আমার প্রিয় পোস্ট
- ফিরে দেখা ২০১১ : সামহোয়্যারইন ব্লগে সবচেয়ে বেশি পঠিত ১০০ লেখা - ফিউশন ফাইভ
- ফিরে দেখা ২০১১ : সামহোয়্যারইন ব্লগে সর্বাধিক মন্তব্য পাওয়া ১০২ পোস্ট - ফিউশন ফাইভ
- আমাদের দেশ, আমাদের পতাকা, আমাদের গর্ব - যে তথ্য সকলেরই জানা প্রয়োজন। - তন্ময় ফেরদৌস
- মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সিনেমা :: হতাশা , ক্ষোভ আর কষ্টের উপাখ্যান - মেহরাব শাহরিয়ার
- আমাদের সংস্কৃতি জগতে পরিবারতন্ত্র ! - ৬ - এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল
- আর নয় কম স্পীডে ইন্টারনেট ব্যবহার!!! - নভেল
- গ্রানাডা ট্র্যাজেডি নিয়ে একটি অসাধারণ লেখা - আর খান
- যে কোন পাসওয়ার্ড হ্যাক করুন কোন সফটওয়্যার ছাড়াই!+সেরা একটা কীলগার - হাসান জোবায়ের
- আমার দেখা সেরা শর্টফিল্ম গুলোর কালেকশন, একটি মাস্টওয়াচ পোস্ট - নিয়নের আলো
- বিনামূল্যে ইলাস্ট্রেটর শিখুন(ইহা কোন বিজ্ঞাপনধর্মী পোস্ট নয়)..........

- কূপমন্ডুক
- বিল গেটসকে বাফেট যা বলেছিলেন (কপি-পেস্ট পোস্ট) - বল্টু মিয়া
- নেটের সর্বশ্রেষ্ঠ ফ্রি মুভি ডাউনলোড সাইট-আপডেট
- বিডি আইডল
- সামহোয়ারইনের যত্তসব অপশনের ব্যাবচ্ছেদ - কাঙাল মামা
তাজুলের বাবার মৃত্যু
০১ লা আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:০০
৩১ জুলাই ২০১০ শনিবার রাত্র ১১:৩০ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, ঢাবি
প্রিয় মৃন্ময়ী,
বিকেলবেলা ৬ টার দিকে হঠাৎ করে সাদেক ফোন দিল। দু:সংবাদ। আমাদের বন্ধু তাজুলের বাবা মারা গেছেন। শুনে বেশ খারাপ লাগল। মানুষটা বেশ কিছুদিন যাবৎ অসুস্থ। তাজুলের উপর দিয়ে বেশ ঝক্কি যাচ্ছে এজন্য। কারণ, একদিকে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়েছে, অন্যদিকে ওদের মুদী দোকানে বসতে হয়েছে; আরেকদিকে ওর বাবার চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
তাজুল বেশ মিষ্টি চেহারার একটি ছেলে। মেয়েরা ওকে নাম দিয়েছে 'চকলেট বয়'। আমাদের ইয়ারে সে ফার্স্ট ক্লাশ ফোর্থ। প্রথম- শিরিন, দ্বিতীয়- পিয়াশ, তৃতীয়- আশা এবং চতুর্থ- তাজুল।
আমি তাড়াতাড়ি পোষাক পড়ে বের হয়ে গেলাম রুম থেকে। সমস্যা হল, পকেটে টাকা নেই। মোবাইলেও টাকা নেই। মোহনাকে ব্যাপারটা জানালাম। মোহনা আবু হেনার কাছ থেকে টাকা নেয়ার পরামর্শ দিল। আবু হেনাকে ফোন করে পেলাম না। পরে ফোন করে জানালো ফার্মগেটে ইউসিসিতে সে ক্লাশ নিচ্ছে। কী আর করার!
