somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবার যুদ্ধাপরাধীরা রক্ষা পাবে কি করে?? যুদ্ধাপরাধীদের কিংবা তাদের রক্ষকদের(তথা শুভাকাঙ্ক্ষীদের) সম্ভাব্য পরিকল্পনা আর কর্মপন্থা কি হতে পারে??

০৩ রা এপ্রিল, ২০১০ রাত ৩:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । যদিও অনেকেরই সন্দেহ ছিল আওয়ামী লীগ স্রেফ ভোটের রাজনীতির জন্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বুলি আওরায় । একটি প্রক্রিয়া শুরুর পর অন্ততঃ সন্দেহ বাতিকদের সন্দেহ ঘুচানোর কথা । অবশ্য যারা স্রেফ সমালোচনাই করতে জানেন তাদের মনের সন্দেহ কোনভাবে দূর হবার নয় । এই প্রক্রিয়া শুরুর সাথে সাথে কিছু প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে ।

দেশের অধিকাংশ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার । এ সময়ে দেশের সবখানে, ঘরে-বাইরে, ব্লগে-বন্দরে , পত্রিকা-টেলিভীশনে সর্বত্র আলোচ্য বিষয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল সেই অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া এবারই কিন্তু প্রথম নয় । মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সরকার সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল । কিন্তু শেষ হয়নি । তারা রক্ষা পেয়েছিল । কিভাবে তারা রক্ষা পেয়েছিল কিংবা কারা কিভাবে তাদের রক্ষা করেছিল তা এখন ইতিহাস । ইতিহাস জানতে আগ্রহীরা একটু খোঁজ-খবর নিলেই সেটা জানতে পারবেন ।

১৯৭১ পরবর্তি সময় যুদ্ধাপরাধীরা (যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছিল) যদি রক্ষা পেয়ে যায় তবে এবারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকেও তারা রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করবে । আর তারা রক্ষা পেতেও মরিয়া হয়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সময়ে এইসব যুদ্ধাপরাধীদের স্বজনরা ছাড়া আপনজন কেউ ছিল না । আর ছিল তাদের পাকিস্থানী আব্বা ও তাদের বৈদেশিক বন্ধুরা । কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন । দীর্ঘদিন ধরে তারা রাজনীতে পুর্ণবাসিত । তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা আছে, যারা সেই ১৯৭৬ সন থেকে এক অপরে আষ্টে-পিষ্ঠে বাঁধা। আছে তাদের মগজধোলাই করা ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। আছে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত-পালিত উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদীরা । আর বিদেশী বন্ধু আর পেট্রোডলার তো থাকছেই ।
১৯৭৫ সালের পর থেকে এদেশে জামাত-শিবির রাজনীতি শুরু করেছে আবার । তখন থেকে তারা একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে । ১৯৭১ সালে পরাজয়ের জ্বালা মেটাতে তারা বদ্ধ পরিকট । সেই লক্ষে সমাজের সর্বস্তরে তারা নিয়োগ করেছে তাদের মতাদর্শের নিজস্ব লোকজন । সেটা সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে সকল সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে । এককথায় তাদের রয়েছে একটি পরিপূর্ণ কাঠামো । যে কাঠামো পূর্ণনিমার্ণ শুরু হয়েছে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে । যারা এখন রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নানা পেশায় এবং পদে । যাদের অনেকেই সম্পূর্ণ রূপে বর্ণচোরা । তারা তাদের নেতাদের বাচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে । প্রয়োজনে তারা অর্ন্তঘাতমুলক তৎপরতা চালাতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধান্বিত হবে না ।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সদর্ভে বিরোধিতাকারী এই রাজনৈতিক দল জামাতী ইসলামের উপরের সারির বেশির ভাগ নেতাই ফেঁসে যাবে । নিজেদের জীবন বাচাতে মরিয়া এই নেতারা । যাদের রাজনৈতিক জীবনে মানুষের রক্তের দাগ লেগে আছে । হত্যা-ষড়যন্ত্র যাদের রাজনীতিরই অংশ । তারা কি নিজেদের রক্ষা করতে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে না ?? আর তাদের তৈরী সমাজের বিভিন্নস্তরের পেশাজীবি বর্ণচোররা আপ্রাণ চেষ্টা করবে না ??
জামাত-শিবির তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব যখন সংকটের মুখে মনে করছে তখন তারা নিজেদের রক্ষা করতে যেকোন কিছুই করতে পারে । যে প্রক্রিয়াতেই হোক তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে বানচাল করার চেষ্টা করবে । সেটাই স্বাভাবিক । এবার যুদ্ধাপরাধীরা রক্ষা পাবে কি করে?? যুদ্ধাপরাধীদের কিংবা তাদের রক্ষকদের(তথা শুভাকাঙ্ক্ষীদের) সম্ভাব্য পরিকল্পনা আর কর্মপন্থা কি হতে পারে?? আপনাদের সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশা করি । কেননা তাদের সম্ভাব্য পরিকল্পনা তথা কর্মপন্থা যদি আমরা কোনভাবে আন্দাজ করতে পারি আর জনগনকে জানাতে পারি তবেই জনগণ বিভ্রান্ত হবে না । কারণ সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এমন কি মিথ্যা ভয় দেখাতে তারা পারদর্শী । মনে রাখতে হবে, ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করেই, ভয় দেখিয়েই তারা তাদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটে । নিজের স্বার্থে জামাত কি করতে পারে সেটা হয়তো আমাদের কল্পনারও অতীত । তবে মোটা দাগে সহজ করে বলা যায় এই সরকারকে যেকোনভাবেই হোক উৎখাত করতে পারলেই তাদের চলবে। তাই সরকারকে যেকোনভাবেই হোক জনপ্রিয়হীন করতে পারলে কিংবা জনগনকে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ করতে পারলেই , যেকোন ইস্যুতে একটি চরম আন্দোলন করতে পারলেই কেবল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে একবারে থামানো কিংবা আরো দীর্ঘায়িত করা যায় । যদি আসলেই আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই আমাদের আরো সাবধান হতে হবে । নিজেদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে । যেন কান চিল নিয়ে যেতে না পারে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:২৬
২২টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×