আমার প্রিয় পোস্ট
- পল সেজাঁ - মাহবুব রশিদ
- দ্য সিকার । The Seeker :: প্রিয় কিছু গানের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা। - শূন্য আরণ্যক
- ২০০৯ এর সুরগুলোঃ এলবাম কালেকশন ০১ (মেটাল ও রক) - প্রিয়তমেষু
- রাগ শিবরঞ্জনী - সজল শর্মা
- সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ৪৮টা ইংলিশ মুভির ৪০০মেগাবাইট ডিভিডি-রিপ (মিডিয়াফায়ার লিংক+পোস্টার) - কাঙাল মামা
- আর্টস (http://arts.bdnews24.com) -এর দু বছর । কিছু বাছাই লেখা - ব্রাত্য রাইসু
- বিশ্ববিবেককে কাঁপিয়েছিল যে ছবি - জোবাইর
- আধুনিক ও উত্তরাধুনিক : সলিমুল্লাহ খান - জ্ঞানদাস
- নিজেই বানান ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন - 'লেনিন'
- বিজয় থেকে বাঁচান ৪,০০০+ কিলোবাইট !! (বিজয়ের সকল সুবিধা অক্ষুন্ন সত্তেও) - এস.কে.ফয়সাল আলম
- ~*~*~IP দিয়ে খুজে বেড় করুন যাকে খুজছেন তার অবস্থান!!~*~*~ - এ. এস. এম. রাহাত খান
- ব্লগের ESET NOD32 Antivirus ও ESET Smart Security ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে....... - নাফিস ইফতেখার
- বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধপরাধীদের বিচার না হওয়ার অন্যতম কারণ: ওয়াহাবী কানেকশন। - ইমন জুবায়ের
- প্রিমিয়াম লিঙ্ক জেনারেটর (আপডেটেড - ১৭ই ডিসেম্বর ২০১০)
- অরণ্যচারী
- মুভি ডাউনলোড করুন ইচ্ছেমতো - ৬০০ মুভির লিস্ট - মিডিয়াফায়ার - মইন
- ফিল্মমেকার জ্যঁ রেনোয়ার সাক্ষাৎকার ঃ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় - রুদ্র আরিফ
- ফ্রি মুভি ডাউনলোড!!! (১০০% ঝামেলাবিহীন এবং ওয়ান ক্লিক ডাউনলোড) - মুভি পাগল
- ব্যাপক মেটাল ক্লাসিফিকেশন আর তদ অনুযায়ী ডাউনলোড লিংক- রোজার মধ্যে মেটালগানের বস হইয়া যান সবাই-২! - উদাসী স্বপ্ন
- ঘুম - মাঠশালা
- হিমঘরে ধূসর কিশোর - হাসান মাহবুব
- সীড ব্যারেটঃ শাইন অন! - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- বিবৃতি তানভীর-এর কবিতা - মাঠশালা
- বেহালা : কিছু উচ্চমার্গীয় সূর - আকাশ অম্বর
- ইংরেজ কবি বায়রন: প্রেমিক ও বিপ্লবী - ইমন জুবায়ের
- রাত আর গিটারের টুংটাং - রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত
- কয়েকটা রেপিডশেয়ার প্রিমিয়াম লিংক জেনারেটর সাইট। - লুলুপাগলা
- অনেক দিন পর বোর্হেসকে নিয়ে - রায়হান রাইন
- যাদুঘরের চাকা - তৈমুর রেজা
- লুইস প্রিমা : লুইস আর্মস্ট্রং : ববি ডারিন :: মজার , সুন্দর আর ভাবার মতো - শূন্য আরণ্যক
- স্তেফান মালার্মে: বিশুদ্ধ কবিতার পথিকৃৎ ... - ইমন জুবায়ের
- পাগানিনি ও ভানেসা মেই (উৎসর্গ: মুয়ীজ মাহফুজ) - ইমন জুবায়ের
- জীবনানন্দ দাশ : কবিতায় খুঁজি বাংলার রূপ - একরামুল হক শামীম
- আগুনলতা - নৃপ অনুপ
- Photoshop Shortcut Key for all version - জেমিনি
- মহীনের ঘোড়াগুলি - দুঃখবিলাস
- সাম্প্রতিক দেখা মুভি - ৫ - দারাশিকো
- আমার প্রিয় পোস্ট : মলয় রায়চৌধুরী'র কবিতা প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার - নৃপ অনুপ
- চলচ্চিত্রে কল্পবিজ্ঞান: ইতিহাসের ইট, পাথর ও স্তম্ভ - বিধান রিবেরু*
- ফটোশপ টিউটোরিয়াল: ফটোশপ সিএস এ পানির ইফেক্ট - মুহাম্মাদ তারিক সাইফুল্লাহ
