আমার প্রিয় পোস্ট
- অন্যপৃথিবীর ঈশ্বর - মাঠশালা
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- জ্ঞানপিপাসুদের জন্য কিছু ফ্রি ই-বুক সাইট - রাকিব
- নবীনদের জন্য - নাদান
- বীভৎস যৌন নির্যাতন, কিন্তু এড়িয়ে গেছেন সবাই - শেরিফ আল সায়ার
- পেনড্রাইভের ভাইরাস থেকে মুক্তির উপায় - লংকার রাজা
- রিমিক্স মৌয়ালের শব্দঠোঁট - রথো রাফি
- নাতিশীতোষ্ণ - মাঠশালা
- সূর্যাস্ত মন্দির - তারিক টুকু
- Another Brick in the Wall--Pink Floyd - রাশেদ
- ওয়েব সার্চ টিপস: গুগুলে ফাইল খুঁজতে খুঁজতে হয়রান? - ত্রিভুজ
- Enigma ব্যান্ড নিয়ে কিছু কথা - রাশেদ
- খুনীর পুনর্বাসন,পলায়ন বা তিনটি মৃত প্রাণী - মুয়ীয মাহফুজ
- অনলাইন এ সরাসরি কনভার্ট করে ইউটিউব ভিডিও ডাওনলোড করুন...... - গিফার
- বাংলা গান ডাউনলোডের জন্য সবচে ভাল সাইট কোনটি? - কেএসআমীন
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী - ৪ - মিরাজ
- অস্হিরতা - অভিজিৎ
- প্রার্থণা, চিরবৈশ্বিক অন্ধকার - মৃদুল মাহবুব
- ব্লুজ-কালো মানুষের বেদনার নীল রক্ত রাঙানো সংগীত(মিউজিক ভাবনা২) - মুয়ীয মাহফুজ
- বাংলা বই ফ্রি ডাউনলোড করুন - রেজা রহমান
- কবিতার প্রাথমিক ছন্দ - শেখ জলিল
- ক্রোধ - মাঠশালা
ব্লুজ-কালো মানুষের বেদনার নীল রক্ত রাঙানো সংগীত(মিউজিক ভাবনা২)
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:০৫
সময়টা ১৮৩০-১৮৭০,আফ্রিকার কোনো এক নদীর ধারে,খেলছিলো একদঙ্গল কালো কালো ছেলেমেয়ে।কিন্তু কিসের যেন ভয়ে আছে তারা। কয়েকদিন আগে এ অন্চলে কিছু সাদা দেবতা এসেছে পাহাড় সমান জাহাজে চড়ে,বাবা মা'রা গিয়েছিলো দেবতাদের স্বাগত জানাতে,ফিরে আসেনি।সবাই খুশি হয়েছে এই ভেবে যে তাদেরকে দেবতা স্বর্গে নিয়ে গ্যাছেন।কিন্তু কিছুদিন না যেতেই হাতিমুড়ো,যাভাগিলু,সুলামাকি,
জিভালুকি সহ আরো আরো কয়েকশো জন হাওয়া।
তারপর আবার জাহাজ এলো,আবার অনেককে ধরে নিয়ে গ্যালো,
আবার,আবার,আবার
শেষবারে ধরা পরেছে আরমিলো নিজেই,সে ছিলো উপাসনা দলের মুল গায়ক।তাদেরকে জাহাজে বেধে রাখা হয়েছে।
গল্পটির দৃশ্যটি কাল্পনিক,কিন্ত ১০০ পার্শেন্ট সত্য।কারণ সে সময়ে দক্ষিণ আমেরিকার রাস্তাঘাট,ভবন,রেলরোড প্রভৃতির কাজে প্রভৃতির
কাজে দরকার অগণিত শ্রমিক কোথা থেকে আনা যায়?হ্যা,আনা যায় অসভ্য ইতরের দেশ আফ্রিকা থেকে।সেই শুরু হলো দাসের জন্য অভিযান,জাহাজে ভরে দলে দলে বন্দী কালো মানুষ কে নিয়ে আসা হলো।খাটানো হলো দাসত্বের কঠোর শৃঙ্খলে।
আরমিলোকে এখন সকাল বিকাল কাজ করতে হয় এক খামার বাড়ীতে।খামারবাড়ীর নিয়ম খুব কড়া।সকালবেলা থেকে কোজ শুরু,সন্ধ্যায় শেষ।তারপর রাতের খাবার,ও চোলাই মদের পর ভরপেট ঘুম!তার বন্ধুরা কাজ করছে রেইলরোড তৈরিতে।আরমিলোরই বরঙ কাজ কম এখানে।তার বোনটা মনে হয় কস্টে আছে,সে এখন খামারবাড়ীর মালিকের উপপত্নী।
ক্রীতদাসদের খাবারের প্লেটে ও কাপে নিত্য ব্যবহার্য সব কিছুতেই নীল রঙের একটা গোল একটা বৃত্ত আকা থাকতো যা ক্রতদাসদের প্রতীক।তাদেরকে সন্ধ্যার পর প্রচুর চোলাই মদ দেয়া হতো শ্রমের জন্য পর বিনোদনের জন্য।(আসলে মদ দেয়া হত এই কারণে যাতে তারা বিদ্রোহ না করতে পারে)
একদিন আরমিলোর নেশা হয়ে গেছে অনেক,তার সঙগীরাও টাল হয়ে পড়ে আছে আশেপাশে।ট্রাইবাল আরমিলো তার আফ্রিকাণ বাশিতে একটা করুণ সুর তুললো,তার বন্ধুরাও গ্লাস আর প্লেটে তাল দিতে লাগলো টুং টাং করে।
