somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মুখফোড়কে আংশিক হত্যা করা হ্ইয়াছে সকলই গোচরে আসিয়াছে। বসিয়া বসিয়া ব্লগ পড়ি। লিখিবার প্রবৃত্তি হয় না।

কারণ, মুখফোড়ের করা মন্তব্যগুলি মুছিয়া দেওয়া হইয়াছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।

যতদিন ঐসব মন্তব্য ফিরাইয়া না দেওয়া হবে, মুখফোড় আর এই গুপ্তকেশের হাটে ব্লগাইতে আসিবে না।

আপাতত বিদায়। গালি দিবো স্থির করিয়াছিলাম, কিন্তু ভাবিয়া দেখিলাম তাহা উচিত হইবে না।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28707797 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28707797 2007-04-25 00:25:29
রহস্যগল্প 009 পমি রহমান চৌরাসিয়াকে কয়েকদিন যাবৎ বড় গুঁতাইতেছিলো। চৌরাসিয়া ভোগান্তি পান করিয়া তিষ্ঠাইতে পারিতেছিলেন না। পমি রহমান সকাল বিকাল দুই বেলা আসিয়া, "কী হলো, উল্মারের কেসটার কোন গতি করতে পারলেন?" বলিয়া এমন হইচই জুড়িয়া দিতো যে গাব্রিয়েল মগাদিশু চৌরাসিয়ার মেজাজ বিষাইয়া উঠিয়াছে।

আজ সকালে নাস্তা খাইয়া সবে মাত্র টেলিভিশন ছাড়িয়া হিন্দি নাচগান দেখা শুরু করিয়াছেন, এমন সময় পমি রহমান আসিয়া হাজির।

"কী হলো, উল্মারের কেসটার কোন গতি করতে পারলেন?" পমি রহমান তোতার মতো গড়গড় করিয়া জিজ্ঞাসিলো।

চৌরাসিয়া ভোগান্তির গেলাসে চুমুক দিয়া কহিলেন, "হুঁ!"

পমি রহমান লাফাইয়া উঠিলো, "কে কে কে?"

চৌরাসিয়া কহিলেন, "পাকিস্তান ক্রিকেট দল!"

পমি রহমান কহিলো, "যাহ, ফটাস করে একটা বলে দিলেই হলো?"

চৌরাসিয়া মৃদু হাসিয়া কহিলেন, "ফটাস করে নয়, অনেক ভেবেচিন্তে। আরো আগেই বার করে ফেলতাম, কিন্তু আপনার যন্ত্রণায় চিন্তায় মনোনিবেশ করতে পারছিলাম না। আজ টিভিতে তনুশ্রী দত্তর পাছা দেখে সব মিলে গেলো।"

পমি রহমান অন্যমনস্ক হইয়া কহিলো, "হুঁ, তনুশ্রীর পাছাটা ভালোই ...।"

চৌরাসিয়া কহিলেন, "বেশ ভালো। ... তবে উল্মারের হত্যাকান্ড নিয়ে এখনই কোন ফলাফল জানা যাবে না।"

পমি রহমান ধপ করিয়া বসিয়া বলিলো, "কেন কেন?"

চৌরাসিয়া সব খুলিয়া কহিলেন।



উল্মারের সহিত পাকিস্তানি ক্রিকেট দলের বিস্তর গন্ডগোল চলিতেছিলো। সেই কালরাতে উল্মার বসিয়া বসিয়া টেলিভিশন দেখিতেছিলেন। এমন সময় দরজায় টোকা পড়ে। উল্মার শুধান, "কে ওখানে?"

উত্তর হাসে, "আরে ইয়ার পেহলে দরওয়াজা তো খুলিয়ে না।"

উল্মার তখন বুঝিতে পারেন, ইনজামাম আসিয়াছে। দরজা খুলিয়া দেখেন, ইনজামামের পশ্চাতে ক্রিকেট দলের বাকিরাও উপস্থিত। তিনি বলেন, "কী চাও? এখন তো ঘুমানোর সময়।"

ইনজামাম ঘরে ঢুকিয়া উল্মারের টুঁটি টিপিয়া ধরিলো। আরেক ক্রিকেটার কহিলো, "উস্তাদ হাত মৎ লাগানা। ইয়ে তোয়ালা লে কর পাকড় কিজিয়ে।"

ইনজামাম তখন উল্মারের গলায় তোয়ালার একটি প্যাঁচ কষাইয়া এক মাথা নিজে টানিতে লাগিলো, অন্য মাথা দলের আরো কয়েক খেলোয়াড় ধরিয়া রাখিলো। অচিরেই উল্মার মৃতু্যবরণ করিলেন।

ইনজামাম কহিলো, "আচ্ছা কাম কিয়া গ্যয়া। আল্লা মিয়া তো পাকিস্তানকো বাচা দিয়া। লাড়কোঁ, চ্যলো ঘর যানা হায়।"

এক তরুণ ব্যাটসম্যান কহিলো, "উল্মারজীকা শার্ট বহোত উমদা হায়। মুঝকো ফিট করেগা জরুর।"

আরেক বোলার কহিলো, "উসকা প্যান্ট মুঝকো ভি আচ্ছা ফিট করেগা।"

চাড্ডির জন্যও অনুরূপ বায়না উত্থাপিত হইল।

ইনজামাম বিরক্ত হইয়া কহিলো, "তো খাড়ে খাড়ে মেরা মু কেয়া দেখ রাহে হো? লো না উতারকে!"

অতঃপর তাহারা উল্মারের মৃতদেহ হইতে জামাকাপড়জুতা খুলিয়া উলঙ্গ করিয়া বাথরুমে লাশ রাখিয়া আসিলো।

ইনজামাম কহিলো, "কিসিনে দেখ তো নাহি লিয়া?"

পাকিস্তানি ক্রিকেট দল জানাইলো, "নাহি। সিরফ খুদা নে দেখা।"

ইনজামাম হাসিয়া কহিলো, "আল্লাহ হামারা সাথ হায়। মুলক হামারা সাথ হায়। জওয়ানলোগ, আগে বাড়হো।"



পমি রহমান চোখ গোল করিয়া বলিলো, "যাহ!"

চৌরাসিয়া কহিলেন, "অসম্ভব কিছু কি?"

পমি রহমান খানিক ভাবিয়া কহিলো, "না।"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28705084 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28705084 2007-04-05 14:53:50
ক্রিক্যাটক্যাট রাইসুডাঙা আর ডটরাসেলপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রপিতামহের কাল হইতে কোন্দল বিরাজমান। তাহারা একে অন্যের প্রপিতামহীকে লইয়া অসম্মানজনক উক্তি করে, ক্ষণে ক্ষণে নিজেদের গুপ্তকেশের রেফারেনস টানিয়া আনিয়া শ্লেষোক্তি করে, এবং একে অন্যের কীর্তি লইয়া বিদ্রুপের শেল হানে। যদিও হাটবারে বাকিবিল্লারহাটে উভয় গ্রামের মানুষই সমবেত হয়, গুড় দিয়া মুড়ি খায় আর চা পান করে, মৃদুমন্দ তর্কাতর্কিও হয়, কিন্তু স্ব স্বগ্রামে ফিরিয়া তাহারা একে অন্যের মুন্ড চিবাইয়া খায়। দুই গ্রামের মাঝে খরস্রোতা পিয়াল নদী বহমান, তাহারা নদীর দুই কূলে দাঁড়াইয়া মাঝে সাঝে একে অন্যের দিকে মধ্যমা প্রদর্শন করিয়া থাকে, এমনও দেখা গিয়াছে। সাক্ষাতে অহিংস হইলেও আবডালে তাহারা বড় মারকুটিয়া।

তবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু হইবার পর দৃশ্যত দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে মহব্বত বৃদ্ধি পাইলো। রাইসুডাঙার লোকেরা ডটরাসেলপুরের বংশঝাড় হইতে বাঁশ কাটিয়া লইয়া তাহাতে লালসবুজ পতাকা টাঙ্গাইলো, আবার ডটরাসেলপুরের বাসিন্দারা জনৈক লাল পিরান ও সবুজ লুঙ্গিপরিহিত রাইসুডাঙাবিকে পাকড়াও করিয়া নিজেদের ডান্ডায় পতাকা আঁটাইয়া উড়াইলো। আশেপাশের কয়েকটি গ্রামেও এই উৎসাহ ছড়াইয়া পড়িলো। রাগিমন্দহ গ্রামের থিয়েটার দল ক্রিকেট উপলক্ষে মর্মান্তিক করুণ নাটক মঞ্চস্থ করিলো, অরূপকাঠির মিস্ত্রিরা বিনামূল্যে পাঁচগ্রামের রেডিও মেরামত করিয়া দিতে লাগিলো। ক্রিকেট বলিয়া কথা। সকলকে শুনিতে হইবে, জানিতে হইবে, নাচিতে হইবে।

সকলেই দেশকে লইয়া নাচানাচি করিতেছে, শুধু ত্রিভূজনাইয়ার অধিবাসীদের মন খারাপ। তাহাদের পাকি পিতার পুত্ররা হারিয়া গিয়াছে। মনের দুঃখে তাহারা গ্রামের বিকৃতমস্তিষ্ক আশুপাগলাকে উসকাইয়া দিয়াছে নতুন করিয়া ইতিহাস রচনার। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আশু পাগলা যা মুখে আসে বকিতেছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28703530 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28703530 2007-03-25 03:13:42
ভোদাইচরিতমানস 04 কাশি সারিতেছিলো না। দিনরাত খকর খকর করিতেছিলাম।

কাশির জন্য আশেপাশের দূষিত বায়ুকে দায়ী করিতে মন চাহে, তবে ডাক্তার বন্ধুরা দোষ চাপাইতে চায় আমার নিরীহ ফুসফুসের স্কন্ধে।

জনৈক ডাক্তার বন্ধু দীর্ঘ নয় বছর যাবৎ আমার চিকিৎসা করিয়াছে, তাহার চিকিৎসার পদ্ধতিতে আমার আগাগোড়াই আপত্তি জারি ছিলো, কিন্তু তাহার স্বভাবটি বড়ই স্বৈর, রোগীর প্রতিবাদ কানে নিতে চাহে না, তাহার অ্যালোপ্যাথি ওষুধ খাইতে খাইতে খাইতে খাইতে একদিন হঠাৎ রুষিয়া উঠিয়া কহিলাম, তোমার কাছে আবার যদি এই কাশি লইয়া দেখাইতে আসি তো আমার মুখে জুতা!

বলিয়া উঠিয়া আসিলাম। বন্ধু হাঁ হাঁ করিয়া উঠিয়া আসিলো, পাত্তা দিলাম না।

তাহার পর পনেরো বছর কাটাইয়া দিলাম এই কাশি লইয়া। ইহার মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর দেখাইলাম পাড়ার কবিরাজকে, তিনি খালি কোকিলের ডিমের সহিত মাড়িয়া মকরধ্বজ খাইতে বলিতেন, বলিতেন যে ইহা নাকি জনৈক শহীদ কবিরাজের স্বপ্নে প্রাপ্ত মহৌষধ, খাইলেই কাশি দূর হইবে, গলা তথা ফুসফুসের উন্নয়ন ঘটিবে। বহুমূল্য মকরধ্বজ যোগাড় করিয়াছিলাম বহুকষ্টে, কিন্তু কোকিলের ডিম যোগাড়ের টেন্ডার যাহাদিগের স্কন্ধে অর্পিত করিয়াছিলাম, তাহার বড়ই জুয়াচোর। প্রথম জন যে এক হালি আন্ডা ঠোঙায় করিয়া আনিয়া দিলো, উহাদের দেখিয়া নিতান্ত বোকা*োদাও বুঝিবে, উহারা কোকিলের নহে, বরং মুরগির আন্ডা। কোন হংসীর গর্ভচু্যত রত্নও হইতে পারে। দালালটিকে চোখ রাঙাইয়া কহিলাম, এয়ার্কি পাইয়াছো? কোকিলের ডিম অত বৃহৎ হয় নাকি? সে হাসিয়া কহিলো, এ তো রামকোকিলের ডিম কর্তা। একটু বড়সড় হবেই। মকরধ্বজ দিয়া মাড়িয়া ঢক করিয়া গিলিয়া ফেলুন। আর বিলটা কি এখন দেবেন না দশ মিনিট বসিবো?

রাগে তালু জ্বলিয়া গেলো, কিন্তু ভদ্রলোকের সন্তান হইয়া এই বাটপারটির সহিত কলহে জড়াইতে মন সায় দিলো না।

পয়সা লইয়া সে ফুটিতে না ফুটিতেই আরেক দালাল আসিয়া হাজির, হাতে একটি সরু হোমিওপ্যাথির শিশি। তাহাতে কয়েকটি সাদা ক্ষুদ্রাকৃতির বস্তু।

সংশয় প্রকাশ করিতে না করিতে জ্ঞাত হইলাম, ইহা দুষ্প্রাপ্য পোনাকোকিলের ডিম। অবিলম্বে যাহাতে মকরধ্বজ দিয়া মাড়িয়া খাইয়া কাশিদূর করি, আর টাকা চুকাইয়া দিয়া তাহাকে দূর হওয়ার অনুমতি প্রদান করি।

বিনাবাক্যে তাহাই করিলাম। তবে প্রথম চারটি ডিম ধানুকে দিয়া বলিলাম অমলেট আঁটিতে, আর শিশিটি ফেলিয়া দিলাম। টিকটিকির ডিম আমি বিলক্ষণ চিনি।

তবে কাশি সারিলো না, জাতীয় পক্ষীর ডিমের সন্ধানে পাগলপারা হইয়া ঘুরিতেছি, এমন সময় একদিন আমার আরেক হোমিওপ্যাথ বন্ধু আসিয়া কহিলো সহাস্যে, শুনিলাম শিয়ালের তেল সন্ধান করিতেছো?

গুজবের কাঁটা সজারুস্য অপেক্ষা শক্ত, ছাড়াইবার চেষ্টায় গলদঘর্ম হইয়া অবশেষে সব খুলিয়া কহিলাম। বন্ধুটি ক্ষিপ্ত হইয়া কহিলো, বাটপারটা এদানি ং এই ব্যবসা ধরিয়াছে? কোকিলের ডিম দিয়া মাড়িয়া মকরধ্বজ? তুমি পরশুরামের কচি সংসদ পড় নাই? ঐখানে লালিমা পাল পুং ইহা সেবন করিতো! বাটপারটা তোমাকে ধোঁকা দিয়া মকরধ্বজ বেচিতেছে। আর খোঁজ নিলে দেখিবে ঐ ডিমের দালাল সব উহার শালাসম্বুন্ধী।

খোঁজ নিয়া দেখিলাম, বাস্তবিক তা-ই!

মন বিষাইয়া গেলো, কাশি লাঘবের ভার অর্পণ করিলাম হোমিওপ্যাথটির উপর।

সে আমাকে নাক্স ভমিকা আর আর্নিকা থার্টি গছাইয়া দিয়া নানা আব্দার চালাইতে লাগিলো। হোমিওপ্যাথি ওষুধ নাকি মারাত্মক আচারবিধি পালন করিয়া খাইতে হয়। নাহলে কাজ দেয় না। আচার বিধির বেশিরভাগই খরচিয়া, আর দেখিলাম তাহার মধ্যে সেই বন্ধুটিকে ঘন ঘন দাওয়াত করিয়া খাওয়াইবার আচারটিই মুখ্য। একরত্তি ওষুধ খাইবার নিমিত্তে হাজারটাকা বাহির হইতে লাগিলো।

পাঁচটি বছর এইরূপে কাটিলো।

আমার কবিরাজ বন্ধুটি আমাকে হোমিওপ্যাথির কবল হইতে রক্ষা করিলেন। আসিয়া কহিলেন, কোকিলের উপর রাগ করিয়া ওষুধ বন্ধ করিলে কি চলিবে? কোন কোকিলের রন্ধ্র যদি অনেক বড় বা অনেক ছোট হইয়া থাকে, তোমার আমার কি কিছু করিবার আছে? রন্ধ্র বড় হইলে ডিমও বড় হইবে। রন্ধ্র ছোট হইলে ডিমও ছোট হইবে। তাই বলিয়া তুমি তাহাকে মুরগি বলিবে? টিকটিকি বলিবে? তাহা হইলে তো শ্রীদেবীকে গাভী বলিতে হয়। এইসব রাখিয়া বরং ফুসফুসের কিছু উন্নয়ন করো। উন্নয়নের জোয়ার।

লজ্জা পাইলাম। কাশিয়া কহিলাম, হোমিওপ্যাথ বেটা বড় নচ্ছাড়। তুমিই অন্য কোন ওষুধটষুধ দাও। তবে পুনশ্চে যোগ করিলাম বিশেষ শ্রাব্য হিসাবে, কোকিলের ডিম আর নয়।

বন্ধুটি বড়ই উদার, এইবার প্রেসক্রাইব করিলেন পদ্মমধু দিয়া মাড়িয়া ডুমুরের ফুল।

আমার তো কালঘাম ছুটিয়া গেলো পদ্মমধু যোগাড় করিতে গিয়া। মৌমাছিরা সরিষা ফেলিয়া পদ্ম হইতে কেন মধু সংগ্রহ কওে কে জানে। তবে দেশেও পদ্মের আকাল। জনৈক কুবের মাঝির নিকট হইতে মধু যোগাড় করিয়া বয়ামে ভরিয়া ফ্রিজে রাখিয়া দিলাম বটে, কিন্তু ডুমুরের ফুল খুঁজিতে গিয়া পরনের গামছা বিকাইয়া যাওয়ার যোগাড় হইলো। পূর্বপরিচিত দালালেরা আগাম পয়সা লইয়া নানারকম ফুল আনিয়া দিলো। সেগুলির মধ্যে কুমড়ার ফুল আর গোলাপ শনাক্ত করিতে পারিলাম, বাকিগুলি ধানু ভাসে সাজাইয়া রাখিলো।

এইরূপে পাঁচ বছর গুজরান হইতে না হইতে হোমিওপ্যাথ বন্ধুটি আসিয়া কহিলেন, তুমি তো আচ্ছা সাহিত্যমূর্খ হে। পরশুরামের কচি সংসদে পদ্মমধু বোসের কথা পড় নাই? কবিরাজ ব্যাটা ভোগা দিয়া তোমাকে লুটিয়া ল্যাংটা করিলো!

কী আর কহিবো। বিষণ্ন বদনে বসিয়া কাশিতে লাগিলাম।

আমাকে তখন উদ্ধার করিতে আসিলো ভোদাই।

ঘাতে একটি বয়াম লইয়া আসিয়া হাসিয়া কহিলো, এই লও। ইউনুনি ওষুধ। খাইলেই কাশি দূর। দেহে থাকবে লাবণ্য। মনে থাকবে আনন্দ।

বয়ামটি হাতে লইয়া নাম দেখিলাম। ওষুধের নাম শক্তি, প্রস্তুত কারক বিউটেনুস।

নাক সিঁটকাইয়া কহিলাম, বিউটেনুস! ইহা কেমন নাম? লাতিন নাকি?

