মনে হল এই দিনটির জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু এ অপেক্ষা তো করার কথা ছিল না। কলেজের দিনগুলো কিভাবে উড়ে চলে গেল কিন্তু বলা হয় নি মনের এক কথা। বলা হয় নি অনেক পরেও। যখন বলা হল তখন তার হাতেও আর সময় নেই। আর আমারও। তবুও এ পৃথিবীতে একটি কথা না বলে চলে যাব তা ভাবতে ভাল লাগছিল না। তাই হয়ত অনর্থক এ কথাটি বলে ফেললাম। কতটা বিরক্ত হয়েছিল এখন আর তা মনে নাই। কি জানি হয়ত আগেই জানত। আর যে কথার আর কোন মূল্য নেই তা ভেবে কেইবা সময় নষ্ট করে।
সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আমি ধীরে ধীরে বের হলাম অফিস থেকে। তার আগে অহেতুক আয়নার সামনে কিছুটা সময় ব্যয় করলাম। কি লাভ? তবুও...। মহাখালী পেরিয়ে এগোলাম এয়ারপোর্ট রোড ধরে। ক্যান্টনমেন্ট এ ঢোকার পথে জ্যাম। পথে কিনে নিলাম সাদা গোলাপ। সাদা গোলাপ তার খুব প্রিয়। সিএনজি স্লো করে ঢুকে গেল ক্যান্টনমেন্ট। তারপরেই শহীদ আনোয়ার স্কুল। আমার মনে পড়ে এক সময় এখানেই শুরু হয়েছিল হৃদয়ের ঝড়। কখনও ৫ মিনিট আবার কখনও ১০ মিনিট এই স্কুলের আশপাশেই কেটে যেত। কি কি কথা হত আজ আর তেমন মনে পড়ছে না। কখন যেতে হবে তা নিয়েই মনে হয় কেটে যেত সময়টুকু। এগিয়ে গেলাম আরও কিছুটা পথ। তারপর আমি চোখ বন্ধ রাখলাম। তাকালাম না কোন দিকে, কোন বারান্দায়, কোন মাঠে। অথচ এক সময় চোখ ব্যাথা হয়ে যেত তাকিয়ে থাকতে থাকতে। তারপর পৌছে গেলাম তার বাড়ি। ৬ তলা বাড়ির ৪ তলায় সে থাকে। সিড়ি ভেঙে উঠে গেলাম তার ফ্ল্যাটে। অনেকটা হাপিয়ে গেলাম। দুরুদুরু করছে এ বুক। কলিং বেলে হাত দিয়েও সরিয়ে নিলাম হাত। মুহুর্তের জন্য ভাবলাম কেন এলাম। পরক্ষনেই মনে হল এর জন্যই তো অপেক্ষায় ছিলাম। বেল টিপে দিলাম। ১ বার তারপর আবার। একসময় তার হাত ধরার জন্যই অনেক সুখি হতাম। যদিও কখনও ধরা হয়নি। আজ কি আমি আরেকটু বেশী কিছু চাই? তার পায়ের আওয়াজ আসছে। আমিও স্থির হয়ে গেলাম। চোখের সামনে ভেসে উঠল তার মুখ। বেনী করা তার চুল, কপালের লাল টিপ, আমাকে রাগিয়ে দেয়া তার হাসি। একবার লাল শাড়ি পড়েছিল। কি যে সুন্দর লেগেছিল! ছুয়ে দেখতে ইচ্ছে করছিল খুব। আরেকবার বোরকা পড়ে আমার আশপাশেই ছিল কিন্তু আমি চিনতেই পারি নি। আজ তাকে কেমন দেখব? খুলে গেল দরজা। আমার মনে হল ঠান্ডা এক হাওয়া বয়ে গেল আমার কপাল ছুয়ে। চোখটা মনে হয় নিমিষের জন্য বন্ধও হয়েছিল। যখন খুললাম, দেখলাম লাল পাড়ের শাদা শাড়ি পড়ে, চুল পিছনে টেনে বাধা, পায়ে স্যান্ডেল আর মুখের সেই হাসি নিয়ে দাড়িয়ে আছে ও। চুল পেকে গিয়েছে পুরোপুরি। আর পাকবেই বা না কেন? আজ যে তার ৬০ বছর বয়েস।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

