somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা যেভাবে ভাষাবিহীন হয়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় আছি,প্রতিবাদ করছি না একদম !

২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নির্বাক থাকবো এরকম কথা দিয়েও যখন মানুষ আর থাকতে পারেনি নির্বাক তখন তাকে প্রতিবাদ বলি।সমাজের মাঝে আমাদের অদৃশ্যপ্রায় শরীরের উপর যখন এসে পড়ে মূর্খতার মলমূত্র তখন তো গা ঝাড়া দিতেই হয়!আমাদের সুবিধাবাদী সমাজ চিরকাল শিল্পের কোনো সামাজিক বা বিশেষ গুরুত্ব কোনোকালেই বোঝেনি,সংখ্যাগরিস্টের মূর্খতা অনুভব করেছে অথচ তা দূর করেনি এবং হতাশাব্যান্জক বিষয় হচ্ছে তারা শেষমেষ নিজেরাই মূর্খতাকে শেষ গন্তব্য ভাবছে!প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি আমি আমার জন্মের পর থেকেই বাংলাদেশে প্রচলিত দেখছি।সকলেই স্বপ্ন দেখেছিলো পরিবর্তনের, অনেকের মতো আমারও স্বপ্ন ভংগ হয়,আমিও তাই বিশেষের স্বার্থপরতার চুড়ান্ত রুপে ডুবে যাই,বিচ্ছিন্নতা যার নাম।আমি অপরাপর শিল্পীদের মতো করে ক্রমশ মূর্তি হয়ে যেতে থাকি। মূর্তি-ই বলবো ,আমার এমত আদলটিকে ভাস্কর্য বলি না।আমার আত্ননির্মাণ যখন আমার দ্বারা না হয়ে সমাজ দ্বারা বিকৃত,সে শিল্পীর গঠন আত্ননির্মাণ বলে বিবেচিত হতে পারে না,সে ক্রমশ অথর্ব মূর্তিই হয়ে যেতে থাকে।

এ কথা অতি স্বাভাবিক যে সমাজ তার অথর্ব নির্মাণ ভেঙে ফেলবেই।শিল্পী তার একান্ত অসহায় ও মূর্তি রুপ নিয়েও পায়নি রক্ষা!আঘাত আসতে থাকে,ভেঙে পড়ার প্রারম্ভিক কালে শিল্পী জেগে উঠবেই,এমনটাই হবার কথা।অথচ এমনটা ঘটেনি কতটি কাল!

পথপ্রদর্শক হবার কথা ছিলো যার ভালোবাসাহীন এ সমাজে, সেইসব শিল্পীর অস্তিত্বের টানপোড়েন ঘটতে থাকে।তারা তাদের সম্পর্কে সমাজ দ্বারা চাপিয়ে দেয়া প্রচলিত ধারণাগুলো মেনে নিতে থাকে,তাদের চামড়ার আর ফোস্কা পড়েনা,পরিণতি আবারো মূর্তির অবয়বে নিহিত।

দেহের ভেতরে যে ব্যাক্তি বন্দী করে রাখে সিংহ
সে নিজেই কি বন্দীশালা নয়?"

ধর্মান্ধতা নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই,আমাদের দেশে যেখানে বিভিন্ন শ্রেণীবৈষম্যের উপর ভিত্তি করে চারের অধিক শিক্ষাব্যাবস্থা প্রচলিত।আবার সবশেষে নিম্নস্তরের মানুষের ভাগ্যে বিনামূল্যো যে শিক্ষা জোটে সেটা ধর্মীয় শিক্ষা।আর সরকার তো প্রায়শই মনে করে থাকে বেসরকারী খাতসমূহ বিভিন্ন উন্নয়ন করবে(মূলত এ মনে করার বিষয়টিই প্রমাণ করে তারা কতটাই না ব্যার্থ!)।ফলে বাড়ছে মাদ্রাসা,ধনীদের বিপুল উদ্যমে করে যাচ্ছেন স্বর্গের টিকিট!
ফলত শেষমেষ এহেন পরিস্থিতি সৃস্টি হলোই!

