আমার প্রিয় পোস্ট

সদ্যপ্রয়াত সুমন প্রবাহনের কিছু কবিতা

২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৩০

শেয়ারঃ
1 0

সুমন প্রবাহন গতকাল দুপুরে আত্নহত্যা করেছে।একথা বোধহয় অনেকেই জানেন,আর যারা এখনো জানেননা তারা এখানে দেখুন
সুমনের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিলো আমাদের কালনেত্র পত্রিকা করার সময়টিতে।আনুমানিক ২০০০ সালে,আজিজ মার্কেটের পূবের বারান্দায় আমরা প্রতিদিন আড্ডা দিতাম।প্রাণোচ্ছল,হাসিখুশি সুদর্শন কবিকে দেখে কখনো ধারণাও করিনি সে একদিন আত্নহত্যা করতে পারেকিন্তু সত্য কথা হলো এটাই যে কবি সুমন প্রবাহনকে আজ ভোরবেলা ফজরের পর মিরপুর বুদ্ধিজীবি গোরস্হানে কবর দয়া হয়ে গ্যাছে।

সুমন প্রবাহনের এ কবিতাগুলো কালনেত্র চতুর্থ সংখ্যায়(মার্চ-২০০৩)প্রকাশিত হয়েছিলো।

পতন-১

ভূতগ্রস্থ মহাশুন্যে ঝাপিয়ে মেলেদি দু'হাত
শুনশান পতন নামে অস্তিত্বের চরাচরে
পতন ডানার এ ঝাঁপে হারিয়ে ফেলি সময়
বুকের ভিতর ওৎ পাতে সময়হীন মহাকাল
স্হানীকতা শুন্য এ যাত্রায়,
যা দেখি সেখানে চোখ নয়
যেখানে চোখ সেখানে দৃস্টি নয়।
সমাধিস্হ আত্নার পর্দা ছিড়ে তাকালে,
পৃথিবী নামে
ঘরে কবরের দাগ
ঝোড়ো কাকের মড়ক সংসারে
কোথায় আমি!
জানিনা,জানার নেই।

অন্ধকার রাতে নিজস্ব নক্ষত্রের পাহাড়ায়
অনেক চেনা কবরের অচেনা অন্ধকারে
কংকালের গলা জড়িয়ে ধরি
মা,আমার গায়ে খুব জ্বর!

চারিদিকে চৈত্রের চৌচির

ভাঙনও ভেঙে যাবে একদিন
বিশ্বাস মাত্র।
যদিও চারিদিকে চৈত্রের চৌচির
রক্তের কণিকায় কণিকায় বিশ্বাস হত্যার প্রেত নাচে।
প্রতিটি পলে পলে,প্রতিটি সত্য মহাজগতে প্রতিদিন ফলে।
ভ্রান্তিভোগে যত আছে-
আধঢোবা,আধবোজা,আধাবোজার সিকি আধুলী।
থাক এসব,
যেহেতু বললেই বোধ তার পূর্ণতা হারায়
মাঠে যাই বরং,
ক্ষেতের আল বেয়ে
হাটু জলে ছল ছল জল-শব্ডে হেটে যাই
একটু জিরিয়েনি ক্ষেতের টঙে
স্টোভের ছাই আগুনে,ধরিয়ে নিই সোনালী বিড়ি।
শুয়ে কানপাটি-
পাটাতনের নীচে শোল গজারের ঘাঁই
মাঠের বাতাস বুকের ঘ্রাণ নিয়ে উড়ে যায়
কিছু দীর্ঘশ্বাস গুজে দিই হাওয়ার খোঁপায়।
তাতে ধানের সবুজ চারাগুলো
দুলে দুলে সুর তোলে
ঘুমিয়ে পড়ি হেমন্তের আকাশের নীচে
শস্য জলের সবুজ পাহাড়ায়।


অলৌকিক বোধে বধির

স্হবির হয়ে আছি আশ্চর্য জহুরী
অলৌকিক বোধে বধির
স্হির বৃত্তাকার আলো যে বোধ বুদ্ধির অগম্য।
কেউ নেই একক মহাবিশ্বে
আপন গ্যালাক্সির অখ্যাত পাড়ায়।
এমন ভিখেরী অর্থ করে না ধনী

বুদ্ধির বাঁকা হাটে হৃদয়ে ধারালো মন্দা
আর এমন ভাটিতে
শুকিয়ে যায় এমনকি নালা-ডোবা।

