আমার প্রিয় পোস্ট

পচা কথা বলি। আবালেরা অফ যাও।

ডাগদরনামা 02

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:১৯

শেয়ারঃ
0 1 0


ডাগদর সাব ভোটে জিতিয়াই প্রথমে ইঁটের ভাঁটির মালিক সমিতির পান্ডাদের তলব করিলেন।

তাহারা প্রথমে ফরমান পাইয়া ভড়কাইয়াছিলো, বিশেষ করিয়া ডাগদরসাবের ক্ষুদ্রসূচিকার ডর তাহাদের সকলের অন্তরেই ছিলো। নিতম্বের কন্দরে একটি সুঁই ভরিয়া সপ্তাহান্তে উহার দামের উপর সুদ আদায়ে ডাগদরসাবের জুড়ি ছিলো না। প্রাথমিক পর্যায়ে কলাটামূলটাকচুটা দিয়া তাহার সুদ শোধ করা সম্ভবপর হইলেও কালক্রমে তাহা ফুলিয়া ফাঁপিয়া এমন আকার ধারণ করে যে বাটীর চাল পর্যন্ত উড়াইয়া লইয়া যায়।

কিন্তু ডাগদর তাহাদের হোগায় ইঞ্জেকশন দিবার কোন উৎসাহ না দেখাইয়া স্মিত হাসিয়া কহিলেন, "ইষ্টক লাগিবে প্রচুর।"

ব্যবসায়ের গন্ধ পাইয়া ভাঁটির মালিকগণ নাচিতে নাচিতে বাটী ফিরিলো।

এরপর দেশ জুড়িয়া ইঁটের ভাঁটি গজাইতে লাগিলো। তেল গ্যাস কাঠ খড় সব পোড়াইয়া দেশের তাবৎ মাটি ভাঁটিতে পুড়িয়া ইঁট হইলো। সেই ইঁট রিকশা ভ্যান নসিমন নৌকা আর ট্রাকে করিয়া ছড়াইয়া পড়িলো সীমান্ত অঞ্চলে। সীমান্ত বরাবর গড়িয়া উঠিতে লাগিলো বিশাল প্রাচীর। বিএসএফের জওয়ানরা বিমর্ষমুখে তাহাদের নগণ্য কাঁটাতারের বেড়ায় হোগা ঘষিতে ঘষিতে ভাবিলো, ফূর্তির দিন ফুরাইলো, আর বাজি ধরিয়া পাঁচশত গজ দূরের কৃষক মারিয়া মৌজ করা যাইবে না।

দেশ ঘিরিয়া দেয়াল উঠিয়া গেলো।

ছম্বাদিগেরা শুধাইলেন, "ডাগদর সাব, এ কী ঘটিলো?"

ডাগদর সাব প্রকান্ড এক দন্তাল হাসি উপহার দিয়া বলিলেন, "অঙ্গীকার করিয়াছিলাম, গরীবীকে যাদুঘরে পাঠাইবো। যাদুঘরের দেয়াল গড়িলাম!"

হাততালি দিলো কেউ কেউ। তবে ছাদ হারাইয়া বিমূঢ় বস্তির গরীব দেয়াল পাইয়া বিশেষ আনন্দিত হইতে পারিলো না, তাহারা হাতজোড় করিয়াই রহিলো।

 

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:২৮
অতিথি বলেছেন: পরের পর্বের অপেক্ষায়।
৩. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৪
অতিথি বলেছেন: অসাধারণ!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
এটা আমার পড়া মুখার সেরা গল্প!!!!!
৪. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৫
অতিথি বলেছেন: কল্পনার এত চমৎকার প্রয়োগ আর দেখি নাই।
৫. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৭
পথিক!!!!!!! বলেছেন: বাহ জাদুঘর এর উপের চাল হবেনা
৬. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪৯
অতিথি বলেছেন: যারা বুঝে নাই তারা মজা পাইবো না। মুখেন্দ্র নারায়ণকে কল্কি প্রণাম!
৭. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৮:২২
অতিথি বলেছেন: বস, জটিল লিখেছেন। আর জাদুঘরের উপরে চাল দেয়ার জন্য নিশ্চয়ই ত্রান তহবিল থেকে টিন নেওয় হবে, তাই না?
৮. ০১ লা মার্চ, ২০০৭ সকাল ৮:৪০
অতিথি বলেছেন:



[গাঢ়]মুখফোড়কে তার লেখার ক্ষমতার জন্য ঈর্ষা করি।
এতো চমৎকার কল্পনার শক্তি ও বহুমুখিতা সত্যিই অসাধারন।
মেইন স্ট্রিমে লিখলে (আদৌ লিখেন কি না,জানি না)
বাকি অনেক স্যাটায়ার লেখকদেরকেও জাদুঘরে পাঠাতে হবে ।[/গাঢ়]



৯. ০১ লা মার্চ, ২০০৭ সকাল ৮:৪৮
অতিথি বলেছেন: এই লিখার একটা সূত্র দেই:
ইনুচ সাব কইছিলেন, তিনারা ক্ষমতায় আইলে নাকি দারিদ্্রকে 10 বছরের মধ্যে যাদুঘরে পাঠাবেন।
১০. ০১ লা মার্চ, ২০০৭ সকাল ৮:৪৮
কনফুসিয়াস বলেছেন: অসাধারণ মুখফোড়!
অনেকদিন আগের সেই বিশ্বব্যাংকের কবিতাটির মতই দূর্দান্ত!
১৩. ০১ লা মার্চ, ২০০৭ সকাল ১০:২৬
অতিথি বলেছেন: নিদারুণ, নিষ্কন্টক বিস্ফোরণ
১৪. ০২ রা মার্চ, ২০০৭ রাত ৩:৩৫
অতিথি বলেছেন: অসাধারণ প্রতিভা !!!!!!!!!!!!!!!!
১৫. ০২ রা মার্চ, ২০০৭ রাত ৮:১৬
অতিথি বলেছেন: সত্যিই দারুন, ভয় হচ্ছে দেয়াল টা মনের চোখে দেখে।
১৬. ০২ রা মার্চ, ২০০৭ রাত ৮:৫৬
নামবিহীন বলেছেন: একটাই কথা, "দূর্দান্ত"
১৮. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১২:১৩
আছহাবুল ইয়ামিন বলেছেন: অসাধারণ আপনার প্রকাশভঙ্গী।
১৯. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৩
আবদুল্লাহ আল জাফর মালেক বলেছেন: আপনার এই লেখার কথা অনেক শুনেছি। আজ পড়ে খুব ভালো লাগলো।
২০. ১৪ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:৫৮
আকাশ_পাগলা বলেছেন: অসাধারণ। আপনার সবগুলো লেখা আমি আজকেই পড়ব।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯১৬৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
তোমরা শুধায়েছিলে মোরে ডাকি
পরিচয় কোনো আছে নাকি,
যাবে কোনখানে।
আমি শুধু বলেছি, কে জানে।
...
সেই গান শুনি
কুসুমিত তরুতলে তরুণতরুণী...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