- উইন্ডোজ এর শম্বুক গতি -১
- আবুফয়সাল আহমেদ
- সে রাতে উৎসব ছিল, শহীদুল জহিরের সঙ্গে... - রেজা ঘটক
- Online - এ বাংলা বই - মশিউর রহমান মেহেদী
- যারা ল্যাপটপ কেনার কথা ভাবছেন...একটি সতর্কতামুলক পোষ্ট - তাসমান
- জ্যাজ, কালো মানুষের আনন্দ বেদনার সংগীত - লাল দরজা
- ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের জগতে আপনাকে স্বাগতম (অনেকগুলো সফটওয়্যারের বর্ননাসহ ডাউনলোড লিংক) - নাফিস ইফতেখার
- আমার ব্যান্ড "মনোসরনি"র একটা গান(পালিয়ে বাঁচি) শুনুন - মুয়ীয মাহফুজ
- ফায়ারফক্সের দরকারী কিছু অ্যাড-অন - নাসির খান
- অংশসমগ্র - সাইদ র'মান
- কতগুলো ফ্রী মুভি ডাউনলোডের সাইট! সাথে মুভী ডাউনলোডের ইউনিভার্সাল সাইট! - ঢিল মারে কে মোর টিনের চালে
- কম্পিউটারের গতি কমার কারন ও গতি বৃদ্ধির কিছু কৌশল [খন্ড- ১] - মোঃ শরিফুল ইসলাম সবুজ
- জোছনা, সেইরাতে তবুও পৌষ মেখেছিলো - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- আসুন আমরা Rapidshare থেকে Resume Support সহ Super Speed এ File Download করি... - অতিথি_পথিক_মানুষ
- ইউটিউবে আপনারা কি মাস্টারপিস সিনেমাগুলো দেখেন? - ফাহমিদুল হক
- আপনার পিসিকে ভাইরাস মুক্ত রাখতে চান? - নিউটন
- ফ্রীতে নিজের একটা সাইট করুন ডমেইন সহ সবেই ফ্রী... - নিঃসঙ্গ
- অন্যপৃথিবীর ঈশ্বর - মাঠশালা
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- জ্ঞানপিপাসুদের জন্য কিছু ফ্রি ই-বুক সাইট - রাকিব
- নবীনদের জন্য - নাদান
- রিমিক্স মৌয়ালের শব্দঠোঁট - রথো রাফি
- নাতিশীতোষ্ণ - মাঠশালা
- Another Brick in the Wall--Pink Floyd - রাশেদ
- ওয়েব সার্চ টিপস: গুগুলে ফাইল খুঁজতে খুঁজতে হয়রান? - ত্রিভুজ
- Enigma ব্যান্ড নিয়ে কিছু কথা - রাশেদ
- খুনীর পুনর্বাসন,পলায়ন বা তিনটি মৃত প্রাণী - মুয়ীয মাহফুজ
- বাংলা গান ডাউনলোডের জন্য সবচে ভাল সাইট কোনটি? - কেএসআমীন
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী - ৪ - মিরাজ
- অস্হিরতা - অভিজিৎ
- প্রার্থণা, চিরবৈশ্বিক অন্ধকার - মৃদুল মাহবুব
- ব্লুজ-কালো মানুষের বেদনার নীল রক্ত রাঙানো সংগীত(মিউজিক ভাবনা২) - মুয়ীয মাহফুজ
- বাংলা বই ফ্রি ডাউনলোড করুন - রেজা রহমান
- কবিতার প্রাথমিক ছন্দ - শেখ জলিল
- ক্রোধ - মাঠশালা
অভিজিৎ দাসে'র নিগ্রো পরী'কে আমি বলছি,তোমার পায়ে নুপুরের ছলে বাঁধা রয়েছে শেকল।এদিকে অনতিদূরে বেঁকে গেছে পলায়নপথের বক্ররেখা।
৩০ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:৫২
আমাদের এ পরিচিত পৃথিবীর যেকোনো গ্রামীন পথ-কে সভ্যতা যখন পরিয়েছিলো পীচের পোষাক,মানুষের শ্রমের স্হানে যখন যন্ত্রের অনুপ্রবেশ-তারও অনেকদিন পর অভিজিতের পাশে দাড়িয়ে আমিও দেখি বাণিজ্যের দুয়ারে মানুষের অস্তিত্বের অনুপ্রবেশের কতইনা ব্যার্থ প্রচেস্টা,সীমান্তে সীমান্তে সৈনিকের সতর্ক প্রহরা,ক্যামোফ্লেজের সবুজ।আমিও অভিজিতের পাশে দাড়িয়ে লক্ষ্য করি "নিগ্রো পরীর হাতে কামরাঙা কেমন সবুজ" হতে পারে।সভ্যতার এতসব ব্যার্থতার পরও কিন্তু একদম থেমে থাকেনি একেবারে সীমান্তে দাড়ানো গাছটির শাখায় একটি পাখীর অবিলুপ্ত গান।নাকি তাকেও নাগালের বাইরে রাখার চলছে ষড়যন্ত্র!