ভোদাই হাসিয়া কহিলো, কী জানি বাপু। বলিয়া পকেট হইতে একটি ক্ষুদ্র ঠোঙা বাহির করিয়া কহিলো, অনুপান আছে। শুধু শুধু খাইলে কাশি সারিবে না। অনুপান সাথে খাইতে হইবে।

ঠোঙা খুলিয়া দেখি ভিতরে গোটা কতক জলপাই।

মূল্যের কথা শুধাইতে ভোদাই হাসিয়া কহিলো,আহা অত তাড়াহুড়ার কী আছে? মূল্য ধীরেসুস্থে সারাটি জীবন ধরিয়া দিও!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28700720 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28700720 2007-03-02 14:09:37
ডাগদরনামা 02 ডাগদর সাব ভোটে জিতিয়াই প্রথমে ইঁটের ভাঁটির মালিক সমিতির পান্ডাদের তলব করিলেন।

তাহারা প্রথমে ফরমান পাইয়া ভড়কাইয়াছিলো, বিশেষ করিয়া ডাগদরসাবের ক্ষুদ্রসূচিকার ডর তাহাদের সকলের অন্তরেই ছিলো। নিতম্বের কন্দরে একটি সুঁই ভরিয়া সপ্তাহান্তে উহার দামের উপর সুদ আদায়ে ডাগদরসাবের জুড়ি ছিলো না। প্রাথমিক পর্যায়ে কলাটামূলটাকচুটা দিয়া তাহার সুদ শোধ করা সম্ভবপর হইলেও কালক্রমে তাহা ফুলিয়া ফাঁপিয়া এমন আকার ধারণ করে যে বাটীর চাল পর্যন্ত উড়াইয়া লইয়া যায়।

কিন্তু ডাগদর তাহাদের হোগায় ইঞ্জেকশন দিবার কোন উৎসাহ না দেখাইয়া স্মিত হাসিয়া কহিলেন, "ইষ্টক লাগিবে প্রচুর।"

ব্যবসায়ের গন্ধ পাইয়া ভাঁটির মালিকগণ নাচিতে নাচিতে বাটী ফিরিলো।

এরপর দেশ জুড়িয়া ইঁটের ভাঁটি গজাইতে লাগিলো। তেল গ্যাস কাঠ খড় সব পোড়াইয়া দেশের তাবৎ মাটি ভাঁটিতে পুড়িয়া ইঁট হইলো। সেই ইঁট রিকশা ভ্যান নসিমন নৌকা আর ট্রাকে করিয়া ছড়াইয়া পড়িলো সীমান্ত অঞ্চলে। সীমান্ত বরাবর গড়িয়া উঠিতে লাগিলো বিশাল প্রাচীর। বিএসএফের জওয়ানরা বিমর্ষমুখে তাহাদের নগণ্য কাঁটাতারের বেড়ায় হোগা ঘষিতে ঘষিতে ভাবিলো, ফূর্তির দিন ফুরাইলো, আর বাজি ধরিয়া পাঁচশত গজ দূরের কৃষক মারিয়া মৌজ করা যাইবে না।

দেশ ঘিরিয়া দেয়াল উঠিয়া গেলো।

ছম্বাদিগেরা শুধাইলেন, "ডাগদর সাব, এ কী ঘটিলো?"

ডাগদর সাব প্রকান্ড এক দন্তাল হাসি উপহার দিয়া বলিলেন, "অঙ্গীকার করিয়াছিলাম, গরীবীকে যাদুঘরে পাঠাইবো। যাদুঘরের দেয়াল গড়িলাম!"

হাততালি দিলো কেউ কেউ। তবে ছাদ হারাইয়া বিমূঢ় বস্তির গরীব দেয়াল পাইয়া বিশেষ আনন্দিত হইতে পারিলো না, তাহারা হাতজোড় করিয়াই রহিলো।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28700444 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28700444 2007-02-28 11:19:12
আদমচরিত 012 ঈশ্বর জরুরি সভা তলব করিয়াছেন। ম্যানেজার পর্যায়ের স্বর্গদূতের চোখ ডলিতে ডলিতে আসিয়া সভায় বসিয়াছে। ঈশ্বর বুঢ়া সর্বদা কাকভোরে সভা ডাকিয়া থাকেন।

ঈশ্বর রুদ্র কণ্ঠে বলিলেন, "আমি গোপন সূত্রে সংবাদ পাইয়াছি, আদম নাকি নাস্তিক হইয়া গিয়াছে!"

স্বর্গদূতরা অস্ফূটে আর্তনাদ করিয়া ওঠে। মাশরাফিলের হাতে ধরা সানকি হইতে কফি ছলকাইয়া পড়ে। আদম এত বড় চো*না তাহা কেউ আগে বুঝিতে পারে নাই।

ঈশ্বর কহিলেন, "জেমসবন্ডাইল, খুলিয়া কহো।"

জেমসবন্ডাইল একটা বিড়ি ধরাইয়া কহিলো, "বন্ডাইল! জেমস বন্ডাইল!"

দূরে অপ্সরাদের কোয়ার্টার হইতে অস্ফূট গুঞ্জন ভাসিয়া আসিলো, "মরি মরি আহা ...।"

ঈশ্বর ওয়েস্টপেপারবাস্কেট হইতে এক কপি মৌদুধিপুরাণ বাহির করিয়া জেমস বন্ডাইলের দিকে ছুঁড়িয়া মারিলেন, কিন্তু সে ঘাপটি মারিয়া বসিয়া পড়ায় তা তাহার রগ ঘেঁষিয়া চলিয়া গেলো।

"বাজে প্যাচাল পাড়িলে তোর কপালে দুকখু আছে বলিয়া দিলাম!" ঈশ্বর হুঁশিয়ার করিলেন।

জেমসবন্ডাইল বিড়িটা ফেলিয়া দিয়া গলা খাঁকরাইয়া শুরু করিলো, "সমবেত সুধীমন্ডলী, ও আজিকে যাহারা শুনিতেছেন। আমি আমার বক্তব্য দীর্ঘায়িত করিবো না ...।"

এর মাঝে ঘটিলো এক অভূতপূর্ব ঘটনা। কোথা হইতে আদমের পালতু রামছাগল ছাগুরাম আসিয়া গুটি গুটি পায়ে হাজির! সে আসিয়া সোজা একটি ত্রিকোণাকৃতির আসনে বসিয়া মন্দ্রস্বরে বলিল, "জেন্টুলমেন, আমাদের সমুখে সমূহ বিপদ। আদম নাস্তিক হইয়া গিয়াছে। পাইকারি দরে আবোল তাবোল বকিতেছে। কিছু করিতে হইবে। আমি ঈশ্বরকে আহবান জানাইতেছি ইহার প্রতিকার লইবার। নতুবা আমি ঈশ্বরের উপর অনাস্থা প্রস্তাব তুলিবো স্থির করিতেছি।"

ঈশ্বর বাকরুদ্ধ হইয়া জেমসবন্ডাইলের দিকে তাকাইলেন। সে উঠিয়া ছাগুরামের পোঁদে লাথি মারিলো। ছাগুরাম কাতর ম্যাৎকার করিয়া কহিলো, "এখন একটু ব্যস্ত রহিয়াছি, পরে আসিয়া বিশদ কহিবো!" বলিয়া তিন লম্ফে প্রস্থান করিলো।

জেমস বন্ডাইল আবারও শুরু করিলো, "ইয়ো জনাবস! সেইদিন আমি ডিউটি শেষ করিয়া আদমের কুটিরের পাশ দিয়া ঘরে ফিরিতেছিলাম, হঠাৎ শুনিলাম ঈভ ও আদমের মধ্যে ব্যাপক কাজিয়া চলিতেছে। আদম কহিয়াছে, ঈশ্বর তাহাকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন, তাহার পঞ্জরের একটি অস্থি দিয়া তাহার জন্য একটি সঙ্গিনী নির্মাণ করা হইবে। আদম নাকি তখন শুধাইয়াছিলো, সঙ্গিনী কী বস্তু। ঈশ্বর প্রতু্যত্তের চোখ টিপিয়া বলিয়াছিলেন, "ভো চীজ বড়ি হ্যায় মাস্ত মাস্ত।" পরবর্তীতে কনস্ট্রাকশন পিরিয়ড ফুরাইবার পর যখন হ্যান্ডওভার হয়, তখন সঙ্গিনী দেখিয়া আদমের ভালোই লাগিয়াছিলো। সে ভাবিয়াছিলো, তাহার হাতে লিখিবার দিন তবে ফুরাইলো। টাইপরাইটারে লিখিবার দিন শুরু হইলো। কিন্তু বাস্তবে ঈশ্বরের অঙ্গীকার যে একটি স্বর্গীয় ফাঁপর, তা সে একেবারে অস্থিতে অস্থিতে টেরটি পাইয়াছে। ঈশ্বর বরং ভাঁওতা দিয়া তাহাকে একটি সঙ্গমবিমুখ কাজিয়াবাজ রুমমেট গছাইয়া দিয়াছেন, যে ঢংঢাং করে কিন্তু কামের কাম করিতে দেয় না। ব্যাপারটা লইয়া সে খোদ ঈশ্বরের সহিত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আলাপ করিয়াছে, কিন্তু ঈশ্বর তাহাকে ক্রমাগত ভুঝুং দান করিয়া বঞ্চিত করিতেছেন। টাইপরাইটারটি পাশে রাখিয়া তাহাকে দিস্তার পর দিস্তা হাতে লিখিতে হইতেছে। ঐদিকে ঈশ্বর সাম্য ও সংযমের দোহাই তুলিয়া ভাঁওতাবাজি অব্যাহত রাখিয়াছেন। শুধু তাই নয়, জ্ঞানবৃক্ষের চতর্ুর্দিকে প্রহরা ত্রিগুণিত করিয়াছেন। এহেন ঈশ্বরের ওপর আর যা-ই হোক, বিশ্বাস রাখা যায় না।"

জেমসবন্ডাইল শ্রান্ত হইয়া কফির সানকিতে একটি চুমুক দেয়।

ঈশ্বর শুধান, "ঈভ কী কহিলো?"

জেমসবন্ডাইল আবারও একটি বিড়ি ধরাইয়া কহিলো, "ঈভ কহিয়াছে, সামান্য একটা জ্ঞানবৃক্ষের ফল এক কামড় যে খাইয়া আসিতে পারে না এমন পুরুষের মুখে মুড়ো খ্যাংড়া!"

ঈশ্বর বিমর্ষ মুখে বলিলেন, "আরে এই ঈভ দেখি দিনকে দিন হান্টারওয়ালি হইতেছে। তাহার এতো ভয় কীসের, বাচ্চা তো আর আসিবে না পেটে!"

জেমসবন্ডাইল সাগ্রহে কহিলো, "আমি কি তবে একদিন তাহাকে এই ব্যাপারে উদাহরণসহ ব্যাখ্যা দিয়া আসিবো? একেবারে জলবত্তরলম যাহাকে বলে আর কি ... যে আমাকে না বলিতে পারিবে না!" সে পকেট হইতে আয়না আর চিরুনি বাহির করিয়া এক পশলা টেরি বাগাইয়া লইলো।

ঈশ্বর কহিলেন, "মারিয়া পস্তা উড়াইবো। ঐসব চলিবে না। তারপর কহ।"

এমন সময় আবারও ঘটিলো সেই দুর্ঘটনা। ছাগুরাম আবারও কোথা হইতে আসিয়া সভায় ঢুকিয়া কহিলো, "আদম নাস্তিক হইয়াছে। তাহার নাস্তিকতা দেখিয়া আমার হাসি পায়। কিন্তু আমি তাহার শাস্তি চাই। নাস্তিকদের স্বর্গ হইতে বহিষ্কার করিতে হইবে। তা না হইলে জ্বলিবে আগুন ঘরে ঘরে। ঈশ্বর অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, নতুবা কখন কী ঘটিয়া যায় কিচ্ছু বলা যায় না।"

এইবার গুজরিল আসিয়া চোখা একটি দন্ড লইয়া ছাগুরামের পোঁদে খোঁচা মারিলো। ছাগুরাম প্রবল ম্যাৎকার করিয়া উঠিয়া কহিলো, "জরুরি কাজে একটু বাহিরে যাইতে হইতেছে, ফিরিয়া আসিয়া সাইজ করিবো!" বলিয়া তিন লম্ফে পলায়ন করিলো।

ঈশ্বর কহিলেন, "ছাগুরামের সমস্যা কী? আমার উপর আদমের অবিশ্বাস জন্মিলে তাহার কী সমস্যা?"

জেমসবন্ডাইল ঈশ্বরের কানে কানে ফিসফিস করিয়া কী যেন কহিলো। ঈশ্বরের মুখ গম্ভীর রক্তাভ রূপ ধারণ করিলো। তিনি কহিলেন, "ছি ছি। টাইপরাইটার ব্যবহার করিতে না পারিয়া শেষ পর্যন্ত ছাগুর পশ্চাতে উপগমন! আদম তো ভারি অশ্লীল!"

গুজরিল বলিলো, "হাঁ, পবিত্র গন্থে দেখিলাম, উহার কিছু বংশধর একে অন্যের পশ্চাতে এই কুকর্ম সাধন করিবে। আমাকে তখন গিয়া তাহাদের শহর উৎপাটন করিয়া লবণ হ্রদ তৈয়ার করিতে হইবে।"

ঈশ্বর চটিয়া কহিলেন, "ঈভের কি টাইপ করিতে ইচ্ছা জাগে না?"

জেমসবন্ডাইল সাগ্রহে শুধাইলো, "আমি কি খোঁজ লইয়া দেখিয়া আসিবো?"

ঈশ্বর কী যেন বলিতে উদ্যত হইয়াছিলেন, এমন সময় ছাগুরাম আবার আসিয়া হাজির! সে সটান আসিয়া কহিলো, "এইসব বাচ্চা ঈশ্বরদের নিয়ে এই একটা সমস্যা। নাস্তিকদের সমস্যা বলিয়া মনে করিতে চায় না। এইসব বাচ্চাদের কীরূপে বুঝাইবো যে নাস্তিকতা কত ভয়াবহ সমস্যা?"

ঈশ্বর কালেভদ্রে চটেন। তিনি চটিয়া কহিলেন, "অ্যায় কে আছিস, চো*নাটাকে ধরিয়া ভালো করিয়া পিছমোড়া করিয়া বাঁধিয়া লইয়া আয়। তাহার পর একটি টেংরি ভাঙ্গিয়া হাতে ধরাইয়া দে।"

গুজরিল আগাইয়া গেলেরা, নৃশংস কাজে তাহার হাত পক্ক, এর এ তো অজশংস কাজ। ছাগুরাম কাতর ম্যাৎকার করিয়া উঠিলো।

তদ্যাবধি ছাগুরাম একটি পদ হারাইয়া ত্রিভূজ হইয়া ঘুরিতেছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28700072 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28700072 2007-02-25 12:37:25
ডাগদরনামা 01 ডাগদর সাব নির্বাচনে খাড়াইয়া জয়লাভ করিয়াছেন।

তাঁহার দলের নাম বান্দরিক শক্তি। যখন দলের আকিকা করিয়াছিলেন, সকলেই খাবি খাইয়াছিলো। বান্দরিক শক্তি! তবে কি ডাগদর সাব গোপনে বান্দরের তেল সেবন করিয়া বিশেষ শক্তি লভিলেন নাকি?

তবে তাঁহার ভক্ত এক অধ্যাপক আসিয়া সব জল করিলেন। "বন্দর হইতে বান্দরিক। যেমন জগত হইতে জাগতিক। কলস হইতে কালসিক। বলদ হইতে বালদিক। ইত্যাদি।"

লোকজন মুখের হাঁ বুজাইয়া কহিলো, "হাঁ, এইরূপ তো হইতেই পারে। কিন্তু বন্দর লইয়া অত টানা হ্যাঁচড়া ক্যানো?"

ডাগদর সাব একগাল হাসিয়া কহিলেন, "আমার শৈশব আর কৈশোর কাটিয়াছে বন্দরে বন্দরে বান্দরামি করিয়া। মানে বন্দর আর আমি, দুই হরিহরাত্মা। দুইজনে দুইজনার। বন্দর না থাকিলে আমি আজ থাকিতে পারিতাম না। তেমনি আমি না থাকিলে বন্দরও আর থাকিতে পারিবে না। তাই আমার জীবন যৌবন সবই আমি বন্দরের জন্য উজাড় করিবো। আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাবে বন্দর। আমি বন্দরকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি যোগাবো। তাই আমার দলের নাম বান্দরিক শক্তি। আপনারা দলে দলে আসুন।"

হাটেমাঠেঘাটে তখন বান্দরিক শক্তির নামে বিপুল প্রচারণা ঘটিলো। ডাগদর সাব কহিলেন, "আপনারা পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায়, ""ডাগদরের দেওয়ানাগোষ্ঠী"" গঠন করুন। যাহারা ডাগদরের জন্য সুশীল রাজনীতি করবে। দুনর্ীতি করবে না। সন্ত্রাস করবে না। কথা কাটাকাটি করবে না। তারা হবে সুশীল। ক্ষুদ্রসূচিকার দাম নিয়মিত কলাটামূলাটাকচুটা বেচিয়া শোধ করিবে। তাহাদের বাড়ির চাল কষ্ট করিয়া খুলিয়া আনিতে হইবে না। তাহারা সব নগদে জোগাইবে। এইরূপে দেশ আগাইয়া যাইবে। হাত লাগান ভাইসব।"

বান্দরিক শক্তির নামে বিপুল রব উঠিলো। কেহ বুঝিয়া হে না বুঝিয়া নারা দিতে লাগিলো ডাগদর সাবের নামে।

ছাগুরাম একদিন পথ ধরিয়া যাইতেছিলো, সে কী ভাবিয়া ডাগদর সাবকে ধরিয়া বসিলো, বান্দরিক শক্তির প্রতীক করিতে হইবে ছাগল।

ডাগদর সাব হাসিয়া খুন। বলিলেন, ছাগল তো গত সরকারের উন্নয়নের প্রতীক। আমি উহা লইবো কোন শোকে?

ছাগুরাম প্রচুর আর্গুমেন্ট করিতে উদ্যত হইলো, বুদ্ধির অভাবে করিতে পারিলো না, বিকল্প উপায় হিসেবে লাদি ছাড়িয়া ভ্যা ভ্যা করিতে লাগিলো।

ডাগদর সাব হাসিয়া কহিলেন, তাছাড়া আমেরিকায় বড় দুই পার্টি হাতি আর গাধা মার্কা লইয়া বড় পেরেশানিতে আছে। সকলে তাহাদের লইয়া কার্টুন আঁকে। ছাগল লইয়া শেষে বিপদে পড়ি আর কি।

ছাগুরাম তখন জেদ ধরিলো, ছাগল মার্কা না লইলে কাঁটাল পাতাকে মার্কা করিতে হইবে।

কথাটি ডাগদর সাবের মনপূত হইলো। তিনি কহিলেন, বাহ, বেশ। কাঁটাল পাতার মধ্যে সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির ইঙ্গিত রহিয়াছে। তাছাড়া বান্দরিক শক্তিও বৃদ্ধি পায় কাঁটাল পাতা খাইলে। ব্রাভো। উত্তম প্রস্তাব ছাগুরাম। আইস, তুমি আমার দলে সব্জিবিষয়ক পরামর্শদাতারূপে কাম করিবে।

ছাগুরাম সানন্দে নাচিয়া রাজি হইলো।

জনৈক সুশীল বাধা দিয়া কহিলো, ডাগদর সাব এ আপনি কী করিলেন? একটি ছাগলকে বান্দরিক শক্তিতে ঢুকাইলেন? এ কি ঠিক হইলো?

