somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... একজন মুসলামন হিসেবে ওরিয়ানা ফালাচিকে আমাদের সম্মান করা উচিত
I don't go pitching tents at Mecca. I don't go singing Our Fathers and Hail Marys in front of Mohammed's tomb. I don't go peeing on the marble of their mosques; I don't go shitting at the feet of their minarets. When I find myself in their countries (something from which I never derive pleasure), I never forget that I am a guest and a foreigner. I am careful not to offend them with clothing or gestures or behavior that are normal for us but impermissible to them. I treat them with dutiful respect, dutiful courtesy, and I excuse myself when through mistake or ignorance I infringe some rule or superstition of theirs. And the images I've had before my eyes while writing this scream of pain and indignation haven't always been those of the apocalyptic scenes I started with. Sometimes I see another image instead, a symbolic (and therefore infuriating) one: the huge tent with which the Somalian Muslims disfigured and befouled and profaned the Piazza del Duomo at Florence for three months last summer. My city.


এখানে কোন কথাতে আমি ইসলামের কোন অবমাননা পাইলাম না। কোন কথাতে কোন নেগিটিভ কিছু পাইলাম না কেডা কেডা পাইছেন কইয়া যায়েইন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28790502 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28790502 2008-04-23 16:01:21
ওরিয়ানা ফালাচিকে আমাদের স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া উচিত
এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম অধিকার আদায়ের সংগ্রাম
মরলে শহীদ বাচলে গাজী]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28790483 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28790483 2008-04-23 15:05:12
রেজাকার পাইছি? টাটকা রেজাকার, খাঁটি রেজাকার! বঙ্গবীর বীর উত্তম কাদের সিদ্দিকী ১৮/০৪/২০০৮ এ বলেছেন আমি যদি ৭১ এর আগে কোরআন অর্থসহ মর্ম বুঝতাম তাহলে আমি এই যুদ্ধে অংশগ্রহন করতাম না।

On 18/4/2008, Bangabir Kader Siddique Bir Uttam said at Dhaka, "could I study Al-Qur'an with meaning before the independence war, I would not go for this war".]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28790041 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28790041 2008-04-22 04:59:40
No Comments 2 [/ইংলিশ]]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28788890 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28788890 2008-04-18 01:58:19 No Comments [/ইংলিশ]]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28788886 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28788886 2008-04-18 01:52:51 মুক্তি খুশ হুয়া তৌফিক মাহমুদ চৌধুরী এই ধারণা পাল্টে দিয়েছে। ঠিক যেমনটি পাল্টে দিতে বদ্ধ পরিকর বি বি এ। ব্লগটা এখন সুন্দর লাগছে তাই মুক্তি খুশি হয়েছে।

হ্যাপি ব্লগিং (বাট ডোন্ট ফরগেট দ্যাট ইট ইজ এ্যা কনটিনিউয়াস প্রসেস)

ফটো কার্টেসি: গোধুলি ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28785409 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28785409 2008-04-05 13:57:54
মুক্তি খুশি হয়ছে (ইনিসপাইরড বাই মুগেম্বো খুশ হুয়া) তৌফিক মাহমুদ চৌধুরী এই ধারণা পাল্টে দিয়েছে। ঠিক যেমনটি সামহোয়ার পাল্টে দিতে বদ্ধ পরিকর সামহোয়ার ইন। ব্লগটা এখন সুন্দর লাগছে তাই মুক্তি খুশি হয়েছে।

হ্যাপি ব্লগিং (বাট ডোন্ট ফরগেট দ্যাট ইট ইজ এ্যা কনটিনিউয়াস প্রসেস)

ফটো কার্টেসি: গোধুলি ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28784854 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28784854 2008-04-03 00:59:57
মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী আধুনিক সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞানুযায়ী বাংলাদেশ আর্মি একটি সন্ত্রাসবাদী ফোর্স। যারা ধর্মনীরপেক্ষতার থোড়াই কেয়ার করে!