![]()
কবি অভিজিত দাসের এই ২০০৮ বইমেলায় নব্যপ্রকাশিত ও কবির প্রথম কাব্যগ্রন্হটির নাম হলো 'নিগ্রো পরীর হাতে কামরাঙা কেমন সবুজ'।কে এই নিগ্রো পরী?যে কিনা কামরাঙা সবিশেষ রঙে নিজেই বিলুপ্ত!এই নিগ্রো পরী কি অবহেলিত জনপদের কোনো বাস্টার্ড বেবীর গর্ভবতী মা নয়?এ নিগ্রো পরী কি কোনো এক ধর্ষিত নারী,যার মুখে মেখে গেছে সমাজের কালিমা?তার হাতে যে কামরাঙা,সেটা কোন বিষবৃক্ষের ফসল?নাকি এ নারী শুধুই একটি চিত্র?রুপকে,উপমায়ই যাকে পাওয়া যায়-পাঠক এ বিষয় নিজেই উপলব্ধি করেন,আত্নবিবৃতি দেন ও ঢোক গিলে ফেলেন অজান্তেই!
অভিজিৎ-এর প্রথম বইয়ের এ কবিতায় আমি আমাদের নগ্ন শৈশবের টাটকা গল্পের আভাস পাই।স্ট্যাটাসপ্রার্থী মাতাপিতা,এই নগরের মাঝে সম্পর্কহীন হয়ে বেড়ে ওঠা,মুনাফালোভী বিক্রেতার মন,প্রান্তিকদের অভাবটুকু জেনেশুনে সম্পর্কের বেলায় সযত্নে দুরে থাকা-ইত্যাদি এইসব দেখে তীর্যক দৃস্টি হেনে যে সগতোক্তি করার সাহস রাখে সে হলো কবি।তবে আমি তাকে নাগরিকদের সমস্ত ব্যার্থতার দায়ভার বহন করতে বলি না।তাকে আমি নাগরিক বোধাক্রান্ত কবিও বলতে চাইনা।সৃজনশীল হলেই কবিদের মাঝে এইসব ক্যাটাগরি করা আমার কাছে কোনো অর্থ নিয়ে আসে না।
বেবিফুড!আহা,প্রথম সন্ততি,
হাইব্রীড সোনামনি আদরের!
বাজার প্রসংগে কথা উঠলেই
মনে পড়ে,ক্রমশই মাতৃদুগ্ধে
পড়ে যাচ্ছে টান-
তোমাকে প্রায়শ দেখি
ঠোট উল্টে বসে থাক
মার বুক ছুতে পাওনা বলে!(নাগালের বাইরে রাখুন,পৃ:১৯)
এ চিত্রটি তো অতি স্বাভাবিক ঠেকে আমার কাছে।আমাদের নাগালে থাকেনা কিছুই।মাতৃদুগ্ধ হতে শুরু করে শিশুদের প্রিয় বিষয়গুলোকে শিশুদের প্রিয়জনেরা অপ্রিয় করে তোলেন।মাতৃদুগ্ধ তো বটেই অনেক সময় মা-তো নিজেই চলে যান নাগালের বাইরে!মাতৃবিয়োগের পর অভিজিতের কবিতায়ও এ বিক্ষোভ দেখি-বইটির উৎসর্গপত্রে অভিজিৎ লিখেছেন,
"আমার মায়ের মৃত্যুকে মহিমান্বিত করে
কিছু লিখতে পারি নি........
