somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কায়মাসুদ

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কায়মাসুদ

পৃথিবী-গ্রহ। সূর্য-নক্ষত্র। ছায়াপথ-গ্যালাক্সি।
অঙ্কহীন গ্যালাক্সিগতির বিন্যাস।
ঘোড়ার ইলাস্টিক জিনগদির মতো এই বিশ্ব-
এই এতো যে গ্রহ উপগ্রহ নীহারিকা সুপারনোভা-
মাসুদ খান সত্তা নিয়ে অন্য দ্বিতীয় কোন কবিপ্রাণী নেই।
থাকছেন না। যদিও বা কোথাও জায়মান হতে যায়,
অমনি শুরু হয় সংকটের। অবশেষে টিকতে পারে না।

কিন্তু আড়ালের ঘটনা এই যে,
ঋণাত্মক বিশ্বে প্রতিমাসুদ থাকেন
ফ্লেকজিবল পাইপের মতো গলা।
আমার বিপরীতে কবিতা লিখে যাচ্ছে।
স্রোত/ পাখিতীর্থদিনে

মাসুদ খানের অন্যান্য অসাধারণ কবিতাগুলো আমি অনেক পরে আবিস্কার করতে শুরু করি। আমার পাঠ স্মৃতিতে তিনি প্রবেশ করেছেন তার 'আতাফল' নিয়ে। অর্থাৎ দ্বিতীয় গ্রন্থ দিয়েই তাকে চিনতে শুরু করি। প্রথম গ্রন্থ তখনও আমার হাতে পৌচ্ছায়নি।

মন মরালের পালক গজাতে একটু সময় লেগেছে। পাথর যেভাবে সমুদ্র ঢেউ-এ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়, সেই ভাবে মাসুদ খানের প্রতি আমার আতাফল-জ্ঞান ভাঙতে শুরু করে। নব নব উন্মোচন নিয়ে তার নানা কবিতা আমার স্মৃতি আর বিস্মৃতির ভেতর তীর্থে তবু ফেলতে থাকে। নিজেকে এই আত্ম-ভাঙনে পৌঁছে দিতে আমাকে সমুদ্র জলে নেমে অপেক্ষা করতে হয়েছে নিদারুণ নির্লিপ্ততা নিয়ে; তার পর এক ক্ষরণ কাল, মুগ্ধতা এর অবশেষ। আমার কবিতার তরল জ্ঞানে মিশে যেতে থাকে মাসুদ খানের আরও আরও কবিতা। পুনঃপাঠে মূলত আবিস্কৃত হয় প্রতিমাসুদ। 'অমনি শুরু হয় সংকটের। অবশেষে টিকতে পারে না।'

