জন্য কনসার্ট আয়োজন থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এমন কি শিক্ষার্থদের মাকে বাচানোর স্বেচ্ছাসেবী কাজে সম্পৃক্ত থেকেছি । সেই সবগুলো ঘটনাই শতভাগ সফল হয়েছে । অসুস্থ সুস্থ হয়েছে একটি ছিল ব্যতিক্রম ফিজিক্সের একটি ছেলে ছাড়া । তবে সে টাকার অভাবে নয় বরং চিকিৎসার শেস পর্যায়ে আমাদের ছেড়ে চলে যায় । সেটা ভিন্ন প্রসংগ ।
যখন শ্বাশ্বত সত্যের বিষয়টা জানলাম তখন আরো খোজ নিয়ে দেখলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ । এবং সেই মুহুর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও । তাই
আগেপিছে না ভেবে সম্পৃক্ত হয়ে যাই শ্বাশ্বত সত্যের জন্য । কিন্তু কাজকর্ম শুরু করার পর থেকেই যে বিষয়টি দেখছি তা হলো পুরো বিষয়টি সম্বন্বয়ের প্রচণ্ড অভাব । তার একমাত্র কারণ বোধহয় শ্বাশ্বত-এর জন্য এই উদ্যোগ-এর অভিভাবকহীনত্য । এরকম যেকোন একটি উদ্যোগে চাই একটি নিঃস্বার্থভাবে দলবদ্ধ অংশগ্রহন আর তাদের সম্বন্বয় । কিন্তু পুরো বিষয়টি সেই দল এর প্রচণ্ড অভাব অনুভূত হয়েছে । আমরা যারা পুরো বিষয়ের সাতে সরাসরি সম্পৃক্ত নই তারা যেকোন উদ্যোগ নেবার সময় দ্বিধান্বিত হই কেননা তার অভিভাবক সুলভ শিক্ষক প্রতিনিধির সেবিষয়ে সায় আছে কিনা । কেননা তিনি শুরু থেকেই নিজে যেমন দ্বিধাগ্রস্ত ঠিক তেমনিভাবে অন্যদেরও দ্বিধার মধ্যে ফেলেছেন পদে পদে । এমন কি যে লেখাটি একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে সেখানকার তথ্য গুলো ও সুবিনস্ত্য নয় । অনেকটা রাজনিতিক দলের ঘোষনাপত্র । অথচ যে শিক্ষকদের নাম সেই লেখার সাথে প্রকাশ পেয়েছে যাদের অনেককেই আমরা খুবই শ্রদ্ধার মানুষ । কিন্তু কেন এরকম ঘটছে ??
অথচ একজন শ্বাশ্বতকে বাচাতে একটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ই যথেষ্ট । রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ২৫০০০ । এই ২৫০০০ শিক্ষার্থীর ২৫০০০০০ টাকা তোলা খুবই কঠিন কাজ কি ?? আমি মনে করি না । বিশ্বাস করিনা (পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি)। তার বাইরে রয়েছে কয়েক লক্ষ পাশ করা শিক্ষার্থী । আরো রয়েছেন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী । তবে কেন এই উদ্যোগটি বারবার হোচট খাচ্ছে ?? তবে কি গোড়ায় ঘাটতি ?? হতে পারে । যদি তাই হয় এখন সময় আছে নিজেদের গুছিয়ে নেবার । লক্ষ্য একটাই হওয়া উচিত যে শ্বাশ্বতকে বাচানো । প্রয়োজনে যেকোনভাবেই হোক সেই উদ্যোগ যেন একপেশে, নিদিষ্ট ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয় । উদ্যোগটি হতে হবে সার্বজনীন যেখানে সবাইকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব ।
আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কিন্তু তাই মনে হচ্ছে বিষয়টি এখনও সম্মিলিত উদ্যোগ নয় ।
তাই বিনীত অনুরোধ যারা শ্বাশ্বত সত্য এর জন্য দাড়িয়েছেন তাদের আরেকটু বুক টান টান করে দাড়াতে হবে , আরো দায় মাথায় নিতে হবে এবং পুরো উদ্যোগ গুলোকে সম্বন্বিত করতে হবে । কোনভাবেই যেন এই উদ্যোগ কারো একার কৃতিত্ব-র জন্য না হয় কিংবা একজনের কর্তৃত্বে না হয় । কিংবা কর্তৃত্ব-বিরোধীদের মোর্চার মতন যেন উদ্যোগটি ভেস্তে না যায় ।
আপনাদের সম্মিলিত প্রয়াসই কেবল আমাদের সংগঠিত করতে পারে উদ্বুদ্ধ করতে পারে । আপনাদের (বিশেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের) বিশেষ বিবেচনাবোধ প্রত্যাশা করি ।
পুনশ্চঃ দয়া করে কেহ বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে নিবেন না । কাউকে আঘাত করার জন্য কিঙবা উপদেশ দানের জন্য পোস্টটি নয় । কোন ভুলভ্রান্তি ক্ষমাসুলভদৃষ্টি দেখুন ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

