somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... পুলিশ এর ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রয়োজন











ছবি: ফেসবুক সূত্রে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29203747 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29203747 2010-07-20 04:15:15
ব্লগ পরিসংখ্যানঃ কোন সমস্যা ?? " style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />
আর প্রায় ২-৩ মাস ধরে ঝুলে ছিলাম ব্লগ লিখছেন : ৩ বছর ১০ মাস ।
<img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

ব্লগ পরিসংখ্যানঃ কোন সমস্যা ??
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29199858 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29199858 2010-07-15 00:11:41
প্রথম আলো'র এভারেস্ট জয় এভারেস্ট এ উঠলে নাকি সবার প্রথমে একটা ছবি উঠাতে হয় । চূড়ার উপরে একটা বৌদ্ধমুর্তি আছে, সেটা পিছনে নিয়ে ছবি উঠাতে হয় । সেটা প্রথম আলোর এভারেস্ট জয়ী প্রতিনিধি ও বলেছেন চ্যানেল আইয়ের সাক্ষাতকারে । তিনি চূড়ায় উঠে কি করেছেন সে প্রসংগে বলতে গিয়ে । সেই প্রসংগে তো রীতিমত সাহিত্যও রচিত করেছেন বিখ্যাত এভারেস্ট জয়ী নর্থ আলপাইন মাউন্টেইনং ক্লাবের সভাপতি ....
......শুধু এভারেস্ট চূড়ায় উঠলেই হবে না, মুসাকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি উঠেছেন। কাজেই ছবি তুলতে হবে। ২০০৯ সালে এভারেস্টের চূড়ায় চার ফুট উঁচু এক বুদ্ধমূর্তি স্থাপিত হয়েছে। ওই মূর্তিকে পেছনে রেখে দূরে অন্য সব শৃঙ্গ-পাহাড়কে সাক্ষী রেখে ছবি তো তুলতেই হবে। তা না হলে বাঙালি বলবে, আরে সব ভুয়া, ও ওঠেইনি। এর মধ্যে ঘটল একটা বিশাল ভজঘট। মুসার ক্যামেরাটা ছিল তাঁর জ্যাকেটের ভেতরে। কিন্তু জ্যাকেটের জিপার কিছুতেই খুলছে না। মুসা তাঁর মিনিবাসে ওঠার অভিজ্ঞতা কাজ লাগিয়ে মূর্তির সামনে অবস্থান নিতে পেরেছেন। কিন্তু কিছুতেই ক্যামেরা বের করতে পারছেন না। মিনিট পাঁচেক লেগে গেল তাঁর ক্যামেরাটাই বের করতে! যাক, তবু বেরোল। ভাগ্যিস, বেরিয়েছিল। তা না হলে কী হতো ভাবুন! এবার মুসা ছবি তোলা শুরু করলেন। প্রথমে বাংলাদেশের পতাকা ধরে ছবি তুললেন। তারপর প্রথম আলোর প্রতীক... এরপর একে একে স্পন্সরদের... ততক্ষণে অন্য পর্বতারোহীরা মহাবিরক্ত। ...........

কিন্তু সে ছবি জাতি দেখে নাই । ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নছিল এভারেস্ট জয় আর তাদের আরো স্বপ্ন ছিল এভারেস্ট এর মাথাটা কেমন তা দেখার... এখনও সেই সৌভাগ্য হলো না জাতির। হয়তো তিনি অন্য পর্বতারোহীদের মহাবিরক্ত না করতে ছবি তুলেন নাই । আমরা অপেক্ষায় আছিলাম । কেননা তিনি বলেছেন যে তিনি ছবি উঠাইছেন কিন্তু এটিএন এ আবার কইলো তার ক্যামেরায় নাকি চার্জ আছিল ও না ।<img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> এরপর বিশিষ্ট চাপাসাহিত্যিকরা লিখবে কি নিদারুন কষ্টে ব্যাটারীর চার্জ ও নি:শেষ হয়ে যায়.... কিন্তু মনে মনে কই প্রথম আলোতে এতো ফটোএডিটর থাকতে একটা ফটো....<img src=" style="border:0;" />

সেই রম্যলেখা থুক্কু অন্যের গীবত গাওয়া লেখার একটা লাইন...‘সত্য। বাঙালি যদি একা একা চেষ্টা করে তাহা হইলে সে চাঁদেও যাইতে পারিবে।’............
আমিও বলি পারিবে । তবে সেজন্য যাহা প্রয়োজনঃ
১. একখানা নামে কাটে এমন জাতীয় পত্রিকা ।
২. ২-১ জন সাহিত্যিক(তাহাদের ক্লাবের সভাপতি বানাতে হবে)
৩. সম্পাদক
৪.ক্যামেরা (ব্যাটারীতে চার্য নাই এমন)
৫.আর কিছু বন্ধুবান্ধব যারা ফেইসবুক-টুইটার-ব্লগে মাতামাতি করবে ।
৬. আর সাথে কারো থাকা যাবে না , যারা গুমুর ফাস করতে পারে । <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29173391 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29173391 2010-06-09 10:16:32
দুই দিনের কান্নাকাট্টি, পত্রিকায় লেখালেখি, ব্যাস!!! তারপর আমরা ভুলে যাই সব!!!!! সকাল হবার পর সেটা ১০০ ছাড়িয়ে গেল ।

আর ওদিকে বেগুনবাড়ীতে ৩০ এ এসে থেমে গেল.....

আজ নিহতদের জন্য দোয়া হবে

কাল নিহতদের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক !!


পরশু পর্যন্ত হয়তো পত্রিকা গুলোতে সম্পাদকীয়; উপসম্পাদকীয় লেখা হবে । আহতদের নিয়ে কয়েকদিন টানাটানি..... তারপরও ????
আমাদের ব্যস্ততা, খবরের নিচে খবর চাপা..... আমরা ভুলে যাবো । শরীরের ক্ষত নিয়ে বাচবে কিছু মানুষ; মনের ক্ষত নিয়ে থাকে স্বজনেরা ।

আর আমরা ভুলে যাবো সব।

তোমাদের মৃত্যুর জন্য কেহ দায়ী নহে; দায় নিয়তি । কেননা তোমাদের নিয়তি তোমাদের এদেশে নিয়ে এসেছিল । এদেশে জন্মেছিলে ।
সকল আত্মা শান্তি পাক ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29169962 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29169962 2010-06-04 14:02:32
মৃত্যু দিনক্ষণ বলে দিচ্ছে একটা ওয়েবসাইট ???!!!!????

জন্মিলে মরিতে হবে.. জানে তো সবাই .... কিন্তু সেই মৃত্যু তো আর বলে কয়ে আসে না । তবে সেই মৃত্যু দিনক্ষণ বলে দিচ্ছে একটা ওয়েবসাইট । আপনার কয়েকটি তথ্য নিয়েই । আপনার জন্ম তারিখ, মাস, বছর ইত্যাদি ।

..বিশ্বাস হলো না ? হবার কথা নয় ।
কিন্তু তারপরও দেখতে পারেন ।
তবে আর হ্যা অবশ্যই যাদের মৃত্যুভয় বেশী <img src=" style="border:0;" /> কিংবা হার্টের সমস্যা আছে কিংবা ভয় পান তাদের না ভিজিট করাই ভালো ।

এই সাইট দ্য ডেড ক্লক ভিজিট করুন ।


লিংকে ঢুকে কয়েকটি তথ্য দিয়ে ক্লিক করলেই পেয়ে যাবেন আপনার মৃত্য পরোয়ানা <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />। সেটা জানার আগপর্যন্ত ভালো থাকুন । আর আনন্দে ব্লগিং করুন । <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />
আর হ্যা ফান হিসেবে বোধহয় করা হয়েছে এই সাইটটি ।



(বি: দ্র: মন খারাপ হলে কেহ দায়ী নয়; আর মজা পাইলে ধন্যবাদ দিয়েন)

আমার একটি পুরোনো ব্লগ থেকে রিপোস্ট করলাম : বেচেঁ আছি আর মাত্র ৩ বছরেরও কম!!! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29169059 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29169059 2010-06-03 09:37:21
রাষ্ট্রের এই খোলা-বন্ধের খেলা বন্ধ হোক । রাষ্ট্রের এই খোলা-বন্ধের খেলা বন্ধ হোক । ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29168008 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29168008 2010-06-02 01:48:35 অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে ??
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত জনিত রক্তক্ষরণে প্রায় দশদিন পর ফেইসবুক বাংলাদেশে মরিয়া গেল । এই দশদিন কিন্তু সেই রক্তক্ষরণের কোন প্রকাশ আমরা দেথি নাই । অখচ এই সরকার নাকি দেশ থেকে মৌলবাদীদের উচ্ছেদ করবে । ফেইসবুক বন্ধ করিয়া কি ধর্মীয় অনুভূতি পোক্ত হইবে ??

ফেইসবুকের অপব্যবহার এর কারণে ফেইসবুক বন্ধ করা হইয়াছে । তবে কি যেকোন কিছুর অপব্যবহার হইলেই তাহা বন্ধ হইবে?? যেমন পিএসটিএন ওয়ালাদের লাইসেন্স বাতিল হলো । অথচ তাহার পিছনে কি রহস্য তাহা কি জনগন জানে না ?? পিএসটিএন ওয়ালাদের বন্ধ করা হয়েছে তো তাদের দায়মুক্তি দেবার জন্যই । সেটা কতো টাকার খেলা , বিটিআরসি-র চেয়ারম্যানের কতখানি স্বার্থসংশ্লিষ্ট তাহা আমরা জানি না । তবে এতোটুকু জানি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভালো সাজিবার জেষ্টায় তিনি মত্ত । তাই তিনি আবার ফেইসবুক বন্ধ করেছেন কেননা প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যঙ্গ করা হয়েছে । সেই দুঃখে তিনি কাঁদো কাঁদো!!!!

ছোটবেলা থেকে শুনেছি বান্দরের হাতে লোহা দিতে হয় না । আর বড়বেলায় মনে হচ্ছে হাটু শ্রেণীর কাকের ন্যায় মেধাবীদের হাতে কোন সুইস দিতে হয় না । কেননা সেই সুইস সে শুধু অন অফ ই করবে । সেতো আর জানে না অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে ?? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29165737 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29165737 2010-05-30 10:07:40
এভারেস্ট জয় নিয়ে বিভ্রান্তিঃ আজ না হোক আগামীকাল এভারেস্ট জয় করবেই বাংলাদেশ হিসাবে মাউন্ট এভারেস্ট সামিট করেছেন। এরপর শুনি রেডিও, টেলিভিশন, অন্তর্জাল...সবখানেই এই খবর। আমি তো খুশিতে পুলকিত । মুসা আমার পরিচিত-বন্ধু, আর তাছাড়া কোন বাংলাদেশীর মাউন্ট এভারেস্ট জয় আমাদের খুশীর তুফানে ভাসিয়ে নেবে সেটাই স্বাভাবিক। তখনি সজলের কথা মনে হলো । সজল বাংলাদেশে মাউন্টেনিয়ারিং নিয়ে খুব সিরিয়াসলি কাজ করছে ।সজলের সাথে আমার অন্য কোন বন্ধুর পরিচয় করিয়ে দিতে হলে আমি বলি "ও হলো প্রথম বাংলাদেশী যে এভারেস্ট জয় করবে ।" কিছুদিন আগেও ওর সাথে কথা হচ্ছিল; এভারেস্ট মিশনের জন্য বড় স্পন্সর দরকার ।আমাকে চেষ্টা করতে বলছিল । তবে এভারেস্ট নিয়ে ওর দীর্ঘদিনের প্ল্যান । আর এখন সে সিনেমা বানানো নিয়ে ব্যস্ত । খুব ইচেছ থাকা সত্ত্বে ক'দিন আগে সজলের অনুদানের ছবির শুভ মহরতে যেতে পারিনি । তাই সজলকে ফোন দিলাম, না যা্ওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আসল কাহিনী জানতে চাইলাম । ওর জানার কথা কেননা মুসা একসময় সজলের সহযোদ্ধা ছিল । সজল বলল সে জানে না ।বলল; দাড়া্ও খোজঁ নিয়ে জানাচ্ছি ।

খোজ খবর নিতে গিয়ে আমি নিজেও কিছুটা বিব্রত হলাম । ব্লগে ও কয়েকজনকে দেখলাম শংকা প্রকাশ করতে ।ব্লগার চন্দনের পোস্ট মুসা কি সত্যিই এভারেস্ট জয় করেছেন ? দেখে আমিও ঢু দিলাম এভারেস্ট নিউজ ডট কম কিন্তু কোন নিউজ পেলাম না ।এরপর কেঁচো খুড়তে গিয়ে...... সজল এবং অন্যান্যদের সাথে কথা বলে যে তথ্যগুলো পেলামঃ

• বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) এম এ মুহিত এভারেস্ট জয়ের চেষ্টা করছিলে, যে আজ বেস ক্যাম্প থেকে এভারেস্ট জয়ে ব্যর্থ হয়ে নেমে আসছে, যাবার আগের সে নিউজ্ও ছাপা হয়েছে দেখুন, মুসা ইব্রাহিম তিব্বত দিয়ে এভারেস্ট সামিট দাবী করেছেন। তিব্বত দিয়ে আমাদের আরেক বাংলাদেশী পর্বোতারোহী এম এ মুহিত ব্যর্থ হয়ে নেমে আসছে ,অথচ এবছর এপ্রিল থেকে প্রায় দেড় মাস তিনি এভারেস্ট বেস ক্যাম্প এবং এক নম্বর ক্যাম্পে ছিলেন, মুহিত আজও ফোনে জানিয়েছেন মুসা ইব্রাহীমের সাথে তার সাক্ষাত হয়নি এবং সবাইকে জিজ্ঞেস করেও তিনি জানতে পারেন নি যে আর কোন বাংলাদেশী তিব্বত দিয়ে এভারেস্ট জয়ের চেষ্টা করছেন।

• মুসা ইব্রাহীম প্রতিবার অভিযানের আগে সংবাদ সম্মেলন করলেও এভারেস্টে যাবার আগে সংবাদ সম্মেলন করেন নি এমন কি যাবার পর কোন সংবাদ মাধ্যম’কে কোন খবর’ও জানান নি। অথচ এম এ মুহিত বার বার তিব্বত থেকে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) সাথে স্যাটেলাইট ফোনে যোগাযোগ করেছেন। যেকোন বড় পর্বত সামিট করলেই সবাই পরিবারে/দেশের সংবাদ মাধ্যমে স্যাটেলাইট ফোনে এই সংবাদ জানান। মুসা ইব্রাহীম এখন পর্যন্ত কাউকে ফোন করেছেন বলে জানা যায়নি।

• গত বছর জুন মাসে মুসা ইব্রাহীম ও তার ক্লাব, নর্থ আলপাইন ক্লাবের তৌহিদ হোসেন অন্নপুর্ণা ৪ জয় করেন বলে বিশাল খবর বের হয়। মুনির হাসান প্রথম আলোর শেষ পাতায় ছবিসহ বড় খবর করেন। মুসা ইব্রাহীম প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের লোগো ছাপা বড় ব্যানারে পেছন দেখা যায়না এমন ছবি তুলে তা চূড়ার ছবি বলে দাবী করেন। পত্রিকাগুলো হুমড়ি খেয়ে তা দফায় দফায় ছাপায়। সেদিন’ই আরেক পর্বতারোহী মুনতাসির মামুন ইমরান অন্নপুর্ণা ৪ জয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে একটি লেখা পাঠান যা শুধুমাত্র ডেইলি স্টারের অন্তর্জালে ছাপা হয়। এই লেখায় তথ্য সহ ইমরান জানান যে মুসার দাবী সত্যি হলে তা বিশ্ব রেকর্ড হয়ে যাবে। মুসার লেখাতেও দিনক্ষনের হিসাবে গড়মিল নজরে পড়ে যা সাধারন মানুষ না
বুঝলেও যেকোন পর্বতারোহী এই অসংগতি মুহুর্তে বুঝতে পারবেন। মুসা ইব্রাহীম ও মুনতাসির মামুন ইমরানের লেখা পরতে পারেন এইখানে

নর্থ আলপাইন ক্লাবের সভাপতি আনিসুল হক, ইনাম আল হক’কে অনুরোধ করেছিলেন মুসা ইব্রাহীমকে বিএমটিসি’র এভারেস্ট অভিযানে যুক্ত করতে। আনিসুল হকের উপস্থিতিতে প্রথম আলো কার্যালয়ে ইনাম আল হক মুসা ইব্রাহীমকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তিনি এখন পর্যন্ত কতো উপরে উঠেছেন। জবাবে মুসা জানান ছয় হাজার মিটার (প্রায় ২০ হাজার ফুট) অথচ কয়েক মাস আগেই প্রথম আলো গলা ফাটিয়ে ফেলেছিল মুসা ইব্রাহীমের ২৪ হাজার ফুট উচু অন্নপুর্ণা ৪ জয়ের কথা বলে।

• এর আগে মুসা ইব্রাহীম, মীর শামসুল আলম বাবু ও তৌহিদ হোসেন, এই তিনজনের দল লাং শীসা রী জয় করেন বলে প্রথম আলোতে ছবিসহ বড় খবর বের হয়।কয়েকদিন পর দলের সদস্য মীর শামসুল আলম বাবু লেখালেখি করে জানান যে তারা আসলে লাং শীসা রী জয় করেননি, অনেক নীচে থেকেই তারা নেমে আসেন।

• এভারেস্টে মুসা ইব্রাহীমের গাইড ছিলেন সোম বাহাদুর তামাং এবং গনেশ
মাগার। এই দুজনের সাথেই বিএমটিসি’র একাধিক ছোট অভিযান করেছে , এখন বড় অভিযান আর করেনা। দুজনের একজনও আগে এভারেস্ট চড়েন নি। একবার এদের একজন বিএমটিসি’র পুরো সামিটে না নিয়েই বলেছিলেন সামিটে পৌছে গেছি আর আরেকজন আরেক অভিযানে ভয় পেয়ে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলে বিএমটিসি’র তাকে পেছনে রেখে সামিট করে। এই দুজন গাইডের নেতৃত্বে এভারেস্ট জয়ের খবর মনে সংশয় জাগায়।

• মুসা ইব্রাহীম তার নেপালী ব্যাবসায়িক অংশীদার বন্ধুর এজেন্সী মুক্তিনাথ
ট্রাভেল থেকে সব বার অভিযান আয়োজন করেন, যারা পেশাদার অভিযান আয়োজক নয়। আগের দুইবার তাদের সহায়তায়ই মিথ্যা পর্বত জয়ের খবর এসেছে এবং তারা সনপত্র’ও যোগার করে নিয়েছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান ও গাইড মিথ্যাচার করলে দুতাবাস তা জানবে, এই আশা করা সুদূর পরাহত।

শুধু মুসা ইব্রাহীম নয়, যেকোন বাংলাদেশী এভারেস্টে গেলেই আমরা খুশি, অভিনন্দন জানাবো । কিন্ত এভারেস্ট এবং অন্যসব পর্বত না উঠেই এভাবে মিথ্যা দাবী আমাদের হেয় করে । সারা পৃথিবীর কাছে এমনিতেই আমাদের নানান বদনাম, এভারেস্ট নিয়েও মিথ্যা সংবাদের বদনাম হলে আমাদের মুখ দেখাবার উপায় থাকবে না।

আজ না হোক আগামীকাল এভারেস্ট জয় করবেই বাংলাদেশ । সত্যি সত্যিই । সেটা মুসা হোক কিংবা অন্য যে কেউ হোক । তার জন্য আগাম অভিনন্দন । জয় হোক পবর্তারোহীদের ।

পুনশ্চঃ
.......................................................................................................মুসার এভারেস্ট জয়ের প্রাথমিক খবর পাবার পর এ লেখা। আর সুনিশ্চিত খবরের পর দেশের সকল মানুষ সহ মুসার একসময়ের সহযোদ্ধারা শামসুল আলম বাবু, সজল, সবাই অভিনন্দন জানিয়েছে । আমি সজলের ফেইসবুকের অভিনন্দন বার্তাটা আমার ব্লগে জোড়া দিলাম । তবে এখনও মুসা কোন ছবি দেখাতে পারে নাই
.....................................................................................................অভিনন্দন মুসা ইব্রাহীম, পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়ায় প্রথম বাংলাদেশী হিসাবে পা রাখার জন্য। এই অর্জন আমাদের বাংলাদেশী হিসাবে গর্বিত করেছে।

২৩ মে দুপুরে যখন ঢাকায় খবর এলো মুসা ইব্রাহীম মাউন্ট এভারেস্ট সামিট করেছেন তখন সম্পুর্ণ ব্যাপারটাই আমাদের সবার কাছে ধোঁয়াটে ছিল। সংশয়ও ছিল, প্রধানত এ কারণে যে, মুসার সাথে বাংলাদেশী আরেক পর্বতারোহী এম এ মুহিতের এই দীর্ঘ অভিযানের প্রায় পুরোটা সময় কাকতালীয়ভাবে দেখা হয়নি, মুসা’র ব্যাপারে তার স্ত্রী, মুখপাত্র মুক্তিনাথ ট্রাভেলস এবং বাংলাদেশের প্রায় সব পর্বতারোহী যোগাযোগের অভাবে অন্ধকারে ছিলেন, আর সাফল্য নথিকরনের প্রায় সবকটি ওয়েবসাইট এই তথ্য অনেক দেরিতে প্রকাশ করেছে। প্রথম দিন’ই সংবাদ মাধ্যম থেকে যারা খোজখবর করছিলেন তাদের সবাইকেই আমরা বলেছিলাম মুসা সফল হলে আমরা সবাই আনন্দিত ও গর্বিত হবো, কিন্তু খবরটার ব্যাপারে আগে নিশ্চিত হতে হবে। গত কয়েকদিনের মধ্যে সাফল্যের ব্যাপারে এই সংশয় প্রায় সবটাই কেটে গেছে সবার। সবার পক্ষ থেকে মুসা ইব্রাহীমকে অভিনন্দন এভারেস্ট জয়ের জন্য আর এম এ মুহিতকে এভারেস্ট জয়ের চেষ্টা করার জন্য।