ডাগদর সাব বাধা দিয়া কহিলেন, আহ আর বিভেদ নয়। আগাইয়া যাইতে হবে। বান্দর ছাগল মানুষ খাটাস সকলকে আগাইয়া যাইতে হবে। এ জাতি পিছাইয়া থাকিতে পারে না।

বলিয়া তিনি আকর্ণবিস্তৃত একটি হাসি দিলেন। প্রবল জেল্লা বাহির হইলো। দেশসুদ্ধ লোক সে হাসিতে ভুলিয়া কাঁটাল পাতায় সীল মারিয়া আসিলো।

...

(চলিবেক)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28699499 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28699499 2007-02-20 10:10:51
আদমচরিত 009 ঈশ্বর আসনে বসিয়া ঢুলিতেছিলেন, ইদানীং হাতে কাজের চাপ কম, খালি তন্দ্রা আসে। সৃষ্টির শুরুতে এক হপ্তা গাধার খাটুনি খাটিতে হইয়াছিলো, বর্তমানে বেশ বিশ্রামযুগ কাটাইতেছেন। বোর অনুভব করিলে তিনি মাঝে মাঝে আসনপাশ্বর্ে রক্ষিত চিলুমচি হইতে বরফখন্ড লইয়া ইতস্তত ছুঁড়িয়া মারেন। সেগুলি মহাকাশে লাট খাইতে থাকে, বোকা লোকে তাহাকে ধূমকেতু মনে করিয়া জোর গবেষণা শুরু করিয়া দেয়।

হঠাৎ বিকট ম্যাৎকারে ঈশ্বরের তন্দ্রা টুটিয়া খানখান হইলো। তিনি চক্ষু ডলিতে ডলিতে তাকাইয়া দেখিলেন. আদমের পালতু ছাগুরামটি তাহার সম্মুখে দন্ডায়মান। তাহার মুখচ্ছবি জ্ঞানের ভারে বিকট। চোয়াল নড়িতেছে। নিশ্চয়ই কাঁটালপাতা চিবাইতেছে। ছাগুরাম কাঁটালপাতার যম।

ঈশ্বর ছাগুরামের কর্মকান্ডে ব্যাপক আমোদ লভিয়া থাকেন। তিনি সহাস্যে শুধাইলেন, "কী গো ছাগু, কী সংবাদ? দন্তমার্জনা কর না কেন? দাঁতের ফাঁকে কাঁটালপাতা দেখিতেছি যে!"

ছাগু মাটিতে পা ঠুকিয়া বলিলো, "কাঁটাল পাতা ফুরাইয়া গিয়াছে।"

ঈশ্বর সস্নেহে বলিলেন, "কাঁটাল পাতা সব খাইয়া শেষ করিয়াছো?"

ছাগু গোঁ গোঁ করিয়া বলিলো, "আমার নাগালে যত পাতা ছিলো চিবাইয়া বিনাশ করিয়াছি। অবশিষ্ট কাঁটাল পাতা আমার নাগালের উপরে। পিছনের দুই পায়ে ভর দিয়াও তাহাদের আয়ত্বে আনিতে পারি না।"

ঈশ্বর বলিলেন, "এখন আমাকে কী করিতে হইবে বল।"

ছাগু বলিলো, "মাঠের যত ঘাস আছে, উহাদের কাঁটাল পাতা ঘোষণা করুন।"

ঈশ্বর চমকিয়া উঠিলেন। এ কেমন বিখাউজ আব্দার?

তিনি বলিলেন, "ঘাসেদের পিছে কেন লাগিয়াছো? উহারা তোমার কী ক্ষতি করিয়াছে? আমি বরং তোমার উচ্চতা কয়েক ইঞ্চি বর্ধন করিবার ব্যবস্থা দেখি। কিংবা কাঁটাল গাছকে বলি তাহার যেন কান্ডদেশে আরো বেশি পত্র ধারণ করে। তাহলে চলিবে না?"

ছাগু ডানে বামে মাথা নাড়ে। "মাঠের ঘাসগুলি আমি চিবাইয়া দেখিয়াছি। মন্দ নহে। ভাবিয়া দেখিলাম, উহারা প্রকৃতপক্ষে কাঁটাল পাতা। কিন্তু নিজেদের ঘাস বলিয়া দাবি করিয়া আমার মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াইতেছে। উহাদের কাঁটালপাতা ঘোষণা করুন, ল্যাঠা ছুকিয়া যায়।"

ঈশ্বর ছাগুরামকে বুঝাইতে প্রবৃত্ত হইলেন। ঘাস আর কাঁটালের ফাইলোজেনি খুলিয়া ছাগুরামকে দেখাইলেন, তাহাদের উদ্ভবের ইতিহাস আলোচনা করিলেন, ঘাসের ঘাসত্ব লইয়া ঘাসের বক্তব্যও পাঠ করিয়া শুনাইলেন। কিন্তু ছাগুরাম মানিতে নারাজ। তাহার এক দফা এক দাবি।

অবশেষে ঈশ্বর চটিয়ামটিয়া ছাগুকে খেদাইয়া দিলেন। ছাগু রোষকষায়িত লোচনে খানিকক্ষণ তাকাইয়া থাকিয়া প্রস্থান করিলো। যাইবার আগে মাটিতে ছরছর করিয়া একগাদা লাদিও ছাড়িয়া গেলো।

ঈশ্বর তাঁহার ইন্টেলিজেনস বিভাগের ভারপ্রাপ্ত স্বর্গদূত জেমসবন্ডাইলকে তলব করিলেন। জেমসবন্ডাইল সন্তর্পণে আসিয়া কুর্ণিশ করিলো।

"ছাগুরামের হঠাৎ এইরূপ উগ্রতার কারণ কি?" ঈশ্বর সোজাসাপ্টা জানতে চাইলেন।

জেমসবন্ডাইল একখানি বিড়ি ধরাইলো। "বন্ডাইল। জেমস বন্ডাইল।"

ঈশ্বর মহা ক্ষেপিয়া গেলেন। "ভড়ং ছাড়ো মূর্খ! ঐসব অপ্সরা পটানো বুলি আমার সামনে আরেকবার আওড়াইলে মারিয়া পস্তা উড়াইবো!"

জেমসবন্ডাইল থতমত খাইয়া বিড়িটা ফেলিয়া দিলো। "গোস্তাকি মাফ করবেন হুজুর, বদভ্যাস ছাড়িতে পারিতেছি না। ... হইয়াছে কি, কিয়ৎকালপূর্বে ছাগুরাম গোঁধরিয়াছিলো, সে আর স্বর্গে বাস করিবে না। আদম নাকি ঈভকে পটকাইতে না পারিয়া মাঝেমধ্যে তাহাতে উপগত হইবার কুচেষ্টা করিয়াছে। ছাগুরাম কয়েকদিন ঠিকমতো হাঁটিতে পারে নাই। বুঝতেই পারিতেছেন ...।"

ঈশ্বর বিরক্ত হইয়া বলিলেন, "প্রাসঙ্গিক কথা বলো অর্বাচীন।"

জেমসবন্ডাইল বলিলো, "তো ... ছাগুরাম ঠিক করিয়াছিলো সে স্বর্গ ত্যাগ করিবে। এইখানে তাহার বড় কষ্ট। সকলে তিরিভুজ বলিয়া গালাগালি করে, হো*া মারিতে চায় ... তো সে তাহার গামছায় রসদপত্র লইয়া স্বর্গ ত্যাগ করিবার সময় শয়তান আসিয়া তাহাকে ভুলাইয়াভালাইয়া একটি ঝোপের আড়ালে লইয়া গিয়াছিলো। সেইখানে তাহারা কী করিয়াছে তাহা আমি আপনাকে বলিতে পারিবো না, বড়ই শরমের বিষয় ... তবে শুনিয়াছি প্রচুর মৌদুধিকাঁটা ছাগুরামকে খাওয়ানো হইয়াছে। আমার ধারণা উহার পাশর্্বপ্রতিক্রিয়াতেই তাহার মস্তিষ্কে এইরূপ বিকৃতি দেখা দিয়াছে।"

ঈশ্বর বিরক্ত হইয়া জেমসবন্ডাইলকে হাতের ইশারায় বিদায় করিলেন। শয়তান বড় শয়তানি শুরু করিয়াছে। কমিক ছাগুটিকেও গুন্ডামো শিখাইয়া দিয়াছে।

দূরে ভ্যা ভ্যা শব্দ শুনিয়া ঈশ্বর কান পাতিলেন। শুনিলেন, ছাগু আরো কিছু তৃণভোজী ডাকিয়া আনিয়া মেহফিল জমাইয়া বসিয়াছে। সেখানে ঘাসকে কাঁটালপাতা ঘোষণার দাবি, আর মুক্তবুদ্ধির মুন্ডপাত চলিতেছে মুহুমর্ূহু।

ঈশ্বর দীর্ঘশ্বাস ছাড়িয়া অস্ফূটে বলিলেন, "ব্যাটা তিরিভুজ কোথাকার ...!"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28697413 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28697413 2007-02-08 00:11:57
আদমচরিত 008 স্বর্গে বড় গোল হইতেছে।

ঈশ্বর একখানি তোয়ালা ঠান্ডা পানিতে ভিজাইয়া মস্তকে মাঝে মাঝে ঘষিতেছেন। অদূরে আদম-ঈভের কুটির হইতে অশালীন গালাগালি ভাসিয়া আসিতেছে।

আদম বলিতেছিলো, "রমণ করিতে দিবি না কেন মাগী? মাগনা পাইয়াছি নাকি তোকে? নগদ একখানি পঞ্জরাস্থি খরচা করিতে হইয়াছে তোকে ঘরে তুলিতে। কড়ায় গন্ডায় উশুল করিয়া ছাড়িব!"

ঈভ চেঁচাইয়া কহিতেছিলো, "যা যা তোর মত ফুটা বোটের কাপ্তেন কত দেখিলাম! খালি মুখে ফটর ফটর! রমণ করিতে চাস তো যা আগে গিয়া নিষিদ্ধ ফল গোটা কতক চাবাইয়া আয়। তারপর যদি তোর সংবিধান সমুন্নত হয় তো আসিস!"

আদম আবার চিৎকার করিয়া কহিল, "সমুন্নত হইবে কীরূপে? ছলাকলা কিছু দেখাবি তবে না হইবে! যে-ই না চেহারার ছিরি! যা গিয়া স্নান করিয়া সুগন্ধি মাখিয়া ঘন্টা খানেক চৌষট্টি কলা চর্চাইয়া দ্যাখা! তাহার পরে দেখিস রমণ কাকে বলে! তোর চৌদ্দগুষ্টিকে রমণাইয়া ছাড়িব, মাগী ...।"

ঈশ্বর কানে অঙ্গুলি প্রবিষ্ট করিলেন। তাঁহার সৃজনের এই পরিণতি! এমন ইতর ভাষায় মনুষ্য কথা কহে? তদুপরি ইহারা নরনারী, একে অপরের পরিপূরক! ইহারা কোথায় অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষরূপে জীবন যাপন করিবে, তাহা নহে, দিনরাত রমণ লইয়া কাজিয়া করিতেছে।

ঈশ্বর ঠিক করিলেন, আদম ঈভের কুটিরে একজন মডারেটর নিয়োগ করিবেন। সে ইহাদের সামলাইয়া রাখিবে।

কাকে মডারেটর নিয়োগ দেয়া যায় তাহা লইয়া ঈশ্বর একটু পেরেশানিতে পড়িলেন। স্বর্গদূত কাউকে নিয়োগ দিলে ঝামেলা, উহারা জড়বুদ্ধিসম্পন্ন, আদম ঈভকে নিরস্ত করা তাহাদের পক্ষে নিতান্ত অসম্ভব। তাছাড়া তাহারা ঐ কুটিরে থাকিলে প্রচুর কুবাক্য শিখিয়া নিজেরাই বখিয়া যাইবে।

চিন্তার অবসরে অদূরে ম্যাৎকার শুনিয়া ঈশ্বর সম্বিৎ ফিরিয়া পাইলেন। দেখিলেন, অদূরে একটি পনসবৃক্ষের কান্ডে দু'টি পদ তুলিয়া দিয়া পরম আরামে পানসপত্র চিবাইতেছে আদমের পোষা ছাগুটি।

ঈশ্বরের মাথায় বুদ্ধি খেলিয়া উঠিল। তিনি ইশারায় ছাগুরামকে কাছে ডাকিয়া সমস্ত ব্যাপার জলবত্তরলম করিয়া বুঝাইয়া বলিলেন। ছাগু পিতামাতার তৃতীয় সন্তান, সে নাচিতে নাচিতে আদম-ঈভের কুটিরে গিয়া ঢুকিল।

ঈশ্বর তোয়ালা মাটিতে ছুঁড়িয়া ফেলিয়া চৌকিতে লম্বা হইলেন। দূরে হট্টগোল কিছুটা স্তিমিত হইয়াছে।


ছাগুরাম গম্ভীর মুখে আদমকে বলিল, "কোন অশালীন কথা বলিও না আদম। ঈভ, তুমিও অশালীন কথা বলিও না।"

আদম দন্ত খিঁচাইয়া কহিল, "ক্যানো রে ছাগু? তুই কোথাকার কে?"

ছাগুরাম বলিল, "আমি মডুরাম। অদ্য হইতে তোমাদের মডারেট করিব। বাজে কথা বলিলে গুঁতাইয়া দিব। এই দেখ শিং।" সে নিজের শৃঙ্গ দেখায়।

আদম মুষড়িয়া পড়িয়া বলিল, "ঈশ্বর খালি পোঁদে কঞ্চি দ্যান। স্বীয় স্ত্রীর সহিত ঝগড়া করিতেছি, তাঁহার কেন ইয়ে জ্বলে?"

ছাগুরাম ক্রুর হাসিয়া বলিল, "বাজে কথা চো*াইও না আদম। বাজে কথা চো*ানো আমি পছন্দ করি না।"

ঈভ চেঁচাইয়া বলিল, "ওরে ছাগু, তুই নিজেই তো গালাগালি করিতেছিস ...!"

ছাগু চোখ টিপিয়া বলিল, "মডুরাম হওয়ার মজাই তো ইহা! বুঝিলে মাগী?"

আদম ঈভ ঠান্ডা মারিয়া গেলো। ছাগুরাম আপনমনে খিস্তি করিতে লাগিলো। ঈশ্বর ততক্ষণে চৌকিতে শুইয়া নাসিকা গর্জন করিতেছেন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28691848 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28691848 2006-12-24 12:01:58
ছাগুরামকাব্য 09: বাইদ্যাওয়ে (আংরেজি মাধ্যম ছাগু) অনেকেই ভুলে যায়, মেমরিতে নাই কোন দম
ছাগুরাম আংরেজি মাধ্যম।

দিনরাত গিজগিজ নানা [গাঢ়] আইডিয়্যা [/গাঢ়]
কণিকাকে নিয়া
কাঁটালের পাতা খেয়ে কষখানি লেজে মুছি কয়
আর সহ্য নয়
আংরেজির শেল মারি দুষ্টুদলে করিব বিনাশ
ওরে কে আছিস নিয়ে আয় ঘাস
জলদি আয় লয়ে
এই ফাঁকে কমেন্টিয়া কহে, [গাঢ়] বাইদ্যাওয়ে, বাইদ্যাওয়ে [/গাঢ়] ...

এলেভেল ওলেভেল ঐসব হাবিজাবি রাখি
ছাগুরাম পড়িয়াছে আংরেজি নিঃসঙ্গ একাকী
তাই কেন্ট হেল্প ইট উগারিয়া কলকল ছলছলছল
(আংরেজি শিক্ষার ফসল)
হুহুঙ্কারে কহে ক্ষিপ্ত হয়ে
মেইল দিলে সিডি দিব পাঠায়ে বাইদ্যাওয়ে ...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28649 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/28649 2006-12-20 07:46:59
ছাগুরামকাব্য 08ঃ শাকাহারী জমায়েৎ ছাগুরাম কহে, "ভাই!
সবার উপরে কাঁটাল সত্য তাহার উপরে নাই!"

উটুরাম কহে, "ভ্রাতা!
কেন মিছে বকি তর্ক বাড়াও খেয়ে কাঁটালের পাতা?
মরুর দেশেতে আসা ইস্তক খাই খেজুরের মূল
পাতা নয়, আছে শেকড়ে শক্তি, নেই তাতে কোন ভুল!"

ছানারাম কহে, "কাগু!
ফিরিঙ্গিদের দেশে আসে নাই, তাই বাজে বকে ছাগু।
আঙ্গুরের লতা আঙ্গুরেরর ডালে কী যে মরমিয়া মধু,
খাইলে বুঝিবে কাঁটাল-খেজুর যে-ই লাউ সে-ই কদু।"

ছাগুরাম কহে, "ছানা!
ঘুরিয়াছি আমি কত জঙ্গল, কত ময়দান নানা
চিবায়া চিবায়া করিয়া দেখেছি পরখ হাজারো পাতা
কাঁটালের কাছে নস্যি সকলই, সব একেবারে যা তা।"

উটুরাম কহে, "বাল!
খেজুর শিকড় খাইলে বুঝিতে উহা কী দারুণ মাল!
মানুষেরা খায় খেজুর পাড়িয়া, আমি খুঁড়ি খাই মূল
মৌলবাদী কি সাধে হইয়াছি রাখিয়া থোতায় চুল?"