আজও মনে হয় নিজেকে দুমরে মুচরে
মাতৃগর্ভে ফিরে যাই......
সবকিছু অস্বীকার করে প্রাথমিক স্টেজে ফিরে যাবার প্রবণতা অভিজিতের কবিতায় বেশ দেখতে পাই।সংগ্রামে জড়াতে চাননি কবি,তবে কি পিছু হটে যেতে চান?নস্টালজিয়া?নাঃ কোনো শব্দ-ই অভিজিতের কবিতার লেবেল লাগানোর মতো নয়।আমি একে সরল অর্থে পিছু ফিরে যাবার আকাঙা বলতে চাই।হ্যা,আকাঙাই বটে,যেখানে সকল তাত্বিক বিশ্লেষন,যুদ্ধ ,পরাজয় ইত্যাদির উপর বিরুপ হয়ে মানুষ পলায়ন করতে পারেনা,একে স্হবিরতা বলি,যাকিনা কর্পোরেট পৃথিবীর জন্য একপ্রকার পশ্চাৎযাত্রা-ই বটে।বরঙ স্হবির হলেও তা একইসাথে আরেকধরণের আগুয়ান রুপ।আর এ কারণেই এ রিভার্স টেকনিকটিকে একধরণের রোমান্টিক আকাঙ্খা বোধহয় বলা যায়।তবে আমার কাছে এ রিভার্স করে পেছেনে যাওয়ার পদ্ধতিটি বেশ নতুন ঠেকে।যেমন:
"আর আমি অগ্নিকুন্ড হতে বেড়িয়ে এসে
কম্পমান পথে এক পায়ে লাফিয়ে অন্য
পায়ের মোজার সন্ধানে আঁতুর ঘরের দিকে
ফিরে যাব পুনরায়....(অনন্তের ছায়াপথে,পৃ:১১)
অভিজিৎ যেন দীর্ঘকাল ধরে ফেরার পথেই হেটে চলেছে।অগ্রযাত্রার চাইতে তার কাছে যেন ফেরার পথটিকেই বেশি বিপদসঙ্কুল মনে হয়!
"ফেরার পথগুলো কেন এত ঢালময়
যাবার সময় এ কথা তো বলে দাওনি কেউ।.....
...না গিয়েই ফিরে এসে বলি:
'ঝরা পাতা গো,আমি তোমারি দলে' "(শেষ লাইনটি রবীন্দ্রনাথ হতে "কোট" করা)
ফেরার পথ,৩৪পৃ:
অভিজিতের এই উপস্হাপনটি আমার কাছে বেশ নতুন বলেই মজা লাগে।তার শরীরের হারানো সমস্ত সভ্যতার চিন্হ খুঁজতে গিয়ে সে কি বারবার ফেরত যাবে জন্মের নিকটে?বারবার সেই একই প্রশ্ন ফিরে ফিরে চলে আসে।তার এ সমস্ত গাত্রোত্থান বুঝি মেট্টোপলিটন শহরের সোডিয়াম লাইটের প্রতিভাকে নাড়া দেয়।ল্যাম্পপোস্টের দেহে যেসব শীতলতা আছে তা থেকে যায় অভিজিতের বিবর্ণ পকেটে।চন্দ্র আর উজ্বল সোডিয়াম আলোর মিশ্রণের ভুতুরে পৃথিবীর রাত্রিকালীন উৎসবে অভিজিৎ কি এখনো খুঁজে চলছে সেই মোজা কিংবা দুইযুগ আগের সেই লালা ঝরবার কাপুড়ে ঝুড়ি?
"নিজের জন্মের দুইযুগ পরে প্রসুতিসদনে গিয়ে দেখি
এক প্রবীন দর্জির কারখানা। ....এই দর্জিকে আমি শৈশবে দেখেছি
লালা ঝরবার কাপুড়ে ঝুড়ি বানাতে...