পর্বতারোহণে শিখরজয়ের সম্ভাবনা সামর্থ ও যোগ্যতার পাশাপাশি সবসময়ই অনেকাংশে আবহাওয়া, শারিরীক ও মানসিক সুস্থ্যতাসহ বেশ কয়েকটি ব্যাপারের উপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল। মুসা যখন সবার যোগাযোগের বাইরে ছিলেন তখন তার স্ত্রী খবর জানার জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। যদিও আমরা সবাই তাঁর মতই অন্ধকারে ছিলাম কিন্তু দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলে তাঁকে অভয় দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম কোন খবর পাওয়া মাত্র আমরা তাঁকে জানাবো এবং যেকোন সহযোগীতায় সাধ্যমত সাহায্য করব। হাজারো প্রতিকুলতার মধ্যেও সবকিছু ঠিকভাবে শেষ হয়ে মুসা সুস্থ্যদেহে ফিরে আসছেন এটা আমাদের সব দুশ্চিন্তা দূর করেছে।

এভারেস্ট বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে পর্বতারোহন চর্চ্চা এখন এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলো। প্রায় সাত বছর আগে আমরা সবাই মিলে একসাথে পর্বতারোহন চর্চ্চা প্রসারের প্রতিকুল চেষ্টা শুরু করছিলাম, পরে বিচ্ছিন্নভাবে হলেও আন্তরিকতার কোন অভাব আমাদের কারোই ছিলনা এবং এখনো নেই। মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে পর্বতারোহন চর্চ্চা প্রসারে এবার দারুণ গতি সঞ্চার হবে এবং এই ক্ষেত্রটি খুব দ্রুত সবার সহযোগীতায় বিকাশ লাভ করবে এই প্রত্যাশা আমাদের সবার। এবার খুব দ্রুত আমরা এভারেস্টে প্রথম বাংলাদেশী মেয়েকেও দেখতে চাই।

সজল খালেদ
অভিযান পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ সচিব
বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)
.......................................................................................................
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29161562 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29161562 2010-05-24 02:18:30
১ সিনেমায় ১২ জন ডিরেক্টর!!!!
ইদানিং তরুণদের মাঝে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানানোর বেশ ঝোকঁ দেখি । আর এই ডিজিটাল যুগে এতো এতো চ্যানেলের ভিড়ে সিনেমা বানানো , নাটক বানানো সুযোগ বাড়ছে । তাই এখন সবার মাঝেই চলচ্চিত্রকার হবার এটা প্রবণতা এসেছে । দেশে এখন অনেক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রের উপর গ্রাজুয়েশন করারও সুযোগ এসেছে , সব মিলে একটা বলা যায় চলচ্চিত্রের জয় জয়াকার ।
এই জয় জয়াকারের আগে আমি কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচচ্চিত্র বানাইছিলাম । আজ হঠাৎ সেই গল্প মনে এলো । ২০০২ সালের শেষের দিকে , খুব ব্যস্ত চলচ্চিত্র সংসদ কর্মী তখন । চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক কাজ করলাম কিন্তু কোন সিনেমা বানানো তো হলো না , ইচ্ছে হলো একটা কিছু করি ।যেভাবে সেই কাজ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের আমরা ১২ জনের একটা দল হলাম । আর আমি হলাম বুড়ো ধাড়ি । আর সাথে আছে ১ জন বন্ধু বাকি ১০জনই জুনিয়র ।
১২ জন মিলে একটা ৫ মিনিটের ছবি বানানো হলো । সেই ছবির ফানডিং থেকে শুরু করে স্ক্রিপ্ট পরিচালনা পুরোটাই ছিল একটা অদ্ভুত টিম ওয়ার্ক ।এই মাত্র ৫ মিনিটের ছবি আমাদের সাথে কাজ করেছিল ১২ জনের বাইরে সিনেমাটোগ্রাফেতে টুকু ভাই (টুকু থন্দকার) , এ্যাডিটিং এ রিপন খান আর মিউজিক করেছিল রাহুল দা (রাহুল আনন্দ), শিল্প নির্দেশনায় সব্যসাচী হাজরা ।ছবিটি এসেছিল "ছবি বানাই" এর ব্যানারে । আর এটি প্রদর্শতি হয়েছে তিনটি আর্ন্তজাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে । দুটি ঢাকার চলচ্চিত্র উৎসব আরেকটি বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের ট্যালেন্ট ক্যাম্পাস সেকশনে ।

ছবির নামটা দিয়েছিলাম circle.(আবর্ত) , মানুষের জন্ম মৃত্যু ভালোবাসা এমনভাবেই জীবনকে দশটিভাগে ভাগ করে স্টিল প্রপ্স দিয়ে তৈরী । পুরো ছবিতে কোন লাইভ চরিত্র ছিল না । সেফ্র এ জার্নি অফ লাইফ । কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো এই ছবিটির কোন কপি এই মুহুর্তে আমার কাছে নেই । পরিচালকরা হলেনঃ Askiq ,Arif,Masum, Mishu,Jhony,Bitu, Tito ,Lisa,Sujon,Zahir,Rodela & Rashedul Hafiz ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29160946 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29160946 2010-05-23 10:43:58
জীবনরঙ্গঃ আমি একটা ভুদাই আ্মার চাই এক হাজার কোটি টাকা আর আমি নেই ৫ টাকা আমি একটা ভুদাই আ্মার চাই এক হাজার কোটি টাকা আর আমি নেই ৫ টাকা । এক পাগল টাইপের ভিক্ষুককে হাত পাততে দেখে ৫ টাকা দেবার পর এমন কথা শুনে কিছুটা হতভম্ব হলাম । ৫ টাকা সাধারণত দেই না, ২ টাকা দিতাম । কিন্তু কিছুদিন আগে ২ টাকা দেয়াতে এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক মুখ ঝেটকিয়ে বলে ২ টাকায় কি হয়?? এরপর যেন সে আমারে টাকাটা ফেরত দেবে এমন একটা ভাব । তারপর থেকে যদি কখনও কাউরে ভিক্ষা দেই ৫ টাকা দেবার চেষ্টা করি । অবশ্য আমি ভিক্ষা দিতে কোনভাবেই রাজি নই । খুব কম ক্ষেত্রেই দেই । সেদিন ৫ টাকা দেবার পর বুঝতে পারলাম পাগল এই টাকা দিয়ে নেশা করবে । তার দরকার হাজার কোটি টাকা আর আমি তারে দেই মাত্র ৫ টাকা !!!
২.
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে চাঁনখারপুলে রাতের খাবার খাওয়া হতো প্রতিরাতে । সেই সূত্রে চানখাঁনরপুলে আড্ডাও দেয়া হতো টুকটাক । একেবারে হোসনী দালান সংলগ্ন এলাকায় তাই পরিচিত মানুষজন কম নেই । দীর্ঘদিন সেদিকে যাওয়া হয় নাই । এবার কোরবানী ঈদের পর হঠাৎ সেদিকে ঘুরতে গেছিলাম । অনেকদিন পর অনেকের সাথে দেখা , আড্ডা । বেশির ভাগ গল্পই সদ্য শেষ হওয়া কোরবানী ঈদের । তো এর মাঝে একজন শুরু করল তার হাট থেকে গরু কিনে বাড়ি আসার গল্প... আইতে আইতে গরু গিয়ে পড়ল ড্রেনে । আমরা সামন থন দুইজন আর পিছন থন দুই জন মিল্যা টানবার লাগছি মাগার উঠে না, গরু খানকির পোলায় দেহি নড়েই না..]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29157142 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29157142 2010-05-18 00:40:50
একটি কপিপেস্ট বিষয়ক কপি কিংবা ফটোকপি ব্লগ!!! সকালের সব ঝঞ্জাট সেরে এরপর হয়তো সময় সুযোগ বুঝে ব্লগে ঢু দেয়া হয় । ব্লগে ঢুকেই দু-চার পাতা উল্টে-পাল্টে দেখি শেষবার ব্লগ ভিজিটের সময়ের প্রথম পোস্ট সাধারণত পেজ মার্কারের কাজ করে । তবে শেষবার ব্লগ ভিজিটের পর যদি বেশি সময় পেরিয়ে যায় তাহলে সাধারণত৫-৬ পাতা পর্যন্ত পিছে যা্ওয়া হয় ।ইদানিং সকালে ব্লগে ঢোকার পর একটা নতুন অভিজ্ঞতা হলো । ব্লগে এলেই দেখি পত্রিকার হেড গুলো পোস্ট হয়ে ব্লগে ঝুলছে ।এই পোস্ট গুলো আবার বিশেষ পোস্ট হিসেবে ব্লগে পরিচিত , "কপি পেস্ট" , সেই কপিপেস্ট পোস্ট গুলো ব্লগে আসে সাধারণত রাজনৈতিক কারণে । যে সংবাদ যে ব্লগারের রাজনৈতিক মতের প্রতিফলন থাকে সেই সংবাদটি তিনি কপিপেস্ট করেন ।আর যদি তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের বিরোধি হয় তবে আরেকটা পোস্ট আসবে " ওমুক পত্রিকার ভন্ডামী দেখুন" টাইপের । সকাল সকাল ব্লগে ঢুকে একটা বিষয় উপলব্ধি করলাম । এই ধরণের পোস্টের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা আছে ।
কেননা ধরুন সকালে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়েছেন । পত্রিকার পড়ার সুযোগ হয়নি, সেফ্র হেডগুলোতে চোখ বুলিয়েছেন । সমস্যা নেই ব্লগে আসুন, চোথ রাখুন দেখবেন পেয়ে গেছেন পত্রিকার সেসব সংবাদ । তাই কষ্ট করে আর আপনাকে পত্রিকা ঘাটতেও হচ্ছে না কিংবা ওয়েবেও পত্রিকা দেখতে হচ্ছে না । শুধু কি তাই, আপনি হয়তো বাসায় একটি পত্রিকাই রাখেন , কিন্তু ব্লগে আপনি সকল পত্রিকার সংবাদই কপি পেস্ট হিসেবে পেয়ে যাবেন ।তাহলে আর সকালে কষ্ট করে, সময় নষ্ট করে পত্রিকার পড়ার কি দরকার ??

তবে এবার ভেবে দেখের সময় এলো বাসায় আর অযথা পত্রিকা রাথার প্রয়োজন আছে কিনা !! তবে যদি আপনি খুব নিরপেক্ষ (তথা সকল পক্ষ, সহজ ভাষায় সুবিধাবাদী ) ব্লগার হন তবে আপনাকে বুকমার্ক করে রাখতে হবে কয়েকটি বিষয় । কোন ব্লগার কোন জাতীয় পোস্ট দেন । কে দেয় জামাতী কপিপেস্ট, কে দেয় জাতীয়তাবাদী কপিপেস্ট আর কে দেয় আওয়ামী কপিপেস্ট । ব্যাস হয়ে গেল সর্বদলীয় মতামত জানার সুযোগ, সংবাদ পাঠের সুযোগ । আর প্রয়োজন হবে না আলাদা করে পত্রিকার রাখার এমন কি অনলাইনে পত্রিকা পাঠের । আর পত্রিকার ও দাম বাচলো । শুধু সামহোয়্যার ইন ব্লগে আসুন, তবেই চলবে। এখানে প্রথম আলো থেকে শুরু করে সকল কণ্ঠের স্বর এমন কি সংগ্রাম নয়া দিগন্ত দেশের সকল দৈনিক এর খবর পাবেন । শুধু তাই নয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রকাশিত পত্রিকার ও "কপিপেস্ট" পাবেন । সেটা নোয়াখালী থেকে প্রকাশিত হোক কিংবা পটুয়াখালী থেকেই প্রকাশিত হোক । তাই নো চিন্তা ।

আর আশা করছি সামহোয়্যার যদি আবার বিজ্ঞাপন শুরু করে (যেমন ফেসবুকে করেছিল ) তবে বিজ্ঞাপনের কপি হবে এরকম " দেশের সকল পত্রিকার সংবাদ একসাথে চান?? চলে আসুন সামহোয়ারের কপিপেস্ট ব্লগে ।" কিংবা "সবার আগে সকল পত্রিকার তাজা তাজা কপিপেস্ট । " কিংবা "আংশিক নয় পুরাই সকল পত্রিকার কপি পেস্ট " কিংবা "আপনি কি সঠিক সংবাদ জানতে......" কিংবা "নানা মুনির নানা মতের নানা....." আসুন সামহোয়্যারের বিজ্ঞাপনের কপি রচনায় দলে দলে শামিল হই আর এই বিষয়ক আইডিয়া শেয়ার করি ।
জয়তু কপিপেস্ট । আপনার ব্লগিং আনন্দময় হোক ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29152836 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29152836 2010-05-11 04:38:56
কাল ডিপজলের সিনেমা দেখতে যাচ্ছেন তো ??(ফেসবুকের আলোচনাসহ) উপমহাদেশের চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি আবার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, "চলচ্চিত্র শিল্পের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ সরকার করবে না। বাংলাদেশে যাতে উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের চলচ্চিত্র না আসতে পারে সে ব্যবস্থা নেবো আমরা।"

উপমহাদেশের চলচ্চিত্র আমদানির সিদ্ধান্তে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট এমনকি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট নন শুধু দর্শক তবে সে কোনদিন হলে বসে বাংলা সিনেমা দেখেননি এমন দর্শকরাই ভীষণ প্রতিবাদে ফেটে পড়লেন । ভারতীয় চলচ্চিত্র এলে এদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের বারোটা বাজবে । এই প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে সরকার সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন ।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদকারীরা সুকৌশলে উপমহাদেশের স্থলে শুধু ভারতীয় শব্দটি ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক চাতুরতার আশ্রয় নিয়েছিল । বলা বাহুল্য সেই চাতুর্যে তারা শতভাগ সফল । কেননা এদেশে ভারত এলার্জি রয়েছে । সেটাই তারা কাজে লাগিয়েছে ।

প্রসংগে আসি । অনেকেই সরকারকে সাধুবাদ দিচ্ছেন । সরকার চলচ্চিত্রের মতন এতো বড় শিল্পকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করছিল সেটা এখন না করার জন্য তারা খুব খুশি । কিন্তু সেই চলচ্চিত্রপ্রেমী দেশপ্রেমীরা কি কখনও চলচ্চিত্র শিল্পকে চাঙ্গা করতে কখনও সিনেমা হলে গিয়েছিলেন ?? না গেলে আসুন আগামী কালই যাই । দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করি । যাবেন তো ডিপজলের ছবি দেখতে ??

উত্তরটা আমি দিচ্ছি । উত্তরটা হবে না । কেন ?? সে বিষয়ে হাজারো যুক্তি আছে আর সবগুলোই হয়তো গ্রহনযোগ্য । তবে উপায় ?? আপনি আমি সিনেমা হলে না গেলে কি সিনেমা চলবে না ?? চলবে । তবে চলচ্চিত্রের মতো এতো বিশাল শিল্প আগের মতোই খুড়ে খুড়েই চলবে । এতো সম্ভাবনাময় বিশাল শিল্পটিও রুগ্ন শিল্পের মতোই চলবে ।

এই শিল্পে কালোটাকার মালিকরা কালো টাকা সাদা করার জন্যে লগ্নি করবেন, ফুর্তির জন্য নায়িকা বানাবেন, চলচ্চিত্র সম্পর্কে আ ও ক খ না জানারাই সিনেমা বানাবেন, পরিবেশকরা সব ছবির সাথে এক্সাটা কাটপিস দিয়ে দেবেন, হল মালিকরা সেই সিনেমার সাথে পর্ণো কাটপিস লাগিয়ে সেটা হলে দেখাবেন আর দেশের হতদরিদ্র বিনোদনহীন মানুষ সেই স্হুল নায়িকার স্থুল বুকপেট দেখে খুশিতে শীষ দিয়ে উঠবেন । আর আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প আরো স্থুলদের দখলে চলে যাবে । দীর্ঘ ৪০ বছর ভারতীয় তথা বিদেশী সিনেমা না দেখিয়ে আমাদের অর্জন হলো এই । এই চক্রে যে মাফিয়া ডনরা নিয়ন্ত্রন করছেন তারা এই চক্র কোনভাবেই ভাংগতে দেবেন না । তাই তাদের প্রতিবাদ কি অযৌক্তিক ??

আরো আছেন হাল আমলের ছোটপর্দার মালিকদের চলচ্চিত্র প্রযোজক হয়ে ওঠা । মাত্র ৩০ লক্ষ টাকা লগ্নি করে এফিডিসির সিনেমার চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে তারা নির্মান করছেন তথাকথিত ভালো চলচ্চিত্র যার ৯০ শতাংশই অন্যসময় হলে স্রেফ টেলিভিশনের নাটক হিসেবেই প্রচারিত হতো । সেই ৩০ টাকার লগ্নিসহ লাভ উঠে আসে এক তথাকথিত প্রিমিয়ার শোতেই আর সেই চলচ্চিত্র দেখার মানে হলো বিজ্ঞাপন বিরতির মাঝে সিনেমা দেখা । আর এরপরের ২-৪ টা সিনেমা হলে চললে তো বোনাস । এফডিসিকে গালি দিয়ে সেই টেলিভিশনের নাটককে যারা সিনেমা বলে হালাল করছেন তারা সেই এফডিসির অশিক্ষিত কিংবা স্বল্পশিক্ষিতদের সিনেমার কলাকৌশলের কাছে নিতান্তই না বালক । এই চক্রটি ও চায় না তাদের সেই জমজমাট রমরমা সিনেমা সিনেমা খেলার ব্যবসাটা বন্ধ হয়ে যাক ।

অথচ চলচ্চিত্রের মতোন এই বিশাল শক্তিশালী গণমাধ্যমটিকে যেমন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সক্ষম আবার ঠিক তেমনি দেশের ভাবমুর্তিকে শক্তিশালী করতেও সক্ষম । স্রেফ ভারত-ইরান কিংবা চায়নার চলচ্চিত্র শিল্পের ক্ষমতা তো কারো অজানা নয় ।

আর এদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের এই করুণ দায়সারা গোছের কাজের জন্য দায়ী তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রিত চক্র ।যে চক্রটি তাদের নিজেদের স্বার্থে এই শিল্পের বিকাশকে রুদ্ধ করে রেখেছে । তারা চায়না তাদের এককছত্র আধিপত্যে কোন প্রতিদ্বন্দী আসুক । আর যদি বিদেশেী সিনেমা এদেশে অবাধ প্রদর্শন করা যেত তবে অবশ্যই তা এদেশের চলচ্চিত্র কলাকুশলী দর্শককে সমৃদ্ধ করতো । চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা তাদের মোনটনাস রীতিকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখত । আর অস্তিত্বের স্বার্থেই ভালো সিনেমা নির্মানে আগ্রহী হতো । কেননা মানুষের মেধা বিকাশে চাই উন্মুক্ত পরিবেশ, চাই উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ।মনেরাখা দরকার ফাঁকা মাঠে গোল দিতে স্ট্রাইকারের দরকার নেই, বলে লাথি দিতে জানলেই চলে । আর নইলে সবকিছু নষ্টদের অধিকারেই চলে যাবে ।

আর আমরা যারা মধ্যবিত্ত যাদের বিনোদনের বড় অভাব তারা সেই ১৫ ইঞ্চি বাক্সের মাঝেই জীবনের সব বিনোদন খুজি । আর নইলে এদেশের সকল বিবাহিত মানুষের স্রেফ সংগম ছাড়া আর কোন তো বিনোদন নাই ।

ফেসবুক নোটসের মন্তব্য গুলো আলোচনার সুবির্ধাতে শেয়ার করলাম।

Kazi Mamun ওহ আপনিও লিখছেন, অপেক্ষা করছিলাম, পড়ে নেই আগে মন্তব্য করছি। Yesterday at 9:54am •

Rubina Khanam জটিল! যদি উন্মুক্ত করা হয় তাহলে সবারটাই করা উচিত।Yesterday at 10:00am •

Kazi Mamun প্রথমতঃ নোটটা পাবলিক করেন সবাই যেন পড়তে পারে, আমি শেয়ার করছি।
একটা কথাই আমি বারবার বলছি- প্রতিযোগীতা ছাড়া শিল্পের বিকাশ অসম্ভব। কুয়োবন্দি করে আর যাই হোক সিনেমা ইন্ডাস্ট্রী কে ডিপজল দের দখল মুক্ত করা যাবে না।
আমি আপনি বলে যে খুব একটা লাভ হবে তাও না, তারচে আমি অপেক্ষা করছি একটা এম সিক্সটিন এর। Yesterday at 10:02am •

Vashkar Abedin রাসেল আমার মনে হয় তোমার নিজের আসলে এই দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বিষয়ে কোন ধারণা নাই। এই দেশের সিনেমায় কবে রমরমা ব্যবসা হইছিলো সেইটা মনে হয় রমা'রাও ভুইলা গেছে। এখন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি কেবলি কিছু মানুষের মনোরঞ্জনের ক্ষেত্র, কিছু লোকের রাষ্ট্রীয় কর ফাঁকি দেওনের বৈতরনি। এর বাইরে যেইটা ঘটে সেইটা মূখ্য হইলেও আমাগো মধ্যবিত্ত প্রাণ যুক্তিতে তারা কেবলি অদৃশ্য মানব। সেইসব খাইটা খাওয়া মানুষেরা, যারা দিন আনে দিন খায় এই ইন্ডাস্ট্রির বরাতে, তাগো নিয়া আমরা ক্যানো ভাবুম! আমরা দেশের সংস্কৃতি একজন ডিপজল কতোটা খাইলো, একজন যশপাল কতোটা খাইবো সেইসব নিয়া আলোচনা করুম...

