১।
"হেলায় হেলায় দিন বয়ে যায়, ঘিরে নিল কালে।।
আর কি এমন জনম, বসবো রে সাধুর মেলে।
মানব জনমের আশায়
দেব-দেবতাগণ বাঞ্ছিত হয়;"(ফকির লালন সাঁই)
আহা! মানব জীবন কতই না আকাংখাময় যে একজন দেহাত্নবাদীর কাছেও পুনর্জীবনের আফশোষ সৃস্টি করে, যে কিনা সাধনায় খোঁজে আলেক সাঁই, জ্যান্তে মরা পর্যায়, নির্জ্ঞান সুশাসন।তার কাছেও মনে হয়
একটা মানব জীবন বুঝি দেবতাদেরও আরাধ্য বিষয়। আর সেই মানব জীবন কিনা কবি ত্যাগ করেন নিদারুণ অবহেলায়! কবি অনন্ত জাহিদ আত্মহত্যা করেছেন। আর আমরাও বেঁচে আছি। আমরাও লিখছি কবিতা, সময়ের অন্তর্লীন স্বাক্ষরে।
২।এই তো অল্প-কিছুদিন আগেই আমাদের এক কবিবন্ধু সুমন প্রবাহন প্রবাহিত হলো জীবনের বহির্মূখী স্রোতে। কবি সুমন প্রবাহন গতবছর ১৯শে এপ্রিল আত্নহত্যা করেছিলো। আমরা, তার অর্বাচীন বন্ধুরা গিয়েছিলাম তার মৃত্যুর পরে তার নিস্পন্দ হৃদয়ে আরো রক্তক্ষরণ বাড়াতে।
একটা আশ্চর্য মজার বিষয় কি জানেন, এ অনন্ত জাহিদই সুমন প্রবাহনের বই নিয়ে একটি ২০-২৫ পৃঃ দীর্ঘ আলোচনা পাঠিয়েছিলেন অভিজিৎ দাসের কাছে মাস কয়েক আগে।
-শুধু বুঝতে পারি কোথাও একটি নির্মম রসিকতা করেছে যেন কেউ।আমার একটি অক্ষম আক্রোস হয়। কার প্রতি জানিনা।
৩। কবির বৈরাগ্য তবে কোথায়?
-অন্ধকার শেষে আলোর রৌদ্রে দাড়িয়ে আছে যে নির্ভুল রংজ্বলা জাহাজ। তা-যে কখন এসে আমাদের জীবিতদের নগরে এসে পুনরায় ডেকে নিয়ে যাবে কোন কবিকে তা-কি আমরা জানি?
-তবে হে মিথ্যুক জীবন-তুই তো মূলত প্রহেলিকা,
কোথায় তোর সমগ্রের অমোঘ টান,
তুই তো জীবনের সারথি রুপে থাকিস নি কবির নিকটে,
তুই সাগ্রহে এগিয়ে আসিস বিচ্ছিন্নের কৃপাহত্যা সম্পন্ন করতে!
এমত প্রতারক রুপ কেন তবে কবির সাথেই!
৪।আত্নহন্তারক কবিদের সাথে যদি আমার কোন বৈঠক হতো তবে জানতে চাইতাম কোন কবিতাটি সবচেয়ে মৃত্যুময়।
-আমিও সেইসব চাতকের কাছে বলেছিলাম
জীবন মূলত স্থুল আত্নসুখবাদী অধ্যায়ের
একটি মৃত্যুমুখী অবয়বমাত্র-
মৃত্যু নিয়ে জীবিতদের কোন নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেই।
অথচ জীবন নিয়ে মৃতরা কত সহজেই দেখিয়ে দেয় তার অবিচল সিদ্ধান্ত!
৫।শামীম কবির,সন্চয় প্রথম,সুমন প্রবাহন,অনন্ত জাহিদ...........(সময়ের হাতে যখন শুন্যস্থান পুরণের লোভী দায়িত্ব)(যুক্ত হয়ে চলার ইনফিনিটিভ ওয়ে অফ ডেথ)
৬। অনন্ত জাহিদের সাথে দেখ পরিচয় সেভাবে হয়নি,কথা হয়েছেও দু'একবার মাত্র।আজ সন্ধ্যায় তার মৃত্যুসংবাদ শুনে মনটা ভারী হয়ে গেল, তার মৃত্যু নিয়ে আমি সবিস্তারেও কিছু জানিনা।
কবি ও তার নীরব প্রস্থান শুন্যস্থান সৃস্টি করে মগজে,আর বেদনা হয় না কবি-কেননা নাগরিকরা মৃত্যুসংবাদ শুনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তারা আর গন্ডির ভেতরের মৃত্যু ছাড়া আর কিছু ভাবে না। কিন্তু কবির বেদনা ,কবির নিঃসংগতা একজন কবি খুব ভালোই বোঝে।
কবি, তোমার নীরব প্রস্থান শুন্যস্থান সৃস্টি করে মগজে,আর বেদনাও আর হয় না!কবি,কেবলই দুশ্চিন্তা বাড়ে প্রতিভাবানের সেচ্ছামৃত্যুতে।
ভালো থেকো কবি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