ছানারাম কহে, "দাদা!
আঙ্গুরের রস না খাও যদি তো জীবন বৃথাই আধা।
কাঁটালের পাতা খেজুরশিকড় শক্তি যোগাক যত
আবঝাব লেখা কেউ যোগাবে না আঙ্গুররসের মত।"


এইরূপে যত শাকাহারী প্রাণী ব্লগের আসর মাঝে,
নেপথ্যে করে কুপথ্য যত বিষম বিরূপ বাজে,
তাহারই প্রভাবে ব্লগে আসি তারা ত্যাজে ঘনঘন লাদি।
বাখানিয়া তাই আমিও নানান গল্পকবিতা ফাঁদি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/26500 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/26500 2006-12-01 05:24:16
ডাগদর সাবের ফরমূলা অজপাড়াগাঁয়ে যখন প্রবল কোন্দল শুরু হইল, ডাগদর সাব দারাপুত্রপরিবার লইয়া গ্রামত্যাগ করিলেন। বলিলেন, পুরস্কার পাইয়াছি, গঞ্জে গিয়া দিন কতক বেড়াইয়া আসিব, কন্যাটি আব্দার ধরিয়াছে মেলা দেখিবে। গাঁয়ের লোক তখন কোন্দল নিয়া ব্যস্ত, তাই তাঁহাকে পাত্তা দিল না।

ডাগদর সাব গঞ্জে গিয়া হেটো মেঠো বক্তৃতা দিয়া গঞ্জ গরম করিয়া ফেলিলেন। বলিলেন, এই যে দেখিতেছেন আমার হাতে ক্ষুদ্রসূঁচিকা, ইহাই সর্বরোগের মহৌষধ। মরার পোঁদে দিলে সে জ্যান্ত হইয়া উঠিয়া হাঁটাহাঁটি করে। কলেরার রোগীকে দিলে সে টাটকা হইয়া মশারি কাচা শুরু করিয়া দেয়। বাতের রোগীকে দিলে সে লাঠি খেলায় রুস্তম হইয়া ওঠে। ভাইসব, এর মূল্য দশ টাকা, কিন্তু আপনাদের জন্য মাত্র দুই টাকা দুই টাকা দুই টাকা।

ঐদিকে স্বগ্রামে চলিতেছে তুমুল কোন্দল। লাঠালাঠি গোলাগুলি। লোকক্ষয় হইতেছে সমানে।

ডাগদর সাব কিন্তু গঞ্জ হইতে গঞ্জে ঔষধ ফেরি করিয়া চলিতেছেন। সাথে দারাপুত্রপরিবার। তারা মেলা দেখে, মুড়কি খায়।

গাঁয়ে কোন্দল একটু স্তিমিত হইবার পর ডাগদর সাব ফিরিলেন। গাঁয়ের এক পক্ষের চাঁই খোকা মুনশি বলিল, ডাগদর সাবকে সংবর্ধনা দিতে হইবে। তিনি প্রকান্ড এক খেমটা নাচের আসর বসাইলেন। পাঁচ গাঁয়ের লোক আসিল সেই নাচ দেখিতে। নাচগান শেষে ডাগদর সাব উঠিয়া বলিলেন, গতকাল আমি স্বপ্নে এক আশ্চর্য ঔষধ পাইয়াছি। এক সাধুবাবা আমাকে আসিয়া বলিলেন, ওরে ডাগদর, তোর গাঁয়ে দেখিতেছি কাক তিষ্ঠাতে পারে না, এত হল্লা মারপিট। ইহা বন্ধ করিতে হইবে। সকলে মিলিয়া খাইতে হইবে। কেউ খাইবে, কেউ খাইবে না, তাহা হইবে না হইবে না। এক কাজ কর, গাঁয়ের লোকদের বল তিনটা করিয়া বিবাহ করিতে। তার মধ্যে দুটি বউ সে নিজে ভোগ করিবে, তৃতীয়টিকে বর্গা দিবে পড়শির কাছে। সকলেই এই কর্ম বৃত্তাকারে করিলে সকলের সাথে সকলের বউতুতো ভাই সম্পর্ক স্থাপিত হইবে। তখন আর কেহ মারপিট করিবে না। কুটুম্বিতাই উৎকৃষ্ট পন্থা। ইহা হইল গিয়া শান্তির "এক তৃতীয়াংশ" ফরমূলা।

গ্রামের আবালবৃদ্ধবণিতা এই আবাল ফরমূলা শুনিয়া স্তব্ধ, ডাগদর সাব বলে কী? কিন্তু অনেকেই আবার হইহই রইরই করিয়া তাঁহার নামে জয়ধ্বনি আর নারা তুলিল।

হাউকাউয়ের ফাঁকে ডাগদর সাব মিহি গলায় বলিলেন, আর নদীর ঘাটটা উন্মুক্ত করিয়া দিতে হইবে। এই গাঁয়ের লোক এত গ্রামপ্রেমিক, তাহারা সকলের সাথে মিলিয়া উন্নয়ন করিবে, পাঁচ গ্রামের লোক এই গ্রামের ঘাট ব্যবহার করিয়া উন্নতি লভিবে, এখন সময় এগিয়ে যাওয়ার, লেটস মুভ লেটস মুভ।

যেইসব রোগী ডাগদর সাবের পুরাতন ফরমূলা ব্যবহার করিয়াও রোগের উপশম পায় নাই, তাহারা চুপিসারে উঠিয়া গেল, শক্ত দেখিয়া লাঠির সন্ধানে। ফেরিওয়ালা ডাগদর বহুৎ আবঝাব বকিয়াছে, এখন প্যাঁদানিই তাকে আরোগ্য করিবার সবের্াৎকৃষ্ট ফরমূলা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/26497 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/26497 2006-12-01 05:01:56
ভোদাইচরিতমানস 03
ভোদাই আজ সাক্ষাৎ করিতে আসিয়াছে, হস্তে একটি ঠোঙ্গা।

আমি খুশি হইলাম। যাক, আমার সংস্পর্শে আসিয়া সে লোকাচার শিখিয়াছে। কারো সহিত বিদ্যালাভের নিমিত্তে সাক্ষাৎ করিতে গেলে যে কলাটামূলটাকচুটা সঙ্গে উপঢৌকন হিসাবে লইয়া যাইতে হয়, এই বিদ্যা সে আয়ত্ব করিয়া ফেলিয়াছে। অবশ্য তাহার ঠোঙ্গায় কলা, মূলা বা কচু থাকিলে আমি নিদারুণ হতাশ হইতাম। ঐসব আমি খাই না।

ভোদাই খুশি খুশি স্বরে কহিল, বন্ধু মুখফোড়, বড় একটি থালা লইয়া আইস। গরম গরম পিঁয়াজু খাই।

আমি খুশিমনে হাঁক পাড়িয়া ভৃত্য ধানুকে ডাকিলাম। সে একটিবড় থালা ধুইয়া মুছিয়া আনিয়া রাখিলো। পিঁয়াজু আমি পছন্দ করি।

ভোদাই ঠোঙ্গা খুলিতে গিয়া আবার থমকিয়া গিয়া বলিল, "আচ্ছা, পতিরা কি একটু ভীরু প্রকৃতির হয়?"

আমি পন্ডিতসুলভ শ্রান্ত মুচকি হাসি দিয়া কহিলাম, "নির্ভর করে কাহার পতি, সেই তথ্যের উপরে!"

ভোদাই বলিল, "যেমন?"

আমি বলিলাম, "যদি আমার প্রতিবেশিনী বিল্লুর আম্মুর পতি হয়, তাহা হইলে নিরতিশয় ভীরু প্রকৃতির লোক হওয়া স্বাভাবিক। বিল্লুর আম্মু সকালে ছোলা ভক্ষণ করে, বারবেল ভাঁজিয়া সংসদে পাঁচবার চক্কর মারে, জিমে গিয়া শরীরচর্চা করে, তাহার হাতের একটি কীল খাইলে কোরবানির গরুকেও জুতা শুঁকাইয়া চাঙ্গা করিতে হইবে।"

ভোদাই একটু বিমর্ষ হইয়া ঠোঙ্গা খুলিতে ভুলিয়া গিয়া কী যেন ভাবিতে লাগিলো।

আমি ভদ্রভাবে বলিলাম, "পিঁয়াজু জুড়াইয়া গেলে স্বাদ একটু কমিয়া যায় শুনিয়াছিলাম ...।"

ভোদাই বলিল, "কিন্তু ধর, সেই প্রকার কোন খান্ডারনী মুশকো মহিলার পতিই হইতে হবে এমন তো কোন কথা নাই। ধর গিয়া, সভাপতি?"

আমি একটু অসহিষ্ণু হইলেও ধৈর্য ধরিয়া বলিলাম, "তাহা নির্ভর করে সভার প্রকৃতির উপর। সভার সভ্যরা যদি সেরকম অসভ্য প্রকৃতির হয়, তাহা হইলে সভাপতি মাঝে মাঝে দুর্বল চরিত্রের হইতে পারেন।"

ভোদাই আবার ঠোঙ্গা খুঁটিতে খুঁটিতে কী যেন ভাবিতে লাগিলো।

আমি একটু জোর তাড়া দিলাম, "বাহ, বেশ ভাজা ভাজা করিয়াছে মনে হয়?"

ভোদাই বলিল, "কিন্তু ধর, আরো বড় কিছুর পতি যদি হয়? ধর গিয়া, রাষ্ট্রপতি?"

আমি বিষণ্ন হাসিয়া বলিলাম, "রাষ্ট্রপতি তো মহা ক্ষমতাধর মানুষ, তাহার কি দুর্বল হওয়া সাজে?"

ভোদাই ঠোঙ্গা খুলিয়া থালায় পিঁয়াজু ঢালিয়া দিল।

খাইতে গিয়া দেখিলাম, পিঁয়াজুর মান ভালো নহে। পিঁয়াজুর মশলা ভালোমত বাটা হয় নাই, তাহারা পরস্পরের সহিত মিলিয়া মিশিয়া থাকিতে পারে নাই, দানা দানা হইয়া ছড়াইয়া গিয়াছে।

মিছিমিছি বকাইলো ভোদাইটা! আমি চটিয়া গিয়া বলিলাম, "আরে, ইহাকে পিঁয়াজু বলে? যত্তোসব বাসি পচা জিনিস টোকাইয়া আনিয়াছো। এই পিঁয়াজুর তো মেরুদন্ডই নাই! ইহাকে আর যা-ই হোক পিঁয়াজু বলা চলে না!"

ভোদাই দুঃখিত চিত্তে মাথা নাড়িয়া কহিল, "তাহাই তো দেখিতেছি। চল এক কাজ করি, ইহার নতুন নামকরণ করিয়া খাইয়া ফেলি। পয়সা নষ্ট করিয়া কী লাভ?"

আমি ক্ষুব্ধস্বরে বলিলাম, "নতুন নাম? কী নাম রাখিবো?"

ভোদাই গম্ভীর ভঙ্গি ধরিয়া কহিল, "ইয়াজু।"

আমি থতমত খাইয়া ধানুকে হাঁক পাড়িয়া চা দিয়া যাইতে ডাকিলাম।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/25682 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/25682 2006-11-24 13:54:28
ভোদাইচরিতমানস 02

ভোদাই আজকে বড়ই ছটফট করিতে করিতে আসিয়া উপস্থিত।

আমি শুধাইলাম, "কী হইয়াছে ভোদাই? কুদিতেছো কেন?"

ভোদাই বলিল, "সর্বনাশ হইয়াছে। ভীষণ কান্ড!"

আমি বলিলাম, "কী হইয়াছে?"

ভোদাই বলিল, "দিন উল্টাইয়া গিয়াছে বন্ধু! আজ এক অবাক কান্ড দেখিলাম!"

আমি বলিলাম, "কী দেখিয়াছ?"

ভোদাই বলিল, "দেখিলাম, বড় একটি গাড়িতে করিয়া একদল পুলিশ ভেঁপু বাজাইতে বাজাইতে জান লইয়া ভাগিতেছে!"

আমি বিস্মিত হইয়া বলিলাম, "বল কী? জনগণ তাড়া করিয়াছিলো নাকি?"

ভোদাই উত্তেজিত হইয়া বলিল, "জনগণ নয় জনগণ নয়! তুমি বলিলে বিশ্বাস করিবে না, সেই পুলিশের গাড়ির পশ্চাদ্ধাবন করিতেছিলো আর কেহ নহে, আমাদের আজুরাম!"

আমি থতমত খাইয়া বলিলাম, "আজুরাম?"

ভোদাই বলিল, "হাঁ! একখানা গাড়িতে করিয়া সে ঐ পুলিশদিগকে দৌড়ানি দিতেছিলো! আমি তাহার টাক দেখিয়াই চিনিয়া ফেলিয়াছি!"

আমি কিছু বলি না।

ভোদাই বলে, "কিন্তু অবাক ব্যাপার, আজুরামের পিছন পিছন আবার আরো এক গাড়ি পুলিশ ফেউয়ের মত লাগিয়া গিয়াছে! তাহারা আজুরামকে তাড়া করিতেছিলো! তাহাদের স্বজাতিকে আজুরাম খেদানি দিলে তাহারা চটিবে, ইহাই স্বাভাবিক, আমি কিছু মনে করি নাই! কিন্তু ...।"

আমি বিরক্ত হইয়া বলি, "কিন্তু কী?"

ভোদাই চিন্তিত হইয়া বলিল, "সেই পুলিশের গাড়িকে আবার তাড়া করিতেছিলো একখানি অ্যাম্বুলেন্স! অ্যাম্বুলেন্সের তাড়া খাইয়াই কি সেই ঠোলাগণ ছুটিতেছিলো, নাকি আজুরামকেই তাড়া করিতেছিলো, ঠিক বুঝিয়া উঠিতে পারিলাম না!"

আমি মনে মনে ভাবি, কেমনে বুঝাইব উহাকে, সিকিউরিটি কী চীজ। ভিআইপিগণের যাতায়াতের কেমন ধরণধারণ। ভোদাই সরল জনতার একজন, এইসব প্যাঁচঘোঁচ কি সে বুঝিবে?

ভোদাই অবশ্য বুঝিতে তেমন একটা বেয়াকুল হয় নাই। সে হাত তালি দিয়া বলিল, "আজকে কেউ একজন পোঙ্গামারা খাইবে! হয় সামনের গাড়ির পুলিশগুলিকে আজুরাম ধরিয়া পোন্দাইবে, নতুবা আজুকে পিছনের গাড়ির পুলিশেরা ধরিয়া পোন্দাইবে, অথবা অ্যাম্বুলেন্সওয়ালা গিয়া সেই পিছনের গাড়ির পুলিশকে পোন্দাইবে! আমার কোন লস নাই!"

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি ভোদাই আর ভোদাইদের কথা ভাবিয়া।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/25408 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/25408 2006-11-22 11:59:50
কেন আজুরাম পদত্যাগ করে না 01 মিসেস আজুরাম মহা ক্ষিপ্ত। তিনি বলিলেন, "কখখনো না! পদত্যাগ করা চলিবে না! যে কোন মূল্যে চাকরি বাকরি করিতেই হইবে! অফিসে থাকিতে হইবে সকাল হইতে সন্ধ্যা। দিনের বেলা তাহার ভাত বাড়িতে খাওয়া চলিবে না চলিবে না চলিবে না ...!"

অমনি সাংবাদিকরা ঘিরিয়া ধরিয়া কহিলো, "ক্যানো ক্যানো ক্যানো?"

মিসেস আজুরাম কহিলেন, "চাকরি ছাড়িয়া দিলে তো সারাদিন ঘরে বসিয়া থাকিবে! তাহা চলিবে না!"

অমনি সাংবাদিকরা ঘিরিয়া ধরিয়া কহিলো, "ক্যানো ক্যানো ক্যানো? ঘরে বসিয়া থাকিলেই সমস্যা কী? বুঢ়া মানুষ, অবসর লইয়াছেন ...।"

মিসেস আজুরাম চটিয়া গিয়া কহিলেন, "আরে ঐ মিনসে কোথাও বসিলে কি আর সহজে উঠিতে চায়? একটামাত্র টয়লেট আমার ঘরে ...!"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/25404 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/25404 2006-11-22 10:08:36
বাচ্চালোগ, তালিয়া বাজাও দ্যাশে কী যে অসময়
ছিলো সবই রসময়
এখন সবই কষময়
তবু বলি, শুনে যাও
ওরে বাচ্চালোগ, তালিয়া বাজাও।

ব্লগে ছিলো ফূর্তি কত
নানা জনের নানা মত
এখন খালি কাইজ্যা যত
তবু বলি, শুনে যাও
ওরে বাচ্চালোগ, তালিয়া বাজাও।

শোমচৌদা কান্দে হায়
প্রেস্টিজ কাউয়ার কাছে যায়
আলীও তারে পিছে ফালায়
তবু বলি, শুনে যাও
ওরে বাচ্চালোগ, তালিয়া বাজাও।

ছাগু জ্বালায় লাখের বাতি
আমরা সেই খুশিতে মাতি
ছাগুর গর্বে দশ হাত ছাতি
তবু বলি, শুনে যাও
ওরে বাচ্চালোগ, তালিয়া বাজাও।

কে যে হিট, কে যে কুল
হিট কাউন্টারেও ভুল
হাসিন গুণে তার মাশুল
তবু বলি, শুনে যাও
ওরে বাচ্চালোগ, তালিয়া বাজাও।

আস্ত আস্ত ভাঙ্গা ভাঙ্গা
সাদামাটা পোস্টে পাঙ্গা
ব্লগ তবু হয় না চাঙ্গা
তবু বলি, শুনে যাও
ওরে বাচ্চালোগ, তালিয়া বাজাও।

তাই বলি ব্লগার সবে
একটু শুধরে নিতে হবে
ব্লগ চাঙ্গা হবে তবে
আর বলি, শুনে যাও
ওরে বাচ্চালোগ, মুখফোড়ের কথায়, তালিয়া বাজাওওওওওওও!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/24715 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/24715 2006-11-17 13:17:36
(আজু)রামের সুমতি আজুরাম একদিন খেলিতে খেলিতে একটি গাব ফল পাইলো। অবোধ আজু গাবের গুণাগুণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলো না, সে আপন মনে পেন্টুল খুলিয়া নিজের পোঁদে ভালো করিয়া গাবের আঠা মাখাইলো।

তারপর একটি গদিতে বসিয়া পড়িলো।

ওইদিকে দেশে শোরগোল লাগিয়া গেলো। কেহ বলিলো আজুকে গদি হইতে নামাও, কেহ বলিলো আজু নামিলে খেলিবো না। আজুর এই সবে ভ্রুক্ষেপ নাই, সে আপন মনে খেলে, নাক খোঁটে, লোম ছিঁড়ে, আজেবাজে স্থানে অঙ্গুলি দিয়া চুলকাইতে থাকে ঘ্যাঁস ঘ্যাঁস ঘ্যাঁস।

কে একজন আসিয়া কহিলো, আজুরাম, তুমি কি উদ্্বিগ্ন?