আমাগো আলোচনায় ভারতীয় চলচ্চিত্র এই দেশে প্রদর্শনের অনুমতি পাইলে দেশের ডিপজলীয় সংস্কৃতি কতোটা প্রান্তিক সংস্কৃতি হইবো সেই বিষয়ক আনন্দ উল্লাস থাকবো। ভারতীয় চলচ্চিত্র বেশি দামে টিকেট কিনা দেখুম আমরা, গরীবের জন্য ডিপজলরেই না হয় ত্রাতা বানাইলাম...এই আলোচনায় আমরা তুমুল তর্ক করতে রাজী আছি। শহরে যা ঘটে সেইটাই তো একটা জাতি রাষ্ট্রের মূল এক্সপ্রেশন! তাই শহরকেন্দ্রীক নতুন প্রজন্মের বাংলারে আমরা দিবো আল ইয অয়েল...আর গ্রামের কৃষকের দরকার রাইত বারটার পরে নায়িকার ঘরে যাওনের আহ্বান।
পরিমাপটা এমন ডিসক্রিমিনেটিভ হওয়াটাই প্রয়োজন...Yesterday at 10:10am •

Kazi Mamun @Vashkar Abedin- বুঝতে পারিনি আপনার ভাষ্য!Yesterday at 10:15am •

Arif Jebtik প্রথম কথা হচ্ছে আমি ডিপজলের সিনেমা দেখতে যাব না, কারন ওটার টার্গেট ক্লাসে আমি পড়ি না। কিন্তু তাই বলে বিদেশী চলচিত্র আনার ফতোয়া কিভাবে জায়েজ হয়ে যায় তাও বুঝলাম না।

সরকারের যদি সিনেমা শিল্পের উন্নতির জন্য প্রাণ কাঁদে তাহলে তারা এফডিসিতে প্রচুর টেকনলজির উন্নতি করতে পারে, সিনেমা এবং হলের কর কমানোর চিন্তা করতে পারে। কিন্তু অসম প্রতিযোগিতায় দেশি সিনেমার বিকাশ হবে না।

আপনি কি মনে করেন, হিন্দী সিনেমা কি ইংরেজী সিনেমা চললেই আমাদের ঝন্টু-মন্টু-নান্টু পরিচালকরা তারপর থেকে ভালো সিনেমা বানাতে লেগে যাবেন নাকি ৩০ লক্ষ টাকার বড় নাটক বানানো বন্ধ হয়ে যাবে ? Yesterday at 11:30am •

Kazi Mamun@Arif Jebtik- Its about art, no history ensures that privilege can save any art development. Thats why we do not have any 'satyajit ray' or 'Jahir Rayhan' now.
A coward director means he will feel identity crisis in open market, A coward director means he will not allow open competition. Yeah we are proud, we are getting thousands of coward ... See Moredirector every year, we are giving privilege last 40 years and the result is- still wiki says: " Viewership of Bangladeshi films has dropped, and the industry has been criticized for producing low-quality films whose only appeal is that of sex, violence, or melodrama."Yesterday at 11:35am •

Arif Jebtik একজন কাওয়ার্ড ডিরেক্টরকে শায়েস্তা করার জন্য আপনি একটি অসম প্রতিযোগিতা তৈরী করতে পারেন না।
বিষয়টা মার্কেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এখানে আপনি একটা বাংলা সিনেমার পেছনে যখনই দেড় কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন, আপনার বাসা বাড়ি বন্ধক রাখতে হবে। কারন মার্কেট খুব ছোটো। মেগা হিট না হলে আপনার ছবির পক্ষে গড়ে ১ কোটি টাকার উপর ব্যবসা আসবে না।

হিন্দী সিনেমা তৈরী করা হয় অনেক বড় মার্কেটের জন্য। সেই বিগ বাজেটের ছবির ক্যামেরা দামী, আর্টিস্ট দামী, ডিরেক্টর দামী, লোকেশনের জন্য তারা সপ্ত সিন্ধু পাড়ি দিতে পারে।
এখন বাজার অর্থনীতিতে আপনি সেই চকচকে মাল আমার সিনেমা হলে ঢালবেন, তো দর্শক ঐদিকেই ছুটবে। তখন দেশি চলচিত্রের কী হবে ?

আমি রাশেদ হাফিজের কথা মেনে নিচ্ছি, এই প্রোটেকশন থেকে আমাদের দেশে গত ৪০ বছরের অর্জন উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। আমাকে বুঝান, টালিগঞ্জে তো উন্মুক্ত হিন্দীর বাজার, সেখানে টালিগঞ্জের সিনেমা কী বিকাশ লাভ করেছে। ওদের অবস্থা তো নান্টু-ঝন্টুর চাইতেও খারাপ।
Yesterday at 11:43am •

Kazi Mamun @Arif Jebtik- শিল্পে সম-অসম প্রতিযোগীতা বলে কিছু নেই। পশ্চিম বাংলায় অসম প্রতিযোগীতার মুখেই গড়ে ওঠছে অপর্না সেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তা 'Hrituporno Ghosh', ইরানের দিকে তাকান অল্প বাজেট এ মুক্ত বাজারে হলিউডি-বলিউডি সিনেমার সাথে প্রতিযোগীতা করেই ওরা মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে, যেখানে খোদ ইরানেই ভারতীয় ছবির রমরমা ব্যবসা। Yesterday at 11:53am •

Imran Firdaus
Kazi maun er shathe shohomot .Yesterday at 12:03pm •

Rashed Hafiz ভাস্করদা@ তবে শুরু থেকেই বলি । এদেশে যখন সিনেমা ইন্ডাষ্ট্রি ছিল না তার প্রথম অজুহাত ছিল যে এই দেশের আবহাওয়া চলচ্চিত্ররে জন্য উপযোগি নয় । কথাটা বুইঝেন, একটু খেয়াল কইরা । আর এদেশের সংস্কৃতি মানে যাত্রা টাইপ যে নাটক তা সিনেমায় লগ্নি করে ভদ্র সমাজে দেখারযোগ্য হবে কিনা অর্থাৎ এতো টাকা লগ্নি করে সেই টাকাই উঠবে না এমন ভুতুরে কথাবার্তাও নাকি প্রচলিত ছিল এক সময় । সেসময় এদেশের বাজারে চলত হলিউড বলিউড আর উর্দু ছবি । শেখ মুজিব তখন জোর কইরা এফডিসি বানাইছিলেন । কিন্তু সেই এফডিসিতেও কিন্তু বানানো হতো উর্দু সিনেমা । আপনি তো বোধহয় জানেন পদ্মা নদীর মাঝি সা বানাইয়া ওই একই কাহিনী হয়ে গেল জাগো হুয়া সাবেরা । কারণ একটা কিন্তু ব্যবসা । কিন্তু তার ব্যতিক্রমটাও দেখেন । সালাউদ্দিন বানালেন রূপবান । আপনার সেই প্রান্তিক মানুষের মুখে মুখে ফেরা লোকগাথা । সেই রূপবান বক্স অফিসই শুধু হিট করে নাই ৯০ দশক পর্যন্ত এই সিনেমা থেকে টাকা গুনতেন সালাউদ্দিন । তিনি এই সিনেমা নিয়ে বলিছিলেন রূপবান হলো তার সোনার ডিম পারা হাঁস। আপনি কি রূপবান দেখছিলেন । এমন মিউজিক্যাল সিনেমা কি পুরো বাংলায় আর কেউ করতে পারছে ??
৬৫ সালের আগ পর্যন্ত তো এদেশে হলিউড বলিউড আর উর্দু সিনেমা চলত । আর চলত বলেই জহির রায়হানরা এসেছেন । আর তাদের হাত ধরেই এসেছে কাঁচের দেয়াল । কই সেই অসম বাণিজ্য তো বাংলা সিনেমা টিকে ছিল । তখন তো সরকারও চাইত না বাংলা সিনেমা বানানো হোক । এতা প্রতিবন্ধকতার মাঝে তো বন্ধ হয়নাই । কথা সেইটা না । কথা হচ্ছে হ্যাডাম নিয়ে । যে পারে সে সবখানেই পারে । যদি সিনেমা নিয়ে বাণিজ্যই করতে চান তবে হ্যাডামওয়ালা মানুষ দরকার। সাহসী মানুষ দরকার । এইসব কাপুরুষ দিয়ে পর্দা সুপুরুষ একজন ডিপজলই হবে । আর কিছু না । নো বাণিজ্য নো সুস্থ বিনোদন ।Yesterday at 12:18pm •

Vashkar Abedin তথ্য উপস্থাপন রীতি আসলে পাল্টানো দরকার।
ইরানে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতাতেই সেই অঞ্চলের প্রথা নির্মাণের মতোন ছবি গুলি তৈরী হইছে। আর আমাগো দেশের সরকার বিনিয়োগ করে ৩০ লাখ টাকা, যা আবার প্রযোজক বা নির্মাতা ৩০ লাখ খরচ করনের পর। যেই দেশে চলচ্চিত্রের উন্নয়ণে সরকারের কোন ভূমিকা নাই। যেই দেশের সরকারী মন্ত্রীরা পর্যন্ত ঘুষ খাইয়া ছবিরে সেন্সর সার্টিফিকেট দেয়, ধানের... See More শীষ বা নৌকার ইমেজ থাকলে সেন্সরশীপ আরোপ করে, সেই দেশে চলচ্চিত্র শিল্পরে মানে আর্টরে নিয়া ভাবলে চলে না।

ভারতীয় ছবি উন্মুক্ত করলে কাগো ছবি ডিস্ট্রিবিউট করন শুরু হইবো সেই বিষয় কি ঠিক হইছিলো? চোলি কা পিছে কা হ্যায় টাইপ গানওয়ালা ছবি আমদানী করাতে বেশি আগ্রহ হইবো মানুষের নাকি যেই ছবি ভারতেও মানুষ দেখতে চায় না সেই ছবি আমদানী হইবো?

আর্ট শিল্প আর ব্যবসা শিল্প যে এক না সেই কনসেপ্টের জায়গা আগে পরিষ্কার হওনটা জরুরী। আলোচ্য নোটের লেখক রাসেল এবং বিশিষ্ট চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি আর ভাষা আন্দোলক কাজী মামুন কি মনে করেন যে ভারত থেইকা সব সুস্থ্য ধারার চলচ্চিত্র আসবো এই দেশে? বা কোন পর্যন্ত দেখাইলে সুস্থ্য ধারা হয় সেইটার মাপকাঠি বিষয়েও জাননটা জরুরী...
Yesterday at 12:19pm •

Arif Jebtik @ কাজী মামুন, ইরানের চলচিত্র বিকাশে নিশ্চয়ই ভারতীয় সিনেমার রমরমা বাজারের অবদান বেশি; এটা কি বলা হচ্ছে ? আমি বুঝতে পারি নি ব্যাপারটা।
এবার আসেন পাকিস্তানের দিকে তাকাই। সেখানে হিন্দী সিনেমার দাপটে পাকিস্তানি সিনেমা শিল্পের ত্রাহি দশা চলছে। এখন চিন্তা হচ্ছে ভারতীয় সিনেমা আমদানি বন্ধ করে দেওয়ার।

আপনি আর্টকে ব্যবসার জায়গা থেকে আলাদা করে রাখতে পারবেন না। আর্থিক প্রনোদনা না থাকলে আর্টের বিকাশ দুঃসাধ্য।

বিদেশী চলচিত্র তো এই দেশে আসে, ডিভিডি ফর্মেটে আসে।
তো, আমাদের কী উন্নতিটা হচ্ছে সেই সিনেমা দেখে সেটা কিন্তু এখনও দৃশ্যমান নয়।

রাশেদ হাফিজের কথা মতোই বলতে হয়, আসলে হ্যাডমঅলা মানুষ দরকার। কিন্তু সেই হ্যাডম আলা মানুষ যদি বিদেশী সিনেমা না আসার কারনে এখনও ঘরে বসে থাকেন, তাহলে তাদের হ্যাডম নিয়া সন্দেহ জাগে। তারা অদূর ভবিষ্যতে বিদেশী সিনেমার বাজারকে চ্যালেঞ্জ করার আশা নিয়ে বসে না থেকে এখনই যদি নান্টু মন্টু ঝন্টুকে প্রতিহত করতে এগিয়ে আসেন তাহলেই তো সহজ হতো ব্যাপারটা।Yesterday at 12:38pm •

Rashed Hafiz জেবতিক@ আপনাকে বলতে বাধ্য হচ্ছি শোনা কথায় কান দিবেন না । এফডিসি সম্পর্কে আপনার ধারণা নাই । আমাদের এফডিসিতে যে প্রফেশনাল ক্যামেরা (খুব সম্ভবতঃ Olympus Wide DLX... See More ৯৮ মডেল) ছিল তা ব্যবহার না করার জন্য নষ্ট হয়ে গেছে । এমন আরো এমন টেকনোলজি ব্যবহারের অভাবে তথা ব্যবহারকারী অভাবে নষ্ট হয় । সেক্ষেত্রে তাদের কথা আমাদের টেকনিক্যাল লোক নেই, এজন্যই ব্যবহার হয় না । কথা কি সেটা ?? যদি আপনি ব্যবহারের প্রয়োজন নাই হয় তবে টেকনিক্যাল লোক তৈরী হবে কিভাবে ?? ল্যাব আধুনিক নয় । আমাদের যে সুযোগ সুবিধা আছে সেটা ব্যবহার করার লোক কি আছে ?? তারপর তো উন্নতি সাধনের প্রয়োজনিয়তা আসে । আর এই সুযোগের মধ্যেও আমাদের পরিচালক আর প্রযোজকদের ধান্দা এফডিসি থেকে কতো রিল ফিল্ম মেরে দিবে । আপনার ঝন্টুদের তো দরকার নাই । তাদের ক্যামেরা একশ্যান তো ত্রিভুজ খাজের মাঝেই সীমাবদ্দ আর চিন্তা শক্তি ও ওতোটুকুই ।
আর আমাদের মহান ত্রাতা বড় নাটক ওয়ালার প্রযোজক হয়েছেন আর তাদের বাণিজ্যে কিন্তু ৩০ লক্ষ বেশি লগ্নি করার ইচ্ছা নাই কেননা প্রয়োজন তো হচ্ছে না । বাঘহীণ বনে তো মিয়ালই রাজা। আপনাকে এতাটুকু বলতে পারি ঝন্টু মন্টুরা হয়তো জহির রায়হান হবে না কিন্তু সালাউদ্দিন তো হতে পারেনই । শুধু তাই হলে চলবে । আমাদের মার্কেটটা কিন্তু খুব ছোট নয় । মার্কেট নিয়ে আপনাকে একটা উদাহরণ দেই । আমার বন্ধু আছে এক লাটভিয়ার চলচ্চিত্র পরিচালক । তাদের মার্কেট হলো মাত্র ১০ লক্ষ মানুষের । তবে সে কিন্তু তার সিনেমা শুধু ১০ লক্ষ মানুষের বাজারের কথা চিন্তা করে তৈরী করে না । তৈরী করে কোটি মানুষের জন্যই ।Yesterday at 12:39pm •

Arif Jebtik চলচিত্রের বিকাশের জন্য বিদেশী সিনেমা আনা দরকার; এরকম কথা না বলে সরকার যদি একটা দুইটা ভালো ফিল্ম ইন্সটিটিউটের জন্য বিনিয়োগ করেন, তাহলে ভবিষ্যতে কিছু ভালো মানের লোকজন পাওয়া যাবে এই শিল্পে।Yesterday at 12:41pm •

Vashkar Abedin রাসেল তুমিও শোনা কথায় কান দিতেছো মনে হয়। এফডিসিতে Arri 435... See More বইলা দুইটা ক্যামেরার একটা নষ্ট হইছে। ব্যবহার না করনের লেইগা নষ্ট হয় নাই, সঠিক ট্রেনিঙের অভাবে তার অপব্যবহার হইছে বইলা নষ্ট হইছে। পরিচালক প্রযোজকগো ধান্দা থাকে ফিল্ম মাইরা দেওনের কিন্তু এইটা আসে বিনিয়োগ আর প্রাপ্তির ফারাকটা খুব বেশি বা অনেক সময় ভালো না হওনের লেইগা। কিন্তু আমলাতান্ত্রিকতা যেইটা সরকার খুব সহজেই প্রভাবিত করতে পারে সেই জায়গায় দূর্নীতি হয় বেশি। আমার পেশার কারনেই এফডিসিতে যাইতে হয় বইলা জানি এফডিসিতেই এখনো চলচ্চিত্র নির্মাণের বেসিক এখনো অনুসৃত হয়।

আমাদের দেশে কোন ইন্সটিটিউট নাই চলচ্চিত্র শিক্ষার লেইগা যেইটা লাটভিয়াতেও আছে। একটা দেশের পরিস্থিতির সাথে আরেকটা দেশের তুলনা করতে হইলে তার অবকাঠামোগত বিষয়টা মাথায় রাখা দরকার।
Yesterday at 12:54pm •

Arif Jebtik রাশেদ হাফিজ, আমার প্রশ্নটা হচ্ছে সালাউদ্দিন হতে তাদেরকে আটকাচ্ছে কে ? " যা দিচ্ছি তাই খাচ্ছে" এই মনোভাব ?
এই মনোভাব তো একদিনে আসেনি। মধ্যবিত্তরা আগে সিনেমা হল ছেড়েছে তারপর ডিপজল এসেছে। ডিপজলের ধাক্কায় মধ্যবিত্তরা সিনেমা হল ছেড়ে আসে নি।

এখানে পুরো বিষয়টাকে অনেক বড় আকারে বোধহয় দেখতে হবে। এই সময়ে টিভির-ডিভিডির সহজলভ্যতা, মধ্যবিত্তের অন্যান্য নতুন জটিলতা এসব কারনেই মধ্যবিত্ত হল বিমুখী। এখন ভ্যাকুয়ামে ঝন্টু মন্টুরা করে খাচ্ছে। নিম্নবিত্তরা সিনেমা হলের বিনোদন পাচ্ছে।
এর জন্য বিদেশী সিনেমা আনার শর্তটা বোধহয় জরুরী নয়। ৩০ লক্ষ টাকার বড় নাটক তো সিনেমাই নয়, এটা ব্যবসার নতুন একটা ফর্ম, সেটাকে এখানে উদাহরন হিসেবে টানছি না।Yesterday at 12:57pm •

Kazi Mamun @Vashkar Abedin-তথ্য উপস্থাপন রীতি আসলে পাল্টানো দরকার। "ইরানে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতাতেই সেই অঞ্চলের প্রথা নির্মাণের মতোন ছবি গুলি তৈরী হইছে। " আবার সেই সরকারই ছবি ব্যানড করছে- Dariush Mehrjui's seminal film Gaav (The Cow, 1969) is now considered a pioneering work of the Iranian New Wave. The film was sponsored by the state, but they promptly banned ... See Moreit upon completion because its vision of rural life clashed with the progressive image of Iran that the Shah wished to project, while its prominence at international film festivals annoyed the regime. [53]
After the Iranian revolution, filmmakers experienced even more restrictions. Several films now regarded as the seeds of a renaissance in Iranian art films, such as Bahram Beizai's Cherikeh-ye Tara (Ballad of Tara, 1980) and Marg-e Yazd-e Gerd (Death of Yazd-e Gerd, 1982), and Amir Naderi's Jostoju (Search, 1982), were banned in Iran.
Since the mid 1980s, Iran's policy on film censorship has been changed in order to promote domestic film production: the strict censorship eased a little after December 1987. Old directors resurfaced and new ones emerged. [53] However, the application of the rules is often inconsistent. Several films have been refused release inside Iran, but have been given export permits to enter international film festivals. Even here, the censorship is inconsistent: May Lady by Rakhshan Bani-Etemad (1998) got through but her contribution to Stories of Kish (1999) did not. [54]
All of Jafar Panahi's films, including his recent film about female football fans[55], Offside (2006), have been banned from public theaters in Iran. [56] Offside was relegated to "a guest slot" at the International Fajr Film Festival. "It was not shown as an important film," says Panahi. "They didn't give any value to it."[56]
Several of Mohsen Makhmalbaf's films are also banned in Iran. For example, Time of Love and The night of Zaiandeh-rood were banned for dealing with physical love and for raising doubts about the revolution.[57]
In 2001, feminist filmmaker Tahmineh Milani made The Hidden Half, which was accused of presenting the anti-revolutionary forces in a positive light. Milani was jailed and her belongings stolen. Many Iranian and international artists and filmmakers protested and demanded her release. Eventually President Khatami and the Minister of Culture were able to secure her release. Of a subsequent film, Two Women, Milani has said "[it] was banned for seven months and before I could even start on it my script was banned for seven years. It was eventually released and was a box office hit in Iran.[58]
Among Iran's censorship rules is a ban on the depiction of women without headscarves. Joy of Madness, a documentary about the process of casting At Five in the Afternoon, was banned when Samira Makhmalbaf's own headscarf was deemed "insufficiently modest".[59] Tahmineh Milani's Kakadu, which was about the environment, was banned and still cannot be seen in Iran because it depicts a beautiful eight-year old girl who is not wearing a headscarf.
In Nargess, Rakhshan Bani-Etemad who is a pioneer of Iranian cinema, pushes censorship codes to the limits, questioning the mores of society, showing desperate people overwhelmed by social conditions and a couple living together without being married.[60]Yesterday at 1:08pm •

Rashed Hafiz সরি, Arri 435 । ভুলে গেছিলাম । ধন্যবাদ । আমাকে বলেন দেখি এই ক্যামেরা চালানো সঠিক লোক নাই ক্যান , ব্যবহারের লোক না্ই এইজন্যই তো । আর টেকনিক্যালে এফডিসি হয়তো বলিউড নয় কিন্তু টালিগঞ্জের থাইকা কি কম । তাইলে আমাগো গৌতম, ঋতুপর্ণ কিংবা বুদ্ধদেব এর মতন পরিচালক হইলো না ক্যান । হেগো তো হিন্দি ছবির দৌরত্মের কাছে আগেই দুই হাত তুলো স্যারেন্ডরি করণের কথা ।
Yesterday at 1:10pm •

Rashed Hafiz জেবতিক@ আমাদেরকে কারো আইসা আটকাতে হয় না । জানেন তো আমাগো দোজগে নাকি কোন পাহারাদারও লাগে না । আর ভাস্করদা@ এফডিসিতে চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালক-পরিবেশকদের যে চক্র আছে সেটা তো জানেন । তাদের কথা নু শুনলে কি হয় সেটা তো সূর্য দীঘল বাড়ির সময়ই দেখা গেছে । Yesterday at 1:11pm •

Kazi Mamun @Arif Jebtik-"চলচিত্রের বিকাশের জন্য বিদেশী সিনেমা আনা দরকার" আমাদের বলার কথা তা নয়, আমাদের বয়াল্র কথা হলো- শিল্পের বিকাশের জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগীতা দরকার, একে গার্মেন্টস সেক্টর এর সাথে গুলিয়ে ফেললে হবে না যে আহারে বাইরে থেকে কাপড় আসলো আর আমার কাপড় ধংশ হয়ে গেল। আরে ভাই ধংশ হওয়ার আর কি বাকি আছে? আপনি কি নিয়ে ভয় পাচ্ছেন? পাকিস্থানের কথা আপনি বলছেন? পাকিস্থানে আগেও কোনো জহির রায়হান ঋত্বিক ঘটক ছিল বলে আমার জানা নেই। 'হেডম থাকলে সমুদ্রেই সাঁতার দিতে পারবে, না থাকলে কুয়োতেই ডুইবা যাইবো'Yesterday at 1:16pm •

Rashed Hafiz আসলে চলচ্চিত্রের বিশাল শিল্প (দুই অর্থেই) নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কুল কিনারা থাকব না । আসলে জায়গাটা স্পেসিফিক হওয়া দরকার । আমার আলোচনার বিষয়বস্তু কিন্তু একটাই ছিল বিদেশী সিনেমা আসলে কেন বাংলা সিনেমা শিল্প ধ্বংস হবে ??
Yesterday at 1:19pm •

