somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এমত পরদেশী ভালোবাস দিবসে প্রেম, ভালোবাসা ও যৌনতা মূল্যায়ন

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসা কে ঘিরে যতনা ব্যস্ততা তার থেকেও প্রেম বা ভালোবাসা কে ঘিরে আমাদের অকারণ স্নায়ুকিক উত্তেজনা অনেক বেশি। নৃতত্ত্ববিদ হেলেন ফিশার রুটগার ইউনিভার্সিটির ভালোবাসা বিষয়ক গবেষক কলেছেন, " কবিতা, গল্প উপন্যাস, সৌধ মাত্র প্রেমের জন্য। মানুষ বেচে থাকে প্রেমের জন্য, মরে যায় প্রেমের জন্য, হত্যা করে প্রেমের জন্য। বেচে থাকার জন্য এর থেকে শক্তিশালী আর কিছু নেই সম্ভবত।" প্রায় ত্রিশ বছর আগে এলিয়েনী হাটফিল্ড হাওয়াই ইউনিভার্সিটির মনোবিদ এবং সুসান স্প্রেচার ইলিওনিস ইউনিভার্সিটির সমাজতাত্ত্বিক লাভ স্কেল তৈরি করেন। এতে তারা পনেরটা প্রশ্ন রেখেছিলেন সব শ্রেনীর মানুষের জন্য। হাটফিল্ড আমেরিকা, রাশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্থান, ইন্ডিয়া ছাড়াও নানা জায়গায় গবেষণা চালিয়েছেন। এবং পৃথিবীর সর্বব্যাপি তিনি ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু খুঁজে পান নাই। দেখা যায় যে ''পশ্চিমা লোকেরাই তাদের ভালোবাসার জনকে বিয়ে করার মত নির্বোধ। তবে সব সংস্কৃতিতেই আপনি এমন বোকাদের খুজে পাবেন। মানুষ ভালোবাসে, সারা বিশ্ব জুড়ে মানুষ ভালোবাসার মধ্যে বসবাস করছে।''

কেন এমন? কি আমাদের কে ভালোবাসার বসন্ত বনে পৌঁচ্ছে দেয়? কেন আমরা নাচতে নাচতে, হাসতে হাসতে, দুঃখে দুঃখে, গাইতে গাইতে বোর হয়ে যাই? ভালোবাসাকে বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোন থেকে গেলে আমরা খুব গোলোকধাঁধায় পড়ে যাবো। কেন যে দুটো মানুষ জোড়া বদ্ধ হয়ে যায় এর বৈজ্ঞানিক কারণ খুজে পাওয়া কঠিন। তবে ভালোবাসার কারণ খুঁজতে কিন্তু বিজ্ঞানীরা থেমে নেই। ভালোবাসার যুগান্তকারী 'প্রেম পরিমাপক স্কেল' তার প্রেমিক প্রেমিকাকে নিশ্চয়ই উপহার দেবেন। এটা হবে প্রেমিকা কে দেওয়া প্রেমিকার বা প্রেমিক কে দেওয়া প্রেমিকার শ্রেষ্ঠ উপহার। ভিজুয়াল,অডিটরি, অলিফ্যাকটরি এই সমস্ত নিউরোলজিকাল প্রক্রিয়া হয়তো একদিন এর উত্তর দেবে। তবে সরল ভাবে প্রেমকে বোঝার জন্য তো গভীর তত্ত্ব তালাশে যাবার দরকার নাই। তবে প্রেম বিষয়ক এই সমস্ত বৈজ্ঞানিত ধারণাগুলো দিনদিন প্রসারিত হচ্ছে। কেন প্রেম আসে বা কিভাবে এটা অর্জিত হয় তা দিন দিন বেশ পরিস্কার হয়ে আসছে।