নিচের লিংক তার উজ্জল দৃষ্টান্ত
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28783977 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28783977 2008-03-30 23:30:06
নিরাপদ মাপক যন্ত্র http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28783636 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28783636 2008-03-29 23:23:19 বাণী চিরন্তন দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ খাবার পাচ্ছেনা অথচ কোটি টাকা খরচ করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ১৬ দফা দাবী পেশ করে। - মুক্তি ২৫/০৩/২০০৮]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28782223 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28782223 2008-03-25 02:45:25 জনস্বার্থে কপি পেষ্ট; যুদ্ধাপরাধ বির্তকঃ আমার ভাবনা বাই মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন সম্প্রতি বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকা কিংবা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া চোখের সামনে পড়লেই একটা বিষয় খুব বড় ভাবে দৃষ্টিগোচর হয়; আর তা হলো যুদ্ধাপরাধীর বিচার অবিলম্বে করতে হবে। এই বিচারের দাবী প্রথমত বাম বা সমাজতান্ত্রিক চিন্তা ও চেতনায় বিশ্বাসী একটি শ্রেণীর। তার সাথে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা কতিপয় ব্যক্তিবর্গ যাদের পরিচয় সুশীল সমাজ হিসেবে। ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়নি। নতুনভাবে যুক্ত হয়েছেন নয় বছরের ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের প্রধান লে.জে.(অব.) হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ, ৪দলীয় জোট মনোনীত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে বিএলডিপি নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধের কয়েকজন সেক্টর কমান্ডার ও বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ আরও অনেকে। যাদের নাম এখানে উল্লেখ করা হলো তারা সবাই কোন না কোনভাবে জামায়াতে ইসলামীর সাথে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে একসাথে একই মঞ্চে অংশ নিয়েছে। যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারে এদের বর্তমান অবস্থান এবং রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে আমার কিছু বিক্ষিপ্ত বক্তব্য দেশের চিন্তাশীল মানুষের কাছে পেশ করলাম-
ক.
১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ এর ১০ জানুয়ারী মুক্তিযুদ্ধের মূল নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন করে যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতিকে পূনঃনির্মাণের জন্য সকল ভেদাভেদ ভুলে কাজ করার যে সুযোগ করে দিয়ে জাতিকে বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন তা বিশ্ব ইতিহাসে সত্যিই বিরল। জাতীয় নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান কতৃêক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর দেশের কোন রাজনৈতিক দল কিংবা ব্যক্তিবর্গ তখন এ ব্যাপারে কোন প্রকার আপত্তি তোলেনি। তাছাড়া ১৯৭২ এর সংবিধানে যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে কোন প্রকার বক্তব্য সংযোজিত করেনি সেই সময়ের আওয়ামী সরকার। আমরা সবাই জানি বাংলাদেশের সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে ততকালীন আওয়ামীলীগ নেতা দেশের স্বনামধন্য আইনজীবী ড. কামাল হোসেন এই সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরব ভূমিকা পালন করেছেন। আজ যখন তাঁর মুখে যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতে ইসলামীর বিচারের ব্যাপারে বক্তব্য দিতে দেখি তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে তখন কেন তিনি এব্যাপারে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণেতা হিসেবে কোন প্রকার ভুমিকা রাখেননি। এতেই প্রমাণ হয় যুদ্ধাপরাধীর বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধের মূল নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান এর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হয়েছিল। আজ আওয়ামীলীগসহ অন্যান্য দল বা ব্যক্তি যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে বক্তব্য দিয়ে মূলত মুক্তিযুদ্ধের মূল নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান কতৃêক সাধারণ ক্ষমা ঘোষণাকে কলংকিত করছেন। আজ যারা এতো বছর পর যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিচ্ছেন; তাদের উচিত স্বাধীনতা উত্তর মুক্তিযুদ্ধের মূল নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বিষয়টি নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা। তা নাহলে মুক্তিযুদ্ধের মূল নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান এর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
খ.
আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক স্বার্থে জামায়াতের সাথে বিএনপি বিরোধী আন্দোলন করেছে, ’৯০ এর গণ আন্দোলনের পর আওয়ামীলীগ এর রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী ভোট চাওয়ার জন্য জামায়াতের সাবেক আমীর আওয়ামীলীগ এর ভাষায় সবচেয়ে বড় যুদ্ধাপরাধী অধ্যাপক গোলাম আযমের বাসায় গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন, আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনা জামায়াতের বর্তমান আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর সাথে এক টেবিলে বসে বৈঠক করেছেন, শেখ হাসিনা সরকার আওয়ামীলীগের দাবী অনুযায়ী মাওলানা নুরুল ইসলামের মতো যুদ্ধাপরাধীকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করেছে, আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনা তার একমাত্র কন্যা পুতুলকে রাজাকার পরিবারের কাছে বিয়ে দিয়েছেন, তখন আওয়ামীলীগ কিংবা তাদের সতীর্থরা জামায়াতকে রাজাকার কিংবা যুদ্ধাপরাধী মনে করেননি। ১৯৭৫ এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২৩ বছর পর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় যেয়ে মুক্তিযুদ্ধের মূল নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান এর হত্যার বিচার কার্যক্রম চালু করে হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলেন। আজ প্রশ্ন দাঁড়ায় সেই সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠ আওয়ামীলীগ কেন জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করলেন না। যুদ্ধাপরাধীর ধুয়া তূলে মূলত জাতিকে বিভক্ত করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলেও পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় সাধারণ ক্ষমার মধ্য দিয়ে প্রায় ৩ যুগ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে একসাথে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সর্বশেষ বৃহতদলের সাথে সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে গোটা জাতি যখন একতাবদ্ধ তখনই একটি কুচক্রী মহল বিশেষ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তিকে বিভক্ত করার ঘৃণ্য অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্রে বাম রাজনীতি চালু রেখে ইসলামী রাজনীতি বন্ধের দাবী শুধু হাস্যকরই নয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং বিশ্বাসঘাতকতার শামীল।
গ.
বিএনপির এক সময়ের ক্ষমতাধর নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী ইদানিং যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে বেশ সরব বলে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পাচ্ছে। ইতিহাস বলে তার মুখেও যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবী শোভা পায় না। কারণ, ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী যখন ৪দলীয় জোট সরকারের মনোনীত রাষ্ট্রপতি হন তখন জামায়াত এর ভোটেই তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একবারও জামায়াত কিংবা যুদ্ধাপরাধী সম্পর্কে কোন বক্তব্য রাখেননি। শুধু তাই না যখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দল গঠন করেন তখন তার দলে শাহ আজিজের মতো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী লোকের স্থান হয়েছিল। তখন ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব হিসেবে কোন প্রকার অবস্থান নেননি। শাহ আজিজ শুধুমাত্র জিয়ার দল করেনি; তিনি এদলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন এবং পরবর্তীতে জিয়া সরকারের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন। তখন কোথায় ছিল ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুদ্ধাপরাধ বিরোধী আজকের ভূমিকা। আর এ কারণে হঠাত তার এ বক্তব্যে রাজনৈতিক মহল বিস্মিত হয়েছে। আর একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি কোথায় ছিলেন; কিইবা তার ভূমিকা? মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে। নতুন প্রজন্ম আজ তা জানতে চায়।
ঘ.
নয় বছরের ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের প্রধান লে.জে.(অব.) হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে অনেকটা বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। দেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে এই সামরিক শাসক ইচ্ছে করলেই তার আজকের যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে ভাবনার বাস্তবায়ন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি কিংবা করার কোন চিন্তা-ভাবনা করেছিলেন কিনা তারও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। এই রাষ্ট্র নায়ক সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তার ভূমিকা কি ছিল তা দেশের সচেতন পাঠক সমাজ জানেন। সে সময় তার ভূমিকা কি ছিল তা উল্লেখ না করলে ইতিহাসকে অপমান করা হবে। লে.জে.(অব.) হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়া পাকিস্তানী সৈনিকদের বিচার ট্রাইব্যুনালের প্রধান ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই আমরা বলতে পারি তার মুখেও যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে কোন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, শুধু তাই না ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় যাবার পর জামায়াত সমন্বয়ে চারদলীয় জোটে তার দল জাতীয় পার্টি অংশ নিয়ে আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। সেই সময় এ সেনা শাসকের মনে ছিলনা যে, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ একটি যুদ্ধাপরাধী সংগঠন।
ঙ.
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যাদের ভূমিকা সবচেয়ে গৌরবের বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে বিএলডিপি নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর ভূমিকাও আজ জাতির কাছে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। কারণ, তিনি বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। জামায়াত কিংবা যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে তিনি কখনো কোন দিন এভাবে ভূমিকা পালন করেননি বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। আজ তার বক্তব্য শুনে মনে হয় এ দেশের মূল সমস্যা জামায়াত কিংবা যুদ্ধাপরাধ। অথচ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কাদের সমন্বয়ে দল গঠন করেছিলেন তা নিশ্চয়ই তার জানা ছিল।
চ.
১/১১ এর কারণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাবেক সেনা সদস্যদের সরব উপস্থিতি খুব বেশী লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতিতে সাবেক সেনা সদস্যদের অংশ গ্রহণের বিরোধী নই। যদিও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আগা-গোড়াই সেনাবাহিনীকে ভিন্ন চোখে দেখে আসছে। এই সেনা সদস্যরা সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশী আলোচিত বিষয় যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে বেশ সোচ্চার। এদের মধ্যে অন্যতম মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বীরপ্রতীক; যিনি সম্প্রতি হোটেল ইম্পেরিয়ালে আয়োজিত মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী স্মরণে একটি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনিও যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে বেশ জোরালো ভূমিকা রাখছেন। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে এ ব্যাপারে জনমত গড়ার চেষ্টা করছেন বলে পত্র-পত্রিকায় দেখা যাচ্ছে। সাবেক এ সেনা কর্মকর্তার প্রতি আমার সবিনয় জানতে ইচ্ছে করে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলামিস্ট, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সর্বোপরি বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি এদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী ইতিহাস কী জানেন না? যদি জেনে থাকেন তবে কেন এই অযৌক্তিক ততপরতা একটি মীমাংসিত বিষয় নিয়ে।
ছ.
যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ও বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের ভূমিকাও আমাদের অনেকটা বিস্মিত করেছে। আজ মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ৩৬ বছর পরে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের দাবীদার সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার; যার সৃষ্টি হয়েছিল যুদ্ধকালীন সময়ে ১৯৭১ এর ১৭ এপ্রিল মুজিব নগরে। আজ যারা এই বিষয়ে নানা দাবী তুলে কথা বলছেন, এখনই সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার; তারা সবাই সেই সময় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের দাবীদার সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ-এর সাথে কোন না কোনভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। এখন প্রশ্ন হলো মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের দাবীদার সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর নেতা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের প্রধান হিসেবে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন তার সাথে আজকের দাবীদাররা একমত ছিলেন কিনা? কিংবা একমত না থাকলে ততকালীন সময়ে এ ব্যাপারে কোন প্রকার বিরোধিতা করে কোন ভূমিকা রেখেছেন কিনা? জাতির কাছে তা স্পষ্ট হওয়া উচিত বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করে। তাহলেই ব্যাপারটা জাতির সামনে পরিষ্কার হবে নতুন করে বিচার দাবীর পিছনে আসল উদ্যেশ্যটা কি?
জ.
আমরা যদিও অনেকটা স্মৃতিভ্রষ্ট রোগে আক্রান্ত। তারপরেও তথ্যপ্রযুক্তির কারণে এখন অনেক কিছুই আমাদের টিভি চ্যানেলসহ অন্যান্য মিডিয়াগুলো প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় ঘটে যাওয়া অনেক কিছু। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ব্যানারে দেশের সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করে প্রচলিত আইন উপেক্ষার মধ্যদিয়ে গণ আদালতের নামে প্রহসন করা হয়েছিল এবং সে সময়ে এই ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা কর্মীকে হত্যা করেছিল বলে জানা যায়। শুধু তাই না দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক মিল্লাতসহ কিছু জাতীয় দৈনিকের অফিসে হামলা করা হয়েছিল। এই সংগঠনটি দাড়ী-টুপি ও পায়জামা-পাঞ্জাবী পরিহিত লোকজনকে জামায়াত কিংবা শিবিরের সদস্য বলে চিহিßত করত। যার ফলে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নন এমন সাধারণ মানুষও এ কারণে তাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছে, যা ততকালীন পত্র-পত্রিকা পাঠ করলে তা প্রমাণ করে। আমরা আরও জানি ২০০১ সালে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ৪দলীয় জোটের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ১৪দলীয় একটি মহাজোট গঠন করা হয় এবং রাজনৈতিক কর্মসূচী দিয়ে ৪দলীয় জোটের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখে। পরবর্তী পর্যায় তারা গত ২৮ অক্টোবর ২০০৬ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্নে ঢাকার পল্টনে এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে দেশকে এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। আজ তারাই কি কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে রাজনৈতিক মাঠ উত্তাপের পাঁয়তারা করছে তা জাতির কাছে অস্পষ্ট। জাতি বিনির্মাণে তাদের হাতে কোন এজেন্ডা নেই বলে একটি নন-ইস্যুকে ইস্যু হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেবার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা।
ঝ.
১/১১ এর পর দেশ যখন দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিচ্ছে তখন এর ধারাবাহিকতাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য যুদ্ধাপরাধী ইস্যুর অবতারণা করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পাঁয়তারা করছে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল। ২৮ অক্টোবর ২০০৬ ঢাকার রাজপথে মানুষ হত্যার উতসব কিংবা টিআইবি’র মতে পরপর পাচঁবার দুর্নীতিতে ১ম অবস্থান, এরকম কোনটাই আমরা দেশের জনগণ আর চাই না বলে ১/১১ এর পূর্বে ফিরে যাবার কোন প্রশ্নই ওঠে না। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, ১/১১ এর চেতনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্যই মূলত একটি নন-ইস্যুকে ইস্যু করে গোটা জাতিকে বিভক্ত করে ১/১১ এর চেতনার ধারক বাহকদের প্রশ্নের মুখোমুখি করার পাঁয়তারা করছে কুচক্রি মহল।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28782210 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28782210 2008-03-25 02:06:13
দেশ এবং দেশের বাইরে আলোচিত বিশিষ্ট্য ইসলামী চিন্তাবীদ এবং বাংলাদেশ সংসদের সম্মানিত প্রাক্তন সংসদ সদস্য প্রখ্যাত আলেম আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন... দেশ এবং দেশের বাইরে আলোচিত বিশিষ্ট্য ইসলামী চিন্তাবীদ এবং বাংলাদেশ সংসদের সম্মানিত সদস্য প্রখ্যাত আলেম আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বক্তব্য সম্বলিত খালি পোষ্টই নয় সেটা স্টিকি হিসেবেও দেখতে চাই।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28781541 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28781541 2008-03-22 19:42:06 আজ মুক্তিযুদ্ধের ধারক বাহক যারা এবং বাস্তবতার আলোকে ব্লগের মুক্তিযোদ্ধারা মডারেটরকে! আর শুভাকাংখিদের নিকট আবেদন থাকবে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর একটা ভাল ছবির লিংক দেয়ার জন্য।


জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর অজানা কথা

১. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী অধ্যাপক কবীর চৌধুরী এখন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা।

২. পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার কথা বলে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় দালাল আখ্যায়িত করে ১৯৭১ সালের ১৭ মে দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় ৫৫জন বুদ্ধিজীবী বিবৃতি দিয়েছিলো সেই ৫৫ জনের ১জন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। সেই দীর্ঘ বিবৃতির অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলোÑ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ছাত্ররা লেখাপড়া বা খেলাধূলায় ব্যস্ত ছিলো না। তা ছিলো বাংলাদেশ মুক্তি ফৌজের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, তালো মেশিনগান, মর্টার ইত্যাকার সমরাস্ত্রের গোপন ঘাঁটি। ...................আওয়ামী লীগ চরমপন্থীরা এ সহজ সরল আইন সঙ্গত দাবীকে একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার দাবীতে রূপান্তরিত করায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। আমরা কখনও এটা চাইনি ফলে যা ঘটেছে তাতে আমরা হতাশ ও দু:খিত হয়েছি। (দৈনিক পাকিস্তান: ১৭ মে, ১৯৭১)

৩. ১৯৬৯-৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কবীর চৌধুরী পাক হানাদার সরকারের বিশ্বস্ত অনুচর হিসেবে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছে।

৪. পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার জন্য পাক সরকারের প্রতিষ্ঠিত ইঘজ এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছে ১৯৬১ সালে।

৫. স্বৈরাচারী পাক শাসক আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্রের পক্ষে জনমত তৈরিতে গর্বিত রাইটার্স গিল্ডের সদস্য ছিলো কবীর চৌধুরী।

৬. কবীর চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের পরপরই বোল পাল্টে আওয়ামী লীগের একান্ত কাছের ব্যক্তি বনে গেছেন, হয়েছেন তাদের বড় থিংকট্যাংক। এই অধ্যাপক আইয়ুব খানের থিংক ট্যাংক হিসেবেও বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে তার জবানিতেই তুলে ধরা হলো তা Ñ “প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান বলেছেন, আমরা এখন জাতীয় উন্নতির কথা বলি তখন আমাদের চোখের সামনে বড় বড় শহর, বড় বড় কারখানা এবং এমারতের ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু এই গুলোই যথেষ্ট নয়। নৈতিক ও ধর্মীয় উন্নতি ছাড়া কোন জাতির উন্নতিই সম্পূর্ণ হতে পারে না। এই উক্তিতে প্রেসিডেন্ট যে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের উপর জোর দিয়েছেন তা মূলত: ইসলামী আদর্শ থেকেই গৃহীত হয়েছে। (সূত্র: পাকিস্তানী নেশন হুড এনবিআর-প্রকাশিত)।

৭. অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর বড় ভাই কাইয়ুম চৌধুরী পাকিস্তান আর্মির একজন কর্নেল হিসেবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানেই থেকে গেছে। পরে ব্রিগেডিয়ার হিসেবে অবসর নিয়ে এখনও পাকিস্তানেই অবস্থান করছে।

৮. ১৯৬৭-৬৯ সালের ঘটনাÑআনন্দমোহন কলেজের প্রিন্সিপ্যাল হওয়ার আশায় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তানের কুখ্যাত গভর্ণর মোনায়েম খানের পা ছুঁয়ে কদমবুচি করেছে। (সূত্র: তৎকালীনÑ মোমেনশাহী ডিসি, পিএ নাজির লিখিত স্মৃতির পাতায়)।

৯. ময়মনসিংহ এ এম কলেজের প্রিন্সিপ্যালের দায়িত্ব পালনকালে তার পৃষ্ঠ-পোষকতায় মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন এনএসএফ ছাত্র রাজনীতিতে আমদানি করে হকিস্টিক ও আগ্নেয়াস্ত্র। ছাত্র রাজনীতিতে অস্ত্র আমদানির গুরু এই পাক দালাল।

১০. পাক- দালাল হওয়ায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্দ চলাকালে কবীর চৌধুরীকে সৈয়দ আলী আহসান, আবু সাঈদ চৌধুরী, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, শওকত ওসমান, ড. ইবনে গোলাম সামাদ, আসাদ চৌধুরী, আল মাহমুদ প্রমুখের মত ভারতে যেতে হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বুদ্ধিবৃত্তিক দায়িত্ব পালন করার জন্য বরং সে পাক হানাহাদারদের পা কামড়ে ছিলো এদেশেই দেশ স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথে অতি প্রগতিশীল সেজে গেছে বিরাট মুক্তিযোদ্ধা। হায় আফসোস ১৯৭১ এর ঘাতক দালাল কবীর চৌধুরী স্বাধীন বাংলাদেশের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা। সত্যি সেলুকাস বিচিত্র এদেশ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28780899 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28780899 2008-03-20 18:11:44
মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন এর রাজাকার হয়ে উঠা Click This Link]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28780377 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28780377 2008-03-19 02:45:56 ফিরে দেখা গনতন্ত্র: ১ [/yt]]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28774983 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28774983 2008-02-29 00:16:09 ইসলামের একসময়কার প্রখ্যাত আলেম বর্তমানে একজন সামহোয়ারইন ব্লগার আল বেরুনী সাহেবের কাছে খোলা চিঠি পত্রের শুরুতে আমার সালাম লইবেন। পর সমাচার এই যে আমি আপনার ইসলামকে আনইসলামিক করেছে কারা সিরিজ পড়ে আবেগ আপ্লুত হইয়া পড়িয়াছি। আপনার মতো একজন মহান মানুষ এই খানে দ্বীনি পোষ্ট দিয়া আমাদের বিবেককে জাগ্রত করিতে প্রতিনিয়ত সহযোগীতা করিতেছেন। আপনার এই উত্তম কর্মের জন্য খোদার দরবার থেকে আপনার উপর উত্তম জাঝা বর্ষিত হউক। বিশ্বাস করেন আমি আপনার প্রেমে দিওয়ানা হইয়া গিয়াছি। আপনার মুরিদ হইতে আমার প্রান উত্থলাইয়া পরিতেছে। এই মহাভারতে মওদুদী ছাহিব নামের একজন আলেম নাকি আসিয়াছিলেন জামাতীদের কাছে তার কথা শুনিয়া আমি আমি তার দিওয়ানা হইছিলাম। কিন্তু এই ব্লগে আসিয়া দেখিলাম তার কথায়বার্তায় যুক্তির দূর্বলতা ছিলো। পরক্ষনই চিন্তা করলাম ভাগ্য ভাল আমি তাহার মুরিদ হই নাই। গতকল্লের দিবারাত্রির কথা, সন্ধ্যাবাতী তার ইসলাম প্রচার করিতেছিলেন অবশ্য সেটা জামাতী ইসলাম ভিন্ন দিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্লগার আমাদের মা বোনের ইজ্জত আবরুর রক্ষাকারী ব্লগার নরাধম তার ইসলাম প্রচার করতে ছিলো। তাহাদের এই দুই ইসলামের গ্যাড়াকলে আমি দ্বন্দে পড়িয়া গিয়াছি। তাই আপনার কাছে আমার এই খোলা চিঠি। আপনার কাছে অধম এই বান্দার আবেদন আপনি এই বিষয়ে যদি আমাদের দিক নির্দেশনা দিতেন তবে আমরা ফিতনা ফাসাদ থাইকা মুক্ত হইতে পারতাম বইলা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

পরিশেষে হুজুরে কিবলার সমীপে আকুল আবেদন আমাদের ফিতনা থাইকা রক্ষা করিয়া দো‌'জাহানের অশেষ মেহেরবানী করেন।

ইতি
মুক্তাদির আহসান মুক্তি
(সাধুগন আমাকে আদর করে ড়াজাকার ডাকেন)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: হুজুর সমীপে ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28772910 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28772910 2008-02-22 03:11:15
মোরা একটি ফুলকে বাচাঁবো বলে যুদ্ধ করি: উৎস্বর্গ চেতনা বাস্তবায়ন কমিটির হর্তাকর্তা হুজুরে শাহ পীরে আউলীয়া এস্কিমো ওরফে উত্তর মেরুর... [/ইংলিশ]]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28769382 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28769382 2008-02-11 21:05:05 আমার প্রিয় পোষ্ট বিজ্ঞজনের সাথে সহবাস- ভার্চুয়াল রাজনীতি! ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28760891 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28760891 2008-01-14 18:11:40 ২০০৭ এর সেরা খবর (মুক্তির বিবেচনায়) পাকিস্থান হাই কমিশনে বেনজীর ভুট্টোর শোক গাঁথাতে স্বাক্ষর করতে গিয়ে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর সাথে করমর্দন করেন এবং শরীর ও স্বাথ্যের খবর নেন। অন্তত ১৫ তাদের শুভেচ্ছো বিনীময় এবং বর্তমান আর্ন্তজাতিক রাজনীতি নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন। সদ্য হজ্জ থেকে ফিরে আসায় আমীরে জামায়াতের সাথে উনি কোলাকোলি করেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাসদের নেতা মইনুদ্দিন খান বাদল এবং জাতীয় পার্টির এক অংশের চ্যায়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

--- তথ্যসূত্র, পাক হাই কমিশন প্রেস সেক্রেটারী।

উল্লেখ্য ঘটনায় সাধারণ ব্লগার মুক্তির মনে কিছু খটকা লেগেছে নিম্নে তা দেয়া হইলো:

১। ইনু সাহেবের বলেন নিজামী ৭১ এর রাজাকার এবং একজন নারী ধর্ষণকারী এবং শিশু হত্যাকারী। এমন একজনের সাথে উনার মতো বীর ক্যামন করিয়া কোলাকোলি করেন এমন শরীর ও স্বাস্থের খোজ লইয়া বাধিত হন?