এভাবে প্রতি সন্ধ্যায় আরমিলো আর সঙ্গীরা এক ধরণের সঙ্গীত করতো,শাদা আমেরিকানোরা তাকে ব্যাঙগ করে ব্লুজ বলতো সেই নীল বৃত্তের দাসত্বের ট্রেডমার্কের কারণে।
দাসেদের সংগীত হতো প্রতিদিন,দাসত্বের কান্নায় ভরে থাকতো তার প্রতিটি সুর।
এই হলো আমেরিকার লোকমুখে প্রচলিত ব্লুজ মিউজিকের কাহীনি।
এছাড়াও সে সময় ব্লুজ মানে আফ্রিকানদের মিন করতো।আমেরিকানরা তাদের বলতো ব্লু ডেভিলস যার মানে হলো অতৃপ্ত আত্না,অসুখী মন,বিষন্নতা ইত্যাদী।
সর্বপ্রথম ব্লুজ উৎপত্তি হবার সময়কাল ধারণা করা হয় ১৮৭০।কিন্তু জনসমক্ষে আসে ১৯০০-১৯১৪ সালে।রাবার্ট জনসন,মাডি ওয়াটারস,ব্যাসি স্মিথ আরো অনেকে হলেন ব্লুজ আর্টিস্ট।
ব্লুজ আসলে একাটা ফিউশন মিউজিক যা পরবর্তীতে জ্যাজ মিউজিক সৃস্টি করে।ব্লুজ হচ্ছে আফ্রিকান,এমেরিকান ও ইউরোপিয়ান মিউজিকের এক অনন্য মিশ্রণ।কারণ এখানে আমেরকান ও ইউরোপিয়ান সরন্জাম,যেমন,গিটার,ভায়োলিন,পিয়ানো,হারমোনিকা,বেস প্রভৃতির ব্যভার কৃষ্ণাঙ্গরা করেছে। তবে এখানে আফ্রিকান ট্রাইবাল সংগীতের ধরণই মুল এর বৈশিস্ঠ্য।যাহোক ফিউশন ও জ্যাজ নিয়ে পরে ালোচনা করবো।
(পোস্টের ছবিটা ব্লুজ আর্টিস্ট ব্যাসি স্মিথের)
প্রকাশ করা হয়েছে: মিউজিক বিষয়ক ভাবনা বিভাগে ।
লেখক বলেছেন: আরমিলো তো আমার কাল্পনিক চরিত্র যা আমি সৃস্টি করেছি ব্লুজের উৎপত্তি বর্ণনার জন্য।
তবে মাডি ওয়াটারস ব্লুজ শুনলে তোর ভালো লাগবে।এছাড়া জে.জে ক্যাল আর এরিক ক্ল্যাপটনের গানগুলো মডার্ণ ব্লুজ বলে স্বীকৃত। জীবনী আমি আরো পরে দিবো বলে ভেবেছি।
ব্লুজ বলেছেন:
জানলাম। আমিতো ভেবেছি আপনি আমারে নিয়ে লেখা শুরু করেছেন ...হা হা। আরো জানার অপেক্ষায়। ++
লেখক বলেছেন: তা কেন হবে....হা হা
ধন্যবাদ।
সবুজ আরেফিন বলেছেন:
এরকম একটা তথ্যধর্মী লেখার জন্য ধন্যবাদ মুয়ীজ মাহফুজ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সবুজ আরেফিন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
আউটসাইডার বলেছেন:
দারুণ লাগলো ।প্লাস
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ আউটসাইডার।
বুড়া শাহরীয়ার বলেছেন:
অসাধারন! কিছু কিছু পোস্টের জন্য ব্লগে আসা সার্থক। আপ্নের টা তাদের অন্যতম
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শাহরীয়ার আপনাকে।
অভিজিৎ বলেছেন:
ব্লুজ মিউজিক সম্পর্কিত সাবলীল এই গদ্যটি বেশ ভালো লাগলো।পৃথিবীর সকল মহৎ সৃস্টির নেপথ্যেই লুকিয়ে আছে এমনই এক নীল রক্তের বেদনার্ত কোরাস।সাবাস,মুয়ীয++।খুবই ভালো,অ-নেক ভালো ভালো লাগছে।
আসলে আমি মহৎ এই উদ্দেশ্য ও নিরাকার অদৃশ্য প্রক্ষাগৃহে এক অপঘাত দেখতে পাই দুরে,আর আমার কৃতদাশ আত্না আমার বশ্যতা স্বীকার করে নাই,কখনো।মহৎ ও অত্যাচার ও সদাচার এই তিনের পার্থক্য বুঝিনাই এখনো.....বুঝিনাই....বুঝবোনাও কোনোদিন...
দুরে আমার নীল রক্ত ঝরে যায়,
আমার ব্যক্তিগত চিকিৎসক আমাকে ঔষধ ও ব্যান্ডেজ কিছুই দেয়নাই!!!
গুহ বলেছেন:
কালোদের রক্ত জমিয়ে জমিয়ে এভাবেই রঙ-এর কৌটা বানানো হয় পৃথিবীময়। বেশ ভালো লেগেছে লেখাটি।
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
বাকিটুকু জলদি লেখেন। অপেক্ষায় আছি।
লেখক বলেছেন: ইদানীং স্লাইড বিজি হয়ে গেছি পরীক্ষার কারণে,লিখবো কয়েকদিন পরেই।



















আরমিলো সমপর্কে আর কিছু জানা কি সম্ভব। নিদেন পক্ষে তাঁর কিছু গান।