আজু হাসিয়া ফ্যালে। বলে নাহ, উদ্্বিগ্ন হব কেন। এই বেশ ভালো আছি।

লোকে তাহাকে টিভি ছাড়িয়া দেশের পরিস্থিতি দেখিতে বলে। পেপার পড়িতে বলে। আজু হাসে।

ওইদিকে হাটের ব্যাপারীরা বলিলো, আজুর সাথে হুঁকাপানি বন্ধ। কেহ তাহাকে চাল বেচিবে না, বিড়ি বেচিবে না। তাহার স্ত্রীর কাছেও আরজি জানানো হইলো।

মসজিদে মসজিদে আগামী জুম্মাবার আজুরামের সুমতির জন্য আল্লাহর দরবারে মোনাজাৎ করা হইবে।

আজুরাম মিটিমিটি হাসে। কিছু বলে না। সে চোখ মুদিয়া জপ করিতে থাকে, সীতা সীতা সীতা ...। রাতের অন্ধকারে কাহারা যেন গতকাল তাহাকে আরো কয়েকটি গাব দিয়া গেছে। তাহার আঠা সে বাহির করিয়া পোঁদে উত্তমরূপে আবারও মাখিয়া লইয়াছে।

তবে গাবের আঠা জনরোষের অনলে গলিয়া যায় বলিয়া অনেকে মত জানাইয়াছেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/24432 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/24432 2006-11-14 12:52:59
ছাগুরামের লঙ্কাকান্ড ছাগুরাম গভীররাতে যুদ্ধঘোষণা করিল কতিপয় মানুষের বিরুদ্ধে। কারণ তাহারা অনেকেই তখন ঘুমাইয়া। তাই ছাগুও তাহাদের নামে কল্পনামিশ্রিত লাদিবিষ ঢালে ধুমাইয়া।

দেখিতে হইবে, পৃথিবী গোল। আজকাল ইহা দেখা যায়। পূর্বে দেখা যাইত না।

গোল পৃথিবীতে ছাগুর ঘেসো জমিতে তখন গভীর রাত হইলেও পূর্ব দিকে দক্ষিণ মহাদেশে তখন ভোর। আর পশ্চিম দিকে পবিত্রভূমিতে একটি মদিনাবাসী উটুরামও বিনিদ্র রজনী জাগিয়া রহিয়াছে। কারা যেন সেইখানে কম্পিউটার টিপিয়া টিপিয়া ছাগুকে চুপি চুপি কী কী পরামর্শ দেয়। মওদুদীর নীলনকশা খুলিয়া দেখায়, কী রূপে ধর্ম লইয়া ধমকাধমকি করিয়া চরদখল পদ্ধতিতে ব্লগে একটা গন্ডগোলের সৃষ্টি করা যায়। সত্য, যুক্তি ও ন্যায়ের পথে যখন ছাগুরাম-উটুরাম-কাঙুরামের দল সুবিধা করিতে পারে না, তখন জোশিলা জঙ্গ-ই একমাত্র উপায়।

ছাগুরাম ছাগু বলিয়াই দুধ না খাইয়া নাচে। জিজ্ঞাসিলে বলে, অপরে দুদু খাইতেছে তা দেখিয়া প্রাণে স্ফূর্তি সঞ্চারিত হইয়াছে, তাই নাচি। তাই ধমকটিও জোটে তাহার সংকীর্ণ কপালে। বকাঝকা জোটে সব ছাগুর ঝোলায়, ঘাস জমা হয় গিয়া উটুর গোলায়। কাঙু হাসে সব দেখে, আরও হাসে উটু, ছাগুরাম চটেমটে খায় লুটুপুটু। ওয়া হাসে মিটিমিটি স্বনামে বেনামে, পাবলিক জানে তারা দক্ষ আকামে।

ছাগুরাম এর আগেও মানুষের বিরুদ্ধে অনেক ভুয়া অভিযোগ উত্থাপন করিয়া ধরা খাইয়াছে। তাহার বুদ্ধিসুদ্ধি সীমিত বলিয়া সকলেই সস্নেহ ভর্ৎসনা করিয়া ছাড়িয়া দিত। ছাগু হইলেও সে ছিল সকলের আদরের পাত্র। কিন্তু অবোধ ছাগু পরের বুদ্ধিতে নাচিতে গিয়া এখন ব্যাপক জনবিরক্তির শিকার হইয়াছে।

ছাগুরামদের মঙ্গলের দায়িত্ব মানুষের ওপরেই। আল্লাহ যেন তার সুমতি দান করেন, যেন শরৎচন্দ্রের আদলে তাহাকে লইয়া "(ছাগ)ুরামের সুমতি" উপন্যাস রচনা করা যায় ভবিষ্যতে, সেই প্রার্থনাই করি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/24331 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/24331 2006-11-13 10:03:21
আমার বন্ধু আজিজ 1.
আমার বন্ধু আজিজ অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির লোক। কেন যে তাহার সঙ্গে বন্ধুত্ব করিতে গিয়াছিলাম ভাবিয়া আজ নিজের মনে আপসোস হয়।

আজিজ কলেজে উঠিয়াই মদ খাইত, এবং মাগীবাজি করিত। সেই কথা সে গর্বভরে বলিয়াও বেড়াইতো। শুধু আমাদের বলিলে সমস্যা হইতো না, কিন্তু সে আমাদের গুরুজনদেরও বলিতো, আর বলিবেন না চাচা, সেইদিন মদের আড্ডায় গিয়া এমন ঝামেলায় পড়িয়াছিলাম ...। আমাদের পিঠেই স্যান্ডেল পড়িতো। বিনা দোষে।

আজিজ সিক্ত নেশার পাশাপাশি শুষ্ক নেশাও করিতো। বলিতো, গাঁজা মিশাইয়া ধূমপান না করিলে নাকি তার কোষ্ঠ সাফ হয় না। হাগিয়া মজা মিলে না। এই নিয়া সে আমাদের গুরুজনদের কাছেও আসিয়া খেদোক্তি করিতো। বলিতো, আগামীকাল পরীক্ষা, অথচ সাঞ্জুমাঞ্জু খাওয়া হয় নাই। হাগা আটকাইয়া আছে। পড়িবো কী রূপে? ... আমরা মারধর খাইতাম।

আজিজ এ ছাড়াও নানা অনৈতিক কর্ম করিতো। একদিন যেমন আমার এক মামাকে হাইজ্যাক করিয়া বসিলো। মামা অস্ফূটে বলিয়াছিলেন, আজিজ, তুমি ...। সে মামার গালে পটাং করিয়া এক চড় কষাইয়া বলিলো, কীসের আজিজ তুমি, কীসের আজিজ তুমি? মানিব্যাগ বাইর কর নাটকার জানা! মামা তো আসিয়া আমাকে পিটাইলেন। পরবর্তীতে আজিজ আবার অভিনয় করিয়া দেখাইলো, মামাকে সে কীরূপে প্রহার করিয়া মানিব্যাগ কাড়িয়া লইয়াছিলো। শত দুঃখেও হাসিলাম।

একদিন পেপারে পড়িলাম, আজিজ মোহাম্মদভাই নামক জনৈক ব্যক্তির কাহিনী। ধনাঢ্য লম্পট। তাঁহার নামে ব্যাপক অভিযোগ। কিন্তু তিনি রমণীমোহন ব্যক্তি। তাবড় তাবড় নায়িকারা (নানা অর্থে) তাঁহার অঙ্কশায়িনী, শয্যা ভাগাভাগি করেন।

আজিজ মুচকি হাসিলো। বলিলো, আজিজ নামক ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবেই লেডিকিলার। নারীরা তাহাদের পৌরুষের কাছে ঘায়েল হয়। যেমন আজিজ মোহাম্মদভাই, যেমন আজিজ। সে কলার ঝাঁকাইয়া নিজেকে দেখাইলো।

আজিজের দাপটে আমরা অতিষ্ঠ হইয়া পড়িলাম। তাহার মাগীবাজির নানা সত্যিমিথ্যা গল্প শোনা যাইতে লাগিলো তাহার নিকট হইতে। সে নাকি যাবতীয় নারী টিভিস্টারকে শয্যায় লইয়াছে, এবং তাহারা অনেকেই তাহার ক্রিয়াকলাপে মোহিত হইয়া পাওনা টাকা মকুফ করিয়া দিয়াছে। কেহ কেহ নাকি তাহাদের মাসতুতো ভগি্নদেরকেও তাহার কাছে পাঠাইবার কড়ার করিয়াছে। ভালো জিনিস নাকি ভাগাভাগি করিয়া লইতে হয়।


2.

সেদিন বহুদিন বাদে আজিজের সহিত দেখা। আগের মত গুন্ডা সে আর নাই, বিবাহ করিয়াছে, কী একটা ব্যবসা করে। মাথায় টাক পড়িয়া গিয়াছে, চলনে বলনেও একটা ভীরু ভালোমানুষ ভাব।

আমি প্রথমে তাহাকে চিনি নাই, সে-ই আগাইয়া আসিয়া বলিল, বন্ধু মুখফোড়, কেমন আছ?

আজিজকে চিনিতে পারিয়া আমি প্রফুল্ল হইতে পারিলাম না, বিশেষ করিয়া তাহার কারণে মামাকাকার হাতে ব্যাপক ধোলাই খাইয়াছি। কিন্তু সে যখন একরকম জোর করিয়া একটি খাবার দোকানে লইয়া পরটা-কাবাব ও চায়ের অর্ডার দিলো, তখন মানা করিতে পারিলাম না। আলকাৎরাও মাগনা পাইলে খাইব।

তাহার এই অভূতপূর্ব পরিবর্তনের কারণ নাকি তাহার বউ। সে অতিশয় গুণবতী রমণী, সন্দেহ নাই, তাহার মত একটি লম্পটকে মানুষ করিয়া তুলিয়াছে।

আমি বলিলাম, তারপর আজিজ, কী ব্যবসা করিতেছ বলিলে ...?

আজিজ চমকাইয়া উঠিয়া বলিল, খবরদার! ঐ নামে ডাকিও না! আমি এফিডাভিট করিয়া নাম পরিবর্তন করিয়াছি, এখন আমার নাম মোখলেছ ...! মোখলেছ ডাকিও!

আমি বীতশ্রদ্ধ হইয়া বলিলাম, কেন আজিজ এত খারাপ কী? আগে তো খুব জাঁক করিয়া বলিতে আজিজ নামের লোকজন বড় কামেল হইয়া থাকে ... নারীরা আসিয়া দলে দলে তাহাদের শিশ্নে আত্মসমর্পণ করে ...।

আজিজ ওরফে মোখলেছ কাঁদ কাঁদ হইয়া বলিল, ভাই মুখফোড়, সেই দিন কি আর আছে? আগে মাথায় কেশ ছিল, এখন টাক পড়িয়া গিয়াছে। ইদানীং টাকমাথা লইয়া নিজের নাম আর আজিজ রাখিতে সাহস হয় না! তাছাড়া .. তাছাড়া ... আমি আগে দুর্বৃত্ত ছিলাম, কিন্তু ... নির্লজ্জ তো ছিলাম না কোন কালে!

আমি স্তব্ধ হইয়া রহিলাম। পরটা কাবাব আসিল।

সে বলিল, লও খাও।

আমি গদগদ স্বরে বলিলাম, বন্ধু মোখলেছ, ধন্য তোমার কান্ডজ্ঞান!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/24103 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/24103 2006-11-11 13:24:22
বড় বড় শব্দযুক্ত গল্প আমি প্রকৃতিপ্রেমিক। প্রায়ই পার্কে বসিয়া পাখি দেখি। ছোট পাখি, মাঝারি পাখি, বড় পাখি।

আমার পাশ্বর্ে যখন বৃদ্ধ ভদ্রলোকটি আসিয়া বসিলেন, তখন তাঁহার বিদঘুটে প্রশ্নের জবাবে এই উত্তরই দিয়াছিলাম।

বৃদ্ধ শুধাইয়াছিলেন, "ইয়ং ম্যান, আপনি এই পার্কে নিরালায় বসিয়া কী সন্ধান করিতেছেন?"

আমি উত্তরটি দিয়া ঠোঁটে একটি মৃদুমন্দ হাসির দোলা ফুটাইয়া তুলিয়াছিলাম। যুগের সাথে তাল মিলাইয়া আমি চলি না, এবং তাহা লইয়া আমি গর্বিত। আমার বয়সী যুবারা যেইখানে অবসরে আড্ডা মারে, গুলতানি দেয়, নারী লইয়া ফূর্তি লোটে, কিংবা সামহোয়্যার ইন নামক এক অলীক স্থানে রাজাউজির বধ করে, আমি সেইখানে পার্কে বসিয়া প্রকৃতির রংরূপরস উপভোগ করি।

বৃদ্ধ আমার জবাব শুনিয়া হাসিয়া ফেলিলেন। বলিলেন, "আপনি প্রকৃত রসিক। আমিও এককালে এই কর্ম করিতাম। পাখি দেখিতাম।"

আমি শুধাইলাম, "এখন দেখেন না?"

বৃদ্ধ কহিলেন, "এখন আর দেখিয়া কী হইবে? আমার কী আর সংবিধান সমুন্নত হয়?"

পাখির সহিত সংবিধানের সম্যক সম্পর্ক নির্ধারণ করিতে না পারিয়া বোকার মতো কহিলাম, "মানে?"

বৃদ্ধ চক্ষু টিপিয়া কহিলেন, "দেখুন ঐ ছোট্ট পাখিটির দিকে?" বলিয়া অঙ্গুলি নির্দেশ করিলেন দূরে একটি যুগলের দিকে। তাহারা ঘাসের উপর গাছের ছায়ায় বসিয়া নিরিবিলি প্রেমালাপে মগ্ন। মেয়েটি কিশোরী, তাহার বক্ষ তেমন প্রস্ফূটিত নহে।

বৃদ্ধ একে একে মাঝারি ও বড় পাখিও সনাক্ত করিলেন। তাঁহার ইঙ্গিত বুঝিয়া আমার কর্ণমূল আরক্ত হইলো। বুঢ়া তো অতিশয় ফাজিল প্রকৃতির। গুরুজনসুলভ সুশীল নহে।

বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া কহিলেন, "তাছাড়া দ্রবমূল্য চড়চড় করিয়া বাড়িয়া গিয়াছে। সংবিধান সমুন্নত হইলেও দামে পোষাইতো না।"

আমি এইবার "সংবিধান সমুন্নত" হইবার ব্যাপারে আবছা একটা আন্দাজ করিতে পারি।

বৃদ্ধ বকিয়া চলেন। "এককালে আমিও আপনার মতোই পার্কে আসিয়া পাখি দেখিতাম। নির্বাচন করিতাম। দরদাম করিয়া পোষাইলে অধিবেশন বসাইতাম। তখন আমি আরো শক্তপোক্ত ছিলাম, প্রায়ই পাখিরা অনুনয় বিনয় করিতো অধিবেশন মুলতুবি রাখিতে। আমি শুনিতাম না। কড়ি ব্যয় করিয়া অধিবেশন বসাইতেছি, মুলতুবি আবার কী? একেবারে উভয় পক্ষের উন্নয়নের জোয়ার বহাইয়া তারপর ক্ষান্ত দিতাম। কী সব দিন গিয়াছে।"

আমি বাকরুদ্ধ হইয়া যাই বৃদ্ধের স্পর্ধায়।

তিনি স্বপ্নালু চোখে বলেন, "তখন আমার সংবিধান ঘন ঘন সমুন্নত হইতো। তাহার পর বয়স হইলো। সংবিধান মাঝে মাঝে লঙ্ঘন হইতে লাগিলো। বাধ্য হইয়া খাদ্যদ্রব্যে রাসায়নিক মিশাইতে হইতো।"

আমি ভাবিলাম, হতভাগাটার গালে প্রকান্ড এক কীল মারিলে কেমন হয়?

বৃদ্ধ লম্পটটি বকিতেই লাগিলেন, "ইদানীং আসি অভ্যাসের টানে। মাঝে মাঝে সমবয়সী বন্ধুবান্ধব আসিয়া আব্দার ধরে। বলে আপনি বাছাই করিয়া দিন। অভিজ্ঞ মানুষ আপনি। আপনিই আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আমি রাগ করি, বলি খবরদার বাজে কথা বলিবেন না, তাহারা হাসে।"

আমি ছটফট করিতে লাগিলাম। ব্যাটা লুচ্চা।

বৃদ্ধ মৃদু হাসিয়া কহিলেন, "প্রার্থীর মান অবশ্য ইদানীং বাড়িয়াছে। তাহাদের আসনও আগের তুলনায় উন্নত। তবে তাহাদের সহিত তাল মিলাইতে গেলে এখন এই বয়সে আমার সাংবিধানিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।"

আমি রাগের চোটে উঠিয়া পড়িয়া কহিলাম, "আপনার লজ্জা হওয়া উচিৎ ...!"

বৃদ্ধটি দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, "এই হইলো আপনাদের দোষ। নিজেরা নোংরায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত হইয়া অপরকে নোংরা বলিয়া গালাগালি করেন।"

আমি কী আর বলিবো, চলিয়া আসিলাম পার্ক হইতে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/23641 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/23641 2006-11-06 13:59:56
পৌরাণিক ছাগুরাম ছাগুরাম পুঁথি লিখিয়া সুবিধা করিতে পারে নাই। খুর দিয়া কয়লার পেন্সিল ধরা এক দুঃসাধ্য কর্ম, তদুপরি লিখিতে হয় ভূর্জপত্রে। ভূর্জপত্র ছাগুরাম ইতিপূর্বে কয়েকবার চিবাইয়া দেখিয়াছে, মন্দ নহে। তাহার উস্তাদ, শ্রদ্ধেয় মোদাররেস ব্যকরণ শিং বি এ তাহাকে বলিয়াছিলেন, "ছাগু! কোন জিনিস চাখিয়া দেখিতে ইতস্তত করিবে না। ইহা ছাগুসম্মত নহে। সঙ্কোচের বিহবলতা ছাগুরে অপমান।"

তদ্যাবধি ছাগু যাহা হাতের নিকটে পায়, শিশিবোতলের মত শক্ত না হইলে চিবাইয়া দেখে। তাহার ফলাফল হইতেছে এ-ই, পুঁথির পাতা সে চিবাইয়া খাইয়া ফ্যালে। দোকানদার হাসে। কহে, "বিদ্যাচর্চা বস্তু খাইলে পেট ছাড়িবে। নগরীর চতুপর্াশ্বর্ে এত এত পনস বৃক্ষ, পানসপত্র খাইলেই তো হয়।" ছাগুও হাসে মিটিমিটি। উস্তাদ ব্যকরণ শিং বি এ-র কথা কি সে একটা তালপাতার দোকানদারের ব্যঙ্গ শুনিয়া ফেলিয়া দিবে?

কিন্তু ভূর্জপত্র লোপাট করিবার ফলে ছাগুরামের ব্যাপক সমস্যা হয় লিখিতে। কী করিবে সে? প্রস্তরের গায়ে লিখিবে? কিন্তু প্রস্তরখন্ড আলগাইবে কীরূপে? তাছাড়া এই যুগে প্রস্তরখন্ডে লিখিলে তাহার আইআরসি চ্যাটরুমের ছাগীবান্ধবীরা ওলান আন্দোলিত করিয়া হাসিয়া উঠিবে। কী দরকার। যেই যুগে যেই হাইপ।

একদিন ছাগুরামের এক নেটবান্ধব ওয়ারাম আসিয়া কহিলো, "ছাগু ভাই, শান্তি বর্ষিত হোক। শুনিলাম লিখিতে তোমার সমস্যা হইতেছে?"

ছাগু বলিলো, "ম্যাঅ্যা ... মানে হ্যাঁ! কী করা যায় বলো তো?"

ওয়ারাম বলিলো, "নরডেট 28 ব্যবহার করিয়া দেখিয়াছো?"

ছাগু চটিয়া বলিলো, "ছাগেশ্বরের কসম, তুমি কি মশকরা মারিতেছো আমার সহিত?"

