somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হে নিদারুণ সুসময়, তুমি উচ্চারণ করো, কবির মৃত্যুতে আমাদের কিছু আসে যায় না!

২৫ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
তারোকাভস্কির ' নস্টালজিয়া'র কথা হঠাৎ করে আজ বড় বেশি মনে পড়ছে। ওই ছবির একটা দৃশ্যই বারবার ঘুরে ফিরে হাওয়ায় মিশে যাচ্ছে আজ কদিন হলো। একটা লোক এই নষ্ট দুষ্ট পৃখিবীর কথা জনতাকে মনে করিয়ে দিয়ে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিচ্ছে। উপস্থিত সোনার পিত্তল জনতার বোধের কানে তার কথার আধেক প্রবেশ করলো বা করলো কি করলো না। লোকটি বলেই গেলো, ক্লান্তিহীন সে বলেই যাচ্ছে আজও। আর এদিকে জনতা খোশগল্পে মসগুল, সুন্দরীরা তাদের ঠোঁটে রঙের আভা বুলিয়ে নিলো। তারপর তারা জ্যান্ত মানুষের গায়ে কেরোসিনের আগুন কেমনতর উজ্জ্বল তা দেখার জন্যই যেনো অপেক্ষা করছে। তারা দৃশ্য মঞ্চায়নের অপেক্ষায় অধীর। লোকটা তার গায়ে আগুন জ্বেলে দেয় না কেনো। দিলেই তো যায় সব, সব! সমস্তু সংকট আর ব্যথার কথা বাতাসে ছড়িয়ে সে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বেলে দেয়। পৃথিবীর অনিয়ম আর মানুষের ব্যক্তি অক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সরূপ লোকটি আত্মহত্যা করেছিলো। এই দৃশ্যে জনতা হেসে ওঠে, তারা চলে যায় যে যার পথে............ বাতাস বইতে থাকে। পাবলিক স্কয়ার সুনসান পড়ে থাকে।

মাত্র একটা শিকলে বাঁধা কুকুর প্রতিবাদ করেছিলো। কুকুরের তীব্র ঘেউ এই সভ্যতার নিষ্ঠুরতার প্রতি প্রতিবাদ করেছিলো। আমরা ছিলাম নীরব. আত্মমগ্ন।

২.

মানুষের মৃত্যুতে কিছু আসে যায় না মানবের, মানবীর, আমাদের, সমাজের, সভ্যতার, পৃথিবীর। আর একজন কবির মৃত্যু হাস্যকর আরও বেশি হাস্যকর। কবি কি আর তোমাদের মানুষ? এখানে এই ভূগোলে পিশাচের দাঁতের নিচের অন্ধকারে যে কবি বেড়ে ওঠে, যে কবি লিখে, সেতো আরও অন্ধকারময়। তাকে ঠিক দেখা হয়ে ওঠে না আমাদের। কবির রক্তের ভেতর পরিবর্তনের জীবাণু বেড়ে ওঠা, তার মাথার ভেতরের স্নায়ু পেশীর কোনায় সূর্যের বীজ নিয়ে তাকে পার হয়ে যেতে হয় সময়ের গড়ের মাঠ। তার পাশ দিয়ে ছুটে যায় যুদ্ধের রঙিন ঘোড়া। সমান মাটির ধুলোর পৃষ্ঠায় সে ছড়িয়ে দেয় সূর্যবীজ, সে বসে থাকে অঙ্কুরোদগমের প্রত্যাশায় আর তার গভীর প্রশ্বাসে সে ছড়িয়ে দেয় তার বুকের জীবানু। নব আলোর জন্ম তার আশা, সৃষ্ট জীবন উপলব্ধি ধ্বংস তার প্রত্যাশা। এই জীবানু, মারণান্ত্র আর টগবগে সূর্ষ রেণু নিয়ে সে বেঁচে থাকে আমাদের সময়ে। সেই রঙীন যুদ্ধ ঘোড়া তার সাজ ঘর মাড়িয়ে চলে গেলে, অনন্ত এক না বুঝার মধ্যে, নিজের ভেতর নিজে মিশে যেতে যেতে তার ঘাড়ের অন্ধকার একদিন কথা কয়,তাকে বলে ''আরও আরও মিশে যাও নিজের ভেতর।'' কবি মিশে যেতে থাকে। সে চলে যেতে থাকে আমাদের থেকে দূরে। মাত্র তার দেহের অস্তিত্ব পড়ে থাকে আমাদের মাঝে। এই বিপুল দুরত্বে বসে কাউকে না কাউকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় স্বেচ্ছামৃত্যুর। কবি চলে যায়। তাকে চলে যেতে হয় মাথার ভেতর সূর্যের রেণু আর বুকের ভেতর জীবাণু নিয়ে। এই না বুঝার দায় কাকে দেবো হে সুসময়!

৩.

আমাদের কবি বন্ধু সুমন প্রবাহন স্বেচ্ছামৃত্যুর পথে একরাতে চলে গেছে। ও আর ফিরবে না। এই তার সংকেত আমাদের প্রতি। সময়ের সাথে এক অদৃশ্য যুদ্ধের ময়দানের পাশে ওর তাঁবু। এখন যুদ্ধ বিরতি। সুমন বর্মের ভেতর থেকে বের হয়ে এসে এসে নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে আছে। ওর প্রিয় ঘোড়াটির পাঁজর চিরে বের হচ্ছে সাদা ডানা। সমস্তু যুদ্ধাস্ত্র ফেলে, যা কিছু বর্মের সফলতা তা ছাড়িয়ে সুমন উঠে বসেছে ওর প্রিয় ঘোড়ার পিঠে। সে চলে যাচ্ছে আরো দূরে..........ব্রহ্মাণ্ডের বাইরে অদেখা ঠিকানায়।

৪.

''দূর থেকে হাত তোলো যদি পারো জানাও সন্মতি, না হলে সংকেত আজো বৃথা যাবে ''
সুমন ওর সংকেত পাঠাচ্ছে আমাদের দিকে '' ভাড়াড়ের শূন্যতার ভেতর বেঁচে থাকো।'' আমরা বেঁচে থাকি অর্থহীন, ভীত, যুদ্ধহীন, ডানাওয়ালা ঘোড়াহীন।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৪০
২১টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×