আমি টিএসসি চলে গেলাম। ওখানে কামাল ছিল। নাদিমকে ফোন দিয়ে আসতে বললাম। অডিটরিয়ামের মধ্যে ঢুকলাম। আজ সংগীত উৎসবের দ্বিতীয় দিন। প্রথমদিকে দিবা, শিমু, তন্বিকে দেখলেও সনমকে দেখতে পেলাম না। খুব আশাহত হলাম! বেশ কিছুক্ষণ পর মঞ্চে সনম উঠল। ও ছিল মাঝের সারিতে। ওর ডানপাশে শিমু আর বামপাশে দিবা বসা ছিল। সামনে ছিল তন্বি। তন্বির মা অর্থাৎ কলি আন্টিকেও দর্শকসারিতে বসা দেখলাম।
সনমকে দেখে ভালোই লাগলো। সুন্দর করে সেজে এসেছে। লাল শাড়ি পরা। আমাকে দেখতে পায়নি সে। তবে কামালকে দেখেছে। অবশ্য আমিও চাইনি সনম আমাকে দেখুক। কেননা, ওর ওই ঘৃণাভরা দৃষ্টি না দেখাই শ্রেয়।
তখনো অনুষ্ঠান শুরু হয়নি। আমি আরো কিছুক্ষণ থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নাদিম চলে এল। তাই আর থাকা হল না। গুলিস্তানের কাপ্তান বাজারে তাজুলদের বাসায় গেলাম।
তাজুলের বাবা বেশ সুন্দর, সুঠামদেহী। বয়স হবে ৫৬ কি ৫৭। তাজুলরা মোট ৪ ভাইবোন। মুক্তা আপু, তাজুলের বড় বোন। তার বিয়ে হয়ে গেছে। আর ছোট ভাই সজল অষ্টম শ্রেনীতে পড়ে। আরেকটি ছোট বোন আছে, নাম অনন্যা।
এর মানে দাড়াচ্ছে পুরো সংসারটার দায়িত্ব এখন তাজুলের মাথায় বর্তাবে। ওকেই ব্যবসা দেখাশুনা করতে হবে। একই সাথে তার নিজেরও লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হবে।
তবে একটি ব্যাপার ভাল লাগল। বাহ্যত তাজুল অতটা ভেঙে পড়েনি। বাবা হারানোর ভয়ংকর দিকটি এখনো হয়ত তার কাছে ধরা দেয়নি। মহান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করি তাজুল যাতে সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠে সুন্দরভাবে পরিবারের হাল ধরতে পারে।
এদিকে আমার মোবাইলে টাকা নেই শুনে আমার পাগলি বোনটা মানে মোহনা ১০০ টাকা ফ্লেক্সিলোড করে দিল। আমি মোবাইলে টাকা দেখেই বুঝেছি কাজটা মোহনাই করেছে।
=============================================
আগামিকাল মৌখিক পরীক্ষা। শুনলাম আসিফ নজরুল স্যার এবং হাবিব স্যার পরীক্ষা নিবেন। আমিতো কিছুই পারি না। তাদের কাছে চরমভাবে অপদস্থ হতে হবে মনে হয়। ব্যাপারটা ভাবতেই গলা শুকিয়ে যাচ্ছে! এদিকে বাসায় যেতে না পারায় জামাকাপড়-জুতা আনতে পারিনি। কেমন পোষাক পরে যাব বুঝতে পারছি না!
=============================================
রাত্রিবেলা তাজুলদের বাসায় বসে পিয়াকে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েছিলাম। কোনো রেসপন্স না পেয়ে কল দিলাম। কিছুক্ষণ পর কল ধরল। আমি শুনে খুবই অবাক হলাম যে মোবাইলটি তার হাতেই ছিল, অথচ সে আমার ক্ষুদেবার্তাটি টের পায় নি! একজন মানুষ কতটা উদাসীন হলে এমনটা হতে পারে! মোবাইলটি না-কি তার হাতের ছোট্ট ব্যাগে! কী আশ্চর্য! হলের মধ্যেও কেউ ব্যাগ নিয়ে ঘোরে! সে আবার উল্টো আমার সাথে রাগও দেখাল!
রাত্রে পিয়ার সাথে কথা হল। তাকে সব খুলে বললাম। পিয়া শুনে বলল, আমি তো ওর কাছে টাকা চাইতে পারতাম। আমি ওকে আপন ভাবি না বলেই টাকা চাইনি।
বটে! তুমি শুনলে অবাক হবে মৃন্ময়ী, পিয়া আজ পর্যন্ত আমার পিছনে সব মিলিয়ে হয়ত বড়জোর ১৪১০ টাকা খরচ করেছে। দু'টো পাঞ্জাবি দিয়েছে ১৩০০ টাকা দিয়ে আর একদিন ১০০ টাকা ফ্লেক্সি করেছিল। আরেকদিন খুচরা টাকা না থাকায় ওর কাছ থেকে আমি ১০ টাকা নিয়ে রিকশা ভাড়া দেই। এছাড়া আজ পর্যন্ত সবকিছুতে আমি এককভাবে টাকা খরচ করেছি। কখনো ওর কাছ থেকে নেইনি। প্রয়োজনে আমি ধার করে টাকা খরচ করেছি।
আর সনম? সনমের আমার পিছনে দেদারছে টাকা খরচ করত।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














