somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মিডিয়া ঈশ্বর: 'There is no heaven; it's a fairy story'
এইটা ছিলো গল্পের মাথা। সংক্ষিপ্ত ইন্টারিভউ। চলুন দেখে নিই কি বলেছন উনশত্তর বছর বয়স্ক এই মহান পদার্থবিদ:
Science, truth and beauty: Hawking's answers
What is the value in knowing "Why are we here?"
The universe is governed by science. But science tells us that we can't solve the equations, directly in the abstract. We need to use the effective theory of Darwinian natural selection of those societies most likely to survive. We assign them higher value.
You've said there is no reason to invoke God to light the blue touchpaper. Is our existence all down to luck?
Science predicts that many different kinds of universe will be spontaneously created out of nothing. It is a matter of chance which we are in.
So here we are. What should we do?
We should seek the greatest value of our action.
You had a health scare and spent time in hospital in 2009. What, if anything, do you fear about death?
I have lived with the prospect of an early death for the last 49 years. I'm not afraid of death, but I'm in no hurry to die. I have so much I want to do first. I regard the brain as a computer which will stop working when its components fail. There is no heaven or afterlife for broken down computers; that is a fairy story for people afraid of the dark.
What are the things you find most beautiful in science?
Science is beautiful when it makes simple explanations of phenomena or connections between different observations. Examples include the double helix in biology, and the fundamental equations of physics."
সূত্র: Click This Link
গ্যালিলিওর মৃত্যুর ৩০০ বছর পর ১৯৪২ সালের জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখ ইংল্যান্ডের অক্সেফোর্ড নগরিতে তিনি প্রথম নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বার ছিলো বৃহস্পতি। বাতাসের আদ্রতা, তাপমাত্র বা গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান জানানো পরিশ্রম সাধ্য হবে। ধরা যায় ৪ মার্চ ১৯৪১ সালের মঙ্গলবার ড. ফ্রাংক হকিং এবং ইসবেল হকিঙের মিলন হয়। আমরা ধরে নিতে পারি রাত্রি ১০ বা ১১ টায় এই মহামিলন ঘটে। ড. ফ্রাংক প্রতি ঘন্টায় ১০০০ স্পর্ম তৈরি করেছেন, এবং ৫ মিলিয়ন স্পার্মের একটি থেকে যে শিশুর জন্ম হবে তার নাম রাখা হয়েছিলো স্টিফেন হকিং। এখানে আমাদের মনে রাখতে হবে এই মঙ্গলবার সকালে জনাব ফ্রাংক যদি এক কাপ কফি পান করতেন বা আঙুর বা যবের সুরা পান করতেন তবে এই মহাসন্ধিক্ষেণর ফলাফল ভিন্নতর হতে পারতো। মানে আমরা হয়তো স্টিফেন উইলিয়াম হকিঙের দেখা পেতাম না। অখ্যাত আমজনতার সংখ্যা বাড়তেও পারাতো। সেচতন পাঠক বা পাঠিকা এই পানাহারের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না। তারা বরং উভয় সম্ভাবনার দোলনায় দোলায়িত হবেন। আমারও সেই মত। অর্ধমাস পর ১৯ তারিখ বুধবার এই দম্পতি হয়তো জানাতে পারেন এই নয়া শিশুর কথা। ৪ এপ্রিল শুক্রবার ১৯৪১ খু্বই তাতপর্যপূর্ণ, কেননা, এটাই এই মহামানবের জীবনের প্রখম দিন হিসাবে ধরা যায়। এই দিন যে মানব কোষ তৈরি হলো, যে ডিএনএর আবির্ভাব হলো তাই এই মানবের সমস্ত জীবনের জ্ঞান বুদ্ধি আর চরিত্রের সঞ্চয়। পরবর্তী শুক্রবার ২৫ তারিখ তার হৃদয় জাগ্রহ হলো। এই সবে মিথ্যা বা কল্পনা বা সত্যের সম্ভাব্যতা থাকতে পারে, নাও পারে; তবে ৮ জানুয়ারি ১৯৪২ এ মহাত্ন ধরাধামে পদার্পন করলেন। প্রথম নিশ্বাস ত্যাগ।

বহু সম্ভাব্যতা নিয়ে যে মানব শরীরের আর্বিভাব হলো এবং তা অন্যান্য সব সম্ভাব্যতাকে নাকচ করে যা হলেন তা জনাব স্টিফেন হকিং। মানে দাঁড়ায় জীবন একমুখী হে! তোমার যা হবার তুমি তাই হবে। জীবন ঘিরে আমরা যত যত সম্ভাবনাই দেখি না কেন, সময় আমাদের সেই আয়নার সামনে এনেই দাঁড় করায় যেখানে আমার মুখ, চেতনা, জ্ঞান, প্রবৃদ্ধি একই রকম যেমনটা আমরা হয়ে উঠি বা যেমনটা আমরা হয়ে উঠিনি। আয়নার কারিগর এই মুখকে পরিবর্তন করতে পারে না, বহ্য আর অন্তর সর্বসম্পর্কহীন, একরোখা। তাই আয়না আর্শি মিরর এতো রহস্যময়, জাদুকরী, কাব্যময়, সঙ্গীতময়। ‘ব্যক্তি’র হয়ে ওঠা আদি-পৃখিবীর জন্মের মতই অজানা। এই অজানার শোভাযাত্রায় দেহ-মনোবিজ্ঞানের অনুনন্ধান আশা জাগানিয়া। একদিন সেই আদি-বিন্দুর সিন্ধুর তীরে আমাদের দাঁড় করিয়ে দিবে। আয়না না হয় সেদিন ভেঙে ফেলা যাবে। বাঁশি তুমি ভেঙে ফেল, সে আমাকে বলে না কিছুই।

মহামতি হকিং হুইলচেয়ারে ভর দিয়ে আমাদের পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষুদ্র রাজ্যের পরিধি বাড়িয়েছেন। ব্লাক হোল, থিওরিটিক্যাল কসমোলজি, কোয়ান্টাম গ্যাভিটি, হকিং রেডিয়েশন এই সমস্ত উচ্চতর পদার্থবিদ্যায় আর অবদান অত্যাশ্চর্যক। তিনি শুধু পদার্থবিদই নয়, কর্ম দ্বারা তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহিত। তবে নোবেল এখনো পান নাই।

তার অ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইমস পুস্তকের বিক্রি নয় মিলিয়ন। অনুমতিহীন প্রিন্ট আর অনুবাদের কথা বাদ দিলাম। জটিল একখানা বিজ্ঞানের বইয়ের বিক্রি এতো তা কল্পনা করা আমার জন্য কষ্টসাধ্য। তবে বোঝা যায় জগতে আমার মত নাদানের সংখ্যা হাতে গোনা। এই পুস্তক পাঠ করতে যেয়ে আমার অভিজ্ঞতা হলো স্বচ্ছ পদার্থজ্ঞান ছাড়া এর মর্ম উদ্ধার এবং উপলব্ধি দুস্তর পরাবার হে! তারপরো এই বহি ইংরেজি জানা নাজানা অগনন পাঠক পাঠ করেছেন। কিবা কারণ? আমারতো মনে হয় পাঠক যত না কালো গহ্বর জানতে চায়, যত না সময় কাল আর স্থানের ডিমেনশন বুঝতে চায় তার থেকে বেশি জানাতে হায় ঈশ্বরের মন মানসিকতা। তেমনই গুঢ় কথার ইঙ্গিত আছিলো সফল ফ্ল্যাপে। তিনি বলেছন, "If we discover a complete theory, it would be the ultimate triumph of human reason — for then we should know the mind of God." সাথে সাথে এও বলছেন যে জগত ব্যাখ্যায় ঈশ্বরের দরকার নাই। তিনি যে ঈশ্বরের সাথে নাই তা তিনি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা আর টিভি চ্যানেলে বলেছেন। কারন হয়তো এত কঠিন নিত্যতার সূত্র মেনে ঈশ্বর এই ভূগোল, জল, স্থল, অর্ন্তরীক্ষ্য বানান নাই। এতো ভেবে সৃষ্টি হয় না। আবিস্কার হয়। ঈশ্বরতো আর জগৎ আবিস্কার করেন নাই। মুখের কথায় যিনি জগত গঠলেন, এত গভীর গবেষণার দরকার হয় নাই। তবে আজ পর্যন্ত ধর্ম অধর্ম উভয়ের যে সারমর্ম, তা হলো শূণ্যই এই মহাপৃথীবির মূল ভিত্তি। শূণ্যও কি ছিলো? এই মহাশূণ্যতার মাঝে ঈশ্বরের মন মানসিকতা বোঝা দায়, বোঝা দায় ‘The question is: is the way the universe began chosen by God for reasons we can't understand, or was it determined by a law of science? I believe the second. Because there is a law such as gravity, the Universe can and will create itself from nothing." এই জটিলতাই এই্ বইয়ের প্রান, এটা ভেবেই পাঠক বইটি হাতে তুলেছ।
শেষ পর্যন্ত আমার বিশ্বাস পৃখিবীর বিক্রিত বইয়ের মধ্যে এটা সর্বাধিক অপঠিত। কেননা হকিং সাহেবের এই সমস্ত উত্তরের ভিতর-বাটিতে পেীঁছানের মত মগজের পেশির জোর কত সংখ্যক পাঠকের সে প্রশ্ন বরং খোদাকে করা যাক। তবে এটা বলা যায় যে ঈশ্বর জগত সৃজন করেছেন, আর আমরা আদাম সন্তান জগত আবিস্কার করছি। সমস্তই এই মানব বালক বালিকার আবিস্কার। ফলে আমাদের ইন্টেলেকচুয়ালিটি পদার্থবিদরে ছাড় দেয় না। উত্তর কি দক্ষিণ পূর্ব কি পশ্চিম সব মিডিয়ার এক হুক্কা, গলার স্বর এক। জগতে আবিস্কৃত প্রচলিত মিডিয়ার কেন যে কোন ভেরিয়েশন নাই, এই সব মিডিয়ার ইন্টেলেকচুয়ালিটির নিম্নতা কেন যে এক তা ভাবার বিষয়। ঈশ্বরের খোঁজ খাবার ( খবর নয় ) নিতে এরা এতাই উতলা যে মন বলে ভূবন মানব শূণ্য। ভূবন সৃজনকালে যে নিরবতা ছিলো ঈশ্বরের সাথে সেই নিরবতায় মিডিয়া নামক তথ্য উৎপাদক পৌঁছে গেছে। ঘাসের শরীরে যে রক্ত-শিশির বিশ্ব জুড়ে তার খবর আসে তথ্য আকারে। এই তথ্য দিয়ে আমাদের কি হয়? তাতে তাত্ত্বিক নামক তথ্য ভাণ্ডারের আড়ত ভরে, মানুষের মন ভরে কই? ঈশ্বর নামক ফিজিকের সাথে বিজ্ঞানীদের বাকচাল মেলা পুরানা ব্যাপার। এই অপ্রয়োজনীয়তাকে সে মিডিয়া ত্যাগ করে নাই। এই লক্ষ্ণীরে সে সমাদর করে, করছেই।
যাক এই সমস্ত কথা। এখন কথা হলো এই মহাবিজ্ঞানীকে আধুনিক বা উত্তরাধুনিক কবিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কি বলতেন না, মেটাফিজিক্যাল কবিতা বলে সংসারে কিছু নাই্। ‘শিল্পে জন্য শিল্প’ এই পদ পদবি নিয়া বিপ্লবাত্বক সমালোচনা কে তুলনা করা যায় তলহীন সময়ের সাথে। চর্তুমাত্রিক সময় অভিজ্ঞতাহীনতা তাদেরকে এমন টু-ডিমেনশনাল ত্বাত্তিক সত্তে অবদ্ধ করেছে। ফলে উচ্চতর কবিতা প্রৌকশলে সমস্ত মেটাফিজিকাল কবিতা যে রূপ লাভ করবে তা অনেক বেশি মানবীয় বলে মূর্ত হবে। আর শিল্পের বিরুদ্ধে যে কবিতা রচনা করা হয়েছে, তা নিটনীয় সূত্রের মত বর্তমানের জটিলতর আলোক গতি সম্পন্ন জীবননের সঠিক অবস্থান নির্ণয়ে ব্যর্থ। আরো সহজ করে তিনি বলবেন, মেটাফিজিক্স বলে কিছু নাই রে পাগল। কেননা অভিজ্ঞতাহীনতা প্রকাশ করার কোন উপায় নাই, ভাষা নাই, গানিতিক কোডও নাই। ভাষার গলদ এখনো বর্তমান, সাথে চিন্তার লিমিটেলেসনেস। ফলে বর্ণিত সমস্ত বাক্য চিন্তা-সত্য, ক্ষেত্র বিশেষে কল্প-সত্য। হোমারের বয়ান কি তোমার মিথ্যা মনে হয়? নাকি সত্য? এই সময়ে কোনটাই না। এর কাব্য সৌন্দর্য আছে যা মিথ্যা নয়, সত্যের মত। আর ফরাসী কবিতা জীবন বর্হিভূত মনে হলেও তা জীবন দিয়েই লেখা, পরিশ্রম লব্ধ। কবিতা নিয়তে লিখিত যেকোন বাক্যই তবে কিন্তু কবিতা নয়। মনের জোর, বিশ্বাস যেমন বিজ্ঞান নয়। তবে মাঝে মাঝে বিজ্ঞান হয়ে উঠতে পারে। অনেকদিন মানবকুলের ধারণা ছিলো আলো সরলরৈখিক। তবে মহামতি আইস্টাইন মনের জোরেই বলছিলেন আলো বাঁকাইতে পারে। বছর বছর পর তা প্রমানিত হয়েছে। এটারে কি বলবেন? আসলে সব বাস্তকতাই সর্বসময়ে প্রমান যোগ্য নহে। প্রামান্য ক্ষেত্রবিশেষে অপ্রমানিত। কবিতা হয়ে ওঠার জন্য প্রামন্য লাগে বা লাগে না। যে কোন তখ্যই সত্য হিসাবে মূর্ত হতে পারে কালের ব্যবধানে,বা মিথ্যার মত মনে হইতে পারে সময়ের ফারাকে। ফলে কলা সম্পর্কে চিরন্তন জ্ঞানের পথ রুদ্ধ। এর কোন মহানিত্যতা নাই। কাব্যকলাকে, শিল্প-ভান্ডার কলা কৌশলময়, এর মধ্যে বিজ্ঞানের ভন্ডামির দেখা মিলতে পারে। আপেল বাগানের বিজ্ঞানী মানে নিউটন সাহেবের গতিসূত্রময় কবিতা হইলো ফিজিক-কাব্য। মেটাফিজিক নিয়াতো আগেই কখা শেষ।
এই সাহিত্য আলাপ সহ্য করা কঠিন। তবে কেন? পদার্থবিদ আবার কাব্য বোঝে নিকি? তবে মিডিয়ার কল্যানে তাও তরা যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত তেমন আশা নাই, কেননা কাব্যে মানবের অতটা মতি নাই যত না আছে ধর্মে।

আরেক পদার্থবিদ নীলস বোর। তিনিও মজার খোরাক জোগান। বস্তুর একক অনুর গঠন আর কোয়ান্টাম ম্যাকিনিকসের জন্য তিনি সর্বজনবিদিত। ১৯২২ সনে তার ভাগ্য নোবেল সহায় হয়। তার দু-চারটি ভাষা শোনা যেতে পারে।
''It is wrong to think that the task of physics is to find out how Nature is. Physics concerns what we say about Nature.''
''Prediction is very difficult, especially if it's about the future. ''
''Everything we call real is made of things that cannot be regarded as real. ''
এনার সাথে সাহিত্য আলাপ করা যাইতো, তা বোঝা যায়। কিন্তু সেই ভাগ্য আর আমার কই?

আলাপ রে অন্তারায় নিয়ে আসি। বিস্তার বেশি হয়ে গেল। আইনস্টেইর একবেলা স্বীকারোকক্তি করেছিলেন:
I do not believe in a personal God and I have never denied this but have expressed it clearly. If something is in me which can be called religious then it is the unbounded admiration for the structure of the world so far as our science can reveal it. (Albert Einstein, 1954)
হিকিংও বললেন। এর মানে এই নয় যে জগৎ ঈশ্বর হারা হয়ে গেল। যা হচ্ছে মানুষের কর্মটাকে আড়াল করা হচ্ছে। We should seek the greatest value of our action. অকশনের তুল্য-মূল্যটারে আবডাল করা হইলো। হচ্ছেও তাই। এইটা কোট হয় না। মানুষের কান্নার আর কাজের মিমাংসা আগে হোক, তারপর না হয় স্বর্গ নরকের কথা ভাবা যাবে। মিডিয়া ঈশ্বর রে চায়, অন্তত খবর হিসাবে তারে চায়, এই তার প্রবৃদ্ধি, অর্জন, বিশ্বাস।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/29386240 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/29386240 2011-05-24 17:11:45
''জল প্রিজমের গান'' এর উৎসর্গ কবিতা
দৃষ্টিবিজ্ঞানের এই গরাদে কে হেসে কথা কয় আমাদের সাথে,
তার জন্য লিখে রাখি গান, মৃত্যুর হতাশ গান

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/29113294 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/29113294 2010-03-09 21:04:16
কবিতাটা ফিরে ফিরে এলো আজ সারাদিন নবধারাজলে

উৎপলকুমার বসু

১.
মন মানে না বৃষ্টি হলো এত
সমস্ত রাত ডুবো-নদীর পারে
আমি তোমার স্বপ্নে-পাওয়া আঙুল
স্পর্শ করি জলের অধিকারে।

এখন এক ঢেউ দোলানো ফুলে
ভাবনাহীন বৃত্ত ঘিরে রাখে-
স্রোতের মতো স্রোতস্বিনী তুমি
যা-কিছু টানো প্রবল দুর্বিপাকে

তাদের জয় শঙ্কাহীন এত,
মন মানে না সহজ কোনো জলে
চিরদিনের নদী চলুক, পাখি।
একটি নৌকো পারাবারের ছলে

স্পর্শ করে অন্য নানা ফুল
অন্য দেশ, অন্য কোনো রাজার,
তোমার গ্রামে, রেলব্রিজের তলে,
ভোরবেলার রৌদ্রে বসে বাজার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28860234 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28860234 2008-10-26 23:01:18
প্রথম প্রথম, প্রথম আলো ব্লগ: আবারও একটি ''সুশীল লিস্ট'' পোষ্টটা
চোখে এলো। ''সুবিধাবাদী সুশীল'' শিরোনামে বেশ একটা লিস্ট ঝুলিয়েছেন বিডি আইডল। দেখে এবং পড়ে ভালো লাগলো, হয়তো লাগে নাই। কেননা এই নাম পরিচয়হীন বালকের বা বালিকার বা না-বালক-না-বালিকার ব্যথা আমাকে সকালে বিষন্ন করলো। তিনি ব্যথাই পেয়েছেন। তিনি ব্যথা পেতেই পারেন। তার নামটি ভার্স্যুয়াল হলে কি হবে, তিনি আকাশী চরিত্র হলে কি হবে বা তিনি নিজ নাম প্রকাশে দুর্বল বলেই বা কি হবে, তার ব্যথা এবং ব্যর্থতাবোধ দেখ মনে হয় আসলেই এই নামে একজন মানুষ আছে। তিনি হয়তো সকালের প্রথম আলো পড়ে একটা লিস্ট করেছেন। ব্যাপারটা তার ভালো লাগে নাই। কেন লাগে নাই জানা থাকলে ভালো হতো।
তার কথাকে গুরত্বহীন আমি ভাবি নাই। আমার উপলব্ধি হলো:

এবং ব্যক্তি হিসাবে স্বাধীন হওয়া যায় হয়তো, তবে তা বজায় রাখা কঠিন।

এবং যারা সুবিধা নিতে চায় বা এক সময় নিয়েছে এখন সুবিধা বঞ্চিত তারা সব কাজকেই একটা সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে।

এবং নতুন কিছুকে স্বাগত জানানো আসলেই খুব কঠিন।

এবং না জেনেই, না বুঝেই আমরা যে কাউকে যখন তখন যেকোন কাতারে ফেলে দিতে পারি পরিতাপহীন ভাবে।

এবং যেকোন ভাবে যেকোন কারনেই মানুষকে অপমান করা যেতে পারে দ্বায়িত্বহীন ভাবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28859257 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28859257 2008-10-24 23:45:27
১.সুতি চাদরের কেমিক্যাল জঙ্গল আর শিকার কাহিনী
ঐতো আমার বিছানার কাভারে আঁকা ফুল আর ঘাসের কেমিক্যাল বনে পরে আছে নিরীহ একটা দীঘল চুল, বাতাসে উড়ছে, উড়ে যেতে চাইছে বিশুদ্ধ সতীত্বের কাছে। যেনো এই মাত্র একটা কালো মহিষ তার রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়ে পরে আছে, ধীরে ধীরে ওর রক্তে বাসা বেঁধে নিচ্ছে মরুদেশের শীতভোর, আমাদের কাক ডাকা হেমন্ত কালে। একটা চুল উড়তে উড়তে ফিরতে চাচ্ছে ঐ চুল জঙ্গলের দিকে, আবার হারিয়ে যেতে চাচ্ছে কালো মহিষদের বিস্তৃত দৌড়ের ভেতর। আজ মাত্র একটা চুলের স্মুতি পরে রইলো আমার কেমিক্যাল জঙ্গলে। যিনি ঈশ্বর তিনি হয়তো খেয়াল করেছেন কিভাবে একপাল কালো মহিষের দল থেকে ছিটকে পড়ে আছে মাত্র একটা যুবতী মহিষ আর কিভাবে তার পতন হয় এই সুতোর ফুল আর ঘাসের বনে। তিনিই হয়তো দেখে থাকবেন, কেনান তিনি ছাড়া আমাদের দেখার মত কোনো তৃতীয় কালো চোখ ছিলো না । তাহলে ঈশ্বর আছে কেনানা যে কারো মনে হতে পারে তিনিই দেখে থাকবেন কখন প্রাণীটি ছিটকে পরে ছিলো গোত্র থেকে। ঈশ্বর কি আছেন? যেহেতু আজ বাতাসে মেহেগুনী ফল ফাটার শব্দ শুনেছিলাম সেহেতু তিনি নেই। যেহেতু ঐ শরীরী আগুনের আঙুলের মেহেদী রঙ এত কিছুর পরও মুছে গেলো না সেহেতু ঈশ্বর নেই। যেহেতু আমরা এর পর দেখতে পেয়েছিলাম এই মাত্র আমরা স্বর্গচ্যুত, কেনান সেই দৃশ্য ভেসে উঠেছিলো, আমরা পিছন ফিরে মাত্র একবার স্বর্গের নন্দন কানন দেখে লাফিয়ে পড়েছিলাম পৃথিবীর দিকে। তারপর আজ আমাদের দেখা হলো ইডেনের পথে, একে বলা যায় শিকারের মাঠ। যেহেতু এত কিছুর পর আমরা অনুভব করেছিলাম সেই দিনটিকে যে দিন দুজন মানুষ অনুভব করেছিলো প্রথম নগ্নতা। এতো কিছুর পরও আমরা যেহেতু চোখে দেখেছিলাম সেহেতু ঈশ্বর নেই। আমাদের কারোই চোখ ছিলো না। ফলে এই দৃশ্য কি ঘটে গেছে আমাদের অন্তরালে ঈশ্বরের মায়াবী মঞ্চের পর্দার উপর উলম্ব বরাবর? না, ওটা ছিলো আমার সুতির ফুলের বিছানা। তবে কেন দেখেছি একটা মহিষ পড়ে আছে এভাবে একা একা। আমার চোখের ভেতর লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মহিষের নগ্ন চুল, আর তাদের খসিয়ে ফেলানোর সুতীক্ষ বাসনা। আমি বসে আছি একা মৃত মহিষের পাশে আমার সনির্মিত বনবাসে, দেখছি একটা ভুলে ঝরে পরা চুল উড়েতে চাচ্ছে আমার মাথার চারপাশে। আমি কি একে উড়তে দিবো? তবে উড়ুক। উড়ে উড়ে ঘুরে ঘরে কথা বরতে চাচ্ছে মহিষ। আমি কি তাকে কথা বলতে দিবো? তবে বলুক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28846919 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28846919 2008-09-23 14:49:04
যমুনার এপার থেকে কুয়াশা ঢাকা তাজ

যমুনার এপার থেকে কুয়াশা ঢাকা তাজ।


জয়পুরের আকাশ।



আগ্রাফোর্ট



বিপাশা নদী।



মানালির পথ, পাশে শুয়ে থাকা বিপাশা।



মানালি।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28835755 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28835755 2008-08-27 22:37:04
জল প্রিজমের গান উঁচু মগডালে পড়ে আছে শুভ্র মোমের রূপালী ঘর,
নির্লিপ্ত চতুর বসন্তের বহু দিন পর বৃষ্টি এলো
মৌচাক থেকে চুয়িয়ে পড়ছে মধু নয়,
ফোঁটা ফোঁটা সপ্তবর্ণ জলের প্রিজম

শেষ মধু চুষে উড়ে গেলো মিথিলার সোনালী মৌমাছি,
তারা ফুল পরাগের ঘ্রান নিয়ে বসে আছে
আমার জন্মান্ধ চোখের কিনারে,
অথবা তুমিও চোখ বুজে বসো
প্রকৃত অন্ধের ছদ্দবেশে
চোখের ভিতর মধু ধরো,
ওরা এসে বসুক চোখের মোম ঘরে।

আমার না বলা কথা রক্তে মিশে গেছে
কথা বললেই বক্তপাত ঘটে যায়;
আর যারা ঘুমের ভিতর কথা বলে,
অথবা সমুদ্র ভ্রমনের স্বপ্নে পোষাকের সুতোয় লবণ
আর বালি নিয়ে আবার তলিয়ে যায়
নিজের ভিতর নিজে,
তারাতো এই আহত রাত্রির বাতাসেও মোম জ্বেলে দেয়,
শোক-গীতি গায়,
ঘরে ফেরে, কম কথা বলে,
মোজা খুলে পা’য়ে জমা সময়ের গন্ধ বুঝে নেয়।
রাতের বিপন্ন সিড়ি বেয়ে এই অশূন্য আকাশ আরও উপরে উঠে গেছে ,
প্রেম তারও অধিক দূরে যায়
আরও আরও নক্ষত্রের মত দূরে দূরে তুমি আমি বসে আছি পাশাপাশি যেনো।

জাগিয়ো না,
ঘুমের ভিতর মৃত সব মমি ইঁদুরের চার পায়ে ভেঙে দিচ্ছে পিরামিড
বলে দিচ্ছে ইতিহাসে না লেখা হারানো কথা;

জাগিয়ো না,
মৃত্যুর শীতল সাদা ঘোড়া তাকেই উড়িয়ে নেবে;
এই স্বপ্নের বিস্তীর্ণ চিরহরিৎ মখমল ঘাসের নিরব বনে
এক ছোট্ট হ্রদের জলজ তলে আকাশ ঘুমিয়ে আছে,
যে নিদ্র-ভঙ্গ করবে প্রবল-প্রতাপে এই অনন্তের
সাদা ঘোড়া তাকেই উড়িয়ে নেবে।

কথা বললেই রক্তপাত ঘটে যায় গোপনে গোপনে
ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে যায় তরল উচ্চারণ
ঘুমের ভিতর মগজের উথাল ইচ্ছার রক্ত নদীর গভীরে
বাঁচিয়ে রেখেছো স্বপ্ন হাঙরের দাঁত;
স্বপ্ন দেখি,
স্বপ্ন দেখি আমার মাথার উপর এসে পড়ছে
পোড়া উল্কার পাথর,
আর পারদ জমছে মাথার শিরায়;
একদিন করোটির হাড় পোষাকের মত খুলে নিলে যৌন-বোধে--
মগজের পরিবর্তে মাথায় ধারণ করে আছি
আয়না বসানো গোল বল,
যা কিছু সত্য তমোহর এসে পড়ে
এই বদলে যাওয়া স্নায়ুর ঘন ফলকে
প্রতিফলন সূত্রে ফিরে যায়,
অনুভব করি আলো এসেছিলো,আলো;
স্বপ্ন দেখি,
স্বপ্নে দেখি
এক বাইসন ডুবে যাচ্ছে মিসিসিরির চোরাবালুতে,
ওর নিঃশ্বাসের শীতল হাওয়ায় জমে যাচ্ছে বাতাসের সরুরেখা,
কে যেনো রাত্রির বিষন্নতা ছিড়ে
গ্রহন লাগা চাঁদের দিকে ছুড়ে দিচ্ছে
চকমকি পাথরের ফলা বসানো সুতীক্ষ্ণ তীর

তবে কার কথা লিখে রাখে ইতিহাসে,
কার!