ওয়ারাম লজ্জিত হইয়া বলিলো, "দুঃখিত, ভুল উইন্ডোতে লিখিয়া ফেলিয়াছি। মস্তইয়ের সাথেও আলাপ চলিতেছে কি না ... সে যাহাই হউক, তুমি লাদি মিডিয়ামে লেখো না কেন?"

ছাগু ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়া বলিলো, "লাদি মিডিয়াম? উহা কী? ম্লেচ্ছ মিডিয়ামে পড়াশোনা করিয়াছি কিয়ৎকাল, লাদি মিডিয়াম তো শুনি নাই!"

ওয়া কহিলো, "আরে, তুমি তো ভূর্জপত্র দেখিলে নোলা সামলাইতে পারো না, খাইয়া ফ্যালো। তাই তোমাকে লিখিতে হবে লাদির হরফে। এই বিপুলা ধরণী হইবে তোমার খাতা। লাদি ছাড়িবার সময় হোগাটিকে সুচারুরূপে নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিলেই তুমি অক্ষর নির্মাণ করিতে পারিবে। আর কতকাল খুর দিয়া কয়লার পেন্সিল আঁকড়াইয়া লিখিবে? এখন লাদিলিপির বড়ই গরমাবস্থা। মহাদেশে মহাদেশে জ্ঞানী-বুজর্গ লোকে লিখিতেছে। তুমিও লেখো।"

ছাগুরামের বড়ই মনে ধরিলো কথাটি। সত্যই তো। ইহাতে ঝামেলা কম। সমস্ত দিনই তো সে এই পত্র সেই পত্র খাইয়া লাদিয়া বেড়ায় স্থানে স্থানে। সেই লাদি ধারাকে যদি একটু সামলাইয়া দেয়া যায়, তাহা হইলেই তো মাটিতে হরফ ফুটিয়া উঠিবে। তাছাড়া সেই হরফে কেউ হাত দিবে না, কারণ উহা ময়লা বস্তু। তাহার লেখা অজরামর হইয়া থাকিবে পৃথিবীর বুকে।

ছাগুরাম হর্ষভরে ম্যাৎকার করিয়া তৎক্ষণাৎ রওয়ানা দিলো নিকটস্থ একটি পনসবৃক্ষের দিকে। আজ সে পেটটি পুরিয়া পাতা খাইবে। তারপর একটি মনোজ্ঞ প্রবন্ধ রচনা করিবে লাদির আঁখরে।


মাস দুই এইভাবে লাদিলিপিচর্চা করিবার পর ছাগুরাম প্রথম বাধার সম্মুখীন হইলো। তাহার নিয়মিত লাদিচর্চার ময়দানের পাশে একটি পাঠশালা গড়িয়া উঠিয়াছে, নাম অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী। সেই পাঠশালায় কতিপয় নাস্তিক বালকবালিকা লেখাপড়ার নামে অনর্থ করে। তাহারা ছাগুরামের লাদিরচনা নিয়া ব্যঙ্গ করে, হাসে। ছাগুরামের গা জ্বলিয়া যায়। গুগল সার্চ দিয়া সে কত কত জ্ঞানের কথাকে ময়দানপটে লাদিলেখায় আঁকিয়া তুলিয়াছিলো, সেইগুলি নিয়া সেই নাস্তিকের দল হাসিয়া মজা লোটে।

ছাগুরাম মাঝে মাঝে উহাদের বুঝাইতে যায়। তাহারা ছাগুকে সমাদর করিয়া বসায়। ছাগুরাম গম্ভীর মুখে অনেক কিছু বলে, তাহারা মিটিমিটি হাসে। কিন্তু শুধরায় না। বরং মাঝে মাঝে ছাগুরামের নাম নিয়া ব্যঙ্গ করে। তাহার একটি পা নাই, তিনটি পা নিয়া সে এত কঠিন কর্মে হাত দিয়াছে, এ নিয়াও ব্যঙ্গ করে তাহারা। রাগে ছাগুরামের শিঙের গোড়া উত্তপ্ত হইয়া ওঠে। সে পণ করে, পরশুরামের মতো সে-ও একদিন পর পর একুশবার পৃথিবী নাস্তিকশূন্য করিয়া ছাড়িবে। সে তো আর কুঠার ধরিতে পারিবে না, তাহার অস্ত্র হইবে লাদি। মারাত্মক দুর্গন্ধযুক্ত লাদি।

কী খাইলে ঐরূপ লাদি সে ছাড়িতে পারিবে? সে নেটে ওয়ারামকে শুধায়।

ওয়ারাম বলে, "নরডেট 28 ব্যবহার করিয়া দেখিয়াছো?"

ছাগু প্রচন্ড চটিয়া যায়, ওয়ারাম লজ্জিত হইয়া সাফাই গায়, কহে, মস্তইয়ে আছে আরেক উইন্ডোতে, দুঃখিত, ভুল জায়গায় লিখিয়া ফেলিয়াছে। তাহার পর সে চুপিচুপি পরামর্শ দেয়। বলে, যাও, হাটবারে হাটে গিয়া মৌদুধি সাহেবের পবিত্রগ্রন্থটি হাতসাফাই করিয়া লইয়া আসো। তাহার পর উহা উত্তমরূপে গলাধঃকরণ করো। ইহার পরদিন সকাল হইতে তোমার যা লাদি বাহির হইবে, উহার দুর্গন্ধের তুলনা পৃথিবীতে নাই।

ছাগুরাম খুশি হইয়া ওঠে। ওয়া বড় কাজের পরামর্শ দিয়া থাকে।

সে স্বপ্ন দেখিতে থাকে। মৌদুধির গ্রন্থজাত লাদির গন্ধে ঐ অল্পবিদ্যাভয়ঙ্করী ইশকুলের নাস্তিকগণ ছটফটাইয়া মরিতেছে। একবার, দুইবার করিয়া একুশবার। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাহাকে আসিয়া পল্টন ময়দানে দাঁড়া করাইয়া পরিচয় করাইয়া দিতেছে, আজ হইতে ছাগুরামকে লোকে জানিবে লাদুরাম বলিয়া ...!

ছাগুরাম ঘুমের ঘোরেও ম্যাঅ্যাঅ্যা করিয়া ওঠে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/23378 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/23378 2006-11-04 03:49:46
আগামীকাল ছাগুরাম-দিবস ভাইসব। আসসালামুআলাইকুম।

আগামীকাল শনিবার ছাগুরাম দিবস ঘোষণা দেয়া হলো।

ছাগুরামের এই ছবিটিকে আপনার পোস্টে ঝুলিয়ে জমা দিন ছাগু-নিয়ে-লেখা।

গল্প? কবিতা? ছড়া? প্রবন্ধ? নাটক? গান? পবিত্রশ্লোক? ভাষণ? আটটার সংবাদ?

যা খুশি লিখুন ছাগুকে নিয়ে। ছবিটা লটকাতে ভুলবেন না।

ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/23310 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/23310 2006-11-03 07:41:51
ছাগুরামকাব্য 07 : নতুনদের জন্য ছাগুরামকণিকা ছাগুরাম যে কী চীজ, বোঝে না।
কাটে না সে মনে কোন দাগু,
নতুনেরা বোঝে না, সে ছাগু।

তাই লিখিলাম নম্বর সাত
ছাগুরামকণাধারাপাত।

(ছাগুরামের ভঙ্গি
এই কাব্য লেখার সঙ্গী।
তাই লিঙ্কু দিলাম তুলে
পড়ো তাদের খুলে।
এখনই দাও ঝাঁপ
সামনে আরো কামিঙাপ।)

[link|http://www.somewhereinblog.net/mukhforrblog/post/10350|QvMyivgKve]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/23278 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/23278 2006-11-03 00:27:52
বাজে গল্প 02 তিনি মনের কষ্ট কাহাকেও বলিতে না পারিয়া গুম হইয়া বসিয়া রহিলেন। ভাবিতে লাগিলেন, ছাগুরামের মতো ত্রিভূজ হইতে পারিলেই ভালো ছিলো। লোকে গালাগালি করিলেও কোন বড় কাজ দিয়া বাটে ফেলিতে সাহস করিতো না। তাছাড়া আজ তাহার হাতে তিনটি দন্ড ধারণের দায়িত্ব আসিয়া চাপিয়াছে। এতদিন বহুকষ্টে তিনি ঈশ্বরপ্রদত্ত দুটি হাতে দুটি দন্ড নিয়া চলাচল করিয়াছেন, সেই পরিশ্রমে একবার তাহার হৃৎপিন্ড উষ্টা খাইয়া মরিতে চলিতেছিলো, নাকবোঁচা চীনা ডাক্তার ওষুধ ঠুকিয়া যমকে খেদাইয়াছে। এখন আবার তিন লম্বর দন্ডটি ধরাই দিলো মান্নু সদাগর। ত্রিভূজ না হইয়া গতি নাই।

লোকজনকে উপদেশ তিনি বহুই বিলাইয়াছেন, কিন্তু উপদেশ বিলানোকে জীবিকা করেন নাই। উপদেশ মাগনা বিলাইতেই মজা। আগে ভগিনেয় ভ্রাতুষ্পুত্রদের ফুটবল খেলার সময়ে তাহাদের ডাকিয়া ঘন্টাব্যাপী নানা উপদেশ বিলাইতেন, সদা সত্য কথা বলিবে, সৎ পথে চলিবে, তাহার গা মোচড়াইতো, দেখিয়া ভালো লাগিতো। উপদেশ ঐভাবে দিয়াই না মজা। কিন্তু মান্নু সদাগর আজ তাহাকে উপদেশের পাইকার বানাইয়া ছাড়িয়াছে। শয়ে শয়ে লোককে এখন উপদেশ দিয়া তাহাকে সামলাইতে হবে।

তিনি খোনা গলায় গান ধরিলেন, আগে কী সোন্দর দিন কাটাইতাম ... কিন্তু নিজের কানেই বেসুরা ঠেকিলো। কী কুক্ষণেই যে তখন সম্মত হইয়াছিলেন, ইহাদের কুপ্রস্তাবে। স্ত্রী বলিয়াছিলো, ওগো, তুমি মাটি ঘাঁটো, আমি পোকা কাটি, ইহা করিয়াই কি দিন ফুরাইবে? বড় একটা বাড়িতে হাত পা ছড়াইয়া কি থাকা হইবে না? স্ত্রীবুদ্ধি সর্বনাশা, তাহারই নিরন্তর পীড়াপীড়িতে অতিষ্ঠ হইয়া অবশেষে তিনি রাজি হইয়াছিলেন। দুষ্টরা তাহাকে দিয়া কম উৎপাত করাইয়া লয় নাই। উচ্চশিক্ষিত লোক হইয়া তাহাকে কয়েকটি অনৈতিক কাজে সায় দিতে হইয়াছে। হায়রে কপালের মুদ্রণ।

আজ সারাদিন তিনি অনেক বাঘা বাঘা পাজির সহিত বাক্যালাপ করিয়া হেদাইয়া পড়িয়াছেন। একেকজনের একেক আব্দার। কেহ বলে নমক খাইয়াছেন ভালোয় ভালোয় ঠমক দ্যাখান, নতুবা ঝামেলায় পস্তাইবেন। কেহ বলে আমার বচপানকা দোস্ত আবুল কয়েদিকে আপনার উপদেশের ব্যবসায় পার্টনার করিয়া লউন, তাহার কুবুদ্ধিদানের দক্ষতা ঈর্ষণীয়। কয়েদি নাম শুনিয়াই তিনি ঘাবড়াইয়া গিয়াছেন, প্রস্তাবক হাসিয়া বলিয়াছে হাঁ, উহাদের বংশের পুরুষেরা সকলেই কয়েদখাটা বনেদী, আবুলও ছোটকালে খাটিয়াছে কয়েকবছর। একজন আসিয়া নৃশংসভঙ্গিতে আঙ্গুল ফুটাইয়া কহিয়াছে, ঈশ্বরের রাস্তায় চলিতেছি আমরা, ওভারটেক করিতে গেলে একদম চাপা খাইয়া মরিবেন। শুনিয়া তাহার বক্ষের আরোপিত যন্ত্রপাতি বিকল হইবার যোগাড়। বউ তো বড় বাড়িতে থাকিয়া মহানন্দে আছে, এদিকে তাহার প্রাণটি লুটিয়া লইলো।

এখন তাহাকে নিজের ব্যবসায় আরো দশটিকে টানিতে হইবে। কোন দশটি, তিনি বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছেন না। এক এক দুষ্ট আসিয়া এক এক কথা বলে। কেহ দাগাইয়া দেয় দাগীদের নাম, কেহ ফুসমন্তর দেয় ততোধিক ওঁছার ঠিকুজি। তিনি যে এখন কী করিবেন বুঝিতে পারিতেছেন না।

সখেদে তিনি গাহন, মানুষ যেন কোরো না আমায়, ত্রিভূজ করে দাও আমায় ত্রিভূজ করে দাও ...।

স্রষ্টাও যেন ব্যঙ্গ করেন তাহার সহিত, টিভিতে ডিসকভারি চ্যানেলে এক ছাগু তারস্বরে বলিয়া ওঠে, ম্যাঅ্যাঅ্যা ...।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/22602 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/22602 2006-10-30 11:50:17
ভোদাইচরিতমানস 01
ভোদাই আমার দীর্ঘকালের বন্ধু। শৈশবে একবার কাঁটালবৃক্ষ হইতে পড়িয়া গিয়া মস্তকে চোট পাইয়াছিলো। ঐ ঘটনার পর হইতে ভোদাই কিছু বিষয়ে কাঁচা রহিয়া গিয়াছে। মাঝে মাঝে আমার নিকটে আসে পাকিবার দুরাশায়। আমি কার্বাইড নহি, তবু তাহাকে পাকাইবার চেষ্টা করি যথাসাধ্য। কিয়ৎকাল পাকিয়া থাকিবার পর আবারও সে যেমন ছিলো তেমন হইয়া পড়ে। তবু আমি চেষ্টার ত্রুটি করি না। হাজার হউক সে আমার মিত্র।

গতকাল ভোদাই আসিয়া শুধাইলো, "আচ্ছা মুখা, কেয়ারটেকার সরকার কী?"

আমি তাহাকে বিশদ বুঝাই।

ভোদাই বুঝিতে পারে না। কহে, "বড় শক্ত ঠেকিতেছে। একটু জল করিয়া বল।"

আমি একটু জল করিবার চেষ্টা করি। ভোদাই আর কিছু না বুঝুক, সে আদিরস ও গালাগালিতে পক্ক। বলি, "সরকার তো বুঝিয়াছ?"

সে মাথা নাড়ে, কহে, "হাঁ।"

আমি বলি, "কোন সরকার যখন আসে, দেশের কপাল ভালো থাকিলে 5টি বছরের জন্য আসে, তাহা তো জান?"

ভোদাই বলে, "হাঁ, তাহা কে না জানে?"

আমি বলি, "বাহ বেশ। তো, সরকার আসিয়াই দেশটাকে যাকে বলে চোদনের উপরে রাখে, তাহা জান তো?"

ভোদাই বলে, "তাহা না জানিবার কী আছে? সরকার আসিয়া দেশকে চোদনের উপর রাখিবে, ইহাই তো দস্তুর।"

আমি বলি, "বাহ বাহ বেশ! তো, 5 বছর একনাগাড়ে যদি কাউকে চোদনের উপর রাখা হয়, তাহার তো সেবাশুশ্রুষা দরকার, নাকি?"

ভোদাই বলে, "হাঁ বিলকুল! সেবা না করিলে তো সে মরিবে! বাস রে, 5 বছর? তাও একনাগাড়ে?"

আমি বলি, "তো ঐ সেবাশুশ্রুষাকেই ম্লেচ্ছ ভাষায় কেয়ারটেকিং বলে। সরকারের চোদনের ফলে দেশের গায়ে যেসব ক্ষত সৃষ্টি হয়, উহার নিরাময় করিবার জন্যই কেয়ারটেকার সরকার পাঠাইতে হয়।"

ভোদাই এইবার হাসিয়া ফেলে। বলে, "বাহ বেশ সিস্টেম করিয়াছে। গোয়া মারিয়া টিসু্য দান। 5 বছর রামকোপ দিয়া উহার পরে সেবা করিতে কেয়ারটেকার পাঠানো। খাসা বুদ্ধি।"

আমি স্বস্তির শ্বাস ফেলি। যাক, ভোদাইটা বুঝিয়াছে।

বাস্তবিক, ভোদাই কিছু অতিরিক্তই বুঝিয়া ফেলে পাকিবার সময়। সে চোখ টিপিয়া বলে, "কেয়ারটেকার নিজে কোন সুযোগ গ্রহণ করে না? মানে রক্ষক ভক্ষক হইতে পারে না? আমি হইলে কিন্তু পয়লা সুযোগেই মেয়েটিকে একদম ইয়ে করিয়া ছাড়িতাম!"

আমি চটিয়া গিয়া বলি, "মেয়ে আসিলো কোথা হইতে? দেশ নিয়া কথা হইতেছে?"

ভোদাই থতমত খাইয়া বলে, "না মানে ঐ আর কী ...।"

আমি ফোঁস করিয়া শ্বাস ফেলি, কিন্তু ভোদাই দমে না, কতক ভাবিয়া বলে, "আচ্ছা দেশ তো মাতৃভূমি। মাতৃভূমিকে চোদনের উপর রাখে যে, সে তো মাদারচোদ একটা!"

আমি সায় দেই। ভোদাই খেপিয়া যায়। বলে, "তাহা হইলে শুনিতেছি, এই কেয়ারটেকার নাকি আবার আরেক সরকারের হাতে দেশকে তুলিয়া দিবে, কথা সত্য নাকি?"

আমি বলি, "হাঁ, সেরকমই নিয়ম বটে।"

ভোদাই খেপিয়া উঠে। কহে, "এ কী বাটপারি তবে? সেবা করিয়া চাঙ্গা করিয়া ফের তাহাকে 5 বছর চোদনের মুখে ফেলিয়া দেয়া? মজা পাইয়াছ? আমি ইহা হইতে দিবো না। ইঁট দিয়া বাড়ি মারিয়া মাথা ফাটাইয়া ফেলিবো ... একদম ...!" বলিতে বলিতে সে বেগে প্রস্থান করিলো।

আমি চিন্তিত হইয়া পড়িলাম, তবে বেশি মাথা ঘামাইলাম না। ভোদাই বাঙালি। সে যত গর্জায় তত বর্ষায় না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/22600 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/22600 2006-10-30 11:18:26
রহস্যগল্প 008 পমি রহমান সিনে সাংবাদিক হলেও সে মাঝে মাঝে কাজের খবরের কাগজও পড়ে। গাব্রিয়েল মগাদিশু চৌরাসিয়া কয়েকটা খবরের কাগজ রাখেন, রহস্যভেদীদের সবসময় চারপাশের হালহকিকত সম্পর্কে ওয়াকি রাখতে হয়, তাই পমি রহমান চৌরাসিয়ার বাড়িতেই এসে খবরের কাগজটা পড়ে যায়। নিজের বাড়িতে তার কেবল সৌজন্য সংখ্যা সিনেপত্রিকা আসে। ওখানে সেন্টারফোল্ড পোস্টারগুলিকে সে কেটে দরজায় লাগায়, আর বাকিটা পত্রিকা অন্যান্য কাজে লাগায়, পড়ে না মোটেই।

আজ খবরের কাগজে এসেছে অদ্ভূত শিরোনাম। "টয়লেট দানবের তান্ডব! দশ দিনে শতাধিক কমোড ধ্বংস!!"