এটি আসলে নিছক একটি মূর্তি ভাংঙার ঘটনা নয়,এর সাথে জড়িত চলমান কিছু রাজনৈতিক ঘটনা।কিন্তু তার আঘাত আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যসমূহের প্রতি কেন আসবে?ভেবে দেখুন মূর্তিটি লালনের যে,কি না সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধাচরণ করেছিলেন জীবন ভর।


মানুষের সমস্ত ইন্দ্রিয়ের চাইতে ইদানীং অতিলৌকিক ইন্দ্রিয় অনেক অনুভূতিশীল হয়ে উঠতে দেখি সেটা হলো ধর্মেন্দ্রিয়।অতি অল্পতেই কেন সে ব্যাথায় জর্জরিত হয়ে ওঠে?আমার মনে হয় বিষয়টি আসলে ঠিক এমনটিও নয়।এর সাথে আসলে কিছু সামরিক আর আধা সামরিক ও অকাজের কিছু গোস্ঠী জড়িত।মুনাফা?আপনিই ভেবে দেখুন পেয়ে যাবেন।
আজ মূর্তি ভাংছে,কাল ছবি আকা বন্ধ হবে,পরশু আপনার কলম কেড়ে নেবে।ফলত মূর্তি ভাংঙার হুমকিটা আসলে আমাদের শিল্পী কবি বা সৃজনশীলদের প্রতি একটি চ্যালেন্জ ছুড়ে দেয়া।ফলত এবার অবধারিত হয়ে উঠেছে সংখ্যাগরিস্ঠ প্রতিক্রিয়াশীলদের সাথে শিল্পী ও শিল্পীর অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।এখানে লক্ষ্যণীয় যে শিল্পীরা যা অর্জন করতে চাইছে তা তাদের কাছে স্পস্ট কি না।আমার মনে হয় একটা সাময়িক মাত্র সমাধান না ভেবে একটা স্থায়ী সমাধান ভাবা উচিত।কেননা শিল্পী নামে বর্তমানে যারা রাস্ট্রীয় প্রতিস্ঠানে প্রতিস্ঠিত তাদের উপর আমার আস্থা নেই।রাস্ট্রীয় মহামানবদের প্রতিকৃতিগুলো যে শিল্পী(!)ই করে থাকুক না কেন সেগুলোকে ভাস্কর্য না বলে বোধহয় "যান্ত্রিক পাথরের শব" বলতেই আমার ভালো লাগবে।রাস্ট্র অবজেক্টিভভাবে যাকে শিল্প বলে ও যাদের শিল্পী বলে থাকে সেটাকে দলবাজী বললেও কারো কোনো আপত্তি থাকবেনা বলেই মনে হয়।(এ বিষয়ে একটা লিংক)
আমাদের প্রতিপক্ষ অবদমনের পক্ষপাতী,তাদের না আছে অনূভূতি প্রকাশের ইচ্ছা না আছে সেই অনূভূতি সংরক্ষণের সংকল্প।তারা কি করে বুঝবে কোনটা তাদের শিল্প ও সংস্কৃতি?যে লালন প্রান্তিকদের সমমেলে মিলে গিয়ে মানবতার ভাষায় রচনা করেছেন অজস্র সংগীত,এমত অভিনব প্রয়াস দূর্লভ।আমি একে আমাদের অবধারিত গন্তব্য বলেই মনে করে থাকি,এসব আমাদের শরীরের অংশ।তাই একে রক্ষা করা আমাদের একান্ত দায়িত্ব বলেই মনে করি।

ধ্বংস ও সাম্প্রদায়িকতা যদি ধর্ম হয় তবে সেই ধর্ম আমাদের দরকার নেই।এ কথা সবারই জানা যে ব্যাক্তির স্বাধীনতা ততক্ষণ পর্যন্ত সমাজে থাকে যতক্ষন না পর্যন্ত সে আরেক জনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে।
এখানে সেই আরেকজনটি হচ্ছে শিল্পীরা এবং শিল্পীর উপরে এ অত্যাচারে সহায়তা করছে কর্তৃপক্ষ।সুতরাং বিষয়টি অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।

কঠিন তবে অসম্ভব নয়।আমি বিশ্বাস করি এ অবস্থা থেকেও আমরাই বিজয়ী হবো।

ডিংগা ভাসাও সাগরে,সাথীরে
ভাসাও ডিংগা,সাগরে(প্রতুল মুখোপধ্যায়ের গান)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৫
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×