...একজন প্রবীন দর্জি সেলাই করছেন শবদেহের
পরিধেয় জীবাশ্ম দিয়ে তৈরি মৃত্যুর ইউনিফর্ম।"(ইউনিফর্ম,পৃ:৭)
কে এই প্রবীন দর্জি যে কিনা অনাগত শিশুর ভবিষ্যৎ সভ্যতা নিয়ে ভাবিত?আবার সে-ই কিনা মানুষের অনাগত মৃত্যুর ইউনিফর্ম তৈরি করছে!পাঠক নিশ্চয়ই আমার সাথে সাথে এ কথা বুঝে ফেলেছেন যে এ দর্জিকে আসলে সমাজ,সভ্যতা,নগরায়ন ইত্যাদি নামে অভিহিত করা যায়।এই প্রবীন দর্জির পোষাক আমরা চিরকাল স্বেচ্ছায় হারাই,আবার অনিচ্ছায় অনিচ্ছায় খুঁজে ফিরি সেইসব সভ্য পোশাক!
মৃত্যুচেতনা চোখে পড়ে অভিজিতের কবিতায়।অথবা অভিজিতের কবিতার মৃত্যুচেতনার চোখে পড়ে যাই আমি!
"আজ আমার মৃত্যুদিন;সবার ঘরে একটি করে শ্মশান জ্বলুক!(মৃত্যুদিন,পৃ:৯)
অথবা
"মরিব না মরিব না করে
কন্ঠ তুলে,খোলা
তোমাদের জানিয়েছি,আছে মনে?
প্রত্যক্ষ মৃত্যুর সুর বাজে
পাথর সমান বাজে
বেজে ওঠে ধুলিরক্তজলে"(কৃষ্নোন্মুখ রাখালেরা,পৃ:২৯)
আমার তো মনে হয় আমরা প্রতিটি মুহুর্তেই মারা যাচ্ছি,মানসিক বিচারে আমাদের যাপিত জীবন হলো এক একটা মৃত্যুর নৈসর্গিক রুপ,সেখানে নৈরাজ্য উপস্হিত,অভাব উপস্হিত কেবল অনুপস্হিত ও উহ্য থেকে যায় ব্যাক্তি নিজেই।
অভিজিতের কবিতাশরীরে মেখে আছে নিজস্ব শৈশব।মনুষ্য ও কবিজীবন কি আলাদা কিছু?আলাদা হোক আর না হোক শৈশব হলো কবিজীবনের প্রাককথা।তাই শৈশবকে দেখি অভিজিতের মীমাংসায় মীমাংসায় ও বর্তমান জিঘাংসায়;
"শৈশবের লজ্জা-খুশি-মহাকলরব
সমস্ত দৌড়ের ছাপ,মাঠেই হারানো মুখচ্ছবি,
ওড়াওড়ি-"(কৃষ্নোন্মুখ রাখালেরা,পৃ:৩১)
আরো দেখি
"কাপুড়িয়া পট্টি জুড়ে
রোজ রোজ আমার জন্মোৎসব!"(কাপুড়িয়া পট্টি ও আমাদের পোশাক পরিবার,পৃ:৪১)
প্রেমবোধ রসায়নে অভিজিতের কবিতা বিপুল কম্পমান।তবে এ প্রেম কি প্রেমাস্পদের প্রতি,নাকি আত্নিক বা আত্ন-আলোরণের মতো প্রেমবোধ তা নিয়ে একটু সংশয় রয়েছে।পাঠকই বিচার করুন না এ লাইনগুলো
"এখনো শরতে আমি তোমার চাইতে প্রিয় কোন
মুখ দেখি না তো-মন্ডপের ভিড় ঠেলে
সপ্তমী সন্ধ্যায় ও হে ভুবনেশ্বরী আজো খুঁজে যাই
বেগুনী রঙের মায়া সম্মোহনী পূজোর পোশাক"(মাহামায়া,পৃ:৪৬)
"আমার অসহায়ত্ব তোমার সহায় হয়ে যায়!(বৈপরীত্য২,পৃ:৪৭)
"কেউ ঢিল না ছুড়লেও
একটি পাখি কিন্তু ঠিক উড়েই যাবে!