না-ঘুমানো বিরক্ত মানুষ ডুবে যায়
ডুবতে ডুবতে পারদ নদীর অতল থেকে বাঁচতেই চায়,
অনন্ত প্লাবনে সাঁতারে হারানো হাত
আর ভাঙ বিক্ষত পা নিয়ে
হিমাঙ্ক শীতল কোন অচিন শহরে
গুড়ো হাড়ের যন্ত্রনা নিয়ে সেই লিখতে বসে ইতিহাস;
কার কথা লিখে চলে।
ভেবে চিন্তে মুছে ফেলি পদ-ছাপ, দেহ-ছায়া

এভাবেই এক ছায়াদেবীর পিছু পিছু হারিয়ে গেলাম সবুজ বনের ঘাসে, ঐ ঝর্ণার তীরে পাথর যেভাবে বেড়ে ওঠে মাটির আড়ালে, বুকের ভিতর দিনদিন বেড়ে ওঠা জৈব পাথরের হাড় নিয়ে আমি আর কত দূরেই বা যেতে পারতাম -- পোষাকের উপর আমার নিজের ত্বক পরে নিচ্ছি; ফলে যতবার পোষাক বদল হয় ততবার এই চামড়াকে একবার ছিড়ে রক্ত-আঁঠায় শরীরের পর গেঁথে নিতে হয় একাএকা। সমস্ত দেহেই ধারণ করেছি মন-- আজ কোথায় আগুন, ব্যথা রেখে যাবে। বাসনার ডানা শূন্যতার অধিক নির্জন রসাতলে দেহের সঞ্চয়, মাত্র এই ব্যর্থ হাড় ইঁদুরের মত উঠে এলো সোনালী ঘাসের মাঠে; এরপর পেশী গলছে ত্বকের গভীরে; এক কালো চামড়ার বল হয়ে ত্বকের উপর জন্ম দিচ্ছি লোম, গড়িয়ে চলছি গভীর থেকে গভীর বনপথ-- তাড়া করছে সবুজ ঘাস-ফড়িঙের ধারালো পা আর বন কুকুরের নাক। নলখাগড়ার বনের ভিতর ভেসে আছি গোপনে পালিয়ে।

ঝর্ণার কাছেই ছিলো সাদা ময়ূরের উপত্যকা, আজ তারা পালকের রঙ ধুয়ে নিচ্ছে-- কেকারব ভিজে যাচ্ছে অন্ধকার বৃষ্টি রাতে -- আমিও দেখছি এই বনের যাদু খেলা; ভাঙা মৃৎপাত্রের ’পর সেই ভাঙনের সুর ধুলোর মত মলিন পড়ে আছে। মূলত ঐ সুর আজ লাল রঙের তরঙ্গ চুষে নেয় মাটির অতলে। প্রত্ন-ফসিলের আত্না হয়ে তারা পাতালেই লাভার নদীর তীর ঘেসে ভেসে যেতে দেখেছিলো সেই ডুবে যাওয়া বাইসন।

এই কি তবে না বলা প্রাক-ইতিহাস। স্বপ্ন বারবার পাপে ভরে ওঠে, আসলে প্রতিটি অলস জীবন সত্যমিথ্যাহীন, নির্বাপিত, পাপশূন্য। পাথর-ফুলের সৌরভ ভেসে আসছে ভোরের বাতাসে।

কোন আশা আজ আর আমাদের বাঁচিয়ে রাখে না।
এক রাত থেকে আরেক নিস্তব্ধ আধো-অন্ধকার ভোরে
বাতাস উড়িয়ে নিচ্ছে ধীরে ধীরে নক্ষত্র-পশুর চোখ

তবে দুরত্বই শেষ পরিমাপ,
কেননা সূর্যের নিচে নিভে যায় আলো-বর্ষ দীর্ঘ নক্ষত্রের পথ,
যদিও তাদের ছিলো দৃশ্যহীন বিভ্রান্ত ইথার সাঁতারের জ্ঞান
ছিলো অধিক সচ্ছল কোন যাত্রাপথের গতি

পারদ নদীর ’পর এতো এতো যুক্তিহীন নিরেট গোধূলি রক্ত!
আমি মৃত্য প্রচারক ছাড়া আর কি বা হতে পারি
দেহের অধিক কোন শূন্যতা লাফিয়ে নামছে ঝাঁকে ঝাঁকে।।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28807876 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28807876 2008-06-09 19:48:27
সমুদ্র ইতিহাস
বহু জাহাজের কুশল কম্পাস কাটা, মানচিত্র পাশ ফেলে চলে গেলো, নীলতিমি। প্রসূতির তলপেটে জল-সমাধির হাড় নুন মেখে উঠে এলো-- জন্মবৃত্ত, চক্রে চক্রে ফিরে আসে আত্মার গাঢ় নীল রাধিঁকা-কীর্তণ, এমন অনেক সমরুপী নাম। ঘটে য়ায় বিবর্তন, স্বপ্নসমীণ; হেঁটে যায় মাইল মাইল সময়ের আশঁকাটা। আমার মাথায় বসে আসে সমুদ্র ইতিহাসের জলদস্যু, ভাঙাছাচ। সামুদ্রিক জলের ওজন নিয়ে এসেছি ড্রয়িং রুমে, কথা বলছি, বলছি ঘুম না হওয়া রাতের হাওয়া বেশ সফলতা নিয়ে জোছনার শাড়িতে দাবড়ে লাগালো যৌনাচার, স্তনাগ্রের ঝরাপাতা মন্দির থেকে জখমের দাগ উড়ে যাচ্ছে বন-ময়ূরের বেশে, সামুদ্রিক জলের ওজন নিয়ে বসে আছি কনফারেন্সের শীতাতপ নিয়ন্ত্রনে, হেঁটে গেছি আর্ট গ্যালারির ঘসা মাজা ব্রিটিশ তাড়ানো এক প্রবীণ ল্যাম্পপোস্টের নির্জনতার ভারতবর্ষে, চকচকে মাতাল নারীর প্রস্রাবের উগ্র অ্যামোনিয়া ঘ্রান বেসুরে ধরলো জ্যাজ্-- বিদেশি সঙ্গীত। নিজের পাটাকে গিলতে গিলতে এই দেহ এক বৃত্ত হয়ে য়ায়, বিষাক্ত সাপের তেলতেলে লেজ কামড়ানো লোকটি দেখতে পায় পায়ুপথ দিয়ে বের হচ্ছে হাটুর কঙ্কাল, নৈব্যক্তিক মনোরোগ। প্রতিদিন চিড়নির দাঁতে উঠে আসে দু‌‌'‍একটি মগজের শিরা।

নিত্যতার বহু পাঠ বাকি। বাদুরের গুহা বিদ্যালয়ে পড়ে আছে উপস্থিতির উজ্জ্বল খাত। বাতাসের ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা আছে জীবাণু-তালিকা। আলো রশ্মি তলে বিরল চাকার জুতো পায়ে এক দেব শিশুর রুমাল আকাশের ঘাম মুছে দিলো,

আজ বৃষ্টি না হওয়া দিন।

ফলে কৃষ্ণগহ্বরে অদৃশ্য দার্শনিক চকে লেখা যেতে পারে সহজ-অপাঠ। সূর্য থেকে লাফিয়ে নেমেছি মাটিবর্তী নিসর্গ ভূগোলে, অঙ্গার শরীর--আলোহীন, রক্তশূন্য। আর মেহেগনি ফল ফাটা বীজের ঘুড়ির পিছে শূন্যতার পরিমাপ নেমে এলো সুতো ছেড়া প্রযুক্তির যন্ত্রে-- সন্মুখে ঘটে চলে বিগব্যাং-- স্বপ্রজন্ম বিস্তারন।

তোমাদের বাড়ি আর কত দূরে বা! ঠিক পৌচ্ছে যাবো ডিনারের আগে। সূর্যাস্ত সন্ধ্যায়, মাথার ভিতর তোমাকেই পৌচ্ছে দেই অরগাজমের বিষ-মোহে; আমি বসে আছি ইনভার্স পৃথিবীর অনুকল্পে, বসে আছি মস্তিস্কের এক দীর্ঘ রাজপথে। পথ হেঁটে যাচ্ছে, পথ ক্লান্তির নিশ্বাস ফেলে কানের শরীরে, আরও আঁধার পথ হেঁটে আসছে আমার দিকে-- ধীরে ধীরে আমি হয়ে যাই সহস্র রাস্তার মোড়। এমনই এক মোড় তোমার ড্রয়িং রুম-- আমি বসে আছি।

ও ঘরের কোন এক দেওয়ালে সর্ম্পকের মাকড়সার জাল বড় জীবন্ত পোকার ভরে ছিড়ে পড়ে স্যাঁতস্যাঁতে মেঝের জঞ্জালে। আর আরও কোন অন্ধকার পোড়ায় রঙীন মোম-- রুপান্তরিত মৌচাক; বনভূমির নিজর্নতাই পুড়ে যায় বারবার।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28804837 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28804837 2008-05-31 16:47:32
হীরে রক্ত স্রোত জাহাজের ডেকে বসে তাড়া করছি সীমান্তবর্তী এক মাঝির নৌকো, হিম সাগরের বায়ু পৌঁছে দিলো এ কোথায়; উপকূল সমবর্তী লাল কাঁকড়ার গর্তে চোখ রাখলাম, আমার উপুড় শোয়া বিজ্ঞ চোখ দেখলো সমুদ্র নিচ থেকে পণ্যবাহী জাহাজের তলদেশ -- এই ভূমির উপর তবে কি বহুদিন হলো ডুবে আছি! আমার পাশেই বসে আছে অকেজো জাহাজ, সূর্য; অথবা আমার পাশে বসে আছে ডুবে যাওয়া প্রাচীন নাবিকের পোষাক, পতাকা। জিভ রাখলাম অগ্নি পাহাড়ের জ্বালা-মুখে-- লাভা পোড়া জিভে লেগে আছে আগুনের স্বাদ, দেহের ভিতর পাক খাচ্ছে গলিত হীরের সুগন্ধ তরল-- নাম রাখলাম দেহহীন। আধ-কাটা গলা দিয়ে বের হচ্ছে হীরে রক্ত- স্রোত। আর আমার জিভটা নেমে গেছে মইয়ের মত পৃথিবীর টগবগে লাল কেন্দ্রে। পৃথিবীর কেন্দ্র উঠে এসে ভর করছে মগজে -- ওজনহীন শূণ্যতা মেধার ওজনে। সাপ গিলে ঘরে ফিরলাম -- বাবা তুমি কই! জিভের প্রতিস্থাপনে চক্চকে কালো ফণা, জিন্সের নিচেই আছে তেলতেলে লেজ; সর্প ফণার উপর দিয়ে গড়িয়ে নামছে খাদ্য স্বাদ। অজান্তেই আমি বমি করবো অনন্ত নীল ফুল অথবা সময় -- বের হচ্ছে লাভা পোড়া জিভ, পাকস্থলি, মগজের পেস্ট, না-হজম জ্যান্ত কাল-সাপ। জীবনের অমল ধবল বক্ উড়ে গেলো নদী কূলে। ভোরবেলা কীর্তণ গাইছে হসপিটালের মূর্খ সুইপার। ঘোরের ভিতর বৃষ্টি হলো খুব।

আর জলের উপর আমার প্রকৃত সত্য ছায়া ইরেজার ঘসে তুলে ফেলে, আমি চাই রক্তপাত হোক ছায়ার বিকল্পে। এই ছায়া মানে প্রতি-আমি -- ওর ভেতরেও জেগে উঠুক সগর্ভ নার্ভ, রক্ত যন্ত্রনার ভ্রম। পাখির পালকে জন্ম নিচ্ছে শ্বেত পালকের ব্যথা। ঘন কুয়াশার ভিতর এক দল সাদা উটের বিহ্বল ডাকের অতলে ভিজে যাচ্ছে হিম নগ্ন দেহ। অপঘাতে মৃত্যর পূর্বেই যাদের অসূর্য লিঙ্গ ভূত হয়ে যায়, তাঁরাই লিখছে পেত্নীযোনির সংকেতময় ভাষা; তুমি কি বুঝবে; কি গাইবে! চামড়ার উপর পড়ছে হাড়ের প্রলেপ। পাদ্রী পোষাকের মত ভোরের জমাট কুয়াশা-দেয়ালে চেয়ার পোড়া কয়লা দিয়ে কে লিখলো -- মানি না রাত্রির উর্বরতা, সৃজনবেদনা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28802523 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28802523 2008-05-25 12:55:04
শক-থেরাপী বাজারকৌশল, দ্রব্যমূল্য এবং বাংলাদেশ এই নিয়ে ইমতিয়ার শামীম-এর একটি লেখার লিংক খাদ্যমূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের কর্পোরেটবাদী মিডিয়াগুলো ব্যাপারটির অপরিহার্যতা ও অনিবার্য ভয়াবহতা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশন করতে লাগলেন। কিছু দৈনিকের জনপ্রিয় কলামিস্ট এ-ব্যাপারে তাদের কলমের সর্বশক্তি নিয়োগ করলেন (হয়তো তাদের অনেকের আন্তরিকতাও আছে, হয়তো তারা বলিভিয়ার ঘটনা জানেন না ভালো করে। কিন্তু এরা এতো কিছু জানেন, আর শক থেরাপীর কথা জানেন না, এটা কি আমাদের বিশ্বাস করতে হবে?) অনেকে বলে থাকেন, উপদেষ্টা পরিষদের কেউ আসলে ব্যাপারটি বুঝতে পারেননি। কিন্তু না, তারা ব্যাপারটি খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলেন। অর্থনীতির ছাত্র ফখরুদ্দিন আহমদ, এবি মীর্জ্জা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম আর হোসেন জিল্লুর রহমানদের যদি আমরা অবোধ ও নির্বোধ মনে করি, তা হলে তা হবে এ- জগতের চিরকালীন সেরা কৌতূক। বরং পরিস্থিতি যাতে ভালোমতো তালগোল পাকায় সে-জন্যেই সরকারের নীতিনির্ধারকরা বাংলাদেশের খাদ্যমজুত কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ভারত থেকে চাল আমদানির ব্যাপারে পুরোপুরি নিস্পৃহ ছিলেন এবং শুধু তাই নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যে-চাল এসেছিলো পাকিস্তান থেকে, তা ভালো হওয়ার পরও খারাপ বলে মাটির নিচে পুঁতে ফেলেছিলেন।

লেখাটির লিংক:
নগ্নক্ষুধার গোপন-কথা


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28801360 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28801360 2008-05-22 17:03:21
রেডিও সিরিজ
সবুজ আপেল, কেনো আজ পড়ে আছে ভেজা মাটির উপর; তোমাকেতো কাল দেখলাম এই ছিড়ে পড়ার নিলজ্জ ব্যথা থেকে উড়ে যেতে পাতার আড়ালে, তোমার বৃন্ত-ঠিকানায় পুনঃরায়।

এমন মায়াবী কুহকের পর আর কি বলা যাবে এই হলাম আমি, সত্য আমি, এই হলো আমার সত্য বরফ, শুভ্র উজ্জ্বলতা, এ হলো শীতল জলের নিথর কম্পহীন মাথাকাটা ধঢ়। কিছুই হলো না আপেল, তোমার এই ভ্রান্ত পড়ে থাকায় এভাবে।

যেকোন ঘরের দিকে চলে গেছে পোষ্টম্যান আর তার ভাঙা সাইকেল, তার ধাতব শব্দের সুরহীন চলনে বিরক্ত হাওয়া একে একে খুলে দিচ্ছে সমস্ত ঘরের কারুকর্মময় অদৃশ্য দরজা। সেই দৃশ্যহীন খোলা ঘরে, প্রাণের ভেতর বয়ে এনেছে মদের লাল রং; পরীদের দেশ থেকে ছিড়ে আসা নীল ঘুড়ি, লেগে আছে মেলায়েম ডানার পশম, কামনার মত গোলাপী, দীর্ঘশ্বাসময় -- এই হলো তার সংকেত-চাতুর্যে ভরা চিঠি আমাদের লাল ঘরে। পোষ্টম্যান, পোষ্টম্যান; তার জাদু সাইকেলে চলে গেছি রক্ত, ঘাম আর ক্ষুধা চলার পথে, দেহের ভেতর অন্ধকারে, অর্ধপচা বাষ্পওঠা টগবগে কাচা মাংসে, হাড়ে, রগ নালিকায়, এই ভাঙা সাইকেল বেশি দূর যাবে না আর তোমার ভেতর।

রোজ রোজ একই সবান ঘসে ঘসে ক্লান্তু, বাদামী ত্বকের ঘ্রান পাল্টে বাগানের পাশে ফুলকেও আমি বিভ্রান্তু করে দিবো আজ, জ্যোসনার গাঢ় আলোর-তরলে ডুবে থাকা পৃথিবীর তলদেশ থেকে বন্ধদম উঠে যাচ্ছি হাওয়ামন্ডল ছেদ করে রূপারঙ আকাশেরও ওপাশে, শূন্যতায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28798898 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28798898 2008-05-17 13:21:16
ইমতিয়ার শামীম- এর বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে লেখা একটা লিংক শান্ত নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারঃ সামান্য মুখবন্ধ'' শীরোনামে।


''আমাদের অনেকেরই মনে আছে, ২০ আগস্ট ১৯৭৫ সালে সামরিক শাসন জারী হওয়ার পর কালক্রমে বাংলাদেশের সোভিয়েতপন্থী বামপন্থীরা জিয়াউর রহমানের মধ্যে অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার মতো আর চৈনিক বামপন্থীরা জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার মতো অসাধারণ নেতৃত্ব খুঁজে পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য জিয়াউর রহমান অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করেননি, কিংবা জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের উপযোগী কোনও পথও তৈরী করেননি। উল্টো তিনি মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে অর্জিত ১৯৭২-এর সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে হত্যা করেছিলেন, ধর্মজ রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনৈতিক দল গঠন করার অধিকার দিয়েছিলেন, ধর্মজ রাজনীতির অনুসারী যেসব নেতা-কর্মীরা যুদ্ধাপরাধজনিত অপরাধে বিচারের জন্যে কারাগারে ছিলেন, কলমের এক খোঁচায় তাদের মুক্তি ও নিষ্কৃতি দিয়েছিলেন, মুক্তবাজার গঠন ও বেসরকারীকরণের কাজ জোরদার করেছিলেন। আর এসবের বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমান ও তার সহযোগীদের মোক্ষম যুক্তিটি ছিলোঃ একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হত্যা করা হয়েছে; আমরা চাই বহুদলীয় গণতন্ত্র। শুধুমাত্র চতূর্থ সংশোধনীটি অকার্যকর ও বাতিল করেই এ-গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব ছিলো। কিন্তু জিয়াউর রহমান ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা তা করতে উৎসাহী হননি। কেনো-না, তাদের বিশেষ কর্মসূচি নির্ধারণ করা ছিলো ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের আগে থেকেই।" ......
লেখাটির বাকি অংশ পাবেন নিম্নোক্ত লিংকে:
শান্ত নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারঃ সামান্য মুখবন্ধ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28797661 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28797661 2008-05-13 21:45:34
আমার রবীন্দ্র অভিজ্ঞতা
১.
এই জীবনের যত মধুর গানগুলি:

স্কুল জীবনের চরম অত্যাচারের নাম এসেম্বিলি। চৈত্রে এই অত্যাচার ভয়াবহ। আমদের স্কুলের নিয়ম ছিলো জাতীয় সংগীত খুব জোরের সাথে গাইতে হবে। শুধু চলচ্চিত্র নায়িকাদের মত মুখ মিলালেই হবে না। তো আমি ছোট বেলা থেকেই নায়িকাদেও দলে। জাতীয় সংগীত মানেই এসেম্বিলিতে দাড়িয়ে মুখ মিলেয়ে যাওয়া। এই চৈত্রের রোদরে ভেতর আমার গলা দিয়ে স্বর বের হতে চাইতো না। ''আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি'' কিছুতেই আমি বলতে পারতাম না। মাত্র আমার মুখ গান গাওয়ার যে ভঙ্গি ত কে অন্ধ ভাবে অনুকরন করে যেতো। কিন্তু বেশি দিন এভাবে টিকে থাকা যায় নি। একদিন ধরা খেলাম। জোড়া বেতের মারও খেলাম এবং জানলাম গানটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এবং তিনি যাতা কেউ নয়, বিশ্বকবি। এবং এভাবেই জোড়া বেতের মার খাওয়ার ভেতর দিয়ে আমার রবীন্দ্র শিক্ষার শুরু, এবং এই শিক্ষাদান কর্মকান্ডের গুরু ছিলেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক। দর্শক হিসাবে ছিলো আমার সহপাঠিরা। আর যারা সেদিন জাতীয় সংগীত না গাওয়ার দায়ে বেঁচে গিয়েছিলো শুনেছি পরবর্তী জীবনে তাদের কাররই আর রবীন্দ্র রচনা পড়ে ওঠা হয় নি। আমি যৎসামান্য পাঠ করেছি পরবর্তী সময়ে। এভাবেই আঘাতের ভেতর দিয়ে রবীন্দ্র ভালবাসার শুরু। সূচনাটা বেদনাদায়ক ছিলো।

আমার জ্বলে নি আলো অন্ধকারে
দাও না সাড়া কি তাই বারে বারে।
তোমার বাঁশি বাজে বুকে কঠিন দুখে, গহীন সুখে,
যে জানে না পথ কাঁদাও তারে।

২.
প্রথম যে গান আজও মনে আছে:

রবীন্দ্রনাথের গান হিসাবে যে গানটিকে প্রথম চিনতে শিখেছিলাম সেটি হেমন্তের কন্ঠে

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই ঘাটে,
আমি বাইবো না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে গো
...তখন আমায় নাই বা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাই বা আমায় ডাকলে।

তখন বিটিভি এর নাটক দেখা হতো। ঘটনাটা বোধ হয় ৯২/৯৩ দিকাকার। আমার বয়স তখন বড়জোর ৮/৯। কিন্তু নাটক থেকে শেষ দৃশ্যে এই গানটিই সবচেয়ে ভালো লেগেছিলো। পুরো নাটকে তৌকিরের বেদনাবোধ থেকে এই গানটির বেদনাই অসীম। আজও এখনও আমাকে ছুঁয়ে আছে। তবে শিল্পীর যে হেমন্ত তা অনেক পরে বুঝতে শিখেছি, অন্তত ৫ বছর পর জানতে পেরেছি যে ঐ গানটি হেমন্তই গেয়েছিলো। কারণ কন্ঠ নাচেনা শিল্পীর কন্ঠ চিনতে সময় লেগেছে। তবে কিন্তু তার সেই কণ্ঠ আর সে গানের বাণী ঠিক চিনে ফেলেছি পরবর্তীতে। এই অসীম বেদনা এখনো কোন গানের বাণীর মধ্যেই খুঁজে পাইনি। এই অসীম হাহাকারের রচয়িতা সেই, আমার রবীন্দ্রনাথ যার গান না গাওয়ার অপরাধে আমাকে মার খেতে হয়েছিলো। সেই আমার ররীন্দ্রনাথ চিনতে শেখার সূচনা।

৩.
যে মেয়েটি সব থেকে ভালো রবীন্দ্র সংগীত গাইতো তাকে কেউ চিলনো না:

নানা সময়ে নানাজনের কন্ঠে রবীন্দ্র সংগীত শুনেছি। অনেকের কন্ঠের রবীন্দ্রনাথের গানকে, গায়কীকে মনে হয়েছে বিড়ালের গোঁফে মত অধিক্য। অযথা টান বেশি, অস্পষ্ট উচ্চারন বিশিষ্ট,গান শুনে মনে হয় কি যে বলে গেলো,গেলো না বুঝা তার কিছু। ছোটবেলায় আমার একটা বিড়াল ছিলো। বিড়ালেরতো আবার গোঁফ থাকে। আমি মেনে নিতে পারি নি আমার বিড়ালের আবার গোঁফ থাকবে। ফলে কেঁচি দিয়ে তার গোঁফ ছাটা আমার একটা অভ্যাস ছিলো, যা আমি অতি প্রয়োজনীয় একটা কাজ মনে করতাম। একবার নেলকাটার দিয়ে হার নখও আমি কাঁটতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি। ফলে সেই বিড়াল দৃষ্টিভঙ্গি আমার ভেতর ছোটকাল থেকেই ছিলো। তাই অতি অভিনয়ে ভরা টান-প্রধান রবীন্দ্র সংগীত আমার ভালো লাগে নি। স্পষ্ট উচ্চারণের গায়কীই আমার পছন্দ। যাক সে কথা।

রুমার সাথে আমার পরিচয়ের গভীরতা ওর রবীন্দ্র সংগীতের জের ধরেই। রুমা রাণী সাহা। সে ছিলো আমার স্কুলের সহপাঠিনী। তার সাথে কত রাস্তায় দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। সেভাবে মনযোগ দিয়ে আকুতি দিয়ে কথা হয়নি বললেই চলে। একদিন দেখি এক অনুষ্ঠানে সে গান গাইছে। আজ আমি ছিলাম দর্শক। আমি জানতামই না যে আমার পুরনো সহপাঠিনী এমন গাইতে পারে। আমি জানলাম না সে একা একা আমার অজান্তেই কবে যে এতো গান শিখে গেলো। আমি ওর গানে মুগ্ধ ছিলাম। রবীন্দ্র ভক্তি যে কি জিনিস তা আমি শিখলাম ওর গানের কাছে। আর কারও কাছে এমন শেখার সুযোগ হয়নি । রবীন্দ্র সংগীত আর এর গায়িকা দুটোই ভক্তি দাবি করে। এটা শিখলাম। শিখলাম এই গানের ভেতর যে কত কানাগলি, অন্ধকার, অন্ধত্ব, প্রেরণা, উচ্ছ্বাস, উৎকন্ঠ, অপেক্ষা, চমৎকারিত্ব। একদিন ওর বাড়ির ছাদে বর্ষা এলো। আকাশ সেদিন অংশত মেঘলা ছিলো। গাছগুলো সবুজ থেকে ঘন সবুজ হয়ে হয়ে অন্ধকারে মিশে যেতে চাইছে। মেঘে ঢাকা গুমোট এক কালচে আকাশের নিচে আমরা সন্ধ্যা অবধি বসে ছিলাম। সেদিন বৃষ্টি এসেছিলো। ঘন নীল বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিলো দালান , দেবদারু এভ্যিনিউ, পিচ ঢালারাস্তা, দোকান, মাঠ, ঝোপের ভেতর পড়ে থাকা ছেড়া ফুটবল-- এই পৃথিবীর সব ভিজে গিয়েছিলো সেদিন ঘন নীল বৃষ্টিতে, ভেজা কান্নার মত বাতাসে। সেই ভেজা বাতাসের ভেতর বসে সে শুনিয়েছিলো তার শেষ গান:

মনে কী দ্বিধা রেখে গেলে চলে সেদিন ভরা সাঁঝে
যেতে যেতে দুয়ার হতে কি ভেবে ফিরালে মুখখানি
কী কথা ছিলো যে মনে
তুমি সে কি হেসে গেলে আখিঁকোণে
আমি বসে ভাবি নিয়ে কম্পিত হৃদয়খানি,
তুমি আছো দূর ভূবনে।
আকাশে উড়িছে বকপাঁতি
বেদনা আমার তারি সাথি
বারেকো তোমায় শুধাবারে চাই বিদায় কালে কি বলো নাই
সে কি রয়ে গেলো গো সিক্ত যুথীর গন্ধবেদনে।

এরপর সেই মফস্বল ছেড়ে আমকে চলে আসতে হয়। ১৭ বা ১৮ বছরের সেই বালক আর কোনদিন ফিরতে পারেনি নীল বৃষ্টিতে ভেজা সেই আমার গায়িকার শহরে।

আর আজ এখনও যত ছাদে একা উঠেছি, একা দাঁড়িয়েছি ততবারই আমি একটা গানই শুনে চলি '' আকাশে উড়িছে বকপাঁতি/ বেদনা আমার তারি সাথি''। পৃথিবীর সমস্ত অন্ধকার আকাশে, বৃষ্টির দিনে একজন শিল্পীই আমাকে শোনায় '' বেদনা আমার তারি সাথি।'' আর প্রতিটা বৃষ্টিই আমার কাছে ঘন নীল জলের বর্ষা, কান্না ভেজা হাওয়া। আর কোনদিন দেখা হয় নি রুমার সাথে। রুমা রানী সাহা। আরও একটা বেদনাক্রান্ত রবীন্দ্র শিক্ষা এভাবেই ভুলে যেতে চাই। ভোলা কি হলো আজও?

''মন চায় মন চায় ওই বলাকার পথখানি চিনে নিতে''

৫.
এক বিকেলের আড্ডায় আবারও রবীন্দ্রনাথ:

একবার সেলিম আল দীনের সাথে সারা বিকেল হেঁটে সন্ধ্যায় বসে ছিলাম জাহাঙ্গীর নগরের গেটে। রবীন্দ্রনাথ জানা এমন কম লোকের সাথেই আমার মেশার সুযোগ হয়েছে । লাইনের পর লাইন তিনি কোট করলেন। আমাদের আলোচনা নানা দিকে মোড় নিচ্ছিলো। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বরলেন , '' এই তোরা কবি হতে চাস কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠিক মত পড়িসনি। রবীন্দ্রনাথের মত বিশাল একটা প্রচেষ্টা যদি তোরা কাজের ভেতর আনার চেষ্টা না করিস তবে হবে না।'' এই কথায় আমার একটু বিরোধ ছিলো। আমি মোটামুটি রবীন্দ্রনাথ যা পড়েছি তার লিস্ট তাকে দেওয়ার পর তিনি বললেন, '' অল্প বিদ্যা তোদের সম্বল। আর এ জন্যই এটা ভয়ংকর।'' আমি বলেছিলাম, ''স্যার আমার অভিজ্ঞতা বলে বেশি বিদ্যা আরও বেশি ভয়ংকর। সে তার গন্ডির বাইরের কিছুকেই নিতে পারে না। এটা কি ভয়াবহ কিছু না?'' সেলিম স্যারের লাল চোখ দেখে আমি অফ যাই সেদিন । আমার আর কথা বলার সাহস হয়নি। অসমাপ্ত রবীন্দ্র আলোচনা রেখে তিনি সেই যে চলে গেলেন আর দেখা হলো না, কথা হলো না। তিনি আমাকে বলেছিলেন এরপর এলে রবীন্দ্রনাথের অন্তত এই এই পড়ে আসবি। না হলে আর কথা নেই তোর সাথে।

তবে আমার সেই অল্প বিদ্যাটাকে বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছি। বেশি বিদ্যার ভয়াবহতার দিকে হেঁটে যেতে চাচ্ছি। তবে আমার রুমার প্রতি যত না অন্ধতা, তার থেকে ঢেঢ় বেশি মুগ্ধতা ওর গানের প্রতি। আমার প্রতি দিনের রবীন্দ্র জ্ঞান হেঁটে গেছে রুমার গানের দিকে। কেননা রবীন্দ্র ভাবনার পর কত নব নব ভাবনা এলো, কত কত কবিতা উপন্যাস সৃষ্টি হলো, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গানের যে বেদনা অভিজ্ঞতা, রুমার কন্ঠস্বর, তা আর দ্বিতীয়বার শুনতে পারছি না কারও কাছ থেকে।

৫.
আবারও রবীন্দ্রনাথ :

এই ফেব্রুয়ারীতে রণজিৎ দাশ এসেছিলেন ঢাকায়। তিনি ছিলেন শামীম রেজার বাসায়। জেনেছিলাম রনজিৎ দাশও রবীন্দ্রনাথ দেওয়ানা। শামীম ভাইয়ের ভালোবাসা ও অবিশ্বাস উভয়ই কেন জানি আমার প্রতি বেশি। ফলে তিনি এক রাতের আমাকে ডেকেছিলেন তার বাসায় কবি রণজিৎ দাসের সাথে আড্ডা দেওয়া জন্য। আড্ডা ভালোই জমেছিলো। কিন্তু আড্ডার শেষে কোন এক রবীন্দ্র আলোচনার মহেন্দ্রক্ষণে আমি বলে ফেলেছিলাম , '' রবীন্দ্র উপন্যাস আমার ভালো লাগে নাই। তাঁর উপন্যাস থেকে অনেক ভালো কাজ বাংলা সাহিত্যে আছে। '' পেয়ালা হাতে কবি রণজিৎ দাশ দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি আমার রবীন্দ্র পাঠ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। সত্যি আমার রবীন্দ্র পাঠ নিতান্তই কম, তবে উপলব্ধি বোধহয় কম থেকে একটু বেশি ছিলো। তিনি বললেন,'' আনো দেখি তোমার কবিতা। দেখি কি লিখেছো তুমি?'' শুধু আমি বলেছিলাম, '' আপনি আমাদের মত তরুণদের কবিতা বিচার করার কেউ নন। আমাদের কবিতার বিচার করবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আপনি বড় কবি কেননা আমরা আপনার পরবর্তীরা আপনার কবিতা নিয়েছি, ভালোবেসেছি, তাই আপনি কবি। আপনার রবীন্দ্র পাঠ আমাদের কবিতা বিচার করার মাপকাঠি হতে পারে না। যেমন অল্প বিস্তর রবীন্দ্রনাথ পাঠ করে আমরা বিচার করতে পারছি আপনার কবিত। ফলে কবিতা বিচারে রবীন্দ্রনাথ ততোটা জরুরীনা। কোন কিছুই এতো শীরোধার্ষ নয় কোন কিছুর জন্য।'' তিনি আর সে রাতে কথাই বলেননি আমাদের সাথে। শুধু সকালে নাস্তার টেবিলে মুচকি একটা হাসি দিয়েছিলেন। আর শামীম ভাই আমাকে ১০০ টাকার দুটো নোট বাড়িয়ে বলেছিলেন আজই 'গীতবিতান' কিনবে। আমার গীতবিতান, ভেতরের রুমা, আগে থেকেই ছিলো। টাকা তাকে ফেরত দিয়ে বের হয়ে যাই পথে। দেখি পথে পথে রুমার গাইছে:

আকাশ ভরা সূর্য তারা, বিশ্ব ভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।

৬.
আমার আমি:
আমার সব রবীন্দ্র অভিজ্ঞতা ব্যথায় ভরা, তিক্ততায় পূর্ণ। অতি ভক্তির হাত থেকে মুক্ত করে আমি আমার রবীন্দ্রনাথ কে জমা রেখেছি রুমার কন্ঠের ভেতর, ওর সহজতার ভেতর।

বেদনার কী ভাষা রে
মর্মে মর্মরি গুঞ্জরি বাজে।
সে বেদনা সমীরে সমীরে সঞ্চারে,
চঞ্চল বেগে বিশ্বে দিলো দোলা
দিবানিশা আছি নিদ্রহারা বিরহে
তব নন্দনবন অঙ্গনদ্বারে,
মনোমোহন বন্ধু
আকুল প্রাণে
পারিজাতমালা সুগন্ধ হানে।







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28795598 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28795598 2008-05-08 21:02:20
আমার রবীন্দ্র অভিজ্ঞতা ১.
এই জীবনের যত মধুর গানগুলি:

স্কুল জীবনের চরম অত্যাচারের নাম এসেম্বিলি। চৈত্রে এই অত্যাচার ভয়াবহ। আমদের স্কুলের নিয়ম ছিলো জাতীয় সংগীত খুব জোরের সাথে গাইতে হবে। শুধু চলচ্চিত্র নায়িকাদের মত মুখ মিলালেই হবে না। তো আমি ছোট বেলা থেকেই নায়িকাদের দলে। আমার কাছে জাতীয় সংগীত মানেই এসেম্বিলিতে দাড়িয়ে মুখ মিলিয়ে যাওয়া। এই চৈত্রের রোদ্দুরে ভেতর আমার গলা দিয়ে স্বর বের হতে চাইতো না। '' আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি'' কিছুতেই আমি বলতে পারতাম না। মাত্র আমার মুখ গান গাওয়ার যে ভঙ্গি তাকে অন্ধ ভাবে অনুকরন করে যেতো। কিন্তু বেশি দিন এভাবে টিকে থাকা যায় নি। একদিন ধরা খেলাম। জোড়া বেতের মারও খেলাম এবং জানলাম গানটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এবং তিনি যাতা কেউ নয়, বিশ্বকবি। এবং এভাবেই জোড়া বেতের মার খাওয়ার ভেতর দিয়ে আমার রবীন্দ্র শিক্ষার শুরু, এবং এই শিক্ষাদান কর্মকান্ডের গুরু ছিলেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক। দর্শক হিসাবে ছিলো আমার সহপাঠিরা। আর যারা সেদিন জাতীয় সংগীত না গাওয়ার দায়ে বেঁচে গিয়েছিলো শুনেছি পরবর্তী জীবনে তাদের
কারওই আর রবীন্দ্র রচনা পড়ে ওঠা হয় নি। আমি যৎসামান্য পাঠ করেছি পরবর্তী সময়ে। এভাবেই আঘাতের ভেতর দিয়ে রবীন্দ্র ভালবাসার শুরু। সূচনাটা বেদনাদায়ক ছিলো।

আমার জ্বলে নি আলো অন্ধকারে
দাও না সাড়া কি তাই বারে বারে।
তোমার বাঁশি বাজে বুকে কঠিন দুখে, গভীন সুখে,
যে জানে না পথ কাঁদাও তারে।

২.
প্রথম যে গান আজও মনে আছে:

রবীন্দ্রনাথের গান হিসাবে যে গানটিকে প্রথম চিনতে শিখেছিলাম সেটি হেমন্তের কন্ঠে

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই ঘাটে,
আমি বাইবো না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে গো
...তখন আমায় নাই বা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাই বা আমায় ডাকলে।

তখন বিটিভি এর নাটক দেখা হতো। ঘটনাটা বোধ হয় ৯২/৯৩ দিকাকার। আমার বয়স তখন বড়জোর ৮/৯। কিন্তু নাটক থেকে শেষ দৃশ্যের এই গানটিই সবচেয়ে ভালো লেগেছিলো। পুরো নাটকে তৌকিরের বেদনাবোধ থেকে এই গানটির বেদনাই অসীম। আজও এখনও আমাকে ছুঁয়ে আছে। তবে শিল্পীর যে হেমন্ত তা অনেক পরে বুঝতে শিখেছি, অন্তত ৫ বছর পর বুঝেছি ঐ গানটি হেমন্তই গেয়েছিলো। কারণ কন্ঠ নাচেনা শিল্পীর কন্ঠ চিনতে সময় লেগেছে। তবে কিন্তু তার সেই কণ্ঠ আর সে গানের বাণী ঠিক চিনে ফেলেছি পরবর্তীতে। এই অসীম বেদনা এখনো কোন গানের বাণীর মধ্যেই খুঁজে পাইনি। এই অসীম হাহাকারের রচয়িতা সেই, আমার রবীন্দ্রনাথ যার গান না গাওয়ার অপরাধে আমাকে মার খেতে হয়েছিলো। সেই আমার ররীন্দ্রনাথ চিনতে শেখার সূচনা।

৩.
যে মেয়েটি সব থেকে ভালো রবীন্দ্র সংগীত গাইতো তাকে কেউই চিনলো না:

নানা সময়ে নানাজনের কন্ঠে রবীন্দ্র সংগীত শুনেছি। অনেকের কন্ঠের রবীন্দ্রনাথের গানকে, গায়কীকে মনে হয়েছে বিড়ালের গোঁফে মত অধিক্য। অযথা টান বেশি, অস্পষ্ট উচ্চারন বিশিষ্ট,গান শুনে মনে হয় কি যে বলে গেলো,গেলো না বুঝা তার কিছু। ছোটবেলায় আমার একটা বিড়াল ছিলো। বিড়ালেরতো আবার গোঁফ থাকে। আমি মেনে নিতে পারি নি আমার বিড়ালের আবার গোঁফ কেন থাকবে। ফলে কেঁচি দিয়ে তার গোঁফ ছাটা আমার একটা অভ্যাস ছিলো, যা আমি অতি প্রয়োজনীয় একটা কাজ মনে করতাম। একবার নেলকাটার দিয়ে তার নখও আমি কাটতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি। ফলে সেই বিড়াল দৃষ্টিভঙ্গি আমার ভেতর ছোটকাল থেকেই ছিলো। তাই অতি অভিনয়ে ভরা টান-প্রধান রবীন্দ্র সংগীত আমার ভালো লাগে নি। স্পষ্ট উচ্চারণের গায়কীই আমার পছন্দ। যাক সে কথা।

রুমার সাথে আমার পরিচয়ের গভীরতা ওর রবীন্দ্র সংগীতের জের ধরেই। রুমা রাণী সাহা। সে ছিলো আমার স্কুলের সহপাঠিনী। তার সাথে কত রাস্তায় দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। সেভাবে মনযোগ দিয়ে আকুতি দিয়ে কথা হয়নি বললেই চলে। একদিন দেখি এক অনুষ্ঠানে সে গান গাইছে। আজ আমি ছিলাম দর্শক। আমি জানতামই না যে আমার পুরনো সহপাঠিনী এমন গাইতে পারে। আমি জানলাম না সে একা একা আমার অজান্তেই কবে যে এতো গান শিখে গেলো। আমি ওর গানে মুগ্ধ ছিলাম। রবীন্দ্র ভক্তি যে কি জিনিস তা আমি শিখলাম ওর গানের কাছে। আর কারও কাছে এমন শেখার সুযোগ হয়নি। রবীন্দ্র সংগীত আর এর গায়িকা দুটোই ভক্তি দাবি করে। এটা শিখলাম। শিখলাম এই গানের ভেতর যে কত কানাগলি, অন্ধকার, অন্ধত্ব, প্]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28795576 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28795576 2008-05-08 19:35:02
গরুপ্রধান দেশে শুয়োরের ঘোঁত ঘোঁত শব্দে আমাদের তাল কেটে যায় জাতি হিসাবে আমরা মেধাহীন। আমরা যেখানেই যাই নাকো, যত কথা বলি নাকো, যত কাজ করি নাকো আচার আচরনে ছলে বা কলে, কৌশলে আমাদের মেধাহীনতার স্বাক্ষর রেখে যাওয়া চাইই চাই। নদীর কিনারের মাটিতে বা কচু বনের কাদায় আমাদের যে পায়ের ছাপ পড়ে তা ঠিক মানুষের পদছাপ না। অন্য কারও, অন্য কোন লোমশ প্রানীর। আমাদের দেশ গরুপ্রধান, ছাগলপ্রধান, বানরপ্রধান, কেচোঁপ্রধান সেখানে নয়া প্রাণীর পদছাপ বেশ চিন্তায় ফেলে দেয় আমাদের প্রায়স। ব্লগও এই প্রাণীদের পদছাপে মুখরিত আজ কদিন। এই নয়া প্রাণীদেও দুটো জাত চোখে পড়বে আপনার। একটা দেখতে কালো আর অপরটি সাদা। এই সাদা আর কালো লোমশ প্রাণীকূলের বাসিন্দার প্রাণপণ সংগ্রাম, উচ্চকন্ঠ আর ঘোঁত ঘোঁত শব্দে আমাদের সাধারণ উলখাগড়া প্রাণদের তাল কেটে যাচ্ছে বারবার। তবে তারা মহান, আমারতো সাধারণ ৫ টনের ট্রাক। আমাদের উপর দিয়ে যা ইচ্ছে তা তারা পরিবহন করানোর অধিকার রাখে।

ইদানিং এই লড়াইটা আবার শুরু হয়েছে ব্লগে। সুরের সাথে অসুরের, দেবতার সাথে অপদেবতার, রামের সাথে রাবণের, সাদার সাথে কালোর, আলোর সাথে অন্ধকারের, সাপের সাথে নেউলের সব শেষে ধর্মের সাথে অধর্মের।

২.
আমাদের ব্লগীয় 'আস্তিক' এবং 'নাস্তিক' উভয়েই চারপেয়ে শ্রেণীর। এদের ঘোঁত ঘোঁত একটু বেশি। আস্তিকেরা ধর্মকে বাঁচাতে এমন কোন কম্ম নাই যে করে না। তারা চাঁদের ফাটল থেকে আজকাল কৃষ্ণগহ্বরের দিকেও হেঁটে যাচ্ছে। তবু তাদের প্রমান করা দরকার ঈশ্বর আছে। আর আমাদের নাস্তিক নেতারা এর বিপরীতে নবী রসুল কয়টা বিয়ে করলো আর কি করলো কি করলো না তাই দিয়ে প্রমান করার চেষ্টা করছে ঈশ্বর নেই। নবী ১৪টা বিয়ে না করে একটা বিয়ে করলেই কি প্রমান হয়ে যেতো যে আল্লাহ আছে। ধর্মীয় বক্তিদের যৌন জীবনের আলোচনায় কারও কারও বেশ মজা। এই সমস্ত কটাক্ষ, বাজে ধরনের রসবোধ এবং তাদের নিম্নরুচি দিয়ে এই তথাকথিত নাস্তিক শ্রেণী প্রমান করতে চায় ঈশ্বর নেই। হায়!!

ইসলামবাদ আর জনগনের মুসলিমত্ব এক জিনিস নয়। ইসলামবাদ মানে নয় ইসলাম। ইসলামবাদ হলো একটা রাজনীতি। এর সাথে এখন মিশে যাচ্ছে মৃত গনতন্ত্র আর পচা সমাজতন্ত্রের কঙ্কালের উপর জন্মে ওঠা পুঁজিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদ। ফলে এর মোকাবেলা করতে হবে রাজনৈতিক ভাবে, হাস্যরস উৎপাদন করে নিশ্চয়ই নয়।

তথাকথিত নাস্তিক আর আস্তিক, এই উভয় প্রকার যন্ত্রনার হাত থেকে রক্ষা চাই। এ সমস্তে নতুন কিছু নাই আমরা বুঝে গেছি।

২.
ধর্ম বিশ্বাসের কোন প্রমান হয় না। ঠিক একই ভাবে অবিশ্বাসেরও কোন প্রমান হয় না। কিন্তু আমাদেও কতিপয় কিছু জ্ঞানী গুনি নানা উপায়ে তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা অবিশ্বাসটাকেই প্রমান করার জন্য সদাব্যস্ত। জীবনের এ এক নিদারুন অপচয়। তারা বুঝেন না পদার্থবিদ্যা কি আর মানবিকবিদ্যাই বা কাকে বলে। পদার্থবিদ্যার সাথে রসায়নের মিল হতে পারে, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে উদ্ভিদবিদ্যার সাথে এর মিলন ঘটতে পারে। কিন্তু পদার্থবিদ্যার সাথে সামাজিকবিদ্যার একত্রীকরণ সম্ভব নয়। মানুষের জ্ঞান কান্ডের দুটি শাখা -- একটা বস্তু সম্পর্কিত আর অপরটি মানব সম্পর্কিত। মানবের বিচার বস্তু দিয়ে হয় না। পদার্থবিদ্যা বা বিজ্ঞানের অন্য কোন শাখা দিয়ে মানব, মানবের গভীর মনে লুকানো অস্তিত্ত্ব অনস্তিত্ত্ব ইত্যাকার অন্ধকারময় জটিলতার ব্যাখা সম্ভব নয়। বিজ্ঞান 'হ্যাঁ' এবং 'না', 'গ্রহন' এবং 'বর্জন' তথা যুক্তি নির্ভর। মানবিক বিদ্যা আমাদের অভ্যস্থতাকেই ছকবদ্ধ করে; মানুষকে, সভ্যতাকে পুনরায় আবিস্কার করে নব নব রূপে। এটা সমাজ কাঠামো নির্ভরশীল। যুক্তিতে তেমন কিছু আসে যায় না সমাজবিজ্ঞানের। সমাজের অভ্যস্থ জীবনের বিস্তার সমাজবিজ্ঞান। এই সমাজের সাথেই অন্তভুক্ত ধর্ম। ধর্ম বিরাজমান একটা সামাজিক অবস্থা। একে ফেলে দিলে, মুছে দিলে, অচল হিসাবে ভাগাড়ে ফেলে দিলে যে সময়, যে ইতিহাস আমরা অতিক্রম করে এসেছি তাকে বড় অবহেলা করা হবে। অবহেলার চেয়ে একে নিয়ে ভেবে দেখা দরকার। বিচার করা দরকার এটা এখন আর প্রয়োজনীয় কিনা? আমাদের আর ঈশ্বর বিশ্বাসের প্রয়োজন আছে কিনা তাই ভাবা যেতে পারে। অতীতে ধর্মের উজ্জ্বলতা নিয়ে পড়ে থাকার কিছু নাই। আর ঈশ্বর বিশ্বাসের কোন ব্যবহারিক প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই মনে হয়। ধর্মের নামে এখন পৃথিবীতে যা হয় তা হলো শোষণ, ক্ষমতার সাথে এর গোপন আতাত। মানুষকে নিপিড়নের অস্ত্র ধর্ম। পুর্ণ জীবন থেকে সে সরে গেছে রাজনীতির দিকে। ধর্মের একবিংশ শতকীয় সংস্করন গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র। এবং ধর্মের দ্বিবিংশ শতকীয় সংস্করণ পুঁজিবাদ, সম্রাজ্যবিরোদীবাদ হতে চলেছে তা বেশ ঠাওর করা যাচ্ছে। গনতন্ত্রের শেষ দশা পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এবং সমাজতন্ত্রের শেষ দশা সাম্রাজ্যবাদবিরোধীতা। গনতন্ত্রের বাঁকা উঠোনে ধর্মের খেমটা নাচ দেখে আমরা সদা হাস্যোজ্জ্বল। ফলে গনতন্ত্রের সাথে ক্রসেডের মিলেমিশে চলাচল করতে কোন সমস্যাই হয় না। ফলে এই শতকের লড়াই যে হবে সম্রাজ্যবাদের বিপরীত সাম্রাজ্যবাদবিরোধীবাদের তা বুঝা যাচ্ছে। আর একটা গোপন স্নায়ু যুদ্ধের দিকে চলে যাবো আমরা। মানুষ চাঁদে গিয়েছিলো, শান্তি মেলেনি। মানুষ হয়তো অন্য কোন গ্রহে এ শতকে বাসা বাধবে তবু আমাদের শান্তি মিলবেনা। গনতন্ত্র আর সমাজতন্ত্র উভয়ের মৃত্য ঘটে গেছে। শুধু এদেরই মৃত দেহের উপর এখনো উড়ে যাচ্ছে ধর্মের শকুন। তার মৃত্যু হয় না। এই চলমান যুদ্ধের ময়দানে ধর্ম-শকুনের ছায়া আবারও দেখা যাচ্ছে।

