একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । যদিও অনেকেরই সন্দেহ ছিল আওয়ামী লীগ স্রেফ ভোটের রাজনীতির জন্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বুলি আওরায় । একটি প্রক্রিয়া শুরুর পর অন্ততঃ সন্দেহ বাতিকদের সন্দেহ ঘুচানোর কথা । অবশ্য যারা স্রেফ সমালোচনাই করতে জানেন তাদের মনের সন্দেহ কোনভাবে দূর হবার নয় । এই প্রক্রিয়া শুরুর সাথে সাথে কিছু প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে ।
দেশের অধিকাংশ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার । এ সময়ে দেশের সবখানে, ঘরে-বাইরে, ব্লগে-বন্দরে , পত্রিকা-টেলিভীশনে সর্বত্র আলোচ্য বিষয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল সেই অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া এবারই কিন্তু প্রথম নয় । মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সরকার সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল । কিন্তু শেষ হয়নি । তারা রক্ষা পেয়েছিল । কিভাবে তারা রক্ষা পেয়েছিল কিংবা কারা কিভাবে তাদের রক্ষা করেছিল তা এখন ইতিহাস । ইতিহাস জানতে আগ্রহীরা একটু খোঁজ-খবর নিলেই সেটা জানতে পারবেন ।
১৯৭১ পরবর্তি সময় যুদ্ধাপরাধীরা (যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছিল) যদি রক্ষা পেয়ে যায় তবে এবারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকেও তারা রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করবে । আর তারা রক্ষা পেতেও মরিয়া হয়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সময়ে এইসব যুদ্ধাপরাধীদের স্বজনরা ছাড়া আপনজন কেউ ছিল না । আর ছিল তাদের পাকিস্থানী আব্বা ও তাদের বৈদেশিক বন্ধুরা । কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন । দীর্ঘদিন ধরে তারা রাজনীতে পুর্ণবাসিত । তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা আছে, যারা সেই ১৯৭৬ সন থেকে এক অপরে আষ্টে-পিষ্ঠে বাঁধা। আছে তাদের মগজধোলাই করা ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। আছে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত-পালিত উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদীরা । আর বিদেশী বন্ধু আর পেট্রোডলার তো থাকছেই ।
১৯৭৫ সালের পর থেকে এদেশে জামাত-শিবির রাজনীতি শুরু করেছে আবার । তখন থেকে তারা একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে । ১৯৭১ সালে পরাজয়ের জ্বালা মেটাতে তারা বদ্ধ পরিকট । সেই লক্ষে সমাজের সর্বস্তরে তারা নিয়োগ করেছে তাদের মতাদর্শের নিজস্ব লোকজন । সেটা সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে সকল সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে । এককথায় তাদের রয়েছে একটি পরিপূর্ণ কাঠামো । যে কাঠামো পূর্ণনিমার্ণ শুরু হয়েছে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে । যারা এখন রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নানা পেশায় এবং পদে । যাদের অনেকেই সম্পূর্ণ রূপে বর্ণচোরা । তারা তাদের নেতাদের বাচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে । প্রয়োজনে তারা অর্ন্তঘাতমুলক তৎপরতা চালাতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধান্বিত হবে না ।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সদর্ভে বিরোধিতাকারী এই রাজনৈতিক দল জামাতী ইসলামের উপরের সারির বেশির ভাগ নেতাই ফেঁসে যাবে । নিজেদের জীবন বাচাতে মরিয়া এই নেতারা । যাদের রাজনৈতিক জীবনে মানুষের রক্তের দাগ লেগে আছে । হত্যা-ষড়যন্ত্র যাদের রাজনীতিরই অংশ । তারা কি নিজেদের রক্ষা করতে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে না ?? আর তাদের তৈরী সমাজের বিভিন্নস্তরের পেশাজীবি বর্ণচোররা আপ্রাণ চেষ্টা করবে না ??
জামাত-শিবির তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব যখন সংকটের মুখে মনে করছে তখন তারা নিজেদের রক্ষা করতে যেকোন কিছুই করতে পারে । যে প্রক্রিয়াতেই হোক তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে বানচাল করার চেষ্টা করবে । সেটাই স্বাভাবিক । এবার যুদ্ধাপরাধীরা রক্ষা পাবে কি করে?? যুদ্ধাপরাধীদের কিংবা তাদের রক্ষকদের(তথা শুভাকাঙ্ক্ষীদের) সম্ভাব্য পরিকল্পনা আর কর্মপন্থা কি হতে পারে?? আপনাদের সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশা করি । কেননা তাদের সম্ভাব্য পরিকল্পনা তথা কর্মপন্থা যদি আমরা কোনভাবে আন্দাজ করতে পারি আর জনগনকে জানাতে পারি তবেই জনগণ বিভ্রান্ত হবে না । কারণ সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এমন কি মিথ্যা ভয় দেখাতে তারা পারদর্শী । মনে রাখতে হবে, ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করেই, ভয় দেখিয়েই তারা তাদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটে । নিজের স্বার্থে জামাত কি করতে পারে সেটা হয়তো আমাদের কল্পনারও অতীত । তবে মোটা দাগে সহজ করে বলা যায় এই সরকারকে যেকোনভাবেই হোক উৎখাত করতে পারলেই তাদের চলবে। তাই সরকারকে যেকোনভাবেই হোক জনপ্রিয়হীন করতে পারলে কিংবা জনগনকে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ করতে পারলেই , যেকোন ইস্যুতে একটি চরম আন্দোলন করতে পারলেই কেবল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে একবারে থামানো কিংবা আরো দীর্ঘায়িত করা যায় । যদি আসলেই আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই আমাদের আরো সাবধান হতে হবে । নিজেদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে । যেন কান চিল নিয়ে যেতে না পারে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

