যে লুংগিটি পরে জনাব ফরহাদ মজহার এলিটদের ক্লাব "ঢাকা ক্লাব" এ গিয়েছিলেন সেটা কোন কোম্পানীর লুংগি আমার জানা নেই । সেই লুংগি কোম্পানী অথবা অন্যকোন লুংগি কোম্পানীর মডেল হিসেবে জনাব মজহার অদ্বিতীয় । কেননা তার মতো সুশীল ব্যক্তি লুংগি পরেন এবং সেই লুংগি পরে ঘরে বাইরে সবর্ত্র যাতায়াত করছেন, তিনিই তো আসলে প্রকৃত পক্ষে লুংগির মডেল । আর বদন্যতাতেই আজ লুংগির মতোন আটপৌরে পোষাকের আজ এতো কদর!!!
ফরহাদ মজহার স্টার মানুষ । তিনি দেশের বিশিষ্ট জন। তিনি বহুগুণে গুণান্বিত । তার সেই গুণের ভেলা ভাসিয়ে অকুল পাথারে যাবার দরকার নেই । তিনি দেশের একজন বিখ্যাত মানুষ। তিনি আমাদের মতন সাধারণ মানুষ নন । তিনি যে বিশিষ্ট এবং সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা সেটা প্রকাশ তিনি সর্বদাই সচেষ্ট । ধরুন তার নামের বানান খানাই । আমাদের দেশের বহু মানুষের নামের একটি অংশ তার নামের সাথে জোড়া থাকলেও যে তিনি তাদের মাঝে আলাদা তা তার নামের বানানের শ্রী দেখলেই বোঝা যায় । দেশের হাজার হাজার মাজহারের মাঝে তিনি হয়ে গেলান "মজহার"!! সেই আলাদা হবার শখ কিংবা নেশা, আলোচনার কেন্দ্রে থাকবার প্রচেষ্টা তার নতুন কোন ঘটনা নয় । আর ঢাকা ক্লাবের যে ঘটনা তাতে আহলাদিত অনেকেই দেখছি "ঢাকা ক্লাব"-এর এলিটদের চেদ্দৌগুষ্টি উদ্ধারে ব্যস্ত । কিন্তু এই ফরহাদ মজহার কি সেই এলিটদের থেকে আলাদা ?? তিনিও কি সেই এলিটদেরই প্রতিনিধি নন??
ঢাকাক্লাবের যে অনুষ্ঠানে তিনি আমন্ত্রিত ছিলেন সেটা তো নেহাত একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান । অর্থাৱ তিনি তার পরিবারের কোন একটি এলিটের একটি পার্টিতে যোগদানের জন্য গিয়েছিলেন ।সেই অনুষ্ঠানের আয়োজক কিংবা আমন্ত্রিত কারোরই অজানা থাকবার কথা নয় ঢাকাক্লাবের ড্রেসকোড-এর বিধানটি । তবে কি তিনি জেনেশুনে এবং বুঝেই এমন ঘটনার জন্ম দিতে আগ্রহী ছিলেন (এবং সাথে ছিল মিডিয়া, কেননা তার এই পারিবারিক অনুষ্ঠানতো আর যাই হোক মিডিয়া কভারের মতো ছিল না !!) নাকি তিনি ভেবেছিলন তিনি ফরহাদ মজহার, তার ক্ষেত্রে ড্রেসকোড পরিহার্য নয় ।
আর ঢাকা ক্লাবে লুংগি পরে প্রবেশ করতে পারলেই আপনি এলিটের দুর্গে আঘাত হানতে পারবেন ?? কিন্তু তার আগে একটি কথা , সেখানে প্রবেশের আগে তো আপনাকেও মজহারদের মতোন এলিট হতে হবে কিংবা সেই এলিট ক্লাবের সদস্য পদ কিনতে হবে!! তাই সেই এলিটদের লুংগি-গুঞ্জি নিয়ে আমাদের হাহাকার আর সেই লুংগি পরে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন তবে কতখানি অবান্তর, একবার সেটাই ভাবুন না!!
সমাজ সভ্যতার ক্রম বিকাশেই একদিনের নগ্ন মানুষ আজ পোষাক পরিচ্ছদে আবৃত । আর সেই পোষাক পরিচ্ছদের ব্যবহারবিধিও মানুষ সময়ের আবর্তে নিজেদের মতন করে সাজিয়ে নিয়েছে । তাই সেই নিয়মের আওতাতেই আমরা ঘরের আর বাহিরের পোষক, ঘুমানোর পোষাক এমনতর নানা রকম পোষাকের ব্যবহার করি । (অবশ্য এই পোষাক আলোচনা যার লজ্জা নিবারণের জন্য এক প্রস্হই পোষাক কিংবা তাও নেই তাদের জন্য প্রযোজ্য নহে) কিন্তু তারপরও আমি ঘরের হাফপ্যান্ট বাইরে পরি যদি তা ফ্যাশনের আওতায় আসে কিংবা সদ্য প্রয়াতও জ্যাকসনের মতন আপনি আপনার অর্ন্তবাস প্যান্টের উপরই পরতে পারেন । তবে সেটা পরিধানে আগেই ভেবে রাখা ভালো যে আপনি জ্যাকসন নন। আর সেটা পরিধানের পর যদি কোন সহৃদয়বান আপনাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করতে উদ্যত হয় তবে তাকে দোষ দেয়া যায় না ।
মজাহারের লুংগি ফ্যাশন কিংবা প্যান্টের উপর জ্যাকসনের অর্ন্তবাস , এর কোনটাই আমাদের মতন জনসাধারণের জন্য প্রযোজ্য নয় ।
মজহারের লুংগি কিংবা জ্যাকসনের অর্ন্তবাস-রাহা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