কেচোঁ খুঁড়তে সাপ-এমন লোকসত্যে
যেন দুমড়ানো ঝোড়ো টিন।
তবুও শিশু হাসতে খেলতে মুঠোয় নিতে জানে সাপের ফণা।
কোনো মন্ত্র নেই,ঔষধ নেই,নেই কোনো যাদু
কয়েক টুকরো আগুণ কেমন নাচায় দেখো
গোটা কবরের সবুজ গোলক।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: প্রিয় কবিতা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৪
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: আপনার বন্ধুর আত্মা শান্তি পাক।

তার কবিতা গভীর বেদনার কথা বলে।
২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৯

লেখক বলেছেন: তার কবিতা আসলেও গভীর বেদনার কথা বলে।আমি কম্পোজ করতে গিয়ে এ বিষয়টিই ভাব ছিলাম।

২. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৪২
পজিটিভ বলেছেন: লিন্ক কাজ করে না
২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৭

লেখক বলেছেন: এবার ঠিক হয়েছে।এবার দেখুন।

৩. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৫
সুতরাং বলেছেন: ধন্যবাদ কবিতাগুলো পোস্ট করার জন্য।
নব্বইয়ের দশকের কবি শামীম কবীর-এর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। সে'ও আত্মহত্যা করেছিল। তার একটি কবিতান কিছু লাইন স্মৃতি থেকে লিখছি-
এই শহরে আমি দেয়ালের মতো
দেয়ালের মতো আছি দেয়াল জড়িয়ে
আমার শরীরময় দেয়ালের অজস্র ফাটল...
২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৫১

লেখক বলেছেন: শামীম কবিরের অনেক লেখাই আমার খুব ভালো লাগে।ধন্যবাদ আপনাকেও শামীম কবিরের কিছু লাইন শেয়ার করার জন্য।

৪. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৮
পজিটিভ বলেছেন: আরো কবিতা দেন প্লিজ।
২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৩

লেখক বলেছেন: দিচ্ছি,রাত্রে দেবো।

৫. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:০৭
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: খবরটা শুনে মনটা খুব খারাপ হয়ে আছে।
২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৪

লেখক বলেছেন: আমারও মন খুব খারাপ হয়ে আছে মাহবুব ভাই,

২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৫

লেখক বলেছেন: আমাদের কারোরই এই বিলাপ ছাড়া কি কিছুই করার নেই?

৭. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:২৫
আমজাদ সুজন বলেছেন: আজ সকালে অফিসে এসেই ব্লগে জানলাম। শেষ কবে দেখা হয়েছিল মনে পড়ছে না। তবে ২০০৩
এর এক বইমেলায় যে টগবগে লম্বাচুলের সুমনকে দেখেছিলাম সেই ছবিটাই বারবার মনে হচ্ছে। এই প্রথম কোনো পরিচিত কবিবন্ধুর আত্মহত্যা শুনে খুব হতাশ লাগছে নিজের।
এতো কবিতায় লেখা কোনো আত্মহত্যাকারীর লাইন নয় এযে স্বয়ং কবির আত্মহত্যা...
৮. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৪
কাল্‌বেলা বলেছেন:
!! কি সুন্দর সব কবিতা গুলো!!

যদি পরকাল বলে কিছু থাকে, যদি এই জীবনের পরও থাকে আরও কোন নতুন জীবন, তবে অবশ্যই সে জীবন যেন তাঁর, এ জীবনের এতটুকুন দূঃখবোধকে স্পর্শ করতে না পারে- এই কামনাই করি।
৯. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৭
পুতুল বলেছেন: একদিন সব কিছুই প্রয়াতঃ হবে।
আমাদের ঘাড় ধাক্কাদিয়ে প্রয়াত করা হবে।
আমরা সাহস করে বিদায় নিতে পারব না।
মনে পরে বুড়ো আর সাগরের লেখক হেমিংওয়েকে,
তিনিও সেচ্ছায় বিদায় নিয়েছেন।
মনে পড়ে ষ্টেফান সোয়াইগকে তিনিও মানুষের
পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী মনে করেননি।

ভাল থাক কবি তোমার স্বপ্নের পৃতিবীতে।
১১. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৩৮
মুজিব মেহদী বলেছেন: পতন-১

ভূতগ্রস্থ মহাশুন্যে ঝাপিয়ে মেলেদি দু'হাত
শুনশান পতন নামে অস্তিত্বের চরাচরে
পতন ডানার এ ঝাঁপে হারিয়ে ফেলি সময়
বুকের ভিতর ওৎ পাতে সময়হীন মহাকাল
স্হানীকতা শুন্য এ যাত্রায়,
যা দেখি সেখানে চোখ নয়
যেখানে চোখ সেখানে দৃস্টি নয়।
সমাধিস্হ আত্নার পর্দা ছিড়ে তাকালে,
পৃথিবী নামে
ঘরে কবরের দাগ
ঝোড়ো কাকের মড়ক সংসারে
কোথায় আমি!
জানিনা,জানার নেই।

অন্ধকার রাতে নিজস্ব নক্ষত্রের পাহাড়ায়
অনেক চেনা কবরের অচেনা অন্ধকারে
কংকালের গলা জড়িয়ে ধরি
মা,আমার গায়ে খুব জ্বর!


