আম্মার স্যান্ডেল কেনা দরকার। কথা ছিল আজকে সকাল সকাল রান্না করে মা-মেয়ে বের হবো। সেই অনুযায়ীই বের হলাম। ফার্মগেট বাটাতে এই নিয়ে তিন দিন গেলাম আম্মার পায়ের মাপর স্যান্ডেল নেই। কি আর করা, গেলাম নিউমার্কেট। সেখানে পছন্দসই পেলামই না। চাঁদনীচকে এসে ও একই অবস্থা। পরে রেগেমেগে একটা কিনে নিলো।
স্যান্ডেল কেনা হলে আমি বাসার পথে রওয়ানা দিলে আম্মা বললেন,
= এই, শোনো, দাড়াও এখানে
~ কি
= তুমি সেদিন বলসিলা মুক্তার মালা কিনবা, এই জন্যে আজকে বসুন্ধরা যাইতে চাইছিলাম
তুমিতো গেলানা। তোমার জন্মদিনে আমি গিফট করবো, কি নিবা বলো।
~ তোমার ইচ্ছা, মালা এইখানে জুয়েলারীতে পাওয়া যাইতে পারে।
এইভাবে কথা বার্তা বলে একবার ঠিক করলাম জামা কিনবো। ঘুরে-টুরে মেলাতে না পেরে গেলাম জুয়েলারীতে। এক দোকানে যেয়ে আম্মাই পছন্দ করলেন দুটো মালা। একটা ছোট দানার আর একটা একটু বড় দানার। দুটো থেকে একটা আমাকে বেছে নিতে বললে ভাবলাম আমার মুখ বড় বড় দানারটা কেমন দেখাবে ছোটটাই নিই। ভুলটা করেছি সেখানে। একটা কথা বলে নিই, তাহল, আমার পছন্দ চরম খারাপ। প্রথম দেখায় যেটা পছন্দ হয় সেটা বাসায় এনে দেখি চরম বাজে জিনিস সেটা। কথা তখন মনে ছিল না। আম্মার পছন্দ ছিল বড় দানারটা। আমার ছোটটা পছন্দ কনফার্ম হয়ে দাম করার সময় দেখি দুটো এক সাথে জিজ্ঞেস করলেন! দুইটা নিবা কেন?
দোকান থেকে বের হয়ে আসলে বলে আমি কাউকে বলিনাই, আমার ছোটবেলা থেকেই মুক্তার মালার খুব শখ ছিল
বাসায় এসে দেখলাম আরেক কাহিনী। আমার মালাটা গলায় দিয়ে দেখি কেমন যেনো লাগছে। মুক্তার মালা গলার সাথে মিশে না থাকলে ভাল লাগেনা। আম্মারটা আম্মা গলায় দিলেন এবার। এমনিতেই ভরা গলা তআর উপর বড় দানা, চররমমমম সুন্দর লাগছে! কি আর করা আমার গলায় দোষ মেনে নিলাম।
বক্সে ঢুকানোর আগে আম্মারটা একটু গলায় দিয়ে দেখি কেমন লাগে। এই ভেবে যেই গলায় দিয়েছি.....
এবার আম্মা বললেন, দেখছো তোমাকে বলসিলাম। তখন নেও নাই। এইজন্যে আমি আরো নিসি বড়টা। শোন তুমি এইটাই(বড়টা) পইড়ো।
বললাম থাক লাগবেনা। আমারটাই সুন্দর

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