২.
বস্তু পৃথিবীকে আমরা কিভাবে আমাদেও স্মৃতিতে সংরক্ষণ করি? আমাদের যতদূর চোখ যায়, আমার ভেতরের না-ভুবন, বাইরের জগৎ, ব্যাপ্ত জমিনের বিস্তার এক নৈঃশব্দের অন্ধকার কোনে না ঘুমিয়ে শুয়ে থাকে। আর স্মৃতি হলো ঘুমের ভান, যে কোন মুহূর্তে সে সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে, ভেতরের জগৎ কে সে আছড়ে বাইরে নিয়ে আসতে পারে যে কোন সময়। অদৃশ্য ইথারে যে কোন সময় সৃষ্ট হতে পারে এক বিশাল ভূগোল; মন এভাবেই তার ভেতরের অপরিচিত কোডকে রূপান্তরিত করে ভূগোলের ভাষায়। আর এই নব সৃষ্ট ভূগোল, ঘটনা বিশ্ব পুনঃরায় দেহের ভেতর ঢুকে যেতে থাকে। স্মৃতির পরে স্মৃতি জমে। বাইরের পৃথিবী আর ভেতরের অদেখা এক পৃথিবী নিয়ে আমরা চলতে থাকি, ফিরতে থাকি এদিক ওদিক এথায় সেথায়। ফলে আমাদেও 'অনুভব' হলো বন্তু পৃথিবী আর জৈব অন্ধকারের সংঘর্ষজাত উপলব্ধি। অনুভব থেকে যখন সমস্তের অপনারণ শুরু হয়, রূপ-রস-গন্ধ-অস্তিত্ত্ব হারিয়ে যেতে থাকে নিশ্চেতনার ভেতর, তখনই জন্ম হয় বোধের। বোধের ভেতর বস্তু পৃথিবীর অন্তর্গমন একমুখী। বোধীর সীমানায় আমাদের হাসি কান্না দুঃখের গল্প নিরর্থক। দুঃখ আর সুখ, শেষ পর্যন্ত জীবনও সেখানে মাত্র ডেকোরেটিভ, আমাদের ঘরে সাজানো মুখোশের মত। ফলে বোধের দিকে এই জীবন নামক হতাশা হেঁটে যেতে পারে না। সে এক নিশ্চল নিশ্চেতনা, আমরা সেখানে পাথরের মূর্তি। তবে বোধের থেকে বস্তু পৃথিবীর যে বহির্গমর, তা শতমুখী বিক্ষেপী। পাথরের মূর্তি এর ভেতর থেকে গুড়ো গুড়ো হয়ে বের হয়ে উড়ে যায় বাতাসে বাতাসে। এই গুড়ো পাথরের ধূলোয় চরিত হয় এক মূর্ত অবয়ব। কিছুটা তাকে বোঝা যায়, কিছুটা তাকে বোঝা না-যায়।
ফলে তখন বোধ কে জ্ঞান অনুভব করে এই বিধ্বংসী খেলার মাঠে। সদা রূপান্তর আর অপসৃয়মানতার খেলা চলে মনের গভীরে, মনের বাইরে। বন্তু স্থান কাল দ্বারা নির্ণীত হলেও বোধ উদ্ভুত দৃশ্য আর বিরোধ-দৃশ্য নিজের ভেতর নিজেই ঘনীভূত হতে থাকে। সোজা কথা, বোধ সময়যুক্ত, তবে স্থানহীন। আর স্থানহীন এই পৃথিবীর সংকেতময়তাই এক অর্থে কবিতা।

৩.

মাসুদ খানের কবিতা একের পর এক দৃশ্য পৃথিবীর বন্তু অধিগ্রহন করেছে। নানা জড় বস্তু তার কবিতা ভরে ওঠে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে এটা এক ভাঙাচোরা গুদাম ঘর, এর পাশেই কোন বয়স্ক বিজ্ঞানীর ল্যাবরোটারি, ল্যাবরোটারির দেয়ালে ঝোলানো আছে মৌল কথার পর্যায় সারনী, তার পাশেই লেখা আছে কনা গুলোর রং বর্ণ গন্ধ, প্রাণী বিজ্ঞানের জাদুঘর, সেখানে কাচের বোয়ামে ফর্মালিনবন্দি নানা প্রানীর মৃত দেহ বা হাড় কঙ্কাল। এই ভূগোলের পাখি বা প্রজাপতি, নদী বা চাঁদ, বৃষ্টি বা আকাশ, ভোর বা দুপুর, মানুষ বা ক্লাউন, বাঘ বা আপেল, মৌমাছি বা আপেল এদের যে নিজস্ব রং আর গন্ধ তা যেনো নেই। এদের দেহের আকৃতি বা এই সমস্ত বস্তু কেন্দ্রিক আমাদের চোখের পরিমিতি ঠিক রেখে এর উপর লাগানো হয়েছে অভিনব এক পালিশ। এই পালিশের রং মাসুদ খানের মগজের, এই পালিশের তারপিন তেলের গন্ধ মাসুদ খানের হৃদয়ের অভিনবত্বের। এটাই কি তার অর্জিত সাফল্য?

আামদের কবিতা অভ্যাসের ঝোঁক বহুদিন হলো প্রকৃতি নির্ভর। ফলে মাসুদ খানের সিনথেটিক দুনিয়া আমাদের অভ্যস্থতায় আঘাত করে। তাকে চিনে নিতে বুঝে নিতে সময় লাগে বৈ কি। প্রবলভাবে উপস্থিত এই নব নির্মিত সিনথেটিক বিশ্ব আমাদের কবিতায় প্রথম বলে মনে হয়। একে বলা যেতে পারে 'জড় সাধনা' -- যা নব, এবং মাসুদ খান স্বনির্মিত।
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×