somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাহানা ৯

০১ লা মার্চ, ২০০৮ সকাল ৮:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিছানা থেকে উঠলেও ওর শরীরটা কেমন ম্যাজ ম্যাজ করে।গেট লাগিয়ে রান্নাঘরে যায়। রানার রেখে যাওয়া স্যুপের বাটি, চায়ের মগ ধুয়ে আবার বিছানায় শুয়ে পরে। গতরাতের ক্লান্তি যাচ্ছে না। মাথাটাও দপ দপ করছে। জ্বর আসবে নাকি? কতদিন শুচির অসুখ হয় না। বিদেশে থাকার এই এক মজা। অসুখ বিসুখ শরীরে ঘেঁষতে পারে না। সবকিছু ফ্রেশ খেতে খেতে শরীর শক্ত হয়ে যায়।এখানে কত বয়ষ্ক বাঙগালী লোকজনকে জানে শরীর নিয়ে কোন অসুবিধা নাই। অথচ দেশে থাকার সময় কতরকম ঝামেলা লেগেই থাকত। ছাইপাশ চিন্তা করতে করতে আবার নিজের অতীতে ফিরে যায়।
বয়ষ্ক লোকটার সাথে বিয়ে ঠিক হওয়ার সময় বাবা মা কেউ শুচির মতামত জানার প্রয়োজন মনে করে নাই।সৎ মায়ের কোন আত্নীয় সম্পর্ক এনেছিলেন।তারা যেন কর্তব্য সারতে পারলেই বাঁচে! জীবনে কোনকিছুতেই শুচির কোন মতামত নাই।জীবন সম্পর্কে এত উদাসীন তার সমসাময়িক কোন মেয়ে ছিল না। সে চোখমুখ গুজে চেষ্টা করত পড়াশোনা করতে, অংকে সে খুব কাঁচা ছিল। ভয়ে সে জটিল বিষয় এড়িয়ে চলত।তা সে পড়ার বিষয়ই হোক কি অন্য কিছু।কখনো কোন তর্কাতর্কিতে জড়ায়নি! জটিলতা দেখলে আস্তে করে সরে এসেছে চিরটাকাল!
তাই যখন সজল কাজল এসে বললো বুবু তুই বিয়েতে মত দিয়ে দিলি! তুই আসলে বুড়োটাকে বিয়ে করবি!
শুচি একটু থতমত খেয়ে যায়।সে বুঝতে পারে না, বিয়ে হবে তাও বুড়োর সাথে!কি বলে!
খুব বেশী বুড়ো!
না! এই ধর তোর থেকে বারো-পনের বছর বড়!
তো আমারওতো পঁচিশ চলছে।
তাই বলে তুই চল্লিশের এক লোককে বিয়ে করবি? লোকটা যখন এতদিনে বিয়ে করেনি, তারমানে নিশ্চয়ই কোন ব্যাপার আছে।
কি ব্যাপার।
তা বলতে পারব না, তবে আমি নিশ্চিত!
শুচিকে ভীষণ চিন্তার মাঝে রেখে ওরা চলে গেল।ওদের কথায় শুচির গলা শুখিয়ে যায়। এতদিন ভেবে এসেছে বিয়ের পর নিজের ছোট সংসারে সে সুখী হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে, কিন্তু যাকে নিয়ে সংসার করবে তার যদি অনেক বয়স হয় তবে কি তাকে বুঝতে পারবে! লোকটা হয়ত নিজের মত চাপাতে চাইবে! কি যে করে শুচি, কার কাছে যাবে বুঝে উঠতে পারে না। আর দেখতেও ভাল না ।
চেষ্টা হিসেবে বাবার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। বাবা আধশোয়া হয়ে পেপার পড়ছিলেন। শুচি চুপ করে থাকে।ভয়ে গলা শুকিয়ে গেছে। আমতা আমতা করে বলে, বাবা কিছু বলব।
বাবা চমকে তাকায় তার দিকে। কবে শেষ বার শুচি তার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে মনে করতে পারছে না।
কি বলতে চাও বলে ফেল!
আমি বিয়ে করতে চাই না, মানে এই লোকটাকে বিয়ে করতে চাই না।
কেন? কে এসব বুদ্ধি দিচ্ছে? ভাই বোন মানুষ করে তার এখন বিয়ের সময় হয়েছে।এত বড় চাকরি করে বিদেশে থাকে আর কি চাও?

লোকটার অনেক বয়স।
ছেলেদের বয়স বেশী হওয়াই ভাল। তাছাড়া সে যে এত কিছু অর্জন করেছে সেটা দেখবে না! অল্প বয়সী ছেলেরা এত কিছু পারে না। এসব চিন্তা বাদ দাও।আজ বাদে কাল বিয়ে আমি আর কিছু শুনতে চাই না। এখন নিজের ঘরে যাও!
সপ্তাহ কয়েক পরে বিয়ের আয়োজন শুরু হয়ে গেল। কোনরকমে গায়ে হলুদ সারা হল। ছেলের বাড়ি থেকে কেউ আসেনি। ওরা গায়ে হলুদ করে না!
কাজল চুপি চুপি বলে পয়সা খরচ করতে হল না!
শুচির মায়ের দিক থেকে খালি এক মামা তাও দেশের বাইরে থাকেন, সেই কোন ছোট বেলায় দেখেছে, মনেও নাই শুচির! উনি আসেন নি।
বিয়ের অনুষ্ঠান হল ভাড়া করে হোল।লোকজন মোটামুটি।সবই সজল কাজলদের আত্নীয়স্বজন আরকিছু পরিচিতজন। শুচির সহপাঠিদের মধ্যে দুজন এসেছিল।পারুল আর লাকি।কয়েক বছর হল পারুলের বিয়ে হয়েছে, স্বামী আইনজীবি। পারুল নিজে একটা বেসরকারি সংস্হায় কাজ করে। কালো হলেও বেশ হাসিখুশী আর আলাপি।মেয়ে হয়েছে ওদের।ভালই আছে ওরা। শুচির কষ্টে মনে হয় দম আটকে আসে। ওর কেন স্বাভাবিক বিয়ে হচ্ছে না। বিয়ে নামের এই প্রহসন কেন?শুচি কার এত ক্ষতি করেছে যে এই শাস্তি ?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০০৮ সকাল ৮:১০
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×