পমি রহমান খবর পড়তে পড়তে শিহরিত হয়ে ওঠে। বলে, "চৌরাসিয়া সাহেব, খবর পড়েছেন?"

চৌরাসিয়া ভোগান্তির বোতলে চুমুক দ্যান, তারপর বলেন, "না, কী লিখেছে?"

পমি রহমান পড়তে থাকে। "নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টয়লেট দানব নামে এক অদ্ভূত জীবের আবির্ভাব ঘটিয়াছে। এই জীবকে যাহারা চাক্ষুষ করিয়াছেন, তাহারা সকলেই জীবিত নাই, বেশিরভাগই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়ায় ব্যাঘাত পাইয়া পরকাল লভিয়াছেন। যাহারা প্রাণে রক্ষা পাইয়াছেন, সেইসব প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে জানা যায়, টয়লেট দানবের উচ্চতা প্রায় দশ ফুট, বুকের ছাতি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকগুণ বর্ধিত। ইহারা হঠাৎ হঠাৎ আসিয়া জোর করিয়া লোকজনের ঘরে ঢুকিয়া তাহাদের টয়লেটে নাম্বার টু কর্মটি সম্পাদন করে। ইহাদের কীর্তি এতো বলিষ্ঠ যে একবার ব্যবহারের পর কমোড বা প্যান আর আস্ত থাকে না, চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যায়। আক্রান্ত অনেকের ঘরের চাল মলত্যাগের ইম্প্যাক্টে উড়িয়া গিয়াছে বলিয়া স্থানীয়রা প্রতিবেদককে জানান। আর মলের দুর্গন্ধে ভিটামাটি চাঁটি হইবার উপক্রম। এর মধ্যে কয়েকজন সেই মলের দুর্গন্ধ সহ্য করিতে না পারিয়া আত্মহত্যা করিয়াছেন। স্থানীয়রা জানাইয়াছেন, উচ্চতায় দশফুট ও প্রশস্ত ছাতিঅলা এই টয়লেট দানবের বিপক্ষে তাহারা অসহায়। এই ব্যাপারে প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হইলে তাঁহারা জানান, কেউ থানায় ডায়রি করায় নাই, অতএব তাঁহাদের বসিয়া কান চুলকানো ছাড়া করার কিছু নাই।"

চৌরাসিয়া বলেন, "হুমম।!"

পমি রহমান বলে, "আমার ঘরে ঢুকে হাগতে আসলে একদম ঠেঙিয়ে বিষ ছেড়ে দোবো। কত্তবড় ফাজিল। অন্যের ঘরে বলপূর্বক প্রবেশ করে হাগা!"

চৌরাসিয়া বলে, "এখানেই সমস্যা। আপনি হাগতে না দিলে সে আমার ঘরে এসে ঢুকবে। হাগা চেপে রাখা খুব কষ্টকর রে ভাই। একে ধামাচাপা দিয়ে রাখা খুব জটিল কাজ, সবাই পারে না।"

পমি রহমান বলে, "আপনার বাসায় ঢুকতে দেবেন না, তাহলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। খেদিয়ে দেবেন।"

চৌরাসিয়া বলেন, "কিন্তু টয়লেট দানবের উচ্চতা 10 ফিট বলছে না? ছাতিও সেই অনুপাতে চওড়া?"

পমি রহমান একটু বিমর্ষ হয়ে বলে, "হুঁ।"

চৌরাসিয়া চিন্তিত হয়ে বলেন, "হুম!"

পমি রহমান আবার কাগজ পড়তে থাকে। খানিক বাদে সে উত্তেজিত হয়ে বলে, "আরে সবের্ানাশ, দেখেছেন নাকি, চীনে কী হয়েছে?"

চৌরাসিয়া বলেন, "না, কী হয়েছে?"

পমি রহমান পড়তে থাকে, "গতকল্য চীনের বেইজিং নগরীর অদূরে এক ক্ষেতের মধ্যে রাতারাতি এক বিশাল গর্তের সৃষ্টি হইয়াছে। গর্তটির ব্যাস বিশাল, তাহা হইতে ধূম উদগীরণ হইতেছে, এবং দুর্গন্ধে এলাকাবাসী গাঁটরিবোঁচকা বাঁধিয়া দেশান্তরী হইবার প্রচেষ্টায় লিপ্ত ও ক্ষিপ্ত। চৈনিক সরকার এ ঘটনায় রীতিমতো মূহ্যমান ও বিব্রত। উল্লেখ্য যে গর্তটির চেহারা উল্কাপাতের ঘাতবিন্দুর মতো হইলেও এলাকাবাসী উল্কার কথা নাকচ করিয়া দিয়া বলিয়াছে, তাহারা কিছুই দ্যাখে নাই, কিছুই শোনে নাই, শুধু শুঁকিয়াছে। গন্ধে তাহাদের প্রাণবায়ু কণ্ঠগত। চৈনিক জাতি অপরিসীম খাচ্চর বলিয়া বিশ্বনিন্দিত, সেই তাহারাই যদি গন্ধের অভিযোগ করিয়া বিবাগী হয়, তাহলে সেই দুর্গন্ধ যে কীরূপ জোরালো হইতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।"

চৌরাসিয়া চিন্তিত হয়ে পড়েন। বলেন, "হুমম। মনে হচ্ছে, চীনেও বড়সড় কোন টয়লেট দানব ক্ষেতেখামারে গিয়ে বসে পড়েছিলো!"

পমি রহমান বলে, "কিছু ধরতে পারলেন ব্যাপারস্যাপার? আঁর তুন বালা ন লার! আঁরারে সমস্যার লগে লড়াই গরন ফরিব!"

চৌরাসিয়া কিন্তু ভোগান্তিতে চুমুক দিয়ে ভাবনায় ডুবে যান। দশদিন ধরে দশফুট উঁচু চওড়া ছাতির টয়লেট দানবের আক্রমণ, আবার এখন বেইজিঙে বড় স্কেলের উপদ্রব ...। তিনি মেলানোর চেষ্টা করেন। কী ঘটতে পারে দশ দিন আগে, যে রাতারাতি কিছু প্রাণীর উচ্চতা 10 ফুট হয়ে গেলো, বুকের ছাতি চওড়া হয়ে গেলো ... আর এখনই বা বেইজিঙে কী হচ্ছে ...?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/22213 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/22213 2006-10-22 20:03:49
আদমচরিত 009 ঈশ্বর কটমটাইয়া তাকাইলেন আদমের পানে। আদম দিনকে দিন বেয়াদব হইয়া উঠিতেছে, শুরুর দিকে মিনমিন করিতো, ইদানীং ঘাড় বাঁকাইয়া রগ ফুলাইয়া কথা বলে। লক্ষণ ভালো নয়।

তিনি গম্ভীর গলায় বলিলেন, "দলিল? কীসের দলিল?"

আদম গোঁ গোঁ করিয়া বলিলো, "সম্পর্কের দলিল।"

ঈশ্বর বলিলেন, "কীসের সম্পর্ক? সম্পর্কের আবার দলিল কী? এসি ল্যান্ড এর মতো কী বকিতেছো আবোলতাবোল? সম্পর্ক কি জলমহাল না দখলকৃত অর্পিত সম্পত্তি যে দলিল থাকিবে?"

আদম পায়ের নখ দিয়া দরবারের মাটি খুঁড়িতে লাগিলো। ঈশ্বর ধমকাইয়া বলিলেন, "পরিষ্কার করিয়া বল।"

আদম ফুঁসিয়া উঠিয়া বলিলো, "ঈভ আমাকে ভালোবাসা করিতে দেয় না। তাহার গায়ে হাত দিলে সে আমাকে মারিতে উদ্যত হয়। ঐদিন রাত্রি দ্্বিপ্রহরে আমি একটু উত্তেজিত হইয়া তাহার উপরে আরোহণ করিতে গিয়াছিলাম, সে আমাকে জুডো মারিয়া ছুঁড়িয়া ফেলিয়াছে। ইহার কারণ জিজ্ঞাসিয়াছিলাম, সে আমাকে গালি দিয়া বলিয়াছে, তাহার সাথে তো আমার কোন সম্পর্কের দলিলই নাই, আমি কোন সাহসে তাহাতে উপগত হইতে যাই! আপনি বউ দিয়াছেন, কিন্তু দলিল দান করেন নাই। গাছে তুলিয়া মই কাড়িয়া লহিয়াছেন। এখন আমাকে আমার বামহস্তের উপর ভরসা করিয়া দিন গুজরান করিতে হয়। এই কি ইনসাফ?"

ঈশ্বর চিন্তিত হইয়া পড়িলেন। ঈভ এমন রমণবিমুখ কেন?

আদম থামিলো না, বকিতে লাগিলো, "পঞ্জরের হাড্ডি হইতে উহাকে সৃষ্টি করিয়া আপনি আমাকে লসে ফেলিয়াছেন। এখন আমার একটি অস্থি কম, ঘটনা হইলো এ-ই। লোকে নাকের বদলে নরুণ লাভ করে, আমি তো পুরাই ক্ষতিগ্রস্থ হইলাম। বেয়াড়া একটি রমণী, বলিলাম ঠিক আছে উপগত হইব না, চলো ঊনসত্তর ধারায় প্রেম করি ... সে তাহাতেও রাজি নহে।"

ঈশ্বর থতমত খাইয়া বলিলেন, "ঊনসত্তর ধারা আবার কী?"

আদম সরোষে কহিলো, "সে আপনি বুঝিবেন না, উহা আমাদের এজেন্ডা, আপনার সিলেবাসে নাই। কিন্তু ঈভ কহিয়াছে, নির্দলিল ভালোবাসায় সে বিশ্বাসিনী নহে, টাইপরাইটার সে আমাকে ব্যবহার করিতে দিবে না, সে আমাকে ঘরের বাহিরে গিয়া যা কিছু লেখার হাতে লিখিতে বলিয়াছে ...।"

ঈশ্বর বলিলেন, "টাইপরাইটার, সে আবার কেন?"

আদম মাটিতে পা ঠুকিয়া বলিলো, "আপনি দেখি ভালো ভালো কোন চুটকিই শ্রবণ করেন নাই, দুরো, আপনার সহিত বাক্যালাপ করাই একটা ঝামেলা ... যাহাই হউক, আপনি আমাকে একখানা দলিল দিন। কোন স্বর্গদূতকে কাজী বানাইয়া কবুল পড়াইয়া দিন। নিজের ঘরে গরমাগরম বউ রাখিয়া যদি হাতে কাজ নিতে হয়, এ জীবন আর রাখিয়া লাভ কী? খুদখুশি করিবো।"

ঈশ্বর ভুরু কুঁচকাইয়া বলিলেন, "তুমি নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ না করিয়াই যেইরূপ বখিয়াছো, ঐ ফল ভক্ষণ করিলে তো তুমি স্বর্গ অস্থির করিয়া ফেলিবে। পশুপক্ষী কিছুই নিরাপদে থাকিবে না।"

আদম বলিলো, "হাঁ। কী করিবো, কান্ট্রোল নেহি হোতা।"

ঈশ্বর বলিলেন, "ঐসব দলিল টলিলের ঝামেলা পোহাইতে পারিবো না বাপু। এমনিতেই স্বর্গে কাগজ নাই, ভূর্জপত্রের উপর আমার আস্থা নাই, দ্যাখো না আমার যাবতীয় বাণী এখানে প্রস্তরখন্ডের উপর লিখিত ও রক্ষিত? কাগজ নাই। আর তুমি দিবারাত্রি আড্ডা না মারিয়া যদি বইপুস্তক কিছু পড়িতে, কিভাবে অবাধ্য রমণীকে বশ করিতে হয়, তাহলে তো এই দলিলের তর্কে ফাঁসিতে হইতো না। যাও, লাইব্রেরিতে গিয়া বাৎস্যায়নের কামসূত্রখানি ইসু্য করিয়া লইয়া অধ্যয়ন করো, লেখাপড়া করে যেই বউয়ের ওপর চড়ে সেই, যাও যাও, বিলম্ব করিও না ... শুভস্য শীঘ্রম।"

আদম চটিয়া উঠিয়া কহিলো, "লেখাপড়া করিয়া এখন ঈভকে সামলাইতে হবে? তাহলে আপনি আমাকে একটা দলিল লেখাপড়া করিয়া দিন না কেন? ভারি ভারি পুস্তক রেফারেন্স না দিয়া এক পাতায় একটা দলিল লিখিয়া দিতে সমস্যা কোথায়?"

ঈশ্বর হাসিয়া বলিলেন, "ওহে আদম, আমার গৌরব তাতে সামান্যই বাড়ে, তোমার গৌরব তায় একেবারে ছাড়ে! তুমি সামান্য পঞ্জরসম্ভূতা ঈভকে পটাইতে পারো না, সে দলিল দাবি করিতেই তুমি লৌড়াইয়া চলিয়া আসিয়াছো খোদ ঈশ্বরের কাছে ধর্ণা দিতে, এই নারী তো তোমাকে সাত ঘাটের জল খাওয়াই চৌদ্দ হাটে নিয়া বেচিবে দেখিতেছি। বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা হইলেও একটা কথা থাকিতো, ঈভের বয়স তো তোমার কাছাকাছি।"

আদম এইবার কাঁদিয়া ফেলিলো, "অ্যাঅ্যাঅ্যাঅ্যা ... দলিল ... আমার দলিল ... অ্যাঅ্যাঅ্যা ...।"

ঈশ্বর বলিলেন, "আচ্ছা আচ্ছা, চিন্তা করিয়া দেখি ... ক্রন্দন করে না ... দেখিতেছি দলিল নিয়া কী করা যায়, এইবার তুমি আসিতে পারো।"

আদম চোখ মুছিতে মুছিতে চলিয়া যায়। ঈশ্বর চিন্তিত মুখে ভাবিতে বসেন। আদম বেয়াকুবটার জন্য সঙ্গিনী নির্মাণ করিয়া এক গেরোই বাঁধিয়া গিয়াছে। সে-ই এখন আদমকে নাচাইয়া বেড়াইতেছে। দলিলদস্তাবেজ দাবি করিয়া বসিয়াছে। দুইদিন পর দেখা যাইবে ঈশ্বরের কাছে আসিয়া লাইসেন্স দেখিতে চাহিবে।

ঈশ্বর দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া ভাবিলেন, আদমটাও আপাদমস্তক ছাগু, জামাল ভাস্করের মতো সিস্টেম করিয়া লইবার বুদ্ধিটাও নাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/21952 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/21952 2006-10-19 08:10:04
সাপ্তাহিক স্বর্গবার্তা 01 জনৈক নেকবন্দ ব্যক্তি, ধরিয়া লই উহার নাম মোঃ এক্স, স্বর্গে আসিয়া দারুণ গোলযোগের জন্ম দিয়াছেন। পুণ্য তাহার বহু ছিলো, প্রার্থনা-উপবাস-তীর্থ-দানছত্র সবই তিনি করিয়াছেন, বীজমন্ত্র ঘনঘন জপিতেন, জপমালা টিপিতেন, পাপের মধ্যে পাপ ছিলো মাঝে মাঝে কাজের মেয়েকে ধরিয়া জোরপূর্বক রমণ করিতেন। স্কন্ধারূঢ় দুই স্বর্গদূত, যাহারা পাপপুণ্যের হিসাব জাবদায় টুকিয়া রাখে, তাহার আগে সাইফুর নামে জনৈক হিসাবরক্ষকের স্কন্ধে দীর্ঘকাল ডিউটি দিয়াছে, কিভাবে হিসাবে গন্ডগোল বাহির করিতে হয়, তদ্রুপ কিরূপে হিসাবে গন্ডগোল গুঁজিয়া দিতে হয় তাহারা বিলক্ষণ জানে, বুয়ারমণ পর্বে তাহারা আশমানি কলম কানে গুঁজিয়া থ্রিয়েক্স দেখিয়াছে, তাই পাপের খাতা হালকাই ছিলো। তাই মোঃ এক্স তড়বড় করিয়া সাঁকো পার হইয়া স্বর্গের কাননে পা ফেলিয়াই দারুণ উল্লসিত হইয়া পড়িলো। সাড়ে তিন কুড়ি সুন্দরী অপ্সরা আসিয়া তাহাকে ঘিরিয়া ধরিলো। বার কয়েক রমণ করিয়া সে কিঞ্চিৎ হাঁপাইয়া পড়িলে এক গেলমান আসিয়া সোনার পাত্রে করিয়া দ্রাক্ষারস আনিয়া দিলো। ঢকঢক করিয়া সেই রস পান করিবার পর মোঃ এক্স ছটফট করিতে করিতে খিঁচুনি দিয়া পড়িয়া মরিলো!

ঈশ্বরের কাছে সংবাদ পৌঁছাইতে তিনি আসমান হইতে পড়িলেন। স্বর্গে মানবের মৃতু্য হয় কেমন করিয়া? ইহা কি সম্ভব? তিনি স্বর্গের কোয়ার্টারমাস্টার স্বর্গদূতকে তলব করিলেন। সে আসিয়া সেলাম ঠুকিলো।

"খোদাবন্দ, এ এক অভূতপূর্ব ঘটনা।" সে গলা খাঁকরাইয়া কহিলো। "স্বর্গে মানুষের মৃতু্য এই প্রথম।"

ঈশ্বর কহিলেন, "আরে ব্যাটা আগে বল সে মরিলো কেমন করিয়া?"

কোয়ার্টারমাস্টার কহিলো, "তদন্ত চলিতেছে জাঁহাপনা।"

ঈশ্বর চটিয়া উঠিয়া কহিলেন, "তদন্তের গুষ্টি মারি, কারণটা বল।"

কোয়ার্টারমাস্টার মাথা চুলকাইয়া কহিলো, "আসামী বাঙ্গালি ছিলো জনাব। সারাটা জীবন ভ্যাজাল খানাপিনা করিয়া পেটের অবস্থা করুণ করিয়া তাহার পরে স্বর্গে আসিয়াছে। স্বর্গের নির্ভেজাল দ্রাক্ষারসকে জীর্ণ করিতে গিয়া তাহার কলিজার উপর মারাত্মক পাশর্্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই সে মরিয়াছে।"

ঈশ্বর ভড়কাইয়া গিয়া কহিলেন, "আরে, সব্বনাশ। এর আগে আর কখনো বাঙ্গালি স্বর্গে আসে নাই?"

কোয়াটর্ারমাস্টার কহিলো, "খাদ্যে ভ্যাজাল প্রয়োগের আগের আমলে আসিয়াছে প্রচুর, ইদানীং আসে নাই।"

ঈশ্বর বলিলেন, "এখন যদি ও পঁচে গন্ধ ছড়ায়, ব্যাপারটা কেমন হবে?"

