somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ একাকী এক মিথ

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলম যা লিখছে তা অনুযোগ -- বৃথা বাঁচার আরও এক স্বপ্নদেশ
ব্যাকরণ স্কুলে সাদা চকে লেখা আমার সমস্ত স্বপ্ন
ব্লাকবোর্ডের মত কালো ব্লাকহোল; পারবো না --

অথচ উড়ন্ত গালিচায় চড়ে রূপকথার যে পৃথিবী তাও মিথ্যে বলে মনে হয়
এনে হয় প্রেমিকার চিঠি আর শরীরী অঘ্রাণ
সবুজ পাহাড়।
মৃত মা মাছের চারপাশে
শিশু মাছগুলোর মায়াবী চোখ খুব স্থির, অনুভূতিহীন

মৃত হরিণী-রাতে উনুনে পুড়ছে চন্দ্রালোক টগবগ্,
কাঁচা কমলার বনে রঙীন প্রজাপতি উড়ে উড়ে
সূর্য নেভায় প্রতাপে, নিঝুম রাতে জোনাক পোড়া ঝোপ
আমারই মত চুপচাপ

অথচ উড়ন্ত গালিচায় চড়ে রূপকাথার যে পৃথিবী তাও মিথ্যে বলে মনে হয়
মনে হয় বিশ্ব কবিতা সমগ্র তোর চন্দন টিপেই লেখা আছে
পড়তে গেলেই মুছে দিবি -- ধুয়ে দিবি খেয়ালে বৃষ্টিতে ভিজে
পৃথিবীতে সূর্যের ধারণাই কারো নেই -- এ এমন এক নষ্ট মানচিত্রে
ঠাসা রক্ত ইতিহাস, পচা মাংসের বর্তমান, দাউ দাউ ভবিষ্যত --
এমন কি অনুজীবহীন;
আর মানুষ একাকী এক মিথ।

কেবল আছে মাটির অনুভব -- মধ্যাকর্ষণজনিত, অনুভূতিহীন
স্যাঁতস্যাঁতে হিম সর্প শীতল বিক্ষত মাটি --
হাঁটলেই আঙুলের ফাঁক দিয়ে কেঁচোর উত্থান -- এ মাটি ওদের জন্ম জন্ম
ক্ষত চোখে পুঁজ আর আমিষী হলদে পোকা, কি দেখবো --
হাত গাছের ডালের মত বাজে পোড়া -- দু'একটি ফুল তবু যদি ফোঁটে কোন বর্ষায়,
এমন আশা নেই, আকাশও তোমার দখলে, মেঘ হবে কিসে!
পৃথিবীতে সূর্যের ধারণাই কারো নেই -- এ এমন এক নষ্ট মানচিত্র;
কোন পাখি নেই, এমনকি মৃত পালকের ঘ্রাণ -- উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে
ওরা নেসে আসবে অনেক দূর কোন আকাশ থেকে -- নীল ছুঁয়ে,

বাঁচা মানে মৃত্যুকে পরখ করা নয়,
আত্মহত্যার প্রস্তুতি।

এ এমন এক সবুজ গ্রহের গল্প -- শিশুটি কামড়ে ধরেছে মায়ের স্তন,
রক্ত খেলো -- খেয়ে নিলো -- তারপর আজন্ম অভুক্ত --
বাতাসে তেলাপোকা ডানার মিহি ডায়নামিক আওয়াজ।
শকুনের পায়ে দড়ি বেঁধে ঘুড়ি উড়ানো খেলছে মনু শিশু,
সেই আজন্ম অভুক্ত শিশু
এ তো আমার চোখ ধাঁধানো উচ্ছ্বল সমকাল --
এ শহর মৃত নদী, নুয়ে পড়া পাড়, আর তুমি এক মিডিয়া বালিকা
শরীরের রূপো দিয়ে সোনা হীরা সবই মিলছে আজকাল
যে ঘরের আকাশের সাথে যোগ, সে ঘরে অভাব বাড়ে
কত অজানারে জানাইলে তুমি -- টয়লেটে সুগন্ধি সাবান আছে জীবাণু-নাশক;
কিন্তু রমণের পর তুমি স্নান করার সময় পাচ্ছে না
এখনই নাচতে হবে -- বহু সাবান এখনো অবিক্রি গুদামে