অপর পাখিটি বসে থাকবে ঠায়।(নিঃসঙ্গতার রঙ,পৃ:৫৯)
অথবা
‘সেইদিন আমার পাজর যদি প্রেমের চুল্লিতে
জালানীর উপযোগী হয়...(আলখাল্লা পরিহিত প্রতিবিম্বের অব্যক্ত প্রলাপ,পৃঃ২৭)
নাগরায়নের কাঠামোতে কবি বোধহয় একটু বিচ্ছিন্ন থেকে যেতেই পছন্দ করেন।এ বিচ্ছিন্নতার মানে এই নয় যে কবি শিল্পের জন্য শিল্প মত মেনে ক্ষান্ত দিয়েছেন সমাজের দিকে দৃস্টি দেবার বিষয়ে।বরঙ আমার মনে হয় আর আর আট-দশজন নাগরিকের মতো করে কবিও একজধরণের অস্তিত্বের অস্বস্তিতে ভোগেন।বলা বাহুল্য কবির মতো বিরোধী ও মৌলিক ব্যাক্তিত্ব কোনো সার্বিক কল্যাণের দাস হতে রাজী নয়।অভিজিতের কবিতাতেও আমি দেখেছি এ সংকট।
পুরো কাব্যগ্রন্থটি পাঠক যদি ভালোভাবে পড়েন তবে দু ধরনের কবিতা চোখে পড়ে।
১।তিরিশীয় শাব্দিক প্রভাব সম্বলিত কবিতা।ও
২।হাল আমলের বোধগত কাব্যনিরীক্ষা।
আবার ব্যাপ্তির দিক দিয়ে আরো দু প্রকার কবিতা আমি পাই।
১।প্রচলিত কবিতা।
২।দীর্ঘ কবিতা।(চেতনানগর এক্সপ্রেস,পৃ:২৩,কৃষ্নোন্মুখ রাখালেরা,পৃ:২৯,ডুমোচরে ডুবোগান,পৃ:৩৭)
তবে এ চারপ্রকার কবিতার একপ্রকার মিশ্রণ আছে বলে তা সাধারণভাবে ধরা না-ও পড়তে পারে।আমার মনে অভিজিতের দীর্ঘ কবিতা নিয়েই একটা আলোচনা হতে পারে।আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যেতে পারে বলে সেদিকে যাবনা বরঙ ফিউশন বিষয়ে একটাই উদাহরণ দেই।'অরণ্যে হলুদ সাইকেল' কবিতায়
অভিজিৎ তিরিশের শাব্দিক ঢং ও সমসাময়িক কাব্যবোধের একপ্রকার ফিউশন করেছেন।প্রথম ন'টি লাইন দেখলে তিরিশের সুধীন,জীবনানন্দ বা দুরবর্তী রবীন্দ্রনাথের সুর কি একটু পাওয়া যায়?
"স্ফুরণক্ষম,তোমার বল্গা দ্যুতি ঢেউ
ঝাউবনে মেঘ-পত্রপল্লবীর অগ্নিময় ছাচে
কুয়াশামন্ডিত কম্পমান........(অরণ্যে হলুদ সাইকেল'পৃ:১৩)
-তাইনা?আবার দশম লাইনে দেখুন-
".....অভিমুখে
হরণের প্রণতিপিয়াসী গানে
তবু আমার মুখের কয়েক খন্ড প্রচন্ড ব্লেড
অসাধ্য মমতা নিয়ে কেটে নেয় তন্ময়তা
করুণ ও বিমর্ষ লালসায়।(অরণ্যে হলুদ সাইকেল'পৃ:১৩)-ঠিক এখান থেকেই কবিতাটি যেন তিরিশের শাব্দিক মাধুর্যের ঢং ও বর্তমান সময়ের কাব্যকলার বোধ ও নির্মাণশৈলির মাঝে কোলাজ তৈরি করে।তবে পুরোটিই নিরীক্ষাধর্মী বলে মনে হয়।দক্ষ কাজ নিঃসন্দেহে,তবে মনে হয় যেন আরেকটু পরিশ্রম প্রয়োজন ছিলো।
অভিজিতের সবগুলো কবিতা পড়ার পর আমার মনে হলো অভিজিৎ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন অনেক।অভিজিতের সম্প্রিতি লেখা কবিতা বইতে বেশ কমই ছিলো,কেননা বিভিন্ন লিটলম্যাগে পূর্বপ্রকাশিত বেশিরভাগ কবিতাই বইতে স্থান পেয়েছে-যা আমি আগেই পড়েছিলাম।অভিজিতের সাম্প্রতিক যে লেখাগুলো বইতে পড়লাম সেগুলো আবার কোনো দুরের বিষন্ন গানের মতো করে লেখা যেগুলোতে স্পস্ট মেলোডি রয়েছে বলে আমার মনে হয়।তো অভিজিতের আগের কবিতাগুলোর পরিক্ষার জায়গাগুলো কিন্তু সেগুলোতে নেই।তবে কি অভিজিতের কাব্যনিরীক্ষা শেষ?তা কি নতুন কোনো মাত্রা পেয়েছে?