গনতন্ত্রহীন, সমাজতন্ত্রহীন, ধর্মহীন এক নব রাজনীতির দিকে আমাদের অগ্রসর হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। নতুন দার্শনিক আসবেই আসবে। আবিস্কৃত তত্ত্ব আর তা থেকে উৎপন্ন কোন বাইপ্রোডাক্ট আর বাঁচাবে না পৃথিবী সভ্যতাকে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28794524 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28794524 2008-05-05 18:49:12
আজ একটা খেলা হলো বটে!!! কবিদের ২০/২০ ক্রিকেট ম্যাচ। ফলাফল। লুইপা একাদশ ৫ উইকেটে ২০/২০ কবিদের ক্রিকেট ম্যাচে জয়লাভ করেছে।







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28793599 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28793599 2008-05-02 22:49:49
হে নিদারুণ সুসময়, তুমি উচ্চারণ করো, কবির মৃত্যুতে আমাদের কিছু আসে যায় না! তারোকাভস্কির ' নস্টালজিয়া'র কথা হঠাৎ করে আজ বড় বেশি মনে পড়ছে। ওই ছবির একটা দৃশ্যই বারবার ঘুরে ফিরে হাওয়ায় মিশে যাচ্ছে আজ কদিন হলো। একটা লোক এই নষ্ট দুষ্ট পৃখিবীর কথা জনতাকে মনে করিয়ে দিয়ে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিচ্ছে। উপস্থিত সোনার পিত্তল জনতার বোধের কানে তার কথার আধেক প্রবেশ করলো বা করলো কি করলো না। লোকটি বলেই গেলো, ক্লান্তিহীন সে বলেই যাচ্ছে আজও। আর এদিকে জনতা খোশগল্পে মসগুল, সুন্দরীরা তাদের ঠোঁটে রঙের আভা বুলিয়ে নিলো। তারপর তারা জ্যান্ত মানুষের গায়ে কেরোসিনের আগুন কেমনতর উজ্জ্বল তা দেখার জন্যই যেনো অপেক্ষা করছে। তারা দৃশ্য মঞ্চায়নের অপেক্ষায় অধীর। লোকটা তার গায়ে আগুন জ্বেলে দেয় না কেনো। দিলেই তো যায় সব, সব! সমস্তু সংকট আর ব্যথার কথা বাতাসে ছড়িয়ে সে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বেলে দেয়। পৃথিবীর অনিয়ম আর মানুষের ব্যক্তি অক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সরূপ লোকটি আত্মহত্যা করেছিলো। এই দৃশ্যে জনতা হেসে ওঠে, তারা চলে যায় যে যার পথে............ বাতাস বইতে থাকে। পাবলিক স্কয়ার সুনসান পড়ে থাকে।

মাত্র একটা শিকলে বাঁধা কুকুর প্রতিবাদ করেছিলো। কুকুরের তীব্র ঘেউ এই সভ্যতার নিষ্ঠুরতার প্রতি প্রতিবাদ করেছিলো। আমরা ছিলাম নীরব. আত্মমগ্ন।

২.

মানুষের মৃত্যুতে কিছু আসে যায় না মানবের, মানবীর, আমাদের, সমাজের, সভ্যতার, পৃথিবীর। আর একজন কবির মৃত্যু হাস্যকর আরও বেশি হাস্যকর। কবি কি আর তোমাদের মানুষ? এখানে এই ভূগোলে পিশাচের দাঁতের নিচের অন্ধকারে যে কবি বেড়ে ওঠে, যে কবি লিখে, সেতো আরও অন্ধকারময়। তাকে ঠিক দেখা হয়ে ওঠে না আমাদের। কবির রক্তের ভেতর পরিবর্তনের জীবাণু বেড়ে ওঠা, তার মাথার ভেতরের স্নায়ু পেশীর কোনায় সূর্যের বীজ নিয়ে তাকে পার হয়ে যেতে হয় সময়ের গড়ের মাঠ। তার পাশ দিয়ে ছুটে যায় যুদ্ধের রঙিন ঘোড়া। সমান মাটির ধুলোর পৃষ্ঠায় সে ছড়িয়ে দেয় সূর্যবীজ, সে বসে থাকে অঙ্কুরোদগমের প্রত্যাশায় আর তার গভীর প্রশ্বাসে সে ছড়িয়ে দেয় তার বুকের জীবানু। নব আলোর জন্ম তার আশা, সৃষ্ট জীবন উপলব্ধি ধ্বংস তার প্রত্যাশা। এই জীবানু, মারণান্ত্র আর টগবগে সূর্ষ রেণু নিয়ে সে বেঁচে থাকে আমাদের সময়ে। সেই রঙীন যুদ্ধ ঘোড়া তার সাজ ঘর মাড়িয়ে চলে গেলে, অনন্ত এক না বুঝার মধ্যে, নিজের ভেতর নিজে মিশে যেতে যেতে তার ঘাড়ের অন্ধকার একদিন কথা কয়,তাকে বলে ''আরও আরও মিশে যাও নিজের ভেতর।'' কবি মিশে যেতে থাকে। সে চলে যেতে থাকে আমাদের থেকে দূরে। মাত্র তার দেহের অস্তিত্ব পড়ে থাকে আমাদের মাঝে। এই বিপুল দুরত্বে বসে কাউকে না কাউকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় স্বেচ্ছামৃত্যুর। কবি চলে যায়। তাকে চলে যেতে হয় মাথার ভেতর সূর্যের রেণু আর বুকের ভেতর জীবাণু নিয়ে। এই না বুঝার দায় কাকে দেবো হে সুসময়!

৩.

আমাদের কবি বন্ধু সুমন প্রবাহন স্বেচ্ছামৃত্যুর পথে একরাতে চলে গেছে। ও আর ফিরবে না। এই তার সংকেত আমাদের প্রতি। সময়ের সাথে এক অদৃশ্য যুদ্ধের ময়দানের পাশে ওর তাঁবু। এখন যুদ্ধ বিরতি। সুমন বর্মের ভেতর থেকে বের হয়ে এসে এসে নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে আছে। ওর প্রিয় ঘোড়াটির পাঁজর চিরে বের হচ্ছে সাদা ডানা। সমস্তু যুদ্ধাস্ত্র ফেলে, যা কিছু বর্মের সফলতা তা ছাড়িয়ে সুমন উঠে বসেছে ওর প্রিয় ঘোড়ার পিঠে। সে চলে যাচ্ছে আরো দূরে..........ব্রহ্মাণ্ডের বাইরে অদেখা ঠিকানায়।

৪.

''দূর থেকে হাত তোলো যদি পারো জানাও সন্মতি, না হলে সংকেত আজো বৃথা যাবে ''
সুমন ওর সংকেত পাঠাচ্ছে আমাদের দিকে '' ভাড়াড়ের শূন্যতার ভেতর বেঁচে থাকো।'' আমরা বেঁচে থাকি অর্থহীন, ভীত, যুদ্ধহীন, ডানাওয়ালা ঘোড়াহীন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28791111 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28791111 2008-04-25 16:05:24
কবি বিনয় মজুমদারকে নিয়ে ডকুমেন্টারী : অন্য আলো, অন্য আঁধার

শঙ্কর কর্মকার কবি বিনয় মজুমদারকে নিয়ে একটা ডকুমেন্টারী করেছেন। নাম 'অন্য আলো, অন্য আঁধার'। ডকুমেন্টারী হিসাবে এর সফলতা বা ব্যর্থতার প্রশ্ন অবান্তর। বা তা ভাবার অবকাশ ছিলো না আমার। কেননা বিনয় মজুমদার যেখানে কথা বলছেন, তার জীবন্ত মুখ, তার হাটা চলা, জীবন যাপন দেখা যাচ্ছে সেখানে এই প্রশ্ন মাথায়ই আসে না।

কবিকে আজ এতো কাছে পেয়ে কেনো যেন খুব ব্যথা অনুভব হচ্ছে। কারন জানি না। আজ রাতে হয়তো আর ঘুম হবে না। আজ রাত কেটে যাবে বালিশের সাথে বিনয় মজুমদারকে নিয়ে কথা বলে।

বিনয় মজুমদার কে নিয়ে তৈরি ডকুমেন্টারি '' অন্য আলো, অন্য আঁধার'' পাওয়া যাচ্ছে আজিজ সুপার মার্কেটের 'লিটল ম্যাগাজিন কর্ণার' ( বা 'লোক')। দ্বিতীয় তলা ৮৯ নং দোকান। ৪৪ মিনিটের সিডিটির দাম রাখা হয়েছে ৭০ টাকা। অমূল্য এই জিনিসের মূল্য একটু বেশি রাখা হয়েছে।

কবির কবিতা যুক্ত করা হলো:

ফিরে এসো, চাকা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28790636 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28790636 2008-04-24 00:51:28
বুদ্ধিবৃত্তির জীববৈচিত্র্য, শ্রেণীকরণ ও রাজনীতি
আমাদের সমস্ত বুদ্ধিপেশীদের এক নম্বর কথা ধর্ম। বুদ্ধিপেশী হতে প্রথমত ধর্মীয় অবস্থান যে কোন এক পক্ষের কাছে পরিস্কার করতে হবে। ( যাদের তাবেদারি করতে হয়) । আর বুদ্ধিপেশাজীবি হলে উক্ত বুদ্ধিপেশীর অপ্রকাশ্য সমর্থন, গোপন গোপন খেলা। আর বুদ্ধিছুতার হতে হলে এই প্রচারে মাইক ম্যান হতে হবে। এই তিন জাতের বুদ্ধি দাতা ও ত্রাতা মিলে আমদের বুদ্ধিবৃত্তির জীব বৈচিত্র্য।

আমাদের দেশে শত শত দল, তবে রূপ তার দুই। একটা ধর্মনিরপেক্ষতার ভাবধারী, তবে এর ভার বওয়ার সাহস এর নেই। আর একটা সরাসারি ধর্মান্ধতার সাথে যুক্ত। এখন আপনাকে দার্শনিক যে কোন এক পক্ষেই যেতে হবে। তারা শেষ পর্যন্ত যোগদান কর্মসূচী পালন করে। আমাদের কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, নেতা, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, সচিব, ছাত্র, তার্কিক, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, আবৃত্তিকার, গোপন সংগঠক, চোর, ডাকাত, স্যাচোর, রাজাকার সবাই কোন না কোন পক্ষের লোক। পক্ষপাত পেশাগত উন্নতির পরিচালক। ফলে সবাই কাতারে কাতারে নাম লেখাচ্ছে। কার আগে কে যাবি, দে দৌড়... দৌড়ে নাম লেখানোর প্রতিযোগিতা চলছে। কারন শোনা যাচ্ছে সামনেই আমাদের সোনার হরিণ নির্বাচন। ফলে এই সমস্ত পেশাজীবিদের উপস্থিতি একটু ঘন হয়ে আসছে। পক্ষপাতহীন বুদ্ধিজীবির দেখা মেলা এখানে ভার। ফলে ধর্মনিরপেক্ষতার ফাঁকা আওয়াজ ও ধর্মান্ধতার গুরু গম্ভীর চিৎকার উভয়ই প্রতিক্রিয়াশীলতা। কেউ কারো থেকে কম যায় না। এই প্রতিক্রিয়াশীলতার ওজনে তারা উভয়েই কিনে নিতে চাইছে টাকার পাহাড়। এই প্রতিক্রিয়ার মাঝেই আমাদের দিন গুজরান হয়। মাঝখান দিয়ে আমাদের দেহ থেকে ছাল ছাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। কেউ সে চিৎকার শোনে না।

সমস্ত দোষ আর্ন্তজাতিকতার!! আমাদের কি আসলে কোন দোষ নেই? রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যর্থতা আরও দীর্ঘজীবি হচ্ছে। এই ব্যর্থতার মিঠাই মন্ড বুদ্ধিজীবিরাই বেশি ভোগ করে। কারন নেতাদের পাবলিক ইমেজের ব্যাপার আছে, বছরের পর বছর জেলের ব্যাপার আছে, ভোটে হারার ভয় আছে। কিন্তু আমাদের বুদ্ধিজীবিদেও সে ভয় নাই কেননা তাদের এ সমস্ত দেখে খেতে হয় না। তারা সর্বদা সুবিধাবাদী অবস্থানে থাকে। ফলে এই রাষ্ট্রে বুদ্ধিজীবিতার চেয়ে ভালো কোন পেশা আর নেই। করে খাওয়া বুদ্ধিজীবিদরে বিনাশ ছাড়া এই দেশের কোন উন্নতি সম্ভব না, তা আজ বুঝলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28789427 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28789427 2008-04-19 23:32:41
উৎসের দিকে যাত্রা : গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের সাক্ষাৎকার গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ ১৯২৭ সালের ৬ মার্চ কলম্ববিয়ায় জন্ম গ্রহন করেন। ল্যাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রধান ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্পকার। পেশায় সাংবাদিক। ১৯৮২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। উপন্যাসকে তিনি আলাদা ভাবে উপস্থাপন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি লাভ করেছেন নিদারুণ বাজার সাফল্য। ম্যাজিক-রিয়ালিজমের গুরু হিসাবেও তাকে চিহ্নিত করা যায়। তার প্রকাশিত উপন্যাস গুলো হলো In Evil Hour 1962 , One Hundred Years of Solitude 1967 , The Autumn of the Patriarch 1975 , Chronicle of a Death Foretold 1981 ,Love in the Time of Cholera 1985 ,The General in His Labyrinth 1989 , Of Love and Other Demons 1994 , Memories of My Melancholy Whores 2004 আর তার ছোট গল্পের বইগুলো হলো No One Writes to the Colonel 1961 , Leaf Storm 1955 , Innocent Erendira 1978, Strange Pilgrims 1992, The Handsomest Drowned Man in the World. আর তার আত্মজীবনীর প্রথম খন্ড Living to Tell the Tale আর তার সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে The Fragrance of Guava 1982 আর এই সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছে ১৯৭৭ সালে কলম্বিয়ার বাম ধারার জার্নাল El Manifiesto এর জন্য। ইউনিভার্সিটি প্রেস অব মিসিসিরি ২০০৫ সালে ইংরেজিতে প্রথম অনুবাদ করে সাক্ষাৎকারটি। ইংরেজিতে অনুবাদ করেন এইচ. বেল- ভিলাডা। দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারটির প্রথম অংশ অনুবাদ করা হলো।






একটা বিষয় কথিত আছে যে, আপনার নাকি ঐতিহ্যগত ভাবে সাহিত্য-শিক্ষার অভাব আছে? আপনি আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর কল্পনা থেকে লেখেন। এ সম্ভন্ধে আপনি কি বলবেন?

মার্কেজ: (এই প্রশ্ন শুনে তার চোখ জ্বলে উঠলো। যেনো আমরা একটা গোপন বোতামের উপর চাপ দিয়েছি, যেনো সমস্ত কিছুকে ম্লান করে 'জরবা দ্য গ্রিক' ছবির নায়ক অ্যান্থনি কুইন তার চিৎকার, ইশারা-ইঙ্গিত আর হাসি নিয়ে সুস্পষ্ট হয়ে উঠলো। জাদু মন্ত্র উচ্চারিত হলো। তার দুর্বলতার অনুসন্ধান : সাহিত্য।)

হ্যাঁ, তা বটে। নিজেকে নিয়ে রসিকতা করার সময় মাঝে মাঝে আমার মনে হয়েছে যে আমার কোন সাহিত্য শিক্ষা নাই। আমি যা লেখি তা কল্পনা আর আমার অভিজ্ঞতার মিশ্রন থেকে লিখি। আর আমার লেখালেখির গুরু হলো ফকনার, হেমিংওয়ে; তাঁরা পরদেশী লেখক। কলম্বিয়ার শিল্প-সাহিত্য সম্পর্কে আমি নিদারুণ ভাবে কমই জানি বোধ হয়। কোন সন্দেহ নেই, কলম্বিয়াই আমাকে বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করেছে, তবে তা কিন্তু এখানকার সাহিত্যে নয়। কোন বইও নয়। আমার মনে হয় যা আমার চোখ খুলে দিয়েছে তা হলো সঙ্গীত, বিশেষ করে লোকগীতি। আমি অনেক বছর আগের কথা বলছি, অন্তত ত্রিশ বছর আগের কথা, যখন আমাদের নামে মাত্র পরিচয় ছিলো লোকগীতি সাথে, ম্যাগডালেনা উপত্যকার বাইরে এক কোনায় র্চ্চা হতো এর। আর আমার মনযোগ ছিলো মূলত গানগুলোর ফর্মের দিকে, এগুলো কিভাবে একটা কাহিনী বয়ান করে, একটা গল্প বলে চলে ... খুব সাধারণ, স্বতস্ফূর্ত এর কারুকাজ। তারপর যখন লোকগীতি বাণিজ্যিক ভাবে আসা শুরু হলো, দেখা গেলো ভাব আর ছন্দই প্রধান হয়ে উঠলো... এই লোকগীতিই যেনো আমার নানা গাইতেন, আমার মনে আছে...। পরে আমি যখন স্প্যানিশ রোমান্সেরো-এর ব্যালাড শেখা শুরু করলাম দেখলাম যে এদের মধ্যে অভূতপূর্ব নান্দনিক মিল রয়েছে। রোমান্সেরো-এর মধ্যে আমি আমার লোকগীতিকে আবিস্কার করলাম।

আমরা কি গান সম্পর্কে কথা বলতে পারি?

হ্যাঁ পারি, তবে পরে, অফ দ্য রেকর্ডে কথা বলবো এনিয়ে। এর মানে এই নয় যে আমি গান নিয়ে আলোচনা করতে পাবো না। কিন্তু আগে একটা বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম তা এখনো শেষ হয়নি। মাঝে মাঝে মানুষ খুব অন্তরঙ্গ হয়ে ওঠে, এমনকি গোপন কথা নিয়ে আলোচনা করার সময় মানুষ পরস্পর যেমন ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে তার থেকেও বেশি আপন মানুষ হয়ে ওঠে যখন তারা সংগীত নিয়ে আলোচনা করে। সঙ্গীতই আমাকে সব থেকে বেশি প্রশান্ত করে। আমি অনেক বদলেছি ... উদাহরণ হিসাবে বারটকের কথা বলা যায়, তাকে আমি খুব পছন্দ করি। তবে তার কম্পোজিশন সকালবেলা শোনা বেশ বিরক্তি কর। সকালে মোৎসার্টই ভালো বোধ হয়। ড্যানিয়েল স্যানটোস, মিগুয়েলিটো ভ্যালডেস, জুলিও জ্যারামিলো এবং এমন অনেক সংগীতজ্ঞ যাদেও কে তাত্ত্বিকেরা ভালো চোখে দেখে না মোটেও, তাদেও কাছ থেকে আমি প্রচুর নিয়েছি। দেখো আমি কোন জিনিসের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে পছন্দ করি না। আমার মনে হয় প্রত্যেকটা জিসিনের একটা মূল্য আছে। সংগীত থেকে আমার পাওয়ার শেষ নেই। প্রতিদিন আমি অন্তত দুই ঘন্টা গান শুনি। এটাই একমাত্র জিনিস যা আমাকে প্রশান্ত করে, আমার মানসিক অবস্থা ঠিক রাখে। এবং এর জন্যই আমি নানা রকম পরিকল্পনা এবং মানসিক ভ্রমণ করতে পারি।

লোকে বলে আমাদেও ঘর হলো তাই যেখানে বই আছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে একথা খাটে না। আমার মনে হয় যেখানে গানের রেকর্ড আছে সেটাই আমার ঘর। আমার প্রায় পাচঁ হাজারের উপরে রের্কড আছে।

কারা গান শোনে? অভ্যাসবসত কি গান শোনা হয়? কতক্ষণ শোনে? এটা আমাদের কত দূর ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে? উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, তুমি কি অর্কেস্ট্রা ক্যাসিনো ডি লা প্লায়া শুনেছো? মিগুয়েলিটো ভ্যালডেস বা ক্যাসিনো কি তোমার কাছে উল্লেখযোগ্য?

হ্যাঁ, অবশ্যই।

মার্কেজ: এবং স্পানিশ নৃত্যের মাধ্যমে এর সূচনা হয়।

হ্যাঁ, ১৯৪০ হতে ডানিয়েল সানটোস

মার্কেজ: কার্টেটো ফ্লোরেজের সাথে?

হ্যাঁ, হ্যাঁ, দ্য ফেয়ারওয়েল, অট দ্য সেরেনিয়া ...

মার্কেজ: এটাই ক্যাসিনো ডি লা প্লায়া অর্কেস্ট্রায়ের মূল জায়গা। এর পিয়ানো বাদক ছিলো স্যাকাসাস, মাউন্টোনাস
নামক একক কাজটির জন্য যে বেশ প্রসংসিত হয়েছিলো। এটা একটা পুরানো দ্বন্দ্ব, বিশেষ ভাবে আর্মান্ডো হার্ট ... তোমার রের্কডার কি চলছে?

হ্যাঁ, এটা চলছে।

তাহলে বন্ধ করে দাও।

মূলত আমার লিটারারি ব্যাকগ্রাউন্ড হলো কবিতা, কিন্তু তা হলো বাজে কবিতা। এই বাজে কবিতাগুলোই আমার কাছে ভালো কবিতা হিসাবে আসতো। জনপ্রিয় ধারার যে কবিতা তা দিয়েই শুরু। এগুলো নানা রকম কাগজে প্রকাশিত হতো। এর মধ্যে আবার জুলিয়ো ফ্লোরেজের প্রভাব ছিলো। আর যখন আমি হাই স্কুলে এলাম তখন পাঠ্য বইএ যে কবিতা থাকতো তা দিয়েও আমি প্রভাবিত হয়েছি। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমি কবিতা দ্বারাই বেশি প্রভাবিত হই। আর আমি সব থেকে বেশি অপছন্দ করতাম স্পানিশ ক্লাস আর ব্যাকরণ। আমি এগুলো উদাহরণ পছন্দ করতাম। সেখানে আমার পছন্দ ছিলো স্পানিশ রোমান্টিসিজম, এজাতীয় কবিতা। জুলিয়ো ফ্লোরেজ Nuñez de Arce, Espronceda এগুলো বেশ ভালো লাগতো তখন। এর পর ভালো লাগলো স্প্যানিশ ক্লাসিকস। কিন্তু বড় ধরনের একটা বিবর্তন ঘটে যায় যখন প্রকৃত পক্ষে তুমি কলম্বিয়ার কবিতার কাছে ফিরে আসবে: ডোমিনগুয়েজজ ক্যামার্গো। এই সময় তুমি বুঝতে পারবে বিশ্ব সাহিত্য কি জিনিস। এটা ছিলো ভয়াবহ! এর মধ্যে ঢোকার কোন প্রবেশ পথ নেই। এটার হয় ভয়ংকর বা না হয় এর মধ্যে প্রবেশ করার কোন পথ নেই, এ কারনে প্রফেসররা এটা কে ভালো বলে থাকে। অনেক পরে আমি এটা পড়েছি, এটা বিস্ময়কর। এবং আমার মনে হয় এটা একটা মহান ক্লাসিক।

প্রফেসররা এটাকে ভালো বলেছে এই কারণে এটা ভয়ংকর রকম ভালো, এমন নয় কিন্তু ব্যাপারটা। কারণটা অন্য কোথাও। ইউলিসিসি মাস্তুলের সাথে দৃঢ ভাবে বাধা তাই তাকে এর জন্য সাইরেনের গানে বশীভূত করতে হয়নি ... এসমস্ত একাএকাই ঘটেছে। এর পর আমি স্প্যানিশ সাহিত্য পড়ছি, কলম্বিয়ার সাহিত্য পড়ছি হাই স্কুলের শেষের দিকে। ফলে ক্লাসের প্রফেসর থেকে বোধ হয় আমি একটু বেশি জানি। জিপাকুইরায় যখন আমি ছিলাম, তখন আমার কিছু করার ছিলো না। আমি আমার একঘেয়েমি এই সব দিন গুলো ভুলে থেকেছি স্কুল লাইব্রেরীতে বসে। সেখানে আলডিনা সমগ্র ছিলো। আমি তার সমস্তই পড়েছি। প্রথম খণ্ড থেকে শেষ খণ্ড পর্যন্ত পড়েছি। আমি নানা রকম ভ্রমন কাহিনী, স্মৃতিচারণ মূলত লেখা, পুরাকাহিনী গড়েছি গোগ্রাসে। সমস্তই আমি পড়েছি বাছ বিচার না করে। অবশ্যয়ই কলেজের শেষ বছরে আমি জেনেছিলাম যে আমি আমার শিক্ষকদেও চেয়ে বেশি জানি। তখন আমি বুঝেছিলাম রাফায়েল নুনেজ হলো এই দেশের সবচেয়ে খারাপ কবি ... আর জাতীয় সংগীত! ... তুমি কি চিন্তা করতে পারো জাতীয় সংগীতের কথা হলো একটা কবিতা কারণ মাত্র সেটা নুনেজের একটা মহান কবিতা ছিলো? এটাই প্রথম যে একটা কবিতাকে তুমি জাতীয় সংগীত হিসাবে মেনে নিলে। সরকারী ভাবে এটা গৃহিত হলো কারণ এটা ছিলো একটা কবিতা।

