সেনাপ্রধান রোববার টাঙ্গাইলে বলেন, "মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহা-র মৃত্যুদণ্ড মওকুফের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানিয়েছি।"
বিডি নিউজ২৪.কম
তিনি যে আরও কত কিছু চাইবেন এবং করবেন তার একটু আভাস পাওয়া যাচ্ছে বৈ কি। একটা বিপুল এবং নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে দেশ কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারন টা বোধ হয় এই " তোমরা সব ব্যর্থ।" সমস্ত দায়িত্ব আমরা তুলে নেই। সেই দিকেই কি আমরা যাচ্ছি? পরিবর্তন, রদ-বদল, পদত্যাগ এবং এক্সপায়ার ডেট বর্ধন এ সমস্ত দেখে যাচ্ছি আমরা। আর এর আগে পরে যুক্ত আছে নানা রকম কৌশল এবং ছলনা। আর এই দেশকে একটা চুড়ান্ত ব্যর্থতার মধ্যে নিয়ে যেতে পারলে এদেশের একটা অংশের বেশ লাভ হয়। এবং এই ''ব্যর্থতা প্রদর্শন'' নামক নাটকের এক অংশ আমরা দেখে ফেলেছি কিছুটা। কেননা হঠাৎ করে সব কিছুর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং এই সংকটের খবর আজকাল ফলাও করে মিডিয়ায় আসছে( যেখানে সার সংকটের কথা মিডিয়ায় আসতে দেওয়া হয় নি )। হঠাৎ মিডিয়াকে এই স্বাধীনতা দেওয়া হলো কেন? খাদ্যাভাবে লোকের মৃত্যু এরূপ সংবাদ আসার কথা না মিডিয়াতে এমন পরিস্থিতিতে। চারদিকের বিশৃঙ্খলা হঠাৎ আসা শুরু করছে মিডিয়া গুলোতে। এমন হবার কথা নয়। সরকার এতোটা স্বাধীনতা সংবাদপত্র গুলোকে দেবার কথা নয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের রিজার্ভে হাত না দেবার প্রসঙ্গ, গ্যাস সংকট, শিল্প কারখানায় সীমিত গ্যাস সরবারহ। নানা ফ্যাক্টর এক সাথে যুক্ত হচ্ছে। সেনাপতির ভারত ভ্রমন, চুক্তি, চাল আমদানি শুরু, আবার চাল আসা বন্ধ, আবার চুক্তি, আবার আসবে বোধ হয়। এরই মাঝে আলু কচু খাওয়ার পরামর্শ সেনাপ্রধান কর্তৃক। আর এর সাথে যুক্ত হলো ক্ষমা ভিক্ষা প্রার্থনার গান। এগুলো কোন শুভ লক্ষণ নয়। তাহলে কি জলপাই বীজ বপন ক্রিয়া শুরু হয়েছে, মাত্র বৃষ্টির অপেক্ষা, চারা গুলোর অঙ্কুরোদগম হতে আর যতটা সময় লাগে। এই সময় পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে বোধ হয়।
এই শাসক শ্রেণীর এই সমস্ত পরিকল্পনার গোপন অংশীদার হয় মিডিয়া। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এর সাথে সাথে এই সময়ের কিছু মিডিয়া এই সরকারের আনায়ন কাজটাকে সহজ সরল এবং অর্থবহুল করে তুলেছে জনগনের কাছে। নানা জনস্বার্থহীন কনসেপ্ট তৈরি করে এরা। বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা জনগনের রাজনীতির নামে রাতারাতি নানা আন্দোলন কর্মসূচি হাতে নেয়। এদের মূল্য লক্ষ্য থাকে ক্ষমতার হাত বদল। সেই হাত বদলের গোপন নকসায় মিডিয়া এবং উন্নয়ন সংস্থা অংশ গ্রহন করে। জন উন্নয়ন তাদের কথার বুলি। নোবেল বিজয়ীর রাজনীতিতে আগমন এবং পলায়ন এবং দেশের এই পরিস্থিতিতে নীরবতা তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশিত করে ফেলে। তারা কেমন উন্নয়নের প্রত্যাশা, জনসেবার আশা নিয়ে এখানে এসেছিলেন? মিডিয়া আবারও এক দানবের ভুমিকার দিকে এগুচ্ছে। আবার যদি সামরিক শাসন দেখতে হয় তবে একে সমর্থন দেবার পরোক্ষ ভুমিকায় তারা বোধ হয় চলে গেছে এতক্ষণ। জনমত তৈরির পায়তারা চলছে বোধ হয়। সেমনই মনে হচ্ছে। একসাথে সমস্ত ফ্যাক্টর গুলো একত্রিত করা হচ্ছে। দ্রব্য মূল্য, চাল সংকট, গ্যাস সংকট, মুদ্রা সংকট ; আমাদের এই সমস্ত অভাবকে এক করতে পারলেই অনেক কিছু রাতারাতি করে ফেলা সম্ভব। একসাথে এতো অভাব, একযোগে এত এত প্রকাশ তৈরি করা হচ্ছে নাতো? মিডিয়াকে এবং যা দেখছি তা মেনে নিতে ভয় হয়।
