সা রে গা মা পা ধা নি সা!
ডো রে মি ফা সো লা সি ডো।
এই তো আসলে মিউজিক,এ নিয়ে এত বাতচিত করার আদৌ কিছু আছে।আমি বলি আছে।আপনি একটা জ্যাজ গান শুনুন তো(লুইস আর্মস্ট্রং,মাইলস ডেভিস,ফ্রান্ক সিনাত্রা,বেনসন প্রভৃতি),তারপর আপনি ভারতীয়(যদিও ভারতীয় বেশিরভাগ রাগই পারস্য ও তুর্কী প্রভাবিত) রাগ শিবরন্জন ভালোভাবে শুনুন,এবার বলুন তো আপনার কি সংগীতের ধরন সম্পুর্ণ আলাদা মনে হচ্ছে কি না?মনে তো হবেই।
অথচ সবই কিন্তু সেই সরগমপধনস কেই ঘিরে।তাহলে কেন বিভিন্ন সংগীতে বিভিন্ন স্বাদ?
এর কারন আসলে যেখানে একটি নির্দিষ্ট সংগীতের উতপত্তি,সেখানকার মানুষের জীবনরীতি,জলবায়ু,পরিবেশের উপর নির্ভর করে থাকে।একারণেই আসলে বিভিন্ন মিউজিকের স্বর ব্যবহার,প্রয়োগ বিভিন্নরকম হয়ে থাকে।
যাহোক আজকের পর্বে আমি শুধু ইস্ট ও ওয়েস্টার্ণ মিউজিকের প্রবণতা নিয়ে সংক্ষেপে লিখবো।
ভারতীয় সংগীতও যথারীতি একটি মেলোডী বা সুরকে ঘিরে আবর্তিত হয়।অর্থাত সুরটি যে রাগেই বাজুক তাতে আসলে অনুভুতির ব্যপ্তি বেশী প্রকাশ পেয়েছে,ভারতীয় মিউজিকে অক্টেভ ও হারমনির সুনিপুন ব্যবহার উপেক্ষিত হয়েছে।এখানে সংগীতচর্চার মূলে ছিলো একটি ঠাটের আরোহন,অবরোহনে নিহিত।উত্তর ভারতীয় ও দক্ষিন ভারতীয় ভাগে এখানকার ধ্রুপদ সংগীত চর্চা অনেক ঘরানাভিত্তিক এবং সীমিত গুরু শিষ্যে সীমাবদ্ধ।
আবার আবার ক্লাসিক ওয়েস্টার্ণ(ইটালী,জার্মান,ভিয়েনা প্রভৃতি) মিউজিকে অন্য চিত্র দেখা যায়।সেখানে যন্ত্রসংগীত বা চার্চের প্রার্থণাসংগীতে একই মেলডীকে ঘিরে অনেক হারমনি,স্কেল বা স্বরসপ্তকের ব্যপক প্রয়োগ দেখা যায়।যা ভারতীয় মিউজিকে চিরকাল উপেক্ষিত ছিলো।
পাঠকের মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে যে এই হারমনি বিষয়টা কি?
কোনো সুরকে যদি সা,গা এবং পা থেকে একই আরোহন ও অবরোহন ব্যবহার করে একই সময়ে গাওয়া বা বাজানো হয়,তবে এই তিনটি স্বর একে অপরকে হারমোনাইজ করবে।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



