১৯৯৬ সালে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল ক্ষমতায় আসুক এইই চেয়েছি। একের পর এক বোমা হামলা হওয়া আর আওয়ামী লীগের নিশ্চুপ থাকার কারনে বুঝতে পেরেছিলাম 'মুক্তিযুদ্ধ' এই দলের একটা হাতিয়ার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে বরং এটাকে ইস্যু করে রাজনীতি করাই এই দলের উদ্দেশ্য।
বঙ্গবন্ধু একজন মহান নেতা। কিন্তু এই নেতার প্রতি এতটা বিতশ্রদ্ধ আমি আগে হই নাই, যতটা হয়েছিলাম ১৯৯৬-২০০১ সালে। শেখ হাসিনাকে তেল মারার জন্য নাটকে-বক্তৃতায় অযথা বঙ্গবন্ধুকে টেনে আনা হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধুরই অপমান করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিল। শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষনই যুদ্ধের মূল ইঙ্গিত বলে মনে করি। আমাদের ৪ জাতীয় নেতার ভূমিকা নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকে না। কিন্তু শোনা যায় অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকেই তখন খুজে পাওয়া যায় নাই। মুক্তিযুদ্ধে সাধারন মানুষ তো দূরের কথা তাজউদ্দিন আহমেদের ভূমিকাই আওয়ামী লীগ যথাযথভাবে স্মরন করে না।
এই সরকার নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মত ইমোশনাল একটা ইস্যু নিয়ে এসেছে। নতুন ভোটাররা এতে সাড়া দিয়েছে তাতে বোঝা গেল দেশের তরুন প্রজন্মও মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে সচেতন। ঐ বয়সে আমিও তাদের মতই ছিলাম। ১৯৯৬-২০০১ সরকার আমাকে চূড়ান্তভাবে হতাশ করে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বলে আমি আর আওয়ামী লীগকে মনে করি না। বিএনপি-তেও অনেক মুত্তিযোদ্ধা আছে। এমনকি সেক্টর কমান্ডাররাও আছে।
আমার কাছে এখন ভোট দেয়ার জন্য দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য কে - এই প্রশ্নটাই গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন করতে পারবে এই ভরসা আছে কিন্তু আইন শৃঙ্খলার কি হবে তা নিয়ে ভরসা রাখতে পারছি না। তবে যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী করেন তারা যেন আমার মত হতাশ না হন এইটাই কামনা।
সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। ২০০৯ ভাল অনেক অনেক ভাল কিছু আপনাদের জীবনে নিয়ে আসুক এই আশা করছি। শুভেচ্ছা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

