ব্লগ এখন উত্তপ্ত। ঠিক উত্তপ্ত বললে কম বলা হয়, বলা যায় টগবগ করছে । করছে। সেই উনুনে কয়েক ফোটাঁ ঘি ঢালার প্রয়াস এই লেখা ।
ব্লগে ঢুকে যে কেউই মনে করতে পারেন বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা এখন বিজয় না অভ্র?? এখনই সিদ্ধান্ত নেবার সময় হয়ে গেছে..... সারাদেশের টক অফ দ্য টাউন এখন এটা... কিন্তু আসল চিত্র কি??
যেখান থেকে এই বিবাদের শুরু সেটা হলো বিজয়ের মালিক মোস্তফা জব্বার এর লেখা দেশের জাতীয় একটি দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে । সেখানে তিনি দাবী করেছেন অভ্র পাইরেটেড । বিজয়ের লে আউট ব্যবহার করা হয়েছে । স্বভাবতই তিনি যেহেতু বিজয় দিয়েই পেট চালান , শুধু পেট নয় তার ব্যবসা যশ খ্যাতি এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রীর আইটি বিশেষজ্ঞ বনে যাওয়া, সবকিছুর পিছনেই একটি মাত্র কারণ তা হলো তিনি বিজয়ের মালিক ।
আর মোস্তফা জব্বার শুধু এবারই নয় এর আগেও নানাভাবে ইনিয়েবিনিয়ে অভ্র নিয়ে তার আপত্তি জানিয়েছেন । আমার আলোচনা বিষয়বস্তু সেটা নয় । মোস্তফা জব্বার কি বলেছেন আর তাই নিয়ে ব্লগে আগুন জ্বালিয়ে সেই উষ্ণতায় আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তোলার জন্য নয় । মোস্তফা জব্বারের লেখা এসেছে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে । সেই দৈনিকের যারা পাঠক বোধকরি লক্ষাধিক হবে যার ৩ শতাংশ বিজয় অভ্র নিয়ে মাথা ব্যথা নেই । কিন্তু সেই লেখা এই বিশাল মানুষকে বিভ্রান্ত করবে । শুধু কি তাই দেশের হর্তাকর্তারা সবাই এ বিষয়ে অন্ধ। আর সেই অন্ধদের হাতী চেনানোই মোস্তফা জব্বারের কাজ । নইলে স্রেফ প্রতিটি বিজয় কিবোর্ড বাবদ ৫ টাকার ভিক্ষা তিনি নিয়ম জারী করে গ্রহন করতেন না । আর তিনি কিন্তু তার জায়গায় খুব সার্থক । যাদের হাতী চেনানো দরকার আর যাদের দ্বারা টিপসহি নেয়া দরকার তিনি খুব চুপিসারেই তা সময়মতন করে ফেলেন ।
এবার আসি দ্বিতীয় প্রসংগে । দেশের যদি কম্পিউটার ব্যবহারকারী যদি ১০০ শতাংশ ধরি তবে সেই কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহার করেন ৫০-৬০ শতাংশ । যারা প্রায় সবাই ব্যবহার করেন বিজয় । আর এই ১০০ জন ব্যবহারকারীর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট নামক দুষ্প্রাপ্য জিনিষ ব্যবহার করেন আবার সেই ১৫ শতাংশের মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেটে বাংলা ব্যবহার করুন । তবে চিন্তা করুন আমাদের অভ্রব্যবহারকারীদের সংখ্যা । তারপরও নেহাত সেটা কম নয় । আমার আপত্তিটা সেখানে নয় । এই অভ্রব্যবহারকারী প্রায় প্রতিটি মানুষই এই অভ্রকে সমর্থন করবে সেটা জানা কথা । সেই অভ্রব্যবহারকারী আমরাই ব্লগ কিংবা ফেসবুকে একটিভ । সেই তাদের মাঝেই এই উত্তাপ্ত ছড়িয়ে কি লাভ?? আমার জানামতে দেশের সিদ্ধান্তদাতা কোন আমলামন্ত্রী অভ্র ব্যবহার করেন না । আর তাদের এই বিষয়ে জ্ঞান; তা বলাই বাহুল্য । আর ব্লগে কিংবা ফেসবুকে এই কার্যকলাপ স্রেফ অভ্রব্যবহারকারীদের সচেতন করবে । তার থেকে বেশীকিছু আশা করা অরণ্যেরোদন ছাড়া আর কিছু নয় । আর আপনার আমার এই কার্যকলাপ অভ্রব্যবহারকারী ছাড়া খুব সামান্য মানুষই বুঝতে বা পড়তে পারবে । কেননা কাদের কম্পিউটারের আপনার আমার লেখা হিব্রুর থেকেও দুর্বোধ্য স্রেফ বাক্স বাক্স !!! যদি সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে জানাতে হয় তবে দরকার দেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে এ বিষয়ে মতামত প্রকাশ করা । সেটা যদি সম্ভব হয় আর অভ্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হয় (আর সাথে অভ্র ডাউনলোডের লিংক )তবে দেখবেন মাত্র ১ সপ্তাহে অভ্র ব্যবহারকারীর সংখ্যা হবে কয়েকগুন বেশী । আর পারলে আমাদের সিদ্ধান্তদাতা মশাইদের অভ্র মালটা কি সেটা মাথায় দেয় না কি করে সেটা বুঝান ।
আসি মূল প্রসংগে: যে বিষয়ে আমি নিজেও পরিষ্কার নই । অভ্রে ইউনিজয় কিংবা বিজয় এ লিখতে বিজয়ের যে লেআউট ব্যবহার করা হয়েছে তা (....existing law 9in relation to IPR........ Copyright Act 2005 and Patent Act 1911.) কি কপিরাইট ভংগ করে ?? যদি করে তা উতরানোর উপায় কি ? আর না করে তবে তো আর কোন ব্যাপার না ।
মোস্তফা জব্বারের জন্ম নাকি আমাদের কম্পিউটারে বাংলা লেখার অনুমতি দিয়েছে । তার এই ঔদ্ধত্বের জবাব হতে পারে দেশের সব মানুষকে বিজয় না ব্যবহার করতে হতো । যদি সবাই অভ্র কিংবা এমন কোন মুক্ত সফট্ওয়্যারে বাংলা লিখতে পারে । আর প্রফেশনাল কাজে অভ্র এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় । সেই প্রতিবন্ধকতা কেটে গেলে আর প্রয়োজনে আমরা বিজয় লেআউটের বিকল্প পেলেই তা সম্ভব । আবারও বলি আমার মনেহয় তার এই ঔদ্ধত্বের জবাব একটাই দেশে আরো অভ্র ব্যবহারকারী বাড়ান । ভাষা হোক উন্মুক্ত । সেজন্য মেহেদী হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