২। সরকারের আমন্ত্রনের নিজামী গেছে কইয়া পানের পিক ফেলাইতে ফেলাইতে কেন নাটক মঞ্চায়ণ করিলেন আর বলিলেন 'আমি খেলবোনা এইখানে নিজামী মুজাহিদ আছে?

৩। কামেল মানুষের দাবীদার নিজামী সাহেব ক্যান একজন ভন্ড, লোভী এবং মিথ্যাবাদীর সাথে করমর্দণ এবং কোলাকোলি করিলেন?

উপসংহার: আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং মুক্তিযুদ্ধা হাসানুল হক ইনুর করর্মদণ এবং কোলাকোলি ২৪ ঘন্টার মধ্যে ফেরত নেয়নি বিধায় ইহা ২০০৭ সালে মুক্তির বিবেচনায় সেরা খবর বিবেচিত হইলো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28755612 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28755612 2008-01-01 06:30:28
ভারতের শৃঙ্খলাবদ্ধ হবার সব থেকে গুরুত্বপূর্ন ছবি http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28751833 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28751833 2007-12-16 03:16:27 রাষ্ট্রের গঠন ও গঠনতন্ত্র বনাম পাতিবর্জুয়ার ওপনিবেশিক সংবিধান লেখাটা যারা মিস করছে তাদের জন্য]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28743029 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28743029 2007-11-06 05:38:40 যায়যায়দিনে চায়না থেকে মিনার রশীদের এই লেখা কেউ পড়েছে কিনা যানি না। যারা পড়েছে তারা অন্যরে পড়তে বলনে আর যারা... অসাধারণ মানুষের কীর্তির মতো তাদের মৃত্যুও ব্যাপক মিডিয়া কভারেজ পায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের মরণকে মিডিয়া কভারেজ পেতে হলে উচ্চ মাত্রার ট্র্যাজেডি কিংবা তার ঘাতকের বৈশিষ্ট্য বর্তমান মিডিয়া মোগলদের বাসনা মতো হতে হয়। ঘাতক যদি আমেরিকান সেনাবাহিনী হয় তবে সেই মরণ যতোটুকু হিট হবে তার চেয়ে সুপার ডুপার হিট হবে সেই মরণের পেছনের ঘাতক যদি আল কায়েদা হয়। সিলেটের নূরজাহান এ ব্যাপারে যথেষ্ট ভাগ্যবতী ছিলেন কারণ তার ঘাতক ছিল এ গণনায় একেবারে প্রথম ক্যাটেগরির অর্থাৎ সুপার অ্যান্টিহিরো ফতোয়াবাজ।
কাজেই আমরাও তেমন করেই এ নূরজাহানের জন্য চোখের জল ফেলেছিলাম। শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিকরা তাকে স্মরণ করে উপন্যাসও লিখে ফেলেছিলেন। যে ফতোয়াবাজরা ৫০ গজ দূরে পুলিশের সিপাহী দেখলেই এমনিতেই দৌড় শুরু করে তারাই এসব মিডিয়ার কল্যাণে আবির্ভূত হলো সব আইন ব্যবস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জকারী হিসেবে। মৌলবাদী দেশ হিসেবে আমরাও একধাপ এগিয়ে গেলাম। কাজেই আমরা কি দেখি সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো মিডিয়া কি দেখায় তা।
সিলেটের এ নূরজাহান জন্মে, কর্মে, আদরে-সোহাগে, ভোগ-বিলাসে সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের কাছাকাছি যেতে না পারলেও মরণের সময় সম্রাজ্ঞীকেও হার মানিয়েছিলেন। তার জীবনের কাহিনী ছিল অত্যন্ত সাদামাটা, তা নাটকীয় কিংবা বর্ণাঢ্যময়ও ছিল না। শুধু তার মরণের কাহিনী বা তার পেছনের ঘাতকই এ প্রচার ভ্যালু সৃষ্টি করেছে। এ নূরজাহানই যদি সাধারণ অত্যাচারী স্বামী বা শাশুড়ি-ননদ দ্বারা নিগৃহীত হয়ে মৃত্যুবরণ করতো যা এ দেশের হাজার হাজার নূরজাহানের ভাগ্যে নিত্যদিন ঘটছে তবে তার লাশের ভাগ্যে ঘুণাক্ষরেও এ কভারেজ জুটতো না। অর্থাৎ মদ্যপ বা সাধারণ অত্যাচারী স্বামী হলো এ বিবেচনায় নিচু ক্যাটেগরির ঘাতক। অন্ততপক্ষে মুখে দাড়ি নেই বা দেখতে মাওলানাদের মতো লাগে না এমন অত্যাচারী ঘাতকদের সংবাদমূল্য আসলেই কম।
কাজেই সব পত্রিকার ইন্টারনেট সংস্করণ ঘেটে আমার মনে হয়েছে বিএসএফ হলো এ বিবেচনায় আরো নিম্ন ক্যাটেগরির ঘাতক। মৃত্যুর সময় যেহেতু নির্দিষ্ট ছিল, কাজেই বিএসএফের হাতে না মরে নিজের বউয়ের হাতেও যদি বেচারা এ আমিনুল মারা পড়তো তাহলেও কয়েকগুণ বেশি মিডিয়ার মনোযোগ পেতো। ‘ শিকারি পাখি শিকার করে,’ ‘সূর্য পূর্ব দিকে উদয় হয়’ ইত্যাদি বিষয় যেমন কোনো সংবাদ হয় না তেমনি বিএসএফের হাতে ‘বাংলাদেশিরা গুলি খেয়ে মরে’ এটাও আজকাল কোনো সংবাদ বলে বিবেচিত হয় না।
আর ১৪-১৫ কোটি বাংলাদেশির মধ্যে বিএসএফ যদি সপ্তাহে মাত্র দু-একজন করে গুলি করে মেরে ফেলে তা ধরার মধ্যেও পড়ে না। এসব সংবাদে আমাদের মেইন লাইন মিডিয়া যেন খানিকটা বিরক্তই বোধ করে। কারণ তাদের কাছে এর চেয়েও বড় বিষয় বা সমস্যা রয়েছে। নিজের সম্প্রদায় বা জাতির এ জাতীয় সমস্যা শুধু সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন মানুষ ও মিডিয়ার কানেই বাজতে পারে। কিংবা যে কানে বা মনে এসব বাজে তা সাম্প্রদায়িক কান এবং মন হিসেবেই বিবেচিত হয়।
চুয়াডাঙ্গার বাড়াদি গ্রামের কৃষক এ আমিনুল ইসলাম গত রবিবার তার মহিষ খোজার জন্য সীমান্ত এলাকায় গেলে ইনডিয়ার বিজয়পুর ক্যাম্পের বিএসএফ বিনা উস্কানিতে তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে আমিনুল মারা যান। খুজে পাওয়া মহিষটিও একই ভাগ্য বরণ করে। সীমান্তের ৭৯/৮০ নাম্বার পিলারের কাছে এ ঘটনাটি ঘটে।
হতভাগা আমিনুলের লাশ ফেরত চেয়ে বিডিআর পত্র দিয়েছে, তবে বিএসএফ এর কোনো জবাব দেয়নি (সোমবারের সংবাদ মতো)। কাজেই হতভাগা পরিবার লাশটি ধরে কান্নারও সুযোগ পাবে না। আমিনুলের বউয়ের বুক ফাটা কান্না ডা. মিলনের বিধবা স্ত্রীর কান্নার চেয়ে কোনো অংশেই কম বেদনাদায়ক নয়। তার এতিম বাচ্চার অবুঝ দৃষ্টি ছোট্ট জুনিয়র কেনেডির (বাবার লাশকে) সেই বিখ্যাত স্যালুটের চেয়ে কম ট্র্যাজিক নয় যা সেদিন সারা আমেরিকাকে কাদিয়েছিল। আমিনুলের মায়ের বুক ফাটা কান্না জাহানারা ইমামের কান্নার চেয়ে কম শোকাতুর নয়। বাবাদের কাধে এসব হতভাগা তরুণ আমিনুলদের লাশ কোনো অংশেই কম ভারি নয়।
আমিনুল ইসলাম একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক ছিল। যে দেশটিকে স্বাধীন করেছেন আমাদের গর্বিত মহান মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন মহামান্য সেক্টর কমান্ডাররা। যতোদূর জানতাম ৫৬,০০০ বর্গমাইলের প্রতিটি ইঞ্চিই সেদিন স্বাধীন হয়েছিল। কৃষক আমিনুলও হয়তো বা তাই জানতো। নাকি আমিনুলের সেই মাপে বা জানায় কোথাও ভুল হয়ে গিয়েছিল? জানি না আমিনুলের বিদেহী আত্মা মুক্তিযুদ্ধের মুরব্বি সেক্টর কমান্ডারদের প্রশ্ন করলে বেয়াদবি হয়ে পড়বে কি না যে আসলে আপনারা কতো ইঞ্চি ভূমি স্বাধীন করেছিলেন? বাড়াদি গ্রামের ৭৯/৮০ নাম্বার পিলারের সেই কয়েক ইঞ্চি জায়গা যেখানে আমিনুলের লাশটি পড়েছিল তা আসলে তার দেশের মাটি ছিল কি? ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা। আমিনুলের লাশ কি তার দেশের মাটিতেই এ মাথা ঠেকিয়েছিল, নাকি অন্য কোথাও? মৃত্যুর আগে অন্যের ভূমিতে দাড়ানোর অপরাধ আমিনুল করেছিল কি?
আমিনুলের দেশ অন্য কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধেও জড়ায়নি। তার দেশ থেকে সীমান্ত দিয়ে অন্য কোনো দেশে টেররিস্ট রফতানি বা চোরাচালানও হয় না যে, সেই সন্দেহে আমিনুল জীবন দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বের আতঙ্ক টেররিস্ট আক্রমণে সারা ইনডিয়ায় যতো মানুষ মরেছে তার চেয়েও বেশি বাংলাদেশিকে এভাবে পাখির মতো গুলি করে ইনডিয়ার বিএসএফ এমনি এমনিই মেরে ফেলেছে। এ ব্যাপারে আমাদের কারো কোনো বিকার নেই। এটাকে কি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে ভাবা যায় না? বিএসএফকে কি যুদ্ধাপরাধী ঘোষণা করা যায় না?
আমরা সবাই এখন অন্য বিষয় নিয়ে ব্যস্ত।
বিএসএফের এ ঔদ্ধত্যের সামনে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। এটা বন্ধ করতে ইনডিয়ার চির শত্রু পাকিস্তান ও চায়নার সঙ্গে কৌশলগত মৈত্রীর চিন্তাও পাপ হবে। এ দেশে একমাত্র রাজাকাররা ছাড়া অন্য কেউ এটা কল্পনাই করতে পারে না। সেই ভাবনা বন্ধ করার জন্যই রাজাকার ইস্যুকে চাঙ্গা রাখা হয়েছে এবং এ ঘৃণাকে প্রজন্ম থেকে প্রজান্মান্তরে ছড়িয়ে দেয়ার আয়োজন চলছে। স্বাধীনতার আবেগ দিয়েই আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে চিরদিনের তরে এভাবে জব্দ, পঙ্গু ও অরক্ষিত করে রাখা হয়েছে।
হতাশার কথা হলো, জাতির সবচেয়ে ভোকাল অংশটিই এ সর্বনাশা রাজাকার ফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। কাজেই আমিনুলরা আসলেই অরক্ষিত। এ অবস্থায় বর্ডারের ল্যাম্প পোস্টে মাইক লাগিয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত বাজিয়ে দিলে বিএসএফকে কতোটুকু নিবৃত রাখা যাবে তা-ও মালুম হচ্ছে না। আবার বর্ডারের মানুষ ও তাদের গরু-মহিষের জন্য আমেরিকা বিশেষ বর্ম বানিয়ে সাহায্য করবে তা-ও আশা করা যাবে না। কারণ আমিনুলরা তো আর তেলের ড্রাম না যে, তারা এগিয়ে আসবেন।
সামনে উপায় একটাই বাকি আছে। তা হলো সবাই মিলে আমিনুল ও তার মহিষের লাশের জন্য বায়তুল মোকাররমে উপস্থিত হয়ে মোনাজাত করা, ‘হে মাবুদ তুমি বিএসএফের মনকে গলিয়ে দাও যাতে আমাদের আমিনুল ও তার সঙ্গীর লাশটি ফিরিয়ে দেয়। মাবুদ তোমার জীবন তুমি নিয়েছো। এখন আমাদের আমিনুলের লাশটি ফিরিয়ে দাও।’ কারণ লাশ দুটির কথোপথন শুনে মনে হয় তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।
চলুন বিএসএফের বিজয়পুর মর্গে চলে যাই। আমিনুল ও তার মহিষের লাশের কথোপথন শুনি।