ক্যারীবিয়ো উপকূল কখনওই সাহিত্যের বাইরে ছিলো না। যখন সাহিত্য জীবন থেকে আলাদা হতে শুরু করেছে, সাহিত্যকে যখন বৃত্তবন্দি করা শুরু হয়েছে তখন একটা নিস্ফলা জায়গা দেখা গেলো। এই শূন্যস্থানে পূর্ণ করা হলো সঙ্কীর্ণ মনমানসিকতা দিয়ে। যখন সাহিত্য অলংকারবহল ভাষায় পরিণত হলো তখন তারা এটাকে বাঁচিয়েছে।

বাইশ বছর বয়সে আমি সাহিত্যের একটা দৃঢ জ্ঞান লাভ করেছিলাম। সেই জ্ঞান ছিলো আমার জন্য যথেষ্ট যা দিয়ে আমি সব কিছুই লেখার ক্ষমতা অর্জন করেছিলাম। এবং লিখেছিও। আমি জানি না আমি কিভাবে উপন্যাস লেখায় জড়িয়ে গেলাম। কবিতাই আমাকে বেশি আন্দোলিত করতো ... আমি জানি না ...আমি মনে করতে পারছি না কখন আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে আমি আমার যা প্রকাশ করতে চাই তা উপন্যাসেই সম্ভব ... সম্ভবত কাফকার মেটামরফোসিস ছিলো আমার কাছে একটা বিবর্তনের মত ... আমার মনে হয় সালটা ছিলো ১৯৪৭ ... আমার তখন ১৯ বছর বয়স ... আমার এখনও এর প্রথম লাইনটি মনে আছে ... এটা হুবহু এমন ছিলো: '' একটা বাজে স্বপ্ন দেখে সকালে ঘুম থেকে গ্রেগর সামসা জেগে দেখলো যে সে একটা আরশোলায় রূপান্তরিত হয়েছে।'' হায়! যখন আমি এটা পড়েছি তখন নিজেকে বলেছিলা , '' এটা ঠিক নয়। এটা ঘটতে পারে এমন কথা কেউ আমাকে বলতে পারে না ... বাস্তবে এটা ঘটা কী সম্ভব! তাই আমি পারি! ... হায়! ... '' আমার নানা এমন ভাবেই গল্প বলতেন ... বিশাল একটা কিছু খুব সাধারণ ভাবে তিনি বলে যেতেন।

পরদিন আমি এর একটা ব্যাখা দাড় করাতে চাইলাম। তারপরদিন সকাল আটটায় আমি খুঁজে বের করার চেষ্টা করলাম মানব সভ্যতার শুরুর পর থেকে এই আমি পর্যন্ত এই পৃথিবীতে কী ঘটে গেছে। আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে এটা বোঝার চেষ্টা করেছি। বাইবেল থেকে শুরু আজ পর্যন্ত কি লিখিত হয়েছে। এরপর ছয় বছর আমি আর কিছু লিখতে পারিনি। আমি কোন সাহিত্যই সৃষ্টি করতে পারিনি এই সময়ে। আমি লেখাপড়া ছেড়ে দিলাম এমনকি সমস্তই ত্যাগ করলাম। এরপর আমি এক গুচ্ছ গল্প লেখা শুরু করলাম, গল্পগুলো ছিলো অনেক বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক। সেগুলোই আমার প্রথম গল্প। এই গল্প গলোই তখন এল স্পেকটাডর পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। গল্প গুলো আমি যখন লিখছিলাম তখন আমার জন্য একটা মূখ্য সমস্যা ছিলো, তা হলো গল্পগুলো সম্পর্কে অন্যান্য লেখকেরা কি বলছে।

৯ এপ্রিল এর দাঙ্গার পর আমি যখন বোগোটা ছেড়ে চলে যাচ্ছিলাম তখন জামা কাপড় ছাড়া আর কোন কিছু ফেলে যাবার মত অবস্থা আমার ছিলো না। আমি উপকূল ছেড়ে দিলাম। সংবাদপত্রে একটা চাকরি খুঁজে নিলাম। নানা রমক বিষয় দ্বারা আমি আক্রান্ত হলাম। আমার পিছনে ফেলে আসা এক বিশাল বাস্তবতা আমার মুখোমুখি দাড়িয়ে গেলো। আমার ফেলে আসা সেই উপকূলকে আমি বিশদ ভাবে ব্যাখ্যা করতে চাই না কারণ তার কোন সাহিত্য ঐতিহ্য নেই। এটাই ছিলো প্রথম আক্রমন। ফলে একটা ব্যাপ্তি নিয়ে আমি লিখতে থাকি যেনো আমি জ্বরের ঘোরের ভেতর।

'লিফ স্টর্ম' বইটির প্রতি আমার অন্য রকম একটা ভালোবাসা আছে। এমনকি এটা যিনি লিখেছেন তার প্রতি আমার প্রচুর সমবেদনা আছে। আমি তাকে পরিস্কার দেখতে পাই। একটা ২২ কি ২৩ বছরের ছেলে যে ঠিক করলো সে আর জীবনে কিছুই লিখবে না। সে মনে করে, এটাই তার একমাত্র পরিবর্তন। তার যা কিছু মনে আছে সমস্তই সে ভুলে যেতে চায়। শিল্প সাহিত্যের নানা রকম কৌশল যা সে শিখেছে বা বড় লেখকদের মধ্যে যা যা সে দেখেছে তার সমস্ত কিছু সে ভুলে যেতে চায়। সে সময় আমি বুঝতে পারলাম যে আমি ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকান লেখকদের বলয়ের মধ্যে আছি। যখন আলোচকরা খোঁজা শুরু করলো ফকনার আর হেমিংওয়ের কত খানিক প্রভাব আমার উপর রয়েছে। তারা যা খুঁজে পেয়েছে তা যে পুরোপুরি বেঠিক তা কিন্তু নয়। কিন্তু একটা বিষয় আছে, যখন আমি আমার এই উপকূলের বাস্তবতাটা পুরোপুরি বুঝতে পারলাম তখন আমি আমার অভিজ্ঞতাটাকে সাহিত্যে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করলাম। খুব পরিস্কার ভাবে বললে বললে বলা যায় ... আমি বুঝতে পারলাম কাফকার বাস্তবতা আর আমার বাস্তবতা এক না ... আমি যথাযথ ভাবে আমেরিকান উপন্যাসিকদের চিনতে শিখলাম। আমেরিকান বাস্তবতার তীব্র রূপান্তর আর প্রকাশ ছিলো ফকনারের লেখায়। তাদের কাছ থেকে আমি একটা বীক্ষণ শক্তি পেয়েছি।

যখন আমি আমার 'লিফ স্টর্ম' পুনঃরায় পড়ে দেখিছিলাম দেখলাম যে আমার পাঠের কিছু কিছু বিষয় এর মধ্যে প্রবেশ করেছে ... আমি বোঝাচ্ছি যে মাত্র এটুকুই ! ... যখন আমি আমার বুদ্ধিবৃত্তিক গল্পগুলোকে উতরে চলে এসেছি, যখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটা আমার মাথার ভেতর, আমার দৈনন্দিন জীবনের ভেতর, বেশ্যা পাড়া, শহর, সংগীতের ভেতর ... যথাযথ ভাবে বললে বলা যায় আমি পুনরায় সেই লোকগীতিকেই অবিস্কার করলাম। সেই সময় আমার পরিচয় হলো এস্কেলোনার সাথে, তুমি জানো। আমরা একসাথে কাজ শুরু করলাম, আমরা একসাথে কলম্বিয়ার নানা প্রদেশ ঘুরে দেখেছি । সেই সমস্ত দিনগুলোর অভিজ্ঞতা আমি এখনো পুরোপুরি স্মরণ করতে পারি। ... আমার কোন বইয়ের মধ্যে এমন কোন লাইন পাবে না যা সরাসরি আমার জীবন অভিজ্ঞতায় প্রাপ্ত কঠোর বাস্তবতাকে উন্মোচিত করে। সর্বদা হয়তো বাস্তবতার একটা উল্লেখ থাকতে পারে মাত্র। কোন বইতেই তুমি পাবে না। কোন একদিন অনেক সময় বয়ে যাওয়ার পর আমরা এটা নিরীক্ষা করে দেখতে পারি, একটা মননের খেলা খেলে দেখতে পারি , এটাকে যেভাবে দেখা হয় এটা ঠিক তা নয়, অন্য কিছু। আমার মনে হয় সেই দিনটাই এর যথার্থ বিচার সম্ভব।

অটাম আব দি প্রেট্রিআর্ক এ কাজটাই করা হয়েছে

মার্কেজ: অটাম ... এটা এমন একটা লেখা যাতে আমি এই কাজটি করেছি। এটা সংকেত নির্ভর একটা লেখা।

আবার আগের কথাতেই ফিরে আসি। 'ব্যারানকুইলা গোষ্ঠি' আপনার সাহিত্য শিক্ষাকে কতটুকু প্রভাবিত করেছে?

মার্কেজ : আমি যখন বোগতা এ বাস করতাম তখন তাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। আমি খুব বিমূর্ত একটা পথে সাহিত্য পাঠ করতাম, এমনকি বইও। আমি যা পড়তাম তার সাথে বাইরের রাস্তায় কি ঘটছে তার কোন সম্পর্ক ছিলো না। এক মিনিটের জন্য কফির কাপ হাতে এক কোনায় গেলে আমি এমন এক পৃথিবী খঁজে পেতাম যা খুবই আলাদা। যখন ৯ এপ্রিল আমাকে এই উপকূল থেকে চলে যেতে হলো তখন আমি বুঝলাম আসলে বাস্তবতা কি জিনিস। একটা বিশাল কিছু বুঝতে পেরেছিলাম তখন। আমার বই পড়া পৃথিবী আর বাস্তব দুনিয়ার একটা সম্পর্ক খুঁজে পেলাম। আর 'ব্যারানকুইলা গোষ্ঠি' আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একারণে যে আমি তাদেও কাছ থেকে প্রচুর বই পেয়েছি। কারণ আলফনসো ফুয়েনমায়োর, এলভারো সেফিডা, জার্মান ভার্গাস সেই দলে ছিলো আর এরা ছিলো এক এক জন পড়ার দৈত্য। নানা জাতীয় বই তাদের কাছে ছিলো। সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত আমরা পান করতাম আর সাহিত্য নিয়ে কথা বলতাম। এমন দশটা বইয়ের নাম আমি শুনতাম যা আমার পড়া হয়নি। পরদিন তা খুব অনায়াসেই পেয়ে যেতাম তাদের কাছ থেকে। জার্মান হয়তো দুইটা বই... আলফনসো তিনটা বই ... এভাবেই সব পেয়ে যেতাম। রোমান ভিনোয়েস নামে এক বৃদ্ধ ছিলো আমাদের দলে, তিনি সব সময় আমাদের অ্যাডভেন্সার পড়তে উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি বলতেন, '' তোমরা ফকনার, ইংরেজ, রাশিয়ান, ফেন্স ঔপন্যাসিকদেও লেখা পড়ো, কোন সমস্যা নেই, কিন্তু অ্যাডভেন্সারকেও সাথে রেখো।'' হোমার, রোমান ক্লাসিক গুলো বাদ দিয়ে খুব বেশি উন্মাদনা দেখানোরও দরকার নাই। কোন কিছু পাঠ করে যে অভিভূত আমরা পেতাম ঠিক তেমন বিস্ময় অনুভূতির কাছেই পৌচ্ছে দিতো আমাদের পান পাত্র। আমাদের মধ্যে মেকি কোন ব্যাপর ছিলো না। তাই আমরা এক সাথে জীবন যাপন করা শুরু করি। আর বুঝতে পারি আসলেই কি জীবন আমি কাটাচ্ছি। এর একটা সাহিত্যি মূল্য ছিলো এবং কিভাবে একে শিল্পে প্রকাশ করতে হয় সেই জাতীয় একটা শিক্ষা এর ভেতর ছিলো। ফলে 'লিভ স্টর্ম' এ তুমি দেখতে পাবে এটা লেখার জন্য যতটা সময় দেওয়া প্রয়োজন ছিলো তা দেওয়া হয়নি। এটা এক প্রকার ব্যারোক উপন্যাসের ঢঙে লেখা একটি লেখা মাত্র, বেশ জটিল হয়ে উঠেছে এটি এবং কিছু কিছু জায়গায় খুব পাগলামিতে ভরা। যে কাজ আমি আগেও করেছি সেই কাজটি আরও সুক্ষ্ণ ভাবে করার চেষ্টা করলাম 'অটাম অব দ্য পের্টিআর্ক' এ। 'লিভ স্টম' আর 'অটাম অব দ্য পের্টিআর্ক' এর কাঠামো প্রায় একই রকম। একটা শব দেহ নিয়ে দুটো কাহিনীই এগিয়েছে। 'লিভ স্টম' পদ্ধতিগত ভাবে বেশ ভালো। কেননা তখন আমার বয়স মাত্র ২২ কি ২৩ বছর। সেই বয়সে একা একা নিজের মত উড়ে চলা কোন ব্যাপারই না। ফলে এখানে ফকনারের আজ 'আই লে ডাইয়িং' এর কিছু কিছু প্রভাব দেখা যায়। সত্যি বলতে কি ফকনারের ক্ষেত্রে দেখা যায় মাত্র একজন ব্যক্তিই কথা বলে যাচ্ছে। কিন্তু আমি সেই একই পথে গেলাম না। আমি একজনের পরিবর্তে তিনজনের সমাবেশ ঘটালাম -- একজন বৃদ্ধ, একজন বালক আর একজন মহিলা। 'অটাম অব দ্য পের্টিআর্ক' এ আমি বেশ স্বেচ্ছাচরিতা করলাম। আমার যা ভালো লাগলো তাই করলাম। কে কথা বললো আর কে কথা বললো না সেটা আমার কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হলো না। আমার শুধু বাস্তবত কে প্রকাশ করার একটা আকুতি ছিলো মাত্র। এটা যে খুব অপ্রয়োজনীয় ছিলো তাও কিন্তু নয়, আমাকে বলতে দাও, আমি আসলে প্রথম দিকে খুব বেশি বদলাইনি। প্রথম বইটাই আবার লিখতে বসেছিলাম আর কি। আমি 'অটাম অব দ্য প্রের্টিআর্ক' লিখতে গিয়ে দেখেছিলাম, কিভাবে একজন তার পুরানো কাঠামেতে পুনরায় ফিরে যেতে পারে, শুধু কাঠামোতেই না এমনকি একই কাহিনীর মধ্যে ফিরে যেতে পারে।


এটা এমনই। আমি যে সাহিত্যের ভেতর বসাবাস করছিলাম, সেই একই জিনিস আমি তৈরি করে যাচ্ছিলাম। সে এক অদ্ভুত সময় ছিলো। ইউরোপীয়োরা আমার সৃষ্টির আলোচনা করতে গিয়ে একটা কথাই বলতো যে আমি যা লিখছি তা কখনোই আমার দ্বারা তত্ত্ববদ্ধ করা সম্ভব নয়। তারা সর্বদা এই প্রশ্নটিই তুলে ধরতো। আমার উত্তরটা খুব সোজা তাহলো আমি মজার ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিখে থাকি, মূলত বাস্তবতার প্রকাশ ভিন্ন আমার লেখা আর কিছুই না। আমার লেখাকে সমর্থন করার একটা উপায় এটা এবং এই বিষয়েই তারা প্রশ্ন করে...













]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28786923 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28786923 2008-04-11 22:43:41
আহমাদ মোস্তফা কামালের গল্প সম্পর্কিত ছোট আলোচনা আহমাদ মোস্তফা কামাল এর তিনটি গল্প গ্রন্থের উপর একটা আলোচনা লিখেছিলাম ছোট কাগজ ''বাবুই" প্রথম সংখ্যা ২০০৬ এ। লেখাটি ব্লগে প্রকাশ করা হলো।

আহমাদ মোস্তফা কামালের গল্প : আত্মহননের নির্জন পথ, নেই ফেরিওয়ালার চিৎকার...হাইড্রোলিক হর্ণ


জীবন সব সময়ই আংশিক; এবং ক্ষমাহীন। জীবনের শেষ সীমানায় যে মেঘ জমে আছে তাকে ভুল করে কখনও কখনও অন্ধকার দেবদারু বনের মত ভয়াবহ নির্জনতম শ্মশান ঘাট বলে মনে হতে পারে। যেমন শরতের সাদা মেঘকে ফুল তোলা রুমালের মত উড়ে যেতে দেখেছিলো কেউ কেউ দক্ষিণা পবনে। দেখাটা দৃষ্টি নির্ভর আর দর্শন উপলব্ধি নির্ভর। এই নির্ভরশীলতা কে আশ্রয় করে আমরা যে কোন ইলুশনের ভিতর নিজেকে বিস্তার করে নিতে পারি। জীবনকে একটা বনের ভিতর বাঘে খাওয়া হরিণের রক্তাক্ত হাড়ের মত দেখা যেতে পারে। জীবনকে ভাবা যেতে পারে একটা ভাবুক পাথর, যার গভীরে জমা হয়ে আছে সামুদ্রিক নোনা জল। জীবন কে আমি সেই দেবদারু বনের মতই দেখি। তার সাথে গল্প হয়, সে আমাকে বৃক্ষ-বিশ্বের উপমাহীন আখ্যান শোনায়। জীবনকে ভালো লেগে যেতে থাকে। তবে এই কি জীবনের পাঠোদ্ধার! না এই বনের আড়ালে বসে থাকা অন্ধকার চিতা বাঘের চোখ বহুদূর থেকে আমাকে অনুসরণ করে চলেছে গোপনে গোপনে। ফলে শুরু হয় 'আমি' সম্পর্কিত অস্তিত্বহীনতা। অস্তিত্ব আবিস্কারের শেষ নীরিক্ষা হয়তো আত্ম-হনন। কিন্তু তার পূর্বে! বহু ঘটনার জট পাকানো অস্তিত্ব নিয়েই উদাসীন হয়ে বহুপথ হেঁটে আসতে হয়। আর আমরা যদি এই সমস্ত উদাসীন দিন আর রাত্রির গল্প লিখে যেতে পারতাম তবে সেই গল্পের পাশে আহমাদ মোস্তফা কামালের গল্প গ্রন্থগুলো ম্লান হয়ে পরে থাকতো। এই গল্পগুলোর তাপমাত্রা থার্মোমিটারে ৯৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসের একটু বেশ নিচেই। ফলে রোগীর যদি মৃত্য ঘটে মহাকালে, তবে তা পুষ্টিহীনতাজনিত নিম্ন উষ্ণতার কারণে। জীবনের প্রতি তীব্র ঋণাত্মক বোধ উস্কে উস্কে জ্বালিয়ে তিনি লিখে ফেলেন তার গল্পগুলো। জীবনের উপর নির্লিপ্ত ঈশ্বরের চোখ ফেলে লেখককে লিখতে হয় পক্ষপাতহীন ভাবে, নতুবা সাজানো গোছানো সেটের বিপরীতে একজন ক্যামেরা-ম্যান আবিষ্কৃত হয়ে যায়।

আহমাদ মোস্তফা কামালের গল্প সব সময়ই একটা আখ্যানের ভিতর দিয়ে অগ্রসর হয়। তার গল্পের ভিতর একটা গল্পই থাকে। তিনি গল্প করতেই ভালোবাসেন। তবে তাঁর গল্পের চরিত্ররা যে পথে হাঁটেন তা বেশ নির্জন, চরিত্রের আশে পাশে কেউ থাকে না বললেই চলে। সে পথে কোন ফেরিওয়ালার চিৎকার কিংবা এই যান-সভ্যতার কোন হাইড্রোলিক হর্ণ বাজতে শোনা যায় না। তারা অত্মহত্যা ছাড়া আরও ভীষণ কিছু করতে অপ্রস্তুত। আর সে সব চরিত্রগুলো বেশ রক্ষণশীল ভাবেই ভাবতে প্রস্তুত। ফলে চরিত্রের পিছনের পটভূমি আঁকিয়ে তুলতে তিনি ব্যর্থ হন অনেক সময়। সাধারণ একটা এক-তরফা গতির ভিতর দিয়ে তাঁর গল্প অগ্রসর হতে থাকে।

দ্বিতীয় মানব, পরাজয় অথবা বন্ধুর দিনলিপি গল্পের চরিত্রগুলো সেচ্ছায মৃত্যু বরণ করে। করতেই পারে। কারণ কামাল (দ্বিতীয় মানব) হয়তোবা সিজোফেনিয়ার রোগী। কিন্তু মেয়েটি (পরাজয়) কিংবা আশীষ (বন্ধুর দিনলিপি), আমার মনে হয় শুধু মাত্র লেখকের পরিকল্পনাতেই মরে যায়। হাতে বন্দুক, ওপাশে চাঁদমারি। জীবনকে টার্গেট করে আত্মহননের গরম সীসা বৃষ্টির মত ছুটে আসতেই থাকে। মনে হয় তাদের মৃত্যু যেন অকারণ।
লেখক এক একটা চরিত্র গড়ে তোলেন, অথচ তাদের উপর সঠিক মাত্রায় আলো না ফেলায় তারা ঠিক রক্ত মাংশের মানুষ হয়ে ওঠে না। তারা তাদের কিছু অভিজ্ঞতার কথা বয়ান করে সরে পরে। ফলে পাঠক একটা নির্দিষ্ট গন্ডির ভিতর আটকা পরেন। বের হওয়ার আর কোন পথ খুঁজে পাওয়া যায় না। কোন গল্প বলার আগে যে পরিবেশ তৈরি করা দরকার তা তৈরি করতে ব্যর্থ হন আহমাদ মোস্তফা কামাল। পরিবেশ তৈরির সফলতার কারণে গল্প ছাড়াও ছোট-গল্প ঠিক দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

যে লোকটিকে আমি বরাবর মামা বলে জেনে এসেছি , তিনি আমাকে সবার্থে ‘মানুষ’ হিসাবে তৈরি করেছেন, তিনি এই অসীম প্রতিদান গ্রহণ করেছেন আমার মায়ের কাছ থেকে; মাকে বলাৎকার করে। [সম্পর্ক/ দ্বিতীয় মানুষ]

অসাধারণ একটা গল্প হয়ে উঠতে পারতে সম্পর্ক। কিন্তু চিত্রনাট্যের স্ক্রিপ্টের মত ভাগ করে অপ্রয়োজনীয় লেখক ভাষণ লেখার ক্ষতি করে বসলো। তাঁর টেকনিকই তাঁর গল্পে ধস নামায়। বর্ণনা বাচালতা পর্যায়ে উন্নীত হতে সময় লাগে না। এটা কি কোন গল্প হতে পারতো এই গল্পেও পাঠক তার বাচালতা বুঝে ফেলবে।

এখানে যে সিরিয়ালটি করা হয়েছে সেটি মোটামুটিভাবে আমারই কথা। কোথাও কোথও থার্ড ব্র্যাকেটে আমি মন্তব্য করছি আপনাদেও সুবিধার জন্য। আষীশের অধিকাংশ লেখাই অসমাপ্ত, অসম্ভব এক ক্লান্তি ওকে পেয়ে বসেছিলো। কিন্তু ওর চমৎকার লেখার হাত ছিলো বলেই—এগুলো বিরক্তি উৎপাদন করে না। প্রিয় পাঠক, আসুন এবার আমরা আষীশের অদ্ভুত স্বপ্ন ও কল্পনার জগতে প্রবেশ করি। [বন্ধুর দিনলিপি/ দ্বিতীয় মানুষ]

আরও কোথও কোথাও মিলতে পারে এরুপ গল্প বলার টেকনিক। তিনি সবই খণ্ড খণ্ড করে বলে দিতে চান। আলো- আঁধারির অধরা খেলায় আহমাদ মোস্তফা কামাল পারদর্শী নন। তিনি বেশ ভালো ভাবেই গল্প শুরু করেন। কিন্তু তার টেনশন বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেন না। অক্টোপাশ বেশ ভালোই শুরু হতে থাকে। কিন্তু বাবা মেয়ের ডায়লগ বেশ দুর্বল ঠেকতে থাকে।

আহমাদ মোস্তফা কামালের দ্বিতীয় গ্রন্থ আমরা (একটি গল্পের জন্য অপেক্ষা করছি) কে ঠিক আমি গল্প গ্রন্থ বলতে প্রস্তুত নই। একটা কাহিনীরই বিস্তার বলা যেতে পারে সবগুলো গল্পকে। ফলে তাতে একটু উপন্যাসের গন্ধ নাকে আসে।

তার মূল প্রবনতাই গল্প বলা। তাঁর গল্প ক্লিশে বর্ণনা-আক্রান্ত। গল্পের চরিত্রগুলোর ডায়লগ অধিকাংশই লেখকের ভয়েজে। চরিত্রগুলো বেশি কথা বলার সুযোগ পায় না। ফলে তাদের বৈশিষ্টের ভেরিয়েশন কমে যায়। অপেক্ষায় (অন্ধকাকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না বলে) পদ্মা পাড়ের ভাঙনের ছবি দূর থেকে দেখা সংবাদ-পত্রের নিউজের মত মনে হয়। চরিত্রগুলো ভাসাভাসা, লেখকই প্রবল ভাবে উপস্থিত পুরো গল্প জুড়ে। তিনিই গায়ক এবং বাদক। শুধু অপেক্ষা নয় তার প্রায় প্রতিটি গল্পেই একজন গল্প বক্তা থাকে। পাঠককে একটা নির্দিষ্ট ভূগোল পর্যটন না করিয়ে, তাদের সামনে নিয়ে আসেন ঐ ভূগোলের মানচিত্র। ঐ পরিবেশে ঢুকে প্রকৃত উপলব্ধির অর্জন করতে পাঠককে বেশ বেগ পেতে হয়।তবে কী তার লেখা অতলান্তে হারিয়ে যাবে ! লেখকই জানেন, কারণ লেখকই প্রথম ও শেষ পাঠক। আহমাদ মোস্তফা কামাল তার লেখাকেই না হয় একটু বাঁকা করে দেখুক; তবে হয়ত তিনি নিজেই ছাড়িয়ে যাবেন নিজের সীমানা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28786391 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28786391 2008-04-09 17:37:56
আমরা কি নতুন কোন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছি? বিডি নিউজ২৪.কম