নাচ মেরে জান, নাচ নাচ

কেউ নেই পাশে, কেউ নেই
আলো ছায়া, আলো ছায়া, ঘরে ফিরছি একাকী
বহু রাত ... বহু রাত আমি জানি, দুঃখ বুঝি
আমিও তোমার মত দায়ভারহীন বাঙালী লেখক
আসলেই কবি, কবিতা লেখক, গড়পড়তা সকলে যা, যা তা যেমন তেমন
সমস্ত ঢাকতে ঢাক বাজাই অনন্ত দিন, প্রগতির কথা লিখি
বলি কবিতাই সব -- আমার জীবন; অথচ অথচ আমি জানি গোপনে গোপনে বুঝি
নিজেকে আড়াল রাখতে এমন ঢাক ডোল;
ঘুন ধরা কাঠে পালিশ লাগাই, রঙ করি, স্বপ্নীল রঙীর রঙ ,
আমি কিন্তু কবি, আসলেই কবি
রোজ রোজ তাই মায়াবী তামাক ফুঁকি
ফাঁকি
ফাঁকি
ফাক প্রার্থী
আসলেই আমি কিন্তু কবি, আসলেই একজন কবি
কবি,
কবি, মহাকবি
মানছো না, মেনে নাও; দুঃসময়ের মত আমাকেও মেনে নাও
স্বীকৃতি দাও; নিশ্চুপ!
সন্মতি দাও, নিশ্চুপ!

এ এমন এক পৃথিবী, এ এমন এক রূপকথা

একটা চুল্লির কথা ভাবি যেখানে চাঁদের আলো পুড়ছে অদৃশ্যে
একটা চিম্নির কথা ভাবি যেখানে সূর্যালোক ধোঁয়া হয়ে উড়ছে
একটু নিজের কথা ভাবি যা সমকালীন অথচ প্রাগ্ঐতিহাসিক

পৃথিবীর সমস্ত মানুষ সঙ্গম পাগল
সুন্দর নারীর স্তন পিয়াসী কুকুর মূর্খ
বলা ভালো এ আমার আত্ম-প্রতিকৃতি -- পাথর ফলক, সব দায়ভার

সূর্য দেবতার মত সব দেখছে শুনছে,
গর্ভের শিশুর নড়ে ওঠা -- জন্মভীতি,
বিস্মিত কুমারী মা'র অনুভব জড়িয়ে পড়ছে কাল্পনিক কালে
আমি সময় মাপতে মোম জ্বেলে বসে আছি,
জল জমানো কলস ভেঙে বসে আছি তৃষ্ণাহীন
আমি বসে আছি বসে আছিতো আছিই দীর্ঘদিন...

এই আলো কোন আলো নয় জানি, আকাশী চাদর মোড়া তারা
যদিও আলোহীন তবু অনুভূত; এবং বিশদ ক্লান্ত ঘুমে অকাতর
বন্ধু, তুমি উড়তে চলেছো সমুদ্র পাখির সাথে,
কি ঠোঁটে ফিরবে? নীলিমার তৃষ্ণা নিয়ে ব্যাকুল কাতর,
তোমার শাড়ির পাড়ে ময়ূর পালক রঙ, রংধনু নুপুর বাজছে পায়ে
শুভদিন... শুভদিন
কি দারুণ শুভদিন!

আর পুরনো মন্দির যে গাম্ভীর্যে নিথর, চুপচাপ
সমস্ত দিনের গিলে ফেলা তাপ বিকিরণ করে শীতল বাতাসে
তেমনি আমার ক্ষয়, ভয় --অক্ষয়, অভয়
তেমনি উগলে ফেলি প্রশিতি ব্যাতিচার তোমার সমীপে,

ক্ষয়, ভয় -- অক্ষয়, অভয়

কি যেনো নেই, কি যেনো নেই, না হয় ছায়াকে প্রনাম করবো রোজ
চুরচুর ভাঙা আয়নায় মুখ দেখবো কতটা ভেঙে গেছে কাঙাল স্পন্দিত ছায়া
আমার ছায়ার ছায়া রক্ত মাংসের এই আমি
ছায়াটির আরও বেশি স্বচ্ছ চোখ
আরও বেশি অস্বীকার।
পা'ই হেঁটে চলেছে আমার সাথে ছন্দহীন;
মাথার উপর ছিলো এক চাঁদ -- বুড়িচাঁদ;
চাঁদের বুকের শেলাই বুড়ির সুতোর টানে
উল্টে যাচ্ছে সামুদ্রিক নোনা জল -- জল বুঝি তৃষ্ণা মেটাবে চাঁদের,
মহাসমুদ্রের গভীরে লুকানো শৈবাল শুক্রানু
ভেসে যাচ্ছে জল হাতড়ে জলজ মিলনের মধু পূর্ণিমায়,
সৈকতের বালুতে লুকানো কচ্ছপ শিশুটি দিলো প্রথম সাঁতার
এক শুভ পৃথিবীর ভর নিয়ে বুকে...

আকাশে কোথাও তারা ছিলো না
গাছে গাছে ফুটেছে সপ্তর্ষি ফুল
কল্পবৃক্ষের বনে চন্দ্রালোক থেকে নামছে রঙীন প্রজাপতি
জোনাকি চলেছে মহাকাশে নক্ষত্রের সাজে,
আজ নক্ষত্রী স্বাতীর বিয়ে
সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড আজ আমার পৃথিবী --

যতদূর চোখ যায় সজীব পার্থিব; সাধারণ -- আমার মা'র মত।






সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:২৬
১৮টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×