আমিনুলের লাশ : ভালোই হলো রে। তুই আমার জীবনের সঙ্গী ছিলি। আজ মরণেরও সঙ্গী হয়েছিস। বিএসএফের মর্গেও তোকে পাশে পেয়েছি। যাকে বলে জীবন আর মরণের সঙ্গী। জানিস, তোর এ ভাগ্য আমার স্ত্রীও পায়নি। বেচারি জীবনের সঙ্গী হলেও তোর মতো আমার মরণের সঙ্গী হতে পারলো না। বেচারির কথা মনে করে মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে রে। আমাকে জড়িয়ে ধরে শেষ বারের মতো একটু কাদবে তা-ও মনে হয় পারবে না। কিভাবে যে এ সময়টুকু কাটাই। তাই চল, তোকে একটা চুটকি বলি। এক পাইলট তার বিমানবালাকে বলে, বউয়েরা আমাদের জীবনের সঙ্গী হলেও তোমরা বিমানবালারা হলে আমাদের জীবন ও মরণের সঙ্গী। এ মহিষ, বল তো এ মজার চুটকিটি বলার পরও হাসি আসছে না কেন?
মহিষের লাশ : কারণ আমরা লাশ হয়ে গেছি মনিব। তবে সবই ওপর ওয়ালার ইচ্ছা। এমন ভাগ্য কয়টি মহিষের হয় বলুন? মরার জন্য তাই আমার তেমন কষ্ট নেই। কিন্তু এখন খুব টেনশনে পড়ে গেছি মনিব।
আমিনুলের লাশ : তোর আবার টেনশন কি? বউ-বাচ্চা কারো খোজ-খবর নেই। তোর লাশ জড়িয়ে ধরে কাদার কেউ নেই।
মহিষের লাশ : প্রিয় মনিব আমার। আমি সেই টেনশন করছি না। আমি টেনশনে আছি কারণ কিছুক্ষণ পরই তো আমাকে ও আপনাকে ইনডিয়ান কুত্তারা পেটে পুরবে। শেষে কি না ইনডিয়ান কুত্তার পেটেই যেতে হবে এটা ভেবেই আমি অত্যন্ত পেরেশান হয়ে যাচ্ছি মনিব।
আমিনুলের লাশ : আশ্চর্য। আমরা মানে মানুষ বাংলাদেশিরা বর্ডার এলাকাতে থাকায় না হয় ইনডিয়া বিদ্বেষী ওরফে রাজাকার হয়ে পড়েছি। তোরা মহিষ বাংলাদেশিরাও কেন ইনডিয়ান বিদ্বেষী হয়ে পড়লি?
মহিষের লাশ : কাটা ঘায়ে আর নুনের ছিটা দেবেন না মনিব। মাথায় হাত দিয়ে বলুন তো, আমি মহিষ না হয়ে যদি গরুর জাত হতাম তাহলে কি এমন নির্মমভাবে বিএসএফ গুলি করতে পারতো? আমি গরু হলে দেবতার সঙ্গী হিসেবে হয়তো বা আপনিও এ যাত্রায় বেচে যেতেন। কাজেই আমরা ইনডিয়ান বিদ্বেষী না হয়ে কিভাবে থাকি বলুন? আমার তো মনে হয়, আমার এ নির্মম মৃত্যুর পর শতকরা ৯৯ ভাগ মহিষই রাজাকার হয়ে পড়বে।
আমিনুলের লাশ : এসব বাজে প্যাচাল রাখ। এখান থেকে কিভাবে মুক্তি পাবো তাই চিন্তা কর। রেড ক্রস কি আমাদের উদ্ধার করার জন্য এখানে আসবে বলে তোর মনে হয়?
মহিষের লাশ : আপনি তো মনিব কুয়েতি শেখের লাশ না যে, ওই সব বিদেশি হিউমেনিটারিয়ান মেশিনারিজ হন্যে হয়ে পড়বে। মরার পর সবাই সমান হয়ে গেলেও ভুলবেন না যে, আপনি বাংলাদেশের একজন সামান্য কৃষক ছিলেন।
আমিনুলের লাশ : কিন্তু তুই তো পশু। পশুপ্রেমিকরা নিশ্চয় চিল্লাচিল্লি শুরু করবে। পশ্চিমি ফার্স্ট লেডিদের অনেকেই স্বামীর চেয়ে পশুকেই বেশি ভালোবাসেন। কষ্ট হয় বাংলাদেশের বর্ডারের কৃষক না হয়ে ধনী দেশের কুত্তা হলেও আরো ভালো হতো।
মহিষের লাশ : মনিব, মন খারাপ করবেন না। আমাদের জন্যও খুশির খবর আছে। তবে তার জন্য জামায়াতের সেক্রেটারি মুজাহিদকে ধন্যবাদ জানান।
আমিনুলের লাশ : তুই তো দেখি রে হার্ডকোর রাজাকার। আমাদের চেয়েও বেশি। যা-ই হোক, আগে কারণটি খুলে বল।
মহিষের লাশ : কারণ তিনি সব জীবিত সেক্টর কমান্ডারদের এক করে ফেলেছেন। তারা এখন এক হয়ে যদি আবারো ৭১-এর মতো হুঙ্কার ছুড়েন তবে দেখবেন বিএসএফ ভয় পেয়ে আমাদের দুজনকে মুক্ত করে দেবে।
আমিনুলের লাশ : লাশ হলেও মহিষ যে মহিষই থেকে যায় তুই হলি তার বড় প্রমাণ। সেক্টর কমান্ডাররা এক হয়েছে বলেই যে ইনডিয়ার বিরুদ্ধে লেগে যাবে তা তুই ভাবলি কিভাবে? মুসলমানদের কেবলা যেমন সব কালে একদিকে থাকে তেমনি তারা ভাবেন স্বাধীনতার হুমকি শুধু পাকিস্তানের দিক থেকেই উড়ে আসতে পারে। তাদের মিসাইলটি তাই এখনো সেই দিকে তাক করা। মিসাইলের এ কেবলা বা দিক কখনো পরিবর্তন করা যাবে না। কাজেই কল্পনা নয় বাস্তব চিন্তা কর। কারণ আমার আর তোর মতো তারা কেউ বিএসএফের মর্গে আটকা পড়েনি। কয়েক ঘণ্টা পর ইনডিয়ার কুত্তার পেটে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
মহিষের লাশ : ঠিকই বলছেন মনিব। লাশ হওয়ার পর আমার মাথাও দেখি খুলে গেছে। আপনার সব কথা বুঝতে পারছি। এখান থেকে বের হওয়ার জন্য আমাদের মতো তাগিদ তাদের নেই। তাদের কখনো বিএসএফের মর্গে আসতে হবে না। তাই দেখেন, ক্লাস টুর বাচ্চাকে জিজ্ঞাসা করলেও বলে দেবে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের হুমকিটি যদি আসে তবে কোন দিক থেকে আসতে পারে। এ বাচ্চার মন্তব্য আপনার বোধগম্য হলেও এসব বিজ্ঞ জনের কথা মাথার অনেক ওপর দিয়ে যাবে।
আমিনুলের লাশ : তোরে অযথা গালিটা দিলাম। মনে কিছু নিবি না। তোর মাথা আসলেই খুলে গেছে। খুব খুশি হলাম। আমাদের তো আর কিছুর ভয় নেই। তাই মনটা খুলে বলতে পারছি। যে শত্রু পাছায় অনবরত লাথি দিচ্ছে তার দিকে না তাকিয়ে তারা আমাদের ফ্লাইং কিকের ভয় দেখাচ্ছেন। এরাই নাকি স্বাধীনতার সার্বক্ষণিক প্রহরী?
মহিষের লাশ : ভুলে গেছেন মনিব আমাদের মন নেই। কাজেই মন খারাপের প্রশ্নই ওঠে না। শুধু মগজটি আছে যার অব্যবহৃত সেলগুলো শেষ মুহূর্তের জন্য জলসে উঠেছে। আর ঠিকই বলছেন মনিব, সারা দেশবাসী তা মানলেও আমি আর আপনি বিএসএফের মর্গে শুয়ে এ কল্পনা বিলাস মানতে পারি না। তবে মনিব ভুল বুঝবেন না। নিজে মরে গেলেও দেশের অমঙ্গল চাই না। জীবিতদের চেয়ে আমাদের লাশ জগতের আরো দুজনের কথাই এখন বেশি মনে পড়ে। একজন (মেজর জলিল) বলেছিলেন, অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা।
অন্যজন (জিয়া) সেই স্বাধীনতাকে পাহারার সুবন্দোবস্ত করতে গিয়ে নিজেই লাশ হলেন। তার মিশন সফল হলে আপনাকে আর আমাকে আজ বিএসএফের মর্গে এমন অসম্মানজনকভাবে শুয়ে থাকতে হতো না এবং ইনডিয়ার কুত্তাদের পেটে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রহর গুনতে হতো না। যারা আমাদের এভাবে পাখির মতো গুলি করে মারে তারাই পশ্চিম সীমান্তে একটি পাখি শিকার করতেও হাজার বার চিন্তা করে। কাজেই মনিব, আমি আর আপনি না, এখানে পড়ে আছে বাংলাদেশের অসহায় মানচিত্র। শুধু একাত্তরের একমুখী আবেগে বুদ হয়ে থাকা এসব জ্ঞানী-গুণীরা তা কোনোদিন টের পাবেন না।
আমিনুলের লাশ : তাই তো কাল্পনিক শত্রুকে মোকাবেলার জন্য টনকে টন কাগজ ব্যবহার করলেও তোর আর আমার জন্য দুটি লাইনও এরা লিখতে পারলো না। আচ্ছা তোর মাথা তো খুলে গেছে। একটা সত্য কথা বল তো দেখি, ১৯৭১ সালে মূল যুদ্ধাপরাধীদেরকে বন্ধুদের হাতে তোহফা হিসেবে ছেড়ে দিয়ে এখন তাদের অক্সিলারি ফোর্সদের নিয়ে এরা মেতেছে কেন? সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে সবাইকে তো মাফ করে দেয়া হয়েছিল। এদের কাউকে কাউকে নিজেরাও স্পিকার বানিয়েছে, মন্ত্রী বানিয়েছে, এমপি বানিয়েছে, এমনকি বেয়াইও বানিয়েছে। এদের কারো কাছে দোয়া নিতে নিজেদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে পাঠিয়েছে। তাদের পাশে বসিয়ে ১৯৯৬ সালে একসঙ্গে আন্দোলনও করেছে। এখন হঠাৎ এমন করে চটে উঠলো কেন?
মহিষের লাশ : প্রথম জবাব হলো, আমি আর আপনি যে বিএসএফের মর্গে পড়ে আছি তা দেশবাসীকে ভুলিয়ে রাখার জন্য। এটা কঠিন প্রশ্ন মনিব, একবার থুথু ফেলে দিয়ে সেই থুথু আবার মুখে নেয়ার প্রয়োজন পড়েছে কেন? কারণ একটাই, নিজেদের মুখটি শুকিয়ে যাচ্ছে তাই।
আমিনুলের লাশ : আমার কি মনে হয় জানিস? আধিপত্যবাদের পথের কাটা জাতীয়তাবাদী শক্তির মূল ঘাটি বিএনপিকে চতুর্মুখী আক্রমণে আজ ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনার পরতের পর পরত ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। দেখে যেতে পারলাম না এর সর্বশেষ পরত কোনটি।
মধ্যরাতের ক্যু সংঘটিত হয়ে গেছে। ইলেকশন কমিশনে বাকশালের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের স্বরেই কমিশন সুর মিলিয়েছে। থলের বেড়ালটি ধীরে ধীরে বের হয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের মূল উদ্দেশ্যটিও স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। বাকশাল যা পারেনি এ কমিশনকে দিয়ে তাই করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আশার কথা হলো, অন্ধকার এ রাতেও জনগণ আলোক বর্তিকাটি বা তার কা-ারিকে ঠিকই চিনে নিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী শক্তির অন্য সহায়তাকারী শক্তিগুলোকেও নিস্তে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28742779 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28742779 2007-11-05 05:17:22
বসুর হাটের আস্পর্ধা! মেনে নেয়া হবে না
এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28732920 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28732920 2007-09-22 22:05:34
রচনা কম্পিটিশ্যান
দ্রষ্টব্য: মতি = জনাব মুহাম্মদ মতিউর রহমান। সম্পাদক দৈনিক প্রথম আলো।