Kazi Mamun রাসেল ভাই তার আগে আমাকে বলেন বাংলা সিনেমা ধংশের কি বাকি আছে যে নতুন করে ধংশ হবে?Yesterday at 1:20pm •

Vashkar Abedin ইরানের যেইসব ব্যান খাইছে তার বড় একটা অংশ সরকারী পৃষ্ঠপোষকতাতেই বানানো হইছে। Yesterday at 1:26pm •

Rashed Hafiz মামুন@ বিদেশী সিনেমা আনলে দেশে দেথালে বাংলা চলিচ্চত্র শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে । বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যত নিয়া যারা উদ্বিগ্ন তারাই বলতে পারবেন এখনও এই শিল্পে ধ্বংসে আর কি বাকি আছে ।আর কতখানি তা দিয়ে ব্যবসা হচ্ছে ।Yesterday at 1:27pm •

Rashed Hafiz দেখুন আমরা নিয়ম করে বিদেশী সিনেমার প্রদর্শন বন্ধ রাখতে পারি । কিন্তু চোখ বন্ধ করে রেখে লাভ কি ?? প্রতিযোগিতায় নামার আগেই যদি দুই তুলে আত্মসর্ম্পন করি তবে সেই তেলপোকা হয়ে বেচে থাকার কি দরকার ?? আপনার দেশের মধ্যবিত্তের সবচেয়ে বিনোদনের বিষয় এখন হিন্দি সিরিয়াল , কই সেজন্য তো আমাদের টিভি চ্যানেল গুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না । মোদ্দা কথা হলো বিদেশী সিনেমা আনা... See More যাবেনা বিষয়টা সেটা হওয়া উচিত ছিল না । বরং একটা সুষ্ঠু নীতিমালা প্রনয়নের প্রয়োজন ছিল কি কি সিনেমা কি নিয়মের ভিত্তিতে এদেশের প্রেক্ষাগৃহে চলতে পারত । তাতে আর কিছু না হোক মধ্যবিত্তের বিনোদনের একটা জায়গা তৈরী হতো । তাতে বোধকরি দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও সামান্য কিছু রাজস্ব যোগ হতো ।
Yesterday at 1:43pm •

Kazi Mamun @Vashkar Abedin- কথা উল্টান কেন বস? আগে ছবি বানানো হয় নাকি আগে ব্যান খায়? বরং বলেন যে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বানানো ছবিও ওরা ব্যান করেছে কিন্তু তাও ইরানী চলচ্চিত্রের অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করতে পারেনি।Yesterday at 1:44pm •

Kazi Mamun "হেডম থাকলে সমুদ্রেও সাঁতার কাটতে পারে (মুক্ত বাজার এবং সরকারী একের পর এক ব্যান ও ইরানী চলচ্চিত্র'র অগ্রযাত্রা রুধতে পারেনি) আর হেডম না থাকলে কুয়োতেই ডুইবা মরে(যেমন করে গত ৪০ বছর ধরে কুয়োতে আটকে ডুবিয়ে মারা হচ্ছে বাংলা চলচ্চিত্রকে)"
Yesterday at 1:49pm •

Rashed Hafiz
Oniket Alam April 27 at 12:43pm
bhalo ekta post lekhar jonne dhonnobad. protection dia film industry ke rokha kora jabe na. theatre gulo bondho hoye gele amra kothay cinema dekhbo?

ar middle class er to kono matha betha nai. karon amra already hindi film dekchi dvd ar cable e. so ekhon amra riksha owla der jonne kumirer kanna kadchi.
Yesterday at 1:51pm •

Rashed Hafiz Arif Jebtik @ মানুষ বিশেষ করে আমাদের দেশের মানুষ দেয়াল পিঠ না ঠেকা পর্যন্ত ভালো করে রিএক্ট করতেও জানে না । একবার দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দেন দেখবেন তখন তার কি রিএ্যাকশন...প্রতিযোগিতা ছাড়া কি প্রতিভার বিকাশ হয় সহজে ??
Yesterday at 2:23pm •

Arif Jebtik "ধ্বংস" বিষয়টা আপেক্ষিক, ঐ আলোচনায় এখন যাচ্ছি না। আমি বরং একে বলব বিবর্তন। মার্কেটের চাহিদার সঙ্গে মিলে বিবর্তিত হয়েছে। কথা হচ্ছে আরো অনেক ভালো মানের সিনেমা এখানে তৈরী হওয়ার কথা ছিল যা হচ্ছে না।
কিন্তু আমার কথা তা নয়, আমার কথা হচ্ছে এই "ধ্বংস থেকে উত্তরনে" বিদেশী সিনেমা কিভাবে বড় সহায়ক হতে পারে, অন্তত বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা বুঝতে চেষ্টা করা। উত্তরনে যে উৎসাহ দরকার সেটা কিভাবে আমাদের হলগুলোতে হিন্দি সিনেমা না দেখানো পর্যন্ত শুরু হবে না, সেটা আমার এখনও বোধগম্য হয়নি।

আমার তো মনে হয় আমাদের সিনেমাকে সত্যিকার অর্থেই সিনেমা হিসেবে একটা বড় ইন্ড্রাস্টি করার ক্ষেত্রে বিদেশী সিনেমা আমদানিটা বড় কোনো শর্ত নয়।

আমি জোর দিচ্ছি সরকারের চলচিত্র প্রেম ( যদি সত্যি থেকে থাকে ) সেটাকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে।আমার কিছু প্রস্তাব হচ্ছে ,

১. আমাদের দেশে জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারটাকে যে স্তরে নেয়া হয়েছে, সরকার সেটাকে অনেক শক্তিশালী করতে পারে। ভালো গল্প, ভালো মেকিং এর জন্য শুধু ক্রেস্ট আর সামান্য কয়টি টাকা সহ একটি সনদ নয়, বরং বড় আকারে পুরস্কার দিতে হবে। পুরস্কারের গ্ল্যামার আসলে মেকারদের মাঝে প্রতিযোগিতা আসবে।
২. সেন্সর বোর্ড এবং ইত্যকার সরকারি কাজকর্মকে ঠিকঠাক করতে হবে।
৩. ব্যক্তি মালিকানাধীণ স্টুডিও এবং অন্যান্য অবকাঠামোকে প্রনোদনা দিতে হবে।
৪. কঠোর ভাবে পাইরেসি বন্ধ করতে হবে। বিনিয়োগ ফেরত আসার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ঝুকি।
৫. ফিল্ম ইন্সটিটিউটের বিষয়টা আগেই উল্লেখ করেছি।
৬. তরুণ ভালো মেকারদের জন্য কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা দেয়ার কথা ভাবা যেতে পারে। আমাদের শর্ট ফিল্মগুলোতে অনেকগুলো ভালো কাজ হয়। এদেরকে মেইনস্ট্রিমে আনার জন্য কী করা যায় সেটা ভেবে দেখা যেতে পারে।

এই কাজগুলো করলে একটা পরিবেশ তৈরী হবে। এরকম আরো অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে, যেগুলো হয়তো বোদ্ধারা ভালো বলতে পারবেন।

এসব করে আমাদের চলচিত্রকে শক্তিশালী করার ভিত আমাদের আগে তৈরী করতে হবে, এবং সেই ভিত তৈরী না করলে শুধু বিদেশী সিনেমা আমদানি করে দেশি সিনেমার উত্তরন কতোটুকু সম্ভব, সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ এখনও রয়ে গেছে।Yesterday at 2:34pm •

Kazi Mamun @Arif Jebtik- আপনার প্রস্তাবনা গুলো ভালো কিন্তু বাংলাদেশের জন্য বা বাঙালীর জন্য দেয়ালে পিঠ ঠেকার বিকল্প নেই, প্রতিযোগীতা ছাড়া শিল্প বিকশিত হয় না, privilege দিয়ে দুনিয়ার কোথাও শিল্পের উন্নয়ন করা যায় নি, বাংলাদেশেতো এটা ধ্বংশই টেনে এনেছে। Yesterday at 2:39pm •

Rashed Hafiz স্যরি...এখন উঠেত হচ্ছে...পরে এস মন্তব্য করব..
Yesterday at 2:40pm •

Kajal Abdullah বাহ! ভালোই তো এই লেখাটি একযোগে তিনটি পেক্ষাগ্রহে মুক্তি পেয়েছে!ভালো লেগেছে।Yesterday at 6:41pm •

Fahmidul Haq এখানে ভালো আলোচনা হচ্ছে।
একটা তথ্য শোধরানো দরকার, আরিফ জেবতিক, পাকিস্তানে ভারতীয় সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে চলছে বেশি দিন নয়। পাকিস্তানের চলচ্চিত্রশিল্প ধ্বংসের কিনারায় এসে দঁাড়িয়েছিল অনেক আগেই, ভি্সিআর আসার আগে, ১৯৭৯ সালে জিয়াউল হক সরকার ক্ষমতায় আসার পর। ঐ সরকারের ইষলামাইজেশনের জোশের প্রথম কোপটা পড়ে চলচ্চিত্রের ওপর। ১৯৭৯ সালে নির্মিত ছবির সংখ্যা ছিল ৯৮,... See More পরের বছর ৫২ বা ৫৩।

ভারতীয় বা বিদেশী ছবি আমদানিতে আমাদের চলচ্চিত্র-শিল্পের উন্নয়নের নিশ্চয়তা যেমন দেয়না, তেমনি ধ্বংষও নিশ্চিত করেনা। এই মুহূর্তে যারা করে-কেটে খাচ্ছে, তারা মূল প্রতিবাদকারী। সঙ্গে আছেন ভারত ও ভারতীয় পণ্য নিয়ে আতঙ্কে থাকা সিভিল সোসাইটির এক অংশ (আতঙ্কের কারণও আছে, অবশ্য)। আমরা ভারতীয় বা ইংরেজি বই পড়ি। আমাদের প্রকাশনা-শিল্প যা ছিল বা যেমন থাকার কথা তেমনই আছে। ভারতীয় বইকে তো হুমকি হিসেবে দেখি না, কারণ পাঠক হিসেবে ভারতীয় বই পড়ার একটা ধারাবাহিকতা আছে।
ভারতীয় ছবি বন্ধ করেছিলেন আইয়ুব খান, ১৯৬৫ সালে যুদ্ধ শুরু হবার পরপরই। আঞ্চলিক রাজনীতির কারণে এটা হয়েছে। আবার বঙ্গবন্ধু সরকার উর্দু ছবি বন্ধ করেন ১৯৭২ সালে। কারণ জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, আঞ্চলিক রাজনীতি। কিন্তু আমি ভারতীয় হিন্দি-বাঙলা কেন, যদি সাবিহা সুমারের উর্দু ছবি 'খামোশি পানি' দেখতে চাই বড় পর্দায়। 'মাটির ময়না' দেখলে পাকিস্তানিদেরও ১৯৭১ বা তার পূর্বের ঘটনা সম্পর্কে ভুল ভাংবে। সব ধরনের বিদেশী ছবি আমি সিনেমা হলে দেখতে চাই। 'অবতার' আমি ডিভিডিতে দেখেছি, কিন্তু বড় পর্দায় দেখতে চাই। থ্রি ইডিয়টস তিনবার দেখেছি ডিভিডিতে, প্রেক্ষাগৃহে আবার দেখতে চাই। এটা অধিকার। আইয়ুব খানের দেশ ব্যান উঠিয়ে নিয়েছে, আর আমরা আইয়ুববিদ্বেষী হবার পরেও আইয়ুব খানের জারিকৃত আদেশ সংরক্ষণ করছি।

এখন কোনো ভারত-বান্ধব সরকার যদি সেই সুযোগ করে দেয়, আমি স্বাগত জানাবো।
রাহা, শিরোনাম পছন্দ হয়েছে। Yesterday at 9:00pm •

Arif Jebtik @ফাহমিদুল হক, আমরা ভারতীয় বই পড়ি ঠিকই, কিন্তু যখনই আনন্দবাজার গোষ্ঠি এখানে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান খুলতে চায়, তখন শাহবাগের প্রকাশক পাড়া কিন্তু তার বিরোধিতা করে। বিষয়টা রুটি রুজির জন্যই। Yesterday at 9:56pm •

Arif Jebtik আচ্ছা, প্রাসঙ্গিক একটা ব্যাপার মনে পড়ল। স্টার সিনেপ্লেক্সে কিংবা মধুমিতায় যে ইংরেজী ছবিগুলো দেখায় তার ব্যাপারে নিয়ম কী ? মানে এই নিষেধাজ্ঞা কি ভাষা ভিত্তিক নাকি দেশ ভিত্তিক ? সব আমদানি নিষিদ্ধ হলে স্টার সিনেপ্লেক্স কিংবা মধুমিতা কিভাবে আনছে ? কেউ জানলে একটু আলোকপাত করেন।Yesterday at 9:58pm •
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29143002 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29143002 2010-04-27 03:09:04
দৃষ্টি আকর্ষণঃ আওয়ামী এমপির ড্রাইভারও কোটিপতি... এই পোস্ট এ নিয়ে ২৪ ঘন্টায় ৬ বার এসেছে আওয়ামী এমপির ড্রাইভারও কোটিপতি ... আর ভাবলাম হায়রে দেশ । সব চোর বাটপার । পোস্টটা করেছিলেন রেডিও নেট নামের কেউ বোধহয় । আজ পোস্টটি দেখলাম কিছুক্ষণ আগেই সরানো হয়েছে ।

আবার কিছুক্ষণ আগে (৪-৫ ) ঘন্টা আগে একই পোস্ট দেখলাম তখন আর ঢুকিনি ভাবলাম রিপোস্ট । কিন্তু কয়েক মিনিট আগে একই পোস্ট দেখে গুগলে সার্চ দিলাম দেখি গতকাল থেকে এ পর্যন্ত এই একই পোস্ট করা হয়েছে ৬-৭ বার । তবে একই পোস্ট, পোস্টদাতা ভিন্ন ভিন্ন ।

১.আওয়ামী এমপির ড্রাইভারও কোটিপতি. লিখেছেন আকাশ চৌ, ২৩ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:৪১.
২. আওয়ামী এমপির ড্রাইভারও কোটিপতি. লিখেছেন গল্পসল্প, ২২ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৩:২৬.
৩. ২ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৪১ লিখেছেন মোহামম্‌দ শওকত মনজু
৪. লিখেছেন জুেয়ল মৃর্ধা
৫. Click This Link
৬. লিখেছেন রবিউল হোসেন

তবে একই ব্যক্তি বারে বারে নানা নিকে পোস্ট দিচ্ছে নাকি সবগুলো নিকই আলাদা কিন্তু তাদের পরিচয় একটাই তারা পেইড ব্লগার । এরপর বলুন সেই সংবাদ এর গুরুত্ব আর ভিত্তি?? ইহার দেখার পর ব্যাপক মজা পাইলাম <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29140278 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29140278 2010-04-23 02:42:08
মোস্তফা জব্বারের এই ঔদ্ধত্বের জবাব একটাইঃ অভ্র ব্যবহারকারী বাড়াই ব্লগে ঢুকে যে কেউই মনে করতে পারেন বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা এখন বিজয় না অভ্র?? এখনই সিদ্ধান্ত নেবার সময় হয়ে গেছে..... সারাদেশের টক অফ দ্য টাউন এখন এটা... কিন্তু আসল চিত্র কি??
যেখান থেকে এই বিবাদের শুরু সেটা হলো বিজয়ের মালিক মোস্তফা জব্বার এর লেখা দেশের জাতীয় একটি দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে । সেখানে তিনি দাবী করেছেন অভ্র পাইরেটেড । বিজয়ের লে আউট ব্যবহার করা হয়েছে । স্বভাবতই তিনি যেহেতু বিজয় দিয়েই পেট চালান , শুধু পেট নয় তার ব্যবসা যশ খ্যাতি এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রীর আইটি বিশেষজ্ঞ বনে যাওয়া, সবকিছুর পিছনেই একটি মাত্র কারণ তা হলো তিনি বিজয়ের মালিক ।
আর মোস্তফা জব্বার শুধু এবারই নয় এর আগেও নানাভাবে ইনিয়েবিনিয়ে অভ্র নিয়ে তার আপত্তি জানিয়েছেন । আমার আলোচনা বিষয়বস্তু সেটা নয় । মোস্তফা জব্বার কি বলেছেন আর তাই নিয়ে ব্লগে আগুন জ্বালিয়ে সেই উষ্ণতায় আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তোলার জন্য নয় । মোস্তফা জব্বারের লেখা এসেছে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে । সেই দৈনিকের যারা পাঠক বোধকরি লক্ষাধিক হবে যার ৩ শতাংশ বিজয় অভ্র নিয়ে মাথা ব্যথা নেই । কিন্তু সেই লেখা এই বিশাল মানুষকে বিভ্রান্ত করবে । শুধু কি তাই দেশের হর্তাকর্তারা সবাই এ বিষয়ে অন্ধ। আর সেই অন্ধদের হাতী চেনানোই মোস্তফা জব্বারের কাজ । নইলে স্রেফ প্রতিটি বিজয় কিবোর্ড বাবদ ৫ টাকার ভিক্ষা তিনি নিয়ম জারী করে গ্রহন করতেন না । আর তিনি কিন্তু তার জায়গায় খুব সার্থক । যাদের হাতী চেনানো দরকার আর যাদের দ্বারা টিপসহি নেয়া দরকার তিনি খুব চুপিসারেই তা সময়মতন করে ফেলেন ।

এবার আসি দ্বিতীয় প্রসংগে । দেশের যদি কম্পিউটার ব্যবহারকারী যদি ১০০ শতাংশ ধরি তবে সেই কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহার করেন ৫০-৬০ শতাংশ । যারা প্রায় সবাই ব্যবহার করেন বিজয় । আর এই ১০০ জন ব্যবহারকারীর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট নামক দুষ্প্রাপ্য জিনিষ ব্যবহার করেন আবার সেই ১৫ শতাংশের মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেটে বাংলা ব্যবহার করুন । তবে চিন্তা করুন আমাদের অভ্রব্যবহারকারীদের সংখ্যা । তারপরও নেহাত সেটা কম নয় । আমার আপত্তিটা সেখানে নয় । এই অভ্রব্যবহারকারী প্রায় প্রতিটি মানুষই এই অভ্রকে সমর্থন করবে সেটা জানা কথা । সেই অভ্রব্যবহারকারী আমরাই ব্লগ কিংবা ফেসবুকে একটিভ । সেই তাদের মাঝেই এই উত্তাপ্ত ছড়িয়ে কি লাভ?? আমার জানামতে দেশের সিদ্ধান্তদাতা কোন আমলামন্ত্রী অভ্র ব্যবহার করেন না । আর তাদের এই বিষয়ে জ্ঞান; তা বলাই বাহুল্য । আর ব্লগে কিংবা ফেসবুকে এই কার্যকলাপ স্রেফ অভ্রব্যবহারকারীদের সচেতন করবে । তার থেকে বেশীকিছু আশা করা অরণ্যেরোদন ছাড়া আর কিছু নয় । আর আপনার আমার এই কার্যকলাপ অভ্রব্যবহারকারী ছাড়া খুব সামান্য মানুষই বুঝতে বা পড়তে পারবে । কেননা কাদের কম্পিউটারের আপনার আমার লেখা হিব্রুর থেকেও দুর্বোধ্য স্রেফ বাক্স বাক্স !!! যদি সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে জানাতে হয় তবে দরকার দেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে এ বিষয়ে মতামত প্রকাশ করা । সেটা যদি সম্ভব হয় আর অভ্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হয় (আর সাথে অভ্র ডাউনলোডের লিংক )তবে দেখবেন মাত্র ১ সপ্তাহে অভ্র ব্যবহারকারীর সংখ্যা হবে কয়েকগুন বেশী । আর পারলে আমাদের সিদ্ধান্তদাতা মশাইদের অভ্র মালটা কি সেটা মাথায় দেয় না কি করে সেটা বুঝান ।

আসি মূল প্রসংগে: যে বিষয়ে আমি নিজেও পরিষ্কার নই । অভ্রে ইউনিজয় কিংবা বিজয় এ লিখতে বিজয়ের যে লেআউট ব্যবহার করা হয়েছে তা (....existing law 9in relation to IPR........ Copyright Act 2005 and Patent Act 1911.) কি কপিরাইট ভংগ করে ?? যদি করে তা উতরানোর উপায় কি ? আর না করে তবে তো আর কোন ব্যাপার না ।

মোস্তফা জব্বারের জন্ম নাকি আমাদের কম্পিউটারে বাংলা লেখার অনুমতি দিয়েছে । তার এই ঔদ্ধত্বের জবাব হতে পারে দেশের সব মানুষকে বিজয় না ব্যবহার করতে হতো । যদি সবাই অভ্র কিংবা এমন কোন মুক্ত সফট্ওয়্যারে বাংলা লিখতে পারে । আর প্রফেশনাল কাজে অভ্র এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় । সেই প্রতিবন্ধকতা কেটে গেলে আর প্রয়োজনে আমরা বিজয় লেআউটের বিকল্প পেলেই তা সম্ভব । আবারও বলি আমার মনেহয় তার এই ঔদ্ধত্বের জবাব একটাই দেশে আরো অভ্র ব্যবহারকারী বাড়ান । ভাষা হোক উন্মুক্ত । সেজন্য মেহেদী হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29139177 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29139177 2010-04-21 14:44:00
ছায়ানটের বর্ষবরণঃ কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি?? আর অল্প কিছুক্ষণ পরেই নতুন বছরের সূর্যোদয়ঃ শুভ নববর্ষ ১৪১৭ পোস্টটা দিয়ে বেরিয়েছি । কিন্তু এতো মাপা সময় বাধ সাধল নিরাপত্তা ব্যবস্থা । শেরাটনের সামনে থেকেই রাস্তা বন্ধ , সেখানেই চেক পোস্ট । সরকারের এই ব্যবস্থা দেখে খুশি হলাম; যাক সরকার তবে বেশ সাবধানী । কিন্তু বিরক্ত লাগল রমনায় ঢোকার মুখে । একমাত্র গেট দিয়ে (ভিআইপিদের এলাকার দিকে) দিয়ে ঢোকার ব্যবস্থা আর তার থেকেও আহাম্মুকি কাজ একটা মাত্র লাইন । রাতের ঘুম হারাম করে এলাম আরাম করে অনুষ্ঠান দেখব বলে আর পুলিশ বেটাদের একী কাণ্ড?? সেই ২০ মিনিটের জায়গায় আমাদের সময় লাগল প্রায় ৪৫ মিনিটরেও বেশি, ততোক্ষণে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে , এবারো পারলাম না শুরু থেকে থাকতে, মনটা খারাপ হয়ে গেল । গত বছর তো দেশেই ছিলাম না । ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে শুরু হলে আমরা ও ধীরে ধীরে বাড়ি ফেরার জন্য তৈরী হলাম । বাড়ি ফেরার পথে এক বন্ধুর বাসায় ইলিশ-পান্তা খেয়ে বাড়ি ফিরলাম ।
যে জিনিষটা ভালো লাগল সেটা হলো সব মানুষের আগ্রহ দেখে । এবার কেন যেন হাওয়ায় খুব ভাসছিল , মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য হয়তো ..রমনার বটমূলে আবার কোন ঝামেলা হতে পারে , অনেকের মতো আমি ভেবেছিলাম রমনার বটমূলে হয়তো মানুষজন কম যাবে । কিন্তু আমার সেই ধারণাকে ভ্রান্ত করে দিয়ে হাজার হাজার মানুষের ঢল । আমি সত্যি ভীষণ মুগ্ধ । মানুষ অরাজকতা ভয় পায় না । মিথ্যা ভয় হুমকি ধর্মের দোহাইয়ের তোয়াক্কা করে না । আর এই নববর্ষ, বর্ষবরণের এই রীতি কোন ধর্মের নয় বর্ণের নয় ; এটা সম্পূর্ণ আমাদের. এটা বাঙালিদের নিজস্ব সংস্কৃতি । এই বর্ষবরণ আমাদের ঐতিহ্য । নববর্ষের প্রাণের উৎসবে মাতুন । আর এই উৎসবে শুদ্ধ হোক পৃথিবী । জয় হোক বাংলার-বাঙালির । জয়তু বাঙালিয়ানা ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29134677 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29134677 2010-04-14 10:13:17
আর অল্প কিছুক্ষণ পরেই নতুন বছরের সূর্যোদয়ঃ শুভ নববর্ষ ১৪১৭ শুভ নববর্ষ ১৪১৭ আর বৈশাখকে স্বাগত জানাইঃ

এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ।
তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক।।
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।।
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ।
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29134593 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29134593 2010-04-14 05:53:35
রবির নতুন বিজ্ঞাপনঃ আমি রবি, আপনি??
একটেল এখন রবি । সেই নিয়ে নানা রকম প্রচার প্রচারণা চলছে । এই রবিমেলা, সারা শহর জুড়ে একটেল এখন রবি, একটেল এখন রবি ত ভরা । আবার যেদিন রবি লঞ্চ করল সেই দিনে জন্ম নেয়া শিশুর ভরণপোষণের ভার নাকি রবির । (ভাগ্যিস সব শিশুর নাম রবি এমন আইডিয়া কেউ দেয় নাই) সেই প্রচারণায় এসেছে নতুন চমক, আমি রবি, আপনি ?

