কালকে তারাবীর নামাজ পড়ে কম্পুতে বসেছি এমন সময় আম্মা এসে আদর করে বলে, ও সোনা তুমিতো দেখি কাজে বসছো, "আমার ঔষধ শেষ। শেষরাতে ঔষধ খাইনাই সন্ধ্যা রাতেও খাওয়া হবেনা, তুমি কি ঔষধ এনে দিবা?" লক্ষী মেয়ের মত গেলাম ঔষধ আনতে। কতদূর যাওয়ার পরেই মোটামুটি বৃষ্টি নামল। আগেই বৃষ্টি নামার ফলে রাস্তায় কাঁদা ছিল তখন নামার ফলে গেল রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে। গলির একদম শেষ মাথায় যেখান থেকে দোকান দেখা যায় সেখানে গিয়ে স্লিপ কেটে স্যান্ডেল গেছ ছিড়ে। পড়লাম মহা ফ্যাসাদে, না এদিক না ওদিক, কোন দিকেই যাওয়ার কায়দা নেই। পাশেই ছিল মুচি বসা তাকে বললাম স্যান্ডেলটা সেলাই করে দিতে। সে বলল সেলাই করা যাবেনা। কত্ত রিকোয়েস্ট করলাম বলে জোড়ানো যাবেনা।

যাবেইবা কিভাবে চিকন চিকন দুইটা ফিতা, তা না যাবে সেলাই করা না যাবে পিন মারা

। খোড়াতে খোড়াতে মোটামুটি পরিচিত এক দোকানে এসে বললাম ফোন করব। দোকানদার বলে ফোন করা যাবেনা। এখন পড়লাম চরম বিপদে। কান্নাটা বাকী ছিল। বললাম আমিতো মহা বিপদের পরেছি এখন বাসায় কীভাবে যাবো? পরে সে বলে একটু দাড়ান আমার ফোন দিয়ে ফোন করেন। দোকানে এক কাস্টমার ছিল সেও পরে বলে খুব দরকার হলে আমার ফোন দিয়ে ফোন করেন। আমি চাইছিলম দোকানদারেরটা দিয়ে করতে। দোকানদার তার হাতের কাজ করতে দেরী হচ্ছে দেখে লোকটা আবার বলল, "সিস্টার কিছু মনে না করলে আমারটা দিয়ে ফোন করেন" উপায় না দেখে অনিচ্ছা সত্বেও তার ফোনটা হাতে নিয়ে নাম্বার তুলবো এমন সময় দোকানদার বলল উনারটা দিয়ে দেন আমারটা দিয়ে করেন। আম্মাকে ফোন করে বললাম স্যান্ডেল নিয়ে আসতে। পরে আম্মা স্যান্ডেল নিয়ে আসলে ঔষধ কিনে বাসায় ফিরে আসলাম। বাসায় এসে আম্মা দিল এক ধমক। বলে "রাতের বেলায় কে দেখতো? খালি পায়ে আসলে কী হত?"

ভাইয়া বাসায় আসলে মনের দুঃখে ওর কাছে খিনীটা বললাম যাতে আমাকে একটু সাপোর্ট করে। কিন্তু কাহিনী শুনে ও বলে, "ঠিকই ত রাতের বেলা খালি পায়ে আসলে কে দেখতো"
পরে রাগে দিলাম এক ঝাড়ি।

কেউ বুজল না আমার দুঃখটা