আরো একটা প্রশ্ন আসে সেই সুত্র ধরে,সেটা হলো।বোধের প্রকৃস্টি কি শাব্দিক প্রকৃস্টি হতে আলাদা?অভিজিৎট কি এ প্রশ্নে তাড়িত?যদি তা না হয় কেবলমাত্র শব্দনীরিক্ষা অর্থ বহন করতে পারে।আমার মনে হয় শুধুমাট্র শব্দই কবিতা হতে পারে না।এর সাথে জড়িত রয়েছে ব্যক্তির ব্যাক্তিত্ব ও কবির কবিত্ব।
তবে আমিও অভিজিতের মতো আমাদের এসমাজ ও ব্যাক্তিবর্গের কাছে বলতে চাই যে
"আমার অসহায়ত্ব তোমার সহায় হয়ে যায়"।
মগ্নচৈতন্যে বসিয়া কবি অভিজিৎ দাস।
প্রকাশ করা হয়েছে: বই আলোচনা ও অন্যান্য বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:১০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।
রুবেল শাহ বলেছেন:
অনেক তথ্য পেলাম---------
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ...
ফয়সল নোই বলেছেন:
অভিজিৎ দাসে'র এই বইয়ের কবিতাগুলো আমারও খুব ভালো লেগেছে।তার কবিতার ভক্ত আমি।
আপনার সুন্দর লেখাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাড ফয়সল ভাই।
লেখক বলেছেন: বেশ তো...আমারও প্রিয়।
অ রণ্য বলেছেন:
কবিতাংশগুলো পড়েবইটি সংগ্রহে রাখার লোভ সংবরণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে
প্রতিটি কবিতাংশই আমাকে
নাড়িয়ে গেল
লেখক বলেছেন: সংগ্রহ করে ফেলুন,কবিতাগুলো পড়তে আপনার বেশ ভালো লাগবে।
আপনাকেও ধন্যবাদ।
সুমন প্রবাহন স্মরণ প্রয়াস বলেছেন:
অভিজিৎ দাস এর কবিতা পড়লে মনে হয়,- কেউ একজন বায়োস্কোপ নিয়ে বসে অাছে অার অামি দৃশ্যের পর দৃশ্য দেখে যাচ্ছি।শুনে যাচ্ছি গল্পের পর গল্প- ঠাকুমার,রূপকথার জানা-অজানা গল্প।কখনো হেসে উঠছি কেঁদে ফেলছি।অাশা -হতাশায় দোল খাচ্ছি। সে অামাকে ঘুম পাড়াচ্ছে অাবার ভাঙাচ্ছেও।এক থেকে বহুগল্পে-গল্পান্তরে নিয়ে যায়।-এভাবে নিজেই গল্প হয়ে উঠি।অভিজিৎ অাসলে গল্পের কবি; কবিতা দিয়ে বোধের অসাধারন গল্প লেখেন।ও মুছে দিয়েছে গল্প এবং কবিতার ভেদরেখা। হয়ে উঠেছে এক এবং একক।
'নিগ্রো পরীর হাতে কামরাঙা কেমন সবুজ'
কেমন সবুজ? পরী কেন? লাল পরী না হয়ে নিগ্রো কেন?-এই চিন্তাগুলি
মাথায় এসে ভর করে, জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে কি হয়েছিল?
কবি তখন হেসে বলে-তাহলে শোনো.............অামরা শুনি।
অভিজিৎ এর কবিতায় বোধ বোধি হয়ে যে শব্দে বাধা পড়ে। সেই শব্দ অামাকে জানায়-শোনায়-শেখায় অাবার মোচড় দিয়ে তুলে দেয় অদেখা জগতে।ঝুলে যাচ্ছি না কোথাও অাবার থাকতে হচ্ছেনা অাটকেও।কখনো পেলব মমতায় অাত্মায় বাণী পাঠায়,কখনো হ্যাচকা টানে পায়ে চাকা লাগায়।
অভিজিতের দীর্ঘ কবিতাগুলি অামাকে বোধের পূর্ণতা দেয়। কারন, ডোবা বলতে অামি ডুবে থাকাই বুঝি; খানিক ডুবেই ভেসে উঠে কেউ হয়তো অারাম পান- অামার ধারণা তাঁর শ্বাসে সমস্যা অাছে।
'অভিজিতের দীর্ঘ কবিতা নিয়েই একটা আলোচনা হতে পারে'-মুয়ীযের সাথে অামি একমত।
লেখক বলেছেন: ভালো লাগলো আপনার কমেন্টখানি পড়ে,
অভিজিৎ এর কবিতা নিয়ে আলোচনাটি আরো বিস্তারিত করার ইচ্ছা ছিলো,কিন্তু সময়াভাবে আর হয়নি সম্ভব।দীর্ঘকবিতাগুলো আমি পড়েছি ও পড়ছি।কয়েকটি চিন্তা মাথায় আছে,পরে শেয়ার করবো।ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ,
আছি ভালো,
ঠিক যেমন
ঝিনুকের ঢালা-র নীচের কালো।
আপনি কেমন আছেন??
