somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডেজাভিউ্যু ...দৃশ্যপট : লীনা'র কোল্ড ব্লাড!

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি এখন খুনির ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে।
স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি লীনা খুন হচ্ছে নির্মমভাবে। অত্যন্ত বীভৎস কুৎসিতদর্শন সেই লোকটা লীনা'র গলায় ধারালো ছুরিটা বসিয়ে দিচ্ছে। নিকৃষ্ট লোকটাকে ছুরি আমিই এনে দিয়েছি। কারওয়ান বাজার থেকে যখন আমি চকচকে ছুরিটা নিয়ে বাসায় আসি, তখনি ঠিক কেমন করে যেন খবর পেয়ে লোকটা চলে আসে। আমি কোন কথা না বলে তাকে অস্ত্রটা তুলে দিই।
.......................................
আমার চোখে ভেসে উঠে খুন পরবর্তী লীনা'র বিচ্ছিন্ন রক্তাক্ত দেহ। দেহটা একদিকে কাৎ হয়ে পড়ে আছে। রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। কতগুলো পিঁপড়া দল বেঁধে যাচ্ছিল। রক্ত দেখে তারা সরে সরে পথ হাঁটছে। আমি কাঁদতে চেষ্টা করছি, পারছিনা। আমার ভিতরে কোন বোধ নেই। অসাড়।
........................................
দৃশ্যটা আবারও আমার সামনে ঘটতে শুরু করেছে।
....
আবার সেই খুনিটা আমার সামনে এসে আমার হাত থেকে নিয়ে যাচ্ছে ধারালো ছুরিটা। আমি এবারও বাধা দিইনি। আমার বাধা দেবার শক্তি লোপ পেয়েছে। আমার গলা শুকিয়ে আসছে।
একটু পানি খাওয়া দরকার। আমার সামনে পিছনে এই বীভৎস লোকটা আর ঘুমন্ত লীনা ছাড়া কেউ নেই।
লীনা , জেগে উঠো।
মহাকালের ঘুম ছুটে যাক এক লহমায়।
জেগে উঠো তুমি।
' পিশাচটা রক্ত ঝরিয়ে আনন্দ পাচ্ছে। হা হা করে ভয়ানক হেসে উঠছে। স্রোতের মত রক্ত বের হচ্ছে লীনা'র দেহ থেকে।
.........................................
লোকটা বিকৃত মুখে চোখ দুটিতে চরম কটাক্ষ হেনে আমাকে দেখলো। আমি কোন অন্যায় করিনি। আমার কিছু করার নেই এই মুহুর্তে। নিজের হাত দুটো অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে। লোকটাকে কি বলবো, লীনা'র দেহ থেকে মাথাটা আবার বিচ্ছিন্ন করার আগে আমার হাত দুটি বিচ্ছিন্ন করে দিতে।
সাহস পাচ্ছিনা। যদি আমার হাত বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে দেহটাই বিচ্ছিন্ন করে দেয়। যেমন করে দিচ্ছে লীনা 'র।
............................................
একটু বিরতি চলছে।
... লোকটা খুনপরবর্তী ক্লান্ত দেহে বসে পড়েছে। তারও নিশ্চয় তেষ্টা পেয়েছে। পানি খুঁজছে। আমি পানির জন্য উদ্যত হতে গিয়ে থেমে গেলাম। ভাম্পায়ারটা লীনা 'র গলার কাছ দিয়ে মুখ লাগিয়ে রক্ত পান করে চলেছে। আমি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না আমিও কি তার মত পান করা শুরু করবো।
... আমিও ভীষন তৃষ্ণার্ত। আমি কি আরেকটা খুন করে ফেলবো। আমি কি বীভৎস সেই রক্তচোষায় রূপ নিচ্ছি? আমি আর পারছিনা।
.........................................
দৃশ্যটা আবার ঘটতে শুরু করলো।
...
ঠিক তখনি আমি জোর করে জেগে উঠলাম। প্রচন্ড জোরে হাঁপাতে লাগলাম।
এতক্ষণ তবে আমি কি পরাবাস্তব জগতে ছিলাম ?