দেশের রবি নামের যতো বিখ্যাত আছে তাদের নিয়ে এই আয়োজন । যেমন রবি চৌধুরী নামের সূত্রে তাদের ব্রান্ড এ্যাম্বসেডর । তবে এর মাঝে আসল খবর হলো আমাদের ব্লগার আশীফ এন্তাজ রবি । তিনি ব।রগার হিসেবে সম্প্রতি জনপ্রিয়তা পেলে ও নিজ ক্ষেত্রে তিনি অনেক আগে থেকেই বিখ্যাত । তবে যাই রবির এ্যাড নিচে ঝুলে থাকতে থাকতেই রবি এখন রবির মডেল ।

তবে এই আয়োজন শুরুর পর থকে নাকি নানা সমস্যা শুরু হয়েছে । অনেকেই ভিড় জমাচ্ছে মডেল হতে । যাদের নাম রবি নয় তারা নাকি নাম পরিবর্তন করে রবি হতে চায় আবার রবিউল নামের জনৈক রিক্সাচলাক তার নাম রবি বলেই দাবী করেছেন যে তিনিও বিখ্যাত হবেন যদি তার ছবি ছাপা হয় ।






.......
বি:দ্র: এই সংবাদের কোন তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি । তবে নাম প্রকাশের স্বর্তে একজন বলেছেন ইহা ইথারে ইথারে ভাসমান তথ্য । তবে তিনি যদি বিখ্যাত হয়ে যান তাই নাম প্রকাশিত হইল, না । তাই লেখক এই পোস্টের জন্য দায়ী নহে । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29133543 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29133543 2010-04-12 17:52:26
হুমমমমঃ আগামীর জন্য কিছু রাখুন... ১.
ট্রাফিক সিগন্যাল, সামনে লাল বাতি । গাড়িটা থেমে আছে । গাড়িতে বসে আছে একজন মধ্যবয়স্ক এক্সিকিউটিভ ধাচের মানুষ আর সাথে আট-দশ বছরের ছেলে, পরনে স্কুলের পোশাক ।আবহ বলে দেয় বাবা স্কুল শেষে ছেলে বাড়িতে পৌছেঁ দিচ্ছে । ক্লোজশটে দেখা যায় গাড়িতে রাখা একটা খেলনা শোপিস ইঞ্জিনের ঝাকুনিতে কাপঁছে ।
হঠাৎ করে ছেলেটি বলে ওঠে.. পাইছি... সাইকেল মেকানিক.... বড় হয়ে আমি সাইকেল মেকানিক হবো....
বাবা ভড়কে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন..... সাইকেল মেকানিক, এতোকিছু থাকতে তোমার সাইকেল মেকানিক হবার ইচ্ছে হলো কেন ??
ছেলের চটপট উত্তর... তোমারা যেভাবে পেট্রোল (জ্বালানী বা শক্তি) নষ্ট করছো তাতে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কোন জ্বালানী থাকবে না । তখন সবাই সাইকেল ব্যবহার করবে । আর তাই সে....
বাবা ছেলের কথা শুনে খানিকটা লজ্জা পেয়ে সিগন্যালে দাড়িয়ে থাকা গাড়ির স্টার্টটা বন্ধ করেন । (হিন্দি জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে বিজ্ঞাপনটি নিজের মতন করে লেখা)
২.
ঢাকা শহর এখন বলা যায় বিলবোর্ডের শহর । আর সেই বিলবোর্ড জুড়ে চলছে নানা রকম অদলবদল এর বিজ্ঞাপন । সেই বিজ্ঞাপনে আবারো ট্রাফিক সিগ্যানাল । লালবাতি জ্বলছে। তবে এবার চলমান নয় স্টিল বিজ্ঞাপন । জেব্রাক্রসিং দিয়ে দুটো গাড়ি দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যাচ্ছে আর একটি গাড়ি লালবাতি দেখে থেমে গেছে । নিচে লেখা... ‘আপনি শুরু করুন, বাকিরা ঠিকই বদলাবে’...
৩.
আবারো বিলবোর্ডের বিজ্ঞাপন । ঠিক আগের বিজ্ঞাপনটার পাশেই । পুরো বিলবোর্ড জুড়ে লেখা ... সবকিছু বদলাতে নেই... সত্য, সম্পর্ক, সুন্দর, সংবাদ...
৪.
বেশ রাত হয়েছে, বোধহয় ১১টা হবে । বাসায় ফেরার আগে চা খাবার জন্য্ একটা হোটেলের সামনে দাড়িয়েছি ঠিক সেই মুহুর্তে ইলেকট্রিসিটি চলে গেল, হোটেলের ভিতর থেকে চিৎকার... হাসিনা গেল, হাসিনা গেল... সেই সাথে সাথেই শুনি পাশের দোকানদারের চিৎকার .. খালেদা আইলো খালেদা আইলো .... আর সাথে সাথে তার ফিরিস্তি শুরু হয়ে গেল খালেদা আর পুত্ররা কত হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছেন যার জন্য আজকের এই অবস্থা...

হুমমমমঃ
রাজা যায় রাজা আসে । আর আমরা প্রজাই রয়ে যাই। আমাদের বদলে যাওয়া হয় না । আমরা বদলাতে পারি না , বদলে দিতেও পারি না। এতো হাহাকারের পরও আমাদের পরিমিতি বোধ জাগে না। আর আগামীর জন্য, আগামীর প্রজন্মের জন্য সঞ্চয় একটা অবসবাসযোগ্য বাংলাদেশ। গরম এলে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের জন্য হাহাকার করি । বর্ষা এলে আবার পানিতে ভাসি, শীত এলে ঠান্ডায় কাপিঁ ... এই যেন আমাদের নিয়তি । আর ওদিকে সরকার বাহাদুর বলেছেন ৩ বছরের আগে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় । তাহলে উপায় ??
একটাই, এবার সব রাগ-প্রতিবাদ শ্যাষ করবেন না , আগামী বছরের গরমের জন্য কিছু রাগ-প্রতিবাদ সঞ্চয় রাখুন ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29132639 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29132639 2010-04-11 03:19:18
এবার যুদ্ধাপরাধীরা রক্ষা পাবে কি করে?? যুদ্ধাপরাধীদের কিংবা তাদের রক্ষকদের(তথা শুভাকাঙ্ক্ষীদের) সম্ভাব্য পরিকল্পনা আর কর্মপন্থা কি হতে পারে??
দেশের অধিকাংশ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার । এ সময়ে দেশের সবখানে, ঘরে-বাইরে, ব্লগে-বন্দরে , পত্রিকা-টেলিভীশনে সর্বত্র আলোচ্য বিষয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল সেই অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া এবারই কিন্তু প্রথম নয় । মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সরকার সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল । কিন্তু শেষ হয়নি । তারা রক্ষা পেয়েছিল । কিভাবে তারা রক্ষা পেয়েছিল কিংবা কারা কিভাবে তাদের রক্ষা করেছিল তা এখন ইতিহাস । ইতিহাস জানতে আগ্রহীরা একটু খোঁজ-খবর নিলেই সেটা জানতে পারবেন ।

১৯৭১ পরবর্তি সময় যুদ্ধাপরাধীরা (যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছিল) যদি রক্ষা পেয়ে যায় তবে এবারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকেও তারা রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করবে । আর তারা রক্ষা পেতেও মরিয়া হয়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সময়ে এইসব যুদ্ধাপরাধীদের স্বজনরা ছাড়া আপনজন কেউ ছিল না । আর ছিল তাদের পাকিস্থানী আব্বা ও তাদের বৈদেশিক বন্ধুরা । কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন । দীর্ঘদিন ধরে তারা রাজনীতে পুর্ণবাসিত । তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা আছে, যারা সেই ১৯৭৬ সন থেকে এক অপরে আষ্টে-পিষ্ঠে বাঁধা। আছে তাদের মগজধোলাই করা ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। আছে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত-পালিত উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদীরা । আর বিদেশী বন্ধু আর পেট্রোডলার তো থাকছেই ।
১৯৭৫ সালের পর থেকে এদেশে জামাত-শিবির রাজনীতি শুরু করেছে আবার । তখন থেকে তারা একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে । ১৯৭১ সালে পরাজয়ের জ্বালা মেটাতে তারা বদ্ধ পরিকট । সেই লক্ষে সমাজের সর্বস্তরে তারা নিয়োগ করেছে তাদের মতাদর্শের নিজস্ব লোকজন । সেটা সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে সকল সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে । এককথায় তাদের রয়েছে একটি পরিপূর্ণ কাঠামো । যে কাঠামো পূর্ণনিমার্ণ শুরু হয়েছে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে । যারা এখন রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নানা পেশায় এবং পদে । যাদের অনেকেই সম্পূর্ণ রূপে বর্ণচোরা । তারা তাদের নেতাদের বাচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে । প্রয়োজনে তারা অর্ন্তঘাতমুলক তৎপরতা চালাতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধান্বিত হবে না ।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সদর্ভে বিরোধিতাকারী এই রাজনৈতিক দল জামাতী ইসলামের উপরের সারির বেশির ভাগ নেতাই ফেঁসে যাবে । নিজেদের জীবন বাচাতে মরিয়া এই নেতারা । যাদের রাজনৈতিক জীবনে মানুষের রক্তের দাগ লেগে আছে । হত্যা-ষড়যন্ত্র যাদের রাজনীতিরই অংশ । তারা কি নিজেদের রক্ষা করতে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে না ?? আর তাদের তৈরী সমাজের বিভিন্নস্তরের পেশাজীবি বর্ণচোররা আপ্রাণ চেষ্টা করবে না ??
জামাত-শিবির তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব যখন সংকটের মুখে মনে করছে তখন তারা নিজেদের রক্ষা করতে যেকোন কিছুই করতে পারে । যে প্রক্রিয়াতেই হোক তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে বানচাল করার চেষ্টা করবে । সেটাই স্বাভাবিক । এবার যুদ্ধাপরাধীরা রক্ষা পাবে কি করে?? যুদ্ধাপরাধীদের কিংবা তাদের রক্ষকদের(তথা শুভাকাঙ্ক্ষীদের) সম্ভাব্য পরিকল্পনা আর কর্মপন্থা কি হতে পারে?? আপনাদের সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশা করি । কেননা তাদের সম্ভাব্য পরিকল্পনা তথা কর্মপন্থা যদি আমরা কোনভাবে আন্দাজ করতে পারি আর জনগনকে জানাতে পারি তবেই জনগণ বিভ্রান্ত হবে না । কারণ সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এমন কি মিথ্যা ভয় দেখাতে তারা পারদর্শী । মনে রাখতে হবে, ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করেই, ভয় দেখিয়েই তারা তাদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটে । নিজের স্বার্থে জামাত কি করতে পারে সেটা হয়তো আমাদের কল্পনারও অতীত । তবে মোটা দাগে সহজ করে বলা যায় এই সরকারকে যেকোনভাবেই হোক উৎখাত করতে পারলেই তাদের চলবে। তাই সরকারকে যেকোনভাবেই হোক জনপ্রিয়হীন করতে পারলে কিংবা জনগনকে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ করতে পারলেই , যেকোন ইস্যুতে একটি চরম আন্দোলন করতে পারলেই কেবল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে একবারে থামানো কিংবা আরো দীর্ঘায়িত করা যায় । যদি আসলেই আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই আমাদের আরো সাবধান হতে হবে । নিজেদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে । যেন কান চিল নিয়ে যেতে না পারে ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29128120 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29128120 2010-04-03 03:25:06
২৫মার্চ কালো রাতঃ জগন্নাথ হলের গণহত্যা থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পাওয়া প্রতক্ষ্যদর্শী বিবরণ
আমার এক বন্ধুর আজ জন্মদিন। কিন্তু তার এই শুভ জন্মদিনটিতে সে বিষন্ন থাকে। কেননা আজ ২৫ মার্চ। ২৫ মার্চ কালো রাত। পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বর একটি রাত। আমাদের বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য একটি অধ্যায়। শুধু সেজন্যই নয় । এই ২৫ মার্চ রাতে তার বাবা জগন্নাথ হলের গণহত্যার লাইন দাড়িয়ে থেকেও অলৌকিক ভাবে বেচে যান । সেই কথা ভেবেই মেয়েটি শিউরে উঠে, প্রতিবছর ২৫ মার্চ এলে তার বিষন্ন মুখটি মনে পড়ে ।
সেই বন্ধুর বাবা-মা দুজনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন । ছিলেন কমরেড। তার বাবা কমরেড কালী রঞ্জনশীল, গত হয়েছেন আশির দশকের শেষভাবে । তার জবানীতে তিনি লিখে গেছেন সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা "জহন্নাথ হল-এ ছিলাম" । যা রশীদ হায়দার সম্পাদিত "১৯৭১: ভয়াবহ অভিজ্ঞতা" বই ছাপা হয়েছিল যা জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ ১৯৮৯ সালে প্রকাশ করেছিল।

(আমি সেই বাংলা লেখাটার একটা ইংরেজি অনুবাদ পেয়েছিলাম মেইল মারফত । যা Century of Genocide: Eyewitness Accounts and Critical Views; New York: Garland Publishing, 1997
Chapter 10, pp. 291-316 থেকে নেয়া ।সেখানে Massacre at Jagannath Hall নামে সেই ইংরেজি অনুবাদটি করেছিলেন সোহেলা নাজনীন। আমি সেখান থেকে বাংলা করার চেষ্টা করেছি।)


জগন্নাথ হল-এ ছিলাম
আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্র ছিলাম। জগন্নাথ হলের দক্ষিণ ব্লকের ২৩৫ নং রুমে বাসিন্দা ছিলাম। ২৫ শে মার্চ রাত, আমি ঘুমছিলাম, হঠাৎ পাকিস্থান সেনাবাহিনীর গোলাগুলির ভয়ংকর শব্দে ঘুম ভেংগে চমকে উঠলাম। চারদিকে ভয়ংকর গোলাগুলির শব্দ, থেকে থেকে গোলাগুলির শব্দও বোমা আর গোলা বিস্ফোরণ এর শব্দের নিচে ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল। আমি এতোটাই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম যে আমার কি করা করা উচিত বুঝে উঠতে পারছিলাম না ! কিছুক্ষণপর আমি ঠিক করলাম সুশীলের কাছে যাই। সুশীল তখন ছাত্র ইউনিয়নের সহকারী সাধারণ সম্পাদক । আমি খুব ধীরে ধীরে সিঁড়িতে হামাগুড়ি দিয়ে তৃতীয় তলায় সুশীলের রুমে গেলাম। ততোক্ষণে সুশীলের রুমে অনেক ছাত্রই আশ্রয় নিয়েছে কিন্তু সুশীল রুমে নেই। তখন আমাকে অনেক ছাত্রই বলল ছাদে যেতে যেখানে অন্যান্য অনেক ছাত্রই আশ্রয় নিয়েছিল কিন্তু আমি আমার নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিলাম (হয়তো স্বার্থপরের মতোই) তারপর তিনতলার উত্তর কোনের বাথরুমের দিকে হামাগুরি দিয়ে গেলাম আর সেখানেই আশ্রয় নিলাম । আমি বাথরুমের জানালা দিয়ে পূর্ব, দক্ষিণ এবং পশ্চিম দিক দেখতে পাচ্ছিলাম। দেখতে পেলাম যে পাকিস্থানী সৈন্যরা ফ্ল্যাশ লাইট দিয়ে রুমে রুমে ঢুকে ছাত্রদের খুঁজছে, যাদেরকেই পাচ্ছে তাদেরকে শহীদমিনারের দিকে নিয়ে গিয়ে জড়ো করে গুলি করে মারছে। তখন চারদিকে কেবল গুলির শব্দ আর ছাত্রদের আর্তচিৎকার, প্রাণ বাচানোর আকুতি। এর মাঝে কখনও কখনও পাকিস্থানীরা মর্টার দিয়ে গুলি করছিল। সংসদহলের সামনের টিনশেড ভবনে এবং উত্তর ব্লকে কিছু রুমে তখন আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।...
...কিছু সময় পর প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশজন পাকিস্তানী সৈন্যে আমাদের দক্ষিণ ব্লকে এলো এবং ডাইনিং রুমের দরজা ভেঙে ফেলল। ডাইনিং রুমের ঢুকেই তারা লাইট জ্বালালো এবং এরপর ডাইনিং রুমে আশ্রয় নেয়া ছাত্রদের গুলি করতে শুরু করল। তারপর যখন সৈন্য বাইরে বেরিয়ে এলো তখন তারা সাথে করে হলের কেয়ারটেকার প্রিয়নাথকে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে বাইরে নিয়ে এলো। তারকাছ থেকে হলের সিড়ি আর অন্যান্য ভবনগুলোতে যাবার রাস্তা দেখেতে তাকে বাধ্য করেছিল। তারা সেদিকে গেল। এই সময়রে পর থেকে আমি আর দেখতে পাচ্ছিলাম না । তখন আমি বাথরুমের জানালা দিয়ে বেরিয়ে তিনতলার সানশেডে আশ্রয় নিলাম । কিন্তু তখনো আমি বন্দুকের গুলির শব্দ, ছাত্রদের আর্তনাদ আর প্রাণবাচানোর আকুতি শুনতে পাচ্ছিলাম, আর সৈন্যরা প্রতিটি রুমে ঢুকে রুম তছনছ আর দামি জিনিষপত্র লুটপাটের শব্দ তাদের পৈশাচিক উল্লাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। তবে আমি তিনতলার সানশেড এ থাকায় তারা আমাতে দেখতে পায়নি ।
………এরপর তারা চলে গেলে আমি আবার বাথরুমে আশ্রয় নেই । সেই বাথরুমের জানালা দিয়ে আমি দেখলাম অন্যান্য হল, এসএম হল আগুনে জ্বলছে। ঢাকার উত্তর আর পূবদিক জ্বলছে, উত্তর আর পূবের দিগন্ত তখন লাল হয়েছিল। পুরো রাত জুড়ে পাকিস্তানী সৈন্য তাদের গণহত্যা এবং ধ্বংসলীলা চালিয়ে গেল। ধীরে ধীরে একসময় ভোরের আযান ভেসে এলো। আমি তখনো বাথরুমে ঘাপটি মেরে দাড়িয়ে আছি…..

…….সেই ভোরে কারফিউ জারি করা হয়েছিল এবং ভেবেছিলাম দিনের আলোয় হয়তো এই ধ্বংসলীলা আর গণহত্যা বন্ধ হবে। কিন্তু সেই গণহত্যা চলতে থাকল। পাকসেনারা তাদের হত্যা শুরু করল যারা আগের রাতের তাদের চোখ ফাকি দিয়ে পালাবার চেষ্টা করেছিল।....