মাঠশালা বলেছেন:
লেখাটি পড়ার জন্য বেশ অনেকদিন অপেক্ষা করেত হলো। বেশ একটা সর্বাঙ্গিন আলোচনাই তুই করেছিস। তুই যে দিকগুলো চিহ্নিত করেছিস তার সাথে হয়ত আরো কিছু যোগ করা সম্ভব কিন্তু এক্ষন তা অপ্রোয়জনীয় মনে করছি। বরং ওর বইটার নাম ভারে আরেকটু দির্ঘ করি মন্তব্যের পরিসীমা।তুইতো বলেছিসই- "কে এই নিগ্রো পরী?যে কিনা কামরাঙা সবিশেষ রঙে নিজেই বিলুপ্ত!এই নিগ্রো পরী কি অবহেলিত জনপদের কোনো বাস্টার্ড বেবীর গর্ভবতী মা নয়?এ নিগ্রো পরী কি কোনো এক ধর্ষিত নারী,যার মুখে মেখে গেছে সমাজের কালিমা?তার হাতে যে কামরাঙা,সেটা কোন বিষবৃক্ষের ফসল?নাকি এ নারী শুধুই একটি চিত্র?রুপকে,উপমায়ই যাকে পাওয়া যায়-পাঠক এ বিষয় নিজেই উপলব্ধি করেন,আত্নবিবৃতি দেন ও ঢোক গিলে ফেলেন অজান্তেই!"
তো এই যে আমাদের পরী ধারনার সাথে প্রথমেই ওর কবিতা একটা দূরত্ব তৈরী করে নিয়েই শুরু করে এটা কিন্তু একটা বিস্ময়কর অনুভুতি। পাঠকের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তাই বই হাতে নিয়েই শুরু হয় এবং যা অব্যাহত থাকে। যাই হোক ওর বই বারবার পড়া হোক নিজেদের পরীদের চিনে নিতে।
তোর আলোচনাটা সাবলিল হয়েছে খুব।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জুবেরী।
তোর যোগসূচক মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকলাম।
আসলে এ পাঠপ্রতিক্রিয়া দ্বারা আমি অভিজিৎের কবিতার কোনো লেবেল বা চিন্হিতকারী কোনো শিক্ষা উপস্হাপন করতে চাই নাই।সরল অর্থে এ আলোচনাটিকে আমার ব্যাক্তিক প্রতিক্রিয়া বলতে চাই।
তোর অনুভূতিও আমার জানবার ইচ্ছা হচ্ছে....
লেখক বলেছেন: লেখাটি আসলে অভিজিৎ দাসের কাব্যগ্রন্থের উপর আমার প্রতিক্রিয়া বা আলোচনা।বেশী বড় কি??খুব বড় না বোধহয়।তবে আপনার প্রর্তিক্রিয়া দেখে আমারও মন খারাপ হৈলো।![]()
![]()
তবে পুরাটা পড়লে আপনার হয়তো ভালো লাগতেও পারে।![]()
![]()
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
পড়লাম। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আরে মৃদুল!!অনেকদিন পরে পেলাম!কেমন আছেন।আপনাকে তো একেবারেই দেখিনা আর ব্লগে,বাইরেও তো দেখিনা...
যাইহোক লেখাটি পড়বার জন্য ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
অনার্য তাপস বলেছেন:
মগ্নচৈতন্যে বসিয়া কবি অভিজিৎ দাস। -এই কারণে রঙটা এমন।তার সাথে আমার অনেক কথা আছে মুয়ীয।
লেখক বলেছেন: কথাগুলো অব্যক্তই থাকুক,ভালো থাকুক।
আপনিও ভালো থাকুন।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...



