ছবিটা ভাল লাগলে মেহেররবানী কইরা থ্যাঙ্কু দিয়েন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28732632 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28732632 2007-09-21 10:34:24
দিনের ছবি http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28732610 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28732610 2007-09-21 06:16:59 আরেকটু গা চুলকাও ০২ http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28731603 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28731603 2007-09-16 18:03:23 আরেকটু গা চুলকাও ০১ http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28731602 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28731602 2007-09-16 18:02:37 হা হা হা হা...
লিংক = http://www.youtube.com/watch?v=uUp0rsa4Zno]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28724636 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28724636 2007-08-07 22:31:58
অ্যাঁ এইডা কি?

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28723753 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28723753 2007-08-01 20:26:08
রবিবার ছুটি প্রার্থনাকারী কান্ডারীরা একটু দেখবেন দয়া করে! (আশা করি) সরকার সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিনের পরিবর্তে একদিন করতে যাচ্ছে এ ধরণের খবর বের হবার পর ছুটি কয়দিন ও কোন দিন হবে তা নিয়ে আবার বিতর্ক শুরু হয়েছে। চাকুরীজীবিরা দুই দিনের ছুটির পক্ষে থাকলেও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ তাকে একদিন করার পক্ষে। তাদের কেউ কেউ আবার শুপ্প ঙ্কারকে কর্মদিবস হিসাবে ঘোষণা করে রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারনের দাবী জানাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার সপ্তাহে দুদিন ছুটিকে সমর্থন করে তাকে শুপ্প ঙ্কশনির পরিবর্তে শনি-রবিতে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন। দেশের অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবিদের একটি অংশও এ বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। যারা শুপ্প ঙ্কারের পরিবর্তে রবিবারে সাপ্তাহিক ছুটি চাচ্ছেন, তারা বলছেন যে শুপ্প ঙ্কশনি ছুটি থাকার কারনে বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে সপ্তাহে তিনদিন বিচ্ছিনড়ব হয়ে থাকে। তাতে বহির্বিশ্বের সাথে আমাদের ব্যাবসাবাণিজ ্য, বিশেষ করে রফতানি বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। উদাহরন হিসাবে বলা হচ্ছে যে, দেখা গেল আমেরিকার কোন তৈরী পোষাক আমদানিকারক শুপ্প ঙ্কারে বাংলাদেশে ফোন করলেন তৈরী পোষাক সরবরাহের অর্ডার দেয়ার জন্য এবং শুপ্প ঙ্কার অফিস বন্ধ থাকায় কেউ ফোন ধরলো না। ফলে তিনি তার অর্ডারটা পাঠিয়ে দিলেন ভিয়েতনাম, চীন বা ভারতে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ ব্যবসা হারালো।

