I've become so numb I can't feel you there
Become so tired so much more aware
I'm becoming this all I want to do
Is be more like me and be less like you
(Numb: Linkin Park)
এখানে রাত্রি নেমে এসেছে। এখানে নক্ষত্রের আলো মুছে দিয়েছে জাদুকর। আমাদের চাঁদের দিকে ছুঁড়ে দেওয়া পিতলের বলর্মের ঘায়ে সোনার জোস্না-রক্ত মিশে যাচ্ছে ইথারে ইথারে। শুশ্রুশার কেউ যেনো নেই। ছিলো না কোনদিন। আমার প্রিয় বাংলাদেশের মাথার উপর থেকে কারা যেনো চুরি করে নিয়ে গেয়ে বিজয়ের রাজটিকা, নক্ষত্র-মখমলের পোষাক হরন করে তার শরীরের চারপাশে উড়ছে শতশত শিশ্ন। এই শিশ্ন ওড়া রাত্রে আমার আর কোন স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছা করে না মা আমার, হে প্রিয় বাংলাদেশ।
যুদ্ধ অপরাধী রাজাকারদের বিচার হওয়া জরুরী। ধর্মান্ধ, উগ্র ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি এই দেশে বন্ধ করা উচিত। কিন্তু তারপর? আমরা পারবো কি এই বিচারের সফলতা ধরে রাখতে। দেশ যে ভাবে চলছে সেই একই ভাবে যদি চলে, তবে লাভ কি?
ধরলাম রাজাকারদের বিচার হলো। তাদের ফাঁসি হলো। কিন্তু এই দেশে যে ক্যান্সার নিয়ে বেঁচে আছে তার কি তাতে কোন চিকিৎসা হবে? হবে না। একটা দেশের রাজনীতি আমি ভাবি একটি টোটাল ব্যাপার। এর কোন ন্থানাঙ্কের উর্দ্ধগমন হলেই ধরে নেওয়া য়ায় না একটা দেশ স্বদম্ভে দাড়িয়ে আছে। যে দেশে নেই কোন স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্র নীতি সেই দেশে রাজাকারদের বিচার হলেইকি আর না হলেই কি। এই বিচার হবে আরেকটা সৌধ গড়ার মত, তা হবে আমাদের আরেকটা প্রত্ন-সম্পদ। তাকে ভাঙ্গিয়ে খাবে আমাদের রাজনীতিবিদগন আর মূখ্য আমলা। এবং এই প্রক্রিয়া বলবত থাক আমি তা চাই না। টোটাল রাজনৈতিক মুভমেন্ট না হলে কোন কিছুই আশাপ্রদ বা আরামপ্রদ নয় আমার কাছে। আসলে রাজাকারদের বিচার করার আগে দরকার একটা যৌক্তিক রাষ্ট কাঠামো। সেই কাঠামো অর্জন করতে না পারলে কিছুতেই কোন লাভ নেই। আমাদের ইচ্ছার প্রতিফলন "রাজাকারদের বিচার" ও যদি হয়ে যায় তবে এর লাভাংশ ভোগ করবে জাতীয় চোররা। তারা একে আবার লগ্নি করবে।
তাহলে কি আমি রাজাকারদের বিচার চাই না?
হ্যাঁ, আবশ্যই চাই তীব্র ভাবেই চাই তাদের বিচার হোক। তবে সেই বিচার প্রক্রিয়া যেনো কোন লোক দেখানো জনগনের আই ওয়াশ মূলক কিছু হয়ে না যায়। মূলত প্রথমে দরকার জনগনকে বোঝানো কারা আমাদের স্বাধীনতাটাকে চুরি করে নিয়ে গেছে। আন্দোলনটা হওয়া চাই সমকালীন রাজনীতির বিরুদ্ধে। এই রাজনীতির পরিবর্তন হলেই সম্ভব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। আর তা না হয়ে যদি আজ এই মূর্হূতেই যদি বিচার হয়ে যায় তবে তা কোন কাজেই আসবে না আমাদের। আরও এক হাততালির খেলার মাঠই থেকে যাবে বাংলাদেশ।
আর আমাদের ব্লগের রাজনীতিবিদরা যারা মূলত এখানে নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা পক্ষের শক্তি দাবি করে তারা আরও একটা নয়া বাকশাল গঠন করতে চায়। এরা একই ছাচে গড়ে নিতে চায় সকলকে। কোন মতামতকে গ্রহন করতে অপ্রস্তুত। এদের লাইসেন্স ছাড়া অস্ত্র হলো গালি, ব্যক্তি আক্রমন । আমাদের ইতিহাস কারও ব্যক্তি সম্পত্তি নয়। একে যথেচ্চা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
যুদ্ধটা হোক সমকালীন রাজনীতি ও রাষ্টনীতির বিরুদ্ধে। রাজাকারের বিচার তখন এমনিই হবে। এমন রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে বসে অপরকে দোষারোপ করে কোন লাভ নেই, কেউ কিছু করবেনা আপনার আমার জন্য।
আর আজ এই বাস্তবতায় আমি যে রাজাকারদের বিচার চাচ্ছি না সে কারণে দিন বদলের কোন এক গোধূলিক্ষণে প্রকৃত রাজাকারদের বিচার হবার পর তোমরা আমাকে ফাঁসি কাঠে ঝুলিও প্রিয় বন্ধুরা। সেদিন হয়তো চাঁদ আর নক্ষত্রের পোষাক ফিরে আসবে। তোমাদের উৎসবের কোলাহল আর হাততালি নিয়ে আমি মিশে যাবো মাটির অন্ধকারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

