বেশ কদিন হলো ব্লগে যা হচ্ছে তা দেখে ব্যথিত নই আমি মেটোও, ররং আমি শিখলাম আসলে জ্ঞান আর যুক্তি শেষ কথা না। বরং কয়লার রং আজও কালোই রয়ে গেছে। আমাদের হৃদয়-বোধ নেই, উপলব্ধির জানালায় কালো পতাকা, বিজয়ীর ভঙ্গিমার ছদ্মবেশ। আমাদের স্বভাব আজও ঠিক হলো না। যেকোন কিছুর পক্ষে অথবা বিপক্ষে আমরা অবস্থান ঘোষনা করলে, সে অবস্থান থেকে একচুলও সরতে আমরা রাজি নই। জয়টাই মূখ্য বরাবর। এই ভাবটা দিয়েই আমরা নিজেদের ভাবতে চেষ্টা করি আমার স্বশিক্ষিত, জ্ঞানী-- আমার যে কোন একটা পক্ষ নেওয়া বাঞ্চনীয়, এবং সবাইকে নাকচ না করলে যেনো তাদের অস্তিত্ত্ব হুমকীর সন্মুখীন হয়। মনোস্তত্ত্বের কোন দশা থেকে এই অবস্থার উৎপত্তি?
আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে যে পথে সেই একই পথের পদছাপ দেখা যাচ্ছে ব্লগে। মহান মুক্তি যুদ্ধটাকে আমার পক্ষের অথবা আমার বিপক্ষের একটা ব্যাপার হিসাবে চিহ্ণিত করে ফেলেছি বা করে ফেলেছে কেউ কেউ। এই করে করেই আমাদের মহান রাজনীতিবিদরা সাধারণ জনগনের কাছ থেকে আমাদের মহান ঐতিহ্যটাকে ডাকাতি করে তাদের সার্থের জাদুঘরে, তাদের সোনার চিড়িয়াখানায় বন্ধি করে রেখেছে। সাধারণদের যেনো কোন সম্পর্কই নেই এই স্বাধীনতার সাথে। এটা তাদের সম্পত্তি, তাদের যন্ত্র, হাতিয়ার।
আর আমরা মহান আলোচোক সমালোচোকরা তাদেরই পথ ধরে এগুচ্ছি।
তর্কটা প্রথম দিকেও বেশ ভালো থাকলেও পরবর্তীতে আমাদের মহান কিছু সংখ্যক ব্লগাররা যা এখন করছেন তা হলো আওয়ামী লীগ আর বিএনপি এর রাজনীতি। তারা যেমন একপক্ষ আরেক পক্ষকে স্বাধীনতা বিরোধী বলে গালি দেয় আপনারাও ঠিক তা করছেন। এবং সমস্ত ব্লগারদের দুই দল এ ভাগ করার চেষ্টা করছেন-- হয় তুমি সাদা নয় কালো। এটা টো আমাকে ভোট দাও এই নীতি। আসলে যদি বলি আমাদের মহান রাজনীতিবিদরা আমাদের কিছুই শেখায় নি তবে তা একটা ভুল স্বীকারোক্তি হয়ে যাবে। আমার তাদের সমস্ত গুনাগুনই অর্জন করেছি।
আসলে এতকিছুর পর কি আপনারা লজ্জিত নন?
আসলে লজ্জার কিছু নেই। আপনারাতো আমাদের ব্লগের মহান রাজনীতিবিদ।
একদল দেখছি যারে তারে মুক্তিযোদ্ধ আর যারে তারে রাজাকার বানিয়ে দিচ্ছে। এটা কোন কথা হলো। এরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধটাকে কত ছোট একটা গন্ডির মধ্যে নিয়ে এসেছে। ভাবতে অবাক লাগে। আবার কেউ কেউ তার অবস্থান পরিস্কার করছে না। আসলে কেউ কথা বলছে না। কারণ তারা তর্ক করতেই ভালোবাসে।
এতো দিন তর্কের মাঝে ভালো কথা বলেছেন মনে হয় মোটে দুই তিন জন। বাকিরা না বুঝেই ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা হয়ে নেচেছে। তারা নিজেরাও জানে না তারা কি বলছে ,বলতে চাচ্ছে। তবে আশার কথা এই জাতীয় ছাগলদের ব্লগাররা চিনতে পেরেছে।
যাহোক এতকিছুর পর আশা রাখি ব্লগের একটা নীতি তৈরি করা হোক। যাদের কে ব্যান করা হয়েছে তাদের কে ফিরিয়ে আনা হোক।
আর শেষ কথা, মহান মুক্তিযুদ্ধটাকে কেউ ছোট করবেন না। এটা নিয়ে কথা বলার আগে ভেবে বলবেন। এটা এতো ছোট কিছু নয়। এবং এই সুযোগ যেনো কাউকে না দেওয়া হয়। আইন করে কী আর একে রোধ করা যাবে?
শুভ হৃদয় বৃত্তির উদয় হোক।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