তিনি যে আরও কত কিছু চাইবেন এবং করবেন তার একটু আভাস পাওয়া যাচ্ছে বৈ কি। একটা বিপুল এবং নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে দেশ কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারন টা বোধ হয় এই ‍" তোমরা সব ব্যর্থ।" সমস্ত দায়িত্ব আমরা তুলে নেই। সেই দিকেই কি আমরা যাচ্ছি? পরিবর্তন, রদ-বদল, পদত্যাগ এবং এক্সপায়ার ডেট বর্ধন এ সমস্ত দেখে যাচ্ছি আমরা। আর এর আগে পরে যুক্ত আছে নানা রকম কৌশল এবং ছলনা। আর এই দেশকে একটা চুড়ান্ত ব্যর্থতার মধ্যে নিয়ে যেতে পারলে এদেশের একটা অংশের বেশ লাভ হয়। এবং এই ''ব্যর্থতা প্রদর্শন'' নামক নাটকের এক অংশ আমরা দেখে ফেলেছি কিছুটা। কেননা হঠাৎ করে সব কিছুর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং এই সংকটের খবর আজকাল ফলাও করে মিডিয়ায় আসছে( যেখানে সার সংকটের কথা মিডিয়ায় আসতে দেওয়া হয় নি )। হঠাৎ মিডিয়াকে এই স্বাধীনতা দেওয়া হলো কেন? খাদ্যাভাবে লোকের মৃত্যু এরূপ সংবাদ আসার কথা না মিডিয়াতে এমন পরিস্থিতিতে। চারদিকের বিশৃঙ্খলা হঠাৎ আসা শুরু করছে মিডিয়া গুলোতে। এমন হবার কথা নয়। সরকার এতোটা স্বাধীনতা সংবাদপত্র গুলোকে দেবার কথা নয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের রিজার্ভে হাত না দেবার প্রসঙ্গ, গ্যাস সংকট, শিল্প কারখানায় সীমিত গ্যাস সরবারহ। নানা ফ্যাক্টর এক সাথে যুক্ত হচ্ছে। সেনাপতির ভারত ভ্রমন, চুক্তি, চাল আমদানি শুরু, আবার চাল আসা বন্ধ, আবার চুক্তি, আবার আসবে বোধ হয়। এরই মাঝে আলু কচু খাওয়ার পরামর্শ সেনাপ্রধান কর্তৃক। আর এর সাথে যুক্ত হলো ক্ষমা ভিক্ষা প্রার্থনার গান। এগুলো কোন শুভ লক্ষণ নয়। তাহলে কি জলপাই বীজ বপন ক্রিয়া শুরু হয়েছে, মাত্র বৃষ্টির অপেক্ষা, চারা গুলোর অঙ্কুরোদগম হতে আর যতটা সময় লাগে। এই সময় পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে বোধ হয়।

এই শাসক শ্রেণীর এই সমস্ত পরিকল্পনার গোপন অংশীদার হয় মিডিয়া। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এর সাথে সাথে এই সময়ের কিছু মিডিয়া এই সরকারের আনায়ন কাজটাকে সহজ সরল এবং অর্থবহুল করে তুলেছে জনগনের কাছে। নানা জনস্বার্থহীন কনসেপ্ট তৈরি করে এরা। বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা জনগনের রাজনীতির নামে রাতারাতি নানা আন্দোলন কর্মসূচি হাতে নেয়। এদের মূল্য লক্ষ্য থাকে ক্ষমতার হাত বদল। সেই হাত বদলের গোপন নকসায় মিডিয়া এবং উন্নয়ন সংস্থা অংশ গ্রহন করে। জন উন্নয়ন তাদের কথার বুলি। নোবেল বিজয়ীর রাজনীতিতে আগমন এবং পলায়ন এবং দেশের এই পরিস্থিতিতে নীরবতা তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশিত করে ফেলে। তারা কেমন উন্নয়নের প্রত্যাশা, জনসেবার আশা নিয়ে এখানে এসেছিলেন? মিডিয়া আবারও এক দানবের ভুমিকার দিকে এগুচ্ছে। আবার যদি সামরিক শাসন দেখতে হয় তবে একে সমর্থন দেবার পরোক্ষ ভুমিকায় তারা বোধ হয় চলে গেছে এতক্ষণ। জনমত তৈরির পায়তারা চলছে বোধ হয়। সেমনই মনে হচ্ছে। একসাথে সমস্ত ফ্যাক্টর গুলো একত্রিত করা হচ্ছে। দ্রব্য মূল্য, চাল সংকট, গ্যাস সংকট, মুদ্রা সংকট ; আমাদের এই সমস্ত অভাবকে এক করতে পারলেই অনেক কিছু রাতারাতি করে ফেলা সম্ভব। একসাথে এতো অভাব, একযোগে এত এত প্রকাশ তৈরি করা হচ্ছে নাতো? মিডিয়াকে এবং যা দেখছি তা মেনে নিতে ভয় হয়।

এর মানে কিন্তু এই নয় যে এদেশে কোন চাল সংকট নেই। আমরা চরম চরম অভাবে আছি। তবে এই সংকটকে পুঁজি করার একটা চেষ্টা চলতে পারে। এই পুঁজির ব্যবসার সাথে জড়িত হতে পারে মিডিয়া।

এদেশে সমস্ত নির্বাচিত সরকার একটা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বারবার নিরব থেকেছে তা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে। আর এই সামরিক মদদ পুষ্ট সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে। এই নিরবতার এবং অক্ষমতার কারন সরকারের জনপ্রিয়তার সঙ্গে, ভোটের সঙ্গে জড়িত। কেউই চায়নি তাদের ভোট কমুক। ফলে তারা এই বিষয় টাকে চাপা দিয়েই রেখেছে বরাবর। এবং এই সরকারও নিরব ছিলো এই বিষয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা তাদের জনপ্রিয়তার কথা ভেবে ডবল গেম খেলার একটা প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে অলরেডি। তারা প্রথমত এই বিষয়ে নিরবতা প্রদর্শন করেছে এবং শেষ পর্যন্ত এই দায়িত্ব নিবার্চিত সরকারের হাতে অর্পণ করে এক প্রকার দায় ভার লুকাতে চায়। এহেন পরিস্থিতিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের একটা আওয়াজ ওঠে বটে। তবে মনে হয় এটা সরকার সমর্থিত একটা অপ্রয়োজনীয় সভা হলো কদিন আগে। এটা তাদেরই পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। আর এর সাথে যুক্ত হলো আমাদের সেনাপতির প্রাণ ভিক্ষা প্রার্থনার করুণ সুর। তারা গাছ এবং তলা উভয়েই আছেন এখন দেখছি।

এমন পরিস্থিতিতে মাত্র একজন মুক্তিযোদ্ধা, হত্যাকারীর জন্য প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার কারনটাকি এক প্রকার ব্যালান্স করা নয়? জনদৃষ্টি স্থাপন যে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আছি। এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে বেশ হৈ চৈ ওঠে যা মূলত লোক দেখানো। এক অর্থে এগুলোতো যে কাজ হবে না তা বোঝা যায়। গভীরতর সমস্যার দিক থেকে জনগনের চোখ ফিরিয়ে আনার জন্য এসমস্ত করা হয় সম্ভবত। জনগনের দৃষ্টিটা সরানোর জন্য তারা নানা পায়তারা এবং নানা ইস্যু তৈরি করে। কেনই বা এই নব নাট্য মঞ্চ সৃষ্টি করা?

জামাত যেহেতু সরাসরি যুদ্ধ অপরাধের সাথে সম্পর্কিত এবং তারা এই সরকারের আমলে বেশ ভালোই আছে। তথা তাদের কে ভালোই রাখা হয়েছে। তখন যাতে সরকার কর্তৃক জামাত ভালো রাখা কর্মকাণ্ড প্রশ্ন বিদ্ধ হতে না পারে সে জন্য আমাদের সরকার পুষ্ট সুনাগরিকরা সরকারের গোপন ইশারায় ' যুদ্ধ অপরাধ' বিষয়টাকে বেশ সামনে নিয়ে আসে। কিন্তু আসলে বাস্তব চিত্র কি? জামাত বেশ ভালোই থাকে বারবার। কেননা এদের একটা ধর্মের দোহাই আছে, এবং তারা ধর্মের ষাড়ের মত বেশ ভালো চরে বরে খাচ্ছে। এবং মাঝখান দিয়ে এই সমস্ত আন্দোলনের নাটক করে, জনগনের মন রক্ষা করে, বেশ একটা জনপ্রিয়তা নিয়ে জামাতকে ভালো রাখতে পারলো সরকার। আর বাকি যারা আওয়াজ তুলেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তাদের কেও দেখিয়ে দেওয়া গেলো , ভাই আমরা তোমাদের সাথেই আছি।

এটাই এই সরকারের সফলতা নানা বিরোধী মত কে তারা নানা কৌশলে জায়েজ করে ফেললো। ফলে যারা উপর উপর দেখতে ভালোবাসে সব তারা পেলো এক মহা উপকারী বন্ধু সরকার। আর সেনাপতির এজাতীয় বক্তব্য আরও পরিস্কার করে দিলো এই বিষয়গুলো।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28785977 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28785977 2008-04-08 00:51:25
কায়মাসুদ
পৃথিবী-গ্রহ। সূর্য-নক্ষত্র। ছায়াপথ-গ্যালাক্সি।
অঙ্কহীন গ্যালাক্সিগতির বিন্যাস।
ঘোড়ার ইলাস্টিক জিনগদির মতো এই বিশ্ব-
এই এতো যে গ্রহ উপগ্রহ নীহারিকা সুপারনোভা-
মাসুদ খান সত্তা নিয়ে অন্য দ্বিতীয় কোন কবিপ্রাণী নেই।
থাকছেন না। যদিও বা কোথাও জায়মান হতে যায়,
অমনি শুরু হয় সংকটের। অবশেষে টিকতে পারে না।

কিন্তু আড়ালের ঘটনা এই যে,
ঋণাত্মক বিশ্বে প্রতিমাসুদ থাকেন
ফ্লেকজিবল পাইপের মতো গলা।
আমার বিপরীতে কবিতা লিখে যাচ্ছে।
স্রোত/ পাখিতীর্থদিনে

মাসুদ খানের অন্যান্য অসাধারণ কবিতাগুলো আমি অনেক পরে আবিস্কার করতে শুরু করি। আমার পাঠ স্মৃতিতে তিনি প্রবেশ করেছেন তার 'আতাফল' নিয়ে। অর্থাৎ দ্বিতীয় গ্রন্থ দিয়েই তাকে চিনতে শুরু করি। প্রথম গ্রন্থ তখনও আমার হাতে পৌচ্ছায়নি।

মন মরালের পালক গজাতে একটু সময় লেগেছে। পাথর যেভাবে সমুদ্র ঢেউ-এ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়, সেই ভাবে মাসুদ খানের প্রতি আমার আতাফল-জ্ঞান ভাঙতে শুরু করে। নব নব উন্মোচন নিয়ে তার নানা কবিতা আমার স্মৃতি আর বিস্মৃতির ভেতর তীর্থে তবু ফেলতে থাকে। নিজেকে এই আত্ম-ভাঙনে পৌঁছে দিতে আমাকে সমুদ্র জলে নেমে অপেক্ষা করতে হয়েছে নিদারুণ নির্লিপ্ততা নিয়ে; তার পর এক ক্ষরণ কাল, মুগ্ধতা এর অবশেষ। আমার কবিতার তরল জ্ঞানে মিশে যেতে থাকে মাসুদ খানের আরও আরও কবিতা। পুনঃপাঠে মূলত আবিস্কৃত হয় প্রতিমাসুদ। 'অমনি শুরু হয় সংকটের। অবশেষে টিকতে পারে না।'

২.
বস্তু পৃথিবীকে আমরা কিভাবে আমাদেও স্মৃতিতে সংরক্ষণ করি? আমাদের যতদূর চোখ যায়, আমার ভেতরের না-ভুবন, বাইরের জগৎ, ব্যাপ্ত জমিনের বিস্তার এক নৈঃশব্দের অন্ধকার কোনে না ঘুমিয়ে শুয়ে থাকে। আর স্মৃতি হলো ঘুমের ভান, যে কোন মুহূর্তে সে সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে, ভেতরের জগৎ কে সে আছড়ে বাইরে নিয়ে আসতে পারে যে কোন সময়। অদৃশ্য ইথারে যে কোন সময় সৃষ্ট হতে পারে এক বিশাল ভূগোল; মন এভাবেই তার ভেতরের অপরিচিত কোডকে রূপান্তরিত করে ভূগোলের ভাষায়। আর এই নব সৃষ্ট ভূগোল, ঘটনা বিশ্ব পুনঃরায় দেহের ভেতর ঢুকে যেতে থাকে। স্মৃতির পরে স্মৃতি জমে। বাইরের পৃথিবী আর ভেতরের অদেখা এক পৃথিবী নিয়ে আমরা চলতে থাকি, ফিরতে থাকি এদিক ওদিক এথায় সেথায়। ফলে আমাদেও 'অনুভব' হলো বন্তু পৃথিবী আর জৈব অন্ধকারের সংঘর্ষজাত উপলব্ধি। অনুভব থেকে যখন সমস্তের অপনারণ শুরু হয়, রূপ-রস-গন্ধ-অস্তিত্ত্ব হারিয়ে যেতে থাকে নিশ্চেতনার ভেতর, তখনই জন্ম হয় বোধের। বোধের ভেতর বস্তু পৃথিবীর অন্তর্গমন একমুখী। বোধীর সীমানায় আমাদের হাসি কান্না দুঃখের গল্প নিরর্থক। দুঃখ আর সুখ, শেষ পর্যন্ত জীবনও সেখানে মাত্র ডেকোরেটিভ, আমাদের ঘরে সাজানো মুখোশের মত। ফলে বোধের দিকে এই জীবন নামক হতাশা হেঁটে যেতে পারে না। সে এক নিশ্চল নিশ্চেতনা, আমরা সেখানে পাথরের মূর্তি। তবে বোধের থেকে বস্তু পৃথিবীর যে বহির্গমর, তা শতমুখী বিক্ষেপী। পাথরের মূর্তি এর ভেতর থেকে গুড়ো গুড়ো হয়ে বের হয়ে উড়ে যায় বাতাসে বাতাসে। এই গুড়ো পাথরের ধূলোয় চরিত হয় এক মূর্ত অবয়ব। কিছুটা তাকে বোঝা যায়, কিছুটা তাকে বোঝা না-যায়।
ফলে তখন বোধ কে জ্ঞান অনুভব করে এই বিধ্বংসী খেলার মাঠে। সদা রূপান্তর আর অপসৃয়মানতার খেলা চলে মনের গভীরে, মনের বাইরে। বন্তু স্থান কাল দ্বারা নির্ণীত হলেও বোধ উদ্ভুত দৃশ্য আর বিরোধ-দৃশ্য নিজের ভেতর নিজেই ঘনীভূত হতে থাকে। সোজা কথা, বোধ সময়যুক্ত, তবে স্থানহীন। আর স্থানহীন এই পৃথিবীর সংকেতময়তাই এক অর্থে কবিতা।

৩.

মাসুদ খানের কবিতা একের পর এক দৃশ্য পৃথিবীর বন্তু অধিগ্রহন করেছে। নানা জড় বস্তু তার কবিতা ভরে ওঠে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে এটা এক ভাঙাচোরা গুদাম ঘর, এর পাশেই কোন বয়স্ক বিজ্ঞানীর ল্যাবরোটারি, ল্যাবরোটারির দেয়ালে ঝোলানো আছে মৌল কথার পর্যায় সারনী, তার পাশেই লেখা আছে কনা গুলোর রং বর্ণ গন্ধ, প্রাণী বিজ্ঞানের জাদুঘর, সেখানে কাচের বোয়ামে ফর্মালিনবন্দি নানা প্রানীর মৃত দেহ বা হাড় কঙ্কাল। এই ভূগোলের পাখি বা প্রজাপতি, নদী বা চাঁদ, বৃষ্টি বা আকাশ, ভোর বা দুপুর, মানুষ বা ক্লাউন, বাঘ বা আপেল, মৌমাছি বা আপেল এদের যে নিজস্ব রং আর গন্ধ তা যেনো নেই। এদের দেহের আকৃতি বা এই সমস্ত বস্তু কেন্দ্রিক আমাদের চোখের পরিমিতি ঠিক রেখে এর উপর লাগানো হয়েছে অভিনব এক পালিশ। এই পালিশের রং মাসুদ খানের মগজের, এই পালিশের তারপিন তেলের গন্ধ মাসুদ খানের হৃদয়ের অভিনবত্বের। এটাই কি তার অর্জিত সাফল্য?

আামদের কবিতা অভ্যাসের ঝোঁক বহুদিন হলো প্রকৃতি নির্ভর। ফলে মাসুদ খানের সিনথেটিক দুনিয়া আমাদের অভ্যস্থতায় আঘাত করে। তাকে চিনে নিতে বুঝে নিতে সময় লাগে বৈ কি। প্রবলভাবে উপস্থিত এই নব নির্মিত সিনথেটিক বিশ্ব আমাদের কবিতায় প্রথম বলে মনে হয়। একে বলা যেতে পারে 'জড় সাধনা' -- যা নব, এবং মাসুদ খান স্বনির্মিত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28785221 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28785221 2008-04-04 16:45:21
হেমিংওয়ে, তোমার চিঠি এসেছে টু ডে ইজ ফ্রাইডে ১৯২৬ সালে লেখা শেষ হয়। এটা একটা একাঙ্কিকার নাটক। মাত্র তিনটা চরিত্র আছে এখানে। কাহিনীটা এমন যে তিনজন রোমার সৈনিক একটা সুরিখানায় প্রায়ই একসাথে বসে। তারা তাদের দেখা ক্রুসবিদ্ধ হবার কাহিনী নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলে। এর মধ্যে সেই বিকেলে যিশু খৃষ্ট্রকে কুশবিদ্ধ হবার কাহিনীও চলে আসে, যা তারা খুব কাছ থেকে দেখেছিলো পেশাগত কারণে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনজনের তিন রকম প্রতিক্রিয়া। প্রথম সৈনিক যিশুর অহিংস্রতাকে খুব সন্মানের চোখে দেখেন। তার কথায় বোঝা যায়, '' সে দিন তাকে আনন্দিত উজ্জ্বল দেখাচ্ছিলো।'' এই কথাগুলো যেনো হেমিংওয়ের নিজের কথা। আর একজন সৈনিক নানা রকম প্রশ্ন করে যাচ্ছিলো ঐ বিষয়ে আর এই ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি করছিলো। তৃতীয় সৈনিক তার ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলেছিলো, '' আমার মধ্যে তেমন কোন দুঃখ কাজ করেনি। শুধু মনে হয়েছে যেনো নরকে বসে আছি।''

তার অপর নাটকটি হলো দ্য ফিফথ কলাম। এটা ১৯৩৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মিন্ট থিয়েটার কোম্পানি ম্যানহাটনে প্রথম এই নাটকটি মঞ্চস্থ করে। ১৯৩৬ এ স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। তখন নর্থ আমেরিকান নিউজপেপার এলিয়েন্স, এর যুদ্ধ বিষযক সাংবাদিক হিসাবে হেমিংওয়কে নিয়োগ দেয়। ফ্রাঙ্কো একবার মাদ্রিদের জনগনের জন্য চার কলামের একটা উপদেশ বাণী পাঠ করেছিলো আর পাঁচ নম্বর কলাম পাঠ করেছিলেন লয়ালিস্ট পার্টির গোপন সদস্যদের উদ্দেশ্যে যারা এই শহরেই ছিলো। দ্য ফিফথ কলাম ফ্রাঙ্কোকে করুণা করার জন্য তিনি এটা লেখেননি। তিনি একজন সাংবাদিক হিসাবেই এটা লিখেছিলেন, যদিও তিনি ছিলেন রিপাবলিকারদের গোপন সমর্থক। তিনি অন্যান্য সাংবাদিকদের সাথে হোটেল ফ্লোরিডায় ছিলেন।

মাত্র কদিন আগে একটা অপ্রকাশিত চিঠি উদ্ধার হয়েছে। সেখানে তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর হাবার্ট ম্যাথুউ, ইউনাইট্রেড প্রেস-এর হেনরি টি. গেরেলের কাছে ব্যাখ্যা করছেন, ''ডেইলি এক্সপ্রেস-এর সেফটন দেলমার, কোলিয়ারস-এর মার্থা গেলহর্ণ, ভার্র্জিনিয়া কাউলেস, তারপর হেয়াস্ট যে এখন লন্ডন টাইম-এর জন্য কাজ করে, জরিস আইভেন যিনি '' স্পানিশ আর্থ'' বানিয়েছেন, জনি ফর্নো যিনি এর ছবি তুলেছেন, আমেরিকান উইকলিস-এর জোসেফিন হাবস্ট এবং মানবাধিকার সংস্থার নানা কর্মী, সিডনি ফ্রাঙ্কলিংক যে আমার হয়ে কাজ করে, সমস্ত বিভন্ন দেশের উর্ধ্বসেনা কর্মকর্তা, মহান সব নেতা কারা ছিলো না সেদিন সন্ধ্যায় হোটেল ফ্লোরিডা-য়।''

দ্য ফিফথ কলাম এর ভূমিকায় লিখেছেন ''হোটেলটিতে কয়েকবার বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।'' এর সাথে সাথে লিখেছেন, '' তাই যদি মনে করা হয় যে নাটকটির মধ্যে আসলেই কিছু নেই তাতে তেমন কিছু আসে যায় না। আর যদি এটা ভালো মনে হয় তবে সম্ভবত ত্রিশটি বোমা এটা লিখতে সাহায্য করেছে আমাকে।''

সেই চিঠিতে তিনি আরও খেলাসা ভাবে কথা বলেছেন: ''১৯৩৭ এর শেষের দিকে যখন আমি পুরোদমে নাটকটি লিখছি তখন হোটেলের টপ ফ্লোরে একটা জনপ্রাণীও ছিলো না। কেউ যদি নিতান্ত পাগল হয় তবে টপ ফ্লোরে যাবে বোমার আঘাতে মরার জন্য। কিন্তু দুটো রুম যেখানে আমরা থাকতাম তাকে সেনাবাহিনীর লোকেরা ডেথ এঙ্গেল বলে ডাকতো। হোটেলের যে কোন অংশ আক্রান্ত হতে পারতো এবং হয়েছেও তাই। যতক্ষণ না গ্যারবিতান পাহাড় থেকে বিদ্যুৎ উৎস সরিয়ে না নেওয়া হচ্ছে, যতক্ষণ না কামানগুলোর মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ ১১২ আর ১১৩ নম্বর রুম আক্রান্ত হবার কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ এর চারপাশে তিনটা আলাদা বাড়ি ছিলো আর রাস্তার ওপাশেও একই ভাবে বাড়ি ছিলো যা এই রুম দুটিকে ঘিরে রেখেছে।''

''হোটেলের অন্যান্য অংশ বাইশটা ভারী বোমার আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর আমার কাছে সব পরিস্কার হয়ে গেলো। হোটেলের যে অংশে বোমার আঘাত কম পড়ার কথা সেখানে থাকাই বেশি শ্রেয় বলে মনে হয় আমার কাছে, কারণ তুমি জানো কোথায় কোথায় বোমাটি বিস্ফোরিত হতে পারে। এর থেকে বরং অন্য হোটেলেই যাওয়া ভালো যেখানে তোমারকে খুঁজে পাবার কোন সম্ভাবনা নেই বা ছাদে বোম পড়ার কোন ভয় নেই।''

'' হ্যাঁ আমার বেশ আত্মবিশ্বাস ছিলো হোটেল ফ্লোরিডায় থাকার সময়। তখন ফ্রাঙ্কো মাদ্রিদে প্রবেশ করেছে। ১১২ আর ১১৩ নম্বও রুম এখনও অক্ষত অবস্থায় আছে। এটা ভাবনার অতীত।''

মিন্ট থিয়েটার কোম্পানি কোন নাটকের উদ্বোধনী নিয়ে জমকালো আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান করে না। কিন্তু দ্য ফিফথ কলাম এর প্রিমিয়াম অনুষ্ঠান বেশ ভালো ভাবেই পালন করা হয়েছে। কোম্পানির শিল্প নিদের্শক জনাথান ব্যাঙ্ক সাম্প্রতিক বলেছেন, '' এটা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ভাবে বলতে গেলে বলা যায় যে, সেবারই প্রথম হেমিংওয়ের নাটক পেশাগত দতার সাথে আমেরিকায় মঞ্চস্থ করা হয়।'' তিনি ব্যাখ্যা করেন, '' এর একটা ত্রুটিপুর্ণ মঞ্চায়ন হতে পারতো। সেভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৬৩ সালো এটা একবার প্রদর্শিত হয়েছে। মিখায়েল পায়েলের বায়োগ্রাফিতে আমি এটা দেখেছি। আমি এও জানি চল্লিশের দশকে তিনিই স্কটল্যান্ডের মঞ্চে এটা পরিচালনা করেছেন।''

