somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার ( চতুর্থ পর্ব)

০৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গুন্টার গ্রাস-এর সাক্ষাৎকার ( প্রথম পর্ব )
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার ( দ্বিতীয় পর্ব )
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার ( তৃতীয় পর্ব )



এলিজাবেথঃ যারা ইংরেজিতে আপনার বই পড়ে তাদেরতো এর মূল স্বাদ থেকে অনেক কিছুই হারাতে হয়?

গ্রাস: এর উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে কঠিন। কারণ আমি ইংরেজি পাঠক নই। তবে আমার বই অনুবাদের ক্ষেত্রে আমি আমার অনুবাদকদের সাহায্য করে থাকি। The Flounder নিয়ে আমি যখন আমার জার্মান-প্রকাশকের কাছে গেলাম তখন তারা আমাকে আরও একটা কাজের সাথে সম্পৃক্ত করে দিলো। আমার পাণ্ডুলিপি শেষ করার পর আমার অনুবাদকরা এটা পড়ে। আমার প্রকাশকই সব দায়িত্ব পালন করে থাকে। The Flounder, The Meeting At Telgle, The Rat প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা ঘটেছে। অনুবাদক আমার বইয়ের নানা বিষয় জানতে চেষ্টা করে। বইটি সম্ভন্ধে নান প্রশ্ন করে। আমার মনে হয় এই কাজগুলো অনুবাদ কার্যকে বেশ সহায়তা করে। আমার মনে হয় বইটি সর্ম্পকে তারাই আমার চেয়ে বেশি জানে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এটা বেশ অস্বস্থিকর হয়ে দাঁড়ায়। কারণ অনেক সময় তারা বইয়ের কিছু বিষয়কে ভুল বলে প্রমান করতে চায়। এবং আমাকে সে সম্পর্কে বলেও। ফ্রেন্স, ইতালিয়ান আর স্প্যানিশ অনুবাদকেরা নানা বিষয়ে কথা বলে এ জাতীয় সাক্ষাৎকারের সময়। এবং সত্যিকার অর্থে তারা অনুবাদটিকে তাদের নিজস্ব ভাষায় উদ্ভাসিত করে তুলতে চায়। আমি অনুবাদকে সমর্থন করি কারণ যখন আমি কোন অনুবাদ পড়ি তখন আমি কখনোই ভাবি না যে বইটি অনুদিত। আমার সৌভাগ্য যে রাশিয়ান সাহিত্যের চমৎকার কিছু অনুবাদ আমরা জার্মান ভাষায় পেয়েছি। তলস্তয় বা দস্তোয়ভস্কির অনুবাদ একদম নিখুঁত -- মনে হয় যেনো বইগুলো জার্মান ভাষাতেই লেখা হয়েছে। শেক্সপিয়র বা তাদের মত রোমান্টিদের যে সমস্ত অনুদিত বই আমি দেখেছি তা ভুলে ভরা, তবে সুপাঠ্য। নতুন অনুবাদকদের অনুবাদে ভুল কম -- ভুল নেই বললেই চলে। তবে Fridrich Schlegel এর মত যথার্থ আর কেউ নেই। প্রতিটা বই অনুবাদের ক্ষেত্রে -- তা কবিতা বা উপন্যাস যাই হোক না কেন, সে ক্ষেত্রে অনুবাদককে বইটিকে তার নিজস্ব ভাষায় পুনঃউৎপাদন করতে হয়। বই অনুবাদের ক্ষেত্রে আমি এই নীতি কে সমর্থন করি।

এলিজাবেথঃ আপনি কি মনে করেন না যে আপনার Die Rättin এর ইংরেজি অনুবাদ The Rat যথার্থ হয়েছে? ( জার্মান ভাষায় প্রতিটা বিশেষ্য এর আগে পুং বা স্ত্রী বাচক Article বসে। Der পুং অর্থে, Die স্ত্রী অর্থে Das ক্লীব অর্থে -অনুবাদক ) জার্মান ভাষা তো Die Rättin বলতে মেয়ে ইঁদুরকে বোঝায়। আর স্প্যানিশে একে Rattessa লেখার প্রশ্নই ওঠে না। অথচ মেয়ে ইঁদুর এরতো একটা বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কিন্তু ইংরেজিতে The Rat এমন একটি শব্দ যা কুৎসিত দেঁতো একটা প্রাণীকেই বোঝায়।