মানুষের প্রজনন ক্রিয়ার কারণটা খুব গোলমেলে। তবে সাধারণভাবে এর দু'টো কারণ হয়তো আছে। এক. আমরা অনেক বার মিলিত হতে পরিচালিত। আর দুই আমরা আমাদের প্রজন্মকে রক্ষা করতে চাই। যদি তুমি মেয়ে হউও তবে প্রজন্ম বিস্তারের মতা প্রাকৃতিক ভাবেই তোমার জন্য সীমিত একজীবনে। আর যদি তুমি ছেলে হউও তবে তোমার স্বাধীনতা সীমিত তোমার সঙ্গীনির ইচ্ছা অনিচ্ছা দ্বারা। '' মানুষ পূর্ব নির্ধারিত অনেক কিছু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সাধারণত দেখা যায় সব প্রাণীরই বিপরীত লিঙ্গের প্রাণীর প্রতি প্রবল কামনা রয়েছে।'' অস্টিনের টেক্সাস ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী ডেভিড বুস এ কথা বলেছেন। সাধারণত দেখা যায় সব প্রানী প্রাথমিক ভাবে তার সঙ্গীর প্রতি ঘ্রান দ্বারা আকৃষ্ট হয়। ভালো বা মন্দ ঘ্রান এ ক্ষেত্রে কোন ব্যাপার না তাদের কাছে। উদ্বায়ী কিছু অনুর গন্ধ বা সুবাস তাদের শরীর থেকে বের হয় যা তাদের পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট করে। মানুষও প্রাণীদের মত। এক্ষেত্রে তারা এর বেশি কিছু নয়। মানুষও ধীরে ধীরে শরীরের ঘ্রান চিনতে শুরু করে। তারা শরীরের মধ্যে কেউ পায় বিস্কুটের গন্ধ, কেউ বা মাখন, কেউ বা মিষ্টির। এবং শেষে তারা তাদেও সঙ্গনীকে চিনে নেয় নানা ঘ্রানের চিহ্ন দিয়ে। এবং ভালোবাসায় মিলন ঘটায়। কেউ কেউ তাদেও শরীরে মেশিন আর নাট বোল্টের গন্ধ পায়। এই গন্ধ তাদের কোন কোন ক্ষেত্রে যৌন শক্তি ফিরিয়ে আনে কখনও কখনও। দেখা যায় রজঃনিসিরণ কালে মেয়েদের শরীরে এক রকম গন্ধ পাওয়া যায়। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তাদের উর্বরতা আসার সময় তাদেও দেহ থেকে গন্ধ নিসৃত হয়। এটা হয়তো সঙ্গীকে আকৃষ্ট করারই কোন ঘ্রান। তবে মেয়েরা কিসের গন্ধ খুজে পায় পুরুষ দেহে? এর উত্তরও শরীরী গন্ধ। প্রত্যেক প্রাণীর শরীরে কিছু রাসায়নিক উপাদান আছে যা সুগন্ধ বা দুগন্ধ ছড়ায়। তবে এক্ষেত্রে সুগন্ধ বা র্দুগন্ধ কোন ব্যাপার না। কেননা ভালোবাসার গন্ধ মানেই যে ফুলের সৌরভের মত হবে তা কিন্তু নয়। এটা সুগন্ধ বা র্দুগন্ধ উভয়ই হতে পারে। শরীরের দুর্গন্ধ নিশ্চয়ই প্রেমের অন্তরায় নয়। কোন কোন ক্ষেত্রে তা সুফল বয়ে আনে সঙ্গী ভেদে। বিজ্ঞানীরা মানব দেহে এমন অনেক রাসায়নিক উপাদান খুজে পেয়েছেন যা গন্ধ ছড়ায়। গাড়ি চালকদের শরীরে এক রকম গন্ধ আছে। এই হরমোন নিসৃত গন্ধ অপর মানুষেরা বুঝতে পারে। এটাকে মেয়েদের রজঃনিসরন কালের গন্ধের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। শরীরের সুবাস সবার থাকে, তা ছেলে হোক বা মেয়ে যাই হোক না কেন। পশুর মত আমাদের দেহেও গন্ধ ছড়ায় যেমন বৃষ্টিরাতের রজনীহন্ধার বন থেকে সৌরভ ভেসে আসে।

মার্টি হেসেলটন ইউসিএলএ-এর মনোবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক তিনি এক গবেষনায় দেখেছেন যে মেয়েদের রজঃনিসরণ কালে তাদের সঙ্গীরা তাদেও প্রতি বেশি মনোযোগী থাকে, ভালোবাসার বর্হিপ্রকাশ তখন একটু বেশি থাকে, এবং খুব প্রকট ভাবে দেখা যায় যে এ সময় তারা (ছেলেটি) অপর পুরুষকে বেশি হিংসার দৃষ্টিতে দেখে। এসময় তাদের আচরাণে অধিক ভালোবাসার আধিক্য থাকে।

তবে কথা হলো কি এই শরীরের ঘ্রান কিন্তু নির্ধারণ করে দেয় না কে কাকে ভালোবাসবে। তবে খুব স্থূল ভাবে বলা যায় সঙ্গী বা সঙ্গীনী নির্বাচনে এর একটা ভূমিকা আছে। এবং অনেক ক্ষেত্রে এটা প্রেম কত দিন স্থায়ী হবে তা নির্ধারন করে দেয়। সঙ্গীর শরীরের ঘ্রাণ যদি না আমার অবচেতন মেনে নেয় তবে এই অবচেতনের গভীরে ঘটে যাবে বিস্ফোরণ। অভাব টভাব কিছু নয় অবচেতনের খোলা জানালা দিয়ে প্রেম গোপনে একাই পালাবে।

গবেষণাগারে পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে যে, সে সমস্ত ইদুরের গায়ে অপর কোন ইদুরের মুত্রের গন্ধ আছে তারা তার সাথে মিলনে উদ্বুদ্ধ হয় না। ইউনিভার্সিটি অব বার্ণ, সুইজারল্যান্ডের এক গবেষনায় দেখা গেছে, কিছু মেয়েদের পুরুষ পরিহিত কয়েকটি টি-শার্ট শুকতে দেওয়া হয় এবং তাদের বলা হয় সেই সমস্ত টি-শার্ট তাদের খুঁজে বের করতে হবে যেটা তার পুরুষ সঙ্গী ব্যবহার করেছিলো। দেখা যায় তারা সেই টি-শার্ট খুঁজে বের করেছিলো যেটার সাথে তাদের major histocompatibility complex বেশি নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে । আর এক্ষেত্রে চুমো খাওয়াটাকে বলা যেতে পারে স্বাদ পরীক্ষা। ভালোবাসাহীন চুম্বনে দোষ নেই। এটা ভালোবাসা পরিমাপের নবতর পদ্ধতি। চুমো খেয়ে পরিমাপ করে নেওয়া যেতে পারে তার সাথে তোমার প্রেম হবে নাকি বা তোমার আর তার major histocompatibility complex কিনা। তবে প্রেমিক সাবধান! যাকে ভালো লাগে তাকে কিন্তু ভালো নাও লাগতে পারে অবচেতনের, প্রেম খেলাতো আর চেতনের নয়।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:০৬
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×