মিষ্টি খাওয়া শেষ হল। টিলি আর ওর বন্ধুরা কেউ মিষ্টি খাবে না সেটা শুচি জানে। তাই ওদেরকে ডাকে না। আলতাফ ভাবি প্লেট নিয়ে শুচিকে বলেন
ভাবি টিলিকে হারমনিয়াম আনতে বলেন, অনেকদিন গান শুনি না!
রানা খুব খুশী হয় কেউ টিলির গান শুনতে চাইলে,
আমি ডেকে আনছি।
কিন্তু তুমি জোর কোর না
না করব না
বললেই হল জোর করবনা,রানা মনে মনে বলে, হু বাচ্চাদের একটু জোর করতেই হয়, সবসময় এত হুজুর হুজুর করব নাকি! চাপাস্বরে সে বলে
তুমি ওকে এত মাথায় উঠিয়েছ! শুচিও ফিশফিশ করে,
আরে ও যদি গান করতে না চায় তুমি জোর করলে রেগে যাবেনা?
কেন এত রেগে যাওয়ার কি আছে! আমি দেখিনা কি বলে!
শুচি হঠাৎ করে চিন্তায় পরে, টিলি একদম গান করতে চায় না,বিশেষ করে মানুষজনের সামনে। সারাদিন সিডি বাজাবে নাচবে ভিডিও দেখবে, কিন্তু
গান প্র্যকটিসের কথা বললে ওর মনে হয় জ্বর আসে! কিছুতেই কথা শুনেনা।কি যে গন্ডগোল একটা লাগবে এখন!
কিন্তু শুচিকে অবাক করে দিয়ে টিলি, ওর বন্ধুরা খুব সহজেই গান শুরু করে দিল।টিলির গানের ভান্ডার বেশী না তাও মোটামুটি কম না! ওমা মেয়ে দেখি আজকে সব গেয়ে উঠল! রানা তাড়াতাড়ি গিয়ে ভিডিও নিয়ে আসল, টিলির সাথে সবারও ভিডিও করল। টিলি গান শেষ করে আবদার করে শুচির কাছে,
মাম্মি এখন আন্টিদের গান শুনব!
ঠিকইতো, বাচ্চাদের কথাতো একটু শুনতে হয়। জমির ভাবি এবার গান শুরু করেন প্লিজ!
জমির ভাই আর ভাবি দুজনে চমৎকার গান করতে পারেন। বাকিরা সবাই
কোরাসের শিল্পী! জমির ভাই ভাবি গান শুরু করলেন সখি ভাবনা কাহারে বলে। গান শেষ হলে করিম ভাই মন্তব্য করেন এখনও বুঝেন নাই ভালবাসা? জীবনের তো বেশী বাকি নাই!
কি যে বলেন, জীবন তো কেবল শুরু হল ।এসব দেশে লোকজন মিনিমাম ৮৫/৯০ বছর বাঁচে, সে তুলনায় তো আমি এখনও শিশু!
খুব মজা পায় সবাই, হা হা শুরু হয়ে যায়। সবার হৈ চৈ শেষ হলে ওনারা গাইলেন ধনধান্য পুষ্প ভরা। সবার সাথে শুচিও গলা মেলায়।মনে মনে সবাই সেই ছোট্ট দেশটার ছবি দেখতে থাকে, যেখানে সব আপনজনেরা অপেক্ষা করে আছে।
গান শেষ হলে সবাই একটু নিঃশ্চুপ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে করিম ভাবি বলেন আজ আমরা আসি, অনেক রাতও হল।মেয়েদের কারো যাওয়ার ইচছা নাই। মা একটু পরে যেতে পারি?
আচ্ছা আর পাচঁ মিনিট, ঠিক আছে?
আচ্ছা।
দেখতে দেখতে সবাই উঠে পরলেন।আজ আসি, রান্না অনেক মজা হয়েছে, আমাদের ওখানে কবে আসবেন ইত্যাদি ভদ্রতা শুচক মন্তব্যে শুচিও ভদ্রতা করে এই আসব এক সময়।
সবাই খোদা হাফেজ বলে চলে গেলে রানা গেট লাগিয়ে বাইরের বাতিটা নিভিয়ে দেয়। শুচি রান্নাঘরে থালাবাটি গুছিয়ে ডিশ ওয়াশার চালিয়ে মোবাইল নিয়ে বসে। টিলি মাকে জড়িয়ে ধরে আহ্লাদি গলায় বলে আমার খুব ঘুম পাচ্ছে আমি যাই।
শুচি হেসে উঠে ঘুমাতে না চ্যাটিং করতে?
টিলি একটু থমকে যায়। মাঝেমাঝে মা কে ওর অন্ত্র্জামি মনে হয়! ওর মনে কি হচ্ছে সব বলতে পারে! সে আর কথা বাড়ায় না, বেশীক্ষণ না মাত্র পাচঁ মিনিট!
না কিছুতেই না। তুমি একদম কথা শুনো না। এত রাতে আর না। কালকে কর। টিলি হতাশ হয়। মাম প্লিজ জাস্ট পাঁচ মিনিট।
বিরক্ত করো না। অনেক রাত হয়েছে, শুতে যাও।
ওহ তা তুমি এত রাতে মোবাইল দিয়ে কি কর!
সকালে কাজে যাব না, পায়ে বেশ ব্যথা,তাই মেসেজ পাঠাচ্ছি নোলার কাছে।
টিলি মন ভার করে চলে গেল। শুচির একটু খারাপ লাগে, মেয়েটার বন্ধুরা ছুটির সময় সবাই রাত জেগে চ্যাটিং করে। কিন্তু টিলির সে সুযোগ নেই।
শুচি ওকে অনেক স্বাধীনতা দিয়েছে, কিন্তু কিছু ব্যাপারে কোন সমঝোতা করে না।যেমন এখন। যাকিছু কর দিনের বেলা, ফোন,চ্যাটিং ,টেক্সটিং। যে রক্ষণশীলতার মধ্যে শুচি বড় হয়েছে তার কোন কিছুই আর বোধহয় অবশিষ্ট নাই।তবু মেয়েকে সে কষ্ট দিতে পারে না। যে দূঃসহ জীবন সে পার করে এসেছে তার কোন ছাপ মেয়ের উপর ফেলতে চায় না।নিজের জীবনে কোন সময়ই কোনকিছুতে শুচির স্বাধীনতা ছিল না। সবকিছুতে না, খালি না, আর না!!!!!
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


