শুচি যত্ন করে খাবার বাড়তে থাকে আর মনটাকে শক্ত করে।সে তো তার সংসার আগলে রাখতে চায়, কোন উটকো ঝামেলা চায় না।যদিও রানার জন্য মাথা ঠিক রাখা মাঝে মাঝে অসম্ভব কাজ হয়ে পড়ে ।তার কোন দোষ নেই,বিবেকের কাছে সে পরিষ্কার।
সব কিছু বেড়ে দিয়ে রানাকে ডাক দেয়,
তুমি আগে টিলি আর ওর বন্ধুদের নিতে বল।
রানা টিলির ঘরের দরজায় টোকা দেয়।মামনি তোমরা খেতে আস।
মেয়েরা হুরমুর করে বের হয়।টিলি এসে মাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে।শুচির মনটা হু হু করে উঠে মেয়ের আদরে। জিগ্গেশ করে,
আমি বেড়ে দিব না তুমি নিয়ে নিবে?
তুমি দাও ।মাম্মি তুমি তো পিৎজা আনো নি!! দাওয়াত হলেই শুচি
মেয়ের জন্য সবসময় পিৎজা নিয়ে আসে।টিলি আর ওর বন্ধুরা খুব ভালবাসে।
কালকে আনবো।
আন্টি কালতো আমরা থাকবো না! চুমকি হেসে বলে ।শুচি চমকে উঠে।জমির ভাইয়ের মেয়েটা কখনই কথা বলে না।হঠাৎ আজ কি হল?
পিৎজার জন্য আরেকদিন আসতে হবে।
সবাই ইয়েস ইয়েস করে উঠে।
শুচি মেয়েদের তাড়া দেয়।জলদি খাবার নেওয়ার জন্য।
রানা বলে আমাকে বললে পিৎজা নিয়ে আসতাম ।
আসলে খেয়াল ছিল না।তাছাড়া বয়স বাড়ছে না? মনে রাখতে পারি না।
ভাবিরা সবাই হই হই করে উঠলেন। উঁহু বয়স বাড়ছে না আপনার। দিনে দিনে তন্বী হচ্ছেন!
শুচির গাল লালচে হয়ে যায়।এটা সত্যি তার বয়স বোঝা যায় না। মেয়ের পাশে দাঁড়ালে টিলির বড় বোন হিসেবে চালিয়ে দেয়া যায়! রানা হঠাৎ করে বলে তোমার তো দেখি খুশী ধরে না, ভাবিদের টপকে টপ অফ দ্য লিস্ট হয়ে যাচ্ছ।
কি যে বল না! নাও এখন সবাইকে নিয়ে খাওয়া শুরু কর।
টেবিলে সব কিছু তদারকি করে শুচি নিজেও খাওয়া শুরু করে। একটু সব্জি আর মুরগীর তরকারি আর ভাত নিল।তাতেই মনে হচ্ছে পেট ভরে গেল। হাত নাড়াচাড়া করে উঠে পরে সে।
টিলির ঘরে গিয়ে ওদের খাওয়া কতদুর তা দেখে।সবাইকে আবার নিতে বলে।গরুর গোস্তের প্রশংসা করে ওরা।টিলিও ওদের দেখাদেখি আবার প্লেট ভরে নেয়।ভীষণ ভাল লাগে শুচির যখন দেখে মেয়েটা বেশী করে খায়। সবার খাওয়া শেষ হলে আবার আড্ডা শুরু হয়।সেই একই গৎ বাঁধা কথা, দেশের ভবিষ্যত নিয়ে হা হুতাশ।শুচির বিরক্ত লাগে।এরা গাছেরও খাবে, তলারও কুড়াবে! এত যদি দেশের জন্য দরদ তো বাইরে সেটেল করা কেন?
থালাবাটি উঠানোর পরে শুচি মিষ্টির প্যাকেট দুটো টেবিলে দেয়।আলতাফ ভাই বলেন আরে গয়নার বাক্স কেন?
শুচি দেখে তাইতো একদম গয়নার বক্সের মত লাগছে! লাড্ডু আর কালো জামের লাল প্যাকেট দুটোকে। ছোট বাটি আর সোনালি চামুচ বের করে মিষ্টির জন্য।
এই চামুচের জন্য কাল থেকে সংসারে ঝামেলা চলছে।সবাইকে শুচি বলে এ চামুচগুলো শাশুড়ির কাছ থেকে পেয়েছে।আসলে তা নয়।বিস্মৃত অতীত তাকে শান্তি দেয় না।সবসময় মনে করিয়ে দেয় সে ছিল।
দিয়া রানার প্রথম স্ত্রী,এগুলো তার ছিল। গা জ্বালা করে উঠে।শুচি নিতে চায়নি।রানার কাছে সস্তা সেন্টিমেন্টের দাম নেই।ওর কথা হল জিনিশ গুলো সুন্দর সুতরাং ব্যবহার করতে দোষ কি? শুচি মনে করে মাঝে কাউকে দিয়ে দিবে।রানার জন্য পারেনা।সে সন্দেহ করে রানা স্মৃতি রোমন্হন করে।যে ওকে ছেড়ে চলে গেছে তার এই স্মৃতি মনে করে কি লাভ?কেন রানা শুচিকে এভাবে কষ্ট দেয়,বুঝে না।তার হঠাৎ খুব বিরক্ত লাগে ।কোন কিছুই ভাল লাগেনা।মনে হয় আজ কোথাও যেতে পারলে ভাল হত।
শুচি যেখানে কাজ করে সেখানকার লোকজনের জন্য কিছু খাবার বক্সে উঠিয়ে রাখে।কাল যখন যাবে তখন নিয়ে যাবে। তার একমাত্র রিক্রিয়েশন!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