যদি প্রকৃতই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে বাংলাদেশ গত দুই যুগে অনেক ব্যবসা হারিয়েছে এবং এতো ব্যবসা হারানোর পরেও যে কোটামুক্ত অবস্থায় বাংলাদেশের তৈরী পোষাক শিল্প সাফল্যের সাথে টিকে আছে তা বিস্ময়কর বটে। সত্যি কথা বলতে কি, ব্যবসায়ীদের এ সকল যুক্তি ও বক্তব্য কিছুটা অতিরঞ্জিত বলে মনে হওয়া স্বাভাবিক। বলা হচ্ছে শুপ্প ঙ্কশনি ছুটি থাকায় তিনদিন বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিনড়ব হয়ে থাকে। এ ধরনের কথা শুনলে মনে হয় যেন শুপ্প ঙ্কথেকে রবিবার এই তিন দিন কোন এক ভিনগ্রহের বাসিন্দারা এসে বাংলাদেশের সাথে বর্হিবিশ্বের সব সংযোগ কেটে দিয়ে যায়। ইন্টারনেট কাজ করে না, ই-মেইল-ফোন-ফ্যাক্স আসে-যায় না এবং বিটিভি ছাড়া অন্য কোন টিভি চ্যানেল দেখা যায় না। বাস্তব অবস্থা যে তেমনটি নয় তা সবাই জানেন। ইন্টারনেট ও ই-মেইল তো দিনরাত চবি্বশ ঘন্টা চালু থাকেই, তদুপরি এখন এদেশে ই-মেইল করতে বা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে কমঙ্িউটার, টেলিফোন লাইন বা অন্য তারের সংযোগ কিছুই প্রয়োজন হয় না। মোবাইল ফোনেই এখন যোগাযোগের এ সকল সুযোগগুলো পাওয়া যায় এবং সেগুলো বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের সবগুলো মোবাইল অপারেটর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যোগাযোগের সুবিধা দিচ্ছে। এ বিষয়ের বিজ্ঞাপন চিত্রগুলো দেখলেও কেউ এ সমঙ্র্কে ধারণা পেতে পারেন। যেমন একটি টিভি বিজ্ঞাপনচিত্রে দেখা যায় একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী চলন্ত পথে মোবাইল ফোনে তার ই-মেইল পড়ছেন। বিদেশী প্পে ঙ্কা তাকে একটা পোষাকের নক্সা পাঠিয়েছে। চলন্ত পথেই তিনি সে নক্সা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাঁর ফ্যাক্টরীতে পাঠিয়ে দিলেন। কদিন পর তিনি বিদেশে গিয়ে দেখেন সে নক্সা অনুযায়ী তৈরী তার ফ্যক্টরীর পোষাক বিশ্বখ্যাত শপিং সেন্টারে সাজানো রয়েছে।

এবার দেখা যাক, ব্যবসা হারানোর বিষয়টি। যারা শুপ্প ঙ্কার বন্ধের কারণে ব্যবসা হারানোর কথা বলছেন, তাদের বক্তব্য শুনে মনে হবে, বাংলাদেশ থেকে যারা তৈরী পোষাক বা অন্যান্য সামগ্রী আমদানী করেন, তারা শুপ্প ঙ্কার অফিসে গিয়ে বাংলাদেশের ইয়োলো পেজ হাতে নিয়ে এক একটি নম্বরে ফোন করা শুরু করেন অর্ডার দেয়ার জন্য। মনে হবে যে, আমাদানীর অর্ডার দেয়ার আগে তারা তাদের পরর্ববর্তী আমদানির অভিজ্ঞতা কাজে লাগান না। তাদের সাথে রফতানিকারকদের আগে থেকে কোন যোগাযোগ ঘটে না। সবকিছু ঘটে থাকে হঠাৎ করেই এবং শুপ্প ঙ্কার সকালেই। বাস্তবে বিষয়টি ঘটে অন্যরকম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৈরী পোষাকের কাজ পাওয়া যায় বায়িং হাউসের মাধ্যমে। তারা প্পে ঙ্কার কাছ থেকে কাজের অর্ডার নিয়ে তাদের পরিচিত ফ্যাক্টরীকে দিয়ে সেই কাজ করিয়ে নেয়। এটিও ঘটে বিভিনভাবে এবং ধাপে। বায়িং হাউসগুলো সম্ভাব্য প্পে ঙ্কাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে। কোন প্পে ঙ্কার তৈরী পোষাক প্রয়োজন হলে তিনি এক বা একাধিক বায়িং হাউসে যোগাযোগ করেন এবং পোষাকের ডিজাইন পাঠান। বায়িং হাউসগুলো ডিজাইনমত নমুনা বানিয়ে প্পে ঙ্কার কাছে পাঠায়। প্পে ঙ্কার পছন্দ হলে দরদামের বিষয়টি আসে। সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেলে প্পে ঙ্কা এলসি খোলেন। বিদেশ থেকে কাঁচামাল কেনার বিষয় থাকলে সংশিব্জ্থষ্ট ফ্যাক্টরী তার জন্য ব্যাংকে এলসি খোলে। পোষাক তৈরী হয়ে গেলে তা প্পে ঙ্কাকে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

দেখা যাচ্ছে যে, এক্ষেত্রে বিদেশী প্পে ঙ্কাকে কখনই কোন সরকারী অফিসের সাথে যোগাযোগ করতে হয় না। তারা যোগাযোগ করেন বায়িং হাউসের সাথে। আমাদের দেশের অধিকাংশ বায়িং হাউস শুপ্প ঙ্কার খোলা থাকে। কাজ থাকলে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীগুলোও সপ্তাহে সাত দিনই রাতদিন চবি্বশ ঘন্টা খোলা রাখে। ফলে শুপ্প ঙ্কার ছুটি নিয়ে তাদের সমস্যা হবার কোন কারন দেখা যাচ্ছে না। এখন মোবাইল ফোন ও ই-মেইলের যেভাবে বিস্তৃতি ঘটেছে তাতে অফিস খোলা থাকার সাথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের তেমন কোন সমপর্ক থাকার কথা নয়। যেসব প্রতিষ্ঠান এসকল ব্যবসায়ে জড়িত, তাদের অফিস শুপ্প ঙ্কারে এমনকি রাতে খোলা রাখার ব্যাপারে সরকারী কোন নিষেধাজ্ঞা আছে বলে তো জানা যায় না। ভারতের সিলিকন ভ্যালী বলে পরিচিত বাঙ্গালোরের সফটওয়্যার কোমপানিগুলো আমেরিকার সাথে তাদের সময়ের পার্থক্যের কারনে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে।

শুপ্প ঙ্কার ছুটি থাকায় রফতানী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এ দাবীকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ডিভিশনের সাবেক সচিব শাহ আব্দুল হানড়বান। পত্রিকা প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি জানিয়েছেন যে, ব্যবসায়ীরা বিভিনভাবে সময়ে বিভিন দাবী-দাওয়া নিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেও কখনও একথা জানাননি যে, শুপ্প ঙ্কার ছুটি থাকায় তাদের ব্যবসা-বানিজ্য ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ব্যবসা বানিজ্যের সাথে ব্যাংকের যোগাযোগ অত্যন্ত বেশী। যদি শুপ্প ঙ্কারে ব্যাংক বন্ধ থাকায় ব্যবসা বাণিজ্যের আসলেই কোন ক্ষতি হতো তাহলে অর্ধশত বেসরকরী ব্যাংকের হাজার হাজার শাখার অন্ততঃ দু-একটি শুপ্প ঙ্কারে খোলা থাকতো বা খোলা রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন জানাতো।

এখানে একটি কৌতুহলোদ্দীপক বিষয় রয়েছে। আমাদের অর্থনীতি আমদানি নির্ভর। রফতানির তুলনায় আমাদের আমদানির পরিমান অনেক বেশী। শুপ্প ঙ্কার ছুটি থাকায় যদি আমাদের রফতানি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তাহলে একই কারনে যে সকল দেশ বাংলাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিনড়ব দেশে (যেখানে শুপ্প ঙ্কার সাপ্তাহিক ছুটি) রফতানি করে থাকে তারাও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সমমুখীন হচ্ছে। ভারতের সবথেকে বড় রফতানি বাজার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। বাংলাদেশে ভারতের রফতানির পরিমান বছরে বিশ হাজার কোটি টাকার বেশী। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও বাংলাদেশ মিলে ভারতের রফতানি বাজারের সিংহভাগ তৈরী হয়।

