somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আড়িয়াল বিলের আনন্দ শুনুন ।। ১০ লক্ষ মানুষ ও সরকার বনাম কিছু ভূমি দস্যু!

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৩:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কোন কাজের এত বিরৃধীতা করি এবং তার সাথে হুজুগে বাংগালী কিছু মানুষ এত উৎসাহিত হয় তা দেখে আমার অনেক দুঃখ হয়। দেশের জলাধার আইন অনুযায়ী আড়িয়ল বিলে বিমান বন্দর করা যাবেই যাবে। কারন এই আইনের উপর ভিত্তি করে বন্যার পানি প্রবাহ অঞ্চলে বালি ভরাট করে বসুন্ধরা সহ অনেক গুলি প্রতিষ্ঠান তাদের বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালিত করছে। এবং আমি এও বলতে চাই এই সব প্রকল্পে অনেক ধনী প্রতিবাদকারির একাধিক প্লট বা ফ্লাট রয়েছে। সচেতন যারা তারা ঢাকা - মাওয়া সড়কের দুই পাশে বালি ভরাট ও এখনও ভরাট হয়নি কিন্তু ভরাটের প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিষ্টানের সাইনবোর্ড গুলি খেয়াল করলে বুঝবেন। দেখে নিই আইন কি বলে :
প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০
২ (চ) "প্রাকৃতিক জলাধার" অর্থ নদী, খাল, বিল, দীঘি, ঝর্ণা বা জলাশয় হিসাবে মাষ্টার প্লানে চিহ্নিত বা সরকার, স্থানীয় সরকার বা কোন সংস্থা কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বন্যা প্রবাহ এলাকা হিসাবে ঘোষিত কোন জায়গা এবং সলল পানি এবং বৃষ্টির পানি ধারণ করে এমন কোন ভূমিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

৩৷ আপাততঃ বলবত অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন ও তদধীনে প্রণীত বিধির বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷

৫৷ এই আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যতীত, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার হিসাবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন করা যাইবে না বা উক্তরূপ জায়গা অন্য কোনভাবে ব্যবহার করা যাইবে না বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না৷

৮ (১) কোন ব্যক্তি এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি অনধিক ৫ বত্সরের কারাদণ্ডে বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷

৮ (২) ধারা ৫ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া যদি কোন জায়গা বা জায়গার অংশ বিশেষের শ্রেণী পরিবর্তন করা হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নোটিশ দ্বারা জমির মালিককে অথবা বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিকে নোটিশে উল্লেখিত জায়গার শ্রেণী পরিবর্তনের কাজে বাধা প্রদান করিতে পারিবে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে অননুমোদিত নির্মাণকার্য ভাংগিয়া ফেলিবার নির্দেশ দিতে পারিবে এবং অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্তরূপ ভাংগিয়া ফেলিবার জন্য কোন ক্ষতিপূরণ প্রদেয় হইবে না।

(৩) এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিয়া যদি কোন নির্মাণকার্য সম্পাদিত বা অবকাঠামো তৈরী হইয়া থাকে সেই সকল অবকাঠামো আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবরে বাজেয়াপ্ত হইবে৷ (আমি রোদের ছেলের লিখা হতে নেয়া)

আমি কোন বিতর্কে যাব না। আমি শুধু সকলকে বলব । সরকার ঘোষনা দিয়ে এই জমি গুলি নিচ্ছে বলে আমারা আজ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠছি। কিন্তু কিছু সরকারি ও বে.সরকারি কো‍ং অঘোষিত ভাবে যে, আমাদের ফসলি জমি গুলি খেয়ে ফেলছে তা তো আমাদের চোঁখে পড়ছে না। বাবু বা নয়াবাজার যাই বলুন সেই ব্রিজ হতে মুন্সিগঞ্জ এ যাওয়ার পথে দুই ধারে কিছু দিন আগেও সবুজ ধান আর সরিসার হলুদ ফুল সহ নানা ফসল গুলি আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার প্রতিচ্ছবি ছিল । কিন্তু সকলের চোঁখের সামনে জমি গুলি ক্রমে ক্রমে কতগুলি ভুমি দস্যু প্রতিষ্ঠান খেয়ে ফেলছে। এবং আমারা যারা বিমান বন্দর না হওয়ার প্রতিবাদে সোচ্চার তারা গিয়ে অতি উচ্চ মূল্যে সেখানকার প্লট কিনছি। আর এই জমি গুলি কিন্তু সাধারন কৃষক বা মানুষ বেশী দামে লোভে পড়ে ঐ ভূমি দস্যূদের নিকট বিক্রি করে দিচ্ছে। আড়িয়ল বিলে যদি কোন বেসরকারি কোং কোন প্রজেক্ট করার জন্য অতি কৌশলে জমি কিনত তাহলে দেখা যেত আজ যারা প্রতিবাদ করছে তারা তাদের এই শেষ সম্বলটুকু বেশী দামে বিক্র করে দিত। এখন সরকার যেহেতু সরকারি দামে জমি নিবে তাই তাদের এত আপত্তি। ঢাকা - মাওয়া সড়কের দুই ধারে এমন অসংখ্য সাইনবোর্ড দেখা যায়। কোন সাংবাদিক ধারাবাহিক ভাবে এই বিষয় গুলি লিখে না। কারন সাংবাদকিতাও আজ অর্থের কারেন্ট জালে জড়িয়ে গেছে । নাহ মন্তব্য অনেক বড় হয়ে গেল । সত্য বলাতে হয়ত অনেকেরই সমালোচনার সম্মুখীন হব। তবে বিরুধীতার জন্য বিরুধিতা না করে আমাদের সঠিক বিরুধিতা করতে হবে। এই মানরে একটি বিমান বন্দর এখন না হলেও ২০ বছর পড়ে আমাদের লাগবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জমি এখনই অধিগ্রহন করতে হবে। তা না হলে ভূমি দস্যুরা এই আড়িয়ল বিল খেয়ে ফেলবে । তখন আমাদের ফসল আর বিমান বন্দর কিছুই হবে না। শুধু আমরা আহাম্মকের মত হাওয়া খেয়ে থাকব।
আর পদ্মা সেতুর পাশেই যদি বিমান বন্দরটি হয় তা হলে মুন্সিগঞ্জ হবে বাংলাদেশের প্রাণ কেন্দ্র এটা মুন্সিগঞ্জ বাসির বোঝা উচিত।

তবে ঢাকার উপর চাপ কমানোর জন্য এখন্ই নারায়নগঞ্জ হতে মুন্সিগঞ্জ সদর হয়ে বালিগাও হয়ে ঢাকা-মাওয়া সড়ক ধরে আবার ঢাকার সাথে সংযোগ করে যদি রেললাইন করে দেয় সরকার তাহলে ঢাকার ৩০ ভাগ লোকের চাপ কমে যাবে।

যার লিখার উপর ভিত্তি করে এই লিখা তার প্রতি -আপনার তথ্য বহুল লিখার জন্য প্রথমেই ধন্যবাদ। আমর এই লিখার মূল লক্ষ্য হল আড়িয়ল বিল সহ আইন অনুযায়ী সকল জলাশয় রক্ষার জন্য যাতে আমরা এগিয়ে আসি। আড়িয়ল বিল নিয়ে আগের একটি লিখার লিংক। যারা আগে পড়েননি তাদের জন্য- Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ১০:০৪
১৫টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×