টিপাইমুখ বাঁধ বিষয়ে বাংলাদেশের বিরোধিতা করার মতো কোনো আন্তর্জাতিক আইন নেই—ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর এ মন্তব্য সঠিক নয় বলে মনে করেন নদী আইন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, জাতিসংঘ কনভেনশন অনুযায়ী এ বাঁধ নির্মাণ করতে পারে না ভারত। সোমবার পানি নিরাপত্তা বিষয়ে এক সেমিনারে নদী ও পানি বিশেষজ্ঞরা বলেন, দু’দেশের ক্ষতি হয় এমন একটি বাঁধ নির্মাণে মুষ্টিমেয় উচ্চবিত্তরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ।
সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ আয়োজিত এ সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, টিপাইমুখ ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশকে আইন ও যুক্তি মেনেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা আর জীবন জীবিকার ঝুঁকি হ্রাসে পানি সম্পদের সঠিক সংরক্ষণ, বন্টন আর ব্যবহারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় সেমিনারে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেন, “ভারতীয় রাষ্ট্রদূত যে বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোন চুক্তির অস্তিত্ব উনি মনে করতে পারেননি—এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এবং উনি এটা কেন বলেছেন আমি বুঝতে অক্ষম। কারণ, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে যে Ganges Water Treaty 1996 রয়েছে তার ৯ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, অন্যান্য যৌথ নদীর পানি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে দুটি দেশ ন্যায়পরায়নতা, সমবন্টন এবং কারো ক্ষতি নয়—এই নীতিমালার ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদন করবে। এখন ভারত যদি একা একাই একটা প্রজেক্ট করে ফেলে এবং নিজেই যদি ভাগাভাগি করে ফেলে তাহলে তো এই চুক্তির লঙ্ঘন হয়।”
টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ হলে এ অঞ্চল যে ভয়াবহতার মুখোমুখি হবে তার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে আর এক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আতিক রহমান বলেন, “পানি কমে গেলে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তায় দুই ধরনের প্রভাব পড়বে। প্রথমত পানির অভাবে ধান চাষে ভয়াবহ সমস্যা হবে, অন্যদিকে এ অঞ্চলের মাছ আরও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”
সেমিনারে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ ও পরিবেশের ওপর কি ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে তা যাচাই করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের গবেষণার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান বক্তারা।
এ বাঁধ নির্মাণ হলে ভারতের মনিপুর ও বাংলাদেশ কি পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও সামগ্রিকভাবে দুই দেশের লাভই বা কি হবে তা যাচাইযের জন্য যথেষ্ট তথ্য প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
এ প্রসঙ্গে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “এ বাঁধের ফলে উভয় দেশের জন্য কি বেনেফিট বয়ে আনবে এটা আমাদের জানতে হবে। পাশাপাশি এটাও জানতে হবে এর ফলে যদি বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হয় তার জন্য ভারত কি ক্ষতিপূরণ দেবে।”
তথ্যসূত্র এখানে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