মনে হচ্ছে, এ কবিতাটায় ২০০৩ সালেই সুমন ওর মৃত্যু লিখে রেখেছিল। গায়ে মৃত্যুজ্বর নিয়েও ও প্রায় পাঁচ বছর বেঁচে রইল। বিস্ময়কর!
১২. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:২৮
রাশেদ বলেছেন: ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।
১৩. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৬:৩৫
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: অসাধারন কবিতা।
আত্নহত্যা কে কেন জানি মেনে নিতে পারছি না।
অনেক খারাপ লাগছে।:(
১৪. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:২৮
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: "অন্ধকার রাতে নিজস্ব নক্ষত্রের পাহাড়ায়
অনেক চেনা কবরের অচেনা অন্ধকারে
কংকালের গলা জড়িয়ে ধরি
মা,আমার গায়ে খুব জ্বর!"...........................

আহারে মা!
জানতো যদি মায়ের কত কষ্ট........
বোকা ছেলেরা এভাবে চলে যেতোনা।

মরে যে কেউ যাবো..........যে কোন সময়!
বাঁচিনা কেনো দুঃখ কষ্ট নিয়ে
যে কোন প্রতিকূলতায়
না হলে আর মানুষ হলাম কেনো!

শুভেচ্ছা থাকলো।

২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৩

লেখক বলেছেন: সত্যি কথা বলতে কি ওর মায়ের মৃত্যুর পর ও একদম ভেঙে পড়ে।এরপর আর দাড়াতেই পারেনি।মায়ের মৃত্যুর পরের সাত আটদিন পর সে তার সকল বন্ধুদেরকে কোনো এক কবির একটি কবিতার অনেক ফটোকপি করে সবাইকে দেয়,আমাকেও দিয়েছিলো।কবিতাটির শেষ দুটি লাইন ছিলো....
"ও আকাশ ও মাটি আগলে রাখো মা-কে
মা যেমন আগলে রাখতো প্রত্নবেদনাকে"

২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:০৮

লেখক বলেছেন: সুমনকে মীরপুর বুদ্ধীজীবী কবরস্হানে কবর দেয়ার সময় কোনো জায়গা খালি পাওয়া যায়নি তাই সুমনকে তার মায়ের পুরনো কবরেই কবর দেয়া হয়েছে।

"অন্ধকার রাতে নিজস্ব নক্ষত্রের পাহাড়ায়
অনেক চেনা কবরের অচেনা অন্ধকারে
কংকালের গলা জড়িয়ে ধরি
মা,আমার গায়ে খুব জ্বর!"........................."

২০০৩ সালে সুমনের এই লেখায় কি সুমন কি তখনই জানতো যে সে আসলেই মায়ের কংকাল জড়িয়ে ধরে বলবে আমার গায়ের এই মাংসের ভেতর বয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার ডিগ্রী সেলসিয়াস জ্বর!সুমন কিভাবে জানলো তার ভবিষ্যৎ?অদ্ভুত বিষয়।

সুমন তুমি কি এখন খুশি?সুমন তোর দুঃখ কি একটু কমেছে রে এবার?তুই কি আসলেই তোর মায়ের কাছে যেতে পেরেছিস?

সুমন,যদি কখনো পারিস আমাকে স্বপ্নে এসে একটু জানিয়ে যাস রে পাগল।ভালো থাকিস।

ধন্যবাদ সাজি আপা,অনেক কিছু আপনি মনে করিয়ে দিলেন।আপনিও ভালো থাকুন।

১৫. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:০৬
মাজুল হাসান বলেছেন: যেহেতু বললেই বোধ তার পূর্ণতা হারায়
মাঠে যাই বরং,''.....



আপনারা কেউ জানলেন না তার অভিমান?!

 

মোট সময় লেগেছে ২.৯০০১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
মুয়ীয মাহফুজ নামক একজন মানুষের ক্রমবিবর্তন লিখে যাই।কবিতা আমার খাদ্য।কবিতা আমাকে খায়,আমাকে দেখে পালায়।মিউজিক করি,একটা ব্যান্ড আছে।নাম মনোসরণি।গিটার বাজাই♪ ♫...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