তাহলে ছুটির পার্থক্যের কারনে রফতানির ক্ষতির কথা চিন্তা করে কি ভারতের উচিৎ ছিল না সাপ্তাহিক
ছুটি রবিবার থেকে শুপ্প ঙ্কারে সরিয়ে নেয়া? কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কখনও এ দাবী করেননি। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বিশ্ব বলতে শুধু পাশ্চাত্যের দেশগুলোকেই বোঝায় না। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও রয়েছে। সেসব দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনসমপদ রফতানি ও উনড়বয়ন সহায়তার মত অর্থনৈতিক সমপর্ক বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের একটি প্রধান অংশ আসে মানব সমপদ রফতানি করে। এই আয়ের আবার দুই-তৃতীয়াংশের বেশী আসে মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলো থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিনড়ব দেশে বাংলাদেশ সবজি, হিমায়িত খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য পণ্য রফতানি করে থাকে। পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশ যখন বাংলাদেশকে বিভিনড়ব ছুতোয় একঘরে করে রাখার চেষ্টা করে সে মুহুর্তে মধ্যপ্রাচ্যের ধনকুবেররা বাংলাদেশে তাদের অর্থ বিনিয়োগের বড় বড় প্রস্তাব নিয়ে ছুঠে আসছেন। ইতোমধ্যে রূপালী ব্যাংকে তারা প্রচুর বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সউদি আরব, কুয়েত ও ইসলামি উনড়বয়ন ব্যাংকের মত দেশ ও সংস্থা সরকারের বিভিনড়ব প্রকল্পে অর্থ সাহায্য করে
আসছে। তাদের সহায়তার পরিমান যেমন কম নয়, তেমনি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক ম দ্রা তহবিলের মত তারা নানান শর্ত বেঁধে দেয় না বা ইউরোপীয় দেশগুলোর মত 'ঋণের চেয়ে মাতব্বরী বেশী' করে না। সুতরাং যদি ধরে নেয়া হয় যে, বিদেশের সাথে অর্থনৈতিক সমপর্কের উপর সাপ্তাহিক ছুটি প্রভাব ফেলে তাহলেও ছুটি শুপ্প ঙ্কারে হওয়া উচিৎ, রবিবারে নয়। অনেকে বলছেন যে, ধর্মীয় কারণে শুপ্প ঙ্কারে ছুটি বহাল রাখার কোন ভিত্তি নেই কেননা, ইসলাম ধর্মে এমন কোন কথা নেই যে শুপ্প ঙ্কারে কাজ করা যাবে না; বরং কোরান শরীফে আলব্জ্থাহ বলেছেন নামাজের
পর জীবিকা অন্বেষণে বের হয়ে যেতে। বস্তুতঃ ইহুদী ও খ্রীষ্ট ধর্মে যেমন সপ্তাহের একটি বিশেষ দিনে কাজ করা নিষিদ্ধ, ইসলামে তেমনটি নেই। ইহুদীরা বিশ্বাস করে যে, আলব্জ্থাহ ছয়দিনে বিশ্ব সৃষ্টি করে সপ্তম দিনে (শনিবারে) বিশ্রাম নিয়েছিলেন। তাই অনেক নিষ্টাবান ইহুদী শনিবারে ফোন পর্যন্ত ধরে না। ইসলামে এ ধরনের গোড়ামীর অবকাশ নেই। বরং ইসলাম শুপ্প ঙ্কারকে নির্ধারন করেছে মুসলমানদের সাপ্তাহিক জমায়েতের জন্য যাতে তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন অটুট থাকে ও তাদের নেতারা যেন সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব সমপর্কে তাদেরকে সচেতন করে দিতে পারে। ইসলাম শুপ্প ঙ্কারে কাজ করাকে নিষিদ্ধ করেনি, কিন্তু দিনটিকে সপ্তাহের অন্যান্য দিন থেকে আলাদা ধর্মীয় মর্যাদা দিয়েছে। সে কারনে পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম দেশে শুপ্প ঙ্কারে ছুটি প্রচলন রয়েছে। তাছাড়া ইসলাম সর্বদা তার
অনুসারীদের স্বাতন্ত্র বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছে। স্বাতন্ত্রের বিষয়টিকে প্রত্যেক এলাকাভিত্তিক বা ধর্মভিত্তিক জাতিই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ফ্রান্স কেন আইফেল টাওয়ার বানিয়েছে? মালেশিয়া কেন পেট্রোনাস টাওয়ার তৈরী করেছে? আমরা কেন পহেলা বৈশাখকে এতো সাড়ম্বরে উদযাপন করার চেষ্টা করছি? এর কারন প্রত্যেক দেশ, জাতি ও ধর্ম চায় তার স্বতন্ত্র পরিচয়ের বিকাশ ঘটাতে। স্বাতন্ত্রের সাথে জাতীয় পরিচিতি, আত্ম বিশ্বাস ও জাত্যাভিমান অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত আর এ বিষয়গুলি স্বাধীনতা স্বার্ভভৌমত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক উনড়বতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুপ্প ঙ্কার ছুটি থাকায় বাংলাদেশে একটি ভিনড়ব ধরনের ধর্মীয় সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। আমাদের দেশে প্রচুর লোক আছেন যারা নিয়মিত নামাজ না পড়লেও শুপ্প ঙ্কারের নামাজটি ছাড়েন না। শিশু-কিশোর ছেলের হাত ধরে পাজামা-পাঞ্জাবী ও টুপি পরে নাগরিকেরা দলে দলে মসজিদে নামাজের জন্য যাচ্ছেন - এ দৃশ্য শুপ্প ঙ্কারের ঢাকায় রাস্তায় রাস্তায় দেখা যায়। ঢাকার এপার্টমেন্টগুলোতে মাত্র এক বিঘা যায়গার উপর ত্রিশ-পয়ত্রিশটা পরিবার বাস করে, অথচ, কারো সাথে কারো দেখা-সাক্ষাৎ ও চেনা-জানা হয় না। শুপ্প ঙ্কারে ছুটি থাকায় মসজিদে জুমমার নামাজের কারনে সেই ভেঙ্গে পড়া সামাজিক বন্ধন কিছুটা হলেও জোড়া লেগে থাকে। বায়তুল মোকাররম মসজিদ সহ অনেক মসজিদে নারীদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে যা অন্যান্য শহরেও ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে। জুমমার দিনে এ সকল মসজিদে নারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করার মত। শুপ্প ঙ্কার কর্মদিবস হলে পিতা-পুত্রের একত্রে মসজিদে যাওয়া, চাকুরীজীবি নারীদের মসজিদে নামাজ আদায়, প্রতিবেশীর সাথে যোগাযোগ - ইত্যাদি সম্ভব হতো না। শুপ্প ঙ্কারের ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রাইভেট টিভি চ্যানেলগুলো ইসলামি জ্ঞানভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। এ অনুষ্ঠানগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ধর্মের নামে গোড়ামী, কুসংসস্কার ও বিকৃত মতবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে এ সকল অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে কিছু সংস্থা ও দল
ইসলামের বিকৃত ব্যাখা উপস্থাপন করে ইসলামের নামে ঘৃণ্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে চেষ্টা করেছে। তাদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে ইসলামের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরা হয় - এ ধরনের অনুষ্ঠানের প্রচার বাড়াতে হবে। যারা বাংলাদেশে ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ বিস্তারে উদ্বিগড়ব তাদেরকে বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য ধর্মীয় মূল্যবোধের বিস্তার যে কতটা প্রয়োজনীয় তা কিছুদিন পূর্বে আমেরিকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের পরের ঘটনাবলী থেকে বোঝা যায়। দূর্গত নারীরা খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে মৃতপ্রায় অবস্থায় তাদের ছাদে দাড়িয়ে যখন সাহায্যের জন্য হাত নেড়েছে, তখন উদ্ধারকারীরা ক্যামেরা নিয়ে গিয়ে তাদেরকে বিবস্ত্র হতে বলেছে। আমাদের দেশের মানুষ অশিক্ষিত। তাদের আরো হাজারো দোষ আছে। কিন্তু এরকমটি কখনো ঘটেছে বলে শোনা যায় নি। আমাদের অতি দূর্বল আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির মধ্যে যেভাবে পর্ণো বই-পত্র ও সিডির বিস্তাার ঘটছে, আামাদের সরকারসমূহের কল্যাণে যেভাবে অশব্জ্থীল চ্যানেল ঘরে ঘরে পেঁৗছে গেছে, তার পরও যে নারীরা তাদের মান-সমমান নিয়ে রাস্তাঘাটে চলতে পারছে, অফিস-আদালত-স্কুল-কলেজে যেতে পারছে তার পিছনে প্রধান অবদানটি রাখছে ধর্মীয় মূল্যবোধ। প্রকৃতপক্ষে এসকল বিতর্কের মাধ্যমে আমাদের উনড়বতির প্রধান অন্তরায়গুলোকে বিভিন্নভাবে আড়াল করে রাখা হচ্ছে। তৈরী পোষাক শিল্পে পরিকল্পিতভাবে অসন্তোষ সষ্টি করে এবং দিনের পর দিন হরতাল অবরোধ দিয়ে এ শিল্পকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ কারণে ইতোমধ্যে অনেক প্পে ঙ্কা হারিয়েছে বাংলাদেশ। দুঃখের বিষয় আমাদের ব্যবসায়ী সমাজ এ সকল ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে তেমন কোন প্রতিবাদ জানাতে পারেন নি। দিনের পর দিন অবরোধ চলাকালে কারো সাহস হয় নি অবরোধের বিরুদ্ধে কথা বলার। তাছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদও শক্তিশালী নয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে আমাদের জিডিপির অর্ধেক খেয়ে যায় দূর্নীতিতে। ব্যাপক দূর্নীতি রোধ করা গেলে আমাদের মাথা পিছু আয় দ্বিগুন হয়ে যেত এবং দুই থেকে তিন শতাংশ জিডিপি বেড়ে যেতো। ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের বিকাশ ছাড়া এই সর্বগ্রাসী দূর্নীতি রোধ করা সম্ভব নয়। শুপ্প ঙ্কারের ছুটি সেই মূল্যবোধের
লালন ও বিস্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মূল লেখিকা: ডালিয়া সাত্তার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28696685 http://www.somewhereinblog.net/blog/muktiblog/28696685 2007-02-04 14:25:08