না, এখানে কেউ নেই। এতক্ষণ যা দেখছিলাম তার কোন ছাপই এখানে নেই। চারপাশ শুনশান। আমার সামনে একটা প্রাইভেট কার দাঁড়ানো। অষ্টাদশী এক সুদর্শনা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। অবাক চোখে তাকিয়ে। সাথে যে লোকটা দাঁড়িয়ে আছে সে সম্ভবতঃ ড্রাইভার। ড্রাইভারের চোখগুলো রক্তলাল। মনে হয় পান-টান করে।
অবাক কান্ড, ড্রাইভার লোকটা দেখতে অবিকল সেই খুনি’র মত।
কিন্তু মেয়েটি! না এই অষ্টাদশীর সাথেতো লীনা 'র একটুও মিল নেই। লীনা আরো কালো, ঠিক।
মেয়েটি আমাকে বললো, 'আপনার কোন সমস্যা ? মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন'?
আমি কোন কথা না বলে তাকিয়ে রইলাম।
... আমি দেখতে পেলাম খুনি লোকটা আবার সক্রিয় হয়ে হয়ে উঠেছে। ড্রাইভারটা ধারালো ছুরিটা নিয়ে সেই অষ্টাদশীর ঘাড়ের পিছন দিয়ে বসিয়ে দিচ্ছে। মেয়েটি আমার দিকে উত্তরের আশায় তাকিয়ে আছে। মুর্হুতে মেয়েটি লীনা'য় রূপ নিচ্ছে। আমি চিৎকার করছি। আমার গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছেনা। লীনাকে সর্তক করতে পারছিনা। লোকটা লালচোখ দিয়ে আমার দিকে শ্যেনদৃষ্টি হেনে মেয়েটির ঘাড়ে ছুরি চালিয়ে দিলো। উফ, মা রক্ত পড়ছে। লীনা আমার দিকে তাকিয়ে উবু হয়ে উত্তরের আশায়। সে হাসছে। আমি কেঁদে উঠছি।
লীনা 'র শরীর বেয়ে রক্ত পড়ছে। আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম। আমার শরীরে লীনা 'র রক্তের ফোঁটা এসে পড়েছে। জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম।
..................................................
এবার আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম।
... একজন পথচারী আমার গায়ে মিনারেল ওয়াটার ছিটিয়ে দিয়েছে। ওঃ তাহলে ঐটা লীনার রক্তের ছটা ছিলনা।
.. সবাই বলাবলি করছে, ছেলেটার মনে হয় মৃগী রোগ আছে। দেখলেন না কেমন ছটফট করছিল। জুতোর পাটি শোঁকাতে হবে।
.....................................................
আমি সবার দিকে তাকালাম। অচেনা সব মুখ।
হঠাৎ চেনা একটা মুখ দেখলাম ভীড়ের পিছনে । আমার দিকে শ্লেষ মেশানো হাসি দিয়ে চলে যাচ্ছে। আমি চিৎকার করে সবাইকে ডাকছি। দেখেন, খুনিটা পালিয়ে যাচ্ছে। ধরেন একে। খুনিটা আমার লীনাকে খুন করেছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার সামনে পিছনে কেটে দিয়েছে। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে সেই লোকটার মত বীভৎস হাসি দিতে লাগলো। চারপাশ ভয়ানক সরব হয়ে উঠলো। মুহুর্তে পথচারীদের সবার চেহারা সেই রক্তচোষা খুনিটার মত হয়ে যাচ্ছে। আমি আর সহ্য করতে পারছিনা। সবাই আমার কথায় ঠাট্টা করছে। আমি চিৎকার করে লাফ দিয়ে উঠে লোকটাকে ধরতে গেলাম। তার সাথে দৌড়ে আমি পারছিনা। লোকটার ডান হাতে ধারালো সেই ছুরিটা চকচক করছে। বাম হাতে লীনা 'র হাত ধরা। লীনা ও দেখছি লোকটার হাত ধরে আমার দিকে কটাক্ষ হেসে দৌড়ে চলে যাচ্ছে। আমি সর্ব শক্তি দিয়ে লীনাকে লোকটার সাথে যেতে বারণ করছি। কেউ আমার কথা শুনতে পাচ্ছেনা । লীনা ও চলে যাচ্ছে। সেও আমাকে ভ্র“ক্ষেপ করছেনা। শুধু আমিই আমার কথার প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫২
৫০টি মন্তব্য ৫১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×