হলিউডের বেঞ্জামিন গ্লেজার যিনি এ ফেয়ারঅয়েল টু আর্ম এর চিত্রনাট্য লেখার জন্য বিখ্যাত তিনি হেমিংওয়ের দ্য ফিফথ কলাম এর নানা পরিবর্তন সাধন করে 'এডপটেশন' আকারে এর একটা ভিন্ন মাত্র দেন। এখন পর্যন্ত সেটাই প্রদর্শিত হয়ে আসছে কোন রূপ পরিবর্তিত না হয়ে। দ্য ফিফথ কলাম লেখার পর থেকে তা নানা করণেই প্রদর্শিত হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত থিয়েটার গ্রিল্ড ১৯৩৯ এর পর স্পানিশ গৃহযুদ্ধ শেষ হবার পর 'ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের আপোষহীন ক্রুসেড' হিসাবে এ নাটকটির সব দায় দায়িত্ব নিয়ে নেয়। ১৯৪০ সাল থেকে বেঞ্জামিন কর্তৃক পরিবর্তিত দ্য ফিফথ কলাম নিয়মিত প্রদর্শিত হয়ে আসছে। তবে এই পরিবর্তন নিয়ে হেমিংওয়ের তেমন কোন মাথা ব্যথা ছিলো না, কেনান তিনি তখন তার স্পানিশ যুদ্ধ সম্পর্কিত বিখ্যাত উপন্যাস ফর হুম দ্য বেল টলস লিখে চলেছেন। এমনকি কখনও তিনি এটা দেখতে পর্যন্ত যাননি। জনাথান ব্যাঙ্কের মতে, ''এটা বলা যায় যে ঐ নাটকের আশি পার্সেন্টই গ্লেজার পরিবর্তন করেছেন, মাত্র দশ পার্সেন্ট কন্টেক্স ছিলো হেমিংওয়ের। এরা পুরোটাই পুনঃনির্মিত করেছেন গ্লেজার। ভালোই এবং ভয়ংকরও এটা। ''

হেমিংওয়ের দ্য ফিফথ কলাম এণ্ড দ্য ফার্স্ট ফোরটিনাইন স্টোরিস ১৯৩৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। ফিলিপ রোলিং নামে একটা কেন্দ্রিয় চরিত্র ছিলো, তিন তাদের সহকর্মী আর কম্যুনিস্টদের 'কমরেড' নামে ডাকতো। গ্লেজার কর্তৃক পুনঃনির্মিত দ্য ফিফথ কলাম এ এই চরিত্রগুলো পুরোপুরি অনুপস্থিত। ব্যাঙ্কের মতে এই পরিবর্তন সম্ভবত ১৯৪০ সালে থিয়েটার গিল্ড করেছে শুধু মাত্র কিছু রাজনৈতিক কারণে। হেমিংওয়ে যা আবিস্কার করেছিলেন, যা ভেবেছিলেন সে সমস্তের ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে গ্লেজারের নিমার্ণে।

গ্লেজার বেশ কয়েকটি সফল চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। তার এ ফেয়ারঅয়েল টু আর্ম খুবই বিখ্যাত একটি চিত্রনাট্য যা হলিউডে বেশ সাড়া ফেলেছিলো। বেঞ্জামিন গ্লেজার আবার ছিলেন হেমিংওয়ের আইন উপদেষ্টা মরিস প্রেইচারের শ্যালক। কথা ছিলো যে মরিসই এই চিত্রনাট্য লেখার বিষয়ে গ্লেজারকে সাহায্য করবেন। গ্লেজারের মতে, দ্য ফিফথ কলাম নাটকে একটা নাটকীয় বিদ্যুৎ স্ফুলিঙ্গের দরকার ছিলো। এর জন্য এটা পুনঃরায় লেখার প্রয়োজন ছিলো। এক্ষেত্রে হেমিংওয়ে পাবেন ৫০ পার্সেন্ট রয়ালিটি। আর এই পুনঃলিখার যদি হেমিংওয়ের পছন্দ হয় তবে এটা তার নামে প্রচারিত হবে। না হলে এটা কে বলা হবে 'এডাপটেশন'।

ব্যাঙ্কের মতে, ''কিছু কিছু বিষয় দেখে আমার মনে হয় যে, হেমিংওয়ে মনে করতেন লিখিত নাটক আর তার মঞ্চায়ন আর উপন্যাস থেকে সিনেমা করা এদুটোর মধ্যে সাদৃশ্য আছে। এটা তার পক্ষে কখনওই বলা সম্ভব হয়নি যে আসলে এটা কিছুই হয়নি।''

গ্লেজার এই নাটকের কী বেশি অপছন্দ করেছিলো। এটা বোধ হয় এখন বোঝা যায়। একটা নারী চরিত্র, ডরোথি ব্রিগ্রেজ যিনি মারর্থা গেলহর্ণের আদলে গড়ে উঠেছে। সে ছিলো হেমিংওয়ের উপপত্মী, পরে অবশ্য সে তার তৃতীয় স্ত্রী। ডরোথিরও গেলহর্ণের মত একটা ঐতিহাসিক প্রেম কাহিনী আছে, প্রথমত সে একজন বিবাহিত লোকের সাথে অপরাধহীনের মত প্রেম করতে থাকে এবং এরপর রোলিং-এর সাথেও একই ভাবে।

গ্লেজার এই জাতীয় বহুগামী একটা নারী চরিত্রে পরিবর্তন করলো। ফলে সে শেলের আঘাতে বিক্ষত রোলিং দ্বারা কাহিনীর শুরুতেই তাকে ধর্ষণ করালো। ফলে স্বভাবতই তার প্রতি একটা স্বর্তস্ফূত করুণার ছায়া ফেলা গেলো প্রথমেই।

''আমার মনে হয় গ্লেজার ব্যর্থ হয়েছিলো এমন একটা দারুণ এবং জটিল চরিত্রের উপর আলো ফেলতে।'' ব্যাঙ্ক এমনই মনে করেন। তিনি আরও বলেছিলেন যে, ''কয়েকজন মানুষকে একটা বোম আক্রান্ত হোটেলের মধ্যে বন্দি করে একটা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিলো। কোন সাধারণ অবস্থায় এটা ঘটা সম্ভব নয়। হেমিংওয়ে পরে লিখেছেন তারা পরস্পরকে ধর্ষণ করা শুরু করলো।''

হেমিংওয়ের লেখা সাত পৃষ্ঠার একটা চিঠি ব্যাঙ্ক আবিস্কার করেছেন ইয়েলের ব্রেইনেক লাইব্রেরীতে। এটা খুঁজে পাওয়া গেছে বেশ পরে; যখন থিয়েটার গিল্ড'এর যা পাবার তা তারা পেয়ে গেছে।

হেমিংওয়ের ইচ্ছা ছিলো চিঠিটা নিউ ইর্য়ক টাইমস-এ ছাপা হোক। কিন্তু তার প্রায় সত্তর বছর পর তা ছাপা হলো তাও আবার কিছু অংশ বাদ দিয়ে।

খাবার ছিলো খুবই বাজে এবং অপর্যাপ্ত। ফলে আমরা আমাদের ঘরেই রান্না করতাম। সেসময় সিডনি ফ্যাঙ্কলিন সকালের নাস্তা তৈরি করতো। আর সে সময় কেউ যদি খাদ্যসহ আমাদের আড্ডায় এসে উপস্থিত হতো তবে তাকে স্বাগত জানানো হতো। নতুবা তাদের মাত্র একবেলা খেতে দেওয়া হতো। কিন্তু পরের বেলায় তাদেরকে একপ্রকার অপমান করেই তাড়িয়ে দিতো সিডনি।

সিডনির রাগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে সেদিনই পৌচ্ছায় যেদিন মিস গেলহর্ণ তার নিজের ঘরে রাখার জন্য কয়েক কৌটা কমললেবুর জ্যাম চায়। কারণ সে আর মেসে সকালের নাস্ত করতে পারছিলোনা কারণ সেগুলো ছিলো মুখে তোলার অযোগ্য।

সেই সময় হেমিংওয়েকে পোপ নামে ডাকা হতো। এবং নর্থ আমেরিকান নিউজপেপার এলিয়েন্স-এর জন হুইলার ছিলো তার বস্। তিনি হেমিংওয়ের এক কথায় যে প্রচুর ডলার দিতে প্রস্তুত ছিলো। সেখানে আর বাকিদের কাকে কত দেওয়া হলো সে বিষয়ে তিনি খুব বেশি উদাসীন ছিলেন।

''এই মেয়ে নিজেকে কি ভাবে?'' সিডনি এই কথা জিজ্ঞেস করেছিলো আমাদের সকলকে। '' আমি বাজি ধরে বলতে পারি পোপ একদিনে যত কাজ করে এই মেয়ে তার এক কানাও করতে পারবে না এক মাসে। পোপ যদি খুব স্তির চিত্তের হতো।'' খুব কাতর কণ্ঠে এই কথা বলেছিলো সিডনি। সে সময় সিডনি আমার মাত্র দশ পার্সেন্ট পেতো। তবে আমার কোন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতাম না । সিডনি আমার মহান এবং পুরনো বন্ধু। সে ছিলো বুল ফাইটার। এবং সে জানে টাকার জন্য মৃত্যুর সন্মুখে নিজেকে কতটা উন্মুক্ত করতে হয়।

হেমিংওয়ে একটা বোমা হামলার বর্ণণা করেছেন এভাবে:

সব দৃশ্যের হয়তো বর্ণণা হয় না। যেদিন প্রথম হোটেল ফ্লোরিডার উপর বোমা হামলা হলো সেটা হয়তো চলচ্চিত্রে দেখানোর মত একটা ভালো দৃশ্য। যখন দিনের বেলায় বোমা হামলা শুরু হলো, প্রথম বোমাটা হোটেল বিল্ডিং এর কাছে এসে পড়লো তখন সমস্ত হোটেলে গোছ গাছ শুরু হয়ে গেলো। ( সেদিন সাতটারও বেশি বোম পড়েছিলো আর এগারোশ রাউন্ড গুলি ফুটেছিলো শহরে।) ছোট ছোট দলে লোকজন চলে যাচ্ছিলো রুম ছেড়ে। দম্পতিরা তাদের পিঠের উপর রাতে শোবার জন্য তোষক বেঁধে হোটেলের বিভিন্ন তলা থেকে দিশেহার অবস্থায় নেমে আসছিলো। ধ্বংস স্তুপ আর ধুলোর মেঘের মধ্যে অ্যান্টেনিও ডি সেন্ট এক্সোপেরীতে হলুদ গ্রেপফ্রুটস বিক্রি হচ্ছিলো। বোম আক্রমনের প্রথম দিন ভ্যালেসিয়ার কাছ থেকে সে দু বুসেল এই ফল কিনেছিলো।

ধ্বংস। চারপাশে শুধু ধুলো আর ধুলো। মানুষ তোষকের নিচে ঘুমাচ্ছে। মেয়েদের চিৎকার অপ্রত্যাশিত ভাবে ঘুম ভাঙিয়ে দিচ্ছে ভোর হবার আগেই।

ধ্বংস। চারপাশে শুধু ধুলো আর ধুলো। বারুদের তীব্র গন্ধ। স্ফুলিঙ্গের শলাকা নেমে আসছে যেনো আকাশ থেকে। মেয়েরা ভাবতেই পারেনি শুয়ে তারা এমন অনন্ত বাস্তবতার মুখোমুখি হবে যতক্ষণ না তারা গভীর কোন চিন্তার ভেতর নিজেদের হারিয়ে ফেলছে।

এই ঘটনাকে একটা নাটকে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া আর পদ্ধতির কিছু বর্ণণা করেছেন হেমিংওয়ে চিঠির শেষ অংশে :

এই নাটকটি সম্পর্কে বলা যায়: কোন স্থান সম্পর্কে বর্ণণা না করে মাত্র সংলাপ লিখে যাওয়া বেশ উত্তেজনাকর এবং আনন্দোদায়ক। তুমি বলতে পারো জায়গাটা এমন। উপন্যাসের মত তোমাকে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণণা করার দরকার নেই এ ক্ষেত্রে। পাঠকরা হেঁটে বেড়াবে এবং এতেই বিশ্বাস করবে। একজন সেট ডিজাইনার তার জ্ঞান থেকে এই কাজটি অতি সহজেই করতে পারে।

আমি সংলাপ টাইপরাইটারের বদলে পেন্সিল দিয়ে লেখেছিলাম কেননা টাইপরাইটার থেকে আমার পেন্সিল দ্রুত চলে। কিন্তু আমি যখন দেশ বানাই, নগর গড়ি বা নদীর জন্ম দেই কোন উপন্যাসে তখন খুব ধীরে ধীরে লিখতে থাকি। কেননা সেখানে এদের কে প্রতিনিয়ত আমার গড়ে তুলতে হয়। তানা হলে এরা জীবন্ত হয়ে উঠবে না। কেউই খুব দ্রুততার সাথে বা খুব সহজেই খুব ভালো কিছু সৃজন করতে পারে না।

একটা নাটক তৈরি হয় এটা লেখার পর। অন্য লোকের মহান সৃষ্টি তুমি তখনই বুঝবে যখন তুমি লিখতে আসবে। আমি এখন এক বছর এক মাস যাবৎ খুব ধীরে ধীরে একটা উপন্যাস লিখছি। এক্ষেত্রে আমাকে কেউ সাহায্য করতে পারে না। কিন্তু একটা সফল নাটকের কৃতিত্ব নির্ভর করে মঞ্চ, পরিচালক আর অভিনেতাদের কঠোর পরিশ্রমের উপর। আমার কাছে বেশ মজার বিষয়টা। বেশ, একবারের জন্য হলেও নাটক লেখা, এমন আদান প্রদান মন্দ নয়।

একটা সৌভাগ্যের বিষয় যে আমাকে মার্চ ১৯৩৭ থেকে মে ১৯৩৮ পর্যন্ত হোটেল ফ্লোরিডার একটা কক্ষে থাকতে হয়েছিলো। সে সময় হোটেল ফ্লোরিডার কক্ষে বসে আমি এমন অনেক কিছু শিখেছিলাম যা তুমি পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকেই শিখে নিতে পারো। আমি আমার সমস্ত সময় হোটেলের কামরায় কাটাইনি। কিন্তু যতবারই আমি এই কক্ষে ফিরে এসেছি ততবারই নতুন কিছু না কিছু শিখেছি। বোমবর্ষণ আর তার পরবর্তী মুহূর্তুগুলো, জীবনের যে কোন জিনিস নিয়েই রসিকতা করার মত ক্ষমতা আমাকে দিয়েছে।

মূল: চালর্স ম্যাকগ্যাথ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28784291 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28784291 2008-04-01 01:02:23
কেন সে দূরে বসে আছে, আমাদের কবিতার বাইরে? প্রথম ভাবনা, দ্বিতীয় প্রস্তাবনা
১.
এক চোরা পথের নাম কবিতা। কিংবা কবিতা এক জাদুকর সৃষ্ট এমন এক পথ যে পথে পথিক হারিয়ে যায় ক্ষণিকের তরে, তবে ফিরে এসে তার ভিতর সেই অদ্ভুত পথের কিছু স্মৃতি থেকেই যায়; যদিও শেষ পর্যন্ত সেই পথ পৃথিবীর কোন খানেই নেই; থাকে না। কবিতা উপলব্ধি প্রত্যাশা ছাড়া আর কিছু নয়। এই পথে যা কিছু এসে গোপনে প্রবেশ করে, তা কবিতায় খুঁজে পেতে হলে পাঠকের বেশ ঋদ্ধ অনুসন্ধানের দিকে চলে যেতে হয়, এবং তা প্রয়োজন। কেননা কবিতা একই সাথে ধারণ করে সমাজ, দর্শন, ভূগোল, প্রেম অপ্রেম, উষ্ণতা, মানব মগজের অন্ধকার, প্রগতির উচ্ছ্বাসা, সজ্জা, সামঞ্জস্যতা, অনুপাত, হারমোনি বা এর ঠিক উল্টেটাও সে বহন করে আপন রক্তের লসিকায়। ফলে কবিতাকে দেখতে হয় সামগ্রিকতা দিয়ে। পুরো বিশ্বের সমান দুটো চোখে আর ব্রহ্মাণ্ডের মত একটা মগজ নিয়ে তার দিকে এগিয়ে যেতে হয় পাঠককে। কবিতার বিচার আচার পাঠক জ্ঞানের উপর সীমাবদ্ধ। এবং একই ভাবে কবিতার উপস্থাপন কবি-দক্ষতার উপর সমানুপাতিক ভাবে নির্ভরশীল। একারণে কবি এবং পাঠকের আদান প্রদান বেশ কঠিন এক মস্তিষ্ক রসায়ন, কোন কোন অর্থে ব্যর্থও বটে। কবিতার বর্ণিল উপাদান, এর রং ঢং, সজীবতা যেমন ধারন করতে হয় কবিতা পাঠককে তেমনি এই রং তামাশার আলকেমি কবিকেও বেশ আয়ত্বে নিয়ে আসতে হয়। আজকের কবিতা দ্বিমুখী এক সীমান্তে দাড়ানো। আদান প্রদানের দরজায় সে দাঁড়ানো। কবি দক্ষতার সাথে পাঠকের উপলব্ধি জ্ঞান এখানে সরাসরি জড়িত। কবি এবং পাঠক আরও বেশি অন্তঃসম্পর্ক যুক্ত আমাদের এই সময়ের কবিতায়। কেননা তাকে আর সহজেই চিনে ফেলা যাচ্ছে না। ফলে এখন আর সমস্ত লেখাই, যে কোন বাণীই আর কবিতা হয়ে উঠতে পারে না পাঠকের গুনে, পাঠকের উন্নাসিতকায়। এই বৈরী হাওয়ায় বসে কবি যখন লিখতে বসেন তখন তাকে মাথায় রাখতে হয় সমস্ত কবিতার পথরেখার একটা ম্যাপ। আর তারপর কলম ছোঁয়াতে হয় কাগজে। কারণ তাকে এমন এক ভূগোলের উন্মোচন করতে হয় যা কিনা অপরিচিত, অযাচিত; তবে সহজ উপলব্ধ, কষ্ট-কল্পনাহীন। এই বিকল্প পথই কবিকে বাঁচিয়ে নেয়। ভালো বা মন্দ কবিতার সমস্ত দায় কবিকে নিতে হয়। আর একই সাথে কবিতাকে খারিজ করার দুঃসাহসও পাঠকেই নিতে হয়। দুঃসাহস! কেননা পাঠককে উত্তর তৈরি করতে হয় কেন তিনি কবিতাটি বর্জন করছেন। ভালো লাগার যুক্তি বরং সহজ, ভালো না লাগার যুক্তি বড় কঠিন এবং প্রশ্ন সাপেক্ষ। ফলে এই দায় বোধহীন পাঠকের জন্য কবিতা আর নয় আজ, অন্তত আজকের কবিতা।

২.

নতুন কবিতা আসলে ভুল ব্যাকরণেই লেখা হয়ে থাকে সম্ভবত। আশার কথা মহৎ কবিতায় এই ব্যাকরণগত কোন ভুলের দেখা মেলে না। এ কথা সর্বগামী নয় অবশ্যয়ই; তবে বলা যায় কবির আক্রমন ‌"পদ্ধতি"র দিকে না হয়ে প্রবাহমান "ব্যাকরণ"এর দিকে হওয়াই ভালো। তবে এটাও শেষ কথা নয় কারণ এই আক্রমনের জায়গা কবিই নির্বাচন করেন। পাঠক তাকে মাত্র খুঁজে নেয়।

৩.

নান রকম কবিতাকে কি আমরা গ্রহনে সক্ষম? কবিতা গ্রহন বর্জন পাঠক রুচি নির্ভর। এ কথায় আরও সুক্ষ্ণতা আনলে বলা যায় কবিতা উপলব্ধি নিতান্তই পাঠকের "শিল্প-অভিজ্ঞতা" নির্ভর। এই স্বাধীনতা তার আছে। তেমনি কোন স্বাধীনতা নেই কবির! পাঠক যা কিছু পড়েছে এবং যা সে পড়তে চায় এর সাথে কবিতা উপলব্ধি জড়িত। একই ভাবে কবির যে অনুভূত জগৎ, আত্মদৃষ্টি, ট্যাজিক মন তাই তাকে লিখতে বাধ্য করে। বিরহী মনটা থাকে লুপ্ত হয়ে কবিতার ভেতর। পাঠ মাত্রই তাকে চিনে ফেলা যায়। আত্মার লুমে যখন স্নায়ুর সুতোয় তৈরি হয় মনোস্তত্ত্বের পরিধান, তখন সে কাব্য পোষাকের উজ্জ্বলতা নির্ভর করে তার নতুনত্বের উপর, দৃঢ়তা নির্ভর করে উপকরণ বাছায়ের উপর আর আয়ষ্কাল নির্ভর করে কবির "শিল্প-অভিজ্ঞতা"র উপর। নতুনত্ব, উপকরণ আর শিল্প-অভিজ্ঞতা এর বুননে তৈরি হয় কবিতার শরীর। আর যখন একে পাঠ করা হয়, শরীরের চোখ দিয়ে অনুভব করা হয় তখন মসলিন পরা রূপসীর দিকে যেভাবে আমাদের চোখ যায়, কবিতাকেও আমরা সেই ভাবে দেখে ফেলি। কবিতার শরীরটাই তখন চোখে পড়ে। এটাকেই পাঠক উপভোগ করে। এর ভেতরের সব কারুকাজ, কবির পরিশ্রম সমস্ত লুপ্ত হয়ে যায়। তখন কবিতা ঠিক কবিতা হিসাবেই দাড়িয়ে থাকে। আর কিছু থাকে না দৃশ্যমান। তবে কবিতা পাঠকের কারাগারে প্রতিস্থাপিত হয়, সেখানেই চলে পাপী কবিতার প্রশ্নোত্তর পর্ব; সেখানে প্রতিটা কবিতার কাছ থেকে পাঠক কিছু উত্তর আশা করে। তবে তার এই প্রশ্নের ধরন নির্ভর করে পাঠকের "শিল্প-অভিজ্ঞতা" উপর। ফলে কবিতাকে বোঝার বা বোঝানোর যে বাসনা পাঠক এবং কবি উভয়েরই আছে, তা নির্ভর করে দুজনের অভিজ্ঞতার উপর। পাঠককে কবির সমান্তরালে চলতে হয়। আর যারা বোঝানোর দায় রাখেন তাদের চলতে হয় পাঠকের সমান্তরালে। তবে সেটা বেশি ভালো কথা নয়। ফলে সমকালীন এই "প্রান্ত-আধুনিক" কবিতার পাঠক বরাবরই কম। এবং শেষ পর্যন্ত কবি নিজেই নিজের পাঠক। এর বাইরে যারা এর র্চ্চা করে তারা মেধাবী, রুচির শাসনহীন, বহু বৈচিত্র্য ধারনে সক্ষম। তারাই ভাবি কালের পাঠক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28781206 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28781206 2008-03-21 15:53:18
রেডিও সিরিজ
এই করুণার দিকে তাকাও বেলুন, তোমার ভেতর বেহিসবী নিরর্থ ফুঁ দিয়ে আমি দেখলাম নত্রক্ষ বদলে নিচ্ছে তার পথ, পরিক্রমা। এমন দৃশ্যের পর কেঁদে ফেলা যায়। শূন্যতা সেও কি আজ আর নেই! এই তবে ব্যথা? মহাপতঙ্গের নীল ডানা এই আকাশ আমার, তোমার ভেতর হতে রেডিও-ওয়েভ হয়ে আলোর গতিতে ফিরে এসে সুর হয়ে ভেঙে পড়ছি অদৃশ্যে পৃথিবীর ধূসর সন্ধ্যায় নিজের স্নায়ুর কানে; ঠিক আর দেখা হলো না নিখুতঁ পতনের ক্ষত, আমাদের হাওয়ায় ছড়ানো পিষ্ট খুলি এমনই করুণ, অচেনা।

৩.

অন্ধকারে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়া বিহ্বল সাদা উট তোমার উজ্জ্বল দেহ আজ দেখা গেলো সুরের আভায়।

ছাল ওঠা রক্তিম কার্পেট -- এই হলো স্বপ্নের বাহন, তাতে চড়ে মাতালেরা ঘরে ফেরে, কথা কয়। রাত আরও গভীরে এসে ঘুমিয়ে গেলে দেখা হয় সময়হীন এক দেশ; সেখানে আহত সময়ের ভাঙা লাঠির প্রহরা ছাড়া ভূগোলের দিকে হেঁটে আসে ম্যামথের দেহ, তার ক্ষুধা, মৃতের মিছিল; ফল আর নিজেকে এভাবে ধরে না রাখতে পেরে খসে পড়ছে মাটিতে, বাতাসের প্রতিটি অদৃশ্য কণা ঝরে গেছে ফুলের জ্যামিতি হয়ে। হয়তো ঘুমিয়ে পরা রাত্রির চোখের ভেতর গোপনে তার স্বপ্ন দেখে -- একটা যন্ত্রের নাভির ভেতর উড়ে যায় হাওয়া সংবাদ, উচ্ছ্বল হাততালির সুসময়ে খসে পড়া আঙুল লাফিয়ে ওঠে শূন্য ভেজা শীতল বাতাসে। সময়-বিরহ-শূন্যতা-বেদনাহীন এই দেহ, তুমি ভেসে যাও আজ উড়ন্ত শবের মত একা; অন্ধকারে বসে থাকো বোবা রূপসীর যাতনার পাশে।

অগনন বেলুন উড়ে যাচ্ছে অন্ধকারে হলুদ স্বর্গের দিকে। দেখে যাচ্ছি সব।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28780229 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28780229 2008-03-18 17:07:27
বাংলা কবিতার ধারা, উপধারার, বিবিধ ধারা বাংলা কবিতার মূলধারা/ যতীন সরকার
এই জাতীয় কথা বেশ আগেও শুনেছি আমার প্রিয় গন্য মান্যদের কাছে। আমি আমার কথা টা একটু বলি। এর মনে তার বিরোধিতা আমি করছি না। আমি বাংলা কবিতার ধারা বলতে কি বুঝি তাই একটু ব্যাখা করলাম। লেখাটা পরে আরও বড় করার ইচ্ছা আছে। আর দেখার ইচ্ছা আছে আমাদের সময়ের কবিরা কি ভাবছেন বিষয়টা নিয়ে।

কবিতার মূলধারা বলে কিছু নেই বোধ হয়। কবিতা আসলে নানা রকম। সমস্ত রকমারি কবিতাকে এক সাথে একই কাব্য মলাটের ভেতর স্থান না দিলেই বিপত্তি বেশি। মূলধারার বা তার বিপরীত যে ধারা যে কোন একটা কে মূল ধারা বা গৌন ধারা হিসাবে ধরলে তো কথা একই থাকে। কেই কাউকে না মানার, না স্বীকৃতি দেওয়ার ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে আমাদের কাব্য ধারায়। কবিতা নানা রকম, নক্ষত্রের নিচে অনেক পথ, বহু পথিক। এই সমস্ত পথিক এবং পথকে স্বীকৃতি দেওয়াটা মূখ্য। তা না হলে আমার আমাদের কবিতা কেন্দ্রিক চলে আসা একটা অপ্রয়োজনীয় বির্তকের অবসান করতে পারবো না। আসলে কবিতার কি মূলধারা বলে কিছু আছে? থাকলেও কি তা আমাদের কাম্য?