…. তখন সকাল হয়ে গেছে কিছু ছাত্রের কণ্ঠস্বর শুনে আমি বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলাম। দেখি ছাত্ররা ধরাধরি করে একটি মৃতদেহ নিয়ে সিড়ি দিয়ে নামছে আর সৈন্যরা তাদের দিকে বন্দুক তাক করে ধরে আছে। সেই মৃতদেহটি আমাদের কেয়ারটেকার প্রিয়নাথের। সৈন্যরা আমাকে দেখে মৃতদেহটি বহন করার জন্য ছাত্রদের সাথে হাত লাগাতে বলল। আমি তাদের নির্দেশ মতো হাত লাগালাম। আমার সব রুম থেকে ছাত্রদের মৃতদেহ গুলো বয়ে নিয়ে এস মাঠে স্তুপ করছিলাম।

....আমরা সর্বমোট তিনজন ছাত্র ছিলাম, আমাদের দারয়োনের দুই ছেলে আর বাকি কয়েকজন হলের দারয়োন ছিল । তারা বাংগালী ছিল না। তারা পাকিস্থানী সৈন্যদের বলল যে তারা বাংগালী নয়, তাদের ছেড়ে দেয়া জন্য আবেদন করছিল । কিছুক্ষণ পর সৈন্যরা তাদের আমাদের থেকে আলাদা করে ফেলল।

.... পুরো সময় জুড়ে সৈন্যরা গালিগালাজ আর অভিশাপ দিচ্ছিল। সৈন্য বলেছিল " আমরা দেখব কিভাবে তোরা স্বাধীন বাংলাদেশ পাস ?? এখন জয় বাংলা , জয় বাংলা করিস না কেন ?? "এই বলে তারা ছাত্রদের লাথি মারছিল। মৃতদেহ গুলো টানা শেষ হলে তারা আমাদের কয়েকটা দলে ভাগ করল। তারপর আমার দলটি নিয়ে তারা হলের শিক্ষকদের আবসিক কোয়ার্টারে গেল এবং প্রতিটি তলার প্রতিটি রুম কন্নতন্ন করে খুজল আর দামি মালামাল লুট করল। নিচের সিড়িতে গতরাতের মৃতদেহ গুলো ফেলে রাখা হয়েছে স্তুপ করে। আর তারা উপর থেকে বাংলাদেশের পতাকাটা নামিয়ে আনল ।

....ফিরে আসার পর আবার সৈন্যরা মৃতদেহ গুলো শহীদমিনারের দিকে নিয়ার নির্দেশ দিলো। তার আগেই সৈন্যরা গতরাতের শিকার আরো মৃতদেহগুলো স্তুপ করে রেখেছিল। আমরা সেই মৃতদেহের স্তুপে আর কিছু মৃতদেহ যোগ করালাম। মৃতদেহ গুলো বয়ে নেয়ার সময় আমার ক্লান্ত হয়ে পড়লে তারা আমাদের হত্যার হুমকি দেয় আর দ্রুত কাজ করা তাগিত দিতে থাকে ।

আমার সাথে তখন আমাদের হলের দারয়োন সুনীল ছিল । হঠাত আমরা নারী কণ্ঠের ভয়ংকর চিতকার শুনলাম । ঐ মহিলা আমাদের হলের পাশের বস্তি থেকে চিতকার করে বেরিয়ে এলো । কেননা পাকিস্থানী সৈন্যরা আমাদের সাথে থাকা সেই অবাংগালীদের গুলি করে মারছিল। সেই দলে ঐ মাহলার স্বামীও ছিল। আমি বুঝতে পারলাম এরপর আমাদের পালা আসবে ।যেভাবে আমাদের আগের ছাত্রদের লাইন করে মারা হয়েছে । আমি এবং সুনীল মৃতদেহ গুলো পালা করতে করতে দেখতে পেলাম ড: দেব এর মৃতদেহ যিনি দর্শনের শিক্ষক ছিলেন । তখন ঠিক ঘোরের মাঝে ছিলাম । আমি বুঝাতে পারব না আমি কি করছিলাম কিংবা আমি কি করব ?? হতে পারে বেচে থাকার জন্য প্রবল আশা থেকে কিংবা অনুপায়ী হয়ে ।

মৃতদেহ গুলো স্তুপ করার পর আমাদেরকে দাড় করানো হলো । আমি অপেক্ষা করছিলাম সৈন্যের কখন আমাদেরকে গুলি করে। তারপর …??.. আমি এমনকি ভেবেছিলাম যে আমি মরে গেছি। আমি শুয়ে ছিলাম ডঃ দেব এর পাশে আর সুনীলের নীচে । অনেকক্ষণ পার হয়ে গেছে । কিছু সময় পরে মহিলা এবং শিশুর কান্না শুনে আমি চোখ মেললাম । দেখি আমি অক্ষত । ততোক্ষণে সৈন্যরা চলে গেছে । আমাদের মৃতস্তুপগুলোর মাঝে তখনো অনেকের প্রাণ ছিল । অনেকে মারাত্মক আহত অবস্থায় কাতরাতছিল । আমি বাচার জন্য দ্রুত মাঠ ছাড়লাম ।

আমি হলের কর্মচারীদের বস্তির মতো বাড়ি গুলোর দিকে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেলাম । প্রথমে আমি আমাদের ইলেকট্রিশিয়ানের বাসায় ঢুকলাম । আমি বাসয় ঢুকেই পানি আর আশ্রয় চাইলাম । আমাকে দেখেই তার বউ ই
উচ্চ শব্দে কাদতে শুরু করলে আমি হলের গেস্টরুমে গিয়ে আশ্রয় নিলাম । আমি . হঠাৎ করে ইদুর যে পুরনো পুস্তক বিক্রি করত, তার গলার স্বর পেলাম । সে বলল-
“ ভয় পাইয়েন না । আমি শুনছি যে আপনি জীবিত আছেন । আমি আপনাকে নিরাপদে পালানোর ব্যবস্থা করে দিবো।” এরপর সেথান থেকে আমি পুরনো ঢাকায় গেলাম । পুরান ঢাকা থেকে তারপর আমি নৌকায় করে বুড়িগংগা নদী পার হলাম, পার করে দেয়ার জন্য মাঝি আমার কাছে কোন টাকা নেয় নাই। সেখান থেকে আমি প্রথমে শিমুলিয়া যাই, শিমুলিয়া থেকে যাই নবাবগজ্ঞ এবং এপ্রিলের মাঝামাঝিতে আমি আমার বরিশালে গ্রামের বাড়িতে পৌছাই ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29123214 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29123214 2010-03-25 18:17:10
ডুবে আছি আবুল হাসানে
ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সহে যাও । ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলাও। এ লাইন গুলো বুঝতে শিখতে শিখতে পরিচয় আবুল হাসানের সাথে । একজন আবুল হাসানের সাথে ভাব ।
কবি ও সাংবাদিক আবুল হাসান ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। ষাটের দশকের মধ্যবর্তী সময়ের কবি আবুল হাসান। খুব অল্পসময়ের মধ্যেই তিনি কার স্বকীয়তায় বাংলা কাব্য-ভুবন জায়গা করে নেন । আবুল হাসান অল্প বয়সেই একজন সৃজনশীল কবি হিসাবে খ্যাতিলাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর মাত্র আটাশ বছর বয়সে আবুল হাসান মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে: রাজা যায় রাজা আসে (১৯৭২), যে তুমি হরণ করো (১৯৭৪) ও পৃথক পালঙ্ক (১৯৭৫)৷ মৃত্যুর পর কাব্যনাট্য ওরা কয়েকজন (১৯৮৮) ও আবুল হাসান গল্প- সংগ্রহ (১৯৯০) প্রকাশিত হয়। তিনি কবিতার জন্য মরণোত্তর 'বাংলা একাডেমী পুরস্কার' (১৯৭৫) এবং বাংলাদেশ সরকারের 'একুশে পদক' (১৯৮২) লাভ করেন।

সেই ক্ষণজন্মা কবির আমার ভালো লাগা কয়েকটি কবিতা

অপরিচিতি
(প্রথম প্রকাশ: বিচিত্রা--ডিসেম্বর ১৯৭৫)
যেখানেই যাই আমি সেখানেই রাত!

স্টেডিয়ামে খোলা আকাশের নিচে রেস্তোরাঁয়
অসীমা যেখানে তার অত নীল চোখের ভিতর
ধরেছে নিটোল দিন নিটোল দুপুর
সেখানে গেলেও তবু আমার কেবলই রাত
আমার কেবলই শুধু রাত হয়ে যায়!

একলা বাতাস

নোখের ভিতর নষ্ট ময়লা,
চোখের ভিতর প্রেম,
চুলের কাছে ফেরার বাতাস
দেখেই শুধালেম,

এখন তুমি কোথায় যাবে?
কোন আঘাটার জল ঘোলাবে?
কোন আগুনের স্পর্শ নেবে
রক্তে কি প্রব্লেম?

হঠাৎ তাহার ছায়ায় আমি যেদিকে তাকালেম
তাহার শরীর মাড়িয়ে দিয়ে
দিগন্তে দুইচক্ষু নিয়ে
আমার দিকে তাকিয়ে আমি আমাকে শুধালেম

এখন তুমি কোথায় যাবে?
কোন আঘাটার জল ঘোলাবে?
কোন আগুনের স্পর্শ নেবে
রক্তে কি প্রব্লেম?

কালো কৃষকের গান----------
দুঃখের এক ইঞ্চি জমিও আমি অনাবাদী রাখবো না আর আমার ভেতর
সেখানে বুনবো আমি তিন সারি শুভ্র হাসি, ধৃতপঞ্চইন্দ্রিয়ের
সাক্ষাৎ আনন্দময়ী একগুচ্ছ নারী তারা কুয়াশার মতো ফের একপলক
তাকাবে এবং বোলবে,‘তুমি না হোমার? অন্ধ কবি ছিলে? তবে কেন হলে
চক্ষুষ্মান এমন কৃষক আজ? বলি কী সংবাদ হে মর্মাহত রাজা?
এখানে আঁধার পাওয়া যায়? এখানে কি শিশু নারী কোলাহল আছে?
রূপশালী ধানের ধারণা আছে? এখানে কি মানুষেরা সমিতিতে মালা
পেয়ে খুশী?


গ্রীসের নারীরা খুব সুন্দরের সর্বনাশ ছিলো। তারা কত যে উল্লুক!
ঊরুভুরুশরীর দেখিয়ে এক অস্থির কুমারী কত সুপুরুষ যোদ্ধাকে
তো খেলো!
আমার বুকের কাছে তাদেরও দুঃখ আছে, পূর্বজন্ম পরাজয় আছে
কিন্তু কবি তোমার কিসের দুঃখ? কিসের এ হিরন্ময় কৃষকতা আছে?
মাটির ভিতরে তুমি সুগোপন একটি স্বদেশ রেখে কেন কাঁদো
বৃক্ষ রেখে কেন কাঁদো? বীজ রেখে কেন কাঁদো? কেন তুমি কাঁদো?
নাকি এক অদেখা শিকড় যার শিকড়ত্ব নেই তাকে দেখে তুমি ভীত আজ?
ভীত আজ তোমার মানুষ বৃক্ষশিশু প্রেম নারী আর নগরের নাগরিক ভূমা?

বুঝি তাই দুঃখের এক ইঞ্চি জমিও তুমি অনাবাদী রাখবে না আর
এম্ফিথিয়েটার থেকে ফিরে এসে উষ্ণ চাষে হারাবে নিজেকে, বলবে
ও জল, ও বৃক্ষ, ও রক্তপাত, রাজনীতি ও নিভৃতি, হরিৎ নিভৃতি
পুনর্বার আমাকে হোমার করো, সুনীতিমূলক এক থরোথরো দুঃখের
জমিন আমি চাষ করি এদেশের অকর্ষিত অমা!

একসময় ইচ্ছে জাগে, এভাবেই
একসময় ইচ্ছে জাগে, মেষপালকের বেশে ঘুরিফিরি;
অরণ্যের অন্ধকার আদিম সর্দার সেজে মহুয়ার মাটির বোতল
ভেঙ্গে উপজাতি রমণীর বল্কল বসন খুলে জ্যোৎস্নায় হাঁটু গেড়ে বসি-

আর তারস্বরে বলে উঠি নারী, আমি মহুয়া বনের এই
সুন্দর সন্ধ্যায় পাপী, তোমার নিকটে নত, আজ কোথাও লুকানো কোনো
কোমলতা নেই, তাই তোমার চোখের নীচে তোমার ভ্রুর নীচে
তোমার তৃষ্ণার নীচে
এই ভাবে লুকিয়েছি পিপাসায় আকণ্ঠ উন্মাদ আমি
ক্ষোভে ও ঈর্ষায় সেই নগরীর গুপ্তঘাতক আজ পলাতক, খুনী
আমি প্রেমিককে পরাজিত করে হীন দস্যুর মতোন
খুনীকে খুনীর পাশে রেখে এখানে এসেছি, তুমি
আমাকে বলো না আর ফিরে যেতে, যেখানে কেবলি পাপ, পরাজয়
পণ্যের চাহিদা, লোভ, তিরীক্ষু-মানুষ- যারা কোজাগরী ছুরি
বৃষ্টির হল্লায় ধুয়ে প্রতি শনিবারে যায় মদ্যশালায়, যারা
তমসায় একফোঁটা আলোও এখন আর উত্তোলন করতে জানে না।
আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে ঝরে পড়ে কেবলি যাদের রক্ত, রাত্রিবেলা আমি আজ
তোমার তৃষ্ণার নীচে নিভৃতের জ্যোৎস্নায় হাঁটু গেড়ে বসেছি আদিম আজ
এখন আমার কোন পাপ নেই, পরাজয় নেই।
একসময় ইচ্ছে জাগে, এভাবেই অরণ্যে অরণ্যে ঘুরে যদি দিন যেতো।

অপরূপ বাগান
চলে গেলে- তবু কিছু থাকবে আমার : আমি রেখে যাবো
আমার একলা ছায়া, হারানো চিবুক, চোখ, আমার নিয়তি।
জল নেমে গেলে ডাঙ্গা ধরে রাখে খড়কুটো, শালুকের ফুল :
নদীর প্রবাহপলি, হয়তো জন্মের বীজ, অলঙ্কার- অনড় শামুক !

তুমি নেমে গেলে এই বক্ষতলে সমস্ত কি সত্যিই ফুরোবে ?
মুখের ভিতরে এই মলিন দাঁতের পংক্তি- তা হলে এ চোখ
মাথার খুলির নীচে নরোম নির্জন এক অবিনাশী ফুল :
আমার আঙ্গুলগুলি, আমার আকাঙ্ক্ষাগুলি, অভিলাষগুলি ?

জানি কিছু চিরকাল ভাস্বর উজ্জ্বল থাকে, চির অমলিন !
তুমি চলে গেলে তবু থাকবে আমার তুমি, চিরায়ত তুমি !

অনুপস্থিতি হবে আমার একলা ঘর, আমার বসতি !

ফিরে যাবো সংগোপনে, জানবে না, চিনবে না কেউ;
উঠানে জন্মাবো কিছু হাহাকার, অনিদ্রার গান-

আর লোকে দেখে ভাববে- বিরহবাগান ঐ উঠানে তো বেশ মানিয়েছে !

বন্ধুকে মনে রাখার কিছু ১
একদিন ঝরা পাতার মতো নামহীন নিঃশব্দে
তোমাদের কাছ থেকে ঝরে যাবো যখোন
পিছনে ফেলে রেখে আমার নিদ্রাহীনতার কয়েক গুচ্ছ ফুল।

সম্ভব হবে না আর তোমাদের সাথে
রেস্তোরাঁর স্বগত সন্ধান।
সন্ধ্যেবেলা ইসলামপুর থেকে একতোড়া ফুল কিনে নিয়ে
গ্রীন রোড়ের নিষ্ফলতায় ফেলে আসা।

তোমরা তখন ভেবো একদিন কথাচ্ছলে
কোনো আমি এক জোড়া চোখের অবিনশ্বর সান্নিধ্যে
কী এক অমোঘ আলোয়
তার ব্লাউজের গন্ধময় চিত্র গেঁথে গেঁথে
আঁকতে চেয়েছি রক্তময় লাল নাশপাতি!

তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না
এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাবো, তোমার ভিতরে এক অসম্পূর্ণ যাতনা আছেন,
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই শুদ্ধ হ’ শুদ্ধ হবো
কালিমা রাখবো না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাবো; তোমার পায়ের নীচে পাহাড় আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই স্নান কর
পাথর সরিয়ে আমি ঝর্ণার প্রথম জলে স্নান করবো
কালিমা রাখবো না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
এখন তোমার কাছে যাবো
তোমার ভিতরে এক সাবলীল শুশ্রূষা আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই ক্ষত মোছ আকাশে তাকা–
আমি ক্ষত মুছে ফেলবো আকাশে তাকাবো
আমি আঁধার রাখবো না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
যে সকল মৌমাছি, নেবুফুল গাভীর দুধের সাদা
হেলেঞ্চা শাকের ক্ষেত
যে রাখাল আমি আজ কোথাও দেখি না– তোমার চিবুকে
তারা নিশ্চয়ই আছেন!

তোমার চিবুকে সেই গাভীর দুধের শাদা, সুবর্ণ রাখাল
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই কাছে আয় তৃণভূমি
কাছে আয় পুরনো রাখাল!
আমি কাছে যাবো আমি তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না!

প্রতিক্ষার শোকগাথা
তোমার চোখের মতো কয়েকটি চামচ পড়ে আছে দ্যাখো প্রশান্ত টেবিলে
আর আমার হাত ঘড়ি
নীল ডায়ালের তারা জ্বলছে মৃদু আমারই কব্জিতে !

টুরিস্টের মতো লাগছে দেখতে আমাকে
সাংবাদিকের মতো ভীষণ উৎসাহী

এ মুহূর্তে সিগ্রেটের ছাই থেকে
শিশিরের মতো নম্র অপেক্ষার কষ্টগুলি ঝেড়ে ফেলেছি কালো এ্যাসট্রেতে !

রেস্তোরাঁয় তুমি কি আসবেনা আজ স্বাতী ?

তোমার কথার মতো নরম সবুজ
কেকগুলি পড়ে আছে একটি পিরিচে

তোমার চোখের মতো কয়েকটি চামচ !

তোমার হাসির মতো উড়ছে চাইনিজ পর্দা রেস্তোরাঁয়

আর একটি অস্থির নীল প্রজাপতি পর্দার বুনট থেকে উড়ে এসে
ঢুকে গেছে আমার মাথায় !

রেস্তোরাঁয় তুমি কি আসছোনা আজ স্বাতী ?

রেস্তোরাঁয় তুমি কি আসবেনা আর স্বাতী ?

আবুল হাসান
সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে, উজ্জ্বলতা ধরে আর্দ্র,
মায়াবী করুণ
এটা সেই পাথরের নাম নাকি ? এটা তাই ?
এটা কি পাথর নাকি কোনো নদী ? উপগ্রহ ? কোনো রাজা ?
পৃথিবীর তিনভাগ জলের সমান কারো কান্না ভেজা চোখ ?
মহাকাশে ছড়ানো ছয়টি তারা ? তীব্র তীক্ষ্ণ তমোহর
কী অর্থ বহন করে এই সব মিলিত অক্ষর ?

আমি বহুদিন একা একা প্রশ্ন করে দেখেছি নিজেকে,
যারা খুব হৃদয়ের কাছাকাছি থাকে, যারা এঘরে ওঘরে যায়
সময়ের সাহসী সন্তান যারা সভ্যতার সুন্দর প্রহরী
তারা কেউ কেউ বলেছে আমাকে-
এটা তোর জন্মদাতা জনকের জীবনের রুগ্ন রূপান্তর,
একটি নামের মধ্যে নিজেরি বিস্তার ধরে রাখা,
তুই যার অনিচ্ছুক দাস !

হয়তো যুদ্ধের নাম, জ্যোৎস্নায় দুরন্ত চাঁদে ছুঁয়ে যাওয়া,
নীল দীর্ঘশ্বাস কোনো মানুষের !
সত্যিই কি মানুষের ?

তবে কি সে মানুষের সাথে সম্পর্কিত ছিল, কোনোদিন
ভালোবেসেছিল সেও যুবতীর বামহাতে পাঁচটি আঙ্গুল ?
ভালোবেসেছিল ফুল, মোমবাতি, শিরস্ত্রাণ, আলোর ইশকুল ?

নিঃসঙ্গতা
অতটুকু চায়নি বালিকা!
অত শোভা, অত স্বাধীনতা!
চেয়েছিল আরো কিছু কম,
আয়নার দাঁড়ে দেহ মেলে দিয়ে
বসে থাকা সবটা দুপুর, চেয়েছিল
মা বকুক, বাবা তার বেদনা দেখুক!

অতটা চায়নি বালিকা!
অত হৈ রৈ লোক, অত ভিড়, অত সমাগম!
চেয়েছিল আরো কিছু কম!

একটি জলের খনি
তাকে দিক তৃষ্ণা এখনি, চেয়েছিল

একটি পুরুষ তাকে বলুক রমণী!

আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি
ক্লাশভর্তি উজ্জ্বল সন্তান, ওরা জুড়ে দেবে ফুলস্কেফ সমস্ত কাগজ !
আমি বাজে ছেলে, আমি লাষ্ট বেঞ্চি, আমি পারবো না !
ক্ষমা করবেন বৃক্ষ, আপনার শাখায় আমি সত্য পাখি বসাতে পারবো না !
বানান ভীষণ ভুল হবে আর প্রুফ সংশোধন করা যেহেতু শিখিনি
ভাষায় গলদঃ আমি কি সাহসে লিখবো তবে সত্য পাখি, সচ্চরিত্র ফুল ?

আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !
সচ্চরিত্র ফুল আমি যত বাগানের মোড়ে লিখতে যাই, দেখি
আমার কলম খুলে পড়ে যায় বিষ পিঁপড়ে, বিষের পুতুল !

উচ্চারণগুলি শোকের
লক্ষি বউটিকে
আমি আজ আর কোথাও দেখিনা,
হাটি হাটি শিশুটিকে
কোথাও দেখিনা,
কতগুলি রাজহাঁস দেখি
নরম শরীর ভরা রাজহাঁস দেখি,
কতগুলি মুখস্থ মানুষ দেখি, বউটিকে কোথাও দেখিনা
শিশুটিকে কোথাও দেখিনা !

তবে কি বউটি রাজহাঁস ?
তবে কি শিশুটি আজ
সবুজ মাঠের সূর্য, সবুজ আকাশ ?

অনেক রক্ত যুদ্ধ গেলো,
অনেক রক্ত গেলো,
শিমুল তুলোর মতো
সোনারূপো ছড়ালো বাতাস ।

ছোটো ভাইটিকে আমি
কোথাও দেখিনা,
নরোম নোলক পরা বোনটিকে
আজ আর কোথাও দেখিনা !

কেবল পতাকা দেখি,
কেল উৎসব দেখি ,
স্বাধীনতা দেখি,

তবে কি আমার ভাই আজ
ঐ স্বাধীন পাতাকা ?
তবে কি আমার বোন, তিমিরের বেদীতে উৎসব ?

স্মৃতিকথা
(হেলাল, কাঞ্চন, ওয়ালী, বাচ্চু ও রাব্বীকে)

যে বন্ধুরা কৈশোরে নারকেল বনের পাশে বসে
আত্মহত্যার মতো বিষণ্ন উপায়ে উষ্ণ মেয়েদের গল্প কোরতো
শীতকালে চাঁদের মতোন গোল বোতামের কোট পড়ে
ঘুরতো পাড়ায়,
যে বন্ধুরা থিয়েটারে পার্ট কোরতো,
কেউ সাজতো মীরজাফর, কেউবা সিরাজ
তারা আজ, এখন কোথায় ?

