রানা তখন থেকে চুপ করে শুয়ে থাকে।চিন্তার কথা, কি ভাবে মেয়েকে দুঃসহ অতীত জানাবে।বুকটা ধরফর করতে থাকে।সন্ধা হয়ে যায়,উঠে না।
শুচি ঘরে লাইট জ্বেলে দেয়।কাছে এসে বলে ,রেডি হয়ে নাও,লোকজন এসে পড়বে।
সুন্দর নীল শিফন শাড়ী পরেছে শুচি।অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। রানার মনে হয় কতদিন কাছে আসে না মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে থাকে সে শুচির দিকে, কিছু বলতে চায়।কথা আটকে যায়।শুধু তাকিয়ে থাকে বোকার মত। আর বাংগালি মহিলাদের তুলনায় শুচি বেশ লম্বা ,আর টিলিতো এখনই মাকে ছাড়িয়ে গেছে।
কিছুক্ষন পরে লোকজন আসতে শুরু করে।শুচির এসব সামাজিকতা একদম ভাল লাগেনা।কিন্ত উপায় নেই।সবার বাসায় দাওয়াত খেয়ে বেড়ালে নিজেরও খাওয়াতে হয়! বেশীর ভাগ মানুষই কি সুন্দর নিজেদের মধ্যে মেলামেশা করে,নতুন কিছু রান্না করলে এবাড়ি ওবাড়ি আদান প্রদান হয়। সে কিছুতেই এটা পারে না। আজ অবধি শুচি কারও বাড়িতে তরকারি পাঠাতে পারেনি।
করিম ভাই, ভাবি, দুই মেয়ে আসল সবার আগে।ওদেরকে শুচি আর রানা পছন্দ করে না। টিলির সাথে ছোট মেয়েটার মিল বেশি।ওরা দুজন একসাথে হলেই সারাক্ষন গুজগুজ করতে থাকে। ছোট মেয়েটার নাম ঝুমা আর বড়টা তুলি।মেয়ে দুটোই খুব সুন্দর দেখতে, কিন্ত বেশ বেঁটে।
মেয়েদুটোকে এত কষ্ট দেয় বিরক্ত হয় শুচি। সাধারণ আর দশটা মেয়ের মত না টিলিকে বার বার শোনায় টিলি খুব লাকি। টিলির বাবা মা দুজনই উচ্চ শিক্ষিত,টিলির অনেক স্বাধীনতা,টিলি লেখাপড়াতে খুব ভাল ইত্যাদি ইত্যাদি। মেয়েগুলিকে এত কড়াকড়িতে রেখে লাভ কি হল?ঝুমাতো এক ছেলের সাথে ঠিকই প্রেম করছে,টিলির পিসিতে ওদের ছবি দেখে শুচিতো থ!আবার মাথা ঢেকে ঢং করে! আল্লাহ খোদা নামিয়ে ফেলে কথা বলার সময়।মাঝে মাঝে শুচির ইচ্ছা করে বলতে ঝুমার কথা। পারে না।মনে হয় বেচারির হয়ত দিন দুনিয়ার মুখ দেখাই বন্ধ হয়ে যাবে।
যাই হোক হাসি মুখে সবাইকে স্বাগত জানায় বাসার ভিতরে।টিলি ছুটে আসে ঝুমাকে নিয়ে তার ঘরে ঢুকে যায়।মামুলি কয়েকটা কথা শেষ হতেই জমির ভাই,ভাবি,চুমকি এসে পরে। মেয়েদের হইচই শুরু হয়ে যায়। সবার শেষে আসেন আলতাফ ভাই, ভাবি। দাওয়াত জমে উঠে।শুচি আর রানা কিছুক্ষণের জন্য নিজেদের সমস্যা ভুলে যায়।
হাসি ঠাট্টার মাঝে শুচি হঠাৎ লক্ষ্য করে জমির ভাই তার দিকে তাকিয়ে আছেন।চোখ সরিয়ে নেয় সে।আবার তাকায়। দুম করে জিগ্গেশ করে
জমির ভাই কি লাগবে?
কিছু না, থতমত খেয়ে যায় ।
চিন্তা নাই ভাই এখনই খাবার দিব।
শুচি উঠে যায়।
শুচি রান্না ঘরে এসে হাড়ি পাতিল নাড়া চাড়া শুরু করে। পোলাও হাড়িটা খুলতেই সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পরে।শুচি খুব যত্ন করে পোলাও বাড়ে ডিশে।নিজের উপর বিরক্ত হয়, লোকজন কি বুঝে যাচ্ছে যে তার আর রানার মাঝে গন্ডগোল হচ্ছে ? সাবধান হতে হবে।রানার সাথে কথা বলতে হবে। এর আগের দাওয়াতেও সে খেয়াল করেছিল জমির ভাই বারেবারে তাকাচ্ছিল। সেবার ভাবি তার পাশে বসেছিল।সেজন্য ভেবেছিল ভাবির দিকে তাকাচ্ছে,কিন্ত আজ তো তা নয়।লজ্জা লাগে তার।এসব করবে টিলি আর ওর বন্ধুরা! সেই বয়স ওদের! শুচিদের না? মনটা খারাপ হয়ে যায় ।
কারও সাথে কি আলাপ করবে! না হাসাহাসি শুরু হয়ে যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

