রাতে লোকমান ঘুমিয়ে পরলে শুচি ঢাকায় ফোন করে। কাজলের সাথে কথা বলা দরকার। যদি মরেই যায় অন্তত কেউ একজন জানুক কি ভাবে শুচি মরল! ভাগ্য ভাল কাজলই ফোন ধরে। শুচি কোন কথা বলতে পারে না। শুধু কাদঁতে থাকে। কিছুক্ষণ পরে সবকিছু খুলে বলে। কাজল খালি বলে বুবু তুই ভাবিস না। আমি ব্যবস্হা করছি। তুই ফোন রেখে ঘুমাতে যা। শুচির মনটা হালকা হয়। এখন সে শান্তিতে মরতে পারবে। তার সবচেয়ে আপনজনের সাথে কথা হয়েছে।
রাত প্রায় তিনটার দিকে গেটের বাইরে লোকজনের শোরগোল শোনা যায়। লোকমান ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে নিচে যায়।শুচি জানালা দিয়ে উঁকি দেয়। দূতাবাসের সবাই এসেছেন। ব্যপারটা বুঝতে পারে না। একটু পরে এসে লোকমান দরজার তালা খুলে ঘরে ঢুকে।অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে। শুচির এত সাহস ঢাকায় ফোন করে তার নামে বদনাম করে।আজ আর তাকে আস্ত রাখবে না! অবশ্য বেশীক্ষণ গালাগালি করতে পারে না।
ঘরে সবাই এসে হুরমুর করে ঢুকে পরেন। এম্বাস্যেডর বয়ষ্ক লোক।তিনি শুচির মাথায় হাত রেখে বলেন তুমিতো আমাকে ফোন করে বলতে পারতে! শুচি কোনরকমে বলে আমি আপনার নাম্বার জানিনা!
তোমার বাবা মা ভাই কি মনে করল আমাদের ! উনাদের সবার সাথে কথা হয়েছে, সবাই খুব চিন্তা করছেন। বিদেশে দূতাবাসের আমরা এক পরিবারের মত! আমরা আমাদের পরিবারের মেয়েদের দেখাশোনা করি না! তোমাকে হাসপাতালে পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। লোকমান তুমি একি কান্ড করেছ? ছি ছি ছি মানুষের কাছে আমরা মুখ দেখাব কি করে!
কিছুক্ষণ পরে শুচিকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করান হোল। চিকিৎসার পর বাসায় এসে বেশীদিন কষ্ট করতে হয়নি। হাসপাতালে থাকতেই সজল আর কাজল এসে হাজির! বাবা পাঠিয়েছে! শুচির মনে হোল সারাজীবনের সব দুঃখ বোধ হয় এবার অবসান হবে! সাতদিন পরে সজল আর কাজল শুচিকে দেশে নিয়ে যায়। তাতেও লোকমানের নাটকের কমতি ছিল না।কান্না কাটি শুরু করে দেয়! কিন্তু সুবিধা করতে পারেনি।ওর বিয়ের গয়না গুলো ফেরত দেয়নি। ভাইয়েরা বলে গয়নার মায়া করে তুই আবার এই জানোয়ারটার সাথে সংসার করতে চাস? তোর কি কোন বোধশক্তি নাই!
আমি থাকতে চাইনা!
দেশে ফিরে শুচি খুব অবাক হয়ে যায় বাবা আর সৎ মায়ের ব্যবহারে। তারা যেন ভুলেই গেছে সারাজীবন শুচির সাথে কি অত্যাচার তারা করেছে! খুব আদর করে তারা শুচিকে গ্রহণ করে। যেন সাত রাজার ধন ফিরে এসেছে! ভাইদের মুখে শুনেছে যা সন্চিত টাকা পয়সা ছিল শুচির বিয়ে সজল কাজলের শুচিকে বিদেশ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা ইত্যাদিতে শেষ হয়ে গেছে। বাবাকে আবার নতুন করে চাকুরির খোঁজ করতে হচ্ছে।ওর বিয়ের কিছুদিন আগে বাবা চাকুরি থেকে অবসর নেন। শুচির খুব কষ্ট লাগে পুরোন কথা মনে করে। বাবা আকারে ইংগিতে বারে বারে মাফ চায় শুচির কাছে। আর সৎ মাতো পারলে তাকে বুকে নিয়ে বসে থাকে। চোখের আড়াল হতে দেয়না। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া সব মা করে। শুচি এখন আর সৎ মা বলেনা। মা ই ডাকে। কত হাজার বছর পরে মনে হয় সব স্বাভাবিক সংসার হোল শুচি আর সজল কাজলের!
দেশে ফিরে শুচি প্রথম যে কাজটা করেছে তা হোল ভাল আইনজীবির সাহায্য নিয়ে ডিভোর্সের চেষ্টা। খুব সহজেই সেটা হয়ে যায়। যে দিন শুচির ডিভোর্স হোল সেদিন সে সেলিব্রেট করে মহা ধুমধামে। ভাইদের নিয়ে ঢাকার বড় হোটেলে খেতে যায়। সারাদিন গুন গুন করে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়! মাস খানেক পরে সে একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