গ্রাস: এই জাতীয় শব্দ আমাদের জার্মান ভাষাতেই নেই। আমি এটা তৈরি করেছি। আমি আমার অনুবাদকদের সব সময় নতুন কিছু আবিস্কার করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে থাকি। আমি তাদের বলি যদি এমন কোন শব্দ পা'ও যা আমাদের ভাষায় আছে কিন্তু তোমাদের ভাষায় নেই সেক্ষেত্রে নতুন শব্দবন্ধন তৈরি করো। She-Rat শব্দটা আমার ভালোই লাগছে। খারাপ না।

এলিজাবেথঃ আপনার বইয়ের ইঁদুরটি মেয়ে ইঁদুর কেনো? যৌন কাতরতা, নাকি নারীবাদি দৃষ্টিভঙ্গি, নাকি রাজনৈতিক কোন অভিলক্ষ্য এর পেছনে আছে?

গ্রাস: The Flounder এটি পুরুষ। আরও একটু বয়স বাড়ার পর আমি দেখলাম আমি আবারও আরেক নারীর প্রেমে জড়িয়ে পড়েছি। এর থেকে মুক্তির কোন পথই আমার জানা ছিলো না। সে নারী কিংবা ইঁদুর বা She-Rat যাই হোক না কেন। আমি একটা আইডিয়া পেলাম। সে আমাকে উদ্বেলিত, উত্তেজিত করলো -- আমি শব্দ খুঁজে পেলাম, গল্প পেয়ে গেলাম এবং পুনরায় মিথ্যাচার শুরু করলাম। মিথ্যা বলার জন্য এটা অত্যাবশ্যকীয়। একজন পুরুষের পাশে বসে মিথ্যা বলার কোন মানেই হয় না। তবে ভাবো, একজন উজ্জ্বল তরুণীর সাথে মিথ্যাচার কেমন উত্তেজনাকর!

এলিজাবেথ: আপনার অধিকাংশ বই যেমন The Rat, The Flounder, From The Dairy Of The Snail, Dogs Year এ উপন্যাসগুলোর কেন্দ্রস্থলে কোন না কোন প্রাণীই আমরা দেখতে পাই। এর কি বিশেষ কোন কারণ আছে?

গ্রাস: সম্ভবত। আমার মনে হয় আমরা মানবজাতি সম্পর্কে খুব বেশি কথা বলি। পৃথিবীতে কি শুধু মানুষ আছে, আর কিছু নেই? পশু, পাখি, মাছ, কীট-পতঙ্গ সব আছে। তারা আমাদের আবির্ভাবের পূর্বেই পৃথিবীতে ছিলো। এবং এমন একদিন আসবে যখন আমরা থাকবো না অথচ আমরা বাদে পুরো প্রাণী জগতই টিকে যাবে। একদিন তাদের আমাদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না। জাদুঘরে কি দেখো? লক্ষ লক্ষ বছর আগের ডাইনোসর আর বাইসনের হাড়। তারা খুব স্বাভাবিক ভাবেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাদের হাড়ে কোন বিষক্ত কোন উপাদান পাওয়া যায়নি। তুমি দেখতে পারো। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। আমরা মৃত্যুর পূর্বে বিষ ছড়িয়ে যাই বাতাসে বাতাসে। আমাদের মনে রাখা দরকার পৃথিবীতে আমরা একা নই। ধর্মগ্রন্থ আমাদের ভূল শিক্ষা দিয়েছে। সেখানে বলা আছে পশু পাখি মাছ গরু সমস্তু জীব জগতের উপর প্রভুত্ব করো। সমস্তু পৃথিবী আমরা যুদ্ধ করে জয় লাভ করতে চেয়েছি। এই ভুলের ফলাফল বড় বেদনাদায়ক।

(চলবে.....)














সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪৫
৯টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×