somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিজ্ঞাপনে ঢেকে যায় মুখ, বিজ্ঞাপনে ঢেকে যায় প্রাণ স্পন্দন আর আমাদের সেই কর্পোরেট রঙ্গ দেখেই সুখ

২২ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১.
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টা একসময় সবুজে সবুজ ছিল । ফাগুনে আগুন হয়ে যেত পুরো ক্যাম্পাস, আর এখন এই ফাগুনের শেষে এই প্রখর চৈত্রে মরা গাছ গুলোতে ধীরে ধীরে শুরু হয়ে যেত সবুজের, নবীনের প্রাণের উৎসব । আমরা সবাই মিলে, আমরা সবাই খুঁজতাম-গুনতাম কত রকম সবুজ রঙ । এই এক সবুজের কত প্রকার ?? কোথাও কালচে সবুজ, কলা পাতা সবুজ, প্যারোট সবুজ, আফলাতুন সবুজ... একসময় আমাদের শব্দের ভান্ডার ফুরিয়ে যেত কিন্তু সবুজের বাহার ফুরাতো না ....
খুব বেশীদিন সময় পেরুয়নি হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় বর্ষ হবে তার আগেই দেখি আর সবুজ, আর ফাগুনের রং আর জারুলের বেগুনি চোখে পড়ে না, চোখ ঢেকে গেছে বিজ্ঞাপনে, মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে....আমাদের ক্যাম্পাসের মালিক তখন বিলবোর্ডের কল্যাণে সকল কর্পোরেট ওয়ালারা । আর প্রতিবাদ জানাই, কর্পোরেট আগ্রাসনের প্রতিবাদ, তাদের সেই বিলবোর্ড গুলোতে কালো রঙ ঢালি কিন্তু তাদের অতো বড় বিজ্ঞাপনে রঙ ঢালার পয়সা যে আমাদের নেই !!! আমাদের সেই প্রতিবাদে আচড় পড়ে সেই জড় বিলবোর্ড গুলোর গায়ে কিন্তু তার বিন্দুমাত্র আচড় লাগে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা কর্পোরেট ওয়ালাদের গায়ে , দুদিন চুপচাপ থাকার পর আবার সেই বিলবোর্ডে চড়ে নতুন রঙ্গীন বিজ্ঞাপনে । সেই বিজ্ঞাপনের রঙচঙ যেন আমাদের ব্যঙ্গ করে । সেই পর্বত সমান বিজ্ঞাপনের নীচে দাড়িয়ে নিজেকে বড্ড ছোট মনে হয়, তুচ্ছ মনে হয়, আমরা অসহায়বোধ করি...
২.
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টা একসময় আমাদের ছিল । আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টা একসময় সবুজে সবুজ ছিল ।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টা এখন আর আমাদের নেই, সেই সবুজ নেই । বিজ্ঞাপনে ঢেকে গেছে মুখ, বিজ্ঞাপনে ঢেকে গেছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ স্পন্দন ... শুধু কি তাই এখন সেই পর্বত সমান কর্পোরেটদের পর্বত সমান বিজ্ঞাপনের নিচে চাপা পড়ে জীবন, থেমে যায় প্রাণ স্পন্দন । আর আমরা সেই কর্পোরেট রঙ্গ দেখেই সুখের আবেশ নিয়ে সবুজ হই, দেশপ্রেমিক হই , খুঁজে পাই বিজ্ঞাপনে ঢাকা স্বদেশের মুখ !!!
১৮টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঝুম বৃষ্টির রাতে বার্বিকিউ

লিখেছেন ফেরদৌসা রুহী, ৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৭:০৭



বার্বিকিউ করাটা আমার কাছে এত সহজ না, একটা প্রস্তুতির ব্যাপার আছে। আর আমাদের বাসাতেই যেহেতু মিনি বাংলাদেশ তাই প্রস্তুতিও বড় করেই নিতে হয়। মাঝে মাঝেই আমরা শনিবার রাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবোল তাবোল

লিখেছেন প্রামানিক, ৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৮:৩৯


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

কাদায় পড়লে হাতি
চামচিকাতেও মারে নাকি উল্টাপাল্টা লাথি।

এক ছটাক নাই জ্ঞান
তারাও দেখি চ্যালেঞ্জ করে কোরান আর বিজ্ঞান।

ভয়ে পড়ে কাঁপি
অধার্মিকরা জোরসে বলে ধার্মিক নাকি পাপী।

দেখলাম যাদের পাজি
বৃদ্ধকালে তাড়াই দেখি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ফটোগ্রাফি

লিখেছেন ইতি সামিয়া, ৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১২:০৪

ফটোগ্রাফি বিষয়টি ঠিক কবে আমার মাথায় এসেছিল মনে করতে পারছিনা, ছোট থাকতে দেখতাম বড় ভাই বোন ক্যামেরায় রিল ভরে যার যার নিজের ছবি তোলে, (তখন মোবাইল ক্যামেরা অথবা ডিজিটাল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দরবনে রামপাল বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপনে কার বেশি লাভ হবে ? =p~ =p~ =p~

লিখেছেন হাকিম৩ , ৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১:০৫


এক দল ভন্ড প্রোপাগান্ডা মানুষদের দাবী যে সুন্দরবনে হয়ে মংলা বন্দরে প্রতি দিন শত শত জাহাজ আসা যাওয়া
করছে তাতে সুন্দরবনের ক্ষতি যখন হয় নাই তাহলে রামপাল বিদুৎ কেন্দ্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইহুদীরা নাকি "অভিশপ্ত" ? Hypocrisy thy name is...

লিখেছেন বাবুরাম সাপুড়ে১, ৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:২৫

কয়েকদিন আগে এই ব্লগে ইহুদীরা “অভিশপ্ত” ইত্যাদি প্রভৃতি নিয়ে একটা পোস্ট দেখলাম। সেই পোস্ট টি কয়েকশত বার পঠিত , "লাইক" ও রয়েছে কয়েকটা। কমেন্ট সেকশনে এক ব্লগারের উক্তি "ভয়াবহ রকম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×