এখন কথা উঠতে পারে এটা কবিতার বিশেষ একটা স্রোত আমাদের চোখে পড়ে বেশি। সেই স্রোতের নাম '' ত্রিশের আধুনিক বাংলা কবিতার ধারা''। আর এর বিপরীতে দাড় করানো হয় লালন ফকির, পাগলা কানাই বা জালাল খাঁ বা শাহ আব্দুল করিমকে। এই দুটো সচল ধারার উভয়কেই আমাদের গ্রহন করার সক্ষমতা থাকা জরুরী। তবে দুটো আমি মিলিয়ে ফেলতে চাই না । বা বলতে চাই না এটা মূলধারা আর ওটা নয়।

কারণ হিসাবে বলা যায় সম্ভবত সব ভাষার কবিতার ইতিহাস আসলে প্রকাশের ইতিহাস। প্রকাশ ভঙ্গিটা পার্থক্য তৈরি করে দেয়। এই প্রকাশের সাথে গৌন ভাবে যুক্ত হয় টেকনিক, প্রকরণ। এছাড়া বিশ্ব কবিতা আর প্রান্তু কবিতা যাই বলা হোক না কেন সে বিরাজ করে জনগোষ্ঠির আবেগ, অনুভব,বিষয়, অলংকার, পদ্ধতি শেষতক দৃষ্টিভঙ্গি মধ্যে। সাইজির ধারা আর যাকে মূল ধারা হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে এদের মধ্যবর্তী নানা বিষয়ের মিল পাওয়া যাবে। কেনান দুটো ধারাই র্চ্চা করা হয়েছে বাংলা ভাষাতে। বৃহদার্থে যে কোন জনগোষ্ঠির ভাষা সেই জনপদের চিন্তু চেতনাকে নিয়ন্ত্রন করে এবং সমস্ত উপলব্ধিকে একটা অবহের মধ্যে দিয়ে বয়ে যেতে বাধ্য করে। এমন বৃহতম জায়গা থেকে দেখলে বলা যেতে পারে উভয়ই বাংলা কবিতা। তবে মাত্র প্রকাশ ভঙ্গিগত পার্থক্যের কারনে আমাদের বলা উচিত হবে কি এটা মূলধারা আর ওটা নয়?

আসলে সমস্তই বাংলা কবিতা। কোন কিছু কে উন্নাসিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখাটা আমাদের প্রবনতা না হওয়াই ভালো। টোটাল বাংলা কবিতার মুক্তি আমরা চাই। এর জন্য দরকার শিল্প-অভিজ্ঞতা। বিপুল এক শিল্প-অভিজ্ঞতা না থাকলে আমরা শিল্পকে কবিতাকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবো না সম্ভবত। সমস্তকে ধারা উপধারাকে গ্রহন করে মাত্র একটাই ধারা তৈরি করা দরকার তা হলো ''বাংলা কবিতার ধারা'' । আমাদের উপলব্ধি প্রধানত দুই রকম; এক. বিশ্লেষণ জ্ঞান ( তথ্য নির্ভর ) দুই. প্রজ্ঞা ( উচ্চতর ইন্দ্রেয় নির্ভর )। কবিকে এই প্রজ্ঞাতে পৌচ্ছাতে হয় আমি মনে করি। বর্তমান যুগের ধারাটা তথ্য নির্ভর, কিন্তু আমাদের মুক্তিটা প্রজ্ঞা নির্ভর। এখানেই দ্বন্দ্বের শুরু।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28777693 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28777693 2008-03-09 13:23:03
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার ( চতুর্থ পর্ব) গুন্টার গ্রাস-এর সাক্ষাৎকার ( প্রথম পর্ব )
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার ( দ্বিতীয় পর্ব )
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার ( তৃতীয় পর্ব )



এলিজাবেথঃ যারা ইংরেজিতে আপনার বই পড়ে তাদেরতো এর মূল স্বাদ থেকে অনেক কিছুই হারাতে হয়?

গ্রাস: এর উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে কঠিন। কারণ আমি ইংরেজি পাঠক নই। তবে আমার বই অনুবাদের ক্ষেত্রে আমি আমার অনুবাদকদের সাহায্য করে থাকি। The Flounder নিয়ে আমি যখন আমার জার্মান-প্রকাশকের কাছে গেলাম তখন তারা আমাকে আরও একটা কাজের সাথে সম্পৃক্ত করে দিলো। আমার পাণ্ডুলিপি শেষ করার পর আমার অনুবাদকরা এটা পড়ে। আমার প্রকাশকই সব দায়িত্ব পালন করে থাকে। The Flounder, The Meeting At Telgle, The Rat প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা ঘটেছে। অনুবাদক আমার বইয়ের নানা বিষয় জানতে চেষ্টা করে। বইটি সম্ভন্ধে নান প্রশ্ন করে। আমার মনে হয় এই কাজগুলো অনুবাদ কার্যকে বেশ সহায়তা করে। আমার মনে হয় বইটি সর্ম্পকে তারাই আমার চেয়ে বেশি জানে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এটা বেশ অস্বস্থিকর হয়ে দাঁড়ায়। কারণ অনেক সময় তারা বইয়ের কিছু বিষয়কে ভুল বলে প্রমান করতে চায়। এবং আমাকে সে সম্পর্কে বলেও। ফ্রেন্স, ইতালিয়ান আর স্প্যানিশ অনুবাদকেরা নানা বিষয়ে কথা বলে এ জাতীয় সাক্ষাৎকারের সময়। এবং সত্যিকার অর্থে তারা অনুবাদটিকে তাদের নিজস্ব ভাষায় উদ্ভাসিত করে তুলতে চায়। আমি অনুবাদকে সমর্থন করি কারণ যখন আমি কোন অনুবাদ পড়ি তখন আমি কখনোই ভাবি না যে বইটি অনুদিত। আমার সৌভাগ্য যে রাশিয়ান সাহিত্যের চমৎকার কিছু অনুবাদ আমরা জার্মান ভাষায় পেয়েছি। তলস্তয় বা দস্তোয়ভস্কির অনুবাদ একদম নিখুঁত -- মনে হয় যেনো বইগুলো জার্মান ভাষাতেই লেখা হয়েছে। শেক্সপিয়র বা তাদের মত রোমান্টিদের যে সমস্ত অনুদিত বই আমি দেখেছি তা ভুলে ভরা, তবে সুপাঠ্য। নতুন অনুবাদকদের অনুবাদে ভুল কম -- ভুল নেই বললেই চলে। তবে Fridrich Schlegel এর মত যথার্থ আর কেউ নেই। প্রতিটা বই অনুবাদের ক্ষেত্রে -- তা কবিতা বা উপন্যাস যাই হোক না কেন, সে ক্ষেত্রে অনুবাদককে বইটিকে তার নিজস্ব ভাষায় পুনঃউৎপাদন করতে হয়। বই অনুবাদের ক্ষেত্রে আমি এই নীতি কে সমর্থন করি।

এলিজাবেথঃ আপনি কি মনে করেন না যে আপনার Die Rättin এর ইংরেজি অনুবাদ The Rat যথার্থ হয়েছে? ( জার্মান ভাষায় প্রতিটা বিশেষ্য এর আগে পুং বা স্ত্রী বাচক Article বসে। Der পুং অর্থে, Die স্ত্রী অর্থে Das ক্লীব অর্থে -অনুবাদক ) জার্মান ভাষা তো Die Rättin বলতে মেয়ে ইঁদুরকে বোঝায়। আর স্প্যানিশে একে Rattessa লেখার প্রশ্নই ওঠে না। অথচ মেয়ে ইঁদুর এরতো একটা বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কিন্তু ইংরেজিতে The Rat এমন একটি শব্দ যা কুৎসিত দেঁতো একটা প্রাণীকেই বোঝায়।

গ্রাস: এই জাতীয় শব্দ আমাদের জার্মান ভাষাতেই নেই। আমি এটা তৈরি করেছি। আমি আমার অনুবাদকদের সব সময় নতুন কিছু আবিস্কার করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে থাকি। আমি তাদের বলি যদি এমন কোন শব্দ পা'ও যা আমাদের ভাষায় আছে কিন্তু তোমাদের ভাষায় নেই সেক্ষেত্রে নতুন শব্দবন্ধন তৈরি করো। She-Rat শব্দটা আমার ভালোই লাগছে। খারাপ না।

এলিজাবেথঃ আপনার বইয়ের ইঁদুরটি মেয়ে ইঁদুর কেনো? যৌন কাতরতা, নাকি নারীবাদি দৃষ্টিভঙ্গি, নাকি রাজনৈতিক কোন অভিলক্ষ্য এর পেছনে আছে?

গ্রাস: The Flounder এটি পুরুষ। আরও একটু বয়স বাড়ার পর আমি দেখলাম আমি আবারও আরেক নারীর প্রেমে জড়িয়ে পড়েছি। এর থেকে মুক্তির কোন পথই আমার জানা ছিলো না। সে নারী কিংবা ইঁদুর বা She-Rat যাই হোক না কেন। আমি একটা আইডিয়া পেলাম। সে আমাকে উদ্বেলিত, উত্তেজিত করলো -- আমি শব্দ খুঁজে পেলাম, গল্প পেয়ে গেলাম এবং পুনরায় মিথ্যাচার শুরু করলাম। মিথ্যা বলার জন্য এটা অত্যাবশ্যকীয়। একজন পুরুষের পাশে বসে মিথ্যা বলার কোন মানেই হয় না। তবে ভাবো, একজন উজ্জ্বল তরুণীর সাথে মিথ্যাচার কেমন উত্তেজনাকর!

এলিজাবেথ: আপনার অধিকাংশ বই যেমন The Rat, The Flounder, From The Dairy Of The Snail, Dogs Year এ উপন্যাসগুলোর কেন্দ্রস্থলে কোন না কোন প্রাণীই আমরা দেখতে পাই। এর কি বিশেষ কোন কারণ আছে?

গ্রাস: সম্ভবত। আমার মনে হয় আমরা মানবজাতি সম্পর্কে খুব বেশি কথা বলি। পৃথিবীতে কি শুধু মানুষ আছে, আর কিছু নেই? পশু, পাখি, মাছ, কীট-পতঙ্গ সব আছে। তারা আমাদের আবির্ভাবের পূর্বেই পৃথিবীতে ছিলো। এবং এমন একদিন আসবে যখন আমরা থাকবো না অথচ আমরা বাদে পুরো প্রাণী জগতই টিকে যাবে। একদিন তাদের আমাদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না। জাদুঘরে কি দেখো? লক্ষ লক্ষ বছর আগের ডাইনোসর আর বাইসনের হাড়। তারা খুব স্বাভাবিক ভাবেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাদের হাড়ে কোন বিষক্ত কোন উপাদান পাওয়া যায়নি। তুমি দেখতে পারো। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। আমরা মৃত্যুর পূর্বে বিষ ছড়িয়ে যাই বাতাসে বাতাসে। আমাদের মনে রাখা দরকার পৃথিবীতে আমরা একা নই। ধর্মগ্রন্থ আমাদের ভূল শিক্ষা দিয়েছে। সেখানে বলা আছে পশু পাখি মাছ গরু সমস্তু জীব জগতের উপর প্রভুত্ব করো। সমস্তু পৃথিবী আমরা যুদ্ধ করে জয় লাভ করতে চেয়েছি। এই ভুলের ফলাফল বড় বেদনাদায়ক।

(চলবে.....)














]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28777441 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28777441 2008-03-08 15:05:39
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার ( তৃতীয় পর্ব ) গুন্টার গ্রাস-এর সাক্ষাৎকার ( প্রথম পর্ব )
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার ( দ্বিতীয় পর্ব )



এলিজাবেথঃ কবিতা, ড্রয়িং আর ভাস্কর্য এই তিনটি কাঠামোর মধ্যে কোনটি কি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে?

গ্রাস: এই প্রশ্ন যদি আমাকে করে থাকো,.তবে একমাত্র নিজের ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি, আমার কাছে কবিতা অনেক বেশি অর্থবহ। একটা উপন্যাসের জন্ম হতে পারে একটা কবিতা থেকে। তবে আমি বলছি না এটাই শেষ কথা। তবে আমি কবিতা ছাড়া কিছুই গড়ে তুলতে পারবো না। এই বিষয়টাকে আমি খুব সরাসরি দেখি।

এলিজাবেথ: অন্যান্য শিল্প মাধ্যম থেকে চিত্রকলার বিশেষ এবটা ভূমিকা রয়েছে আপনার কাজের মধ্যে।

গ্রাস: না না। তা ঠিক নয়। গদ্য, পদ্য, ড্রয়িং সমস্তই আমার কাজের মধ্যে অনায়াসেই ঢুকেছে।

এলিজাবেথঃ ড্রুয়িংয়ের ভেতর অনুভবগত বা দৃশ্যগত ভাবে এমন কিছু কি আছে যা লেখনীর ভেতর নেই?

গ্রাস: হ্যাঁ, লেখা লেখি আসলেই একটা কঠোর পরিশ্রমের ব্যাপার। বিমূর্তও বটে। লেখার আনন্দ, ড্রয়িংয়ের আনন্দ থেকে একদমই আলাদা। ড্রয়িংয়ের ক্ষেত্রে এক খণ্ড সাদা কাগজের উপর আমি আমার সৃষ্টিকে ফুটিয়ে তুলি। এটা খুবই স্পর্শকাতর একটা ব্যাপার যা তুমি লেখালেখির ক্ষেত্রে পাবে না। প্রায়ই আমি লেখালেখির ভেতর ফিরে আসার জন্য ড্রয়িং করে থাকি ।

এলিজাবেথঃ লেখালিখে খুব বেদনাদায়ক?

গ্রাস: এটা একটা মূর্তি গড়ার মত কাজ। মূর্তি গড়ার সময় তোমাকে এর চারপাশে চোখ রাখতে হয়। তুমি যদি কোন এক পাশে কোন রকম পরিবর্তন করো তবে অন্য পাশেও তোমাকে পরিবর্তন করতে হবে। যদি হঠাৎ কোন পরিবর্তন করে বসো তবে তা কিন্তু আর মূর্তি হবে না। তাকে সেক্ষেত্রে অন্য কিছু বলা ভালো। এর ভেতর একটা সংগীত ধর্ম আছে। লেখালেখির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। আমি প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় খসড়া নিয়ে একই কাজ বারবার করতে থাকি। সমস্তই ঠিক আছে তবে তি যেনো নেই। এই নেই টাকে ঠিক করার জন্য সামান্য কিছু পরিবর্তন করি। আমার মনে হয় এটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। এরপর আমি এগিয়ে যাই। কাজ করতে থাকি।


এলিজাবেথঃ কবিতায় ফিরে আসি। উপন্যাসের অংশ হিসাবে আপনি যে কবিতা লেখেন সেই কবিতা আর সচারাচর আমার কবিতা বলতে যা বুঝি তার মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে?

গ্রাস: এক সময় কবিতা লেখার ক্ষেত্রে আমি পুরনো ধ্যান ধারণার অধিকারী ছিলাম। আমি ভাবতাম বেশ কটা কবিতা লেখা হয়ে গেলেই সেই কবিতাগুলো আর কিছু ড্রয়িং নিয়ে একজন প্রকাশকের কাছে চলে যাওয়াই ভালো। সেক্ষেত্রে একটা দারুণ কবিতার বই পাওয়া যাবে কবিতা প্রেমিকদের জন্য। সেই সময় From the Dairy of a Snail লেখার সময় আমি গদ্য আর পদ্য উভয়ই একসাথে রেখে দিলাম এক বইয়ে। এই কবিতাগুলোর আলাদা একটা সুর আছে। গদ্য আর পদ্য কে আলাদা ভাবে দেখার কোন কারণই আমি দেখি না। বিশেষত জার্মান সাহিত্যে গদ্য-পদ্য মিশ্রনের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ আছে। প্রতিটি অনুচ্ছেদে কবিতা ঢোকানোর ঝোক আমার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে লাগলো। এবং এর মধ্যেই আমি গদ্যের বুনন খঁজে পেতে চাইলাম। যে সমস্ত পাঠক ভাবেন 'কবিতা খুবই কঠিন' তারা দেখে থাকবেন কিছু কিছু কবিতা গদ্য থেকে অনেক সহজ।









]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28776002 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28776002 2008-03-03 13:32:35
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার ( দ্বিতীয় পর্ব ) গুন্টার গ্রাস-এর সাক্ষাৎকার ( প্রথম পর্ব )

এলিজাবেথঃ আপনি কিভাবে 'ফিকশন' আর 'নন-ফিকশন' এর মধ্যে পার্থক্য করে থাকেন?

গ্রাস : 'ফিকশন বনাম নন-ফিকশন' এই ধারণাটাই অর্থহীন, অপ্রয়োজনীয়। এটা বই বিক্রেতা প্রাতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। কারণ তারা শিল্পকে নানা ভাগে বিভক্ত করে কেজি দরে বিক্রি করে থাকে। কিন্তু আমি আমার বইয়ের এমন শ্রেণী বিভাজন করতে প্রস্তুত নই। আমার সব সময় মনে হয়েছে বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা রকম সমিতি আছে যারা নির্দিষ্ট করে দেয় এটা ফিকশন আর ওটা নন-ফিকশন।

এলিজাবেথঃ ঠিক আছে। তবে আপনি যখন আপনার প্রবন্ধ নিবন্ধ আর ছোটগল্প বা উপন্যাস নিয়ে কাজ করেন থাকেন কখন নিশ্চয়ই আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করেন। তাহলে আপনি কিভাবে এদের পার্থক্য করে থাকেন?

গ্রাস : হ্যাঁ, এরা পরস্পর থেকে অলাদা কারণ আমি সরাসরি ঘটনার গুলোর মুখোমুখি হই। একে আমি পরিবর্তন করকে পারি না। সাধারণত আমি আমার সাথে কোন ডায়রী রাখি না। কিন্তু From the Dairy of a Snail লেখার জন্য সব সময় আমাকে একটা ডায়রী সাথে সাথে রাখতে হয়েছে। আমার মনে হয় ১৯৬৭ সালটা খুবই গুরত্বপূর্ণ একটা সাল আমার জন্য। তখন সত্যিকার অর্থে রাজনৈতিক পটভূমির একটা বিশাল পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছিলো। ১৯৬৯ এর মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ একটা সময় পথে পথে ক্যাম্পেইন করার সময় আমি একটা ডায়রী রেখেছিলাম নিজের সাথে। কলকাতাতে যখন গেছি তখনও একই কাজ করেছি। আর সেই ডায়রীর একদিন From the Dairy of a Snail রূপান্তরিত হলো।

এলিজাবেথঃ একদিকে রাজনীতি আর অপর দিকে আপনার লেখালেখি। এদুটো ভিন্ন বিষয়কে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করে থাকেন?

গ্রাস : লেখক মানে নয় আত্মার গভীরতা সন্ধানী কোন বোদ্ধা। দৈনন্দিন জীবনের চাওয়া পাওয়ার সাথে সে সম্পর্কযুক্ত। আর আমার ক্ষেত্রে আমি বলবো লেখা-লেখি, চিত্রকলা আর রাজনীতি এই তিনটি বিষয় কে আলাদা আলাদা শখ হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। তবে প্রত্যেকটিরই আলাদা নিজস্ব গতি ও শক্তি আছে। আমি যে সমাজে বাস করি সে সমাজের কিছু কিছু বিষয় পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করি। আমার লেখালেখি বা ছবি সচেতন ভাবে বা অবচেতন ভাবে রাজনীতির সম্পৃক্ত। তবে আমার লেখার জন্য খুব পরিকল্পনা মাফিক আমি রাজনীতিকে টেনে আনতে প্রস্তুত নই। এমন এমন কোন গল্প লিখি না যা খুব সাদামাটা নির্দিষ্ট বাস্তব কোন রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত। লেখা লেখি থেকে রাজনীতিকে বাদ দেওয়া প্রায় অসম্ভব কারণ আমাদের যাপিত জীবনের উপরই এর একটা বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। এটা জীবনের আশা ভরসাকে নানা দিক থেকে প্রভাবিত করতে পারে।

এলিজাবেথঃ ইতিহাস, পদ্ধতি, গীতি-ভঙ্গিমা -- এমন বিচিত্র বিষয়কে আপানি একত্রিত করেছেন।

গ্রাস : ... চিত্রকলা, কবিতা, সংলাপ, উদ্ধৃতি, বক্তব্য, চিঠি -- তুমি দেখবে যখন আমি পৌরাণিক ঢঙে কাজ করি কখন ভাষার যত রকম সক্রিয় রূপ আছে তাতো ব্যবহার করিই সাথে ভাষার নানা উপকরণ এর সাথে যুক্ত হয়। মনে করে দেখ আমার Cat and Mouse আর The Meeting At Telgte খুবই বিশুদ্ধ ফর্মে করা দুটি কাজ।

এলিজাবেথঃ আপনার শব্দ আর ছবি নিয়ে একত্রিত যে কাজগুলো আছে সেগুলো অনবদ্য।

গ্রাস : ছবি আর লেখা এদুটো আমার কাজের প্রাথমিক উপাদান, তবে একমাত্র উপাদান বলা যাবে না। আমার যখন সময় থাকে তখন আমি ভাস্কর্য তৈরি করি। আমার ক্ষেত্রে চিত্রকলা আর লেখালেখি এদুটোর মধ্যে খুব দেওয়া নেওয়ার একটা সম্পর্ক আছে। কখনও কখনও এই সম্পর্ক খুব গভীর হয়ে ওঠে। তবে কখনও কখনও দুর্বলও হতে পারে। গত কয়েক বছর আমি এদের মধ্যে গভীর একটা সম্পর্ক যে আছে তা অনুভব করছি। Show Your Tongue, এমনই একটা উদাহরণ, এটা আমি কলকাতাতে শুরু করি। ড্রয়িং ছাড়া এই বইয়ের অস্তিত্ত্ব ফুটিয়ে তোলা সম্ভব ছিলো না। কলকাতায় অবিশ্বাস্য দারিদ্রতা, ভাষায় একে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। একমাত্র ড্রয়িং একে ফুটিয়ে তুলেছে নর্দ্বিধায়।


এলিজাবেথঃ এই বইটিতে শুধু কবিতাই ছাপা হয়নি, হাতের লেখাও ড্রয়িংয়ের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এই হাতের লেখা শব্দগুলো কে কি আপনার ড্রয়িংয়ের অংশ হিসাবে বিবেচনা করতে হবে?

গ্রাস : কবিতার কিছু কিছু উপাদান এই ড্রয়িংগুলোর সাথে সরাসরি সংযুক্ত। কবিতা যখন আসা শুরু করে তখন আমি এই ড্রয়িংগুলোর উপর তা লিথতে শুরু করি। ড্রয়িং আর কবিতা একসাথে মিশে এশাকার হয়ে যায়। যদি তুমি ড্রুয়িংয়ের ভেতরের লেখাগুলো পড়তে পারো তবে ভালো, কেননা তা লেখা হয়েছে পড়তে পারার জন্যই। ড্রয়িংগুলো সাধারণত এঁকে থাকি প্রথম খসড়া তৈরির আগে টাইপরাইটারে বসার আগে। এর কারণ অবশ্য জানা নেই। এই বইটা কলকাতা বিষয়ক। আমি সেখানে দুই বার গিয়েছি। Show Your Tongue শুরু করার বারো বছর আগে একবার গিয়েছিলাম। সেটাই প্রথম ভারত ভ্রমণ। মাত্র কয়েকদিন কলকাতায় ছিলাম। আমি ফেরার সময় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তখনই ইচ্ছা ছিলো সেখানে আবার যাবো, দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে থাকবো, অনেক কিছু দেখবো আর লিখবো। এশিয়া-আফ্রিকার অনেক দেশে আমি গিয়েছি -- কিন্তু যখনই আমি হংকং, ম্যানিলা বা জাকার্তার বস্তিগুলো দেখি, তখন আমার কলকাতার কথা মনে পড়ে। প্রথম বিশ্বের সমস্যা তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে এভাবে মিশে একাকার হয়ে আছে -- এমন দৃশ্য আমি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি।

তাই আমি আবার কলকাতায় ফিরে গেলাম। আর আমি আমার ভাষা দক্ষতা হারিয়ে ফেললাম। আমি একটা অক্ষরও লিখতে পারিনি। সেই মুহূর্তে ড্রয়িং খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো আমার কাছে। ভারতের বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলার অন্য রকম প্রচেষ্টা ছিলো এটা। এই ড্রয়িংগুলোর সাহায্যে আমি আমার গদ্য লেখার শক্তি পুনরায় ফিরে পেতে থাকলাম। এটাই হলো এই বইয়ের প্রথম অংশ, খানিকটা নিবন্ধের মত। এরপর তৃতীয় অংশ -- বারো ভাগে বিভক্ত একটা দীর্ঘ কবিতা। এটা ছিলো কলকাতা বিষয়ক একটা নাগরিক কবিতা। তুমি যদি নাগরিক গদ্য, পদ্য আর ড্রয়িংগুলো দেখো তবে দেখবে এর সব কয়টিই কলকাতা বিষয়ক। তবে তারা পরস্পরের সাথে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে যুক্ত। এদের মধ্যে এক রকম গোপন কথোপোকথন আছে, তবে ব্যাপারটা বেশ একটু জটিল।

(চলবে...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28774513 http://www.somewhereinblog.net/blog/mridulmahbubblog/28774513 2008-02-27 12:43:05