রোমেনা যে পড়াতো ইশকুলে ছোট মনিদের বিদ্যালয়ে
রোমেনা যে বুদ্ধদেব বসুর উপন্যাস পড়ে তার
নায়িকার মতো জ্বরে ভুগতো,
আর মিহি শরীরের সাথে মিল রেখে
কপালে পরতো টিপ,
শাদা কোমরের কাছে দীর্ঘচুল ঝুলিয়ে রাখতো
ব্লু কালারের ব্যাগ,

দু’বৎসর আগে শুনেছি বিবাহ হ’য়ে গেছে তার,
এখন কোথায় ?

রুনী তার মাতাল স্বামীর কাছে না গিয়ে নিজেই একরাতে
একে একে শূন্যতায় সলজ্জ কাপড়গুলি খুলে ফেলে কুয়াশায়
উন্মাদিনী কোথায় পালালো !
নিজস্ব ভ্রুণের হত্যা গেঁথে দিয়েছিল তাকে মানসিক হাসপাতালের এক কোণে !
কোথায় সে ? এখন কোথায় ?

অনেকেই চলে গেছে, অনেক নারকেল গাছ হয়ে গেছে বুড়ো
অনেক প্রাঙ্গণ থেকে উঠে গেছে
গোলাপ চারার মতো সুন্দর বয়সমাখা প্রসিদ্ধা তরুণী,

মধ্যরাতে নারকেল বনের কাছে ভেঙে যায় আমারও গল্পগুলি
স্মৃতিকথা সেখানে নিশ্চুপ !

বৃষ্টি চিহ্নিত ভালোবাসা
মনে আছে একবার বৃষ্টি নেমেছিল ?

একবার ডাউন ট্রেনের মতো বৃষ্টি এসে থেমেছিল
আমাদের ইস্টিশনে সারাদিন জল ডাকাতের মতো
উৎপাত শুরু করে দিয়েছিল তারা;
ছোট-খাটো রাজনীতিকের মতো পাড়ায়-পাড়ায়
জুড়ে দিয়েছিল অথই শ্লোগান।

তবু কেউ আমাদের কাদা ভেঙে যাইনি মিটিং-এ
থিয়েটার পণ্ড হলো, এ বৃষ্টিতে সভা আর
তাসের আড্ডার লোক ফিরে এলো ঘরে;
ব্যবসার হলো ক্ষতি দারুণ দুর্দশা,

সারাদিন অমুক নিপাত যাক, অমুক জিন্দাবাদ
অমুকের ধ্বংস চাই বলে আর হাবিজাবি হলোনা পাড়াটা।

ভদ্রশান্ত কেবল কয়েকটি গাছ বেফাঁস নারীর মতো
চুল ঝাড়ানো আঙ্গিনায় হঠাৎ বাতাসে আর
পাশের বাড়ীতে কোনো হারমোনিয়ামে শুধু উঠতি এক আগ্রহী গায়িকা
স্বরচিত মেঘমালা গাইলো তিনবার !

আর ক’টি চা’খোর মানুষ এলো
রেনকোট গায়ে চেপে চায়ের দোকানে;
তাদের স্বভাবসিদ্ধ গলা থেকে শোনা গেল :
কী করি বলুন দেখি, দাঁত পড়ে যাচ্ছে তবু মাইনেটা বাড়ছেনা,
ডাক্তারের কাছে যাই তবু শুধু বাড়ছেই ক্রমাগত বাড়ছেই
হৃদরোগ, চোখের অসুখ !

একজন বেরসিক রোগী গলা কাশলো :
ওহে ছোকরা, নুন চায়ে এক টুকরো বেশী লেবু দিও।

তাদের বিভিন্ন সব জীবনের খুঁটিনাটি দুঃখবোধ সমস্যায় তবু
সেদিন বৃষ্টিতে কিছু আসে যায়নি আমাদের
কেননা সেদিন সারাদিন বৃষ্টি পড়েছিল,
সারাদিন আকাশের অন্ধকার বর্ষণের সানুনয় অনুরোধে
আমাদের পাশাপাশি শুয়ে থাকতে হয়েছিল সারাদিন

আমাদের হৃদয়ে অক্ষরভরা উপন্যাস পড়তে হয়েছিল !

জন্ম মৃত্যু জীবনযাপন
মৃত্যু আমাকে নেবে, জাতিসংঘ আমাকে নেবেনা,

আমি তাই নিরপেক্ষ মানুষের কাছে, কবিদের সুধী সমাবেশে
আমার মৃত্যুর আগে বোলে যেতে চাই,
সুধীবৃন্দ ক্ষান্ত হোন, গোলাপ ফুলের মতো শান্ত হোন
কী লাভ যুদ্ধ কোরে ? শত্রুতায় কী লাভ বলুন ?
আধিপত্যে এত লোভ ? পত্রিকা তো কেবলি আপনাদের
ক্ষয়ক্ষতি, ধ্বংস আর বিনাশের সংবাদে ভরপুর…

মানুষ চাঁদে গেল, আমি ভালোবাসা পেলুম
পৃথিবীতে তবু হানাহানি থামলোনা !

পৃথিবীতে তবু আমার মতোন কেউ রাত জেগে
নুলো ভিখিরীর গান, দারিদ্রের এত অভিমান দেখলোনা !

আমাদের জীবনের অর্ধেক সময় তো আমরা
সঙ্গমে আর সন্তান উৎপাদনে শেষ কোরে দিলাম,
সুধীবৃন্দ, তবু জীবনে কয়বার বলুন তো
আমরা আমাদের কাছে বোলতে পেরেছি,

ভালো আছি, খুব ভালো আছি ?

মাতৃভাষা
আমি জানিনা দুঃখের কী মাতৃভাষা
ভালোবাসার কী মাতৃভাষা
বেদনার কী মাতৃভাষা
যুদ্ধের কী মাতৃভাষা।

আমি জানিনা নদীর কী মাতৃভাষা
নগ্নতার কী মাতৃভাষা
একটা নিবিড় বৃক্ষ কোন ভাষায় কথা বলে এখনো জানিনা।

শুধু আমি কোথাও ঘরের দরোজায় দাঁড়ালেই আজো
সভ্যতার শেষ মানুষের পদশব্দ শুনি আর
কোথাও করুণ জল গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে,
আর সেই জলপতনের শব্দে সিক্ত হতে থাকে
সর্বাঙ্গে সবুজ হতে থাকে আমার শরীর।

সর্বাঙ্গে সবুজ আমি কোথাও ঘরের দরোজায় দাঁড়ালেই আজো
পোষা পাখিদের কিচিরমিচির শুনি
শিশুদের কলরব শুনি
সুবর্ণ কঙ্কন পরা কামনার হাস্যধ্বনি শুনি !

ঐযে নষ্ট গলি, নিশ্চুপ দরোজা
ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওরা, গণিকারা-
মধ্যরাতে উলঙ্গ শয্যায় ওরা কীসের ভাষায় কথা বলে ?

ঐযে কমলা রং কিশোরীরা যাচ্ছে ইশকুলে
আজো ঐ কিশোরীর প্রথম কম্পনে দুটি হাত রাখলে
রক্তে স্রোত গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে, শব্দ হয়, শুনি

কিন্তু আমি রক্তের কী মাতৃভাষা এখনও জানিনা !

বেদনার কী মাতৃভাষা এখনো জানিনা !

শুধু আমি জানি আমি একটি মানুষ,
আর পৃথিবীতে এখনও আমার মাতৃভাষা, ক্ষুধা !

বন্ধুকে মনে রাখার কিছু ২
দল বেঁধে সিনেমায় ঢুকে
মনে পড়ে যায় যদি আমাকে সবার কোনোদিন
দীর্ঘায়িত পর্দার অলৌকিক স্পর্শে সেদিন
পরিপূর্ণ শিহরনময় একটি দুঃখের দৃশ্যে
আমাকে খুঁজবে তুমি?
ঘরে ফিরে যাবার বেলায় মনে হবে?
নাকি, সে-রাতের কথা আকস্মাৎ দগ্ধ কোরে দেবে?
যে রাত্রে অর্থহীন পাগলের মতো
কী সে এক দুর্মর আকাঙ্খায়
শহরের শব্দহীন রাস্তায় সারারাত ঘুরে
শৈশবের পুরনো ইতিহাস
ইন্দ্রধনুর মতো পরেছি যখন চোখে মুখে!
এবং সমস্ত নারীর প্রেম-পাপে
ঘুমহীন নিয়নের মতো এই দেহ
টাঙ্গিয়ে দিয়েছি শেষ রাত্রির বিনিদ্র বাতাসে।
এক মূ্র্ছিত ঠোঁটে
পরম দুঃখে গেয়ে গেছিঃ
সহজ উপায় নেই কোনো স্বপ্নহীনতার?

বন্ধুকে মনে রাখার কিছু ৩
নরক-শয্যায় বৃথা আমাদের শূণ্য হুতাশন,
আজ মনে হয়ঃ নিরন্তর শোকের হাতের
আঙ্গুল আমরা সব!
কিছু-নেই-দুঃখের ভেতর ধ্বংসময় ক্ষণিক পাগল!

যেখানে প্রশান্তি নেই মানুষের লোকক্ষত গাঁথা,
সেখানে মৃত্যু, শুধু মৃতের ঘুমের অন্ধকার;
গ্রীনরোডের পুষ্পিত শাড়ীর মতো
মনে হয়না পৃথিবীকে তাই আর,
ইসলামপুরের পুষ্পস্তবকের মতো
পৃথিবীর নারীর হৃদয়!

তাই বলি তোমাদের একমাত্র মৃত্যুই সুন্দর
চাঁদের মতোন আত্মা আমার মেলে দিতে পারি
আজ অনন্ত মৃত্যু সম্ভাষণে।

বনভূমিকে বলো
বনভূমিকে বলো, বনভূমি, অইখানে একটি মানুষ
লম্বালম্বি শুয়ে আছে, অসুস্থ মানুষ
হেমন্তে হলুদ পাতা যেরকম ঝরে যায়,
ও এখন সে রকম ঝরে যাবে, ওর চুল, ওর চোখ
ওর নখ, অমল আঙুল সব ঝরে যাবে,
বনভূমিকে বলো, বনভূমি অইখানে একটি মানুষ
লম্বালম্বি শুয়ে আছে, অসুস্থ মানুষ
ও এখন নদীর জলের স্রোতে ভেসে যেতে চায়
ও এখন মাটি হতে চায়, শুধু মাটি
চকের গুঁড়োর মতো ঘরে ফিরে যেতে চায়,
বনভূমিকে বলো, বনভূমি ওকে আর শুইয়ে রেখো না !

ওকে ঘরে ফিরে যেতে দাও। যে যাবার
সে চলে যাক, তাকে আর বসিয়ে রেখো না।

বদলে যাও, কিছুটা বদলাও
কিছুটা বদলাতে হবে বাঁশী
কিছুটা বদলাতে হবে সুর
সাতটি ছিদ্রের সূর্য; সময়ের গাঢ় অন্তঃপুর
কিছুটা বদলাতে হবে

মাটির কনুই , ভাঁজ
রক্তমাখা দুঃখের সমাজ কিছুটা বদলাতে হবে…

বদলে দাও, তুমি বদলাও
নইলে এক্ষুনি
ঢুকে পড়বে পাঁচজন বদমাশ খুনী ,
যখোন যেখানে পাবে
মেরে রেখে যাবে,
তোমার সংসার, বাঁশী, আঘাটার নাও ।
বদলে যাও, বদলে যাও, কিছুটা বদলাও !

আগুনে পুড়বে ভস্ম এবং শৃঙ্ক্ষল
আকাশকে বিক্ষত করো আকাশ তবুও আকাশ,
ফুলকে পোড়াও, ফুল তবু ফুল
কাগজের মতো ছেঁড়ো শাড়ী ও শাড়ী ছিঁড়বোই
কিন্তু নারী রয়ে যাবে,
নারী চিনবেই তার ভীষণ নারীকে ।
ফুলতো কাগজ নয় ছিঁড়ে ফেলবে,
আকাশ তো মানুষ নয় ক্ষত কোরবে ।

স্বাধীনতাকে যতবার তুমি পরাধীনতা করো
আর মানুষকে যতবার তুমি মারো
যতবার পরাও শৃঙ্ক্ষল
মানুষ তবুও তার বজ্র মুষ্টি থেকে আগুনের রত্ন ছুঁড়ে দেবে ।
আগুনে পুড়বে ভস্ম এবং শৃঙ্ক্ষল ।

পাখি হয়ে যায় প্রাণ
অবশেষে জেনেছি মানুষ একা !

জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা !
দৃশ্যের বিপরীত সে পারে না একাত্ম হতে এই পৃথিবীর সাথে কোনোদিন।
ফাতিমা ফুফুর প্রভাতকালীন কোরানের
মর্মায়িত গানের স্মরণে তাই কেন যেনো আমি

চলে যাই আজো সেই বর্নির বাওড়ের বৈকালিক ভ্রমণের পথে,
যেখানে নদীর ভরা কান্না শোনা যেত মাঝে মাঝে
জনপদবালাদের স্ফুরিত সিনানের অন্তর্লীন শব্দে মেদুর !

মনে পড়ে সরজু দিদির কপালের লক্ষ্মী চাঁদ তারা
নরম যুঁইয়ের গন্ধ মেলার মতো চোখের মাথুর ভাষা আর
হরিকীর্তনের নদীভূত বোল !
বড় ভাই আসতেন মাঝরাতে মহকুমা শহরের যাত্রা গান শুনে,
সাইকেল বেজে উঠতো ফেলে আসা শব্দে যখোন,
নিদ্রার নেশায় উবু হয়ে শুনতাম, যেনো শব্দে কান পেতে রেখে :
কেউ বলে যাচ্ছে যেনো,
বাবলু তোমার নীল চোখের ভিতর এক সামুদ্রিক ঝড় কেন ?
পিঠে অই সারসের মতো কী বেঁধে রেখেছো ?

আসতেন পাখি শিকারের সূক্ষ্ম চোখ নিয়ে দুলাভাই !
ছোটবোন ঘরে বসে কেন যেনো তখন কেমন
পানের পাতার মতো নমনীয় হতো ক্রমে ক্রমে !

আর অন্ধ লোকটাও সন্ধ্যায়, পাখিহীন দৃশ্য চোখে ভরে !
দীঘিতে ভাসতো ঘনমেঘ, জল নিতে এসে
মেঘ হয়ে যেতো লীলা বৌদি সেই গোধূলি বেলায়,
পাতা ঝরবার মতো শব্দ হতো জলে, ভাবতুম
এমন দিনে কি ওরে বলা যায়- ?

স্মরণপ্রদেশ থেকে এক একটি নিবাস উঠে গেছে
সরজু দিদিরা ঐ বাংলায়, বড়ভাই নিরুদ্দিষ্ট,
সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি সাথে কোরে নিয়ে গেছে গাঁয়ের হালট !

একে একে নদীর ধারার মতো তার বহুদূরে গত !
বদলপ্রয়াসী এই জীবনের জোয়ারে কেবল অন্তঃশীল একটি দ্বীপের মতো

সবার গোচরহীন আছি আজো সুদূর সন্ধানী !
দূরে বসে প্রবাহের অন্তর্গত আমি, তাই নিজেরই অচেনা নিজে
কেবল দিব্যতাদুষ্ট শোনিতের ভারা ভারা স্বপ্ন বোঝাই মাঠে দেখি,
সেখানেও বসে আছে বৃক্ষের মতোন একা একজন লোক,
যাকে ঘিরে বিশজন দেবদূত গাইছে কেবলি
শতজীবনের শত কুহেলী ও কুয়াশার গান !

পাখি হয়ে যায় এ প্রাণ ঐ কুহেলী মাঠের প্রান্তরে হে দেবদূত !

বনভূমির ছায়া
কথা ছিল তিনদিন বাদেই আমরা পিকনিকে যাবো,
বনভূমির ভিতরে আরো গভীর নির্জন বনে আগুন ধরাবো,
আমাদের সব শীত ঢেকে দেবে সূর্যাস্তের বড় শাল গজারী পাতায়।

আমাদের দলের ভিতরে যে দুইজন কবি
তারা ফিরে এসে অরণ্য স্তুতি লিখবে পত্রিকায়
কথা ছিল গল্পলেখক অরণ্য যুবতী নিয়ে গল্প লিখবে নতুন আঙ্গিকে !

আর যিনি সিনেমা বানাবেন, কথা ছিল
তার প্রথম থীমটি হবে আমাদের পিকনিকপ্রসূত।

তাই সবাই আগে থেকেই ঠিকঠাক, সবাই প্রস্তুত,
যাবার দিনে কারো ঘাড়ে ঝুললো ফ্লাস্কের বোতল
ডেটল ও শাদা তুলো, কারো ঘাড়ে টারপুলিনের টেণ্ট, খাদ্যদ্রব্য,
একজনের শখ জাগলো পাখির সঙ্গীত তিনি টেপরেকর্ডারে তুলে আনবেন

বনে বনে ঘুরে ঠিক সন্ধ্যেবেলাটিতে
তিনি তুলবেন পাতার মর্মর জোড়া পাখির সঙ্গীত !
তাই টেপরেকর্ডার নিলেন তিনি।

একজন মহিলাও চললেন আমাদের সঙ্গে
তিনি নিলেন তাঁর সাথে টাটকা চিবুক, তার চোখের সুষমা আর
উষ্ণ শরীর !
আমাদের বাস চলতে লাগলো ক্রমাগত
হঠাৎ এক জায়গায় এসে কী ভেবে যেনো
আমি ড্রাইভারকে বোললুম : রোক্কো-

শহরের কাছের শহর
নতুন নির্মিত একটি সাঁকোর সামনে দেখলুম তীরতীর কোরছে জল,
আমাদের সবার মুখ সেখানে প্রতিফলিত হলো;
হঠাৎ জলের নীচে পরস্পর আমরা দেখলুম
আমাদের পরস্পরের প্রতি পরস্পরের অপরিসীম ঘৃণা ও বিদ্বেষ !

আমরা হঠাৎ কী রকম অসহায় আর একা হয়ে গেলাম !
আমাদের আর পিকনিকে যাওয়া হলো না,
লোকালয়ের কয়েকটি মানুষ আমরা
কেউই আর আমাদের এই ভয়াবহ নিঃসঙ্গতা একাকীত্ব, অসহায়বোধ
আর মৃত্যুবোধ নিয়ে বনভূমির কাছে যেতে সাহস পেলাম না !

সেই সুখ
(সুফিয়া চৌধুরীকে)

সেই সুখ মাছের ভিতরে ছিল,
সেই সুখ মাংসের ভিতরে ছিল,
রাতের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যেতো ছেলেবেলা
সেই সুখ চাঁদের ভিতরে ছিল,
সেই সুখ নারীর ভিতরে ছিল !

নারী কোন রমণীকে বলে ?
যার চোখ মুখ স্তন ফুটেছে সেই রমণী কি নারী ?
সেই সুখ নারীর ভিতরে ছিল,
যখন আমরা খুব গলাগলি শুয়ে
অনু অপলাদের স্তন শরীর মুখ উরু থেকে
অকস্মাৎ ঝিনুকের মতো যোনি,
অর্থাৎ নারীকে আমরা যখোন খুঁজেছি
হরিণের মতো হুররে দাঁত দিয়ে ছিঁড়েছি তাদের নখ, অন্ধকারে
সেই সুখ নারীর ভিতরে ছিল।

যখন আমরা শীতে গলাবন্ধে পশমী চাদর জড়িয়েছি
কিশোরীর কামরাঙা কেড়ে নিয়ে দাঁত বসিয়েছি
সেই সুখ পশমী চাদরে ছিল, কামরাঙা কিশোরীতে ছিল !