এর মানে কিন্তু এই নয় যে এদেশে কোন চাল সংকট নেই। আমরা চরম চরম অভাবে আছি। তবে এই সংকটকে পুঁজি করার একটা চেষ্টা চলতে পারে। এই পুঁজির ব্যবসার সাথে জড়িত হতে পারে মিডিয়া।
এদেশে সমস্ত নির্বাচিত সরকার একটা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বারবার নিরব থেকেছে তা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে। আর এই সামরিক মদদ পুষ্ট সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে। এই নিরবতার এবং অক্ষমতার কারন সরকারের জনপ্রিয়তার সঙ্গে, ভোটের সঙ্গে জড়িত। কেউই চায়নি তাদের ভোট কমুক। ফলে তারা এই বিষয় টাকে চাপা দিয়েই রেখেছে বরাবর। এবং এই সরকারও নিরব ছিলো এই বিষয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা তাদের জনপ্রিয়তার কথা ভেবে ডবল গেম খেলার একটা প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে অলরেডি। তারা প্রথমত এই বিষয়ে নিরবতা প্রদর্শন করেছে এবং শেষ পর্যন্ত এই দায়িত্ব নিবার্চিত সরকারের হাতে অর্পণ করে এক প্রকার দায় ভার লুকাতে চায়। এহেন পরিস্থিতিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের একটা আওয়াজ ওঠে বটে। তবে মনে হয় এটা সরকার সমর্থিত একটা অপ্রয়োজনীয় সভা হলো কদিন আগে। এটা তাদেরই পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। আর এর সাথে যুক্ত হলো আমাদের সেনাপতির প্রাণ ভিক্ষা প্রার্থনার করুণ সুর। তারা গাছ এবং তলা উভয়েই আছেন এখন দেখছি।
এমন পরিস্থিতিতে মাত্র একজন মুক্তিযোদ্ধা, হত্যাকারীর জন্য প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার কারনটাকি এক প্রকার ব্যালান্স করা নয়? জনদৃষ্টি স্থাপন যে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আছি। এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে বেশ হৈ চৈ ওঠে যা মূলত লোক দেখানো। এক অর্থে এগুলোতো যে কাজ হবে না তা বোঝা যায়। গভীরতর সমস্যার দিক থেকে জনগনের চোখ ফিরিয়ে আনার জন্য এসমস্ত করা হয় সম্ভবত। জনগনের দৃষ্টিটা সরানোর জন্য তারা নানা পায়তারা এবং নানা ইস্যু তৈরি করে। কেনই বা এই নব নাট্য মঞ্চ সৃষ্টি করা?
জামাত যেহেতু সরাসরি যুদ্ধ অপরাধের সাথে সম্পর্কিত এবং তারা এই সরকারের আমলে বেশ ভালোই আছে। তথা তাদের কে ভালোই রাখা হয়েছে। তখন যাতে সরকার কর্তৃক জামাত ভালো রাখা কর্মকাণ্ড প্রশ্ন বিদ্ধ হতে না পারে সে জন্য আমাদের সরকার পুষ্ট সুনাগরিকরা সরকারের গোপন ইশারায় ' যুদ্ধ অপরাধ' বিষয়টাকে বেশ সামনে নিয়ে আসে। কিন্তু আসলে বাস্তব চিত্র কি? জামাত বেশ ভালোই থাকে বারবার। কেননা এদের একটা ধর্মের দোহাই আছে, এবং তারা ধর্মের ষাড়ের মত বেশ ভালো চরে বরে খাচ্ছে। এবং মাঝখান দিয়ে এই সমস্ত আন্দোলনের নাটক করে, জনগনের মন রক্ষা করে, বেশ একটা জনপ্রিয়তা নিয়ে জামাতকে ভালো রাখতে পারলো সরকার। আর বাকি যারা আওয়াজ তুলেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তাদের কেও দেখিয়ে দেওয়া গেলো , ভাই আমরা তোমাদের সাথেই আছি।
এটাই এই সরকারের সফলতা নানা বিরোধী মত কে তারা নানা কৌশলে জায়েজ করে ফেললো। ফলে যারা উপর উপর দেখতে ভালোবাসে সব তারা পেলো এক মহা উপকারী বন্ধু সরকার। আর সেনাপতির এজাতীয় বক্তব্য আরও পরিস্কার করে দিলো এই বিষয়গুলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