কোয়ার্টারমাস্টার মুখ কালো করিয়া দাঁড়াইয়া রহিলো।

ঈশ্বর কহিলেন, "নরকের অগি্নকুন্ডে নিক্ষেপ করিলে কেমন হয়?"

কোয়ার্টারমাস্টার শিহরিয়া উঠিয়া কহিলো, "জাঁহাপনা, ঐ কর্ম ভুলেও করিবার উয্যুগ লহিবেন না, সবংশে বিনাশ হইবেন। এমনিতেই নরকে তুমুল পলিটিক্স চলিতেছে, সেই অগি্নতে ঘৃতাহুতি দেয়া হইবে তাহলে ...।"

ঈশ্বর ঘাবড়াইয়া গিয়া কহিলেন, "বল কী, উহারা এখনও নিবৃত্ত হয় নাই?"

কোয়ার্টারমাস্টার কহিলো, "মোটেই না। নরক এখন গুলজার। জাতীয়তাবাদী নারকী দল, নারকী লীগ, জামাতে নারকী, আর নারকী পার্টির উৎপাতে নরকের স্বর্গদূতরা পর্যন্ত এখন পলিটিক্সে জড়াইয়া গিয়াছে। ইদানীং বিকল্প ধারার নারকী রাজনীতিও শুরু হইয়াছে। উহারা আবার মাঝে মাঝেই নিজেদের মধ্যে কী সব জোট বাঁধিয়া হুটুপুটি করে ...।"

ঈশ্বর কহিলেন, "ওফ, বুকের বাম দিকটায় বড় ব্যথা ...।"

কোয়ার্টারমাস্টার কহিলো, "বড় করিয়া দম নিন ... যাহা বলিতেছিলাম, ঐ গোলমালের মধ্যে যদি আবার একটা লাশ তাহাদের হস্তগত হয়, নরক ফাটিয়া গিয়া স্বর্গকে ভস্ম করিবে। তখন আমার পক্ষে সামলানো দায় হইবে।"

ঈশ্বর কহিলেন, "তাহলে এই ডেডবডি লইয়া কী করি? আঞ্জুমানে মফিদুলও তো নাই যে দাখিল করিবো ...।"

কোয়ার্টারমাস্টার কহিলো, "স্বর্গদূত আত্মাহরকে দিয়া ব্যাটাকে আবার পৃথিবীতে পাঠাইয়া দিন। ল্যাঠা চুকিয়া যায়।"

ঈশ্বর কহিলেন, "পৃথিবীতে পাঠাইবো কী রূপে? স্বর্গে আসিয়া মরিয়াছে হতভাগা ...।"

কোয়ার্টারমাস্টার কহিলো, "উহাকে কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারী কর্মকর্তা করিয়া পাঠাইয়া দিন, বেশি নড়াচড়া করিতে হইবে না, লোকে কিছু টের পাইবে না ...।"

ঈশ্বর কহিলেন, "বেড়ে বলিয়াছিস। তবে তাই হোক।"


মোঃ এক্স এখন কোন এক সরকারী দপ্তর সামলাইতেছেন। কেউ টের পায় না যে তিনি জীবন্মৃত। স্বর্গের আলোবাতাসের গুণে শরীরে পচন ধরে না তাহার, কিন্তু প্রাণের অভাবে কাজকর্মাদিও আগায় না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/21921 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/21921 2006-10-18 18:25:26
নোবেলচি শুক্কুরবার মোবাইলে কোন এক হতভাগা জানি বার্তা পাঠাইলো, "ইউনুস শান্তিতে নোবেল জিতিয়াছে! হুররে!"

মনে মনে হাসিলাম। রোসো বৎস, অত ফূর্তির কিছু নাই। নো বেল, এই নোবেলের কোন বেল নাই। টাইপিং মিশটেকে হয়তো নোবেল কমিটি ভুল করিয়া এরূপ কীর্তি করিয়া বসিয়াছে। নইলে শান্তিতে ইউনুস কী করিয়া নোবেল জয় করিবে? নিশ্চয়ই কোন গলদ রহিয়াছে। অচিরেই শুদ্ধিপত্রে বাহির হইবে, ইউনুস নহে, ইউনান প্রদেশের মেয়র ইউ নুং নোবেল লভিয়াছে, তাহার প্রদেশে ছান্তিছিঙখলা বজায় রাখিবার জন্য। বাঙ্গালি জিতিবে নোবেল, তবেই হইয়াছে। ছোহ!

কিন্তু কয়েক ঘন্টা কাটিয়া গেলো, শালার ব্যাটারা শুদ্ধিপত্রে কিছু কহিলো না। আমার বেজায় রাগ হইতে লাগিলো। নরওয়ের নরকূল এমন ছাগুপনা করে কিভাবে? এ-ও কী সহ্য করা যায়? বাঙ্গালি হইলে মানিয়া লওয়া যায়, কিন্তু সাদা চর্মবিশিষ্ট বিচারকগণ এরূপ তুঘলকি কারবার করিবে, মন হইতে সায় দ্যায় না।

টিভি খুলিয়া দেখি মারাত্মক ব্যাপার। ইউনুস ইউনুস করিয়া মিডিয়া পাগল হইয়া উঠিয়াছে। যে যাহা পারে সম্বল করিয়া ইউনুসের বাড়ির দিকে দৌড়াইতেছে। নোবেল পাইবার পর বাঙ্গালি উহাকে পয়গম্বর মানিয়াছে।

রাগে আমার গাত্রদাহ হইতে লাগিলো। বউকে ডাকিয়া বলিলাম, শ্যালকের পুত্রদের কি আহারভোজনের পর কর্তব্য কিছু নাই, ইহারা ইউনুসের মাঝে কী এমন মধু খুঁজিয়া পাইয়াছে? উহারা কি বুঝিতে পারিতেছে না, যে শান্তিতে নোবেল লাভের কোন এখতিয়ারই ইউনুসের নাই! শান্তির জন্য সে কী করিয়াছে? সে কি বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে মিটমাট করিতে পারিয়াছে? নাকি নিজে কারো সাথে বৎসরের পর বৎসর মারমারকাটকাট করিয়া অবশেষে দোস্তি পাতাইয়া গোলাগুলির অবসান ঘটাইয়াছে? নাকি কুষ্ঠরোগীদের কোলে তুলিয়া চুমাইয়াছে কখনো? সে তো ব্যাঙ্ক খুলিয়া রাস্তার ফকিরকে খাতক বানাইয়া মারোয়াড়িদের পর্যন্ত লজ্জায় ফেলিয়া দিয়াছে। তাহার সুদ আদায়ের পদ্ধতি দেখিয়া কালোয়ারের মহাজনেরা একে অপরকে গালি দিতেছে, শেষ পর্যন্ত সুদাসুদি বাঙ্গালির কাছে শিখিতে হইলো বলিয়া। দরিদ্রের খুলিখুলি লুঙ্গিটি তুলিয়া যদি কুকর্মটি কেউ সম্পূর্ণরূপে সম্পাদন করিয়া থাকে তো সে ইউনুস, আর কেহ নহে! শান্তিতে বরং, মোছাদ্দেক আলি ফালুকে নোবেল দেওয়া যাইতো। তাহাকে দেখিলেই এক ধরনের শান্তি, এক ধরনের স্ফূর্তি জাগে বুকে। সদা হাস্যময় মানুষ, দন্তরুচি বাহির করিয়াই রহিয়াছেন। বিশেষ করিয়া জিয়ার মাজার জিয়ারতের সময় তাহার স্ফূর্তি দেখিলে আসলেই বড় প্রশান্তি অনুভব করে সকলে। তিনি গোটা জাতির শান্তির পায়রা। আমাদের ফালুদা। কেউ বলিতে পারিবে না, ফালুদার এন্টিভির লোকজন গিয়া গরীবের বাড়ির চাল খুলিয়া জব্দ করিয়া লইয়াছে। ফালুদা সম্প্রতি যে ব্যাঙ্কের বিপুল শেয়ার কিনিয়া মালিক হইয়াছেন, সেই ব্যাঙ্কের নামেও কেউ 30-40% সুদের অপবাদ দিতে পারিবে না। সকল বিচারে তিনি সেরা। আর পাইলো কি না ইউনুস?

বউ হাসিলো খালি, কিছু কহিলো না। তাহার স্ফূর্তি দেখিয়া আমার মনে রাগ আরো ফেনায়মান হইয়া উঠিলো, কহিলাম, অত নাচিও না। ইউনুস নোবেল জিতিয়াছে বলিয়া কি আমাদের পক্ষ গজাইয়াছে নাকি? নোবেলের শাক দিয়া কি দুর্নীতির মাছ ঢাকিতে পারিবে? এই যে জেম্বি বোমা মারিয়া দেশ ছারখার করিয়া দিয়াছে, এই কথা বিশ্ববাসী অত চট করিয়া ভুলিবে ভাবিয়াছো? এই দেশ হইতেছে গিয়া বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, হরতাল আর দুর্নীতির দেশ, এই দেশের ময়লা ছুপাইতে পঞ্চাশখানা নোবেল লাগিবে!

শনিবার ফুরাইবার পর দেখি অবস্থা বেগতিক। সকলেই ইউনুস ইউনুস জিকির তুলিয়া কানের পটকা পচাইয়া ফেলিতেছে। দুই চারিজন বিবেকবান ভদ্রলোক পত্রপত্রিকায় কিছু কঠিন সত্য কথা পাঠাইয়াছেন বটে, কিন্তু পত্রিকাগুলিও নিমকহারাম, তাহারা ছাপে নাই। আমার পরিচিত এক প্রগতিশীল নিভৃতচারী তথ্যকারিগর হুবাবা দৌলা মেগাজন তো ইন্টারনেটের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রকাশ করিয়া খুঞ্চুষ ইউনুসের যাবতীয় ছিদ্র খুঁজিয়া বাহির করিয়া প্রকাশ করিয়াছেন। ক্লিন্টনের সাথে উহার দোস্তির পর পরই ক্লিন্টনের মনিকাসংক্রান্ত পতন ঘটে, স্পেনের রাণী যে ইয়াহু ম্যাসেঞ্জারে তাহার সহিত নিভৃতে কী কী আলাপ করিয়া থাকে, লেডি ডায়ানার সাথেও নাকি সেই হতভাগা বন্দোবস্ত করিয়াছিলো, প্রভৃতি নিখাদ সত্য কথা তিনি গুছাইয়া লিখিয়াছেন। কিন্তু শক্তের ভক্ত নরমের যম পূজাবাজ বাঙ্গালি বহুদিন পরে উপাস্য পয়গম্বর খুঁজিয়া পাইয়াছে, তাহারা মেগাজনকে দল বাঁধিয়া আসিয়া গালাগালি করে। সত্য কথার অন্ন নাই।

অগত্যা ঠিক করিলাম নোবেল কমিটির কাছে পত্র লিখিবো। বিচার চাহিয়া তাহদিগের কোর্টে মামলা দাখিল করিবো, ইউনুসের নোবেল ফিরাইয়া লওয়া হউক, আর সে কাহাকে ডানে বামে উৎকোচ গছাইয়া নোবেলখানি বাগাইয়াছে, ঐ বিষয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হউক। আমার বন্ধু নরওয়ের ঐ আইটিব্যবসায়ীকে একবার ড্রাফটখানি দেখাইয়া লইবো ঠিক করিলাম।

রাত্তিরে শয্যায় শুইয়া বউকে আদর করিতে করিতে কথাখানি বলিবো ভাবিয়াছিলাম, মাগী বলে কি, ওগো, আমাদের প্রথম সন্তান পুত্র হইলে নাম রাখিবো মোহাম্মদ ইউনুস, ডাক নাম রাখিবো নোবেল, কেমন হইবে?

আমার ইচ্ছা করিতেছিলো তাহার নিতম্বে কষিয়া চড় মারিতে, কিন্তু নিজের বউ বলিয়া কথা, কোনমতে ক্রোধ সংবরণ করিয়া বলিলাম, আর কন্যা হইলো?

বউ গদগদ স্বরে কহিলো, গ্রামীণা!

আমি ভাবিলাম, লাথি মারিয়া মাগীকে দূর করি, পরে ভাবিলাম, নিজের বউ। সে-ও অর্ধশিক্ষিতা বাঙ্গালিনী। তাহার কি দোষ। ইউনুসের হুজুগের ব্যাকটিরিয়া আসিয়া সবাইকেই সংক্রামিত করিয়াছে, বেহুদা তাহাকে লাথি মারিয়া রাত্রিকালীন সঙ্গমের আনন্দ কেন মাটি করি। অগত্যা ঐ কর্মে লিপ্ত হইলাম।

পরদিন সকালে উঠিয়া পত্রিকা খুলিয়া দেখি খালি ইউনুসের ছবি। আর কে কে তাহাকে কী কী বলিয়া অভিনন্দন জানাইয়াছে তাহার ফিরিস্তি। ইউনুস নোবেল পাওয়ার পর আর জিরাইবার ফুরসৎ লইতেছে না, টো টো করিয়া দেশময় ঘুরিয়া নিজের পাপের কথা জাহির করিতেছে। মনে মনে ভাবিলাম, নোবেল কমিটির কাছে বিচার চাহিয়া চিঠিতে মেগাজন ভাইয়ের পোস্টগুলির ইউআরএল তুলিয়া দিবো। তাহারা যদি ঘুষ খাইয়া তাহাদের আত্মা শয়তানের কাছে বিক্রি করিয়া না থাকে, তাহা হইলে নিশ্চয়ই তাহাদের আত্মোপলব্ধি ঘটিবে, তাহারা বুঝিবে তাহারা কীরূপ শৃগালের কাছে পায়রা বর্গা দিয়াছে।

চিঠিতে লিখিলাম ফলাও করিয়া, এই জাতি কীরূপ ছাগু। তাহারা যে ঘুষদুনর্ীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত, অবসর পাইলেই বোমাবন্ধনে লিপ্ত হয়, বন্যার পানি শুকাইলেই গিয়া বোমাবাজি করে, আর হরতালের ডাক দিয়া ভাঙচুর চালায়, বড় রসালো করিয়া ফাঁদিলাম। এই চিঠি পড়িয়া নোবেল কমিটির টনক যদি না নড়ে, নাম পাল্টাইয়া দুধখোর রাখিবো স্থির করিলাম।

আর কে জানে, এইরূপ জনগুরুত্বসম্পন্ন চিঠির সাহিত্যিক মূল্য বিচার করিয়া তাহারা হয়তো পত্রখানি আরেকটি খামে ভরিয়া সুইডেনে নোবেল সাহিত্য কমিটির কাছে পাঠাইয়া দিতে পারে। তুর্কি কামুক না পামুক যদি নিজের জাতির বদনাম করিয়া নোবেল বাগাইতে পারে, আমি এই মুখফোড় কী দোষ করিলাম?

চিঠিটি লইয়া পোস্টাপিসের দিকে যাইবার পথে দেখা হইলো বন্ধু বাচ্চুর সহিত। মনে পড়িলো, বছর দশেক আগে সে আমার নিকট হইতে ক্ষুদ্রঋণ হিসাবে দশ টাকা ধার লহিয়াছিলো। স্থির করিলাম, চিঠি পোস্ট করিয়া আসিয়া বাচ্চুর গলায় গামছা বাঁধিয়া সেই টাকা সুদেআসলে আদায় করিবো। ইউনুস যদি ঐ কর্ম করিয়া নোবেল পায়, আমি মুখফোড় কী দোষ করিলাম?

বাচ্চুর কলার ধরিবো বলিয়া হাত বাড়াইলাম, সে আমার হাত ধরিয়া কাঁদিয়া ফেলিলো। আমি বলিলাম, কী রে মামদার পো, ক্রন্দন করিতেছিস কেন? সে কহিলো, মুখা রে, জন্মাইবার পর ইস্তক হারিতেছি। শৈশবের মার্বেল হইতে শুরু করিয়া যৌবনের ক্রিকেট, খালি হারি খালি হারি। আজকে জিতিয়াছি। কাউকে পরাজিত করি নাই, শুধু নিজে জিতিয়াছি।

বাচ্চুকে ছাড়িয়া দিলাম। তাহার গলায় গামছা পরানো বড় মুশকিলের কর্ম এখন। বাচ্চুকে জিতিবার স্পৃহায় পাইয়া বসিয়াছে, গর্দান তাহার ফুলিয়া আসমান স্পর্শ করিয়াছে। বাচ্চুর মতো সব বাঙ্গালি মজিয়া উঠিলে কী এক ভীষণ কুকান্ড ঘটিবে ভাবিতে ভাবিতে ঘরের পথে পা বাড়াইলাম। আকাশে বাতাসে ইউনুস হাসিয়া ভাসিয়া চলিলো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/21827 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/21827 2006-10-17 19:48:38
নাকের বদলে নোবেল পেলাম ড. ইউনুস আর গ্রামীণ ব্যাঙ্ক নোবেল শান্তি জিতে নিয়েছেন। বাংলাদেশ এখন দস্তুরমতো নোবেলজয়ী দেশ।

দারিদ্র্য ঘোচানোর জন্য ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার বৃহৎ যজ্ঞের আয়োজন করেই ইউনুস বাংলাদেশের ললাটে এই নোবেলতিলক এঁকে দিলেন। আগামীকাল বাংলাদেশের তিনকোটি ভুখানাঙ্গা মানুষ ঘুম থেকে জেগে উঠবে শূন্য উদর, গৌরবপূর্ণ বক্ষ, নোবেলজয়ের আনন্দে হাসিভরা মুখ, আর ক্ষুদ্র ঋণের প্রতিশ্রুতিতে ভরপুর হৃদয় নিয়ে।

আমি চোখ মুছি। আনন্দে, বেদনায়। দাতারাও হাসেন। কেন কে জানে।

কত লজ্জা, কত দুর্নাম, কত কিছু রটে আমাদের নামে। আমরা, লড়তে লড়তে যাদের সবকিছু ফুরিয়ে আসে, হঠাৎ যেন ঝপ করে রাজকন্যার খোঁপায় বাঁধা পারিজাতের মালা এসে আমাদের হাতে পড়েছে। এ নিয়ে কী করবো আমরা ঠাহর করতে পারি না। লজ্জায় কাটা পড়া নাক আমরা নোবেল পদক দিয়ে ঢাকি।

মেনে শত বাধা টিকটিকি হাঁচি
টিকি দাড়ি নিয়ে আজো বেঁচে আছি
বাঁচিতে বাঁচিতে প্রায় মরিয়াছি
এবারে সব্যসাচী
যা হোক একটা দাও কিছু হাতে, একবার মরে বাঁচি!

হাতে নোবেলই পেলাম আমরা। দেশে শান্তি না থাকুক, পদক তো আছে!

ড. ইউনুস, আপনি মুখফোড়ের সালাম নিন। শতায়ু হোন। গলা টিপে দারিদ্র্য মারুন। আমরা, দরিদ্ররা, বড় কষ্টে আছি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/21544 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukhforrblog/21544 2006-10-13 13:10:00