রঙীন বুদ্বুদ মাছ, তাজা মাংস, সুপেয় মশলার ঘ্রাণ;
চিংড়ি মাছের ঝোল যখোন খেতাম শীতল পাটিতে বসে
সেই সুখ শীতল পাটিতে ছিল।

প্রথম যে কার ঠোঁটে চুমু খাই মনে নেই
প্রথম কোনদিন আমি স্নান করি মনে নেই
কবে কাঁচা আম নুন লঙ্কা দিয়ে খেতে খেতে
দাঁত টক হয়েছিল মনে নেই
মনে নেই কবে যৌবনের প্রথম মিথুন আমি ঘটিয়েছিলাম
মনে নেই…
যা কিছু আমার মনে নেই তাই হলো সুখ !
আহ ! সে সুখ…
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29122497 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29122497 2010-03-24 16:02:30
বিজ্ঞাপনে ঢেকে যায় মুখ, বিজ্ঞাপনে ঢেকে যায় প্রাণ স্পন্দন আর আমাদের সেই কর্পোরেট রঙ্গ দেখেই সুখ

১.
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টা একসময় সবুজে সবুজ ছিল । ফাগুনে আগুন হয়ে যেত পুরো ক্যাম্পাস, আর এখন এই ফাগুনের শেষে এই প্রখর চৈত্রে মরা গাছ গুলোতে ধীরে ধীরে শুরু হয়ে যেত সবুজের, নবীনের প্রাণের উৎসব । আমরা সবাই মিলে, আমরা সবাই খুঁজতাম-গুনতাম কত রকম সবুজ রঙ । এই এক সবুজের কত প্রকার ?? কোথাও কালচে সবুজ, কলা পাতা সবুজ, প্যারোট সবুজ, আফলাতুন সবুজ... একসময় আমাদের শব্দের ভান্ডার ফুরিয়ে যেত কিন্তু সবুজের বাহার ফুরাতো না ....
খুব বেশীদিন সময় পেরুয়নি হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় বর্ষ হবে তার আগেই দেখি আর সবুজ, আর ফাগুনের রং আর জারুলের বেগুনি চোখে পড়ে না, চোখ ঢেকে গেছে বিজ্ঞাপনে, মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে....আমাদের ক্যাম্পাসের মালিক তখন বিলবোর্ডের কল্যাণে সকল কর্পোরেট ওয়ালারা । আর প্রতিবাদ জানাই, কর্পোরেট আগ্রাসনের প্রতিবাদ, তাদের সেই বিলবোর্ড গুলোতে কালো রঙ ঢালি কিন্তু তাদের অতো বড় বিজ্ঞাপনে রঙ ঢালার পয়সা যে আমাদের নেই !!! আমাদের সেই প্রতিবাদে আচড় পড়ে সেই জড় বিলবোর্ড গুলোর গায়ে কিন্তু তার বিন্দুমাত্র আচড় লাগে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা কর্পোরেট ওয়ালাদের গায়ে , দুদিন চুপচাপ থাকার পর আবার সেই বিলবোর্ডে চড়ে নতুন রঙ্গীন বিজ্ঞাপনে । সেই বিজ্ঞাপনের রঙচঙ যেন আমাদের ব্যঙ্গ করে । সেই পর্বত সমান বিজ্ঞাপনের নীচে দাড়িয়ে নিজেকে বড্ড ছোট মনে হয়, তুচ্ছ মনে হয়, আমরা অসহায়বোধ করি...
২.
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টা একসময় আমাদের ছিল । আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টা একসময় সবুজে সবুজ ছিল ।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টা এখন আর আমাদের নেই, সেই সবুজ নেই । বিজ্ঞাপনে ঢেকে গেছে মুখ, বিজ্ঞাপনে ঢেকে গেছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ স্পন্দন ... শুধু কি তাই এখন সেই পর্বত সমান কর্পোরেটদের পর্বত সমান বিজ্ঞাপনের নিচে চাপা পড়ে জীবন, থেমে যায় প্রাণ স্পন্দন । আর আমরা সেই কর্পোরেট রঙ্গ দেখেই সুখের আবেশ নিয়ে সবুজ হই, দেশপ্রেমিক হই , খুঁজে পাই বিজ্ঞাপনে ঢাকা স্বদেশের মুখ !!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29121389 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29121389 2010-03-22 15:21:13
নিজামীর নব্যুয়ত প্রাপ্তি আর আমাদের ধর্মপ্রাণ(!!!) মোল্লাদের ধর্মানুভূতি বাংলাদেশের পত্রিকা প্রথম আলোতে একটি প্রচলিত কৌতুক ছাপা হয়েছিল , সেখানে শুধু মহম্মদ নাম নিয়ে কৌতুক ছিল । সেই কৌতুক নিয়ে দেশে রীতিমতন বিশাল কৌতুক , আবার সেই ধর্মপ্রাণ (!!) দের উন্মাদনা যদিও সেই একই কৌতুক শিবিরের পত্রিকায় ছাপা হলেও কো্থাও কোন টু শব্দটি হয়নি ।

ধর্মকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা, ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা করা কোন স্বাভাবিক মানুষ মেনে নিতে পারে না । বিকৃতমনা মানুষই কেবল তা করে , করতে পারে । সেটা যে ধর্মই হোক, যার ধর্মই হোক । কেননা ধর্ম যেকোন মানুষের বহুযুগের লালিত বিশ্বাস । সেই বিশ্বাস শ্রদ্ধাবোধকে অসম্মান করার অধিকার কারো নেই ।

কিন্তু এদেশে একদল ধর্মব্যবসায়ী পবিত্র ধর্ম ইসলামকে( যে ধর্ম এদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের) নিয়ে রীতিমতন ভোগ্যপণ্য বানিয়ে ফেলেছে । সেই থর্মকে তারা ব্যবহার করে তাদের প্রয়োজন মাফিক, তাদের মর্জিমতন । সুইডেনের এর কার্টুন নিয়ে তারা যতোথানি সোচ্চার তার থেকে অধিক নিরব তাদের নিজেদের দেশে যখন মহানবীর সঙ্গে একজন কুলঙ্গার রাজাকারের তুলনা হয় !!! সেই কার্টুন একেঁ না যতোখানি ইসলামকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে তার থেকে অনেক ন্যক্কারজনক, দুর্ভাগ্যজনক এবং অবশ্যই মহনবীকে হেয় করা এই তুলানা । কুকুরের থেকেও অধম প্রাণী এই নিজামী , তার সাথে..............
কিন্তু হায় খোদা... আজ সেই ধর্মপ্রাণ (!!)রা কোথায় ?? কোথায় কাদের প্রখর ধর্মানুভূতি ???
আজ তারা নিরব, তবে কি ধর্মকে তারা স্রেফ তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে ?? কোন ধর্মবোধ কিংবা অনুভূতি বা ভালোবাসা থেকে ধর্ম নয় কাদের কাছে । সুইডেনের ঘটনায় আমরা যেমন নাখোশ হই, প্রতিবাদ করি, বিচার চাই তেমনি দেশের ঘটনাতেও আমরা স্তম্বিত, নাখোশ, প্রতিবাদ করছি এই দুঃসাহসের, এই ধৃষ্টাতা প্রকাশের । আর অবশ্যই এই জানোয়ারদের বিচার চাই ।

এমন তুলনার উচ্চারণ করে যে জিহ্বা তা চিড়ে ফেলা হোক , এমর ভন্ড বক ধার্মিকদের অবিলম্বে প্রকাশ্যে ঝোলানো হোক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29120236 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29120236 2010-03-20 15:14:04
গড ফাদারঃ থিম সং শুনুন গড ফাদারের থিম সং শুনুন

সাথে গড ফাদারের কয়েকটা উক্তিঃ
1.”Keep your friends close, and your enemies closer”
2.”I’ll make him an offer he can’t refuse.”
3.”My father is no different than any powerful man, any man with power, like a President or a senator”
-Michael Corleone (Al Pacino): My father is no different than any powerful man, any man with power, like a President or senator. Kay Adams (Diane Keaton): Do you know how naive you sound, Michael? Presidents and senators don’t have men killed.Michael Corleone: Oh. Who’s being naive, Kay?

4.”In Sicily, women are more dangerous than shotguns.-Fabrizio (Angelo Infanti) in ‘The Godfather’
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29119907 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29119907 2010-03-20 01:34:21
মার্চে আসুন দেশের গান শুনি, স্বাধীনতার গান শুনি
মোরা একটি ফুলকে বাচাঁবো বলে যুদ্ধ করি

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা..

পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল

...সালাম সালাম হাজার সালম...

জয়বাংলা বাংলার জয়....

শোনে একটি মুজিবরের কণ্ঠধ্বনি...

এক নদী রক্ত পেরিয়ে...

বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা...

তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবরে

কারার ওই লৌহ কপাট ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট...

নোঙ্গর তোল তোল সময় যে হলো হলো...

রাহা"র ব্লগ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29110611 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29110611 2010-03-05 17:27:29
মার্চে আসুন দেশের গান শুনি, স্বাধীনতার গান শুনি
মোরা একটি ফুলকে বাচাঁবো বলে যুদ্ধ করি

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা..

পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল

...সালাম সালাম হাজার সালম...

জয়বাংলা বাংলার জয়....

শোনে একটি মুজিবরের কণ্ঠধ্বনি...

এক নদী রক্ত পেরিয়ে...

বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা...

তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবরে

কারার ওই লৌহ কপাট ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট...

নোঙ্গর তোল তোল সময় যে হলো হলো...

রাহা"র ব্লগ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29110602 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29110602 2010-03-05 17:17:21
সেই ফুলচোরেরা কি আজও আছে ??
সেই প্রভাতফেরীর জন্য কতোই না প্রস্তুতি, কতো আয়োজন । আমার জন্ম বেড়ে ওঠা ছোট্ট একটি শহরে, মফস্বলে । সেই ছোট্ট মফস্বলে কিংবা বোধহয় সেই সময়ের একুশে ফেব্রুয়ারীর আমেজটা ছিল এখনকার থেকে একবারেই আলাদা । আমার শৈশবকালটা আশির দশকের মাঝামাঝি । সেই সময় মফস্বলে কমবেশি প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় ফুলের বাগান করার চল ছিল । সেই বাগানে নানা রঙের গোলাপ, ডালিয়া, পপি, চন্দ্রমল্লিকা, সূর্যমুখী, জিনিয়া, রজনীগন্ধাসহ নানা মৌসুমী ফুল । আর একুশের রাতে দল বেধেঁ ভাইয়ারা, পাড়ার ছেলেরা বেরিয়ে পড়ত ফুলচুরির অভিযানে , পরদিন সকালে যে ফুল নিয়ে সবাই শহীদ মিনারে যাবে । আর সেজন্য সবাই নিজের বাড়ির ফুল রেখে যেতো অন্যের বাগানে ফুল চুরি করতে । আবার নিজেদের বাগানের ফুল বাচাতে থাকতো রাত জেগে পাহাড়া । রাতে বাগানে লাইট জ্বালিয়ে একুশের রাতের জন্য থাকতো আলাদা ব্যবস্থা । আমি তখন ছোট ছিলাম বলে ফুলচোরদের সংগী হতে পারিনি । কিন্তু ছোট ছিলাম বলে আমার জুটতো ভাইয়াদের চুরি ফুলের সবচেয়ে সুন্দর ফুলটা । সেই চুরি করা নানা বাহারি ফুল আর পাতাবাহারের পাতা দিয়ে নিজেরাই বানাতাম ফুলের তোড়া । সেই তোড়া সুতো দিয়ে বেধে নানা রঙের গোলাপ, ডালিয়া, পপি কিংবা চন্দ্র মল্লিকা দিয়ে সাজানো হতো । আর সন্তানের মতোন যত্নে লালন করা ফুলগুলো থেকে সুন্দর আরো বড় ফুল ছিড়ে নিয়ে যাওয়া হতো শহীদ মিনারে । ভোর হবার আগেই মাইকের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যেতো । দলে দলে প্রভাতফেরী দল মাইকে একুশের গান গাইতে গাইতে শহীদ মিনারে যেতো । সেই দল গুলোর কোন একটি দলে ভাইয়াদের সাথে ভিড়ে যেতাম । যদিও মা বলতেন তোমার যাবার দরকার নেই, ঠান্ডা লাগবে । স্কুলের গানের ক্লাসে কিংবা দলীয় সংগীতেও যেই আমি হেড়ে গলায় গান গাইবার সাহস করতাম না সেই আমি একুশের ভোরের প্রভাতফেরীতে পরম মমতায় গাই অমর একুশের গান । আমার হেড়ে গলাতেও কেন এই গানটি খারাপ শোনায় না । আর একটু বড় হয়ে যখন স্কুলে ভর্তি হলাম তখন তো স্কুলের ইউনিফর্ম পড়ে স্কুল থেকেই যাওয়া হতো আর সেই সময় আমাদের মাঝে চলত তুমুল প্রতিযোগিতা, কার ফুলের তোড়া, ফুল সবথেকে সুন্দর । আহা কি চমৎকার সেই সবদিন গুলি । আচ্ছা সেই ফুলচোরেরা কি আজও আসে ?? এভাবেই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় শহীদ মিনারে ?? মনে হয় না । কেননা মফস্বলেও এখন আর প্রতিটি বাড়িতেই ফুলের বাগানের চলটি চোখে পড়ে না । তাই বোধহয় কালের বিবর্তনে সেই ফুলচোরেরা হারিয়ে গেছে, তাই বোধহয় আজ আর সেই ফুলচোরেরা আসে না । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29102187 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29102187 2010-02-21 04:04:22
সচিত্র অপর বাস্তব ৪ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের কয়েকটি মুহুর্ত (নতুন ছবিসহ)
অপরবাস্তব ৪ এর মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠান, ছবিঃ মুহম্মদ জায়েদুল আলম

অপরবাস্তব ৪ এর মোড়ক উন্মোচন করছনে মাহবুব মাতিনের সহধর্মিনী শাহিন শবনম , ছবিঃ মুহম্মদ জায়েদুল আলম
অপরবাস্তব ৪ এর মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠানে ব্লগারদের কয়েকজন
অপরবাস্তব ৪ এর মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মাহবুব লীলেন, অনুষ্ঠানের অতিথি মাহবুব মাতিনের সহধর্মিনী শাহিন শবনম আর ব্লগারদের কয়েকজন

মাহবুব লীলেন ও একরামুল হক শামীম

ব্লগার জানা, অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মাহবুব লীলেন আর অনুষ্ঠানের অতিথি মাহবুব মাতিনের সহধর্মিনী শাহিন শবনম
অনুষ্ঠানের অতিথি মাহবুব মাতিনের সহধর্মিনী শাহিন শবনম
ও ব্লগার আইরিন সুলতানা
ব্লগার আরিফ জেবতিক
সকল ছবি©ব্লগার অন্যমনস্ক শরৎ
রাহা ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29098315 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29098315 2010-02-15 15:47:13
অপরবাস্তব ৪ এর মোড়ক উন্মোচিত
আজ সন্ধ্যা ৭ টায় উন্মোচিত হলো অপরবাস্তব ৪ এর মোড়ক । অনাড়ম্বর এই অনুষ্ঠানে মোড়ক উন্মোচন করেন অকাল প্রয়াত ব্লগার মাহবুব মাতিন (এটা সম্ভবতঃ ব্লগের নাম, তিনি মাহবুব মতিন নামেই এমনিতে পরিচিত) -এর সহধর্মিনী শাহিন শবনম ।
মোড়ক উন্মোচনের আগে বিকেল ৩টায় ব্লগার অন্যমনস্ক শরৎ আর আমার কাধেঁ চেপে শতাধিক অপরবাস্তব ৪ বইমেলায় প্রবশে করে ।

এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অনেক ব্লগার উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের অনেকই ক্যামেরা সমেত ছিলেন (আমার সাথে কোন ক্যামেরা ছিল না <img src=" style="border:0;" /> )বইমেলা থেকে ফিরে তাই অনেকক্ষণ ধরে ছবির অপেক্ষায় থেকে শেষ পর্যন্ত ছবি না দেখে বই মোড়ক স্ক্যান করে দিলাম । জানি অনেকেই অপেক্ষা করছেন .. তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো আর কী /<img src=" style="border:0;" />/<img src=" style="border:0;" />
অপরবাস্তব পাওয়া যাচ্ছে বইমেলায় ২৪১ নং স্টলে সংহতি প্রকাশন এ । এছাড়া সারাবছর পাওয়া যাবে শাহবাগ ঢাকায় আজিজ সুপার মার্কেটের ২য় তলায় (লিফটের পাশে) কিংবদন্তী-এর শোরুমে ।
আর গায়ের মূল্য ১৩০ টাকা তবে কিনতে পারবেন ১০০ টাকায় (সেটিও ভিতরে ছাপানো আছে <img src=" style="border:0;" />)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29097221 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29097221 2010-02-14 01:24:14
আসুন শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য "রাষ্ট্রীয়ভাবে ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ইশারা ভাষা দিবস" পালনের দাবীকে সমর্থন করি
মানব সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ভাষা। সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশ লাভ করে ভাষাকে কেন্দ্র করে। জন্মের পর শিশুর বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভাষা। শিশুর যথাযথ বিকাশে মাতৃভাষা চর্চার কোন বিকল্প নেই। মানুষের জীবনযাপনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে ভাষা। আমরা বাঙালিরা ভাষার এই গুরুত্ব বুঝতে পেরেই ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছি। সরকারের স্বীকৃতির বাইরে ১৯৫৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ২১ ফেব্রুয়ারিকে বাংলা ভাষা দিবস পালন করে আসছে। এর স্বীকৃতি স্বরূপ একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। পৃথিবীর সকল ক্ষুদ্র ভাষাগোষ্ঠীর মানুষের ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের ভাষাকে প্রাঞ্জল রাখার মহান উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবস এখন সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। অথচ এই দেশের সংখ্যালঘু ভাষাগোষ্ঠীর ভাষার বিকাশে বৈষম্যপূর্ণ ব্যবস্থা বিরাজমান।

আমাদের দেশে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের মধ্যে শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষেরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বাংলাদেশে প্রায় ২৬ লাখ শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের বসবাস রয়েছে। শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার কারণে এই মানুষেরা কথ্য ভাষার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেনা। বাংলা ইশারা ভাষা এই মানুষদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। এছাড়াও অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী (নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার) নাগরিকদের মধ্যে ইশারা ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

দেশে বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না থাকলেও ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে আদিবাসী ভাষাগুলোর ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের কথা স্বীকৃতি পেয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার এই আদিবাসী ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চলতি বছরে কমপক্ষে ৫ টি আদিবাসী ভাষায় পাঠ্য বই প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইশারাভাষী জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও তাদের ভাষার স্বীকৃতি বা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের কোন প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়নি। অন্যান্য ক্ষুদ্র ভাষাগোষ্ঠী জীবনযাপনের তাগিদে নিজস্ব ভাষা পরিহার করে অন্য ভাষা শিক্ষা প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছেন। অথচ বাঙালি ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সামর্থ্যের প্রতিবন্ধকতার কারণে নিজস্ব ভাষা পরিহার করার কোন সুযোগ নেই। ইশারা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে এর চেয়েও বড় কোন যৌক্তিকতা নেই।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি বিকাশে সরকার ছয় জেলায় ৬ টি ইনস্টিটিউট স্থাপিত করেছে। গত দুই দশক ধরে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ১৯৯৪ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় বধির ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে বাংলা ইশারা ভাষার অভিধান প্রকাশ করা হয়। গত দেড়যুগে এই জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলা ইশারা ভাষা প্রসার ও বিকাশে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এখন পর্যন্ত আর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারী ভাবে বিভিন্ন দিবস পালিত হয়ে আসছে। যেমন, ১৫ অক্টোবর বিশ্ব সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস ও ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম দিবস। এই দিবসগুলো সার্বিকভাবে বিশেষ ধরণের প্রতিবন্ধী নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে উদযাপিত হয়ে থাকে। কিন্তু এদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সবচেয়ে বড় অংশ শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষদের অধিকার ও মর্যাদার বিষয়টি সব সময়ই অবহেলিত থেকেছে। এ প্রেক্ষিতে এসডিএসএলসহ শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী মনে করে এ দেশের শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণের আন্দোলন জোরদার করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ইশারা ভাষা দিবস উদযাপন বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নাগরিকের জন্য বিশ্ব সাদা ছড়ি দিবস যেমন স্বাতন্ত্র্যতাকে উপস্থাপন করে, তেমনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী নাগরিকের উন্নয়নের জন্য স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে এমন বিষয়কে এগিয়ে আনা প্রয়োজন। শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীসহ এসডিএসএল মনে করে, শ্রবণ প্রতিবন্ধী নাগরিকের জন্য ইশারা ভাষা একটি মূখ্য বৈশিষ্ট্য।

বাংলা ইশারা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষদের দীর্ঘদিনের দাবী। ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর এসডিএসএল ইশারা ভাষার স্বীকৃতির জন্য একটি অনুষ্ঠানে কার্যকর সহযোগিতা করে। এসডিএসএল ধারাবাহিকভাবে বাংলা ইশারা ভাষার স্বীকৃতির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদানসহ শ্রবণ প্রতিবন্ধী নেতাদের নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গত ২৭ জানুয়ারি ২০০৯, তার অনুমোদনক্রমে বাংলা ইশারা ভাষার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানে পরিপত্র জারি করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী 'একুশে বইমেলা'র উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে বলেন 'বাংলা ইশারা ভাষা এ দেশের অন্যতম ভাষা'। তিনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে বিটিভিসহ সকল টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান সংবাদে ইশারা ভাষা উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে তার নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তথ্যমন্ত্রীকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী আন্তরিক অভিনন্দন জানায়।

এই প্রেক্ষাপেট ২০০৯ সালে ২৬ মার্চ দেশ টিভি সম্প্রচারের প্রথম দিন থেকেই সন্ধ্যা ৭ টার সংবাদ বাংলা ইশারা ভাষায় উপস্থাপন করে আসছে। ১২ জুলাই ২০০৯ থেকে বিটিভি বিকাল ৫ টার সংবাদ নিয়মিতভাবে বাংলা ইশারা ভাষায় উপস্থাপন করছে। এসডিএসএল বাংলা ইশারা ভাষায় টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপনের জন্য দেশ টিভি এবং বিটিভিকে সংবাদ উপস্থাপক এবং ইশারা ভাষা সংক্রান্ত অন্যান্য কারিগরী সহায়তা প্রদান করছে। বিটিভিতে রাত ৮টার সংবাদে এবং অন্যান্য টিভি চ্যানেলসমূহের মূল সংবাদ বাংলা ইশারা ভাষায় উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

২০০৯ সালে একুশে বই মেলার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলা ইশারা ভাষাকে বাংলাদেশের একটি অন্যতম ভাষা হিসাবে ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলা ইশারা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আন্দোলন একটি মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ভাষা এবং ফেব্রুয়ারি মাসের সম্পর্ক একান্ত অবিচ্ছেদ্য। ২১ ফেব্রুয়ারি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে সারা বিশ্বে উদযাপিত হচ্ছে। গত ৩০ অক্টোবর ২০০৯ এসডিএসএল আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ২৫ টি জেলা পর্যায়ের শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী নাগিরকেদর গণসংগঠনসমূহ বাংলা ইশারা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের আন্দোলন জোরদার করতে রাষ্টীয় ভাবে প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি - বাংলা ইশারা ভাষা দিবস হিসাবে উদযাপনের বিশেষ দাবী জানায়। এ ব্যাপারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে দেখা করে দাবী উপস্থাপন করা হয়েছে।

৮ জানুয়ারি ২০১০ ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে এসডিএসএল এর আয়োজনে বাংলা ইশারাভাষা দিবস উদযাপনের দাবীতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসডিএসএল চেয়ারম্যান এম. ওসমান খালেদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান খান, মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমী, বিশেষ অতিথি কাজী আবু জাফর মো. হাসান সিদ্দিকী, মহাপরিচালক বাংলাদেশ টেলিভিশন, রাবেয়া সুলতানা, সেক্টর হেড, একশন এইড বাংলাদেশ এবং শিরিন বেগম, সভাপতি বাংলাদেশ বধির মহিলা কল্যাণ সংস্থা, ঢাকা বধির সংঘের সভাপতি মিজানুর রহমান, যশোর জেলা বধির সংঘ সাধারণ সম্পাদক আজাদসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রবণ প্রতিবন্ধী নাগিরক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় দাবীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

গত ১ জানুয়ারি থেকে এসডিএসএল এর উদ্যোগে সকল জনগোষ্ঠীর সমর্থন আদায়ে ইন্টারনেটে একটি পিটিশনের (আপনি স্বাক্ষরের জন্য ক্লিক করুন) মাধ্যমে সমথর্ন স্বাক্ষর সংগ্রহ চলছে। শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীদের এই দাবীর প্রতি আপনাদের সমর্থন প্রত্যাশা করছি ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29079272 http://www.somewhereinblog.net/blog/mrhrussellblog/29079272 2010-01-16 00:17:48